এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই

  • তাজা বুলবুলভাজা...
    নজরুল ও তাঁর শ্যামা মা - অনুরাধা কুন্ডা | অলংকরণ: রমিত লীলা মজুমদারের অহি দিদির গল্পে আছে যখনই রান্না করতে বসতেন ন দশটা কচি কচি ছেলে মেয়ে তাকে এসে ঘিরে ধরে বসত। অহি দিদি নানা রকম খাবার করে তাদের খাওয়াতেন কিন্তু তারা কেউ কথা বলত না। গল্পের শেষে গিয়ে জানা গেল যে এই বাচ্চারা এখনকার বাচ্চা নয়। তারা ১০০ বছর আগের বাচ্চা যাদের এক দুষ্টু লোক জিভ কেটে দিয়েছিল খাওয়ার সময় তারা ভারী গন্ডগোল করতে বলে। লীলা মজুমদারের গল্প অথচ এই ভারী নিষ্ঠুর কাহিনীটি গল্পের মূল জায়গাতে রয়েছে। কেন জিভ কেটে দিয়েছিল তারা দুষ্টু বাচ্চা বলে না অন্য জাতের বাচ্চা বলে? লিলু পিসি সেসব কথা বলে যাননি কিন্তু আমরা এখন যে সময় বাস করি সেই সময় বসে এটা মনে হতেই পারে যে বাচ্চাগুলো বোধহয় অন্য জাতের ছিল। তাই তাদের কল কল করা জিভ, কেটে দিয়ে তাদের কচি মুখের সব কথা বন্ধ করে দিতে দুষ্টু লোকদের কোন অসুবিধা হয়নি। যে সময় আমরা বাস করি সেই সময় দলিত হবার অপরাধে মানুষ পিটিয়ে হত্যা করা, উঁচু জাত আর নিচু জাতের কলহ জনিত সংঘাতে জেরবার সমাজ বড় দূষিত হয়ে আছে। আর তাই এই সময় দাঁড়িয়ে, "জাতের নামে বজ্জাতি সব" বলে ওঠা, সমস্বরে বলে ওঠা, চিৎকার করে বলে ওঠা দরকার। সেই চিৎকার, সেই দ্রোহ সেই বিপ্লব আমাদের শিখিয়েছেন কাজী নজরুল ইসলাম যিনি লেটোর দলে নাম লিখিয়ে নাটক লিখেছিলেন, লিখতে শিখেছিলেন গান, যার ধর্ম ছিল প্রকৃত অর্থেই মানবিকতা। ইদানিংকালে ভাইরাল হয়ে যাওয়া ভিডিও গুলোর মধ্যে দেখা যাচ্ছে ঘরে ঘরে ঢুকে কিছু মানুষ প্রশ্ন করছেন আপনার বাড়িতে তুলসী গাছ আছে? তাতে জল দেওয়া হয়নি নিয়মিত? আপনার বাড়িতে ঠাকুর ঘর আছে? আপনি পুজো করেন? তারা মানুষের ঘরের ভিতরে ঢুকে যাচ্ছেন ঠাকুরঘর দেখবার জন্য এবং রীতিমতো শাসন করছেন যে দেবতার পূজা ভালোভাবে বাড়িতে হচ্ছে না। ২০২৬ সালে বসে আমাদের দেখতে হচ্ছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তারা বলছেন যে সনাতনপন্থী হয়ে তারা কোনরকম অনাচার সহ্য করবেন না এবং হিন্দুর সঙ্গে মুসলমানের বিবাহ তারা লাভ জিহাদ বলে ঘোষণা করছেন। যে দেশে কাজী নজরুল ইসলাম শ্যামা সংগীত লিখেছেন, লিখেছেন কৃষ্ণ ভজন আর লিখেছেন "বলো বীর বলো উন্নত মম শির", সেই দেশের বীর পুঙ্গবরা গৃহস্থ বাড়ি বাড়ি গিয়ে জাত রক্ষার জন্য শাসানি-ধমকানি দিচ্ছেন। মৌলবাদ যখন সভ্যতাকে গিলে খাওয়ার জন্য অজগরের মতন হাঁ করে রয়েছে, তখন এ কথা মনে করা আবশ্যক কাজী নজরুল ইসলাম প্রায় ১০০ টি শ্যামাসঙ্গীত লিখেছিলেন। সেই সমস্ত শ্যামা সংগীত নিয়ে "রাঙা জবা" নামে একটি আলাদা গানের গ্রন্থ রয়েছে। অধুনা উগ্র মৌলবাদের পাল্লায় পড়লে তাঁকে হয়তো প্রবল হেনস্থা হতে হত জাতে মুসলমান হয়ে শ্যামা সংগীত লিখে ফেলার জন্য। নজরুলের শ্যামা সঙ্গীতে আশ্চর্য ভক্তিভাব। কালো মেয়ের পায়ের তলায় দেখে যা আলোর নাচন, কথায় আর সুরে বাঙালির মন প্রাণ শীতল করেছে। কোন বাঙালি না "শ্যামা নামের লাগল আগুন "শুনে আপ্লুত হয়েছেন! অসাম্প্রদায়িকতার অপর নাম কাজী নজরুল ইসলাম। পুত্র বুলবুলের মৃত্যুতে তিনি শোকাহত। কি করে শান্ত করবেন নিজেকে দিশা পাচ্ছেন না। আবেগ উথলে ওঠে, নজরুল দিশাহারা হন বারবার আর সেই শোক পারাবার পার হওয়ার জন্য আকুল হয়ে ওঠেন। সান্নিধ্যে এলেন বরদাচরণ মজুমদারের। যোগী বরদাচরণ মজুমদার নজরুলকে শাক্ত সাধনার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন। পুত্র শোকে ক্লান্ত নজরুলের মন কোথাও যেন একটি অবলম্বন খুঁজে পেল। ভয়ংকরী নয়, ধ্বংসকারিনী নয়, কাল রুপিনী নয়। কালিকা মূর্তির মধ্যে নজরুল খুঁজে পেলেন মাতৃমূর্তি। ঠিক যেমন রামপ্রসাদের গান। যেমন কমলাকান্তের শ্যামা সংগীত। দেবী সেখানে দেবী নন। তিনি জননী রুপা। মানুষ যখন মনের মধ্যে হাহাকার করে, তখন অবলম্বন হিসেবে সে বোধহয় মাকে খুঁজে বেড়ায়। বাঙালি হৃদয়ে মাতৃমুর্তির স্থান বড় অপরূপ। সে কখনো মা, কখনো মেয়ে। মা ডাকের মধ্যে লুকিয়ে থাকে কন্যা। কন্যাকে মা বলে ডেকে শান্ত হয় মন। বাঙালির এই চিরকালীন আকুতি কে যে নজরুল রাগ প্রধানের সুরে বেঁধে ফেললেন, তাকে হিন্দু বা মুসলমান বলে আখ্যা দিয়ে, তার মেধা মনন আর হৃদয়ের বিশালত্বের পরিমাপ করবে কে?বুলবুল অকালে মৃত। কবি লিখেছেন "শূন্য এ বুকে পাখি মোর ফিরে আয়।" কিন্তু তার শূন্যতা তাতে পূর্ণ হয়নি। পুত্র শোকে আকুল পিতৃ হৃদয় শান্ত হয়েছে শাক্তসাধনার খোঁজ পেয়ে। একইসঙ্গে ইসলামী গান লেখা এবং শাক্ত সাধনার গান লেখা, এ বড় কঠিন কাজ। দুর্লভ প্রতিভার অধিকারী কাজী নজরুল ইসলাম এই অসম্ভব কঠিন কাজ সম্ভব করেছিলেন দরদিয়া মননে। ইসলামী গান যখন লিখেছেন তখন "তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে" গানে যে আকুতি, সেই একই আকুতি ফুটে উঠেছে যখন এসে শ্যামা সঙ্গীতে লিখেছেন "স্থির হয়ে তুই বোস দেখি মা"। হিন্দু না "ওরা মুসলিম ওই জিজ্ঞাসে কোন জন, কান্ডারী বল ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মা'র"। এই অসম্ভব সাহসী উক্তি যাঁর কাব্য ভাষা, তিনি যে একাধারে ইসলামিক গান এবং হিন্দু ভক্তি গীতি রচনা করে সুর পিপাসু বাঙালির মন মাতিয়ে দেবেন তাতে সন্দেহ কিসের! কিন্তু শুধু মন মাতলে তো হবে না।মন শান্ত হবে কীসে। একদিকে স্ত্রী প্রমীলার অসুস্থতা, অন্যদিকে পুত্রশোক। কবি স্থিতধী হতে চাইছেন।তাই কী দেবী কালিকাকে মাতৃরূপে দেখেছেন? আর ঐ ব্যক্তিগত শোক উপশমের জায়গা থেকে উপনীত হয়েছেন মহাকালের কোলে মহাকালীর বন্দনায়? শোকে,প্রবল সন্তাপে মানুষ মাতৃক্রোড় খোঁজে।একমাত্র মা পারেন শোকের ক্ষতে স্নেহের মলমটি লাগাতে। নজরুল তাই কালীর শক্তিময়ী রূপ আর স্নেহময়ী মাতৃরূপকে আরাধনা করেছেন অনির্বচনীয় আকুতিতে...শ্যামা নামের লাগল আগুন আমার দেহ ধূপকাঠিতে,যতো জ্বালাই সুবাস ততো,ছড়িয়ে পড়ে চারিভিতে..। ব্যক্তিজীবনের শোকে যে দেহ, মন পুড়ছে,তাকে তিনি সমর্পণ করেছেন মায়ের পায়ে। আগুনে পুড়ে শুদ্ধ হচ্ছে দেহ মন...ভক্তি আমার ধূমের মতো,উর্দ্ধে উঠে অবিরত..এই আকুতি তো একেবারে ঘরোয়া গৃহস্থ আজন্ম স্নেহের কাঙাল বাঙালি হৃদয়ের আর্তি। রবি ঠাকুর বলেছেন..আমার এ ধূপ না জ্বালালে,গন্ধ কিছুই নাহি ঢালে।তাঁর নিঠুরকে সাধারণ মানুষ ততোটা বোঝে না,যতোটা বোঝে নজরুলের কালিকাকে। অ্যাবস্ট্র্যাক্ট নয়। কনক্রিট। মানুষ মূর্তি বোঝে। রবীন্দ্রনাথের নিঠুর তাই অনেকটা দূরের। মা বড় কাছের। তাঁর আরাধনায় অন্তরলোক স্নিগ্ধ, শান্ত হয়, আর পুত্রশোকাহত পিতা অপেক্ষা করেন, কবে তাঁর দেহ ভস্ম হবে..সেই ভস্মে আঁকা হবে মায়ের কপালের তিলক। নিজেকে নিবেদন করার এই আকুলতা, এমন ভক্তি, নিজেকে নিঃশেষ করা নিবেদন, এমন শ্যামা সংগীত কজন লিখতে পেরেছেন? ২০২৬ সালে এসেও আমরা হিন্দু মুসলমানের উর্ধ্বে উঠতে পারলাম না। এখনো আমাদের আলোচ্য বিষয় ওরা হিন্দু না, ওরা মুসলমান? তবে নজরুল কেমন করে লিখলেন এমন গান? কোন অপার সাধনায়, গভীর মেধায় এবং অনন্য ভক্তিতে লিখলেন "মহাকালের কোলে বসে গৌরী হল মহাকালী।"বিশেষ করে এই গানটিতে কালীর যে রূপ নজরুল বর্ণনা করেছেন সেটি আমাদের বিস্মিত করে। দেবী কালিকাকে মূর্তি থেকে বিচ্ছিন্ন করে এই সৌরজগতের এক প্রকাণ্ড অংশ হিসেবে ভাবা, কল্পনার কি বিস্ময়কর প্রকাশ। "তবু মায়ের রূপ কি হারায়, সে যে ছড়িয়ে আছে চন্দ্র তারায় মায়ের রূপের আরতি হয় নিত্য সূর্য প্রদীপ জ্বালি"।এই শ্যামা সংগীতটিতে কিন্তু নজরুল কংক্রিট থেকে একেবারে অ্যাবস্ট্রাক্ট এর দিকে চলে গেছেন এবং সেটিও চূড়ান্ত অ্যাবস্ট্র্যাক্ট। অপরিসীম ক্ষমতা বলে একজন কবি এই কল্পনা করতে পারেন। মহাকালীর যে কৃষ্ণবর্ণ রূপ সেটি তিনি প্রত্যক্ষ করছেন রাত্রির গভীর কালো আকাশের মধ্যে। চন্দ্র তারার গহনা পরা মাতৃ মূর্তি। মহাকাল এবং মহাকালী, উভয়কে এই সৌরজগতের অংশ হিসেবে কল্পনা করে, কালের এবং কালীর সম্পর্কের এক অপূর্ব ব্যাখ্যা দিয়েছেন কবি নজরুল ইসলাম। আবে সেই একই সঙ্গে বজায় রেখেছেন কালির ঘরোয়া অন্য একটি রূপ। "উমা হলো ভৈরবী হয় ভৈরবেরে বরণ করে" হেরি শিবের সিরে জাহন্নবীরে শ্মশানে মশানে ঘোরে।" দুর্গা হোমা এবং কালি যে একই মহাশক্তির বিভিন্ন রূপ তা এই ছোট্ট গানটির মধ্যে দিয়ে অপূর্ব ভাবে প্রকাশিত। অন্ন দিয়ে ত্রি জগতে অন্অনদা মোর বেড়ায় কেঁদে ভিক্ষু শিবের অনুরাগে ভিক্ষা মাগে রাজ দুলারি। একটি গানের মধ্যে মহাশক্তির এমন বিবিধ প্রকাশ আর কোন ভক্তিগীতিতে আছে? মুহূর্তে কালিকা হয়ে গেলেন ঘরের মেয়ে উমা, শিবের প্রেমে মাতোয়ারা উমা তিন ভুবনে অন্ন জুগিয়ে বেড়ান আর তার নিজের সংসারে কিনা অন্নেরর অভাব! অভাবে বাংলার দরিদ্র মানুষ নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষ মধ্যবিত্ত মানুষ এই অন্নাভাব বড় ভালো বোঝে। তাই যে দেবী কালিকাকে তারা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে প্রত্যক্ষ করতে পারেনা, তাকে দেখে ফেলে ওই ছোট্ট উমার মধ্যে। শিবের ঘরনী হয়ে তার যে গৃহিনীপণা, নজরুলের গানে তার বিশ্বস্ত প্রকাশ। তাই মায়ের কাছে নালিশ জানাচ্ছেন সন্তান। "আমার যারা দেয় মা ব্যথা আমায় জারা আঘাত করে তোরই ইচ্ছায় ইচ্ছাময়ী"। কোথায় যেন কানে বাজে "সকলি তোমারি ইচ্ছা"। কিন্তু নজরুল নিজস্বভাবে স্পষ্ট। "আমার যারা ভালোবাসে বন্ধু বলে বক্ষে ধরে তোরই ইচ্ছা ইচ্ছাময়ী আমায় অপমান করে যে মাগো তোরই ইচ্ছা সে যে।" জীবনের বিভিন্ন ওঠা পড়া কি নজরুলকে এইভাবে ভাবতে শিখিয়েছিল?" আমায় যারা যায় মা ত্যেজে যারা আমার আসে ঘরে তোর ইচ্ছায় ইচ্ছাময়ী।" ভক্তি ভাবে পরিপূর্ণ, স্ফটিকের মত টলটলে স্বচ্ছ নিবেদন। ব্যথিত শোকাতুর সন্তান যেন নালিশ করছে মা-কে। একমাত্র মা-ই পারেন তার আহত, অপমানিত হৃদয়টিকে শান্ত করতে। একমাত্র বাঙালি ঘরেই দেবীকে মা এবং মেয়ে, এই দুইভাবে আরাধনা করা হয়। নজরুল তাই লিখতে পারেন "আমার ক্ষতি করতে পারে অন্য লোকের সাধ্য কিনা, দুঃখ যা পাই তোরই সে দান মাগো সবই তোর মহিমা।" এ গান যেন স্বগতোক্তি। সমস্ত দুঃখের স্থলনে এই গানের মধ্যে দিয়ে। সুরে, ভাবে, মননে, কোথাও এতোটুকু ঘাটতি নেই "তাই পায়ে কেহ দলে যবে, হেসে সয়ে যাই নীরবে।" সমর্পণের এই দর্শন সাধনার মূল কথা। তাই এই অপূর্ব ভাব সাধনার আরেক প্রকাশ আমরা দেখি "বলরে জবা বল, কোন সাধনায় পেলি শ্যামা মায়ের চরণ তল" গানে।কবি বলছেন, "মায়াতরুর বাঁধন টুটে মায়ের পায়ে পড়লি লুটে, মুক্তি পেলি উঠলি ফুটে আনন্দ বিহ্বল, তোর সাধনা আমায় শেখা জীবন হোক সফল।"এ যেন ইংরেজ কবি জন কিটসের negative capability আহরণ করার সাধনা।"কবে তোরই মতো রাঙবে রে মোর মলিন চিত্ত দল"সম্পূর্ণ নিজের সত্তা বিসর্জন দিয়ে, ফুলের মতো নির্বিকারত্ব প্রাপ্তি। মাতৃ সাধনার মূল মন্ত্র। এই ভক্তির কোন জাত নেই। যে ভক্তি নিয়ে তিনি দেবী কালিকাকে মহাবিশ্বের মহাকালী রূপে দেখেন সেই একই ভক্তি নিয়ে তিনি লেখেন "তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে, মধু পূর্ণিমারই সেথা চাঁদ দোলে যেন উষার কোলে রাঙা রবি দোলে।"এই ভক্তি ভাবে কোনো কৃত্রিমতা নেই, কোন হিন্দু মুসলমান দ্বন্দ্ব নেই এবং জাত পাতের কোন প্রশ্নই নেই কারণ সন্তান আর মায়ের সম্পর্কের মধ্যে জাত আসেনা। এই সেই কাজী নজরুল যিনি লিখেছেন "বল বীর বল উন্নত মম শির", লিখেছেন "আমি বিদ্রোহী ভৃগু ভগবান বুকে এঁকে দিই পদচিহ্ন।" লিখেছেন "আমি টর্পেডো আমি ভীম ভাসমান মাইন।" সেই তিনি আবার পরম ভক্তি ভরে মায়ের সঙ্গে সন্তান সম্পর্ক স্থাপন করে জানিয়েছেন তাঁর সমস্ত সুখ,তাঁর বেদনা তাঁর অভিমান তার অপমান। গানের মধ্যে দেবীর সঙ্গে পূজারীর, মায়ের সঙ্গে সন্তানের যে বিভিন্ন রকম সম্পর্ক উঠে আসে তা কিন্তু বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য। কখনো মা, কখনো রাঙা জবার বায়না ধরে কাঁদা কালো মেয়ে...আবার সেই তারার মালা চুলে গাঁথা এলোকেশী কন্যা। মুহূর্তে রূপান্তর। ঘরোয়া ক্রন্দনরত মেয়েটি নিমেষে সৌরজগতের মহাশক্তির প্রকাশ হয়ে ওঠে...তার যুগল আঁখি সূর্য চাঁদ। অনুরাগের রাঙা জবা থাকুক তাঁর মনের বনে,কালো মেয়ের রাগ ভাঙাতে তিনি ফুলের খোঁজে ঘোরেন...রাঙা চরণ দেখতে পেয়ে তাঁর শান্তি। পুত্রশোক কী এইভাবে কিছুটা শান্ত হয়েছিল তাঁর?" আমার আর কোনো গুণ নেই মা তারা"। স্বীকারোক্তি অকপট। "হাত বাড়িয়ে মা তোর কোলে যাব না আর মা মা বলে...মা হয়ে তুই ঘুরে বেড়াস,আমায় ধূলায় ফেলে রেখে..তোর আর ছেলেমেয়ে অনেক আছে..আমার শুধু নাই যে কেহ।" মা বেটার সম্পর্কে অভিমান আর আদর মিশিয়ে দেন কবি। এই সম্পর্কের কোনো দেশ নেই, জাতি নেই, ধর্ম নেই, আবার বাঙালিয়ানায় মোড়া একটি মিষ্টত্ব আছে, দেবী থেকে সে মুহূর্তে হয়ে ওঠে তাঁর 'হাবা মেয়ে'।"কোনো অঙ্ক শেখাও নি তো, তোমার অঙ্ক বিনা তারা।" ভাগের অঙ্ক শেখেননি নজরুল। তাই তাঁর ভক্তি এতো শুদ্ধ। সুর এতো প্রাণবন্ত। জগতজুড়ানি শ্যামার কাছে এক মাতৃহারা,সন্তানহারা প্রাণ। মা ছেলেকে মারে ধরে, কিন্তু কাছছাড়া করে না। চিরমাতৃহারা সন্তান আশ্রয় খুঁজছে ছোট শিশুর সারল্য নিয়ে। শব্দ চয়নে কী বিস্তার। "জুড়ানো" শব্দটি একান্ত বাঙালি। তার থেকে ' জুড়ানি', একেবারে ' জগতজুড়ানি'। তাকে বিদেশী ভাষায় ব্যক্ত করা মুশকিল। নজরুলের আবেগ বড় শক্তিশালী, শবের মাঝে শিবজাগানো শ্মশানকালীতে তাঁর কাছে আনন্দের নন্দিনী। কল্পনার বিস্তারে বিস্মিত হতে হয়। মা'কে পাষাণী বলেছেন, মা যে লুকিয়ে বেড়ান লোকে লোকে। আর মা কে না পেয়ে তাঁর ব্যথা ভরা হৃদয় জবা হয়ে ফোটে। আবার সেই নেগেটিভ কেপেবিলিটি। সেই নিবেদন আর ভক্তি। লেটোর দলে গানবাঁধা নজরুল, বিপ্লবী, বিদ্রোহী, অশান্ত, আবেগমথিত নজরুলের এক অনন্যরূপ খুঁজে পাই তাঁর শ্যামাসংগীতের কথায়, ভাবে, সুরে। তিনি কতোবড় ভক্ত ছিলেন,তা প্রমাণ করার জন্যে নয়,শাক্তসাধনায় কত গভীর ছিল তাঁর জ্ঞান তাও প্রমাণ করার জন্যে নয়...জাত পাতের তফাৎ জলাঞ্জলি দিয়ে তাঁর যে অনাবিল মনখানি ছিল, সেই মনের স্পর্শ পাওয়ার জন্যে। এই তীব্র হানাহানির সঙ্কটকালে, সাম্প্রদায়িকতার বীভৎস আস্ফালনে,পেশীশক্তির আগ্রাসনের সময়ে, একবার অন্তত মনে করা, কাজি নজরুল ইসলাম গান বেঁধেছিলেন, শ্যামা মায়ের গান। তাঁর ইসলামের সঙ্গে ভক্তিগানের কোনো বিরোধ ছিল না, কোথাও রসবিচ্যুতি ঘটেনি, সুরধারায় এক ভক্তিবিপ্লব ঘটে গেছে।নজরুলের সেই প্রবল শক্তিশালী অথচ শিশুর মতো সরল মনটি আজ ভারতবর্ষে বড় দরকার। যে দেশে লাভ জিহাদের নামে মানব হত্যা হয়, দলিত জল খেতে গেলে তাকে পিটিয়ে মারা হয়, দলিত মানুষ জন্মদিনের কেক কাটলে তাকে তথাকথিত উঁচু জাতের লোক হত্যা করে আর লীলা মজুমদারের মতো লেখককে জিভ কাটা ছেলেমেয়েদের গল্প লিখতে হয়, সেই দেশে নজরুল জন্মেছিলেন, যে ভক্তিভাবে ইসলামিক সঙ্গীত লিখেছিলেন, সেই একই ভক্তিভাবে শ্যামাসঙ্গীত লিখেছিলেন…যে গান আজও মানুষকে জাতপাতের উর্ধে তুলে এক মহাজাগতিক বিশ্বাস আর শরণের সন্ধান দেয়। গান গাওয়া হয়, অনুধাবন হয় কী?
