তরমুজ | আমি ভাবছি দেশে যখন এক বিপরীতমূখী হাওয়া চলছে। তখন প.ব. তে চাড্ডির সংখ্যা এত বাড়ছে কেন? আশে পাশের আবহাওয়া একটু গায়ে লাগার ফলে বুঝতে পারলাম। বেসরকারি স্কুল কলেজগুলোতে ট্রেনিং হচ্ছে।
তরমুজ | //আইনস্টাইন, হেগেল কান্ট, মার্ক্স, ব্রেখট সবাই পুঁজিবাদী সমাজে জন্মেছেন। নীলস বোর, ওপেনহাইমার এবং আজকের পদার্থ বিদ্যা, রসায়ন ও চিকিৎসাবিদ্যার যত কিছু যুগান্তকারী আবিষ্কার সব পুঁজিবাদী সমাজেই হয়েছে।//
বিশ্বগরু | Ransomware group World Leaks has posted on the dark web a huge cache of files related to India's largest nuclear plant, including purported blueprints of parts of its facilities and supplier details — information it labelled as coming from Reliance Group.
হরিদাস পালসোনম বলেছেন তিনি হিরো না। ঠিক কথা। তিনি শ্রদ্ধেয় এবং সম্মাননীয় ব্যক্তি। তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে লড়ছেন। সবকিছুতে মত মিলবেনা, কিন্তু লড়ছেন, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এবং এই লড়াইয়ে কোনো ঢিসুম-ঢাসুম হবেনা। খুব বেশি হলে মরে যেতে পারেন।
হরিদাস পালতা খাড়াই বলে খাড়াই… আমার অনভ্যস্ত ঠ্যাঙ আর তারচেয়েও বেশী অনভ্যস্ত হৃৎপিন্ড একটা করে বাঁক ঘুরলেই এমন দুমদুমাদুম করে লাফাতে থাকে যে কোথাও পাঁচমিনিট কোথাও আরো বেশী জিরিয়ে নিই। অনেক জায়গাতেই রাস্তা এত সরু যে জিরোতে গেলে ওই পাশের পাথরে ভর দিয়ে হেলে অন্যদের পাশ দিতে হয়। ওঠার লোক সব চলে গেলেও অনেকে নামছেন। ট্যুরিস্টই মূলত, একদিন বা দুদিন কাটিয়ে কিম্বা আরো উপরে ট্রেক করে ফিরছেন। সকলেই উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন ‘'বাস আ গ্যয়ে, অউর থোড়া হি যানা হ্যায়’’ এবং আমি চড়ছি তো চড়ছিই।
হরিদাস পালহঠাৎ কানে এল কারও গলা; তারুণ্যে ভরা স্বর, তাতে কিছুটা যেন বিদ্রূপ মেশানো; সে বলছে, “তোমাকে দিয়ে আর বেশি দিন চলবে না।” এর উত্তরে কেউ বলল, “কাউকে দিয়েই চির দিন চলে না; তবে যার যা কাজ তাকে সেটা শেষ পর্যন্ত করেই যেতে হয়।” এই গলার মালিক মনে হয় বয়স্ক। কারা কথা বলছে বুঝতে পারল না জয়দীপ, এদিক ওদিক তাকাল। খুব কাছ থেকেই শোনা গেল দুটো গলা, কিন্তু এই মুহুর্তে তো কাছাকাছি কেউই কথা বলছে না। ট্রেনে ঘোষণা হল এসপ্ল্যানেড স্টেশন আসছে। আবার চোখটা বুজে এল তার। প্রথম গলাটা ফের শোনা গেল,”তোমার চামড়া, তোমার রাবার সোল – সব গেছে। গত সপ্তাহে স্লিপ করেছ, আর একবার তো পেস্টিং খুলে যাচ্ছিল আর একটু হলেই। সময় হয়েছে, এবার সরে যাও। তুমি এখন লায়াবিলিটি।”
হরিদাস পাল
হরিদাস পাল
হরিদাস পাল"মুনির পুত্র তপস্বী শৃঙ্গী, বালকদের সঙ্গে কিছুটা দূরে খেলা করছিল। তিনি অত্যন্ত তেজস্বী। রাজা পরীক্ষিৎ আশ্রমে এসেছিলেন এবং রাজা পিতাকে দুঃখ দিয়েছেন শুনেই তিনি বালকদের বললেন, “কি আশ্চর্য, রাজারা প্রজাদের অর্থেই সমৃদ্ধ হয়ে, কি রকম অধর্ম করে, দেখ। প্রভুর অন্নে বেঁচে থাকা কুকুর আর কাক যেমন প্রভুরই অনিষ্ট করে, তেমনি এই রাজাও আমার পিতার অনিষ্ট করে গেল! ব্রাহ্মণেরা ক্ষত্রিয়দের দ্বারপাল কুকুর বলেই মনে করে, তাদের উচিৎ দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা, তারা কিভাবে আশ্রমে প্রবেশ করে?" আহা, একজন ক্ষত্রিয় রাজার প্রতি এক ইঁচড়ে-পাকা বালক-ব্রাহ্মণের কি মনোভাব!
