এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • হেদুয়ার ধারে - ১৩৮ 

    Anjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ৩১ মে ২০২৪ | ১২৫ বার পঠিত
  • | | | | | ৬  | ৭  | ৮  | ৯  | ১০  | ১১  | ১২  | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬  | ১৭  | ১৮ | ১৯ | ২০ | ২১ | ২২  | ২৩  | ২৪  | ২৫  | ২৬ | ২৭ | ২৮  | ২৯  | ৩০ | ৩১  | ৩২  | ৩৩  | ৩৪ | ৩৫ | ৩৬  | ৩৭  | ৩৮  | ৩৯  | ৪০  | ৪২  | ৪৩  | ৪৪  | ৪৫  | ৪৬ | ৪৭  | ৪৮  | ৪৯  | ৫০  | ৫১  | ৫২ | ৫৩ | ৫৪ | ৫৫ | ৫৬ | ৫৭ | ৫৮ | ৫৯ | ৬০ | ৬১ | ৬২ | ৬৩ | ৬৪ | ৬৫ | ৬৬ | ৬৭ | ৬৮ | ৬৯ | ৭০ | ৭১ | ৭২ | ৭৩ | ৭৪ | ৭৫ | ৭৬ | ৭৭ | ৭৮ | ৭৯ | ৮০ | ৮১ | ৮২ | ৮৩ | ৮৪ | ৮৫ | ৮৬ | ৮৭ | ৮৮ | ৮৯ | ৯০ | ৯১ | ৯২ | ৯৩ | ৯৪ | ৯৫ | ৯৬ | ৯৭ | ৯৮ | ৯৯ | ১০০ | ১০১ | ১০২ | ১০৩ | ১০৫ | ১০৬ | ১০৭ | ১০৮ | ১০৯ | ১১০ | ১১২ | ১১৩ | ১১৪ | ১১৫ | ১১৬ | ১১৭ | ১১৮ | ১১৯ | ১২০ | ১২১ | ১২২ | ১২৩ | ১২৪ | ১২৫ | ১২৬ | ১২৭ | ১২৮ | ১২৯ | ১৩০ | ১৩১ | ১৩২ | ১৩৩ | ১৩৪ | ১৩৫ | ১৩৬ | ১৩৭ | ১৩৮ | ১৩৯ | ১৪০ | ১৪১ | ১৪২ | ১৪৩ | ১৪৪ | ১৪৫ | ১৪৬ | ১৪৭ | ১৪৮ | ১৫০ | ১৫১ | ১৫২ | ১৫৩ | ১৫৪ | ১৫৫ | ১৫৬ | ১৫৭ | ১৫৮ | ১৫৯
    সুপ্রিয় খানিকক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে থাকল অমলের দিকে। তারপর বলল, ' অমল, তোর কি কোন ইনভলভমেন্ট আছে কোথাও? তাহলে আর কথাটা বাড়াব না ... '
    ----- ' আরে না না ... আমার আবার কি ইনভলভমেন্ট ... ওসব কোন ব্যাপার নেই ... ' অমল কথাটা উড়িয়ে দিল।
    সুপ্রিয় মাথা নেড়ে বলল, ' তা বললে হবে না ... ব্যাপার একটা আছেই। সে যাই হোক ... পার্সোনাল ব্যাপারে আমি ঢুকতে চাই না। তুই সময় নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে জানাস। তারপর যদি কনডিশান ফেভার করে তোর গার্জেনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। আমি শুধু একটা কথা জানিয়ে দিই তোকে, মাসীমা মেসোমশাই তোর জন্য খুব আগ্রহী ... মানে তৃণার ব্যাপারে ... '
    অমল বলল, ' ও ... আচ্ছা। বুঝেছি ... '
    ----- ' যাক, এতক্ষণে বুঝেছিস তা'লে। আমার কপাল ভাল। ঠিক আছে, চিন্তাভাবনা কর তা'লে ... জানাস ... চল এবার উঠি ... '

    স্বরূপ খাঁড়া কিন্তু সাগরের অপমানের কথা ভুলে যায়নি। তার ছেলেদের মারা মানে তাকেই মারা বলে মনে করে সে। কিন্তু সরাসরি সাগরের মোকাবিলায় সে যেতে চায় না। তাতে বিস্তর ঝুঁকি আছে। সাগরের মধ্যে একটা চুম্বক আছে বোধহয়। শালা ওই দু একটা থানার ধর্মপুত্তুর মার্কা কিছু ওসি আছে সেগুলোর জন্যই 'রিকস্' নেওয়া যাচ্ছে না। নইলে সাগর মন্ডল এতদিনে ছবি হয়ে যেত। ওর ওই ল্যাম্বোটগুলোর লপচপানি বেরিয়ে যেত। স্বরূপ খাঁড়ার অফিস ঘর এখন খালি। রাত বারোটা বাজতে চলল। স্বরূপ একা একা নানা চিন্তায় ডুবে বসে ছিল। ভাবতে ভাবতে একাত্ম উত্তেজনায় নীচের ঠোঁট কামড়ে ধরল খাঁড়াবাবু।