    গুরুচণ্ডা৯-র গল্পপাঠ - গুরুচণ্ডা৯ | ছবি: রমিত‘পিরোবতির নাকছাবি’ গল্পটি শক্তি দত্ত রায়ের ‘পিরোবতি ও মুড়ির টিন’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী। ‘হাজবপুরের কেচ্ছা' লেখকের 'অতিনাটকীয়’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী। আজকের গল্প এস এস অরুন্ধতীর লেখা 'পাপ হে '। গল্পটি লেখকের 'চাঁপা ফুলের গন্ধে’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী। সুনাগরিক রঞ্জন দত্তর মৃত্যুর দিন - সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়। গল্পটি লেখকের 'ছয়ে রিপু’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী।আজকের গল্প জয়ন্তী অধিকারীর 'না হাঁচিলে যারে'। গল্পটি লেখিকার 'কুমুদির রোমহর্ষক গল্পসমূহ’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে সোহিনী সেনগুপ্ত।অমর মিত্রের লেখা 'কাশী মথুরা বৃন্দাবন '। গল্পটি 'আমার ভয় করছে’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী।প্রতিভা সরকারের লেখা 'তালাও গ্রামের রূপকথা'। গল্পটি 'হে চিরসারথী’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে সোহিনী সেনগুপ্ত।দময়ন্তীর লেখা 'দুষ্কালের পদধ্বনি'। গল্পটি 'দুষ্কালের আখ্যানমালা’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী।উপল মুখোপাধ্যায়ের লেখা 'তিলবাড়ি'। গল্পটি 'ম্যাকলাস্কিগঞ্জ’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী।মহারাজ মিত্রবর্মণের রাজ্যবিজয়, ঘেঁটুফুল ও ব্রহ্মকমলের গল্প, লিখেছেন রমিত চট্টোপাধ্যায়, পাঠ করেছেন অমিতাভ চক্রবর্তী।শক্তি দত্তরায়ের লেখা '৪৬ হরিগঙ্গা বসাক রোড' বই থেকে নেওয়া ক্ষীরের পুতুল। গল্পপাঠে কেকে।স্মৃতি ভদ্রর লেখা 'রসুই ঘরের রোয়াক (দ্বিতীয় খণ্ড)' বই থেকে গল্পপাঠে পায়েল চ্যাটার্জী।চিত্র শিল্পী - রমিত চট্টোপাধ্যায়, ভিডিও সম্পাদনা - সৌরভ দাস।শেখরনাথ মুখোপাধ্যায়ের ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস 'সীমানা' বই থেকে নেওয়া একটি পর্ব, নাম - দেশের কাজ। ২৫শে বৈশাখ পার হয়ে ১১ই জ্যৈষ্ঠ্যর এই বিশেষ সময়কালে আমাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য, এই পর্বে ধরা হয়েছে সেই সময়ের দুই প্রধান ব্যক্তিত্ব নজরুল ও রবীন্দ্রনাথের দেখা হওয়ার গল্প।গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী।চিত্র শিল্পী - রমিত চট্টোপাধ্যায়ভিডিও সম্পাদনা - সৌরভ দাস।অ্যাবনর্ম্যাল - লিখেছেন কুন্তলা বন্দ্যোপাধ্যায়। গল্পপাঠ - সোহিনী সেনগুপ্ত।ফোটোগ্রাফ - ঈপ্সিতা পাল ভৌমিক, গ্রাফিক শিল্পী - রমিত চট্টোপাধ্যায়, ভিডিও সম্পাদনা - সৌরভ দাস।কেকে-র 'ছায়ার পাখি' বই থেকে নেওয়া গল্প - জিহ্ব; পাঠ - পায়েল। চিত্রশিল্পী - রমিত চট্টোপাধ্যায়, ভিডিও সম্পাদনা - সৌরভ দাস।শারদা মণ্ডলের 'পাকশালার গুরুচণ্ডালি' বই থেকে, পাঠ - পায়েল। চিত্রশিল্পী - রমিত চট্টোপাধ্যায়, ভিডিও সম্পাদনা - সৌরভ দাসজ্যোতিষ্ক দত্তর লেখা ‘সে ছিল একদিন আমাদের' বই থেকে 'ইস্কুলের গল্প'। পাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী। চিত্র শিল্পী - রমিত চট্টোপাধ্যায়, ভিডিও সম্পাদনা - সৌরভ দাস।মৃণাল শতপথীর লেখা ‘দিতি ও মহারানি' বই থেকে নেওয়া গল্প - পাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী। চিত্র শিল্পী - রমিত চট্টোপাধ্যায়, ভিডিও সম্পাদনা - সৌরভ দাস।
    আরশোলার ধর্নায় একদিন - শুভদীপ মণ্ডল | অলংকরণ: রমিত‘কোথা থেকে আসছেন?’ ‘নাম কী?’ ‘কী করা হয়?’হাসিমুখে, আলাপ জমানোর ভঙ্গিতেই একের পর এক প্রশ্নগুলো আসতে থাকলো, অবশ্যই হিন্দিতে। স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে জানালেন, এত লোকজনের জমায়েত হচ্ছে, নিরাপত্তার দায়িত্ব তো ওনাদের উপরেই – তাই একটু বাড়তি সতর্কতা। স্থান – দিল্লির যন্তরমন্তর-সংলগ্ন ককরোচ জনতা পার্টির ধর্না ও অনশন মঞ্চ, আর উপরোক্ত প্রশ্নকর্তা খাকি উর্দিধারী দিল্লি পুলিশ। ধর্নার জন্য নির্ধারিত জায়গাটি ডাইনে-বামে দেওয়াল আর সামনে-পিছনে পুলিশের ব্যারিকেড দিয়ে ঘেরা। পিঠের ব্যাগ স্ক্যান করিয়ে মেটাল ডিটেক্টরের মধ্যে দিয়ে হেঁটে তারপর ভিতরে ঢোকা গেল। শুধু পুলিশ নয়, সঙ্গে প্যারা-মিলিটারি ফোর্স আর র‍্যাফ মিলিয়ে আক্ষরিক অর্থেই ‘পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ’ পুরো চত্বর [১]। শুধু পাহারা দেওয়া নয়, দিল্লি পুলিশ-নিযুক্ত ফোটোগ্রাফাররা ক্যামেরা হাতে টহল দিচ্ছেন চারিদিকে। ছোটোখাটো সমস্ত ঘটনা, জটলা, কলেজপড়ুয়াদের আলাপচারিতা, গান-বাজনা এবং প্রতিবাদীদের সমর্থনে হাজির হওয়া প্রতিটি মানুষ দিল্লি পুলিশের ক্যামেরাবন্দি হচ্ছেন। বিশেষ করে, যে স্বেচ্ছাসেবীরা প্রতিবাদকারীদের জন্য জল, খাবার, ওষুধ এসব নিয়ে আসছেন – তাঁদের রীতিমতো মুখের সামনে ক্যামেরা ধরে জেরা করা হচ্ছে। এ-ও জানা গেল, কিছু স্বেচ্ছাসেবীর বাড়িতেও হানা দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ চলেছে তাদের টাকার সোর্স জানতে। দুঃখের ব্যাপার এই, যে, এখনো অবধি জর্জ সোরোস, পাকিস্তান বা বাংলাদেশ – কোনো লিঙ্কই খুঁজে পাওয়া যায়নি। জেরায় জানা গেছে, কিছু লোকজন নিজেদের গাঁটের কড়ি খরচ করেই প্রতিবাদকারীদের টিকে থাকার রসদ জুগিয়ে যাচ্ছেন। এসব গালগল্প অবশ্য দিল্লি পুলিশ কোনোভাবেই মেনে নিচ্ছে না। তদন্ত এবং নজরদারি চালু আছে চব্বিশ ঘণ্টা। আশা করা যায়, বলিউডের দেশপ্রেমী ডাইরেক্টররা দিল্লি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। তাঁদের হাত ধরে সত্য নিশ্চয়ই একদিন উন্মোচন হবে এবং সেদিন কোনো মাল্টিপ্লেক্সের বড় পর্দায় পপকর্ন খেতে খেতে দেশের জনসাধারণ জানবে – কীভাবে এইসব দেশদ্রোহী বেকার ছেলেমেয়েদের দল দেশের ভিতর থেকে দেশকে টুকরো টুকরো করার ষড়যন্ত্র করেছিল আর কীভাবে দিল্লি পুলিশের ধুরন্ধররা নিজেদের মগজাস্ত্র প্রয়োগ করে সেই রহস্য ভেদ করেছিলেন। [৭ - ৮] সে যাই হোক, আগামীর আচ্ছে দিনের স্বপ্ন সাইডে সরিয়ে রেখে আপাতত ডিসেম্বর মাসের রেকর্ড-ব্রেকিং AQI আর জুন-জুলাইয়ের হিটওয়েভের দিল্লিতে ফেরা যাক। জনপথ মেট্রো স্টেশন থেকে বেরিয়ে মোটামুটি পাঁচ মিনিটের হাঁটা পথ। তাতেই ধর্না মঞ্চ অবধি পৌঁছানোর আগেই পুরো টি-শার্ট ঘামে জবজবে। এই আবহাওয়ায় ককরোচদের অবস্থানের সেদিন দশম দিন। পৌঁছে জানলাম – শুধু সোনম ওয়াংচুক নন, অনশনে আছেন দিল্লি, জওহরলাল নেহরু এবং এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত কিছু ছাত্রছাত্রী-সহ জনা পনেরো [৭]। প্রাথমিক দাবি – NEET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং আরও বৃহত্তরভাবে সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করা। সমবেত মানুষজনের কথায় আরও অনেক বিষয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিপ্রকাশ ঘটলেও, মূল দাবী ওইটুকুই। এঁদের মধ্যে কয়েকজন সোনম ওয়াংচুক আসার আগে থেকেই অনশনে রত এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থার বেশ খানিকটা অবনতি ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে। এর কোনো খবরই বাইরে বিশেষ বের হয়নি, তার কারণ – সামগ্রিকভাবে মেইনস্ট্রিম মিডিয়া প্রথম দিন থেকেই এই আন্দোলনকে বয়কট করেছে। অবশ্য ধর্না চত্বরে ক্যামেরার অভাব নেই। কিছু ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিডিয়া হাউস ছাড়াও অনেকেই নিজেদের ইউটিউব বা ইন্সটাগ্রাম ভিডিও বানাচ্ছেন এবং শেয়ার করছেন। বড়সড় ইনফ্লুয়েন্সাররা অবশ্য অনুপস্থিত। সে নিয়েও ক্ষোভ আছে বোঝা গেল। রাস্তার ধারে অস্থায়ী টেবিল পেতে জল আর খাবার-দাবারের জোগান দিচ্ছেন উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার, দিল্লি, হরিয়ানা থেকে আগত বিভিন্ন ধর্ম আর ভাষার মানুষজন [১০]। তার পাশেই চোখে পড়ল মেডিসিন কাউন্টার। জনৈক ডাক্তার নিজেই এসেছেন First-Aid Kit, ORS, Paracetamol-সহ বিভিন্ন ওষুধের পসার নিয়ে [৯]। এক বাম ছাত্র সংগঠনের তরফ থেকে খোলা হয়েছে অস্থায়ী লাইব্রেরি। অবস্থানরত মানুষজন বই নিচ্ছেন, পড়ছেন, আবার ফেরত দিয়ে যাচ্ছেন। এই লেখা যেদিন লিখছি, তার ৩-৪ দিন আগে হঠাৎ সেই লাইব্রেরি বন্ধ করতে উদ্যোগী হয় দিল্লি পুলিশ। এ নিয়ে ধস্তাধস্তি হয় এবং ছাত্রদের তরফ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে গালাগালি ও ধমকধামক করার অভিযোগ আসে [১১]। স্বেচ্ছাসেবীদের প্রশ্নের উত্তরে দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়, লাইব্রেরি নিয়ে তাদের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। অবশ্য অভিযোগ ঠিক কী আর কারা সেই অভিযোগ করেছেন – সে প্রশ্নের সদুত্তর পাওয়া যায়নি। [৯ - ১১] সরাসরি বলপ্রয়োগ না করে, নিজেদের বিপুল সংখ্যায় উপস্থিতি, ক্যামেরার নজরদারি আর জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আন্দোলোনকে কক্ষচ্যুত করার চেষ্টা চলছে প্রশাসনের তরফে। মাঝে মাঝে লাউডস্পিকারে ঘোষণা করে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে – এই ধর্নার সময়সীমা প্রথমদিন বেলা পাঁচটাতেই শেষ হয়ে গেছে, তাই সবাই যেন স্ব-স্ব-গৃহে প্রত্যাবর্তন করেন। এছাড়াও গত রবিবার (৫ই জুন) একসঙ্গে আরও পাঁচটি সংগঠনকে ওই একই জায়গায় অন্যান্য ইস্যুতে প্রতিবাদ জানানোর ছাড়পত্র দেওয়া হয়, খুব সম্ভবত একটা গোলমাল পাকানোর উদ্দেশ্য নিয়ে, যাতে একটা অজুহাত খাড়া করে অবশেষে ককরোচদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করা যায়। আমার ব্যক্তিগত ধারণা – সোনম ওয়াংচুক এসে পড়ায় পরিস্থিতি একটু জটিল হয়ে গেছে, নাহলে এত ছলাকলার আশ্রয় না নিয়ে, সরাসরি বলপ্রয়োগ করে এই আন্দোলন হয়তো আরও আগেই থামিয়ে দেওয়া হত। প্রশাসন মোটের উপর নিষ্ক্রিয় থাকলেও উনিজির ভক্তকূল কিন্ত বসে নেই। প্রথমদিন থেকেই টুকটাক চেষ্টা চলছে উপস্থিত আন্দোলোনকারীদের উত্যক্ত করে গোলমাল সৃষ্টি করার – সে ‘সাংবাদিক’ বা ‘আমজনতার প্রতিনিধি’ সেজে ট্যাঁড়া-ব্যাঁকা প্রশ্ন করেই হোক, বা ‘আন্দোলোনকারী’ সেজে ক্যামেরার সামনে সাজানো ইন্টারভিউ দেওয়ার নাম করে উত্তেজক কথাবার্তা বলে। সরাসরি গুন্ডামির ঘটনাও একটা দুটো ঘটেনি এমন নয়, তবে সেগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনাই। অভিজিৎ দিপকে বারবার আন্দোলোনকারীদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন – শত প্ররোচনাতেও এদের ফাঁদে পা না দিতে এবং এখনও অবধি তেমন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই। সমাজমাধ্যমে বিজেপির আইটি সেল আন্দোলনকে বদনাম করার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কখনও বলা হচ্ছে – সোনম ওয়াংচুক বোতল থেকে জল নয়, চিকেন স্যুপ পান করছেন [৮], আবার কখনও বলা হচ্ছে অনশনকারী ছাত্রছাত্রীরা নাকি টয়লেটে গিয়ে চেটেপুটে খাবার-দাবার খেয়ে আসছেন। কয়েকজনকে ক্যামেরা হাতে টয়লেটের আশেপাশে ঘুরঘুর করতেও দেখা গেছে। ধন্য তাদের অধ্যবসায়। স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী আন্দোলোনকারীদের ‘ভাইরাস’ এবং ‘আতঙ্কবাদীদের বি-টিম’ বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়াও উপাধি হিসাবে ‘দেশবিরোধী’, ‘রাষ্ট্রবিরোধী’, ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ – এসব উপরি পাওনা তো আছেই। অবশ্য ভক্তকূল ছাড়া এসব বস্তাপচা হেটস্পিচ আর কেউ গিলছে বলে মনে হয় না। বরং সংহতির দৃশ্য চোখে পড়েছে অনেক বেশি। কৃষক নেতারা এসেছেন, মঞ্চের উপর উঠে সমর্থন জানিয়ে গেছেন। প্রবীণ স্বাধীনতাসংগ্রামী পণ্ডিত রামকিষণ এসেছেন। বয়স ১০১ বছর, ভারত ছাড়ো আন্দোলন থেকে শুরু করে আজীবন আপোষহীন সংগ্রাম করেছেন। জেল খেটেছেন স্বাধীনতার আগে এবং পরবর্তীকালে, এমারজেন্সির সময়। এই বয়সেও প্রতিবাদ-মঞ্চে এসে অনেকটা সময় কাটালেন। বক্তব্য রাখলেন, ধৈর্য্য ধরে আন্দোলোনকারীদের কথা শুনলেন, উৎসাহ দিলেন, উপস্থিত জনতার প্রশ্নের উত্তরও দিলেন। প্রশান্ত ভুষণ, যোগেন্দ্র যাদব, সঞ্জয় সিং, মহুয়া মৈত্র, সাগরিকা ঘোষ, বৃন্দা কারাত – প্রমুখেরাও হাজিরা দিয়েছেন/দিচ্ছেন একে একে। এসেছেন অরুন্ধতী রয় ও আরও অন্যান্য সমাজকর্মীরা। সাধারণ মানুষজন আসছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে [৩]। তাঁরা তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অন্যায় এবং তার বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে কীভাবে প্রশাসনিক হেনস্থার শিকার হয়েছেন – সেইসব ঘটনা তুলে ধরছেন। তাঁদের কথায় উঠে আসছে কিছু কমন ফ্যাক্টর – বিজেপি-শাসিত রাজ্য, বিবিধ দুর্নীতি, আতঙ্কের পরিবেশ, আর পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা বা ক্ষেত্রবিশেষে অতি সক্রিয়তা। ক্ষমতাবানের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ে ক্লান্ত হলেও, হাল ছাড়েননি তাঁরা। দূর-দূরান্ত থেকে এসেছেন এই ধর্না মঞ্চে, আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানাতে। এগিয়ে আসছেন – NEET-কেলেঙ্কারি যেসব ছাত্রছাত্রীদের ঠেলে দিয়েছে আত্মহত্যার পথে, তাদের বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজনেরা [১২]। যেটুকু সময় থাকছেন, স্বেচ্ছাসেবীরা আগলে রাখছেন এঁদের সবাইকে। কাঠফাটা রোদ, ধুলোর ঝড়, মুষলধারায় বৃষ্টি – সবকিছুই সহ্য করতে হয়েছে, হচ্ছে। অনশনরত ছাত্রছাত্রীদের অস্থায়ী ছাউনি কোনোভাবেই পর্যাপ্ত ছিল না। বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দিয়ে গেছে তাদের সবকিছু। তেরপল নিয়ে আসতে বাধা দিচ্ছে দিল্লি পুলিশ। তার জন্যও নাকি অনুমতি আসতে হবে ‘উপর’ থেকে [২, ১৪]। প্রধান মঞ্চের উপর অভিজিৎ ও আরও কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবীদের দেখা গেল – একটা বড়সড় ব্যানার মাথার উপর ধরে সোনম ওয়াংচুককে প্রবল বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচাতে। ম্যাগসেসে পুরষ্কারজয়ী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, পরিবেশবিদ, বিজ্ঞানী... তাঁর মতো মানুষ যে কোনো দেশের সম্পদ। ভাবছিলাম, আমার দেশের সংখ্যাগুরু নাগরিকের সেই বোধটুকুও কী আছে? প্রশ্ন এখানে দায়বদ্ধতার। পদ যত উঁচু, সেই পদের দায়বদ্ধতাও তত বেশি। কারণ সেইসব পদাধিকারীর একটা ভুল অগুনতি মানুষের জীবন ছারখার করে দিতে পারে—যা এক্ষেত্রে হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর অযোগ্যতা, অক্ষমতা – যাই বলুন না কেন, তা ২০-২২টা ছেলেমেয়েকে মৃত্যুর পথে ঠেলে দিয়েছে। অগুনতি ছেলেমেয়েকে হতাশার অন্ধকারে নিমজ্জিত করেছে। আর এটা তো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, গত কয়েকবছরে এতগুলো প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা সামনে এসেছে – এ যেন গা-সওয়া হয়ে যাচ্ছে আমাদের। চলতি বছরেই অভিযোগ এসেছে UPSC এবং NET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়েও। Hanlon’s razor বলে, “Never attribute to malice that which is adequately explained by stupidity”, আবার Grey’s law অনুযায়ী, “Any sufficiently advanced incompetence is indistinguishable from malice”. যা ঘটে গেছে, তা স্রেফ অযোগ্যতার নিদর্শন, বা ইচ্ছাকৃত অনিষ্টসাধনের চেষ্টা... যে সিদ্ধান্তেই আপনি উপনীত হন না কেন, ক্ষমা-ঘেন্না করে দেওয়ার সময় অতিক্রান্ত। আর এই বিপুল ক্ষতির সামনে দাঁড়িয়ে কিছু মানুষ এখন প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়াকে ‘এমন কিছু বড় ঘটনা নয়’ প্রমাণ করতে বাজারে নেমেছেন। আশা করি তাঁদের বিবেক, মনুষ্যত্ব একদিন জাগবে। বছর বছর স্কুলে ছেলেমেয়েদের ঘাড় ধরে বসিয়ে যে প্রধানমন্ত্রীর ‘পরীক্ষা পে চর্চা’-র বাণী গিলতে বাধ্য করা হয়, পরীক্ষা নিয়ে এত বড় একটা কেলেংকারির পরও তা নিয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য শোনা যায়নি। অথচ দ্বিতীয়বার NEET পরীক্ষা সফল’ভাবে পরিচালনা করার জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাতে দেরি হয়নি একটুও। সাফল্যের কৃতিত্বের ভাগ নিতে সদা তৎপর। আর ব্যর্থতা এলে দেশবাসীর জন্য বরাদ্দ হিরন্ময় নীরবতা। [৫, ৬] আশার কথা, কিছু দক্ষিণপন্থী সমর্থকও অবশেষে জেগে উঠছেন এবং অন্তত এই একটি বিষয়ে সরকারকে সমর্থন করছেন না [৪, ১৩]। যন্তর-মন্তরে লোকজনের ভিড় বাড়ছে, কমছে। এক একদিন তিল ধারণের জায়গা থাকছে না, আবার কোনওদিন মেরেকেটে ৫০-১০০ জন। তাতে অবশ্য ককরোচদের উৎসাহে ভাটা নেই। রোদ, বৃষ্টি, ধুলোর ঝড় উপেক্ষা করে ওরা রোজ স্লোগান দেয়, গান গায়, একে অন্যের মনোবল বাড়ায়, ক্লান্ত হয়ে রাস্তার ধারেই একটু ঘুমিয়ে নেয়, আবার নতুন উদ্যমে দিন শুরু করে। আমিও যাচ্ছি মাঝেসাঝে। স্লোগান দিতে বা অনশন করতে নয়, স্রেফ হাজিরা দিতে। গত বেশ কয়েকবছর ধরে দিল্লি থেকে সামান্য দূরে থাকি চাকরির সূত্রে। যাদের মাঝে ওঠাবসা, তাদের অনেকের মধ্যে বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষেত্রবিশেষে অদ্ভুত উদাসীনতা বা নারকীয় উল্লাস দেখে প্রায়শই নিরাশায় ভুগি। এই কমবয়সী ছেলেমেয়েগুলোর দৃপ্ত চেহারা, মুষ্টিবদ্ধ হাত, প্রাণখোলা হাসি আর লড়াকু স্লোগানে আমার মনের অন্ধকার যেন একটু ফিকে হয়ে আসে। দিল্লির অসহ্য গরমও আর অতটা টের পাই না। দেখি – এদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মাঝবয়সীরাও আসছেন। অফিস-ফেরতা, পিঠে বা হাতে ব্যাগ আর চেহারায় একরাশ ক্লান্তি নিয়ে। এঁরা সেই শ্রেণীর মানুষ, যাঁদের অনেককিছু হারানোর ভয় – স্থায়ী চাকরি, তিলে তিলে গড়ে তোলা সংসার, মাসিক কিস্তিতে কেনা গাড়ি, ফ্ল্যাটবাড়ি... যাঁরা খুব অতিষ্ঠ না হলে সচরাচর নিজেদের সযত্নে লালিত গণ্ডিবদ্ধ জীবনের বাইরে পা রাখেন না। এই আন্দোলন যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, এঁদের মতো আরও অনেকে আসবেন একটু একটু করে ভয় আর জড়তা কাটিয়ে। সেদিন মানুষের ভিড় যন্তর-মন্তর ছাড়িয়ে রাজপথে নেমে আসবে। আশা করবো – সেইদিন খুব দূরে যেন না হয়। সোনম ওয়াংচুক ইতিমধ্যেই প্রায় শয্যাশায়ী, তাঁর ওজন কমেছে ৭ কিলো। রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মান বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে গেছে। অনশনরত এক ছাত্র আর এক ছাত্রীকে ইতিমধ্যেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে [৫, ৬]। সোনম, অভিজিৎ, নেহা, আশুতোষ, জুনেইদ, সৌরভ আর তাদের সঙ্গীসাথীরা যে লড়াইয়ে নেমেছেন – তা আমাদের সবার লড়াই। জয়লাভ হবে কিনা জানা নেই, কিন্তু ময়দানে থাকতে হবে – এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। চরৈবেতি। [১] Youths rally in large numbers; bang plates, spoons to demand accountability at CJP protest - The Hindu[২] 'People falling sick': CJP's Dipke claims Delhi Police denied tarpaulin at protest site despite rain - Hindustan Times[৩] Fresh political support pours in on 15th day of CJP protest; student hospitalised - The Hindu[৪] Spoke to the AISA student activists about their hunger strike being ignored by the government - @PeekTVOfficial[৭] 6 Days Without Food Or Support From Parents - @PeekTVOfficial[৮] ‘Even If I D!e…’: Wangchuk’s Reply To Critics - @PeekTVOfficial[১২] Father Who Lost His Son Due to Paper Leak - @PeekTVOfficial[১৩] 58% NDA Voters Chahte Hain Dharmendra Pradhan Istifa Dein? | C-Voter Survey Mein Bada Khulasa - @official_cockroachjantaparty[১৪] CJP founder Abhijeet Dipke confronts Delhi police for not allowing tarpaulins at protest amid rains - @thenewindianxpress
  • হরিদাস পালেরা...