বুলবুলভাজা"কোনো অঙ্ক শেখাও নি তো, তোমার অঙ্ক বিনা তারা।" ভাগের অঙ্ক শেখেননি নজরুল। তাই তাঁর ভক্তি এতো শুদ্ধ। সুর এতো প্রাণবন্ত। জগতজুড়ানি শ্যামার কাছে এক মাতৃহারা,সন্তানহারা প্রাণ। মা ছেলেকে মারে ধরে, কিন্তু কাছছাড়া করে না। চিরমাতৃহারা সন্তান আশ্রয় খুঁজছে ছোট শিশুর সারল্য নিয়ে। শব্দ চয়নে কী বিস্তার। "জুড়ানো" শব্দটি একান্ত বাঙালি। তার থেকে ' জুড়ানি', একেবারে ' জগতজুড়ানি'। তাকে বিদেশী ভাষায় ব্যক্ত করা মুশকিল।
হরিদাস পালআর দ্বিতীয় কথাটা হল, চারটি স্তম্ভের বাইরে বেশ তাগড়াই একটি পঞ্চম বাহিনীও আছে। স্পেনের গৃহযুদ্ধে ফাসিস্ত ফ্রাঙ্কোর বিরুদ্ধে লড়ছিল আন্তর্জাতিক সংহতি। ফ্রাঙ্কো তখন বলেছিলেন, মাদ্রিদ আমরা দখল করবই, কারণ মাদ্রিদের চারদিকে আছে আমাদের চারটি বাহিনী। আর মাদ্রিদের ভিতরে আছে পঞ্চম বাহিনী।
বুলবুলভাজাগুরুচণ্ডা৯র প্রকাশিত বাংলা গল্পের অডিও সিরিজ - গুরুচন্ডা৯র গল্প।
হরিদাস পালমৃতপ্রায় নদী শুয়ে আছে বালি মেখে, ক্ষত আঁকা দেহ পথিকের পায়ে পায়ে।
বুলবুলভাজাসমবেত মানুষজনের কথায় আরও অনেক বিষয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিপ্রকাশ ঘটলেও, মূল দাবী ওইটুকুই। এঁদের মধ্যে কয়েকজন সোনম ওয়াংচুক আসার আগে থেকেই অনশনে রত এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থার বেশ খানিকটা অবনতি ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে। এর কোনো খবরই বাইরে বিশেষ বের হয়নি, তার কারণ – সামগ্রিকভাবে মেইনস্ট্রিম মিডিয়া প্রথম দিন থেকেই এই আন্দোলনকে বয়কট করেছে। অবশ্য ধর্না চত্বরে ক্যামেরার অভাব নেই। কিছু ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিডিয়া হাউস ছাড়াও অনেকেই নিজেদের ইউটিউব বা ইন্সটাগ্রাম ভিডিও বানাচ্ছেন এবং শেয়ার করছেন। বড়সড় ইনফ্লুয়েন্সাররা অবশ্য অনুপস্থিত। সে নিয়েও ক্ষোভ আছে বোঝা গেল।
হরিদাস পালওদিকে চেহারার বাজারদর মাপার কাজটা করেছেন অর্থনীতিবিদরা। ড্যানিয়েল হ্যামারমেশ প্রায় গোটা কেরিয়ার এই নিয়ে খরচ করেছেন – ‘পালক্রোনমিক্স’ বলে ইয়ার্কি করে ডাকা হয় জিনিসটাকে, সৌন্দর্যের অর্থনীতি। তাঁর হিসেব অনুযায়ী আমেরিকায় এক জন সুশ্রী মানুষ গোটা কর্মজীবনে গড়ে প্রায় দুই লক্ষ তিরিশ হাজার ডলার বেশী রোজগার করেন গড়পড়তা-থেকে-কম-দেখতে সহকর্মীর তুলনায়। শতাংশের হিসেবটা ছোট – দু-তিন-চার শতাংশ – কিন্তু তিরিশ বছর ধরে জমলে আর ছোট থাকে না। সুন্দর লোকেরা চাকরী বেশী পান, প্রোমোশন বেশী পান, ব্যাঙ্কে লোন পান সহজে, সুদটাও তাঁদের দিতে হয় একটু কম। এ জিনিসও আমি নিজে সামনা সামনি দেখেছি – পৃথিবীর নানা দেশে ঘুরতে গিয়ে কত জিনিসের ডিসকাউন্ট পেয়েছি কেনার সময়, অনেক সময় না চাইতেই, কেবল সাথে সুন্দরী একজন ছিল বলে!