    তার মাথায় দপ করে একটা চিন্তা জ্বলে উঠল। ভাবল, সাগরের দুটো হাত হল কানু আর মাণিক। একটাকে হাফিস করে দিতে পারলে সাগর, শিয়োর অনেকটা কমজোরি হয়ে পড়বে। পতিতপাবন সরকার একটা বিরাট ভুল করেছিল সরাসরি সাগরের ওপর হামলা চালাতে গিয়ে। অবশ্য কে যে শালা সাগরকে বের করে নিয়ে গেল ওই বেকায়দা অবস্থা থেকে কেয়া মালুম। পতিতপাবনকে খুব দোষ দেওয়া যায় না। এটা তার হিসেবের মধ্যে ছিল না। তাই ....
    উত্তেজনার বশে স্বরূপ খাঁড়া একটা সিগারেট ধরাল। চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে গভীর চিন্তায় ডুব মেরে সামনের দিকে তাকিয়ে রইল স্বরূপ খাঁড়া। তার মুখ দিয়ে ফুরফুর করে বেরিয়ে যেতে লাগল ফুটন্ত উষ্মার বাষ্পের মতো সিগারেটের ধোঁয়া। বৃন্দাবন বসু লেনের একতলার অফিস ঘরে বসে চোখ সূচ্যগ্র মনোযোগে চোখ ছোট করে মনে মনে তার নক্শা সাজাতে লাগল। কলকাতায় এখন মাঝরাত।

    সন্তোষ দাসের একটা ব্যবস্থা করতে পেরেছে সাগর। হাতিবাগান বাজারেই একটা ছোট জায়গার ব্যবস্থা করতে পেরেছে তার প্রভাব খাটিয়ে। বাজারের মধ্যে একটা জায়গা পেতে গেলে প্রভাব একটু না খাটালেও চলে না। হোসিয়ারির দোকান। সন্তোষ চালাক চতুর লোক। চালিয়ে নিতে পারবে ঠিক। প্রথম লটের মাল ক্রেডিটে তোলার ব্যবস্থাও করে দিয়েছে সাগর। এখন দেখা যাক সন্তোষ দাসের ব্যবসার চাকা কতদূর গড়ায়। তবে সন্তোষ তার স্বাভাবিক স্বভাবগুণে আশপাশের দোকানদারদের সঙ্গে দিব্যি আলাপ পরিচয় করে নিয়েছে। তাছাড়া সাগরের লোক বলে ভয় বা ভক্তি যে কারণেই হোক তার কিছু খাতির হয়েছে ওখানে। বিক্রিবাটা ভালরকম জমে উঠতে সময় লাগবে, তবে সন্তোষ নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
    আজ সন্ধে সাতটা নাগাদ একজন কালো মোটাসোটা, পঞ্চান্ন ছাপ্পান্ন বছরের সরু গোঁফওয়ালা, সাদা পাজামা পাঞ্জাবী পরা ভদ্রলোক বাজারে ঢুকলেন। সঙ্গে দু তিন জন লোক। তাকে দেখে দোকানদারেরা বেশ তটস্থ হয়ে উঠল। বিভিন্ন দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে তিন চার মিনিট করে কি সব কথা বলতে লাগলেন তিনি।
    সন্তোষ সাত ঘাটের জল খাওয়া লোক। তার চিনতে ভুল হল না। মনে মনে বেশ, ' শাল্লা... স্বরূপ খাঁড়া ... '। দুজনে সামনাসামনি মোলাকাত বার দুয়েক হয়েছে এর আগে। সন্তোষ তখন শ্যামপুকুর থানায় কাজ করত। মানে, খবর সাপ্লাই দিত থানায়। খাঁড়ার সঙ্গে তার আলাপ হয়েছিল শ্যামপুকুর থানাতেই। ব্যাটা তখন ওই কাজই করত। আর এখন নেতা। ধান্দাবাজি জায়গামতো খাপে খাপে করতে পারলে সবই হয়।