    হিমাচলের ইতি উতি - ১০ - দ | ছবির মত গ্রাম গ্রাহাণ১২ তারিখ সকালে ঘুম ভাঙতে বেশ দেরী হল। আগেরদিনের অত হাঁটাহাঁটি সিঁড়ি ওঠানামায় এমন ক্লান্ত ছিলাম যে চোখ খুলতে খুলতে বেলা প্রায় সাড়ে নটা। তৈরী হয়ে বেরোতে সাড়ে দশটা। বাইরে একেবারে নীল চকচকে কাচের মত আকাশ। প্রথমেই হাজির হই The Evergreen Cafe. স্প্যানিশ অমলেট, বাটার টোস্ট আর কফি দিয়ে ভাল করে পেটপুজো সেরে একে ওকে জিজ্ঞাসা করে অল্প কিছুটা এগোতেই পুরোন ব্রিজ আর তার পাশ থেকেই ছাড়ছে গ্রাহাণ যাবার বোলেরো ক্যাম্পার। https://youtube.com/shorts/RyKGP0NbQSM?si=sZZvjWzg-oj6jWWGব্রিজ পেরিয়ে নদীর পাশ দিয়ে চলে গেছে গ্রাহাণের পথগ্রাহাণ ৭৭০০ ফিট উচ্চতায় একটা ছবির মত গ্রাম যেখানে এটিএম নেই, মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই, টিভি নেই, ইলেকট্রিসিটি খুব লিমিটেড, মদ্যপান, মদ্যপ্রস্তুতি, মদ্য প্রক্রিয়াকরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তবে গোটা পার্বতী উপত্যকা যে কারণে বিখ্যাত বা কুখ্যাত সেই মালানা ক্রিম এখানে দিব্বি পাওয়া যায়, তার চাষবাসও ভালই হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও জনসমাগমের বাইরে একটেরে এই গ্রামের খবর আমায় দিয়েছিলেন ভ্রামণিক সুদীপ চ্যাটার্জি। চালাল দেখে তেমন খুশী হই নি একথা জানানোয় সুদীপ বলেছিলেন আরেকটু ওপরে গ্রহণ চলে গেলেই ভাল লাগত। গ্রহণ বা গ্রাহাণ নিয়ে তখুনি খোঁজ খবর করে ওই ওপরের তথ্যগুলো দেখে মনে হল এখানে তো যেতেই হবে। চারদিন থাকছি কাসোলে একটা দিন আমায় গ্রাহাণে যেতেই হবে। আজ ১২ই নভেম্বর সেই দিন। দ্য এভারগ্রিন থেকে বেরিয়ে ওই রাস্তায় সোজা কিছুটা হাঁটলেই একটা বেশ পুরোন ব্রিজ। এখানে পার্বতীর আওয়াজ এত জোরালো যে রীতিমত গলা তুলে কথা বলতে হয়। ওহো বলা হয় নি, ক্যাফের লোকেশানও ভারী চমৎকার, ফরেস্ট রেস্ট হাউসের পাশেই। এদের ওপন এয়ার বসার জায়গায় দিব্বি পার্বতী দেখতে দেখতে শুনতে শুনতে খাওয়া দাওয়া করা যায়। ব্রিজের মুখেই কাদামাখা দুখানা বোলেরো ক্যাম্পার দাঁড়িয়ে, পার্বতী চলার পথে সুক্ষ্ম জলকণা ছড়িয়ে গোটা ব্রিজ, রাস্তা ভিজিয়ে নাচতে নাচতে চলেছে। ক্যাম্পারের ছাদ খোলা অংশে বসলে ভাড়া ২০০/- আর ভেতরে বসলে ৩০০/-। একটা কাদামাখা গাড়ির সারথী রাস্তার অন্যদিকের পাহাড়ের গা বেয়ে নামা একটা রোগাটে জলধারার সাথে পাইপ লাগিয়ে গাড়িটা ধুচ্ছিলেন, জানালেন ওঁরই নাম্বার যাবার। ধোয়া হলে ভেতরে উঠে একটা জানলার ধার দখল করে বসা গেল। যাত্রা শুরুমিনিট পনেরো কুড়ির মধ্যেই গাড়ি ভরে গেল। সারথী জানালেন যাদের যাদের ইউপিয়াই পেমেন্ট তারা এখানেই ভাড়া মিটিয়ে দেন যেন। ওখানে পৌঁছে ক্যাশ ছাড়া কিছুই নেওয়া সম্ভব নয়। টুং টাং করে ভাড়া মেটানোর আওয়াজ শেষ হতেই গাড়ি স্টার্ট নিল। কাসোল থেকে গ্রাহাণের দূরত্ব ১০ কিমি, উচ্চতা বৃদ্ধি ২৫০০ ফিট। ঘন দেওদার বনের মধ্যে দিয়ে অতি সঙ্কীর্ণ পাথুরে এবড়ো খেবড়ো চড়াইপথ। পুরো পথ কাটাকুটি করে বয়ে আসছে গ্রাহাণ নালা। নদীর বুকে মস্ত মস্ত বোল্ডারে ধাক্কা খেয়ে জায়গায় জায়গায় জল সহস্রধারায় নেমে এসে একফুট কি দেড়ফুট ছোট্ট প্রপাত তৈরী করছে।এই নড়বড়ে ব্রিজটা পেরিয়ে এগোলে পথ হারানো অবধারিততাই এই ব্রিজের আগে সতর্কবার্তা দেওয়া আছে। স্থানীয়রাও চারণিকদের সাবধান করে দেনরাস্তা নয় পুরোটাই অফফরোডিং। মজা হচ্ছে যখন উল্টোদিক থেকে কোন ক্যাম্পার আসছে, একে তখন অনেকটা পিছিয়ে যেখানে সামান্য সাইড করার জায়গা আছে সেখানেই দাঁড়াতে হচ্ছে। যে নামছে তার রাস্তায় অগ্রাধিকার, উঠনেওয়ালা দাঁড়িয়ে পাশ দেবে এইই নিয়ম। পাশ কাটানোর সময় জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে দুই সারথী রাস্তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তথ্য বিনিময় করেন। তাতেই জানা গেল পাঁচ কিলোমিটারের মাথায় এক জায়গায় রাস্তার কাজ হচ্ছে সেখানে মিনিট পনেরো দাঁড়াতে হবে। গ্রাহাণ নালা কাটাকুটি খেলেছে গোটা পথ জুড়েসে না হয় হল কিন্তু এখানে রাস্তাই নেই তো আবার রাস্তার কাজ কিসের? শোনা গেল এই নেই-রাস্তাও মাঝে মধ্যে ভেঙে ধ্বসে যায়, মাঝে মাঝে পাথর পড়ে মিনি টিলা হয়ে থাকে। নিয়মিত সেসব সরিয়ে তাপ্পিতুপ্পি দিয়ে ফোর হুইল ড্রাইভ গাড়ি চলার উপযুক্ত করে রাখতে হয়। আমরা যত উপরে উঠছি, নালা ততই নীচে চলে যাচ্ছে, আবার হঠাৎ কোন বাঁক পেরিয়েই দেখা হয়ে যাচ্ছে পাহাড় ফুঁড়ে বেরিয়ে আসা অন্য এক জলধারার সাথে। সেও ‘'এসেছ? এসো এসো এগিয়ে চলো' বলতে বলতে হইহই করে দৌড়ে নেমে যাচ্ছে নীচের নালার দিকে। সরু জলধারা নেমে আসছে জঙ্গলের মধ্য দিয়েগ্রাহাণ গ্রামের ওপরের তিনটে জলপ্রপাত আর পথের সব কটা জলধারা মিশে তৈরী গ্রাহাণ নালা গিয়ে পার্বতীর সাথে মিশেছে কাসোলের একটু আগে। সেখানে নদীর গর্জনে কানে প্রায় তালা লেগে যায়। জঙ্গলের মধ্যে কিছুটা পর পরই গাছের গায়ে গ্রাহাণের পথনির্দেশ দেওয়া। যাঁরা এপথে চারণিক তাঁদের পথ হারানোর সম্ভাবনা বেশ কম। মোটামুটি তিরিশ মিনিট হেঁটে কোন পথনির্দেশ দেখতে না পেলে জানবেন আপনি হারিয়ে গেছেন। থুঞ্জাগ্রামের রাস্তা খাড়াই উঠে গেছে, সারথী জানান এ গ্রামে নাকি মাত্র দুটো হোমস্টে আছে। পথের মাঝে এক জায়গায় দেখা গেল পাশে অনেকটা পরিস্কার খোলা জায়গা, একপাশে একটা স্টেজের মত করা। শুনলাম সেখানে রেভ পার্টি হয় নিয়মিত। ৩১শে ডিসেম্বর পার্টির জন্য এই ধরণের অফগ্রিড জায়গার চাহিদা খুব বেশী। সমগ্র পার্বতী উপত্যকায় বেশ কয়েক হাজার পার্টি হয় ইংরিজি বছরশেষের দিনটায়। তার শতকরা আশিভাগই এরকম পাহাড়ের গায়ে জঙ্গলের মধ্যে যেখানেই খানিকটা সমতলভূমি পাওয়া যায় সেখানেই হয়। তবে গ্রাহাণে বিশেষ পার্টি হয় না। অ্যালকোহলের উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা এখানে শাপে বর হয়েছে। গ্রাহাণে পৌঁছাবার বেশ অনেকটা আগে থেকেই গাছের গায়ে নোটিশ ঝুলছে ‘'নো অ্যালকোহল জোন'। শুধু যে গ্রাহাণে পাওয়া যায় না তাই নয় বহিরাগতরাও এখানে কোনওরকম অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় আনতে পারেন না। ধরা পড়লে গ্রাম থেকে বহিষ্কার এবং মোটা অঙ্কের জরিমানা হয়। কথিত আছে যাজ্ঞবল্ক্য ঋষি, স্থানীয় ভাষ্যে ইয়্যাজ্ঞ বাল বা ইয়্যাজ্ঞল ঋষি, এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। সেই থেকে বহু শত বছর ধরে এই প্রথা চলছে। আমরা গাড়ির মধ্যে বলাবলি করি আগেকার মুনিঋষিরা তো গাঁজাই বেশী পছন্দ করতেন কিনা তাই। এক একটা বাঁক এমন সরু আর এমন খাড়াই যে গাড়ি ২ কি ৩ বারের চেষ্টায় উঠে মোড় ঘুরতে পারে আর ঘোরার সময় অবধারিত একদিকের চাকা শুন্যে ঘোরে। এক চুলের ভুল মানেই সোওজা স্বগগো। তা সেসব পেরিয়ে ক্যাম্পার একসময় এসে দাঁড়ায় গ্রাহাণের বেস পয়েন্টে। গ্রামের দূরত্ব এখান থেকে ১ কিলোমিটার কিন্তু খাড়াই প্রায় সাড়ে পাঁচশো ফুট। সবাই ঝটপট নেমে চড়তে শুরু করে দিলেন। তাকিয়ে দেখি সামনে আবার একটা ভাঙা ধ্বসে যাওয়া ঢাল প্রায় ১৫ ফিটের মত উঁচু। লাঠি বসালেই লাঠিটা ভুসভুস করে ঝুরো মাটির ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে। দুই তিনবার এগিয়ে পিছিয়েও বিশেষ সুবিধে করতে পারলাম না। আচ্ছা মুশকিল তো। খান পাঁচেক বোলেরো ক্যাম্পার ছড়িয়ে ছিটিয়ে দাঁড়িয়ে। তাদেরই এক সারথী বলেন এইটুকুই একটু ভাঙা, ওই উপরে উঠলে পাকা রাস্তা পাবেন। পাকা রাস্তা! বলে কি রে! কিন্তু এইটাই বা উঠবো কী করে? এবার আরেকজন এগিয়ে আসেন ‘'চলিয়ে ম্যাডাম’’ বলে হাত বাড়িয়ে দেন। এইবার একহাতে লাঠি আরেকহাতে ওঁর হাত ধরে সেই নরম ঝুরঝুরে ধ্বসা জায়গাটা পেরিয়ে উঠে আসি। ওই যে নীচে ক্যাম্পার দাঁড়িয়ে আছে সারিসারি ওইটাই গ্রাহাণের বেস পয়েন্টআর্ধেক হাঁটু অবধি ট্রাউজার, জুতোয় চন্দনরঙা মিহি মাটির একটা হাফ ইঞ্চি স্তর হয়ে গেছে। সত্যিই এখান থেকে বেশ একটা রাস্তাই করা। কোথাও মাটির পথের উপরে পাতলা সিমেন্টের আস্তরণ কোথাও পাথরের ফাঁকে ফাঁকে সিমেন্ট জমিয়ে তৈরী পথ। ওই ভাঙা জায়গাটা পেরিয়ে উঠেই একটা ছোট চায়ের দোকান। চা, ম্যাগী, মোমো, ওমলেট ইত্যাদি পাওয়া যাচ্ছে। দোকানে না উঠে একটু বসি দোকানের ধাপে। অল্পবয়সী দোকানি ছেলেটি বলে দিদি বেশীক্ষণ বোসো না, একটু দম নিয়েই উঠতে শুরু করো। এই এক কিলোমিটার রাস্তা একটু খাড়াই আছে। তা খাড়াই বলে খাড়াই… আমার অনভ্যস্ত ঠ্যাঙ আর তারচেয়েও বেশী অনভ্যস্ত হৃৎপিন্ড একটা করে বাঁক ঘুরলেই এমন দুমদুমাদুম করে লাফাতে থাকে যে কোথাও পাঁচমিনিট কোথাও আরো বেশী জিরিয়ে নিই। অনেক জায়গাতেই রাস্তা এত সরু যে জিরোতে গেলে ওই পাশের পাথরে ভর দিয়ে হেলে অন্যদের পাশ দিতে হয়। ওঠার লোক সব চলে গেলেও অনেকে নামছেন। ট্যুরিস্টই মূলত, একদিন বা দুদিন কাটিয়ে কিম্বা আরো উপরে ট্রেক করে ফিরছেন। সকলেই উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন ‘'বাস আ গ্যয়ে, অউর থোড়া হি যানা হ্যায়’’ এবং আমি চড়ছি তো চড়ছিই। ট্র‍্যাডিশানাল পাথর আর কাঠের বাড়িতা চলতে থাকলে সব রাস্তাই একসময় ফুরায়, এও ফুরালো। ঠিক গ্রামে ঢোকার আগে প্রায় ৮০ ডিগ্রি কোণে খান চল্লিশেক সিঁড়ি। একবার ভাবি ধুত্তোর আর পারছি না এখান থেকেই ফিরি। এমনিতে তো এই রাস্তাটাও দেওদার গাছের চিরল পাতার ফাঁক দিয়ে আসা সূর্য্যের আলোয় চিকরি মিকরি নকশাকাটা, ছায়া ছায়া ঘুম ঘুম। পাতার ফাঁকে বাতাস চলার হালকা শিষের আওয়াজ হলুদ ঠোঁট ম্যাগপাই আর ব্লু হুইসলিং থ্রাশের ডাক ছাড়া আর কোন শব্দ নেই। https://youtube.com/shorts/IHDQj4vqRi4?si=K3WAOurZ6pwAgXoCSound of Silenceএখানেই এলিয়ে বসে থাকি খানিকক্ষণ, তারপর নামবো। আজকের আকাশটা মনে হচ্ছে কেউ পার্বতীর জলে ধুয়ে, লাপিস লাজুলির রঙে ছুপিয়ে মেলে দিয়েছে, এত উজ্জ্বল। ঈশ সুদীপ বলেছিলেন তেমন কিছু নয় নিতান্ত সহজ রাস্তা, শেষটা একটু খাড়া। এ তো বেশ খাড়াই বাপু। সুদীপের উদ্দেশ্যে কি একটু দাঁত কিড়মিড় করবো? নাহ তাতে অনেকটা এনার্জী খরচা হবে। তার চেয়ে বরং সিঁড়িটাই চড়ার চেষ্টা করা যাক। এরকম খাড়া সিঁড়ির ক্ষেত্রে আমি সব জায়গায় যা করি, এখানেও তাই করলাম। সোজা চার হাতপায়ে উঠতে শুরু করলাম। নামার সময় বসে বসে নেমেছিলাম। পাথরের ছাদওলা বাড়ি, সামনে শীতের জন্য কাঠ জড়ো করে রাখাগ্রাহাণ গ্রামে যতগুলো বাড়ি ঠিক ততগুলোই বা তার চেয়েও কয়েকটা বেশী হোমস্টে। তবে টিভি, মোবাইল, বাইক, গাড়ি এইসব না থাকায় ভারী শান্ত চুপচাপ জায়গা। এখানে একটা প্রাইমারী আর একটা জুনিয়ার হাই স্কুল আছে। স্কুল বোধহয় সকালে বসে, এখন ছুটি। রাস্তা জুড়ে অনেক বাচ্চা দৌড়ে খেলে বেড়াচ্ছে। বাড়িগুলো কাঠ আর পাথরের তৈরী। একটা বাড়ির বাইরে ডিশ অ্যান্টেনা লাগানো দেখে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারি মাঝেমধ্যে দু একটা চ্যানেলের সিগনাল পাওয়া যায়। ঘুরেফিরে মন্দির চত্বরে পোঁছাই। কাঠের উপরে সুক্ষ্ম কুনি কাজ করা মন্দিরপাথরের ভিতের ওপরে কাঠের কুনিকাজ করা অপূর্ব স্থাপত্য। বহিরাগতদের মন্দিরে ঢোকা বা মন্দিরের কোন অংশ স্পর্শ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। মন্দিরে উপাস্য দেবতা হলেন ঋষি যাজ্ঞবল্ক্য। গ্রামের চারদিকে গম আর বার্লির খেত। গম তোলা হয়ে গেছে, বার্লি কিছু আছে এখনো। আর আছে সর্ষেখেত। যেদিকে তাকাই সেদিকেই ধাপে ধাপে হলুদ আর সবুজের নানা শেডের রংবাহার। সুকুন ক্যাফের বাইরের সিঁড়ির ধাপে বসে ইউকুলেলে নিয়ে টুং টাং করছিলেন এক যুবক, নাম বললেন যোশুয়া। এখানে এসেছেন দিন পনেরো, কাসোলে আরো আগে। যাজ্ঞবল্ক্যের মন্দির - ভারতে আর কোথাও আছে কি? যোশুয়া এতদিনে হিন্দি মোটামুটি বলতে পারেন এবং হিন্দী বাৎচিৎ করতে ভারী উৎসাহী। দু:খ করে বললেন একটা রাস্তা তৈরী হচ্ছে, দুই তিন বছরের মধ্যে হয়ে যাবে নয়া গ্রাহানের দিক দিয়ে। নয়া গ্রাহাণ আবার কোথায়? ওইই যে গ্রামের যেদিকটা তত খাড়া নামে নি একটু ঢালু হয়ে নেমেছে সেইদিকে দেখো কখানা বাড়ি, ওই হল নয়া গ্রাহাণ। পিছন থেকে একটা কচি গলা বলে ও গ্রামের নাম পুলগি, তোমাদের জন্য নয়া গ্রাহাণ বলা হয়। ফিরে দেখি।একজন আড়াইফুটি ভদ্রমহিলা, স্কুল ড্রেস পরা। সঙ্গে আরো তিনজন ওনার সাইজের। সকলেই স্কুল ফেরত। এদিকে তাকিয়ে চুপচাপ বসে থাকা যায় ঘন্টার পর ঘন্টাসবকটা পুঁচকে একসাথে তড়বড়িয়ে কথা বলতে লাগল। সে এক্কেবারে কলকাকলি ব্যান্ড। অনেক কষ্টে বোঝা গেল এরা আমায় জলপ্রপাত দেখাতে নিয়ে যেতে চায়। যদিও পা আর চলছে না তবু ঝকঝকে চোখের কচি মুখগুলোকে নিরাশ করতে মন চাইল না। কিন্তু গ্রাম ছাড়িয়ে একশো মিটার মত উঠেই এমন পা ব্যথা শুরু হল যে আর এগোনর সাহস পেলাম না। ওই বদখত পথটা নেমে ফিরতে হবে তো। তা সেও একসময় নামলাম। এবারে দোকানে ঢুকে বসি। নামার সময় পায়ের পাতায় চাপ পড়ে খুব, একটু বসে নেওয়া যাক। জলপ্রপাত - গ্রাহাণছবি সৌজন্য - যোশুয়াদোকানী ছেলেটির নাম চাঁদ। ও মানালির অটলবিহারি বাজপেয়ী ইন্সটিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং থেকে অ্যাডভান্সড কোর্স করেছে, সার্টিফায়েড গাইড। এছাড়া বরা সিগ্রি হিমবাহ ট্রেকিঙের সময় তুষারঝড়ের পরে উদ্ধারকাজেও অংশ নিয়েছে, প্রশংসাপত্র পেয়েছে। বলে দিদি তুমি ক্ষীরগঙ্গা ট্রেকে এসো, আমায় ৩ মাস আগে বলবে, আমি তোমাকে হাতে ধরে ঘুরিয়ে আনবো। সার পাস ট্রেক ক্ষীরগঙ্গার চেয়ে কঠিন। ক্ষীরগঙ্গা আরামসে গাছের ছায়ায় ছায়ায় হাঁটতে হাঁটতে চলে যাবে দেখো। চাঁদভাইশুনে লোভ লাগে। আসতে হবে, কিন্তু তার আগে ফিটনেস আরেকটু বাড়াতে হবে। জিজ্ঞাসা করি ও যখন গাইড হয়ে যায় তখন দোকান কে দেখে? বলে আরে এটা আমার মৌসির দোকান। মৌসি গেছে খেত থেকে বার্লি তুলতে আমি আজ ফ্রি তাই বসেছি। অনেক গল্প করে ওর ট্রেক করানোর, রেস্কিউ করার। সেই মাটি ধ্বসা পনেরো ফুট হাত ধরে নামিয়ে বোলেরো স্ট্যান্ডে পৌঁছে দিয়ে যায়। এক সারথীকে ডেকে বলে দিদিকে সাহি সালামৎ কাসোল পৌঁছে দিও। আমায় বলে, নম্বর তো রইল, হোয়াপ করে চলে এসো নিয়ে যাবো ক্ষীরগঙ্গা, মানতালাই লেক। ক্যাম্পার তো অন্তত পাঁচজন না হলে ছাড়বে না। আরেক সরকারী আধিকারিক ছিলেন অপেক্ষায়। গ্রাহাণে কিছু সরকারি কাজে এসেছেন। এলেন এক পুলিশ সাব ইনস্পেক্টার, তবে তিনি তাঁর শালার বাড়ি এসেছিলেন কোন বিয়ের সম্বন্ধের ব্যপারে। এইসব শুনতে শুনতে দেখতে দেখতে আরো জনা তিনেক হয়, তবে তাঁরা লোকাল তাই ৫০ টাকা করে দেবেন এবং খোলা জায়গায় বসবেন। আরো একজন হতে পুলিশবাবুর তাড়ায় গাড়ি ছাড়ে। অন ডিউটি না হলেই বা কি, পুলিশ তো বটে। পথে এক জায়গায় পাথর পড়ায় তার আগের বাঁকে থামতে হয়েছিল মিনিট পঁচিশেক মত। ততক্ষণে বিকেল পাঁচটা বেজে গেছে, গাড়ি থেকে নেমে দেখি কনকনে ঠান্ডা। গাড়ি থামাবার জন্য যারা নিযুক্ত, তারা রাস্তার পাশে কাঠ, গাছের ডাল শুকনো পাতা জড়ো করে আগুন জ্বেলেছে। বলে এসো এসো হাত পা সেঁকে নাও, কতক্ষণ পাথর পড়বে তার কোন ঠিক ঠিকানা নেই। তিনজন অল্পবয়সী ছেলেমেয়ে হেঁটে ফিরছিল, বলে আমরা চলে যাই, হাঁটছি তো। সবাই হেসে ওঠে, ‘পাগল নাকি তোমরা? পাথর কি জানে তোমরা হাঁটছ, তাই রেয়াত করবে?’  কাসোলে সন্ধ্যে গাঢ়, পাহাড়চুড়ায় তখনো অস্তসূর্য্যের রশ্মি মেয়েদুটো দিল্লি ইউনিভার্সিটির, ইংরিজিতে মাস্টার্স করছে, ছেলেটা এমবিএ ছাত্র। কাসোলে এসেছিল বেড়াতে, আগামীকাল ফেরত যাবে। কাসোল ফিরতে ফিরতে প্রায় অন্ধকার হয়ে আসে। কাল ফেরা, সারাদিন বাসে কাটবে তাই কিছু শুকনো খাবার কিনে হোস্টেলে ফিরি। কাসোল পুরোন ব্রিজ থেকে পুরোন মার্কেট পর্যন্ত খান আষ্টেক জার্মান বেকারি৷ চিজকেকের স্বাদ পুণের জার্মান বেকারির মত নয়, একটু নীরেশ। হোস্টেলে ফিরে খানিক জিরিয়ে নৈশাহারের জন্য বেরোই রাত আটটা নাগাদ। রাতের কাসোলমুনড্যান্স ক্যাফে একেবারে নদীর ধার ঘেঁষে। প্রথমে বাইরের লনে মিনিট পনেরো বসে প্রায় জমে যাবার অবস্থা। বাধ্য হয়ে ভেতরে গিয়ে বসি। হিমাচলে ট্রাউট মাছ ধরার সময় হল ৩১শে মার্চ থেকে ৩১শে অক্টোবর। নির্বিঘ্ন প্রজননের জন্য ১লা নভেম্বর থেকে ৩০শে মার্চ অবধি ট্রাউট ধরা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তবে নভেম্বরের প্রথম দুই তিন সপ্তাহ কাসোলে অন্তত আপনি টাটকা ট্রাউট খেতে পাবেন। সরকারি পরিদর্শন হলে ফ্রিজারে রাখা মাছ বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। নিট্টু বলেছিল মুনড্যান্সে টাটকা মাছ পাবোই। গ্রিলড ট্রাউট উইত ম্যাশড পট্যাটোতা পেলাম। গ্রিলড ট্রাউট, আস্ত মাছও নেওয়া যায় বা কিছুটা অংশ। গ্রিলড ট্রাউট উইত ম্যাশড পোট্যাটো। সাথে স্যালাড ও দুই টুকরো গার্লিক ব্রেড। আহাহা অপূর্ব স্বাদ। মাছট এত টাটকা, মুখে দিলে মিলিয়ে যায়। খেয়েদেয়ে আজ আর ঘোরাঘুরি করতে পারলাম না, সোজা হোস্টেল এবং নিদ্রাদেবীর কোল। ১৩ই নভেম্বর সকালে উঠে তাপমাত্রা দেখে তো হাঁ। -২৪!! সোসান হলেও সেখানে এত কম হওয়া কী করে সম্ভব? কে জানে হয়ত কোন গ্লেসিয়ার আছে কাছাকাছি। নিট্টুকে আগেই বলে রেখেছিলাম আজ সকাল সাড়ে আটটায় কফি চাই আমার। চাইই চাই। এ কি গ্লেসিয়ারের পাশে নাকি, অ্যাঁ! কাসোল থেকে দিল্লি আসার সরাসরি বাস সবকটাই রাত্রিবেলা। আমি চাইছি সকাল বা দুপুরের বাস, যাতে রাত্রে দিল্লি পৌঁছাতে পারি। তা ওডিন হোস্টেলের গেটের পাশের বাস বুকিং অফিস জানিয়েছিল সকাল সাড়ে এগারোটার দিল্লিগামী বাস আছে তবে ভুন্টার থেকে। নিজ দায়িত্বে সাড়ে এগারোটার মধ্যে ভুন্টার পৌঁছাতে হবে। সেইমত ট্যাক্সি ইউনিয়ানের অফিসে বলে এসেছিলাম সকাল নটায় গাড়ি লাগবে। ওঁরা বলেছিলেন পনেরো মিনিট আগে ফোন করতে, তখন যে সারথীর নম্বর আসবে তাকেই পাঠাবেন। ভুন্টার থেকে দিল্লির পথে মান্ডির কাছাকাছিসেইমত ফোন করে যাকে পাওয়া গেল সে নিতান্ত বাচ্চা ছেলে। একটু চিন্তিত হয়ে বয়স জিজ্ঞাসা করে জানা গেল কুড়ি। কিছুদূর যেতেই তার গাড়ির অ্যালার্ম পিঁক পিঁক শুরু করল। ক্রমশ বাড়তে থাকায় এক জায়গায় একটা সার্ভিস সেন্টার পেয়ে সেখানে দেখিয়ে জানা গেল এঞ্জিন অয়েল লিক করছে। ছেলে গজগজ করছে এইমাত্র সার্ভিস করিয়েছি। মেকানিক সাহেব এক দাবড়ানি দিলেন, এ পুরোন লিকেজ নিশ্চয়ই দেখিয়েছিল তুমি পয়সা বাঁচাতে তাপ্পি লাগিয়েছ। ১৩০০ টাকা দিয়ে ঠিক করিয়ে গাড়ি চলল সাথে চলল ছেলের গজগজ। ১৫০০ টাকা ভাড়ার ১৩০০ বেরিয়ে গেল, আমার তো তেলের খরচই উঠবে না। কুলুর কাছেবাকী পথটুকু নির্বিঘ্নেই কাটল। ভুন্টারে পৌঁছে ঘন্টা দেড়েক অপেক্ষার পর বাসও এলো। বড় ভলভো, আরামদায়ক যাত্রা। শুধু চন্ডীগড়ে পঞ্চকুল্লার ওখানে এমন মারাত্মক জ্যাম পেলাম যে দিল্লি ISBT তে রাত দশটার বদলে পৌণে একটায় গিয়ে নামলাম। পরে দেখি সেই ছোকরা গুগল পে'তে মেসেজ করেছে বাড়িভাড়া দিতে পারছে না, ২০০০ টাকা পাঠাই যেন আমি। উত্তর না পেয়ে ১০০০টাকা ধার দিতে পারবো কিনা। যেহেতু ট্যাক্সি ইউনিয়ান থেকে পাঠিয়েছিল তাই আমার ফোন নম্বর ছিল না, গুগল পেতেই মেসেজ করে গেছে।ইনি বাসের পাশে পাশে উড়ছিলেনফিরে আসবার এতগুলো মাস পরেও কালগা পুলগা পরীবন গ্রাহাণের কথা মনে হলেই একটা কনকনে ঠান্ডা, চনমনে ভাললাগায় মন ভরে যায়। ভুলে গেছি চড়াই ওঠার কষ্ট। ভুলে গেছি গ্রাহাণ থেকে নামার পরের পায়ের ব্যথার কথা, ভুলে গেছি বাড়ি ফেরার পরে এক সপ্তাহ পায়ের ফোলা, পা ফেলতে না পারা ব্যথার কথা। মনে আছে মায়াবী পরীবন, ছোট্ট জলপ্রপাত, উত্তাল গ্রাহাণ নালা, স্কুল ইউনিফর্ম পরা অপাপবিদ্ধ তিন শিশুর কলকল, হলুদ সবুজ বাদামী ধাপে ধাপে নেমে যাওয়া খেত। আবার যাবো শীগগিরই। (সমাপ্ত)