বুলবুলভাজাএক ঘুমে রাত কাবার। ভোর রাতে ওঠা। ছোট মাতাজী ভার নিয়েছেন সকলকে ঘুম থেকে ডেকে দেবেন। পড়ি কি মরি কি করে রেডি হয়ে বাইরে এসে দেখি - সেই আবছা কুয়াশা ঘেরা মাঠাবুরুর জঙ্গলের মাঝে ফাঁকা জায়গায় সারি বেঁধে প্রার্থনা শুরু করেছে মেয়েরা। আহা সেই ব্রহ্ম মুহূর্তে ওই সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণ আর প্রার্থনা সঙ্গীত এক অপার্থিব পরিবেশ তৈরি করেছিল। সে যে না দেখেছে, না শুনেছে তার পক্ষে অনুভব করা সম্ভব নয়।
হরিদাস পাল....আমাদের কারো মুখে কোনো কথা নেই। অপলক দৃষ্টিতে ঘাড় উঁচিয়ে সুদূর জ্যোতিষ্কলোকের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে চলেছি আমরা। এতোদিন বইয়ের পড়ায় মন আটকে ছিল আমাদের। রাতের এই ক্লাসের হাতধরে আমরা পৌঁছে গেলাম সুদূর জ্যোতিষ্কলোকের আঙিনায়। তারকা লেখনি পাঠ আমাদের কাছে এক নতুন অজানা জগতের দুয়ার খুলে দিল। রাত আকাশ পাঠে আগ্রহী হতে এই লেখাটি পড়তেই হবে।
বুলবুলভাজামহিলা সাংসদ চিৎকার করছেন, যে তিনি আক্রান্ত। তিনি যে জায়গায় তাঁর দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন, সেই ঘরটা জাতীয় সড়কের ওপরে একটি বাড়ির তৃতীয় তলায়। তাঁর ফেসবুক লাইভ থেকে দেখা যাচ্ছিল, যে ঐ ঘরের জানলার বাইরে একদল মানুষ জড়ো হয়েছেন এবং তাঁরাই উস্কানি দিচ্ছে। তাঁদের মুখে সেই কুখ্যাত কিংবা বিখ্যাত ‘জয় শ্রী রাম’ শ্লোগান এবং কারো কারো হাতে বিজেপির পতাকা।
হরিদাস পালবাঙালির খোপবাজি
হরিদাস পাললোকায়ত মতের বিশ্বাসীরাই ছিলেন নিরীশ্বরবাদী – মহাভারতে এই মতের প্রচারক ছিলেন মুনি চার্বাক যিনি দুর্যোধনের মিত্র ছিলেন। আবার রামায়ণে এই মতের প্রচারক ছিলেন মুনি জাবালি, যিনি শ্রীরামচন্দ্রকে পিতৃসত্য পালনের জন্যে বনবাসে না যাওয়ার উপদেশ দেওয়াতে, শ্রী রাম তাঁকে ধিক্কার দিয়ে তিরষ্কার করেছিলেন]।
হরিদাস পালআমি আমার মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শ্যামাপ্রসাদের ডায়েরি যা তিনি অনিয়মিতভাবে লিখতেন এবং যা Leaves from a diary নামে প্রকাশিত সেটাকেই কেন্দ্রীয় ফোকাসে রেখেছি। কারণ একজন ব্যক্তির মতাদর্শ, পছন্দ অপছন্দ, স্ববিরোধিতা সবকিছু ডায়েরিতে অন্তরঙ্গভাবে ধরা পড়ে যা মানুষটিকে চিনতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পরিপ্রেক্ষিত ব্যাখ্যা করার জন্য আমি জয়া চ্যাটার্জীর দুটি বই যা বামপন্থীদের কাছে প্রশংসিত এবং বিপরীত শিবিরের কাছে নিন্দিত – সে দুটির সাহায্য নিয়েছি।
হরিদাস পালসব মিলিয়ে যা বোঝা যাচ্ছে, বিরোধীদের জন্য বারুইপুর অবরুদ্ধ। কিছু হলেও ডিম্মিডিয়া দেখাবেনা। মোটের উপর ব্ল্যাক আউট চলছে। পোস্ট মর্টেম কী হয়েছে কেউ জানেনা। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, যে বস্তায় দেহ ছিল, সেটা এখনও পড়ে। এভিডেন্স আদৌ সংগ্রহ করা হয়েছে কিনা জানা নেই। এবং ময়ূখের বক্তব্যের পর সন্দেহ হচ্ছে, একমাত্র সাক্ষী বলে যাঁর কথা শোনা যাচ্ছে, তাঁকেই "খরচা" করে দেওয়া হতে পারে। পরপর অনেকগুলো ধর্ষণ বা লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটল নতুন জমানায়। চন্দ্রনাথের খুনের কোনো কিনারা হয়নি। ইভিএম পুড়ে গেল এবং ডিম-ছোঁড়া জাতীয় গণহিংসায় কার্যত উৎসাহ দেওয়া চলছে।