    তারপর ভাবে, ওসব ফেরেব্বাজি দুনম্বরী না করে ভালই হয়েছে। ওসব করার চেয়ে সাগর মন্ডলের সঙ্গে থাকা অনেক ভাল। সন্তোষের এ ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই যে, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।

    সন্তোষ দেখল, চার পাঁচটা দোকান ঘুরে স্বরূপ খাঁড়া তার দোকানের দিকে আসছে। দূর থেকে তার দিকে তাকিয়ে আছে। সন্তোষের চেহারার বেশ কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। তবু মনে হচ্ছে খাঁড়া তাকে চিনে নিয়েছে। আর, স্বরূপবাবুর চেহারার তো পরিবর্তন অবশ্যই হয়েছে। তবু সন্তোষ তাকে এক নজর দেখেই ঠিক চিনতে পেরেছে।
    দোকানের সামনে এসে দাঁড়াল খাঁড়া এবং সঙ্গের দুজন লোক। স্বরূপ খাঁড়া সন্তোষের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল খানিকক্ষণ। তার মুখে মৃদু হাসি ফুটে উঠল। সন্তোষকে না চেনার কোন ভানই করল না।
    ----- ' আরে ... কি ব্যাপার ... তুমি এখানে কবে দোকান দিলে? '
    ----- ' এ..ই কিছুদিন হল ... '
    ----- ' তা ভাল। এখানে দোকানঘর পাওয়া তো সোজা ব্যাপার না। যাক পেয়ে গেছ ভালই ... ভাগ্য ভাল বলতে হবে? তা, এমনি আছ কেমন? এখন তো আর ও লাইনে নেই ... '
    সন্তোষ সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলল, ' সেটা তো আপনার না জানার কথা নয়। আর আমাদের মতো লোক আর ভাল ছিল কবে দাদা? '
    ----- ' না না ... তা কেন হবে। ভাল থাকার অধিকার সবার আছে ... '
    সন্তোষ মোটেই গুটিয়ে গেল না।
    বলল, ' কিরকম কিরকম ... '
    খাঁড়াবাবু মোটেই উত্তেজিত হলেন না।
    শান্ত ভঙ্গীতে বললেন, ' না ... বলছি যে, আমি যদি ভাল থাকতে পারি, তুমিই বা পারবে না কেন?
    ----- ' তা কি উপায়ে সম্ভব বলুন তো ... '
    ----- ' আমার ওপর বিশ্বাস রাখ। আমার দিক থেকে চেষ্টার ত্রুটি হবে না কথা দিচ্ছি। একদিন সময় করে আমার অফিসে এস না। বাড়ির একতলায়। যে কোন দিন সন্ধে ছ'টা থেকে দশটার মধ্যে। কথাবার্তা হবে। বাড়িটা অনেক কষ্টেসৃষ্টে বাড়িয়ে তিনতলা করেছি জান তো ... '
    সন্তোষ নিস্পৃহ ভঙ্গীতে বলল, ' না তা জানি না। আমি কি করে জানব? '
    ----- ' ও ... হাঃ হাঃ হাঃ ... তাও তো বটে। তুমি কি করেই বা জানবে? তুমি কিন্তু আগের মতোই আছ ... হাঃ হাঃ হাঃ ... যাক তা'লে আসছ কবে? '
    সন্তোষ ভাবল, ব্যাটা আরো ঝানু হয়েছে। সন্তোষ লাইনটা কায়দা করে ধরে রাখল।