    প্রস্তর যুগ - Nirmalya Nag | “আজকে তোমার একটা জরুরী মিটিং আছে না?” বেডরুমের দরজায় এসে জিজ্ঞাসা করল রিমা।দেওয়ালে টাঙানো ঘড়ির দিকে চোখ গেল জয়দীপের; ন’টা প্রায় বাজে, ট্রেনটা মিস হয়ে না যায়। অফিস যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে তিন বছরের মেয়ের সঙ্গে বকবক করছিল সে। সদ্য জ্বর সেরে ওঠা রিয়া বাবার হাত চেপে ধরল। ধীরে ধীরে মেয়ের আঙুলগুলো ছাড়িয়ে নিল জয়দীপ, দু-গালে হামি খেয়ে টাটা বলে উঠে পড়ল। রিয়ার আয়া ঝর্ণাদিও এসে গেছে; জয়দীপ তাড়াতাড়ি মায়ের ঘরে গিয়ে “আসছি” বলে ছুটল বাইরের বারান্দার দিকে।খুব দেরি হয়ে গেছে, অন্য দিনের তুলনায় সাত-আট মিনিট বেশি সময় কাটিয়েছে রিয়ার সঙ্গে আজ। বিয়ের প্রায় আট বছর পরে তাদের জীবনে এসেছে মেয়ে, বড্ড বেশি আদর পায় সে বাবার কাছে। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে বারান্দার দরজার চৌকাঠে ডান পায়ের বুড়ো আঙুলে জোর ধাক্কা লাগল জয়দীপের। দরজার ফ্রেমটা ধরে ব্যালান্স রাখল জয়দীপ, গলায় আসা চিৎকারটা গিলে নিয়ে পায়ের দিকে তাকালো। নখের ঠিক নিচে খানিকটা কেটে গেছে নিশ্চয়, রক্ত বেরিয়ে মোজার একটু জায়গা ভিজে যাচ্ছে। যন্ত্রনাটা পা বেয়ে ওপরে উঠে আসছে যেন, মুখটা বিকৃত হয়ে গেল জয়দীপের। “ভাগ্যিস রিমা দেখতে পায়নি; তাহলে এখনই বরফ টরফ লাগাতে বলতো, আর আরও দেরি হয়ে যেত।” বারান্দায় এল জয়দীপ, খেয়াল রাখল যাতে না খোঁড়ায়; রিমা এখনই এসে যাবে।বারান্দার এক পাশে একটা জুতোর র‍্যাক আর তার পাশে একটা প্লাস্টিকের টুল রাখা। টুলে বসতে না বসতেই রিমা এসে দাঁড়াল পিছনে। র‍্যাকের একটা পাল্লা খুলে ভিতরে তাকাল জয়দীপ, তার জন্য বরাদ্দ তাকেরত সামনেই রাখা আছে পুরনো ব্রাউন রঙের লেদার স্নিকারটা, সেটাই এক ঝটকায় টেনে বার করে ডান পা’টা আগে জুতোয় গলালো সে, তারপর বাঁ পা।“আবার সেই পুরনোটা…নতুনটা পরো,” ৩৯-বছরের স্বামীকে বলল রিমা।“সময় নেই, ট্রেন মিস হবে…,” ফিতে বাঁধা শেষ করে উঠে দাঁড়ালো জয়দীপ। “আসি,” বেরিয়ে পরল জয়দীপ।“সাবধানে যেও,” বলে দরজা বন্ধ করল রিমা, আর এক ঘণ্টার মধ্যে তাকেও বেড়োতে হবে। বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটা স্কুলে পড়ায় সে।গলি দিয়ে দ্রুত পায়ে হাঁটতে লাগল জয়দীপ, এই জুতোটা একটু ভারি, পায়ে লাগছে বেশ, আগের মত সুরক্ষা মনে হয় আর দিতে পারছে না; নতুনটা প’রে এলেই হত। ওই সিন্থেটিক হালকা জুতো জোড়া গত জন্মদিনে তাকে উপহার দিয়েছিল রিমা। র‍্যাকের মধ্যে পুরনোটার পাশেই নতুনটা রাখা থাকে, দ্বিতীয় পাল্লাটা খুললেই ‘পা-লোক’কে পাওয়া যেত। ছোট থেকেই নানা জিনিসের নামকরণের বাতিক আছে জয়দীপের। নিজের বাড়ির নাম দিয়েছে ‘সুবোধ বালক’, অফিস হল ‘মাস-ও-হারা’। আগের জুতোটাকে ডাকে ‘চর্মসহচরী’, সেখান থেকে ছোট করে ‘সহচরী’;আর নতুনটার নাম ‘পা-লোক’। মিনিট দুয়েক পরেই জশোর রোডে এসে পড়ল জয়দীপ, বাঁদিকে ঘুরে ভাঙাচোড়া ফুটপাথ দিয়ে হাঁটতে শুরু করল বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশনের দিকে।সোমবারের অফিস টাইমে যশোর রোড পুরো জমজমাট; গাড়ির ধোঁয়ার গন্ধ, ট্রাফিকের শব্দ, বাস কন্ডাক্টর আর অটোচালকদের হাঁকাহাঁকির মধ্যে দিয়ে দ্রুত চলতে গিয়ে ঘেমে গেল জয়দীপ। বর্ষাকাল প্রায় শেষ হয়ে এল, আবহাওয়া বেশ আর্দ্র; আজ সন্ধ্যার দিকে বৃষ্টি হতে পারে মোবাইলে দেখেছে সে।পায়ের ব্যাথাটা ভালই জানান দিচ্ছে; আস্তে আস্তে হাঁটারও উপায় নেই। ফুটপাথ থেকে রাস্তায় নামল জয়দীপ – সারি সারি বাস, প্রাইভেট গাড়ি, হলুদ ট্যাক্সি, সাদা ক্যাব, টু-হুইলার, অটো আর সাইকেলের মধ্যে দিয়ে কোনও রকমে রাস্তার অন্য দিকে এল সে। পৌঁছে গেল মেট্রো স্টেশনে। ট্রেনটা মিনিট দুই দেরি করে এল, তাই পেয়ে গেল জয়দীপ। ভিড়ের মধ্যে গোঁটাগুঁতি করে এগোবার চেষ্টা করল সে, খান তিনেক স্টেশন পেরোবার পর জায়গাও পেয়ে গেল। ভালই হল, একটু আগে একজন পা মাড়িয়ে দেওয়াতে ব্যাথাটা বেড়ে গেছে, দপদপ করছে আঙুলটা।সামনে একটু ঝুঁকে পায়ের দিকে তাকাল জয়দীপ; জুতোটার অবস্থা সত্যিই খারাপ হয়ে গেছে – চামড়ার গায়ে ঘষা দাগ, হিলের একটা দিক ক্ষয়ে গেছে, লেসও যেন বেশি টান পড়লেই ছিঁড়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে। পালিশও করা হয়নি কিছুদিন। ‘সহচরীর’ আশেপাশে এখন অনেকগুলো নতুন আর পুরনো ডার্বি, ফ্লোটার, অক্সফোর্ড, স্নিকার আর স্যান্ডাল; তাদের নানা ব্র্যাণ্ড, নানা রঙ, নানা দাম। তাদের মালিকদের কথাবার্তা, ফোনালাপ আর বিরক্তিকর রিলের আওয়াজের মাঝে একটু ঝিমুনি এল জয়দীপের।হঠাৎ কানে এল কারও গলা; তারুণ্যে ভরা স্বর, তাতে কিছুটা যেন বিদ্রূপ মেশানো; সে বলছে, “তোমাকে দিয়ে আর বেশি দিন চলবে না।”এর উত্তরে কেউ বলল, “কাউকে দিয়েই চির দিন চলে না; তবে যার যা কাজ তাকে সেটা শেষ পর্যন্ত করেই যেতে হয়।” এই গলার মালিক মনে হয় বয়স্ক।কারা কথা বলছে বুঝতে পারল না জয়দীপ, এদিক ওদিক তাকাল। খুব কাছ থেকেই শোনা গেল দুটো গলা, কিন্তু এই মুহুর্তে তো কাছাকাছি কেউই কথা বলছে না। ট্রেনে ঘোষণা হল এসপ্ল্যানেড স্টেশন আসছে। আবার চোখটা বুজে এল তার।প্রথম গলাটা ফের শোনা গেল,”তোমার চামড়া, তোমার রাবার সোল – সব গেছে। গত সপ্তাহে স্লিপ করেছ, আর একবার তো পেস্টিং খুলে যাচ্ছিল আর একটু হলেই। সময় হয়েছে, এবার সরে যাও। তুমি এখন লায়াবিলিটি।”দ্বিতীয় জনের স্বর এবার গম্ভীর। “সময়? অনেক কঠিন সময় পেরিয়ে এসেছি। হিলটা ক্ষয়ে গেছে কেন? সাত-আট বছর ধরে ঘোরাঘুরি ক’রে; এই ডাক্তার থেকে ওই ডাক্তার; এই টেস্ট থেকে সেই টেস্ট, অনেক হতাশার ভার বয়ে তবে আজ রিয়া এসেছে। বাঁ দিকের ওই স্ক্র্যাচটা? রূপকুণ্ড ট্রেক করার সময়ে পাথরে পা আটকে গিয়েছিল একটা বিপজ্জনক জায়গায়। টাকা দিয়ে আমার মূল্য বিচার করতে যেও না।”আদালতের সওয়াল জবাবের মত এই কথোপকথন কারা করছে এইবার জয়দীপের কাছে পরিস্কার হয়ে গেল -- সহচরী আর পা-লোক। নতুন জুতো আক্রমণ চালিয়ে গেলঃ “সেন্টিমেন্ট দিয়ে জীবন চলে না; সময়কে মেনে নিতে হয়। আবার বলছি, তুমি এখন লায়াবিলিটি।”লোকজনের হুড়োহুড়িতে চোখ খুলল জয়দীপ; পার্ক স্ট্রিট স্টেশনে দরজা খুলছে। তাড়াতাড়ি করে প্ল্যাটফর্মে নেমে অন্য অফিসযাত্রীদের ভিড়ে মিশে গেল সে; হাঁটতে গিয়ে টের পেল পা-টা আবার ব্যথা করছে। রাস্তায় এসে অফিসের দিকে হাঁটতে হাঁটতে তার মনে হল পা-লোকের যুক্তিগুলো এড়িয়ে যাওয়া যায় না; আবার সহচরী যা বলেছে সেগুলোও ঠিক। গ্র্যান্ড হোটেল আর্কেডের একটা দোকান থেকে ১৫ বছর আগে সহচরীকে সংগ্রহ করেছিল সে, সেই সময়ের সাধ্যের কিছুটা বাইরে গিয়েই কিনেছিল। সে দিনের ঝকঝকে জুতোটা আজ জীর্ণ হয়েছে। পা-লোককে কিনেছিল অনলাইনে, অনেক দেখাশোনা রিসার্চ টিসার্চ করে; রিমা বলেছিল, “তুমি কিনে নাও, টাকা আমি দেবো।” আজকের মিটিংটা খুব ইম্পর্ট্যান্ট, তবে পা-টাকেও একটু দেখতে হবে। একটা স্প্রে বা জেল টেল কিছু লাগালে আরাম হবে মনে হয়। আপাততঃ নিচু হয়ে জুতোর ফিতেটা টাইট করে বেঁধে নিল জয়দীপ; পা বাড়ালো ‘মাস-ও-হারার’ দিকে।এক ঘন্টার মিটিং ভালো ভাবেই চলল। কিছু অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হল জয়দীপকে; এবার প্রায় স্পষ্ট হয়ে গেল পরের প্রমোশন আসছে, এর জন্য দু’ বছর অপেক্ষা করে আছে সে। তৃপ্ত মনে এবার পায়ের দিকে নজর দিল সে।একজন অফিস অ্যাসিসট্যান্টকে দিয়ে ফার্স্ট এড বক্সটা আনালো জয়দীপ। ডান পায়ের জুতোটা খুলে দেখল রক্ত শুকিয়ে মোজাটা আটকে আছে বুড়ো আঙুলের কেটে যাওয়া জায়গাটায়। সাবধানে মোজা খুলল সে, ফুলে গেছে বুড়ো আঙুলটা, কাটা জায়গায় কালচে লাল শুকনো রক্ত। ডেটল দিয়ে ক্ষতর জায়গাটা পরিস্কার করে একটা ব্যান্ড এড লাগালো সে, পেন কিলার স্প্রে করল, ব্যাথাটা কমল কিছুটা। জুতোটা পরার সময়ে খেয়াল করল সোলের কাছটা আলগা হয়ে এসেছে; অন্যটা দেখল, সেটারও একই অবস্থা।আজকের বিশেষ দিনে লাঞ্চের সময়ে পার্থর কাছ থেকে একটা সিগারেট চেয়ে খেল সে, যদিও ধূমপান সে কদাচিত করে। পার্থ আবার অফিসের প্রচুর গোপন খবর রাখে, বলল কোম্পানি সম্ভবত অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্টের ঝা-জীকে আর রাখবে না। নানা শারীরিক সমস্যায় জর্জরিত ঝা-জী এখন খুব ছুটি নেন, আরও বছর চারেক চাকরি ছিল ওনার।সন্ধ্যা হওয়ার আগেই আকাশ কালো মেঘে ঢেকে গেল, যে কোনও সময়ে বৃষ্টি আসবে। পায়ের ব্যাথাটা আবার ফিরে এসেছে, অফিস ছুটির পর জয়দীপের ইচ্ছে হল না মেট্রো অবধি যাওয়ার; একটা ক্যাব বুক করল সে।ক্যাবে উঠলে এসি চালিয়ে দিল ড্রাইভার, গাড়ি চলতে শুরু করল বেলগাছিয়ার দিকে। ব্যাকপ্যাকটা পাশেই সিটের ওপর রেখে আরাম করে বসল জয়দীপ। মাথাটা হেলিয়ে দিল পিছনের দিকে, একটা বড় নিঃশ্বাস ফেলে ভাবতে লাগল যে নতুন দায়িত্ব অফিস দিয়েছে সেগুলো কী ভাবে ঠিক মতো করা যাবে। লেনিন সরনীর মোড় পেরিয়ে যাওয়ার পর পা দুটো একটু সরাতে গেল সে। চোখ গেল সহচরীর দিকে। কোন যুগ থেকে এই জুতোটা আছে তার কাছে। সহচরী তার সম্পর্কে যা জানে, ততটা হয়তো রিমাও জানে না।গাড়ির কাঁচ আর ছাদের ওপর বৃষ্টি পড়া শুরু হল, প্রথমে আস্তে, তার একটু পরেই বেশ জোরে।“ভালো বৃষ্টি হবে স্যার, সকাল থেকেই মেঘলা রয়েছে,” বলল ড্রাইভার। জয়দীপ শুধু “হুমমম” বলে থেমে গেল; ড্রাইভার বুঝল তার প্যাসেঞ্জারের কথা বলার ইচ্ছে নেই।একটু ঝিমুনি এসেছে জয়দীপের। তার মধ্যেই শুনতে পেল পা-লোকের গলা, “এই যে স্যার, তোমার মত টুটাফুটা চিজকে ইনি কেন এত পছন্দ করে বলো তো?”সহচরীর উত্তরে কি একটু আবেগের ছোঁয়া পাওয়া গেল? “মহাফেজখানা কাকে বলে জানো? আমি হলাম তাই। ওর জীবনের হাজারো দামী সময়ের সাক্ষী ছিলাম আমি। রিমার বাবা-মা ওর সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজী ছিল না; ও রিমার বাড়ি যেদিন যায় আর সফল হয়ে বেরিয়ে আসে সেদিন আমি ছিলাম। সেটা ছিল বৃহস্পতিবারের সন্ধ্যা। রিয়া হওয়ার সময়ে খুব সমস্যা হয়েছিল; হাসপাতালের করিডোরে আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পায়চারি করেছি প্রায় সারা রাত, একটা মঙ্গলবারের রাত। সেই শুক্রবারের বিকেলে যখন ওর বাবা মারা যান, আর ও অফিস থেকে ফিরে আসে সেদিনও আমি ছিলাম।” পা-লোক বলল, “ইতিহাসের সাল তারিখ কোন কাজে লাগবে? এই দিয়ে কি তোমার ক্ষয়ে যাওয়া সোল নতুন হবে, না আলগা হওয়া পেস্টিং শক্ত হবে? এবার তোমার সাম্রাজ্যের পতনের সময়।”হাসির শব্দ কানে জয়দীপের; দীর্ঘ নির্মল হাসি। “সময়কে একটু সময় দাও, তারপর দেখ। গুড লাক।”“হাসির আবার কী হল?” জিজ্ঞাসা করল পা-লোক। সহচরীর কাছে থেকে কোনও উত্তর এল না। জয়দীপের মনে পড়ল না ওই জুতোর মধ্যে নারীসুলভ কিছু না থাকা সত্ত্বেও কেন ‘সহচরী’ নাম দিয়েছিল সে।বিদ্যুতের চমকে আকাশ ফালাফালা হয়ে যাওয়ার পরেই প্রচন্ড আওয়াজ করে বাজ পড়ল। আজকাল বাজ পড়ছে খুব বেশি, কেন কে জানে। বৃষ্টিও এখন বেশ জোরে পড়ছে, ট্রাফিকের স্পিড কমে গেছে। কপাল ভালো জয়দীপের, শ্যমবাজার পাঁচমাথার মোড়ে সিগন্যাল খোলা পেল সে, নইলে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হত কে জানে! আর জি কর হাসপাতাল পেরোবার সময়ে মোবাইল বেজে উঠল; রিমা। জিজ্ঞাসা করল কোথায় আছে ও, প্রচণ্ড বৃষ্টি পড়ছে বাড়ির কাছে। আর জানালো রিয়া এখন অনেকটা ভালো আছে। ফোন রেখে সামনে তাকালো জয়দীপ; উইন্ডস্ক্রিনের ওপর অঝোরে জল পড়ছে, ওয়াইপার এদিক ওদিক করছে ফুল স্পিডে। পাশের দিকে তাকালো সে, জলে পুরো ভেজা দু-একটা লোক ফুটপাথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, এই বৃষ্টিতে ছাতা কোনও কাজেই লাগবে না। বেশ কয়েকজন আশ্রয় নিয়েছে দোকানের সামনে। গাড়ির চাকার ধাক্কায় রাস্তার জল ছোটখাটো ঢেউ-এর মত ধাক্কা মারছে ফুটপাথের পাথরে। কারেন্ট যায়নি এই বাঁচোয়া।ব্যাকপ্যাক থেকে নিজের জন্য ফোল্ডিং ছাতা আর ব্যাগের জন্য রেন কভার বার করল জয়দীপ; আর কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাড়ি ঢুকে যাবে সে। ক্যাবটা হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেল; ড্রাইভার চাবি ঘোরালো বার দুই, গাড়িটা ঝাঁকুনি দিয়ে সামান্য এগিয়ে ফের থেমে গেল। ড্রাইভার বিড়বিড় করে গাল দিচ্ছে বুঝতে পারল জয়দীপ। গিয়ার, ক্লাচ আর চাবি নিয়ে আরও কয়েকবার চেষ্টা করল ড্রাইভার, গাড়ি এগোল না। পিছন থেকে ড্রাইভাররা হর্ন দিতে আরম্ভ করেছে, তারপর জল জমা ট্রাফিকে ভরা রাস্তায় বেশ কষ্ট করেই গাড়ি ঘুরিয়ে এগিয়ে যেতে শুরু করল।“কী হয়েছে?” বিরক্তি আর উদ্বেগ নিয়ে জিজ্ঞাসা করল জয়দীপ। “ব্যাটারি গেছে স্যার,” উত্তর দিল ড্রাইভার, তার গলায় অসাহয়তা। “দেখে বেরোন না কেন? কী করব এখন?” বলল জয়দীপ। “সরি স্যার; এই বৃষ্টির মধ্যে কিছু করার নেই।”এসি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বদ্ধ গাড়ির মধ্যে গরম লাগতে শুরু করেছে জয়দীপের; বাইরের দিকে আবার তাকালো সে - ঘোলাটে জলের স্রোত বয়ে চলেছে রাস্তা দিয়ে। বাড়ির গলির মুখটা এখনও একটু দূরে; হেঁটে গেলে পাঁচ-ছয় মিনিটের মধ্যে বাড়ি পোঁছে যাওয়া যাবে। সহচরীর কথা একবার ভাবল সে… খুলে ফেলবে? নাহ, পায়ের কাটার জন্য সেটা ভালো হবে না; গাড়ির মধ্যে বসে থাকারও কোনও মানে নেই। রেন কভারটা ব্যাকপ্যাকে আটকে পিঠে নিয়ে নিল জয়দীপ, প্যান্টটা একটু গুটিয়ে নিল, ড্রাইভারকে টাকা দিয়ে বেরিয়ে এল বাইরে। কাদাগোলা ঠান্ডা জল জুতোয় ঢুকে এল সঙ্গে সঙ্গে, ছাতা খোলার আগেই মাথা, জামা আর প্যান্টের বেশ কিছুটা ভিজে গেল। ফুটপাথে উঠে গেলে জল একটু কমবে; নোংরায় আটকে থাকা গালিপিটের দিকে দ্রুত ধেয়ে যাওয়া জল এড়িয়ে ফুটপাথে উঠল সে। গলিটা এখনও প্রায় ২০০ মিটার দূরে, জোরে পা চালালো সে। বৃষ্টির জন্য ভালো দেখা যাচ্ছে না, তার ওপর জয়দীপের ছাতাটাও একটু বড়। ঠিক এই জায়গাটায় কোনও দোকান নেই; উল্টো দিক থেকে এক জন মহিলা আসছেন, তাঁকে জায়গা দেওয়ার জন্য একটু বাঁ দিকে সরে গেল জয়দীপ, আর তার পরেই বাঁ পা-টা জোর ধাক্কা খেল একটা জমে যাওয়া সিমেন্টের বস্তায়।দাঁত চিপে যন্ত্রণাটা সহ্য করল সে, দাঁড়িয়ে গেল মিনিট খানেকের জন্য। এবার তার একটা পায়ে ক্ষত আর অন্যটায় চোট, দুটোই সহচরীর ফিতেয় বাঁধা।হঠাতই জয়দীপের মনে হল পা-লোকের গলা শোনা যাচ্ছে… “জল আর কাদায় পুরনো লেদার বডি ভারি হয়ে গেছে, ও আর চলবে না।” সহচরীর দিক থেকে কোনও উত্তর এল না।দুই পায়েই সমস্যা নিয়ে চলতে অসুবিধে হচ্ছে জয়দীপের, ধীরে ধীরে এগোতে লাগলো সে, গলির মুখে এসে দেখে ভেতরটা অন্ধকার, রাস্তার আলোগুলো জ্বলেনি। এখান থেকে বাড়ি যেতে স্বাভাবিক দিনে দুই থেকে তিন মিনিট লাগে, তবে আজকের কথা আলাদা।মজুমদার বাবুর বাড়ি এসে গেল, বছর তিনেক আগে উনি মারা যাওয়ার পর থেকে বাড়িটা বন্ধ হয়েই পড়ে আছে। বাউণ্ডারি ওয়ালের নিচের একটা গর্ত দিয়ে ভলকে ভলকে জল বেড়িয়ে আসছে বাড়ির ভেতর থেকে, গলির এক পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে বড় রাস্তার দিকে।মজুমদার বাবুর বাড়িতে আলো জ্বলছে না বলে ওখানটা আরও বেশি অন্ধকার, বৃষ্টি পড়ছে আর তার ওপর রয়েছে বড় ছাতা। বন্ধ গ্রিল গেটের কাছটায় জঞ্জাল জমে ছিল, খেয়াল করেনি জয়দীপ, তার ওপর দিয়ে হাঁটতে যেতেই বাঁ পা-টা আটকে গেল। টেনে বার করতে গিয়ে লাভ হল না। বোঝা গেল জঞ্জালের নিচে কোনও কিছুতে পা আটকে গেছে। বেশ বিরক্ত হয়ে ফের হ্যাঁচকা টান দিল সে, এবার পা-টা একটু নড়ল; তৃতীয় টান আরও জোরে, এবার কাজ হল, পা খুলে এল।ব্যালান্স সামলে নিয়ে পায়ের দিকে তাকালো জয়দীপ। সহচরীর বাঁ দিকের সোল আর বডির মধ্যে আর যোগ নেই, সামনের দিকটা আলগা হয়ে ঝুলছে। বাঁ পা-টা ঝাড়া দিল জয়দীপ, টুটাফুটা জিনিসটা প্রবল ঝটকা খেল, তবুও পায়ে আটকেই রইল।“আর আই পি,” তারুণ্যে ভরা গলা শুনতে পেল সে।প্রায় অন্ধকার গলিতে একা দাঁড়িয়ে রইল জয়দীপ; ঠান্ডা জলের স্রোত বয়ে যাচ্ছে খোলা পা আর ছেঁড়া জুতোর ওপর দিয়ে, সহচরীর গায়ে লেগে থাকা ময়লায় যেন কিছুটা পরিস্কার হল। ডান পায়ের জুতোটা এখন কোনও কাজের নয়।একটু সরে এসে ছাতা সামলে এক হাঁটু গেড়ে বসল জয়দীপ; কষ্ট করে খুলে ফেলল বাঁ পায়ের জুতোর ভিজে যাওয়া ফিতে, পা থেকে ছাড়িয়ে ফেলল সেটা। তার পর ডান পায়েরটাও।জুতো জোড়া হাতে নিয়ে উঠে দাঁড়াল জয়দীপ, কয়েক পা এগিয়ে জলের স্রোতের ঠিক মাঝখানে বসিয়ে দিল সে দুটো। স্রোতের ধাক্কায় একটু একটু করে পিছিয়ে যেতে যেতে হঠাৎ ভলকে জল এল, এক পাটি পড়ে গেল পাশের দিকে। তারপর ধীরে ধীরে জলের টানে গলির অন্ধকারে হারিয়ে গেল সহচরী।  
    মধু বহ্নিময় না বহ্নি মধুময়: ধরতাই  - রানা সরকার | মধুময় আর চার পাঁচটা সাধারন ঘরের ছেলের মতোই বড় হয়েছে। সে ভালো সরোদ বাজাতে পারে। গ্রাজুয়েশন পাস করে প্রথমে ভেবেছিল যে দল বেঁধে ব্যবসা করবে। তা এখন যেহেতু শ্যাম্পু, সাবান, ক্রিম দেদার বিক্রি হয়, তাই তারা পলতেদার নেতৃত্বে শুরু করল ক্যারিবিয়ান ক্রিম আর পলিগ্যামি সাবান তৈরী করে বিক্রি করা। ক্যারিবিয়ান ক্রিমটির নাম দিল ডবল বিউটি ক্রিম। কেসটা কিছুই নয়, গঙ্গামাটি তুলে এনে তৈরি করা হবে ক্যারিবিয়ান ক্রিম আর স্কুলের কর্মশিক্ষায় শেখা পদ্ধতিতে তৈরি হবে পলিগ্যামি সাবান। ঠিক হল, একটা বিশেষ পরিমাণ সাবান আর ক্রিম কিনলে ফ্রি হিসেবে দেওয়া হবে ছাতা! কিন্তু সেসব বিক্রি করতে গিয়ে বিপত্তি হল। তারপর বাকি টাকা দিয়ে ঘি এর ব্যবসা শুরু করল ওরা। নাম দিল খাঁটি বাংলা ব্যাকরণ ঘি। কিন্তু সেখানেও বিপত্তি হওয়াতে ওরা অনাদিবাবুর কাছে এসে সাজেশন চাইল। অনাদিবাবুর আড্ডাখানাটি ছিল একটি পাঁচমিশালী লোকের পাঁচখেয়ালি আড্ডাখানা। নিজের রিটায়ারমেন্টের পর অনাদিবাবু এই আড্ডাখানাটি তৈরি করেছিলেন। সব শুনে অনাদিবাবু বললেন যে তাদের দ্বারা কিছুই হবে না। তাই তাদের বিয়ে করে ফেলাই সমীচীন। এখন, মেয়েরা কত প্রকারের হয় সেই নিয়ে আড্ডাখানায় বিস্তর আলোচনা হল। এদিকে ব্যবসায় গণেশ উল্টে আর এইসব নানা প্রকারের মেয়েদের কথা শুনে মধুময় ভাবতে বসলো, তাহলে কি বহ্নির সঙ্গে তার প্রেম ও বিবাহ হবে না? ওদিকে বহ্নির বাবা, চারুবাবু, আবার জিভেগজা পার্টির একজন দোর্দণ্ডপ্রতাপ জোনাল সেক্রেটারি। তার সঙ্গে আছে প্রায় কুড়ি বছরের পুরনো খাস চাকর সারদাপ্রসাদ। সারদাপ্রসাদ অবশ্য কানে কম শুনতে পায় আর এই নিয়েও বিপত্তি কিছু কম হয়নি। কিন্তু মধুর প্রতি তার মেয়ের দুর্বলতার কথা জানবার পর চারুবাবু গোপনে মেয়েকে অন্যত্র পাঠিয়ে দিলেন। এমতাবস্থায়, আদৌ কি মধু বহ্নির খোঁজ পাবে? যদি পায়, কিভাবে পাবে? নাকি চারুবাবু অন্যত্র তার মেয়েকে বিয়ে দিতে সক্ষম হবেন? নাকি, অনাদিবাবুরা মিলে মধু আর বহ্নির চার হাত এক করতে সক্ষম হবে? এটি একটি রোম্যান্টিক কমেডি ধর্মী উপন্যাসিকা। আর এই ছোট্ট ঘটনাটি শুনেছিলাম একটি আড্ডাখানায়। তবে সেটা অনাদিবাবুর সেই আড্ডাখানা কিন্তু নয়।  
  • জনতার খেরোর খাতা...