হরিদাস পালছেড়ে যাও পিতৃস্মৃতি, মায়ায় জড়িয়ে থাকা খাট উঠোনের কোণে রাখা অভিমানী টগরের চারা সেই কবে উড়ে যাওয়া ময়নার ভাঙাচোরা খাঁচা পাথরের শিলনোড়া, বৈশাখী মেলা থেকে কেনা।
হরিদাস পালইংরেজির ভাণ্ডারে বিবিধ রতন এবং তার শোভা দেখে মাথা ঝিম ঝিম করছে। এমন সব শব্দের দেখা পাই, অবস্থান ও প্রয়োগ বিচারে যাদের অর্থ বদলে যায়। ভাষা এক জীবন্ত প্রাণী; একই শব্দ, ফ্রেজ ব্যবহারের গুণে আনে নতুন ব্যঞ্জনা। যতদিন না জনসনের বসওয়েল বা সুনীতি চাটুজ্যের মতন কোন মনীষী অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফ ফাইনান্সিং পারলান্স নামক একটি থান ইট প্রস্তুত করছেন ততদিন এই শব্দ সম্ভারের কপি রাইট বিতর্কিত থেকে যাবে, কেবল মাত্র ওয়াল স্ট্রিট বা লম্বারড স্ট্রিটকে সেটি দেওয়া যাবে না। কিন্তু মেনে নিতেই হয় এই জিতা জাগতা জুবান একদিন ব্যাঙ্ক, ষ্টক মার্কেট, আই টি এবং কর্পোরেট মহলের চৌহদ্দি ছাড়িয়ে ঢুকে পড়েছে জেনটেলমেন্স ক্লাবে, হাউসেস অফ পার্লামেন্টে, এম সি সি প্যভিলিয়নের হর্ম্য মণ্ডিত হলে। প্রতি বছর কনসাইজ অক্সফোর্ড ডিকশনারির কাজ বাড়ে। আজকের সামাজিক মাধ্যমের গতি তীব্র ও ব্যাপ্তি বিশাল হলেও দেশ ভেদে ইংরেজি ভাষার শব্দ চয়নে ও অর্থে বিস্তর ফারাক থেকে গেছে। বাংলা সাহিত্যের ক্লাসে অর্থ বিস্তার পড়েছি ; যেমন গঙ্গা একটি নদীর নাম, তা থেকে পেয়েছি গাঙ, গ্রামের এলে বেলে জলধারাকে সে নামে ডাকা যায়। হয়তো এমনটা ঘটেছিল শিল্প বিপ্লবের আমলেও। গত চার দশকে তারই পুনরাবৃত্তি দেখি, অর্থনীতিক, বাজারি জগতে। সেখান থেকে উদ্ভূত শব্দ অথবা বাক্যাংশ চালু হল মুখে মুখে। তারই গৎ পরের পর্বে। পরিশেষে একাকি কথকের এ নহে তো আসর ; তাই পাঠকের সক্রিয় সংযোজনা, পরামর্শ, সম্যক এবং যে কোন আলোচনা একান্ত প্রার্থনীয়।
হরিদাস পালপরীবন নামখানা সার্থক। পাইন আর দেওদার একদম ঘেঁষাঘেঁষি হয়ে এমনভাবে মাথা তুলেছে যে আলো আর ছায়া কখনো কাটাকুটি খেলছে তো কখনো লুকোচুরি। পাইনের গাঢ় গন্ধ, দেওদারের ঘন বোতলসবুজ রঙ, আলোছায়ার চিকিমিকি আর হঠাৎ নেমে যাওয়া তাপমাত্রায় গায়ে শিরশিরানি ধরানো ঠান্ডায় ঘোর লাগে। মনে হয় ওই তো কুয়াশারঙা পরী ফুরুৎ করে ভেসে গেল। ওই ওওই যে পরীর ঝিকমিকে ডানাজোড়া নীচের আপেলবাগানের দিকে উড়াল দিল বুঝি বা।
হরিদাস পালকিন্তু অনুযোগ আছে অনেকের। হঠাৎ করে বদলে যাওয়া সামাজিক অর্থনৈতিক পটভূমিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে অনেক অনেক মানুষ। গ্রামের খোলশ ছেড়ে শহরের মলাটে সবকিছুকে মুড়ে নিতে গিয়ে আজ বিসর্জনের বাজনা বেজেছে তাদের ঘরে। এসব কথা বিনোদ ডাক্তারের মনে তুফান তোলে কিন্তু তিনি জানেন একে রোখা যাবেনা। শহুরে হাওয়ায় হয়তো উপড়ে যাবে এত দিনের শেকড়ের সব বাঁধন। বড় একা মনে হয় নিজেকে। এক বদলে যাওয়া গ্রাম আর মানুষের কথা।