    বলল, ' হ্যাঁ ... আপনি তো আছেনই, চিন্তা কি? যাব একদিন ... '
    বর্তমান অবস্থার হিসেব করে সন্তোষ স্বরূপ খাঁড়াকে 'আপনি' বলল। মনে মনে ভাবল, শালার আরো কিছু চক্কর আছে, নইলে এখানে ঘুরছে কেন? নিশ্চয়ই তার এখানে দোকান দেবার খবর কোনভাবে পেয়েছে। সেটাই বাজাতে এসেছে। মতলবটা জানার দরকার ... আমি চলি পাতায় পাতায় ... আমার নাম সন্তোষ দাস ... '
    খাঁড়াবাবু বললেন, ' হ্যাঁ হ্যাঁ ... এস এস ... তবে বেশি দেরি কোর না ... সময় কারো জন্য বসে থাকে না ... কখন কি হয়ে যায় ... '
    শেষ কথাটার মানে ঠিক ধরতে পারল না সন্তোষ। তবে সে কিছু জিজ্ঞাসা করতে গেল না। মনের মধ্যে গুঁজে রাখল।
    বলল, ' হ্যাঁ, সে তো বটেই ... '

    রাত্রি ভাবল, অমল অনেকদিন নিখিল স্যারের কাছে আসছে না। একবার খোঁজ নেবার দরকার। হাজার হোক, সেই তো অমলকে এনেছিল ওখানে। স্কুলের চাকরি শুরু করার পর থেকে তারও সময়ে খুব টান পড়ছে। শুধু ছুটির দিনগুলোই ভরসা। যাদবপুরে যাতায়াতেও অনেকটা সময় যায়। সঞ্চারীর সঙ্গেও এখন দেখা হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। ওদের বাড়ির মেয়েরা চাকরি বাকরি করে না। সঞ্চারীর চাকরি করার ঝোঁক কোনকালেই ছিল না। পি এইচ ডি করার চেষ্টা করছে বোধহয়। রাত্রি ঠিক করল সে সামনের রবিবার সঞ্চারীদের বাড়ি যাবে।

    বিকেল পাঁচটা। সদর দরজা খোলা। কাউকে দেখা যাচ্ছে না। রাত্রি সোজা ওপরে উঠে গেল। দোতলায় উঠতেই ঘটনাক্রমে অমলের মুখোমুখি পড়ে গেল। সে বোধহয় ঘর থেকে বেরিয়ে নীচে নামতে যাচ্ছিল। আচমকা রাত্রিকে দেখে তার বুকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় একটা ঢেউ উঠল। কিন্তু পুরোপুরি চাপা দিয়ে রাখল অমল।
    চোখে মুখে বিস্ময় ফুটিয়ে সপ্রতিভ ভঙ্গীমায় সে বলল, ' আরি ব্বাস ... ঠিক দেখছি তো? একেবারে ভুলে গেলে আমাদের ... কতদিন পরে ... '
    রাত্রি অনুনয়ের ভঙ্গীতে বলল, ' না গো দাদাভাই... একদমই ভুলিনি। আসলে, একদমই সময় পাই না চাকরিটায় ঢোকার পর থেকে ... '
    ------ ' ও আচ্ছা ... চাকরিতে ঢুকেছ? বুঝবে এবার ঠেলা ... '
    ------ ' যা বলেছ ... একেবারে যন্ত্রের মতো চলছে জীবন ...'
    তারপর রাত্রি যেটা বলল তাতে আর একটা ঢেউ উঠল অমলের বুকে।
    রাত্রি বলল, ' অ্যাকচুয়ালি তোমার কাছেই এসেছিলাম .... '
    ----- ' কিরকম? '
    ----- ' তুমি কি সরে যাচ্ছ সংগঠন থেকে? মানে, অনেকদিন কোন যোগাযোগ রাখছ না ... নিখিল স্যার সেদিন তোমার কথা জিজ্ঞাসা করছিলেন। যেহেতু আমি তোমাকে নিয়ে গিয়েছিলাম .... '
    অমল এবার ধাতস্থ হল।
    ----- ' ও আচ্ছা ... বুঝতে পেরেছি ... আসলে কি হয়েছে ... আচ্ছা, এস ঘরে এস ... বলছি ... '