    বিক্ষোভের মহাপয়ার (কাব্যগ্রন্থ)  - SANKAR HALDER | বিক্ষোভের মহাপয়ার (কাব্যগ্রন্থ) লেখক : শংকর হালদার শৈলবালা  পান্ডুলিপি রচনাকাল : ২৪ জুন, ২০২৪পান্ডুলিপি সংশোধন : ২ মে ২০২৬  সূচিপত্র  ১. ভাঙা হাতুড়ির গান২. শ্রমিকের রক্ত৩. খাঁচায় বন্দি মেধা৪. মেধার শৃঙ্খলমুক্তির৫. তোষামোদের প্রাসাদ৬. স্তুতির দুর্গ৭. প্রতিবাদের বজ্রস্বর৮. শৃঙ্খল ভাঙ্গার গান৯. শ্রমিকের বজ্রনির্ঘোষ১০. মজুরের রাজপথ১১. জ্ঞানপীঠের আর্তনাদ১২. জ্ঞানের অবমাননা১৩. মেধার নির্বাসন১৪. মেধার জাগরণ১৫. সিন্ডিকেটের থাবা১৬. কালোবাজারির অবসান১৭. কান্নার খামার১৮. চাষীর অধিকার১৯. সাম্যের মহামুক্তি২০. বিপ্লবী ইশতেহার২১. মেধার হাহাকার২২. দুর্নীতির পাঠশালা২৩. মুক্তির মহালগ্ন২৪. ছাত্রের রুদ্রস্বর২৫. অবরুদ্ধ ব্যালট২৬. ভোটারের দায়২৭. মেরুদণ্ডহীনতা২৮. আইনের ফাঁসি২৯. ক্ষুধার বাস্তবতা৩০. ক্ষুধার গ্রাস৩১. বসবাসের অযোগ্য ধরণী৩২. ধর্মের হাটে লুটেরা৩৩. পাথরের বিগ্রহ নিরাপত্তায় কোটি টাকা৩৪. ক্ষমতার দর্প৩৫. তিমির বিদারি আলো৩৬. মানবধর্মের জয়গান৩৭. সময় বড় কৃপণ৩৮. সুবিধাবাদীর মুখোশ৩৯. সাহিত্যের সিন্ডিকেট৪০. উন্নয়নের বুলডোজার৪১. নিরাপত্তার প্রহসন৪২. ভণ্ডামির মুখোশ৪৩. দম্ভের শ্বাসরুদ্ধ৪৪. নোটবন্দির ক্রন্দন৪৫. থালায় শূন্যতা৪৬. মিড-ডে মিলের বিষ৪৭. বিদ্রোহের নবজাগরণ৪৮. ক্ষমতার আড়ালে অভিশাপ৪৯. বঙ্গে লুন্ঠিত শাসক : পতনের শঙ্খধ্বনি৫০. শ্বাসরোধী বিষ ৫১. বঙ্গ রাজ্যে পরিবর্তনের পদধ্বনি৫২. জাতপাতের বিষবাষ্প ও জনতার রোষ৫৩. দ্বান্দ্বিক প্রগতি৫৪. জাতির লজ্জা৫৫. শৃঙ্খল ও চাতুরী৫৬. নতুন নীতির প্রহসন ৫৭. ক্ষুধার্তের ধর্ম৫৮. সাহিত্যের-বাজারে প্রহসন৫৯. মুর্শিদাবাদের আর্তনাদ৬০. চোরে-চোরে মাসতুতো ভাই৬১. পহেলগাঁওয়ের রক্তরাগ৬২. পৃথিবীময় ক্ষুধার রাজ্য৬৩. রবীন্দ্র-চেতনার অপমান৬৪. উন্নয়নের মুখোশ৬৫. দেশের পাশে দাঁড়াই৬৬. শেকল ভাঙার সুর৬৭. জয়ী মানব৬৮. বিদ্রোহী সাক্ষী৬৯. মানবতার আর্তনাদ ৭০. নিরব কেন জনগণ?৭১. উৎসবের নামে তাণ্ডব : নিরব কেন আইন?৭২. বিপ্লবী জাগরণ৭৩. মন্দিরের মুখোশ : সত্যের আড়ালে মিথ্যা৭৪. বিদ্রোহী মন৭৫. প্রতিবাদী হুংকার৭৬. প্রযুক্তির অপচ্ছায়া৭৭. ক্ষমতার ভণ্ডামি৭৮. হুলের হাহাকার৭৯. সৃষ্টির আদি লগ্ন৮০. ধর্ষকের চিতা৮১. আশ্রমের অন্ধকারে৮২. ধর্মের মুখোশ৮৩. ধর্মের বিকৃতি৮৪. শোষণের আশ্রমে কান্না৮৫. ভাষার অধিকার৮৬. রক্তাক্ত আর্তনাদ৮৭. শব্দের তাণ্ডব৮৮. প্রকৃতির আর্তনাদ ৮৯. বাংলা মায়ের কোলে৯০. বিক্ষুব্ধ প্রতিবেদন৯১. জনরোষের মহাকাব্য৯২. শিক্ষার আলো-ঘুষের ছায়া৯৩. ঘুষের ছায়ায় জ্ঞানের বেড়াজাল৯৪. লক্ষ্মী ভাতা-সামাজিক সমস্যা৯৫. অধিকারের সমীকরণ৯৬. লঙ্কা যাত্রার দণ্ড ৯৭. দুর্নীতির ছায়ায় দেশ৯৮. টাকার দাসত্ত্বে জর্জরিত৯৯. কাকের চেয়ে কবি বেশি ১০০. ধর্মের নামে রক্তাক্ত রণক্ষেত্র ১০১. কুরুক্ষেত্রের দ্বন্দ্ব-ধর্মের দ্বিধা  ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~   ১ নম্বর কবিতা :  ভাঙা হাতুড়ির গান লেখক : শংকর হালদার শৈলবালারচনাকাল : ২৩ জুন, ২০২৩ ক্লান্ত দিনের তপ্ত শ্রমে—পুড়ছে যে দিনরাত,শ্রমিক ভাইয়ের রক্তে ভেজে—অন্নের চটি পাত।লৌহচাকার ক্রূর আঘাতে—পিষ্ট মনের আশ,পুঁজিপতির অট্টালিকায়—শ্রমিকের দীর্ঘশ্বাস। হাড়ভাঙা সেই খাটুনি দিয়ে—গড়ল যারা দেশ,তাদের ঘরেই জুটল আজি—চরম দৈন্যবেশ।লুণ্ঠনকারী ধনকুবেরের—দম্ভ বাড়ে রোজ,প্রান্তিক এই মানুষের কেউ—নেয় না কভু খোঁজ। শ্রমের অস্ত্র আঘাত হানবে—জালিমের ওই দ্বারে,নিপীড়িত এই বজ্রকুঠার—জাগবে অন্ধকারে।সাম্যের ঐ দীপ্ত ছন্দে—তীব্র দ্রোহের গান,শোষিত জনার অধিকার আজ—আনবে সমাধান। নিপীড়িত এই সর্বহারাদের—মিলবে মহাসড়ক,স্বৈরাচারের তখত ভাঙিয়া—আসবে নতুন লোক।রক্তে রাঙানো বিপ্লব শেষে—ফুটবে নতুন ভোর,মুক্তির এই মহাশপথে—ভাঙবে আঁধার ঘোর। লোহার হাতল অস্ত্র হবে রে—মেহনতির এই হাতে,অন্যায়ের ওই পাষাণ প্রাচীর—ভাঙব একদা রাতে।ঘাম ঝরানো এই হাতুড়িতে—নতুন সমাজ গড়ি,শোষকদের ওই জুলুমের শৃঙ্খল—ভেঙে মোরা আজ লড়ি। অধিকার মোরা ছিনিয়ে নেব রে—রক্তের মশাল জ্বেলে,সোনার বাংলায় সমতা আসুক—মুক্তির ডানা মেলে।ভেঙে চুরমার করিব আজকে—ধনিকের দম্ভভার,বিক্ষোভেরই তীব্র আঘাতে—খুলিব আলোর দ্বার।  ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~ ২ নম্বর কবিতা :  শ্রমিকের রক্ত লেখক : শংকর হালদার শৈলবালারচনাকাল : ১ মে, ২০২২ মজুরের ওই রক্তে ভিজেছে—কলকারখানা ঘর,শ্রমিকের খাঁটি ঘামেতে গড়েছ—ধনীর এই নগর।ন্যায্য পাওনা মাগিলে মিলছে—চাবুক আর লাঠি,বঞ্চনা আর কান্নায় সিক্ত—নিখিল বক্ষ-পাটি। মহাজনী ঐ সিন্দুকে জমে—শোষণের কালো ধন,অনাহারে মরে কারখানাতে—জ্যান্ত শ্রমিক জন।লেখনীর তীব্র অগ্নিবাণে—ভাঙব সুখের রাত,শ্রমিক-জনতা এক হয়ে আজ—মেলাবে মুক্তির হাত। ঘাম ঝরে যার অহোরাত্র—রোদে পুড়ে যায় কায়,তারাই সহে রে জঠরজ্বালা—ভাগ্যের একুল-ওকূল না পায়।ঐশ্বর্যের প্রাসাদ জাগে—যাদের বাহুর জোরে,তাদের কপালে জোটে না অন্ন—নিশীথ আঁধার ঘোরে। প্রাণের মূল্যে কিনেছ তোমরা—দরিদ্র মানুষের বল,পীড়নকারীর দম্ভ নাশিতে—নামিছে আঁখির জল।কলমের মুখে আগুন জ্বলবে—প্রতিবাদেরই সুরে,অনাচারের ঐ পাষাণ স্তম্ভ—ভেঙে দেব চুরেচুরে। নিপীড়িত এই সর্বহারাদের—বুকে জাগে আজ ক্ষোভ,লুটেরা দলের ভাঙিব এবার—পাপের বিপুল লোভ।রুদ্র ছন্দের শাণিত ঘাতে—তুফান আনিব দ্বারে,ন্যায্য দাবি তো বুঝিয়া লইব—নিশীথ অন্ধকারে। শ্রমিকের লাল রুধিরে জাগুক—প্রগতির নবীন আলো,মুক্তির ছটায় হেসে উঠুক—দেশের আকাশ ভালো।স্বাধীন সমতা গাইবে জনতা—শৃঙ্খল করে শেষ,বজ্রকণ্ঠের চরম আঘাতে—মুক্ত হোক স্বদেশ। ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~  ৩ নম্বর কবিতা :  খাঁচায় বন্দি মেধা লেখক : শংকর হালদার শৈলবালারচনাকাল : ২৬ মে, ২০১৮ কাঁচের মহলে বন্দি আজিকে—মধ্যবিত্ত প্রাণ,ফাইল চাপা সে দীর্ঘশ্বাসে—মেধার অবসান।কর্পোরেটের নিষ্ঠুর জালে—সস্তা শ্রমের দাম,দিনশেষে শুধু ক্লান্তি বিলায়—অক্ষর-পেষা ঘাম। মাসকাবারের সস্তা চাকুরিতে—মাপা জীবনের দিন,সীমাবদ্ধ জীবনের নিত্য লড়াই—নিত্য বাড়ছে ঋণ।শৃঙ্খলে আজ আটকে পড়েছে—মুক্ত চিত্ত ডানা,উচ্চকণ্ঠে নিজের দাবি যে—এখানে বলা মানা। টাইয়ের বাঁধনে শৃঙ্খল বাড়ে—ঘড়ির কাঁটার সাথে,অসহায় সেই প্রজ্ঞার স্বপ্ন—কেঁদে মরে প্রতি রাতে।প্রগতির এই দীপ্ত আলোতে—টুটিবে বন্দি ঘর,মেধার নতুন জাগরণে আজ—উঠিবে তীব্র স্বর। ডিগ্রির ঝুলি সঁপে দিয়ে আজ—শোষকের রাঙা পায়,প্রতিভার আলো নিভে যায় দেখ—অন্ধকার খাঁচায়।উচ্চাশা যত শোষিত হচ্ছে—কর্পোরেটের ছকে,ক্ষোভের আগুন ধিকিধিকি জ্বলে—শিক্ষিত যুব বুকে। ক্রূর নিয়মের নিঠুর বাঁধন—উড়াব আমরা দূরে,জ্ঞানের জোয়ার আনিব এবার—আঁধার সীমানা চুরে।দাসত্বের এই সুচারু শিকল—সহিব না আর মোরা,স্বাধিকার টানে ছিঁড়ে ফেলে দেব—তঞ্চকতার তোড়া। বজ্রকণ্ঠের নতুন মন্ত্রে—জাগুক প্রজ্ঞালোক,মুক্ত চিন্তার শাণিত বয়ানে—ঘুচুক মনের শোক।সোনার বাংলায় মেধার বিকাশ—ঘটো রে স্বাধীন বেশে,সাম্যের গান ছড়ায়ে পড়ুক—আমাদের এই দেশে। ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~ ৪ নম্বর কবিতা :  মেধার শৃঙ্খলমুক্তি লেখক : শংকর হালদার শৈলবালারচনাকাল : ২৭ জুন, ২০১৮ গণকযন্ত্রের পর্দায় বন্দি—নীল ওই আকাশ,লক্ষ্য ও সীমার কঠিন চাপে—গুমরে মরে শ্বাস।উচ্চশিক্ষার তিলক পরিয়া—দাসত্বের হাটে,ক্লান্ত মেধার রক্ত-মাংস—ধনিকের ঘরে কাটে। প্রজ্ঞার তীব্র হুঙ্কারে আজি—কাঁপুক দস্যুদল,শিকল ছিঁড়িয়া প্রাজ্ঞ সমাজ—জাগাবে আত্মবল।লেখনীর ধারালো ফলকে ফুটবে—নতুন এক দিন,স্বাধীন চিন্তার আকাশে আজিকে—ঘুচিবে মনের ঋণ। শীতল কক্ষের কৃত্রিম হাওয়া—জুড়ায় না তো প্রাণ,কাঁচের ঘরের বদ্ধ খাঁচায়—প্রতিভার অবসান।নিয়ম-বাঁধা ঐ জাঁতাকলেতে—পিষ্ট যৌবন,বিক্রি হচ্ছে মেধার কণা—কিনিছে মহাজন। ছুটির দিনেও যান্ত্রিক বার্তা—তাড়া করে যায় রোজ,বিরামহীন এই দাসখতে কেউ—নেয় না সুখের খোঁজ।ডিজিটাল এই শৃঙ্খলে আজ—আটকে মনের ডানা,নিজের স্বাধীন চিন্তা প্রকাশ—এখানে যে ভাই মানা। বিক্ষোভেরই আগুন জ্বলবে—আজিকে মনের ঘরে,দাসত্বের এই নিপুণ ছক—ভেঙে দেব জোরে।কলম মোদের শাণিত খড়্গ—কাঁপুক তঞ্চক দল,শোষিত মেধার বজ্রনাদে—টুটিবে ছলের বল। বিদ্রোহেরই নতুন কাব্যে—জাগুক মুক্ত মন,তিমির নাশিতে মেধার শক্তিতে—করিব অন্বেষণ।মেধার বিকাশ ঘটুক আজকে—নবীন আলোর দেশে,সাম্যের গান ছড়ায়ে পড়ুক—বাংলার মুক্ত বেশে। ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~   ৫ নম্বর কবিতা :  তোষামোদের প্রাসাদ লেখক : শংকর হালদার শৈলবালারচনাকাল : ২৮ জুন, ২০২৩ অন্ধ মহলে ক্ষমতার দম্ভ—বাড়ে যে রে দিনরাত,চাটুকারদের ভিড়েতে আজিকে—বিপন্ন এই পাত।সততা যেখানে নিভৃত কোণেতে—কাটায় মলিন দিন,অন্যায়কারী সগর্বে ফেরে—বিবেক যে মূল্যহীন। মিথ্যা স্তুতিতে ভরছে থালা যে—মেকি সভার মাঝে,জ্ঞানী ও গুণীরা লজ্জিত অতি—সমাজের এই কাজে।ন্যায়ের শাসন আড়ালে কাঁদে যে—রুদ্ধ আদালত দ্বারে,লুণ্ঠনকারী উৎসব করে—কলঙ্কিত এই চরে। প্রতিবাদেরই তীক্ষ্ণ বয়ানে—জাগিবে রুদ্রনাদ,ভাঙবে এবার ক্ষমতার ওই—তোষামোদের প্রাসাদ।লেখনীর টানে চূর্ণ হবে যে—তঞ্চকতার সাজ,শোষিত জনার জয়ধ্বনি আজ—আনিবে নতুন কাজ। যোগ্যতা যেখানে লাঞ্ছিত হয়—স্তাবকদের ঐ ঘরে,মিথ্যার বেসাতি জাঁকিয়ে বসেছে—আজকে সভার পরে।জ্ঞানের প্রদীপ নিভে যায় ওরে—প্রভুর হুঙ্কারে,পদলেহনকারী সোনার মুকুট—পায় যে রে বারেবারে। সত্যের আলো ঢাকিতে পারিবে—না রে ওই কালো হাত,লেখনীর চোটে শেষ করে দেব—প্রবঞ্চনার এই রাত।শোষকের গদি টালমাটাল হবে—জনতার তীব্র রোষে,অনাচার যত মাটিতে মিশিবে—পাপিষ্ঠদের দোষে। মিথ্যা স্তাবক পরাভূত হোক—আজকে সভার মাঝে,লেখনীর ঘাতে ভাঙিব ওরে—শোষকের মেকি তাজ।সততার আলো ছড়ায়ে পড়ুক—বিচারালয় মাঝে,নতুন সমাজ জাগিবে আবার—শুদ্ধির শুভ কাজে।  ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~৬ নম্বর কবিতা :  স্তুতির দুর্গ লেখক : শংকর হালদার শৈলবালারচনাকাল : ২৮ জুন, ২০২৩ বিবেক বেচিয়া যাহারা আজিকে—গড়ে সুখের আলয়,স্তুতির জোয়ারে ভাসিয়া চলেছে—শাসকের মহালয়।যোগ্য জনা নিভৃতে কাঁদে এই—যোগ্যতাহীন ভবে,ভণ্ড চোরের জয়গান আজি—চলিছে মহোৎসবে। বজ্রকণ্ঠের তীব্র আঘাতে—কাঁপুক পাপের দেশ,স্তাবকতার এই দুর্গে এবার—আনিব চরম শেষ।লেখনীর তীক্ষ্ণ শরের ঘাতে—চূর্ণ হবে প্রাসাদ,ন্যায়ের আলোতে ঘুচিবে এবার—শোষণের অবসাদ। জ্ঞানের প্রদীপ নিভিয়া গিয়েছে—তীব্র তিমির ঘোরে,মিথ্যার ধ্বজা উড়িয়া চলেছে—পাপিষ্ঠদের স্তরে।চাটুকারদল মেকি তিলকে—মাথায় পরিয়া সাজ,সৎ মানুষেরা মনের বেদনা—লুকায় নিভৃতে আজ। ক্ষমতার লোভে বিবেক বেচেছে—জ্ঞানী ও গুণী দল,শোষকের পায়ে সঁপেছে তাহারা—নিজেদের করতল।অধিকারহারা আর্ত মানুষের—কেউ যে নেয় না খোঁজ,ভণ্ডামির এই সাম্রাজ্যেতে—অধর্ম বাড়ে রোজ। লেখনীর এই রুদ্র টানেতে—স্তব্ধ করিব গান,অন্যায়কারী চাটুকারদের—করিব যে অবসান।বিদ্রোহী রোষে হুঙ্কার দেবে—শোষিত শ্রমিক জন,মিথ্যা স্তুতির ভিত কাঁপাবে—জনতার গর্জন। তোষামোদপ্রিয় ওই ভণ্ডদের—ঘুচাব আজকে বেশ,বিক্ষোভেরই এই মহাপয়ারে—মুক্ত করিব দেশ।বিবেকী মানুষ জাগিবে আবার—মুছিয়া চোখের জল,শুদ্ধ সমাজ গড়িব আমরা—পায়ে প্রজ্ঞার বল।~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~ ৭ নম্বর কবিতা :  প্রতিবাদের বজ্রস্বর লেখক : শংকর হালদার শৈলবালারচনাকাল : ২৯ জুন, ২০২৩ কলুষিত এই অন্ধ সমাজ—চলিছে উল্টো পথে,ন্যায় ও সত্য বন্দি আজিকে—দানবীয় ক্রূর রথে।চারিদিকে শুধু স্বার্থের মেলা—শোষণের জয়গান,বঞ্চিত জন নীরবে সহিছে—ওষ্ঠাগত রে প্রাণ। অর্থের জোরে বিবেক বিকায়—একদল নরাধম,অসহায় মুখ নীরবে দেখে যে—ঘোর অত্যাচার সম।পদলেহনের ভিড়ে ঢাকা পড়ে—প্রতিভার শুদ্ধ আলো,শাসকের ত্রাসে মৌন পৃথিবী—গ্রাসিল গভীর কালো। ভণ্ডামি আর মিথ্যার জালে—সত্য ধুঁকে যে মরে,অধিকার পেতে সাধারণ লোক—লড়ে আজ নিজের ঘরে।স্তব্ধ করিবে সাধ্য কার আজ—জনতার এই সুর,কলমের ধারে ভাঙিবে এবার—আঁধার সুকঠিন ক্রূর। জেগে ওঠো আজ হে মহাশক্তি—শৃঙ্খল করো চুর,বজ্রের রোষে তাড়াতে হইবে—ভণ্ড কংস অসুর।প্রাণের মূল্যে কিনিব আমরা—শাশ্বত এক দিন,লড়াইয়ের মাঠে ভাঙিয়া ফেলিব—শোষকের মেকি ঋণ। পাপের কলস পূর্ণ হয়েছে—শোষকের এই পুরে,বিপ্লবী গান বাজিবে এবার—জনতার অন্তরে।ভয় দেখাইয়া शासन করিবে—কার সাধ্য কি আছে আর,বজ্রের নাদে ভাঙিয়া পড়িবে—অন্যায়ের এই দ্বার। শ্রমিক-কৃষক এক হয়ে আজ—ধরিবে মশাল হাতে,স্বার্থান্বেষী লুণ্ঠনকারী—কাঁপুক তীব্র পাতে।মুক্তির রথে চলিবে জনতা—ভাঙিয়া লোহার খাঁচা,মুক্ত বাতাসে শিখিব আমরা—আজকে স্বাধীন বাঁচা। ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~৮ নম্বর কবিতা :  শৃঙ্খল ভাঙার গানলেখক : শংকর হালদার শৈলবালারচনাকাল : ২৯ জুন, ২০২৩ কারা-প্রাচীরেতে সত্য ও ন্যায়—আজকে অবরুদ্ধ,কলুষিত এই আঁধার বিনাশে—ঘোষণা করো যুদ্ধ।লেখনীর তীব্র অগ্নিশিখায়—ছিঁড়িব মোহের জাল,জনতার এই সম্মিলিত রবে—জাগিবে ভাগ্যকাল। নিপীড়িত এই মানুষের দল—জাগিবে লড়াকু বেশে,অনাচারের ঐ কঠিন কেল্লা—মুছিবে আপন দেশে।অধিকারহারা আর্তনাদের—ঘটিবে অবসান,লড়াইয়ের মাঠে শোষিত কৃষক—গাহিবে জয়ের গান। সোনার খনিকে লুটে নিয়ে যায়—ধূর্ত ধনিক দল,প্রান্তিক জনা পায় না তো আর—ধরণীর সুশীতল।বুকের রক্ত ঢালিল যাহারা—মাটির মমতা লাগি,তারাই আজকে অনাহারে মরে—নিশিদিন শুধু জাগি। আর কতকাল সহিবে রে মন—এ হেন ঘোর গ্লানি,প্রতিবাদেরই মশাল জ্বালিতে—হৃদয়ে সাহস টানি।লেখনীর মুখে বজ্র নামিবে—কাঁপুক দস্যুদল,ভয়ার্ত এই তিমির চিরে—জাগুক মনের বল। সিংহাসনের লোভী দানবের—ভাঙিব মেকি দম্ভ,জনতার এই মিলিত শক্তিতে—কাঁপিবে শাসন-স্তম্ভ।শিকল কাটার গান গেয়ে মোরা—ছুটিব মহাসড়কে,মুক্তির আলো ছড়ায়ে পড়িবে—প্রতিটি ক্ষুব্ধ চোখে। ভেঙে চুরমার করিব আজিকে—পীড়নের কারাগার,বিপ্লবের এই মহাজোয়ারে—ভাঙিব রুদ্ধ দ্বার।সাম্যের পথে চলিবে এবার—দুর্দান্ত যৌবন,প্রগতির তেজে মানুষের দেশ—জুড়াক সবার মন। ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~ ৯ নম্বর কবিতা :  শ্রমিকের বজ্রনির্ঘোষলেখক : শংকর হালদার শৈলবালারচনাকাল : ৩০ জুন, ২০২৩ ক্লান্তিহীন যে চাষী জোগায়—অন্ন সবার মুখে,নিশুতি রাতে সেই তো ভোগে—অসীম জঠর দুখে।কারখানার ওই কুলি মজুর—তিমির ঘোরে বাঁচে,ধনকুবেরের দল নেচে যায়—শোষণের এই নাচে। আঘাত হানো কুটির মাঝে—ভাঙো তোমরা ভিটে,রিক্ত জনের কেড়েছ সুখ—জুলুমবাজির ইটে।দানবীয় ওই যন্ত্রের আগে—সঁপিয়াছি এই বুক,শক্তি কত আছে রে তোদের—দেখাবো মোরা মুখ। পূর্বপুরুষ সঁপেছে প্রাণ—এই মাটিরই তরে,জননী সম স্বদেশ রাখিব—মুক্ত নিজের ঘরে।স্বার্থান্বেষী বণিক যদি—বিকাতে চায় ভূমি,বিপ্লবেরই অনল জ্বালিব—শুদ্ধ চিত্তে চুমি। প্রতিবন্ধক আসিলে পরে—বাজিবে রণভেরী,ভীতিহীন এই লড়াকু সেনা—করিবে না আর দেরি।পীড়নেরই শৃঙ্খল যত—কঠিন হতে চাবে,প্রতিরোধের স্পৃহা আমাদের—দ্বিগুণ বেড়ে যাবে। ন্যায্য দাবি যাচ্ঞা নয় রে—লইব নিজের জোরে,কৃষক মজুর এক হয়ে আজ—নামিব রাজপুরে।প্রাণের অর্ঘ্যে লভেছি যেথা—পুণ্য মাতৃভূমি,তাহার তরে ঢালিব রক্ত—আমরা সর্বগামী। লাঙল ও কোদাল শাণিত হবে—মেহনতির এই স্তরে,মজুরি কাটার জবাব দেব রে—শ্রমিক পাড়ার ঘরে।শৃঙ্খল ছিঁড়ে বর্গাদারের—জাগিবে আত্মবল,সোনার ফসলে ভরিব এবার—নদীয়ার সমতল। ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~ ১০ নম্বর কবিতা :  মজুরের রাজপথ লেখক : শংকর হালদার শৈলবালারচনাকাল : ৩০ জুন, ২০২৩ চাষী ও মজুর জনার অন্ন—কেড়েছে যারা আজ,জনতার তীব্র আঘাতে ঘুচবে—পীড়নকারীর কাজ।স্বাধিকার কভু ভিক্ষা নয় রে—লইব সমরে টানি,শৃঙ্খল টুটে কৃষক জনতা—শুনাবে কঠিন বাণী। কারখানার ওই চাকা স্তব্ধ—করিব মোদের রোষে,লুটেরা দল যে কাঁপিতে থাকিবে—অন্যায় কর-ঘোষে।হাড়ভাঙা খাটুনির দাম দিতে—যাহারা করে রে ছল,তাদের কেল্লা ভাঙিতে ছুটিবে—মেহনতি জনদল। পায়ের তলার মাটি কেড়ে নেয়—যে সব জোতদার,তাদের শাসন মানিব না আর—ঘুচাব অন্ধকার।ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে চলিব—দীপ্ত প্রজ্ঞালোক,জনতার এই প্লাবনে ভাসিবে—শোষকের দম্ভ-শোক। ঘনের ঘায়ে ভাঙিব আজকে—শোষণের পাষাণ-ভিত,অধিকার বুঝে না নিয়ে আমরা—গাহিব না জয়গীত।ঘাম ঝরা দিন এনেছে এবার—বিপ্লবী সংগ্রাম,ইতিহাসে লেখা থাকিবে রে আজ—বঞ্চিতদের নাম। গদিয়ান দল লুকাবে আজিকে—জনতার হুঙ্কারে,ঐশ্বর্যের প্রাসাদ টুটিবে—নিশীথ ঘোর তিমিরে।সাম্যের গান গাহিবে এবার—পথের ধুলার লোক,বঞ্চনা আর কান্নায় ভেজা—জুড়াবে সবার চোখ। সিংহাসনের ভিত নড়ে যায়—মজুরের এই পায়ে,লড়াইয়ের মাঠ লাল হয়ে ওঠে—বিপ্লবী মহোছায়ে।বিজয় কেতন উড়িবে এবার—মুক্তির রাজপথে,সাম্যের দিন আসিবে রে ভাই—জনতার জয়রথে। ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
    রাউলাট - সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় | "৩৪ বছরের সিপিএম হার্মাদ আর ১৫ বছরের তৃণমূলী গুন্ডা। এদের জব্দ করার জন্য এই আইনের খুব প্রয়োজন ছিল।"-- বলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, গুন্ডাদমন আইন প্রসঙ্গে।প্রসঙ্গত, প্রায় একই রকম চরিত্রের সুবিখ্যাত রাউলাট আইনের পক্ষে পাঞ্জাবের লেফটেনান্ট গভর্নর ও'ডায়ার বলেছিলেন, "গদর চক্রান্তের রাক্ষসের মতো অনেকগুলো মুখ। যদিও আমরা রুখে দিয়েছি, কিন্তু বিপ্লবী নৈরাজ্যের বীজ মানুষের মনে গভীরভাবে গেঁথে রয়েছে। আর যারা কোনো দেশের আইনকেই তোয়াক্কা করে না, সাধারণ আইন দিয়ে তাদের কাবু করা অসম্ভব।"এর কিছুদিনের মধ্যেই এই ও'ডায়ারের রাজত্বকালেই জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ড ঘটে। আরও কিছুদিন পরে তদন্ত কমিশন বসে। তারা কার্যত ডায়ারকে অবসর নিতে বাধ্য করে। তিনি ইংল্যান্ড ফিরে যান। উধম সিং নামের এক পাঞ্জাবী আরও পরে ডায়ারকে হত্যা করেন। এই অপরাধে ১৯৪০ সালে উধম সিং এর ফাঁসি হয়। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। সুভাষ চন্দ্র বসু তাঁর অন্তিম যাত্রায় রওনা হতে চলেছেন। কংগ্রেস ভারত-ছাড়ো আন্দোলনের ডাক দেবে এর কিছুদিন পরে। আর হিন্দু মহাসভা সর্বশক্তি দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বৃটিশকে সাহায্য করার পক্ষে দাঁড়াবে।রাউলাট আইনের পর সারা দেশ উত্তাল হয়েছিল। জনপ্রিয় স্লোগান ছিলঃ "নো দলিল, নো অকিল, নো আপিল"। গান্ধি এবং জিন্না অর্থাৎ সেকু এবং মোল্লারা একযোগে প্রতিবাদে নেমেছিলেন। গান্ধি দেশব্যাপী হরতাল আর সত্যাগ্রহের ডাক দেন। আর জিন্না ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিল থেকে পদত্যাগ করেন। ভাইসরয়কে লেখা তাঁর পদত্যাগপত্রে জিন্না লিখেছিলেনঃ ​​​​​​​"যে সরকার শান্তির সময়েও এই ধরনের আইন পাস বা অনুমোদন করে, তারা নিজেদের একটি সভ্য সরকার হিসেবে দাবি করার অধিকার হারিয়ে ফেলে।"পরবর্তীকালে এই সেকু, মানে সুভাষ-গান্ধিকে দেশদ্রোহী বলতেও কসুর করেননি হিন্দুবীররা। ওঁরাও এইসব আক্রমণের তোয়াক্কা করতেন না। সেইজন্যই একজন মহাত্মা, একজন দেশনায়ক নেতাজি। আর অন্য একজনকে পাম্প দিয়ে ফুলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের জনক বানাতে হয় পশ্চিমবঙ্গ জন্মানোর ৮০ বছর পরে। এখন অবশ্য প্রতিবাদের জোরও অনেক কম। সেকু-মাকুরাও ভোটের অঙ্ক কষেন, কোথায় ক-ইঞ্চি লাভ, ক-ইঞ্চি ক্ষতি। ডিম্মিডিয়া দেখে জনমতের হিসেব করেন। এসব করে লাভ অবশ্য হয় ঘন্টা। সত্যি সত্যিই এই বাজারে সত্যি সত্যিই চওড়া বুকের সুভাষ বোসের অন্তত চার-আনা মাপের কোনো রাজনৈতিক নেতাকে দরকার ছিল। লাহেক আলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই নিয়ে সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য শুনলাম। স্পষ্ট করে বলেছেন, যে, হিংসার ঘটনা ঘটার পরে লাহেক ওখানে পৌঁছেছিলেন। এবং পুলিশের সঙ্গে মূলত সহযোগিতা করছিলেন। তারপরেও তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।এটা কিন্তু প্রথম না। এর চিহ্ন বহু আগেই দেখা গিয়েছিল। এই তো মাস তিনেক আগের কথা। ১লা এপ্রিল মালদার সুজাপুর আর কালিয়াচকে এসআইআর বিরোধী বিক্ষোভ চলছিল। রাজ্যে তখন নির্বাচন কমিশনের রাজত্ব। গাড়ির মাথায় উঠে বক্তৃতা করছিলেন এক আইনজীবী। তিনিও, শোনা গিয়েছিল পুলিশের সঙ্গে মধ্যস্থতা করছিলেন। তাঁর নাম মোফাক্কেরুল ইসলাম। দুদিন পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বাগডোগরায়। ডিম্মিডিয়া দাবী করে, তিনি পালাচ্ছিলেন। অজস্র রোমহর্ষক গপ্পো লেখা হয়েছিল সে সময়। তারপর থেকে তিনি এনআইএর খপ্পরে। এখনও ছাড়া পেয়েছেন বলে শুনিনি। একটা লোক গাড়ির মাথায় উঠে বক্তৃতা দিয়ে কী দোষ করেছিল, তাও জানা যায়নি।তারপরেই গ্রেপ্তার হন ইনসাফ বাংলার বাগানি। তারপর গর্গ। কতগুলো যে গ্রেপ্তার হল, আর হিসেব রাখিনা। সমস্যা হল, যাঁরা গ্রেপ্তার হচ্ছিলেন, সবাই ছিলেন ইন্ডিভিজুয়াল। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না। ফলে হইচই কিস্যু হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলো করার প্রয়োজন মনে করেনি। কেন করেনি, আমার কাছে রহস্য। প্রথমে ওরা এসেছিল ওমুককে মারতে, তখন আমি কিছু বলিনি, তারপর যখন আমাকে মারতে এল, তখন বলার কেউ ছিলনা, এইসব তো সব্বাইকেই আওড়াতে শোনা যায়। ফলে জানেন না তা নয়, কিন্তু কার্যক্ষেত্রে প্রয়োগ নেই।এখনও দেখছি, কেউ কেউ লিখে চলেছেন, ডিম্মিডিয়ার শুনে কিনা বলতে পারবনা, সরকার বদলায় কিন্তু নীতি বদলায়না। কথাটা শুনতে ভালই। কিন্তু আসলে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বিজেপিকে সমর্থন করে চলা। কারণ, বিষয়টাই আমূল বদলে গেছে। আর সব বাদ দিন, রাউলাট আইন শখানেক বছর ধরে কোনো সরকারের আমলেই বাংলায় ছিলনা। কার্যত এটা ওয়েস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন চলছে। সরকার একটা আছে বটে, কিন্তু সন্দেহ হয় তারা খুচরো মনসবদার মাত্র। পুরো সুতোটাই দিল্লির হাতে। আগ্রাসন এখন ঘোরতর বাস্তব।অথচ এই নিয়ে খুব একটা সচেতনতা আছে, সে কথা ভীষণ দুর্জনেও বলতে পারবেনা। আজ থেকে নয়, বহুকাল আগে থেকে। এই সম্ভাবনা বলার জন্য তৃণমূলের কেউ না হয়েও, চটিচাটা ইত্যাদি কত শুনতে হয়েছে, সেসব রাজনৈতিক প্রসঙ্গ বাদই দিলাম। একটা ছোট্টো উপন্যাস লিখেছিলাম, বেশ কবছর আগে, যার নাম নুনু যখন শনাক্তকরণের চিহ্ন। তার কেউ নিন্দে করেছেন, কেউ প্রশংসা, কিন্তু অব্যর্থভাবেই দেখেছি লেখাটাকে ডিসটোপিয়া বলেছেন প্রায় সক্কলেই। যেন অলীক কিছু দুঃস্বপ্নের গল্প বলা হয়েছে। আরে ভাই, অলীক না, সত্যিই এগুলো ঘটছে। ঘোরতর বাস্তব, এবং ঘটছে আপনার চারপাশে। ঘুম ভেঙে দেখুন। নইলে আপনার জন্যও বলার কেউ থাকবেনা।