হরিদাস পালএই তো সময়, যখন বিপ্লবীরা শমীকবাবুর থানে গিয়ে হত্যে দিচ্ছেন, বাম কবিরা অটলবিহারী বাজপেয়ীতে মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছেন, সায়নী ঘোষ সাদা শাড়ি ছেড়ে টি-শার্টে ফিরে যাচ্ছেন, চাকরি হারিয়ে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন আরবানায় থাকতে যোগ্যতা লাগে।
হরিদাস পালযদুবংশীয় ও যে সকল অসুর রাজকুলে জন্ম নিয়ে পৃথিবীকে ভারযুক্ত করেছিল, তারা সকলেই শ্রীকৃষ্ণের তনু। প্রথমটিকে যাদব-তনু এবং দ্বিতীয়টিকে ভূভার-তনু বলা যেতে পারে। পায়ে ফোটা কাঁটা যেমন লোকে আরেকটি কাঁটা দিয়ে তুলে ফেলার পর, দুটি কাঁটাকেই পরিত্যাগ করে, তেমনই শ্রীকৃষ্ণ যাদব-তনুর সাহায্যে ভূভার-তনুর বিনাশ করে, অবশেষে যাদব-তনুরও সংহার করলেন। কারণ উভয়েই সংহারযোগ্য বলে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে সমান।
বুলবুলভাজারাজাগোপালের এই বয়ানটি হয়ত, অনেকেই পড়েছেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও নির্লিপ্ত থেকেছেন, ঠিক যেমনটা ভোটের আগে, কিংবা আসামের এনআরসি’র সময়ে ছিলেন। তখন হয়ত বেশীরভাগ মানুষ ভেবেছিলেন, এই সমস্যা শুধু মুসলমানদের বা ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’দের নিয়ে হবে, তাই তখন খুব বেশী শোরগোল করেননি। সেই সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোও খুব বেশী সোচ্চার হয়নি, তারা সবাই ব্যস্ত ছিল নিজেদের রাজনৈতিক প্রচারে।
আমার বড়োই খোঁজার বাতিক, পিঁপড়ে খুঁজি কম্বলে। ভরদুপুরে ডাকাত খুঁজি, হাজির হয়ে চম্বলে।
বুলবুলভাজাছাঁচনপুরের আত্মবিশ্বাসের কথাই যদি উঠলো তবে আর একটা আত্মবিশ্বাসের গল্প শোনাই। ঘটনাটা আমার ভৌগোলিক জীবনে অনেক দিক থেকেই খুব স্পেশাল। প্রথম ব্যাপার হচ্ছে সেই প্রথম আমি নিজের কলেজের সঙ্গে না গিয়ে অন্য কলেজের ছাত্রীদের সঙ্গে ফিল্ডে গিয়েছিলাম ফিল্ড এক্সপার্ট হয়ে। দ্বিতীয়ত এই যাওয়াটার সঙ্গে আমার শৈশবের আশাপূরণের একটা যোগসূত্র ছিল।
বুলবুলভাজাগল্প বদলে যাচ্ছিলো বাড়ির। বদলে যাচ্ছিলো বাড়ির সন্ধ্যা। মাটির কোলে, যদি কিছু মনে না করেন, এইসব দিনরাত্রি, ছায়াছন্দ, পূর্ণ দৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি, দ্যা বিল কসবি শো, মাটি ও মানুষ---আমরা বড়ঘরকে পেছনে ফেলে একটু একটু করে অভ্যস্ত হচ্ছিলাম সেই অবাক সাদাকালো বাকশে। মেঝেয় পাতা পাটিকে একলা করে আমাদের চায়ের আড্ডা সীমিত হয়ে আসছিলো ঘড়ির কাঁটা সাতটার ঘরে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই।