    অমলের মা ঘরে এসে ঢুকলেন। বললেন, ' ও, তুমি এসেছ? অনেকদিন পরে এলে। তোমার নামটা যেন কি মা? '
    ----- ' রাত্রি মাসীমা। আসলে, আমি এখন একটা চাকরি করি। সেই যাদবপুরে অফিস। একদম সময় পাই না। ঘরেও অনেক কাজ থাকে ... '
    ---- ' তাই তো ... তোমরা আজকালকার মেয়ে, ঘরে বাইরে দুদিকে কত দায়িত্ব সামলাচ্ছ। তোমার বাবা ভাল আছেন তো রাত্রি? '
    ----- ' হ্যাঁ মাসীমা .... আছেন একরকম ... '
    ----- ' আচ্ছা আচ্ছা .... বিয়ে থার চেষ্টা চলছে নাকি? বাবা তো একা মানুষ ... আমরা দেখব নাকি? '
    রাত্রি হেসে ফেলল, ' না মাসীমা ... আপনারা কেন কষ্ট করবেন। জন্ম মৃত্যু বিয়ে, তিন বিধাতা নিয়ে। সবার জন্যই একটা না একটা জুড়িদার ঠিক হয়ে থাকে। ঠিক সময়ে তাদের দুজনের দেখা হয়ে যায়। আমার জন্যও নিশ্চয়ই সেরকম কেউ না কেউ আছে। ঠিক সময়ে হয়ত তার সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে ... '
    অমল বলল, ' কিংবা গেছে ... '
    ----- ' মানে? '
    ----- ' মানে, দেখা হয়ে গেছে ... '
    ----- ' অতটা বলতে পারব না। এ পৃথিবীতে সবকিছুই অনিশ্চিত। কোন কিছুই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। '
    ----- ' সেটা ঠিক আছে। কিন্তু সম্ভাবনাটা তো আন্দাজ করা যায় ... ' অমল বলল।
    ------ ' কি জানি ... ঠিক বুঝতে পারি না। আসলে আমরা নিজেদেরই ভালভাবে বুঝতে পারি না। যাকগে ... ওসব বাদ দাও। যেটা বলতে এসেছিলাম ... '
    অমলের মা এসব ভারি ভারি কথার মধ্যে আর থাকতে চাইলেন না।
    তিনি বললেন, ' আচ্ছা ... তোমরা কথা বল। আমি একটু রান্নাঘরে যাই ... '
    রাত্রি কিছু বলবার আগেই অমল বলল, ' আমি স্যারের চিন্তাধারায় ভীষণভাবে নাড়া খেয়েছি। আমি ক'দিন ধরে শুধু ওই ব্যাপারগুলো ভেবেছি। ওনার থিয়োরিতে আমার কোন দ্বিমত নেই। কিন্তু প্রসেস অফ এগ্জিকিউশান আমাকে দোটানায় ফেলে দিয়েছে। আমি কি করব বুঝতে পারছি না। একদিকে, নিখিল স্যারের কথা আমি ফেলে দিতে পারছি না, কারণ কোন বিরুদ্ধ যুক্তি আমি অনেক ভেবেও খাড়া করতে পারিনি। কিন্তু ভেবে পাচ্ছি না এর পরিণতি ... মানে আল্টিমেট রেজাল্ট কি? এটা তো টোটালি একটা অ্যান্টিএসট্যাবলিশমেন্ট মুভমেন্ট। রাষ্ট্রশক্তি তো প্রবল ... তারা তো এটা মুছে দিতে সক্ষম অনায়াসেই ... এটা তো একটা অসম লড়াই। আর যদি রিভলিউশানের কথা বল, সেটা এই মাল্টিস্ট্রাকচারাল সোসাইটিতে প্রায় অসম্ভব। প্রশাসনকে কিছু করতে হবে না, সুবিধাভোগীদের নানা গোষ্ঠী ডায়রেক্টলি অর ইনডায়রেক্টলি এই মুভমেন্টে গাঢ় অ্যাসিড ঢেলে দিতে চাইবে। আর একটা কথা, আমি তো একটা সরকারি চাকরি করি ....'