    সমাজতন্ত্র: ইউটোপীয় ও বৈজ্ঞানিক অনুবাদের দায়  আমার।  - albert banerjee | সমাজতন্ত্র: ইউটোপীয় ও বৈজ্ঞানিকফ্রেডরিখ এঙ্গেলস১৮৮০ ফরাসি সংস্করণের ভূমিকাযে পৃষ্ঠাগুলি বর্তমান পুস্তিকার বিষয়বস্তু গঠন করেছে, সেগুলি প্রথমে রেভ্যু সোসিয়ালিস্তে-তে তিনটি নিবন্ধরূপে প্রকাশিত হয়েছিল, সেগুলি এঙ্গেলসের সর্বশেষ বই বিজ্ঞানে বিপ্লব [অর্থাৎ, আঁতিদ্যুরিং] থেকে অনূদিত।ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস, সমকালীন সমাজতন্ত্রের অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি, ১৮৪৪ সালে তার রাজনৈতিক অর্থনীতির সমালোচনার রূপরেখা দিয়ে নিজেকে বিশিষ্ট করেছেন, যা প্রথম প্যারিসে মার্ক্স এবং রুজ দ্বারা প্রকাশিত ডয়েচ-ফ্রানৎসোয়েসিশে ইয়ারবুচার -এ প্রকাশিত হয়েছিল। রূপরেখা ইতিমধ্যেই বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রেরকিছু সাধারণ নীতি প্রণয়ন করে। এঙ্গেলস তখন ম্যানচেস্টারে বসবাস করতেন, যেখানে তিনি (জার্মান ভাষায়) ইংল্যান্ডে কর্মজীবী শ্রেণীর অবস্থা (১৮৪৫) লিখেছিলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা মার্ক্স পুঁজি -তে যথাযথ মূল্যায়ন করেছেন। ইংল্যান্ডে তার প্রথম অবস্থানের সময় তিনি — পরে ব্রাসেলস থেকেও — দ্য নর্দার্ন স্টার -এ, সমাজতান্ত্রিক [অর্থাৎ, চার্টিস্ট] আন্দোলনের সরকারি পত্রিকা এবং রবার্ট ওয়েনের নিউ মোরাল ওয়ার্ল্ড -এ অবদান রেখেছিলেন।ব্রাসেলসে তার অবস্থানের সময় তিনি এবং মার্ক্স জার্মান কর্মীদের কমিউনিস্ট ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন, যা ফ্লেমিশ এবং ওয়ালুন কর্মী ক্লাবগুলির সাথে যুক্ত ছিল, এবং বর্নস্টেডের সাথে, ডয়েচে-ব্রুসেলার জাইটুং প্রতিষ্ঠা করেন। জার্মান কমিটি (লন্ডনে অবস্থিত) অফ দ্য লীগ অফ দ্য জাস্ট -এর আমন্ত্রণে, তারা এই সমাজে যোগ দেন, যা মূলত কার্ল শ্যাপার ফ্রান্স থেকে তার পলায়নের পর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যেখানে তিনি ১৮৩৯ সালের ব্লাঙ্কি ষড়যন্ত্রে অংশ নিয়েছিলেন। তখন থেকে লীগটি গোপন সমাজের স্বাভাবিক আনুষ্ঠানিকতা বর্জন করে একটি আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট লীগে রূপান্তরিত হয়।তা সত্ত্বেও সেই পরিস্থিতিতে সমাজটিকে সরকারগুলির কাছে গোপন থাকতে হয়েছিল। ১৮৪৭ সালে লন্ডনে লীগের আন্তর্জাতিক কংগ্রেসে, মার্ক্স এবং এঙ্গেলসকে কমিউনিস্ট পার্টির ইস্তেহার খসড়া প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ঠিক আগে প্রকাশিত হয় এবং প্রায় সব ইউরোপীয় ভাষায় অনুবাদিত হয়।একই বছর তারা ব্রাসেলসের ডেমোক্রেটিক অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠায় জড়িত ছিলেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক এবং উন্মুক্ত সংস্থা, যেখানে আমূল বুর্জোয়াদের প্রতিনিধি এবং সর্বহারা কর্মীদের প্রতিনিধি মিলিত হতেন।ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের পর, এঙ্গেলস নয়ে রাইনিশে জাইটুং -এর সম্পাদকদের একজন হন, যা ১৮৪৮ সালে মার্ক্স কোলোনে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং ১৮৪৯ সালের জুনে একটি প্রুশিয়ান অভ্যুত্থানের দ্বারা দমন করা হয়। এলবারফেল্ডের বিদ্রোহে অংশ নেওয়ার পর এঙ্গেলস ব্যাডেন অভিযানে (১৮৪৯ সালের জুন এবং জুলাই) প্রুশিয়ানদের বিরুদ্ধে উইলিখের সহকারী-ডি-ক্যাম্প হিসেবে যুদ্ধ করেন, যিনি তখন ফ্রাং-তিরোরদের একটি ব্যাটালিয়নের কর্নেল ছিলেন।১৮৫০ সালে, লন্ডনে, তিনি মার্ক্স দ্বারা সম্পাদিত এবং হামবুর্গে মুদ্রিত নয়ে রাইনিশে জাইটুং-এর রিভিউ -তে অবদান রাখেন। সেখানে এঙ্গেলস প্রথম জার্মানিতে কৃষক যুদ্ধ প্রকাশ করেন, যা ১৯ বছর পরে লাইপজিগে একটি পুস্তিকা হিসেবে পুনঃপ্রকাশিত হয় এবং তিনটি সংস্করণে প্রকাশিত হয়।জার্মানিতে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন পুনরায় শুরু হওয়ার পর, এঙ্গেলস ফক্সস্টাট এবং ফরওয়ার্টস -এ তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধগুলি অবদান রাখেন, যার অধিকাংশই পুস্তিকা আকারে পুনর্মুদ্রিত হয়েছিল যেমন রাশিয়ায় সামাজিক সম্পর্ক, জার্মান রাইখস্টাগে প্রুশিয়ান স্ন্যাপস, আবাসন প্রশ্ন, স্পেনে ক্যান্টোনালিস্ট বিদ্রোহ, [কর্মরত বাকুনিস্টরা] ইত্যাদি।১৮৭০ সালে, ম্যানচেস্টার থেকে লন্ডনে চলে আসার পর, এঙ্গেলস ইন্টারন্যাশনালের জেনারেল কাউন্সিলে যোগ দেন, যেখানে তাকে স্পেন, পর্তুগাল এবং ইতালির সাথে চিঠিপত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।তিনি ফরওয়ার্টস -এ যে চূড়ান্ত নিবন্ধগুলি হের ড্যুরিংস রেভোলিউশন ইন সায়েন্স (শ্রী ই. ড্যুরিংয়ের বিজ্ঞান সাধারণ এবং সমাজতন্ত্র বিশেষ সম্পর্কে অভিনব তত্ত্বের প্রতিক্রিয়ায়) শিরোনামে অবদান রেখেছিলেন তা এক খণ্ডে সংকলিত হয়েছিল এবং জার্মান সমাজতন্ত্রীদের মধ্যে ব্যাপক সাফল্য লাভ করে। বর্তমান পুস্তিকায় আমরা বইটির তাত্ত্বিক অংশ থেকে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক উদ্ধৃতি পুনরুৎপাদন করি, যা বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের ভূমিকা বলা যেতে পারে।১৮৮২ প্রথম জার্মান সংস্করণের ভূমিকানিম্নলিখিত কাজটি আমার বই হের এ. ড্যুরিংস উমভালজুং ডের ভিসেনশাফ্ট, লাইপজিগ, ১৮৭৮-এর তিনটি অধ্যায় থেকে উদ্ভূত। আমি এগুলিকে আমার বন্ধু পল লাফার্গের জন্য ফরাসি অনুবাদের জন্য একত্রিত করেছিলাম এবং কয়েকটি অতিরিক্ত মন্তব্য যোগ করেছিলাম। আমার দ্বারা সংশোধিত ফরাসি অনুবাদটি প্রথমে রেভ্যু সোসিয়ালিস্তে-তে এবং তারপর স্বাধীনভাবে সোসিয়ালিজম ইউটোপিক এ সায়েন্টিফিক শিরোনামে প্রকাশিত হয়, প্যারিস, ১৮৮০। ফরাসি অনুবাদ থেকে তৈরি একটি পোলিশ অনুবাদ জেনেভায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এর শিরোনাম সোসিয়ালিজম ইউটোপিজনি আ নাউকোভি, ইমপ্রিমেরি দ্য ল'অরোর, জেনেভা, ১৮৮২।ফরাসি-ভাষী দেশগুলিতে এবং বিশেষ করে ফ্রান্সে লাফার্গের অনুবাদের বিস্ময়কর সাফল্য আমাকে এই প্রশ্নটি বিবেচনা করতে বাধ্য করেছিল যে এই তিনটি অধ্যায়ের একটি পৃথক জার্মান সংস্করণও মূল্যবান হবে কিনা। তখন জুরিখ সোশিয়ালডেমোক্রাট -এর সম্পাদকরা আমাকে জানিয়েছিলেন যে জার্মান সোশ্যাল-ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যে সাধারণভাবে নতুন প্রচার পুস্তিকা প্রকাশের দাবি উঠছে, এবং তারা আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে আমি এই তিনটি অধ্যায়কে এই উদ্দেশ্যে প্রয়োগ করব কিনা। আমি স্বাভাবিকভাবেই এতে সম্মত হয়েছিলাম এবং আমার কাজটি তাদের হাতে তুলে দিয়েছিলাম।তবে এটি মূলত তাৎক্ষণিক জনপ্রিয় প্রচারের জন্য লেখা হয়নি। একটি সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক কাজ কীভাবে তার জন্য উপযুক্ত হতে পারে? ফর্ম এবং বিষয়বস্তুতে কী পরিবর্তন প্রয়োজন?ফর্মের দিক থেকে, শুধুমাত্র অসংখ্য বিদেশী শব্দ সন্দেহের জন্ম দিতে পারে। কিন্তু লাসালেও তার বক্তৃতা এবং প্রচার লেখায় বিদেশী শব্দ মোটেও বাদ দেননি, এবং আমার জানা মতে, এ নিয়ে কোনও অভিযোগ ছিল না। তখন থেকে আমাদের শ্রমিকরা অনেক বেশি পরিমাণে এবং আরও নিয়মিতভাবে সংবাদপত্র পড়েছে এবং একই পরিমাণে তারা বিদেশী শব্দের সাথে আরও পরিচিত হয়েছে। আমি নিজেকে সমস্ত অপ্রয়োজনীয় বিদেশী শব্দ অপসারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছি। যেখানে সেগুলি অনিবার্য ছিল, সেখানে আমি তথাকথিত ব্যাখ্যামূলক অনুবাদ যোগ করা থেকে বিরত থেকেছি। অনিবার্য বিদেশী শব্দগুলি, সাধারণত স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক-প্রযুক্তিগত অভিব্যক্তি, অনুবাদযোগ্য হলে এড়ানো যেত না। অনুবাদ, তাই, অর্থ বিকৃত করে; এটি ব্যাখ্যা করার পরিবর্তে বিভ্রান্ত করে। মৌখিক তথ্য অনেক বেশি সহায়ক।অন্যদিকে, বিষয়বস্তু, আমি মনে করি আমি দাবি করতে পারি, জার্মান কর্মীদের সামান্য অসুবিধা সৃষ্টি করবে। সাধারণভাবে, শুধুমাত্র তৃতীয় বিভাগটি কঠিন, কিন্তু কর্মীদের জন্য, যাদের সাধারণ জীবনযাত্রার অবস্থা এটিকে উদ্বিগ্ন করে, এটি "শিক্ষিত" বুর্জোয়াদের তুলনায় অনেক কম কঠিন। এখানে আমি যে অনেক ব্যাখ্যামূলক সংযোজন করেছি, সেগুলিতে আমি কর্মীদের মতো "শিক্ষিত" পাঠকদের কথা মাথায় রেখেছি; ডেপুটি ভন আইনার্ন, প্রিভি কাউন্সিলর হেনরিখ ভন সিবেল এবং অন্যান্য ট্রাইচকের মতো ব্যক্তিরা, যারা বারবার কালো এবং সাদা রঙে তাদের ভয়ঙ্কর অজ্ঞতা এবং এটি থেকে উদ্ভূত, সমাজতন্ত্রের সম্পর্কে তাদের বিরাট ভুল ধারণা প্রদর্শনের অপ্রতিরোধ্য আবেগ দ্বারা পরিচালিত হয়। যদি ডন কুইক্সোট তার বর্শা বায়ুকলগুলির দিকে তাক করে, তা তার পদ এবং তার ভূমিকার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ; কিন্তু আমাদের পক্ষে স্যাঞ্চো পাঞ্জাকে এরকম কিছু করার অনুমতি দেওয়া অসম্ভব হবে।এই ধরনের পাঠকরা অবাক হবেন যে সমাজতন্ত্রের বিকাশের ইতিহাসের একটি রূপরেখায় তারা কান্ট-লাপ্লেস ব্রহ্মাণ্ডতত্ত্ব, আধুনিক প্রাকৃতিক বিজ্ঞান এবং ডারউইন, ধ্রুপদী জার্মান দর্শন এবং হেগেলের মুখোমুখি হন। কিন্তু বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র সর্বোপরি একটি মূলত জার্মান পণ্য এবং শুধুমাত্র সেই জাতির মধ্যে উদ্ভূত হতে পারে যার ধ্রুপদী দর্শন সচেতন দ্বান্দ্বিকতার ঐতিহ্যকে জীবন্ত রেখেছিল: জার্মানিতে।["জার্মানিতে" একটি কলমের ভুল। এটি "জার্মানদের মধ্যে" পড়া উচিত। কারণ একদিকে যেমন বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের উদ্ভবের জন্য জার্মান দ্বান্দ্বিকতা অপরিহার্য ছিল, তেমনি এর জন্য ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্সের উন্নত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থাও সমানভাবে অপরিহার্য ছিল। জার্মানির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিকাশের স্তর, যা চল্লিশের দশকের শুরুতে আজকের তুলনায় আরও পশ্চাৎপদ ছিল, সর্বাধিক সমাজতন্ত্রের ব্যঙ্গচিত্র তৈরি করতে পারে (দেখুন কমিউনিস্ট ইস্তেহার, III, ১. গ., "জার্মান, বা 'সত্য' সমাজতন্ত্র")। শুধুমাত্র ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্সে উৎপন্ন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থাকে জার্মান দ্বান্দ্বিক সমালোচনার অধীন করে একটি বাস্তব ফলাফল অর্জন করা সম্ভব ছিল। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, তাই, বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র একটি একচেটিয়াভাবে জার্মান নয়, বরং ঠিক ততটাই একটি আন্তর্জাতিক পণ্য। – এই পাদটীকাটি এঙ্গেলস ১৮৮৩ সালের তৃতীয় জার্মান সংস্করণে যোগ করেছিলেন।]ইতিহাসের বস্তুবাদী ধারণা এবং সর্বহারা ও বুর্জোয়াদের মধ্যে আধুনিক শ্রেণী সংগ্রামে এর নির্দিষ্ট প্রয়োগ শুধুমাত্র দ্বান্দ্বিকতার মাধ্যমে সম্ভব ছিল। এবং যদি জার্মান বুর্জোয়াদের স্কুলমাস্টাররা মহান জার্মান দার্শনিকদের এবং তাদের দ্বারা উৎপাদিত দ্বান্দ্বিকতার স্মৃতিকে শূন্য উদারবাদী সংমিশ্রণের জলাভূমিতে ডুবিয়ে দিয়ে থাকেন — এতটাই যে আমরা দ্বন্দ্ববাদের সংরক্ষণের সাক্ষী হিসাবে আধুনিক প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের কাছে আবেদন করতে বাধ্য হই — আমরা জার্মান সমাজতন্ত্রীরা এই সত্যে গর্বিত যে আমরা শুধুমাত্র সেন্ট-সাইমন, ফুরিয়ার এবং ওয়েনের কাছ থেকে নয়, কান্ট, ফিখটে এবং হেগেলের কাছ থেকেও বংশোদ্ভূত।ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসলন্ডন, ২১ সেপ্টেম্বর, ১৮৮২১৮৯২ ইংরেজি সংস্করণের ভূমিকা - ১সাধারণ ভূমিকা এবং বস্তুবাদের ইতিহাসবর্তমান ছোট বইটি মূলত একটি বৃহত্তর সম্পূর্ণের অংশ। প্রায় ১৮৭৫ সালে, বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিভাটডোজেন্ট ড. ই. ড্যুরিং হঠাৎ এবং বরং কোলাহলপূর্ণভাবে সমাজতন্ত্রে তার ধর্মান্তর ঘোষণা করেন এবং জার্মান জনসাধারণকে কেবল একটি বিস্তৃত সমাজতান্ত্রিক তত্ত্বই নয়, সমাজের পুনর্গঠনের জন্য একটি সম্পূর্ণ ব্যবহারিক পরিকল্পনাও উপস্থাপন করেন। স্বাভাবিকভাবেই, তিনি তার পূর্বসূরীদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হন; সর্বোপরি, তিনি মার্ক্সকে তার ক্রোধের পূর্ণ পাত্র ঢেলে সম্মানিত করেছিলেন।এটি প্রায় একই সময়ে ঘটেছিল যখন জার্মানিতে সমাজতান্ত্রিক দলের দুটি বিভাগ — আইসেনাখার এবং লাসালীয় — তাদের একীকরণ সম্পন্ন করেছিল [গোথা একীকরণ কংগ্রেসে], এবং এইভাবে কেবল অপার শক্তি বৃদ্ধিই পায়নি, বরং যা আরও গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সাধারণ শত্রুর বিরুদ্ধে এই সমস্ত শক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা অর্জন করেছিল। জার্মানির সমাজতান্ত্রিক দল দ্রুত একটি শক্তিতে পরিণত হচ্ছিল। কিন্তু, এটিকে একটি শক্তি করতে হলে, প্রথম শর্ত ছিল যে নতুন অর্জিত ঐক্য বিপন্ন না হয়। এবং ড. ড্যুরিং প্রকাশ্যে তার চারপাশে একটি সম্প্রদায় গঠন করতে শুরু করেছিলেন, একটি ভবিষ্যত পৃথক দলের কেন্দ্রবিন্দু। এটি, তাই, আমাদের দিকে ছোড়া চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা এবং সংগ্রামটি লড়াই করা প্রয়োজনীয় করে তুলেছিল, আমরা এটি পছন্দ করি বা না করি।এটি, যদিও এটি অত্যধিক কঠিন নাও হতে পারে, স্পষ্টতই একটি দীর্ঘসূত্রী বিষয় ছিল। যেমনটি সুপরিচিত, আমরা জার্মানরা ভয়ঙ্কর পন্ডিতিপূর্ণ গ্রুন্ডলিখকিট -এর, আমূল গভীরতা বা গভীর আমূলবাদ, যা আপনি যাই বলতে চান। যখনই আমাদের মধ্যে কেউ একটি নতুন মতবাদ প্রচার করেন, তাকে প্রথমে এটি একটি সর্বব্যাপী পদ্ধতিতে বিস্তৃত করতে হয়। তাকে প্রমাণ করতে হয় যে যুক্তিবিদ্যার প্রথম নীতি এবং মহাবিশ্বের মৌলিক আইন উভয়ই অনন্তকাল থেকে অস্তিত্বশীল ছিল এই উদ্দেশ্য ছাড়া আর কোনও উদ্দেশ্যে নয় যে শেষ পর্যন্ত এই নব-আবিষ্কৃত, সমাপ্তি তত্ত্বের দিকে নিয়ে যাওয়া। এবং ড. ড্যুরিং, এই দিক থেকে, জাতীয় মানদণ্ডের সাথে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ ছিলেন। একটি সম্পূর্ণ "দর্শনের পদ্ধতি" এর চেয়ে কম কিছু নয়, মানসিক, নৈতিক, প্রাকৃতিক এবং ঐতিহাসিক; একটি সম্পূর্ণ "রাজনৈতিক অর্থনীতি ও সমাজতন্ত্রের পদ্ধতি"; এবং, অবশেষে, "রাজনৈতিক অর্থনীতির একটি সমালোচনামূলক ইতিহাস" — অষ্টভোলে তিনটি বড় খণ্ড, বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণভাবে ভারী, সমস্ত পূর্ববর্তী দার্শনিক এবং অর্থনীতিবিদদের বিরুদ্ধে এবং বিশেষ করে মার্ক্সের বিরুদ্ধে সংগঠিত যুক্তির তিনটি সেনাবাহিনী — প্রকৃতপক্ষে, বিজ্ঞানে একটি সম্পূর্ণ "বিপ্লব" করার একটি প্রচেষ্টা — এইগুলিই ছিল যা আমাকে মোকাবেলা করতে হয়েছিল। আমাকে সব সম্ভাব্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হয়েছিল, সময় ও স্থানের ধারণা থেকে শুরু করে দ্বিধাতুবাদ পর্যন্ত; পদার্থ এবং গতির অনন্তকাল থেকে নৈতিক ধারণার নশ্বর প্রকৃতি পর্যন্ত; ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন থেকে ভবিষ্যত সমাজে যুবকদের শিক্ষা পর্যন্ত। যাই হোক, আমার প্রতিপক্ষের পদ্ধতিগত ব্যাপকতা আমাকে তার বিরোধিতায়, এবং পূর্বের তুলনায় আরও সংযুক্ত আকারে, এই বিস্তৃত বিষয়গুলির উপর মার্ক্স এবং আমার দৃষ্টিভঙ্গি বিকাশের সুযোগ দিয়েছিল। এবং এটিই ছিল প্রধান কারণ যা আমাকে এই অন্যথায় অকৃতজ্ঞ কাজটি গ্রহণ করতে প্ররোচিত করেছিল।আমার উত্তরটি প্রথমে লাইপজিগ ফরওয়ার্টস -এ একাধিক নিবন্ধে প্রকাশিত হয়েছিল, যা সমাজতান্ত্রিক দলের প্রধান অঙ্গ, এবং পরে একটি বই হিসাবে: হের ইউজেন ড্যুরিংস উমভালজুং ডের ভিসেনশাফ্ট (শ্রী ই. ড্যুরিংয়ের "বিজ্ঞানে বিপ্লব"), যার দ্বিতীয় সংস্করণ ১৮৮৬ সালে জুরিখে প্রকাশিত হয়েছিল।আমার বন্ধু পল লাফার্গের অনুরোধে, এখন ফরাসি চেম্বার অফ ডেপুটিজে লিলের প্রতিনিধি, আমি এই বইটির তিনটি অধ্যায় একটি পুস্তিকা হিসাবে সাজিয়েছিলাম, যা তিনি অনুবাদ করেন এবং ১৮৮০ সালে সোসিয়ালিজম ইউটোপিক এ সোসিয়ালিজম সায়েন্টিফিক শিরোনামে প্রকাশ করেন। এই ফরাসি পাঠ্য থেকে, একটি পোলিশ এবং একটি স্প্যানিশ সংস্করণ প্রস্তুত করা হয়েছিল। ১৮৮৩ সালে, আমাদের জার্মান বন্ধুরা মূল ভাষায় পুস্তিকাটি প্রকাশ করে। ইতালীয়, রুশ, ডেনিশ, ডাচ এবং রোমানিয়ান অনুবাদ, জার্মান পাঠ্যের উপর ভিত্তি করে, তখন থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এইভাবে, বর্তমান ইংরেজি সংস্করণের সাথে, এই ছোট বইটি ১০টি ভাষায় প্রচারিত হয়। আমি সচেতন নই যে অন্য কোনও সমাজতান্ত্রিক কাজ, এমনকি আমাদের ১৮৪৮ সালের কমিউনিস্ট ইস্তেহার বা মার্ক্সের পুঁজি -ও এতবার অনুবাদিত হয়েছে। জার্মানিতে, এটির চারটি সংস্করণ হয়েছে মোট প্রায় ২০,০০০ কপি।