হরিদাস পালআপাতত, এই সার্ভের অনেকগুলি সূচক থেকে বাছাই করে শুধু স্বাস্থ্য, এবং নারী এবং শিশুকল্যাণের কয়েকটি সূচকের জন্য পশ্চিমবঙ্গ আর গোটা দেশের সার্বিক গড়ের তুলনা করবো। একশো-একটা ইন্ডিকেটর থেকে বেছে গোটা দশেক বের করা কঠিন কাজ, এবং কিছু একদেশদর্শিতা থেকেই যাবে। তার আগে খুব ছোট্ট করে বলতে গেলে, রাজ্য জনকল্যাণমূলক পরিকাঠামো গড়ে তোলায় যতটা দক্ষ হয়ে উঠেছে, সামাজিক পরিবর্তনে ততটাই ধীরে এগিয়েছে। একদিকে যেমন স্বাস্থ্যবিমা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং অ্যান্টিনেটাল কেয়ার প্রায় সর্বজনীন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, অন্যদিকে চাইল্ড ম্যারেজ, মহিলাদের শিক্ষার নিম্ন হার এবং এনসিডির বর্ধনশীল বোঝা একই গতিতে এগোয়নি। দুটো ধারা পাশাপাশি রাখলে যা বোঝা যায়, তা হলো: কল্যাণ প্রকল্প পৌঁছে দেওয়ার কাঠামো যত দ্রুত তৈরি হয়েছে, সামাজিক পরিবর্তন (অথবা প্রগতি) তার সাথে তাল রাখতে পারেনি।
হরিদাস পালজলবায়ুর পরিবর্তন আজ আর গল্পকথা নয়, নিদারুণ সত্য, নির্মম বাস্তবতা। বাতাবরণের এমন বদলের হাত ধরেই বদল আসছে আমাদের এতোদিনের চেনা রুটিনে। পাল্টে যাচ্ছে সব, বলা ভালো পাল্টাতে বাধ্য হচ্ছি আমরা। এই আকস্মিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে গভীর সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে আমাদের শিশুদের।তারাই আমাদের ভবিষ্যৎ। অথচ কি অনিশ্চয়তায় ভরা তাদের মহার্ঘ্য শৈশবকাল। এই অনিশ্চিয়তার কারণ ও প্রভাব নিয়েই এই নিবন্ধ। পড়ে মতামত জানান। আমি মন্থনে বিশ্বাস করি।
বুলবুলভাজাগুরুচণ্ডা৯র প্রকাশিত বাংলা কবিতার অডিও সিরিজ - গুরুচন্ডা৯র কবিতা। ভিডিও সম্পাদনা - সৌরভ দাস।
হরিদাস পালকি সর্বনাশ, দেবর্ষি নারদ বললেন, "মৃগাদি অন্যন্য প্রাণীও মানুষের খাদ্য!!" অথচ আজ আমরা নিরামিষ ভোজনকে বলছি ধর্মের একমাত্র পথ আর আমিষ ভোজনকারীরা অনাচারী অধার্মিক! আজকের সনাতন ধর্মের ধর্মরক্ষকগণ দেবর্ষি নারদের থেকেও ধর্মপ্রাণ? ভাগবত পুরাণের প্রথম স্কন্ধের সপ্তম পর্ব -
হরিদাস পালসম্প্রতি শ্যামাপ্রসাদের রাজ্যে শ্যামাপ্রসাদের চ্যালারা ক্ষমতা দখল করার পরে তাঁদের স্বপ্নপূরণের কথা বলেছেন। এ প্রসঙ্গে তাঁরা উল্লেখ করেছেন শ্যামাপ্রসাদের সেই বিখ্যাত উক্তি: “কংগ্রেস ভারত-বিভাজন করেছিল আর আমি করেছিলাম পাকিস্তান-বিভাজন।” অর্থাৎ তাঁদের দাবি অনুযায়ী, শ্যামাপ্রসাদই বাংলা ভাগ করে পাকিস্তান থেকে পশ্চিমবঙ্গকে ছিনিয়ে আনেন। সেই অর্থে তিনিই হলেন পশ্চিমবঙ্গের স্থপতি তথা সৃষ্টিকর্তা। এই দাবির সত্যতা অনুসন্ধানের একটি সামান্য প্রয়াস রইল এই লেখায়
হরিদাস পাল
বুলবুলভাজাইংল্যান্ডে টাং ইন চিক হিউমর কথাটা খুব চালু, তার বাংলা কি হতে পারে জানি না, তবে জার্মানিতে সেটি অমিল। প্রথমেই বলে রাখি, মানফ্রেড রোমেলের হাস্যরস কখনো অত্যন্ত শুষ্ক, কখনো ছুরির মত ধারালো। যে কোন পরিস্থিতিতেই অবহেলায় অফ দি কাফ মন্তব্য করেন, সে কৌতুক আপনার পছন্দ হোক বা নাই হোক; কোন পপুলারিটি পোলের ধার ধারেন না। মানফ্রেড একটু তোতলা ছিলেন, মাঝে মাঝে কথা জড়িয়ে যেতো, কিন্তু এই আপাত দুর্বলতাকে তিনি তাঁর ব্র্যান্ডে পরিণত করেন – ‘আমার নাম মানফ্রেড রোমেল, আমি তোতলা এবং কখনো ফিস ফিস করে কথা বলে থাকি’ এমন একটা প্রস্তাবনার পরে শ্রোতার প্রতিরোধ ভেঙ্গে যেতে বাধ্য!