    রাত্রি আত্মমগ্ন শিল্পী অমলের মুখে এরকম অতি বাস্তব সমাতত্ত্বমূলক বক্তব্য শুনে চমৎকৃত হল। তারপর ভাবল, হয়ত আত্মমগ্ন মানুষ বলেই এত কথা তলিয়ে ভেবেছে।
    সে বলল, ' যে কথাগুলো বলছ, সেগুলো কমন ফ্যাক্টর। তাহলে কোন কিছুই না করে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকতে হয়, সব অনুচিত ব্যাপার মেনে নিয়ে। আমার মনে হয় সেটা মনুষ্যত্ববিরোধী কাজ ... অ্যান্টিহিউম্যানিস্ট থট। আর, আমি যেটুকু বুঝেছি, স্যার তো রিভলিউশানের কথা বলেননি। উনি রয়্যাডিক্যাল হিউম্যানিসম-এর কথা বলেছেন ... অন্তত এই মুহুর্তে। যাই হোক, আমি শুধু এটুকু বলতে এসেছি তুমি একবার অন্তত স্যারের সঙ্গে দেখা কর। তোমার মনের সব সংশয় একমাত্র তিনিই দূর করতে পারবেন।'
    রাত্রি থামল।
    অমল বলল, ' একবার নয়, বহুবার যাব। যার কথাগুলো আমার রক্তে মিশে গেছে তাকে কি অত সহজে ছেড়ে আসা যায়? তাছাড়া আমাকে তো ওখানে যেতেই হবে ... টান কাটানো কি অতই সোজা ... অনেক সময় লাগে ... তবে চেষ্টা করছি ... '
    ----- ' আবার কিসের টান? তা,এখনই এত বৈরাগ্য কেন? '
    ----- ' সে আছে ... বাদ দাও না ... '
    কথাটা চাপা পড়ে গেল। অমলের মা চা আর গরম সিঙাড়া নিয়ে ঘরে ঢুকলেন।
    বললেন, ' দাঁড়া খুকুকে এখানে ডাকছি। '
    তিনি খুকু মানে সঞ্চারীকে ডাকতে গেলেন।
    রাত্রি বলল, ' গীটার শুনব না? '
    ----- ' হুঁ হুঁ .... আগে খেয়ে নিই ... '
    অমল সিঙাড়ায় কামড় বসাল।

    সঞ্চারীদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাত্রি রাস্তায় পা রাখল পৌনে আঠটা নাগাদ। টাউন স্কুলের দিকে না গিয়ে সে সোজা হাঁটতে লাগল ছাতুবাবু লাটুবাবুর মাঠের দিকে।
    বেশ খানিকটা ফারাক রেখে নিঃশব্দে রাত্রির পিছন পিছন দুটো লোক হাঁটতে লাগল।

    ( চলবে )
    ********************************************
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    | | | | | ৬  | ৭  | ৮  | ৯  | ১০  | ১১  | ১২  | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬  | ১৭  | ১৮ | ১৯ | ২০ | ২১ | ২২  | ২৩  | ২৪  | ২৫  | ২৬ | ২৭ | ২৮  | ২৯  | ৩০ | ৩১  | ৩২  | ৩৩  | ৩৪ | ৩৫ | ৩৬  | ৩৭  | ৩৮  | ৩৯  | ৪০  | ৪২  | ৪৩  | ৪৪  | ৪৫  | ৪৬ | ৪৭  | ৪৮  | ৪৯  | ৫০  | ৫১  | ৫২ | ৫৩ | ৫৪ | ৫৫ | ৫৬ | ৫৭ | ৫৮ | ৫৯ | ৬০ | ৬১ | ৬২ | ৬৩ | ৬৪ | ৬৫ | ৬৬ | ৬৭ | ৬৮ | ৬৯ | ৭০ | ৭১ | ৭২ | ৭৩ | ৭৪ | ৭৫ | ৭৬ | ৭৭ | ৭৮ | ৭৯ | ৮০ | ৮১ | ৮২ | ৮৩ | ৮৪ | ৮৫ | ৮৬ | ৮৭ | ৮৮ | ৮৯ | ৯০ | ৯১ | ৯২ | ৯৩ | ৯৪ | ৯৫ | ৯৬ | ৯৭ | ৯৮ | ৯৯ | ১০০ | ১০১ | ১০২ | ১০৩ | ১০৫ | ১০৬ | ১০৭ | ১০৮ | ১০৯ | ১১০ | ১১২ | ১১৩ | ১১৪ | ১১৫ | ১১৬ | ১১৭ | ১১৮ | ১১৯ | ১২০ | ১২১ | ১২২ | ১২৩ | ১২৪ | ১২৫ | ১২৬ | ১২৭ | ১২৮ | ১২৯ | ১৩০ | ১৩১ | ১৩২ | ১৩৩ | ১৩৪ | ১৩৫ | ১৩৬ | ১৩৭ | ১৩৮ | ১৩৯ | ১৪০ | ১৪১ | ১৪২ | ১৪৩ | ১৪৪ | ১৪৫ | ১৪৬ | ১৪৭ | ১৪৮ | ১৫০ | ১৫১ | ১৫২ | ১৫৩ | ১৫৪ | ১৫৫ | ১৫৬ | ১৫৭ | ১৫৮ | ১৫৯
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লাজুক না হয়ে মতামত দিন