পরিশিষ্ট, "দ্য মার্ক", জার্মান সমাজতান্ত্রিক দলের মধ্যে জার্মানিতে ভূমি সম্পত্তির ইতিহাস এবং বিকাশ সম্পর্কে কিছু প্রাথমিক জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছিল। এটি তখন আরও প্রয়োজনীয় বলে মনে হয়েছিল যখন শহরের কর্মজীবী জনগণের দ্বারা সেই দলের আত্তীকরণ সম্পূর্ণ হওয়ার পথে ছিল, এবং যখন কৃষি শ্রমিক এবং কৃষকদের হাতে নেওয়া হয়েছিল। এই পরিশিষ্টটি অনুবাদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেহেতু সমস্ত টিউটনিক উপজাতিদের কাছে সাধারণ ভূমি দখলের মূল রূপগুলি এবং তাদের পতনের ইতিহাস ইংল্যান্ড এবং জার্মানিতেও কম পরিচিত। আমি পাঠ্যটি মূল ভাষায় যেমন আছে তেমনই রেখেছি, সম্প্রতি ম্যাক্সিম কোভালেভস্কি দ্বারা উত্থাপিত অনুমানের উল্লেখ না করে, যার মতে মার্কের সদস্যদের মধ্যে আবাদি এবং তৃণভূমি বিভক্ত করার আগে কয়েক প্রজন্ম ধরে বিস্তৃত একটি বৃহৎ পিতৃতান্ত্রিক পরিবার সম্প্রদায় (যেমন এখনও বিদ্যমান দক্ষিণ স্লাভোনিয়ান জাদ্রুগা দ্বারা দৃষ্টান্ত) দ্বারা যৌথ-হিসাবে চাষের জন্য তাদের চাষ করা হয়েছিল, এবং যে বিভাজন, পরে, সম্প্রদায়টি বৃদ্ধি পেলে ঘটেছিল, যাতে যৌথ-হিসাব পরিচালনার জন্য খুব জটিল হয়ে ওঠে। কোভালেভস্কি সম্ভবত সম্পূর্ণ সঠিক, কিন্তু বিষয়টি এখনও বিবেচনাধীন।এই কাজে ব্যবহৃত অর্থনৈতিক পদগুলি, যতদূর তারা নতুন, মার্ক্সের পুঁজি -এর ইংরেজি সংস্করণে ব্যবহৃত পদগুলির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। আমরা "পণ্যের উৎপাদন" বলি সেই অর্থনৈতিক পর্যায়কে যেখানে নিবন্ধগুলি কেবল উৎপাদকদের ব্যবহারের জন্য নয়, বরং বিনিময়ের উদ্দেশ্যেও উৎপাদিত হয়; অর্থাৎ, ব্যবহার মূল্য হিসাবে নয়, পণ্য হিসাবে। এই পর্যায়টি বিনিময়ের জন্য উৎপাদনের প্রথম সূচনা থেকে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত বিস্তৃত; এটি শুধুমাত্র পুঁজিবাদী উৎপাদনের অধীনে তার পূর্ণ বিকাশ লাভ করে, অর্থাৎ, এমন পরিস্থিতিতে যেখানে পুঁজিবাদী, উৎপাদনের উপায়ের মালিক, মজুরির জন্য শ্রমিকদের নিয়োগ করে, যারা তাদের নিজস্ব শ্রমশক্তি ছাড়া উৎপাদনের সমস্ত উপায় থেকে বঞ্চিত মানুষ, এবং পণ্যের বিক্রয় মূল্যের অতিরিক্ত তার ব্যয়ের উপর পকেটে রাখে। আমরা মধ্যযুগ থেকে শিল্পোৎপাদনের ইতিহাসকে তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত করি:হস্তশিল্প: একজন ছোট মাস্টার কারিগর যার সাথে কয়েকজন সহকারী এবং শিক্ষানবিশ, যেখানে প্রতিটি শ্রমিক একটি সম্পূর্ণ নিবন্ধ উৎপাদন করে;নির্মাণশিল্প: যেখানে বৃহত্তর সংখ্যক কর্মী, একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে গোষ্ঠীবদ্ধ, শ্রম বিভাগের নীতিতে সম্পূর্ণ নিবন্ধ উৎপাদন করে, প্রতিটি কর্মী শুধুমাত্র একটি আংশিক কার্য সম্পাদন করে, যাতে পণ্যটি সমস্তের হাত দিয়ে ক্রমান্বয়ে যাওয়ার পরেই সম্পূর্ণ হয়;আধুনিক শিল্প: যেখানে পণ্যটি শক্তি দ্বারা চালিত যন্ত্রপাতি দ্বারা উৎপাদিত হয়, এবং যেখানে শ্রমিকের কাজ যান্ত্রিক এজেন্টের কর্মক্ষমতা তত্ত্বাবধান এবং সংশোধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।আমি সম্পূর্ণ সচেতন যে এই কাজের বিষয়বস্তু ব্রিটিশ জনসাধারণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ থেকে আপত্তির সম্মুখীন হবে। কিন্তু, আমরা মহাদেশীয়রা যদি ব্রিটিশ "সম্মাননীয়তা" -এর কুসংস্কারের সামান্যতম নোটিশও নিতাম, আমরা এখনকার চেয়েও খারাপ অবস্থায় থাকতাম। এই বইটি আমরা যাকে "ঐতিহাসিক বস্তুবাদ" বলি তা রক্ষা করে, এবং বস্তুবাদ শব্দটি ব্রিটিশ পাঠকদের বিরাট সংখ্যাগরিষ্ঠের কানে অসহ্য লাগে। "অজ্ঞেয়বাদ" সহ্য করা যেতে পারে, কিন্তু বস্তুবাদ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।এবং, তবুও, ১৭শ শতাব্দী থেকে সমস্ত আধুনিক বস্তুবাদের মূল আবাসস্থল ইংল্যান্ড।"বস্তুবাদ গ্রেট ব্রিটেনের জন্মগত পুত্র। ইতিমধ্যেই ব্রিটিশ স্কলাস্টিক, ডান্স স্কোটাস, জিজ্ঞাসা করেছিলেন, 'পদার্থের পক্ষে চিন্তা করা কি অসম্ভব?'"এই অলৌকিক কাজটি সম্পাদন করার জন্য, তিনি ঈশ্বরের সর্বশক্তিমত্তার আশ্রয় নেন — অর্থাৎ, তিনি ধর্মতত্ত্বকে বস্তুবাদ প্রচার করান। অধিকন্তু, তিনি একজন নামবাদী ছিলেন, বস্তুবাদের প্রথম রূপ, প্রধানত ইংরেজ স্কলাস্টিকদের মধ্যে পাওয়া যায়।"ইংরেজি বস্তুবাদের প্রকৃত জনক হলেন বেকন। তাঁর মতে, প্রাকৃতিক দর্শনই একমাত্র সত্য দর্শন, এবং ইন্দ্রিয়ের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে পদার্থবিদ্যা প্রাকৃতিক দর্শনের প্রধান অংশ। আনাক্সাগোরাস এবং তার সমরূপতা, ডেমোক্রিটাস এবং তার পরমাণু, তিনি প্রায়শই তাঁর কর্তৃপক্ষ হিসাবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, ইন্দ্রিয়গুলি অকাট্য এবং সমস্ত জ্ঞানের উৎস। সমস্ত বিজ্ঞান অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে, এবং ইন্দ্রিয় দ্বারা প্রদত্ত তথ্যগুলিকে একটি যুক্তিসঙ্গত তদন্ত পদ্ধতির অধীন করার মধ্যে নিহিত। আরোহ, বিশ্লেষণ, তুলনা, পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা, এই ধরনের যুক্তিসঙ্গত পদ্ধতির প্রধান রূপ।"পদার্থের অন্তর্নিহিত গুণাবলীর মধ্যে, গতি প্রথম এবং সর্বাগ্রে, কেবল যান্ত্রিক এবং গাণিতিক গতির আকারে নয়, বরং প্রধানত একটি আবেগ, একটি প্রাণবন্ত আত্মা, একটি টান — বা একটি 'কোয়াল', যেমন ইয়াকব বোমের একটি শব্দ ব্যবহার করতে — পদার্থের আকারে।"বেকনে, তার প্রথম স্রষ্টাতে, বস্তুবাদ এখনও একটি বহুমুখী বিকাশের জীবাণুকে নিজের মধ্যে ধারণ করে। একদিকে, পদার্থ, একটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য, কাব্যিক আভায় বেষ্টিত, হাসি জাগিয়ে মানুষের সম্পূর্ণ সত্তাকে আকর্ষণ করে বলে মনে হয়। অন্যদিকে, সূত্রবদ্ধভাবে প্রণয়নকৃত মতবাদ ধর্মতত্ত্ব থেকে আমদানি করা অসঙ্গতিতে পূর্ণ।"এর আরও বিবর্তনে, বস্তুবাদ একতরফা হয়ে ওঠে। হবস হলেন সেই ব্যক্তি যিনি বেকনীয় বস্তুবাদকে পদ্ধতিগত করেন। ইন্দ্রিয়ের উপর ভিত্তি করে জ্ঞান তার কাব্যিক পুষ্প হারায়, এটি গণিতজ্ঞের বিমূর্ত অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়; জ্যামিতিকে বিজ্ঞানের রানী ঘোষণা করা হয়। বস্তুবাদ মনোবিরোধী হয়ে ওঠে। যদি এটি তার প্রতিপক্ষকে, মনোবিরোধী, মাংসহীন আত্মাবাদকে এবং তা প্রতিপক্ষের নিজস্ব ক্ষেত্রে পরাজিত করতে হয়, বস্তুবাদকে তার নিজের মাংসকে শাস্তি দিতে এবং তপস্বী হতে হয়। এইভাবে, একটি ইন্দ্রিয়গত থেকে, এটি একটি বুদ্ধিবৃত্তিক সত্তায় পরিণত হয়; কিন্তু এইভাবে, এটি বুদ্ধির বৈশিষ্ট্যযুক্ত সমস্ত সামঞ্জস্যও বিকশিত করে, পরিণতি নির্বিশেষে।"হবস, বেকনের অনুসারী হিসাবে, এইভাবে যুক্তি দেন: যদি সমস্ত মানব জ্ঞান ইন্দ্রিয় দ্বারা সরবরাহ করা হয়, তাহলে আমাদের ধারণা এবং মতবাদগুলি বাস্তব জগতের ভূত, তাদের ইন্দ্রিয়গত রূপ থেকে বঞ্চিত। দর্শন এই ভূতগুলিকে কেবল নাম দিতে পারে। একটি নাম তাদের একাধিকের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যেতে পারে। নামের নামও থাকতে পারে। এটি একটি দ্বন্দ্ব বোঝায় যদি, একদিকে, আমরা বজায় রাখি যে সমস্ত ধারণার উৎপত্তি ইন্দ্রিয় জগতে, এবং, অন্যদিকে, যে একটি শব্দ একটি শব্দের চেয়ে বেশি; যে, আমাদের ইন্দ্রিয় দ্বারা পরিচিত সত্তা ছাড়াও, যারা এককভাবে সকলেই ব্যক্তি, সেখানে সাধারণ, ব্যক্তিগত নয়, প্রকৃতির সত্তাও বিদ্যমান ছিল। একটি অধঃশরীর পদার্থ একই অযৌক্তিকতা যেমন একটি অধঃশরীর দেহ। দেহ, সত্তা, পদার্থ, একই বাস্তবতার জন্য বিভিন্ন শব্দ মাত্র। চিন্তাকে চিন্তা করে এমন পদার্থ থেকে পৃথক করা অসম্ভব। এই পদার্থ বিশ্বের সমস্ত পরিবর্তনের স্তর। অসীম শব্দটি অর্থহীন, যদি না এটি বলে যে আমাদের মন যোগের একটি অন্তহীন প্রক্রিয়া সম্পাদনে সক্ষম। কেবলমাত্র বস্তুগত জিনিসগুলি আমাদের কাছে প্রতীত হয়, আমরা ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে কিছুই জানতে পারি না। আমার নিজের অস্তিত্ব একমাত্র নিশ্চিত। প্রতিটি মানব আবেগ একটি যান্ত্রিক গতি, যার একটি শুরু এবং একটি শেষ আছে। আবেগের বস্তুগুলিই আমরা ভাল বলি। মানুষ প্রকৃতির মতো একই আইনের অধীন। শক্তি এবং স্বাধীনতা অভিন্ন।"হবস বেকনকে পদ্ধতিগত করেছিলেন, তবে, বেকনের মৌলিক নীতি, ইন্দ্রিয় জগত থেকে সমস্ত মানব জ্ঞানের উৎপত্তির জন্য একটি প্রমাণ প্রদান করেননি। এটি ছিলেন লক যিনি, তার মানব বোধশক্তি সম্পর্কিত প্রবন্ধ -এ, এই প্রমাণ সরবরাহ করেছিলেন।"হবস বেকনীয় বস্তুবাদের ধর্মীয় কুসংস্কারগুলিকে চূর্ণ করেছিলেন; কলিন্স, ডডওয়েল, কোওয়ার্ড, হার্টলি, প্রিস্টলি, একইভাবে লকের ইন্দ্রিয়বাদকে এখনও ঘিরে থাকা শেষ ধর্মীয় বাধাগুলিকে চূর্ণ করেছিলেন। সর্বোপরি, ব্যবহারিক বস্তুবাদীদের জন্য, দেববাদ ধর্ম থেকে মুক্তি পাওয়ার একটি সহজ উপায় মাত্র।"কার্ল মার্ক্সপবিত্র পরিবারপৃ. ২০১-২০৪এইভাবে কার্ল মার্ক্স আধুনিক বস্তুবাদের ব্রিটিশ উৎপত্তি সম্পর্কে লিখেছেন। যদি বর্তমান ইংরেজরা তাদের পূর্বপুরুষদের প্রতি তিনি যে প্রশংসা করেছিলেন তা ঠিক পছন্দ না করে, তবে তা আরও দুঃখের বিষয়। তবে এটি অস্বীকার করা যায় না যে বেকন, হবস এবং লক সেই উজ্জ্বল ফরাসি বস্তুবাদী বিদ্যালয়ের জনক, যা ১৮শ শতাব্দীকে, জমি ও সমুদ্রে জার্মান এবং ইংরেজদের দ্বারা ফরাসিদের উপর জয়ী হওয়া সমস্ত যুদ্ধ সত্ত্বেও, একটি বিশেষভাবে ফরাসি শতাব্দী করে তুলেছিল, এমনকি সেই শীর্ষস্থানীয় ফরাসি বিপ্লবের আগেই, যার ফলাফল আমরা বাইরের লোকেরা, ইংল্যান্ড এবং জার্মানি উভয়েই, এখনও অভ্যস্ত করার চেষ্টা করছি।এটি অস্বীকার করা যায় না। এই শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে, প্রতিটি শিক্ষিত বিদেশী যিনি ইংল্যান্ডে বসতি স্থাপন করেছিলেন, তিনি যা তখন ইংরেজ সম্মানজনক মধ্যবিত্তের ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং মূর্খতা বিবেচনা করতে বাধ্য ছিলেন, তা তাকে আঘাত করেছিল। আমরা, তখন, সবাই বস্তুবাদী ছিলাম, বা, অন্ততপক্ষে, খুব উন্নত মুক্তচিন্তক ছিলাম, এবং আমাদের কাছে এটি অকল্পনীয় বলে মনে হয়েছিল যে ইংল্যান্ডের প্রায় সমস্ত শিক্ষিত লোকেরা সব ধরণের অসম্ভব অলৌকিক ঘটনাতে বিশ্বাস করবে, এবং এমনকি বাকল্যান্ড এবং ম্যান্টেলের মতো ভূতত্ত্ববিদরা তাদের বিজ্ঞানের তথ্যগুলিকে পুস্তকটির মিথের সাথে খুব বেশি সংঘর্ষ না করার জন্য বিকৃত করবেন; অন্যদিকে, ধর্মীয় বিষয়ে নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা ব্যবহার করার সাহসী লোকদের খুঁজে পেতে আপনাকে অশিক্ষিত, "মহা অপরিষ্কার", যেমনটি তখন বলা হত, কর্মজীবী মানুষ, বিশেষ করে ওয়েনীয় সমাজতন্ত্রীদের মধ্যে যেতে হত।কিন্তু ইংল্যান্ড তখন থেকে "সভ্য" হয়েছে। ১৮৫১ সালের প্রদর্শনী ইংরেজ দ্বীপপুঞ্জের বিশেষত্বের অবসান ঘটায়। ইংল্যান্ড ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক হয়ে ওঠে, খাদ্যাভ্যাসে, রীতিনীতিতে, ধারণায়; এতটাই যে আমি আশা করতে শুরু করি যে কিছু ইংরেজ রীতিনীতি এবং প্রথা মহাদেশে যতটা অগ্রগতি করেছে ততটা অন্য মহাদেশীয় অভ্যাস এখানে করেছে। যাইহোক, সালাদ তেলের প্রবর্তন এবং বিস্তার (১৮৫১ সালের আগে শুধুমাত্র অভিজাতদের কাছে পরিচিত) ধর্মীয় বিষয়ে মারাত্মক মহাদেশীয় সংশয়বাদের বিস্তারের সাথে ছিল, এবং এটি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অজ্ঞেয়বাদ, যদিও এখনও ইংল্যান্ডের গির্জার মতো "দ্য থিং" হিসাবে বিবেচিত না হলেও, সম্মানজনকতার দিক থেকে বাপ্তিস্মের সাথে প্রায় সমান, এবং নিঃসন্দেহে সালভেশন আর্মির চেয়ে উচ্চতর। এবং আমি সাহায্য করতে পারি না কিন্তু বিশ্বাস করি যে এই পরিস্থিতিতে এটি অনেকের জন্য সান্ত্বনাদায়ক হবে যারা আন্তরিকভাবে এই অবিশ্বাসের অগ্রগতির জন্য অনুশোচনা করে এবং নিন্দা করে জানতে যে এই "নতুন ধরনের ধারণাগুলি" বিদেশী উৎপত্তির নয়, "জার্মানিতে তৈরি" নয়, যেমনটি অন্যান্য অনেক দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিস, বরং নিঃসন্দেহে পুরানো ইংরেজি, এবং তাদের ব্রিটিশ উদ্ভাবকরা ২০০ বছর আগে তাদের বংশধররা এখন সাহস করার চেয়ে অনেক বেশি এগিয়েছিলেন।প্রকৃতপক্ষে, অজ্ঞেয়বাদ কী, কিন্তু একটি অভিব্যক্তিপূর্ণ ল্যাঙ্কাশায়ার শব্দ ব্যবহার করতে, "লজ্জিত" বস্তুবাদ? অজ্ঞেয়বাদের প্রকৃতির ধারণা সর্বত্র বস্তুবাদী। সমগ্র প্রাকৃতিক জগৎ আইন দ্বারা পরিচালিত হয়, এবং বাইরে থেকে হস্তক্ষেপ বা ক্রিয়াকে একেবারে বাদ দেয়। কিন্তু, তিনি যোগ করেন, আমাদের কাছে বিদ্যমান মহাবিশ্বের বাইরে কোনও সর্বোচ্চ সত্তার অস্তিত্ব নির্ণয় বা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। এখন, এটি ল্যাপ্লেসের সময়ে সত্য হতে পারে, যখন নেপোলিয়নের প্রশ্নের উত্তরে, কেন মহান জ্যোতির্বিজ্ঞানীর স্বর্গীয় বলবিদ্যার উপর গ্রন্থে স্রষ্টার উল্লেখও করা হয়নি, গর্বের সাথে উত্তর দিয়েছিলেন: "আমার এই অনুমানের প্রয়োজন ছিল না।" কিন্তু, বর্তমানে, মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের বিবর্তনবাদী ধারণায়, একজন স্রষ্টা বা শাসকের জন্য একেবারে কোনও স্থান নেই; এবং সমগ্র বিদ্যমান জগত থেকে বাদ পড়া একটি সর্বোচ্চ সত্তার কথা বলা শর্তাবলীতে একটি দ্বন্দ্ব বোঝায়, এবং এটি আমার কাছে ধর্মীয় মানুষের অনুভূতিতে একটি অযৌক্তিক অপমান বলে মনে হয়।আবার, আমাদের অজ্ঞেয়বাদী স্বীকার করেন যে আমাদের সমস্ত জ্ঞান আমাদের ইন্দ্রিয় দ্বারা প্রদত্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে। কিন্তু, তিনি যোগ করেন, আমরা কীভাবে জানি যে আমাদের ইন্দ্রিয়গুলি আমাদেরকে আমরা যে বস্তুগুলি তাদের মাধ্যমে উপলব্ধি করি তার সঠিক উপস্থাপনা দেয়? এবং তিনি আমাদের জানাতে এগিয়ে যান যে, যখনই আমরা বস্তু বা তাদের গুণাবলীর কথা বলি, যার সম্পর্কে তিনি নিশ্চিতভাবে কিছু জানতে পারেন না, কেবলমাত্র সেই ছাপগুলি যা তারা তার ইন্দ্রিয়গুলিতে উৎপন্ন করেছে। এখন, এই যুক্তির লাইন নিঃসন্দেহে কেবলমাত্র যুক্তি দ্বারা অতিক্রম করা কঠিন বলে মনে হয়। কিন্তু যুক্তির আগে ছিল কর্ম। ইম অ্যানফাং ভার দি তাত। [গোটের ফাউস্ট থেকে: "শুরুতে ছিল কাজ।"] এবং মানব কর্ম সমস্যার সমাধান করেছিল অনেক আগেই মানব বুদ্ধিমত্তা এটি আবিষ্কার করেছিল। পুডিংয়ের প্রমাণ খাওয়ার মধ্যে। আমরা যখনই আমাদের নিজের ব্যবহারের জন্য এই বস্তুগুলি গ্রহণ করি, আমরা সেগুলিতে যে গুণাবলী উপলব্ধি করি সে অনুযায়ী, আমরা আমাদের ইন্দ্রিয়-ধারণার সঠিকতা বা অন্যথা একটি অকাট্য পরীক্ষা করি। যদি এই ধারণাগুলি ভুল হয়, তাহলে একটি বস্তুকে কীভাবে ব্যবহার করা যায় সে সম্পর্কে আমাদের অনুমানও ভুল হতে হবে, এবং আমাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। কিন্তু, যদি আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জনে সফল হই, যদি আমরা দেখি যে বস্তুটি আমাদের ধারণার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, এবং আমরা যে উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করতে চেয়েছিলাম তা পূরণ করে, তাহলে এটি ইতিবাচক প্রমাণ যে আমাদের ধারণাগুলি এবং এর গুণাবলী সম্পর্কে, এখন পর্যন্ত, আমাদের বাইরের বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। এবং, যখনই আমরা একটি ব্যর্থতার সম্মুখীন হই, তখন আমরা সাধারণত ব্যর্থতার কারণ আবিষ্কার করতে বেশি সময় নিই না; আমরা দেখতে পাই যে আমরা যে ধারণার উপর কাজ করেছি তা হয় অসম্পূর্ণ এবং উপরিভাগের ছিল, অথবা অন্যান্য ধারণার ফলাফলের সাথে এমনভাবে মিলিত ছিল যা তাদের দ্বারা নিশ্চিত নয় — যাকে আমরা ত্রুটিপূর্ণ যুক্তি বলি। যতক্ষণ আমরা আমাদের ইন্দ্রিয়গুলিকে সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দিতে যত্ন নিই, এবং আমাদের ক্রিয়াকে সঠিকভাবে তৈরি এবং সঠিকভাবে ব্যবহৃত ধারণার দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখি, ততক্ষণ আমরা দেখতে পাব যে আমাদের কর্মের ফলাফল আমাদের ধারণার সাথে প্রতীত বস্তুর উদ্দেশ্যমূলক প্রকৃতির সঙ্গতি প্রমাণ করে। এখনও পর্যন্ত, একটি একক উদাহরণেও আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হইনি যে আমাদের ইন্দ্রিয়-ধারণা, বৈজ্ঞানিকভাবে নিয়ন্ত্রিত, আমাদের মনে বাইরের বিশ্ব সম্পর্কে এমন ধারণা জাগায় যা তাদের প্রকৃতিগতভাবে বাস্তবতার সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ, অথবা বাইরের বিশ্ব এবং আমাদের ইন্দ্রিয়-ধারণার মধ্যে কোনও অন্তর্নিহিত অসঙ্গতি রয়েছে।কিন্তু তারপর নব্য-কান্টীয় অজ্ঞেয়বাদীরা আসে এবং বলে: আমরা একটি বস্তুর গুণাবলী সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারি, কিন্তু আমরা কোনও ইন্দ্রিয়গত বা মানসিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বস্তু-ইন-ইটসেলফকে ধারণ করতে পারি না। এই "বস্তু-ইন-ইটসেলফ" আমাদের জ্ঞানের বাইরে। এই সম্পর্কে হেগেল, অনেক আগেই, উত্তর দিয়েছেন: যদি আপনি একটি বস্তুর সমস্ত গুণাবলী জানেন, আপনি বস্তুটি নিজেই জানেন; কেবলমাত্র এই সত্যটি অবশিষ্ট থাকে যে উক্ত বস্তুটি আমাদের ছাড়া বিদ্যমান; এবং, যখন আপনার ইন্দ্রিয়গুলি আপনাকে এই সত্যটি শিখিয়েছে, আপনি বস্তু-ইন-ইটসেলফের শেষ অবশিষ্টাংশটি ধারণ করেছেন, কান্টের বিখ্যাত অজ্ঞেয় ডিং আন সিচ। যার সাথে এটি যোগ করা যেতে পারে যে কান্টের সময়ে প্রাকৃতিক বস্তু সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান প্রকৃতপক্ষে এত খণ্ডিত ছিল যে তিনি প্রতিটি সম্পর্কে আমরা যা কিছু জানতাম তার পিছনে একটি রহস্যময় "বস্তু-ইন-ইটসেলফ" সন্দেহ করতে পারেন। কিন্তু বিজ্ঞানের বিরাট অগ্রগতির দ্বারা এই অগম্য বস্তুগুলি একের পর এক ধারণ করা, বিশ্লেষণ করা এবং আরও কী, পুনরুৎপাদন করা হয়েছে; এবং আমরা যা উৎপাদন করতে পারি তা আমরা অবশ্যই অজ্ঞেয় হিসাবে বিবেচনা করতে পারি না। এই শতাব্দীর প্রথমার্ধের রসায়নের কাছে, জৈব পদার্থগুলি ছিল এই ধরনের রহস্যময় বস্তু; এখন আমরা জৈব প্রক্রিয়ার সাহায্য ছাড়াই তাদের রাসায়নিক উপাদান থেকে একের পর এক তৈরি করতে শিখি। আধুনিক রসায়নবিদরা ঘোষণা করেন যে যত তাড়াতাড়ি কোনও বস্তুর রাসায়নিক গঠন জানা যায়, এটি তার উপাদানগুলি থেকে তৈরি করা যেতে পারে। আমরা এখনও সর্বোচ্চ জৈব পদার্থ, প্রোটিন পদার্থের গঠন জানা থেকে অনেক দূরে; কিন্তু আমাদের কেন উচিত নয়, যদি শুধুমাত্র শতাব্দী পরে, জ্ঞান অর্জন করতে এবং এটি দিয়ে সজ্জিত হয়ে কৃত্রিম অ্যালবুমেন উৎপাদন করতে? কিন্তু, যদি আমরা সেখানে পৌঁছাই, আমরা একই সাথে জৈব জীবন উৎপাদন করব, কারণ জীবন, তার সর্বনিম্ন থেকে সর্বোচ্চ রূপ পর্যন্ত, অ্যালবুমিনাস দেহের স্বাভাবিক অস্তিত্বের পদ্ধতি মাত্র।যত তাড়াতাড়ি, তবে, আমাদের অজ্ঞেয়বাদী এই আনুষ্ঠানিক মানসিক সংরক্ষণ করে, তিনি সেরকম মৌলবাদী বস্তুবাদী হিসাবে কথা বলেন এবং কাজ করেন যিনি অন্তরে তিনি। তিনি বলতে পারেন যে, যতদূর আমরা জানি, পদার্থ এবং গতি, বা যেমনটি এখন বলা হয়, শক্তি, সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না, তবে আমাদের কাছে তাদের কোনও সময়ে সৃষ্টি না হওয়ার প্রমাণ নেই। কিন্তু যদি আপনি এই স্বীকারোক্তিটি কোনও বিশেষ ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করার চেষ্টা করেন, তিনি দ্রুত আপনাকে আদালতের বাইরে রাখবেন। যদি তিনি অ্যাবস্ট্রাক্টো -তে আত্মাবাদের সম্ভাবনা স্বীকার করেন, তবে তিনি কংক্রিটো -তে এর কিছুই চান না। যতদূর আমরা জানি এবং জানতে পারি, তিনি আপনাকে বলবেন যে মহাবিশ্বের কোনও স্রষ্টা এবং কোনও শাসক নেই; যতদূর আমাদের উদ্বিগ্ন, পদার্থ এবং শক্তি সৃষ্টি বা বিনষ্ট করা যায় না; আমাদের জন্য, মন শক্তির একটি রূপ, মস্তিষ্কের একটি কাজ; আমরা যা জানি তা হল যে বস্তুগত জগৎ অপরিবর্তনীয় আইন দ্বারা পরিচালিত হয়, ইত্যাদি। এইভাবে, যতদূর তিনি একজন বৈজ্ঞানিক মানুষ, যতদূর তিনি কিছু জানেন, তিনি একজন বস্তুবাদী; তার বিজ্ঞানের বাইরে, এমন ক্ষেত্রগুলিতে যার সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না, তিনি তার অজ্ঞতাকে গ্রীক ভাষায় অনুবাদ করেন এবং একে অজ্ঞেয়বাদ বলে।