হরিদাস পাল৮১ ফিট উচ্চতার রাম মূর্তি বানানো হচ্ছিল। বলা হচ্ছিল এইটা এশিয়ার সবচেয়ে বড় রাম মূর্তি। এই মন্দির প্রাঙ্গণে শিব ও কৃষ্ণের মূর্তি আগে থেকেই ছিল, এখন রামের মূর্তি বানানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু কাজ স্থিগত করা হয়েছে। এই জিনিস আর আলোর মুখ দেখবে না। অন্তত এখনই দেখার কোন সম্ভবনা নাই। বাংলাদেশের সুশীল সমাজ ফুল পাখি লতাপাতা নিয়ে ব্যস্ত আছে। কেউ একটু মৃদু গলা খাকড়ি দিয়ছেন।ভালো হচ্ছে না কিন্তু বলে অন্য প্রসঙ্গে চলে যাচ্ছেন তারা। সংসদ চলছে, সেখানে অন্য সবার সাথে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনও আছেন। তারা কেউ একটা শব্দ পর্যন্ত করে নাই এখন পর্যন্ত। সংসদে তো নাইই সংসদের বাহিরেও কোন উচ্চবাচ্য নাই। সংসদে দেখলাম কোন শিবির নেতা গার্ল ফ্রেন্ডকে প্রেগন্যান্ট করে পালিয়েছিল, তাকে গুম করা হয়েছে বলে জামাতের আমিরও চিল্লাফাল্লা করেছেন। এখন সেই পোলা ধরা খাইছে। এইটা নিয়া সরকারি আর বিরোধী দল ব্যাপক তর্ক করে চলছে।এই ফাঁকে বগুড়ায় তিনটা মন্দির ভাঙা হয়েছে, যা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনায় নাই।
হরিদাস পালখবর এইটুকুই। কিন্তু একটা কথা এই প্রসঙ্গে বলে নেওয়া ভাল। কিছু বিজেপির সমর্থক এইসব কাণ্ড-কারখানা দেখে একটু আমতা-আমতা করে যা বলছেন, সেটা খুবই হাস্যকর। কেউ বলছেন, "ওরা ক্ষমতায় এলে যা করত, এ তার চেয়ে কমই হচ্ছে"।
হরিদাস পালপাইপ টপকে এগিয়ে দেখি মাটি আর বালি মেশানো রাস্তাগোছের কিছু একটা নদীগর্ভের দিকে নেমে গেছে। লোকজন ঘাড়ে পিঠে বোঁচকা বুঁচকি নিয়ে সেদিকে নেমে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। যাচ্চলে! এটা তো সিলেবাসে ছিল না! বাঁপাশে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে একটা বেশ উঁচু মাটিলেপা চওড়া ধাপ, বাঁশের খুঁটি মাথায় টিনের চাল। ভেতরে একটা পাথরের বেঞ্চমতও আছে। বোধহয় চায়ের দোকান ছিল বা এমনিই বিশ্রামস্থল, আপাতত পরিত্যক্ত।
বুলবুলভাজাএই ধরণের ঘটনা ভারতে এই প্রথম না। সত্যম কেলেংকারিতে রামলিঙ্গ রাজু ঠিক এই ভাবে ভুয়ো তথ্য দিয়ে ব্যবসার আয় ফাঁপিয়ে তুলেছিল। DHFL রাশি রাশি শেল কোম্পানির মধ্যে দিয়ে টাকা ঘুরিয়ে গোলক ধাঁধা বানিয়েছিল। রাজেশের আইপিও কেলেঙ্কারিরর ছায়া দেখা যায় ২০০১ সালের কেতন পারেখের কীর্তিতে। তাহলে সাধারণ বিনিয়োগকারীর ভবিষ্যৎ কি কেবল স্ক্যামড হওয়ার অপেক্ষায় থাকা? সেবির কি কিছুই করার নেই?
হরিদাস পালএই আলোচনায় রয়েছে স্মৃতিচারণ, রয়েছে বিজ্ঞান আর রয়েছে নির্ভেজাল আড্ডার ছলে গপ্পো। সেই অর্থে এটি একের মধ্যে তিনের মেজাজ। এই নিবন্ধটি গুরুর অন্যতম বরিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব শ্রী রঞ্জন রায় মহাশয়কে উৎসর্গ করা হলো
বুলবুলভাজাআমাদের একান্ন উঠোনকে মাঝখানে রেখে চারপাশের ঘরগুলোর মধ্যে বড়ঘরই ছিল আমাদের অঘোষিত বৈঠকখানা। কেতাবিয়ানা ছিল না তাতে মোটেও। ঘরের মেঝেয় নেহাতই পাটি পেতে সকাল-সন্ধ্যায় চা মুড়ি খাওয়া অথবা জরুরি কোনো আলোচনার আটপৌরে আয়োজনে সে ঘরই ছিল আমাদের অব্যর্থ গন্তব্য। একখানা কালো রঙের নকশি কাঠের খাট, খুব সাধারণ একখানা টেবিলক্লথে ঢাকা টেবিল আর মাত্র একটা চেয়ার। সেই চেয়ার অবশ্য বাড়ির যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একমাত্র দাদুর দখলে থাকতো দায়িত্বশীলতার একমাত্র বাহক হয়ে।
বুলবুলভাজা
হরিদাস পালএই সব কাকতালীয় ঘটনা যোগ করলে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি নির্বাচনে সংখালঘু থাকলেও নির্বাচনোত্তরপর্বে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। একবার হয়ে গেলে ডিলিমিটেশন সহ যা যা পাশ করাতে চায়, সবই টপাটপ পাশ করিয়ে ফেলতে পারবে। আপাতদৃষ্টিতে ব্যাপারটা বেশ সন্দেহজনক। কিন্তু আসলে তা নয়।
হরিদাস পালমহামতি ভীষ্ম এমন কি সাধারণ পুরললনাদেরও ঈশ্বরের প্রতি তাঁদের বিমুগ্ধ মনোভাবের নিখুঁত চিত্রবৎ বর্ণনাগুলি, ভাগবত-পুরাণের অপূর্ব সাহিত্যগুণের পরিচয় দেয়। আজকের নীরস, উদ্ধত এবং অতীব স্থূল প্রোপাগাণ্ডার তুলনায়, সাহিত্যরসে পরিপূর্ণ সেকালের এমন ঈশ্বরমহিমা-প্রচার মনোহরণ করে বৈকি - সে আমি ভক্ত হই বা না হই - সে আমি আস্তিক বা নাস্তিক হই, কিচ্ছু এসে যায় না তাতে।
হরিদাস পালএক অসহনীয় তাপীয় অবস্থার মধ্যে দিন কাটছে এই মুহূর্তে। খাতায় কলমে বর্ষা প্রবেশ করলেও এখনও পূর্ণ স্বস্তি মেলেনি। যে সকল মানুষকে এই সময়ে ঘরের বাইরে বেরিয়ে কাজ করতে হয়, তাঁদের অবস্থা অবর্ণনীয়। এমনি একদল মানুষ দেশের একদম পশ্চিমের রন্ অঞ্চলে রোদের তাপ শরীরে মেখে আমাদের প্রতিদিনের খাবারকে একটু স্বাদু করে তোলার জন্য অমানুষিক পরিশ্রম করে চলেছেন। শুধু, একমুঠো নুনের জন্য নিবন্ধটি তাঁদের লড়াইয়ের কথা বলে। লেখাটি পড়ে মতামত জানান।
বুলবুলভাজানজরুলের যেই আধুনিকতার মোকাম, বাঙালি রক্ষণশীল মুসলমানরা তাতে উঠতে পেরেছেন, তা বলা যাবে না। কিন্তু আধুনিকতাবাদীরাও তো নজরুলকে নিয়ে অস্বস্তিতে থাকেন। মানুষ কবিতাটিতে এমন অনেক লাইন আছে, যা তারা পাতে তুলতে রাজি নয়।
হরিদাস পাল২০১৩ সালে কুম্ভলগড় কেল্লা UNESCO World Heritage Monument এর স্বীকৃতি পায়। তবে আমি ওখানে একাকী ভ্রমণে গেছিলাম তার দু’বছর আগে, ২০১১ সালের জানুয়ারিতে। ১৫ বছর আগে শীতের সুন্দর, শান্ত, নির্জন পরিবেশে ১৭ কিমি পদব্রজে কুম্ভলগড় ভ্রমণে অপূর্ব আনন্দ পেয়েছি। মনে হয় এখন ওখানে গেলে সেই নির্জনতার স্বাদ আর পাওয়া যাবে না।
বুলবুলভাজাঅটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন তখন অনেক দূরে, বিপদে পড়লে দমকল ভরসা, তারা বিপন্ন মানুষকে বড়জোর হাসপাতাল নয় বাড়ি পৌঁছে দেয়, গাড়ি সারায় না। ক্লেয়ারমন্ট অবাক হয়ে দেখলেন হেনরির গাড়ি দিব্যি পৌঁছুল নুটসফোর্ডে, বাড়ির সামনে কৌতূহলী জনতার ভিড়! হেনরির নিজের হাতে বানানো গাড়ি থেমে যায়নি। নতুন কিছু তিনি আবিষ্কার করেননি, যা পেয়েছেন তারই ওপরে খোদকারি করে বানালেন এমন গাড়ি যা চলে মসৃণ ভাবে। যে আমলে গাড়ি ছিল খাটারা, যার বিকট শব্দে পথচারী সন্ত্রস্ত হয়ে রাস্তা ছেড়ে দিতো সেই সময়ে হেনরির গাড়ি চলল, গাড়লের মতো না কেশে, লোককে জানান না দিয়ে! হেনরি আনলেন দশ হর্স পাওয়ার টু সিলিন্ডার সাইলেন্ট গাড়ি। ভবিষ্যতের রোলস-রয়েসের জন্ম হলো, সেদিন এপ্রিল ফুলস ডে, শুক্রবার, পয়লা এপ্রিল ১৯০৪।
বুলবুলভাজানিজে গরমে খুব কষ্ট পাই বলেই জানতে ইচ্ছে হয়েছিল, ভবিষ্যতের বাংলায় আমাদের সন্ততিরা কেমন থাকবে? কিছুটা আভাস মিলল সৌরভ বল ও ইংগো কির্খনারের ২০২৩ সালের পেপার থেকে। সৌরভরা কলকাতার জন্য ধরেছেন যে ২৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৫.৭ ডিগ্রি অবধি স্লাইটলি ওয়ার্ম (সামান্য গরম বলি?), ৩৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৪৩.৮৩ ডিগ্রি অবধি ওয়ার্ম (গরম) আর PET ৪৩.৮৩ ডিগ্রি ছাড়ালে সেটা হট (অসহ্য গরম বলি একে?)। ওঁরা বলেছেন যে পশ্চিমবঙ্গের ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপ বাড়া মানে PET এর তার প্রভার পড়বে দ্বিগুণ।