যাই হোক, একটি বিষয় স্পষ্ট বলে মনে হচ্ছে: এমনকি যদি আমি একজন অজ্ঞেয়বাদী হতাম, তবে এটি স্পষ্ট যে আমি এই ছোট বইটিতে রূপরেখা দেওয়া ইতিহাসের ধারণাটিকে "ঐতিহাসিক অজ্ঞেয়বাদ" হিসাবে বর্ণনা করতে পারতাম না। ধর্মীয় লোকেরা আমাকে নিয়ে হাসত, অজ্ঞেয়বাদীরা ক্ষোভের সাথে জিজ্ঞাসা করত, আমি কি তাদের সাথে ঠাট্টা করছি? এবং, এইভাবে, আমি আশা করি এমনকি ব্রিটিশ সম্মাননীয়তাও খুব বেশি শক হবে না যদি আমি ইংরেজি এবং অন্যান্য অনেক ভাষায় "ঐতিহাসিক বস্তুবাদ" শব্দটি ব্যবহার করি, ইতিহাসের গতিপথের সেই দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণ করতে যা সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনার চূড়ান্ত কারণ এবং মহান চালিকা শক্তি খোঁজে সমাজের অর্থনৈতিক বিকাশে, উৎপাদন ও বিনিময়ের পদ্ধতির পরিবর্তনে, সমাজের স্বতন্ত্র শ্রেণীতে পরবর্তী বিভাজনে এবং এই শ্রেণীগুলির একে অপরের বিরুদ্ধে সংগ্রামে।এই অনুমতি সম্ভবত আমাকে তত দ্রুত দেওয়া হবে যদি আমি দেখাই যে ঐতিহাসিক বস্তুবাদ এমনকি ব্রিটিশ সম্মাননীয়তার জন্যও উপকারী হতে পারে। আমি এই সত্যটি উল্লেখ করেছি যে, প্রায় ৪০ বা ৫০ বছর আগে, ইংল্যান্ডে বসতি স্থাপনকারী যে কোনও শিক্ষিত বিদেশীকে তিনি তখন যা ইংরেজ সম্মানজনক মধ্যবিত্তের ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং মূর্খতা বিবেচনা করতে বাধ্য ছিলেন তা আঘাত করেছিল। আমি এখন প্রমাণ করতে যাচ্ছি যে সেই সময়ের সম্মানজনক ইংরেজ মধ্যবিত্তটি বুদ্ধিমান বিদেশীর কাছে যেমনটি দেখাত তেমন মূর্খ ছিল না। এর ধর্মীয় প্রবণতা ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।১৮৯২ ইংরেজি সংস্করণের ভূমিকা - ২ইংরেজ মধ্যবিত্তের ইতিহাস (ধর্মের ভূমিকা)যখন ইউরোপ মধ্যযুগ থেকে আবির্ভূত হয়েছিল, তখন শহরগুলির ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত তার বিপ্লবী উপাদান গঠন করেছিল। এটি মধ্যযুগীয় সামন্ত সংগঠনের মধ্যে একটি স্বীকৃত অবস্থান জয় করেছিল, কিন্তু এই অবস্থানটিও তার বিস্তৃত শক্তির জন্য খুব সংকীর্ণ হয়ে পড়েছিল। মধ্যবিত্ত, বুর্জোয়াদের বিকাশ, সামন্ত ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণের সাথে বেমানান হয়ে ওঠে; সামন্ত ব্যবস্থা, তাই, পতন হয়েছিল।কিন্তু সামন্তবাদের মহান আন্তর্জাতিক কেন্দ্র ছিল রোমান ক্যাথলিক চার্চ। এটি সমস্ত অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ সত্ত্বেও, সমগ্র সামন্তবাদী পশ্চিম ইউরোপকে একক বৃহৎ রাজনৈতিক পদ্ধতিতে একত্রিত করেছিল, যতটা বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রীক এবং মুহাম্মদীয় দেশগুলির বিরোধিতা করেছিল। এটি সামন্ত মডেলে তার নিজস্ব শ্রেণিবিন্যাস সংগঠিত করেছিল, এবং, শেষ পর্যন্ত, এটি নিজেই ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী সামন্ত প্রভু, যেহেতু এটি ক্যাথলিক বিশ্বের প্রায় ১/৩ অংশের মালিক ছিল। প্রতিটি দেশে এবং বিস্তারিতভাবে ধর্মনিরপেক্ষ সামন্তবাদের সফল আক্রমণের আগে, এই, এর পবিত্র কেন্দ্রীয় সংগঠনটি ধ্বংস করতে হয়েছিল।অধিকন্তু, মধ্যবিত্তের উত্থানের সমান্তরালে বিজ্ঞানের মহান পুনরুজ্জীবন চলছিল; জ্যোতির্বিদ্যা, বলবিদ্যা, পদার্থবিদ্যা, শারীরস্থান, শারীরবিদ্যা আবার চাষ করা হয়েছিল। এবং বুর্জোয়ারা, তার শিল্পোৎপাদনের বিকাশের জন্য, এমন একটি বিজ্ঞান প্রয়োজন ছিল যা প্রাকৃতিক বস্তুর ভৌত বৈশিষ্ট্য এবং প্রকৃতির শক্তির ক্রিয়া পদ্ধতি নির্ণয় করে। এখন পর্যন্ত বিজ্ঞান কেবল চার্চের নম্র পরিচারিকা ছিল, বিশ্বাস দ্বারা নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করার অনুমতি দেওয়া হয়নি, এবং সেই কারণে কোনও বিজ্ঞানই ছিল না। বিজ্ঞান চার্চের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল; বুর্জোয়ারা বিজ্ঞান ছাড়া করতে পারত না, এবং তাই বিদ্রোহে যোগ দিতে হয়েছিল।উপরেরটি, যদিও কেবলমাত্র দুটি পয়েন্ট স্পর্শ করে যেখানে ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত প্রতিষ্ঠিত ধর্মের সাথে সংঘর্ষে আসতে বাধ্য ছিল, তা দেখানোর জন্য যথেষ্ট হবে, প্রথমত, রোমান চার্চের দাবির বিরুদ্ধে সংগ্রামে সবচেয়ে সরাসরি আগ্রহী শ্রেণীটি ছিল বুর্জোয়ারা; এবং দ্বিতীয়ত, সেই সময়ে সামন্তবাদের বিরুদ্ধে প্রতিটি সংগ্রামকে একটি ধর্মীয় ছদ্মবেশ ধারণ করতে হয়েছিল, প্রথম উদাহরণে চার্চের বিরুদ্ধে নির্দেশিত হতে হয়েছিল। কিন্তু যদি বিশ্ববিদ্যালয়গুলি এবং শহরগুলির ব্যবসায়ীরা স্লোগান দেয়, তবে তা গ্রামের জনগণের, কৃষকদের বিশাল জনগণের মধ্যে একটি শক্তিশালী প্রতিধ্বনি পেতে বাধ্য ছিল, যাদের সর্বত্র তাদের সামন্ত প্রভুদের, আধ্যাত্মিক এবং পার্থিব উভয়ের সাথে তাদের অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছিল।সামন্তবাদের বিরুদ্ধে বুর্জোয়াদের দীর্ঘ সংগ্রাম তিনটি মহান, সিদ্ধান্তমূলক যুদ্ধে climaxed।প্রথমটি ছিল জার্মানিতে তথাকথিত প্রোটেস্ট্যান্ট সংস্কার। চার্চের বিরুদ্ধে লুথারের উত্থাপিত যুদ্ধের স্লোগানের প্রতিক্রিয়া হয়েছিল দুটি রাজনৈতিক প্রকৃতির বিদ্রোহ দ্বারা; প্রথমটি, ফ্রান্স ভন সিকিংগেনের অধীনে নিম্ন অভিজাতদের (১৫২৩), তারপর মহান কৃষক যুদ্ধ, ১৫২৫। উভয়ই পরাজিত হয়েছিল, প্রধানত সবচেয়ে বেশি আগ্রহী পক্ষগুলির, শহরের নগরবাসীদের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে — একটি সিদ্ধান্তহীনতা যার কারণগুলিতে আমরা এখানে প্রবেশ করতে পারি না। সেই মুহূর্ত থেকে, সংগ্রামটি স্থানীয় রাজপুত্র এবং কেন্দ্রীয় শক্তির মধ্যে একটি লড়াইয়ে পরিণত হয় এবং ২০০ বছর ধরে জার্মানিকে ইউরোপের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় জাতিগুলি থেকে মুছে ফেলার মাধ্যমে শেষ হয়। লুথেরান সংস্কার প্রকৃতপক্ষে একটি নতুন ধর্ম তৈরি করেছিল, একটি ধর্ম যা নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া হয়েছিল। উত্তর-পূর্ব জার্মানির কৃষকরা লুথেরানিজমে ধর্মান্তরিত হওয়ার সাথে সাথে তারা স্বাধীন মানুষ থেকে দাসে পরিণত হয়েছিল।কিন্তু যেখানে লুথার ব্যর্থ হয়েছিলেন, সেখানে ক্যালভিন জয়ী হন। ক্যালভিনের ধর্ম তার সময়ের সবচেয়ে সাহসী বুর্জোয়াদের জন্য উপযুক্ত ছিল। তার পূর্বনির্ধারণ মতবাদ ছিল এই সত্যের ধর্মীয় অভিব্যক্তি যে প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক জগতে সাফল্য বা ব্যর্থতা একজন ব্যক্তির কার্যকলাপ বা দক্ষতার উপর নির্ভর করে না, বরং তার দ্বারা অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। এটি তার ইচ্ছার বা তার দৌড়ের নয়, তবে অজানা উচ্চতর অর্থনৈতিক শক্তির করুণার উপর; এবং এটি বিশেষত অর্থনৈতিক বিপ্লবের সময়ে সত্য ছিল, যখন সমস্ত পুরানো বাণিজ্যিক পথ এবং কেন্দ্রগুলি নতুন দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছিল, যখন ভারত এবং আমেরিকা বিশ্বের কাছে উন্মুক্ত হয়েছিল, এবং যখন এমনকি সবচেয়ে পবিত্র অর্থনৈতিক বিশ্বাসের নিবন্ধ — সোনা এবং রূপার মূল্য — টলতে এবং ভেঙে পড়তে শুরু করেছিল। ক্যালভিনের চার্চ গঠন গণতান্ত্রিক করা হয়েছিল; পৃথিবীর রাজ্যগুলি কীভাবে রাজা, বিশপ এবং প্রভুদের অধীন থাকতে পারে? যখন জার্মান লুথেরানিজম রাজপুত্রদের হাতে একটি ইচ্ছুক হাতিয়ার হয়ে ওঠে, ক্যালভিনবাদ হল্যান্ডে একটি প্রজাতন্ত্র এবং ইংল্যান্ডে এবং সর্বোপরি স্কটল্যান্ডে সক্রিয় প্রজাতন্ত্রী দল প্রতিষ্ঠা করে।ক্যালভিনবাদে, দ্বিতীয় মহান বুর্জোয়া উত্থান তার মতবাদ প্রস্তুত ও শুকনো পেয়েছিল। এই উত্থানটি ইংল্যান্ডে সংঘটিত হয়েছিল। শহরগুলির মধ্যবিত্ত এটি শুরু করেছিল এবং দেশীয় জেলাগুলির ইওম্যানরি এটি লড়াই করেছিল। মজার বিষয় হল, তিনটি মহান বুর্জোয়া বিদ্রোহেই, কৃষকরা সেনাবাহিনী সরবরাহ করে যাকে লড়াই করতে হয়; এবং কৃষকরা ঠিক সেই শ্রেণী যা, বিজয় একবার অর্জিত হলে, সেই বিজয়ের অর্থনৈতিক ফলাফল দ্বারা সবচেয়ে নিশ্চিতভাবে ধ্বংস হয়। ক্রমওয়েলের একশ বছর পরে, ইংল্যান্ডের ইওম্যানরি প্রায় অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। যাই হোক, যদি সেই ইওম্যানরি এবং শহরগুলির প্লিবিয়ান উপাদানের জন্য না হয়, তবে বুর্জোয়ারা একা কখনই বিষয়টি তিক্ত শেষ পর্যন্ত লড়াই করত না, এবং চার্লস প্রথমকে কখনও ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যেত না। এমনকি বুর্জোয়াদের সেই বিজয়গুলি সুরক্ষিত করার জন্য যা সেই সময়ে সংগ্রহের জন্য পাকা ছিল, বিপ্লবটিকে যথেষ্ট এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছিল — ঠিক যেমন ১৭৯৩ সালে ফ্রান্সে এবং ১৮৪৮ সালে জার্মানিতে। এটি, প্রকৃতপক্ষে, বুর্জোয়া সমাজের বিবর্তনের একটি আইন বলে মনে হয়।ঠিক আছে, এই বিপ্লবী কার্যকলাপের অতিরিক্তের উপর অগত্যা অনিবার্য প্রতিক্রিয়া অনুসরণ করেছিল যা, তার পালা, সেই বিন্দুর বাইরে চলে গিয়েছিল যেখানে এটি নিজেকে বজায় রাখতে পারত। একাধিক দোলনের পর, মহাকর্ষের নতুন কেন্দ্র শেষ পর্যন্ত অর্জিত হয়েছিল এবং একটি নতুন সূচনা বিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। ইংরেজি ইতিহাসের মহান সময়কাল, সম্মাননীয়তার কাছে "মহান বিদ্রোহ" নামে পরিচিত, এবং এর পরবর্তী সংগ্রামগুলি, লিবারেল ইতিহাসবিদদের দ্বারা "গৌরবময় বিপ্লব" নামে অভিহিত অপেক্ষাকৃত তুচ্ছ ঘটনাগুলির দ্বারা সমাপ্ত হয়েছিল।নতুন সূচনা বিন্দুটি ছিল ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত এবং প্রাক্তন সামন্ত জমিদারদের মধ্যে একটি আপস। পরেরটি, যদিও এখন যেমন বলা হয়, অভিজাততন্ত্র, অনেক আগেই পথে ছিল যা তাদের লুই ফিলিপকে ফ্রান্সে অনেক পরে যা হয়েছিল তা হতে পরিচালিত করেছিল: "রাজ্যের প্রথম বুর্জোয়া"। ইংল্যান্ডের জন্য সৌভাগ্যবশত, পুরানো সামন্ত ব্যারনরা গোলাপের যুদ্ধের সময় একে অপরকে হত্যা করেছিল। তাদের উত্তরসূরিরা, যদিও বেশিরভাগই পুরানো পরিবারের সন্তান, বংশের সরাসরি লাইনের বাইরে এতটাই ছিল যে তারা একটি সম্পূর্ণ নতুন সংস্থা গঠন করেছিল, অভ্যাস এবং প্রবণতা সহ সামন্তের চেয়ে অনেক বেশি বুর্জোয়া। তারা অর্থের মূল্য সম্পূর্ণরূপে বুঝত, এবং শত শত ছোট কৃষকদের বিতাড়িত করে এবং তাদের ভেড়া দিয়ে প্রতিস্থাপন করে অবিলম্বে তাদের খাজনা বাড়াতে শুরু করে। অষ্টম হেনরি, গির্জার জমি নষ্ট করার সময়, পাইকারি নতুন বুর্জোয়া জমিদার তৈরি করেছিলেন; অসংখ্য জমি বাজেয়াপ্ত, পরম বা আপেক্ষিক নতুনদের কাছে পুনরায় প্রদান করা হয়েছিল এবং ১৭শ শতাব্দী জুড়ে অব্যাহত ছিল, একই ফলাফল হয়েছিল। ফলস্বরূপ, সপ্তম হেনরির পর থেকে, ইংরেজ "অভিজাততন্ত্র", শিল্পোৎপাদনের বিকাশকে প্রতিহত করা থেকে অনেক দূরে, বিপরীতে, পরোক্ষভাবে তা থেকে লাভবান হতে চেয়েছিল; এবং সর্বদা বড় জমিদারদের একটি অংশ ছিল যারা অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক কারণে, আর্থিক ও শিল্প বুর্জোয়াদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক ছিল। ১৬৮৯ সালের আপসটি তাই সহজেই সম্পন্ন হয়েছিল। "পেলফ অ্যান্ড প্লেস" -এর রাজনৈতিক লুণ্ঠন বড় জমিদার পরিবারগুলির কাছে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, তবে আর্থিক, উৎপাদনকারী এবং বাণিজ্যিক মধ্যবিত্তের অর্থনৈতিক স্বার্থগুলি যথেষ্ট পরিমাণে মনোযোগ দেওয়া হয়েছিল। এবং সেই সময়ে এই অর্থনৈতিক স্বার্থগুলি জাতির সাধারণ নীতি নির্ধারণের জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল। বিশদ বিবরণ নিয়ে ঝগড়া হতে পারে, কিন্তু, সামগ্রিকভাবে, অভিজাততান্ত্রিক অলিগার্কি খুব ভাল জানত যে তার নিজের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি শিল্প ও বাণিজ্যিক মধ্যবিত্তের সাথে অপরিবর্তনীয়ভাবে আবদ্ধ।সেই সময় থেকে, বুর্জোয়ারা ইংল্যান্ডের শাসক শ্রেণীর একটি নম্র, কিন্তু এখনও স্বীকৃত, উপাদান ছিল। তাদের বাকিদের সাথে, দেশের মহান কর্মজীবী জনগণকে বশীভূত রাখতে তাদের একটি সাধারণ স্বার্থ ছিল। বণিক বা উৎপাদনকারী নিজেই তার কেরানি, তার কর্ম-মানুষ, তার গৃহস্থালী চাকরদের প্রতি কর্তা, বা, যেমনটি সম্প্রতি পর্যন্ত বলা হত, "প্রাকৃতিক শ্রেষ্ঠ" অবস্থানে দাঁড়িয়েছিলেন। তার স্বার্থ ছিল তাদের কাছ থেকে যতটা সম্ভব এবং যতটা সম্ভব ভাল কাজ পাওয়া; এই শেষের জন্য, তাদের সঠিক বশ্যতার জন্য প্রশিক্ষিত হতে হয়েছিল। তিনি নিজে ধার্মিক ছিলেন; তার ধর্ম সেই মান সরবরাহ করেছিল যার অধীনে তিনি রাজা এবং প্রভুদের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন; তিনি দেরি করেননি এই একই ধর্ম তাকে তার প্রাকৃতিক অধীনস্থদের মনে কাজ করার এবং তাদের প্রভুদের আদেশের প্রতি বশ্যতাপূর্ণ করে তোলার সুযোগ আবিষ্কার করতে যা ঈশ্বর তাদের উপরে রাখতে সন্তুষ্ট হয়েছিলেন। সংক্ষেপে, ইংরেজ বুর্জোয়াদের এখন "নিম্ন শ্রেণী"কে, জাতির মহান উৎপাদনকারী জনগণকে দমন করতে অংশ নিতে হয়েছিল, এবং সেই উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত উপায়গুলির মধ্যে একটি ছিল ধর্মের প্রভাব।আরেকটি কারণ ছিল যা বুর্জোয়াদের ধর্মীয় প্রবণতাকে শক্তিশালী করতে অবদান রেখেছিল।সেটা হলো ইংল্যান্ডে বস্তুবাদের উত্থান। এই নতুন মতবাদটি কেবল মধ্যবিত্তের ধার্মিক অনুভূতিকে আঘাত করেনি; এটি নিজেকে কেবল পণ্ডিত এবং বিশ্বের শিক্ষিত মানুষের জন্য উপযুক্ত একটি দর্শন হিসাবে ঘোষণা করেছিল, ধর্মের বিপরীতে, যা অশিক্ষিত জনগণের জন্য যথেষ্ট ছিল, বুর্জোয়াদের সহ। হবসের সাথে, এটি রাজকীয় বিশেষাধিকার এবং সর্বশক্তিমানতার রক্ষক হিসাবে মঞ্চে পা রাখে; এটি নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রকে সেই পুয়ের রোবস্টাস সেড ম্যালিটিওসাস ["শক্তিশালী কিন্তু দুষ্ট ছেলে"] — অর্থাৎ, জনগণকে দমন করতে ডাকেছিল। একইভাবে, হবসের উত্তরসূরিদের সাথে, বলিংব্রোক, শ্যাফটসবারি, ইত্যাদির সাথে, বস্তুবাদের নতুন দেববাদী রূপটি একটি অভিজাত, গূঢ় মতবাদ থেকে যায়, এবং তাই মধ্যবিত্তের কাছে তার ধর্মীয় ধর্মবিরোধিতা এবং তার বিরোধী বুর্জোয়া রাজনৈতিক সম্পর্ক উভয়ের জন্যই ঘৃণ্য ছিল। তদনুসারে, অভিজাততন্ত্রের বস্তুবাদ এবং দেববাদের বিরোধিতায়, সেই প্রোটেস্ট্যান্ট সম্প্রদায়গুলি যারা স্টুয়ার্টদের বিরুদ্ধে পতাকা এবং যুদ্ধকারী দল সরবরাহ করেছিল তারা প্রগতিশীল মধ্যবিত্তের প্রধান শক্তি সরবরাহ করতে থাকে এবং আজও "মহান লিবারেল পার্টি" -এর মেরুদণ্ড গঠন করে।এদিকে, বস্তুবাদ ইংল্যান্ড থেকে ফ্রান্সে চলে যায়, যেখানে এটি দার্শনিকদের আরেকটি বস্তুবাদী বিদ্যালয়ের সাথে মিলিত এবং একত্রিত হয়, কার্টেসিয়ানিজমের একটি শাখা। ফ্রান্সেও, এটি প্রথমে একটি একচেটিয়াভাবে অভিজাত মতবাদ ছিল। কিন্তু, শীঘ্রই, এর বিপ্লবী চরিত্র নিজেকে জাহির করে। ফরাসি বস্তুবাদীরা তাদের সমালোচনা ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয়ে সীমাবদ্ধ রাখেনি; তারা এটিকে যে কোনও বৈজ্ঞানিক ঐতিহ্য বা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রসারিত করেছিল যার সাথে তারা দেখা করেছিল; এবং তাদের মতবাদের সর্বজনীন প্রয়োগের দাবি প্রমাণ করার জন্য, তারা সবচেয়ে ছোট পথ নিয়েছিল, এবং সাহসের সাথে এটি জ্ঞানের সমস্ত বিষয়ে প্রয়োগ করেছিল সেই বিরাট কাজে যার পরে তাদের নামকরণ করা হয়েছিল — এনসাইক্লোপিডিয়া। এইভাবে, তার দুই রূপের একটিতে — প্রকাশ্য বস্তুবাদ বা দেববাদ — এটি ফ্রান্সের সমস্ত সংস্কৃতিবান যুবকদের ধর্ম হয়ে ওঠে; এতটাই যে, যখন মহান বিপ্লব শুরু হয়, ইংরেজ রাজবাদীদের দ্বারা উদ্ভাবিত মতবাদ ফরাসি প্রজাতন্ত্রবাদীদের এবং সন্ত্রাসবাদীদের একটি তাত্ত্বিক পতাকা দিয়েছিল এবং মানুষের অধিকারের ঘোষণাপত্র -এর পাঠ্য সরবরাহ করেছিল। মহান ফরাসি বিপ্লব ছিল বুর্জোয়াদের তৃতীয় বিদ্রোহ, কিন্তু প্রথম যা সম্পূর্ণরূপে ধর্মীয় আবরণ ত্যাগ করেছিল এবং অপ্রকাশিত রাজনৈতিক লাইনে লড়াই করা হয়েছিল; এটি প্রথমও ছিল যা সত্যিই একজন যোদ্ধা, অভিজাততন্ত্রের ধ্বংস এবং অন্যজন, বুর্জোয়াদের সম্পূর্ণ বিজয় পর্যন্ত লড়াই করা হয়েছিল। ইংল্যান্ডে, বিপ্লব-পূর্ব এবং বিপ্লব-পরবর্তী প্রতিষ্ঠানগুলির ধারাবাহিকতা, এবং জমিদার ও পুঁজিপতিদের মধ্যে আপস, বিচারিক নজিরের ধারাবাহিকতা এবং আইনের সামন্ত রূপের ধর্মীয় সংরক্ষণে তার অভিব্যক্তি খুঁজে পায়। ফ্রান্সে, বিপ্লব অতীতের ঐতিহ্যের সাথে একটি সম্পূর্ণ বিরতি গঠন করেছিল; এটি সামন্তবাদের শেষ চিহ্নগুলি পরিষ্কার করে দিয়েছিল, এবং কোড সিভিল -এ পুরানো রোমান আইনের — যা মার্ক্স পণ্যের উৎপাদন বলে অর্থনৈতিক পর্যায়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিচারিক সম্পর্কের প্রায় নিখুঁত অভিব্যক্তি — আধুনিক পুঁজিবাদী অবস্থার সাথে একটি শিল্পীসুলভ অভিযোজন তৈরি করেছিল; এত শিল্পীসুলভ যে এই ফরাসি বিপ্লবী কোডটি এখনও অন্য সব দেশে সম্পত্তি আইনের সংস্কারের জন্য একটি মডেল হিসাবে কাজ করে, ইংল্যান্ডকেও বাদ দেয় না। তবে, আসুন আমরা ভুলে না যাই যে যদি ইংরেজ আইন পুঁজিবাদী সমাজের অর্থনৈতিক সম্পর্কগুলিকে সেই বর্বর সামন্ত ভাষায় প্রকাশ করতে থাকে যা প্রকাশিত জিনিসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, ঠিক যেমন ইংরেজি বানান ইংরেজি উচ্চারণের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ — ভু এক্রিভেজ লন্ড্রেস এ ভু প্রোনন্সেজ কনস্টান্টিনোপল, একজন ফরাসি বলেছিলেন — সেই একই ইংরেজ আইনই একমাত্র যা যুগ যুগ ধরে সংরক্ষণ করেছে এবং আমেরিকা ও উপনিবেশগুলিতে প্রেরণ করেছে সেই পুরানো জার্মানিক ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, স্থানীয় স্ব-শাসন, এবং সমস্ত হস্তক্ষেপ (কিন্তু আইন আদালতের) থেকে স্বাধীনতার সেরা অংশ, যা মহাদেশে নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রের সময়কালে হারিয়ে গিয়েছিল এবং এখনও কোথাও সম্পূর্ণরূপে পুনরুদ্ধার করা হয়নি।আমাদের ব্রিটিশ বুর্জোয়াদের কাছে ফিরে আসা যাক। ফরাসি বিপ্লব তাকে মহাদেশীয় রাজতন্ত্রগুলির সাহায্যে ফরাসি সামুদ্রিক বাণিজ্য ধ্বংস করতে, ফরাসি উপনিবেশগুলি সংযুক্ত করতে এবং সামুদ্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফরাসি শেষ দাবিগুলিকে চূর্ণ করার একটি চমৎকার সুযোগ দিয়েছিল। এটি ছিল একটি কারণ কেন তিনি এটি লড়েছিলেন। আরেকটি ছিল যে এই বিপ্লবের পদ্ধতিগুলি তার খুব বিরুদ্ধে গিয়েছিল। কেবল তার "জঘন্য" সন্ত্রাসবাদই নয়, বুর্জোয়া শাসনকে চরমে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টাও। তার অভিজাততন্ত্র ছাড়া ব্রিটিশ বুর্জোয়া কী করত, যে তাকে শিষ্টাচার শিখিয়েছিল, যেমনটি ছিল, এবং তার জন্য ফ্যাশন আবিষ্কার করেছিল — যে সেনাবাহিনীর জন্য অফিসার সরবরাহ করেছিল, যা বাড়িতে শৃঙ্খলা রাখত, এবং নৌবাহিনী, যা বিদেশে উপনিবেশিক সম্পত্তি এবং নতুন বাজার জয় করত? প্রকৃতপক্ষে, বুর্জোয়াদের একটি প্রগতিশীল সংখ্যালঘু ছিল, সেই সংখ্যালঘু যাদের স্বার্থ আপসের অধীনে তেমন মনোযোগ পায়নি; এই বিভাগটি, প্রধানত কম ধনী মধ্যবিত্তের সমন্বয়ে, বিপ্লবের সাথে সহানুভূতিশীল ছিল, কিন্তু এটি সংসদে শক্তিহীন ছিল।এইভাবে, যদি বস্তুবাদ ফরাসি বিপ্লবের ধর্ম হয়ে ওঠে, তবে ঈশ্বর-ভয়শীল ইংরেজ বুর্জোয়া তার ধর্মকে আরও শক্তভাবে ধরে রাখে। প্যারিসের সন্ত্রাসের রাজত্ব কি প্রমাণ করেনি যে জনগণের ধর্মীয় প্রবৃত্তি হারিয়ে গেলে কী পরিণতি হয়? যত বেশি বস্তুবাদ ফ্রান্স থেকে প্রতিবেশী দেশগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে, এবং অনুরূপ মতবাদী স্রোত দ্বারা, বিশেষ করে জার্মান দর্শন দ্বারা শক্তিশালী হয়, তত বেশি, প্রকৃতপক্ষে, বস্তুবাদ এবং সাধারণভাবে মুক্তচিন্তা মহাদেশে একজন শিক্ষিত মানুষের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা হয়ে ওঠে, তত বেশি জেদীভাবে ইংরেজ মধ্যবিত্ত তার বহুবিধ ধর্মীয় ধর্মে আটকে থাকে। এই ধর্মগুলি একে অপরের থেকে আলাদা হতে পারে, কিন্তু তারা সবাই ছিল স্বতন্ত্রভাবে ধর্মীয়, খ্রিস্টান ধর্ম।যখন বিপ্লব ফ্রান্সে বুর্জোয়াদের রাজনৈতিক বিজয় নিশ্চিত করেছিল, ইংল্যান্ডে ওয়াট, আর্করাইট, কার্টরাইট এবং অন্যান্যরা একটি শিল্প বিপ্লব শুরু করেছিল, যা অর্থনৈতিক শক্তির মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্রকে সম্পূর্ণরূপে স্থানান্তরিত করেছিল। বুর্জোয়াদের সম্পদ জমিদার অভিজাততন্ত্রের তুলনায় যথেষ্ট দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছিল। বুর্জোয়াদের মধ্যেই, আর্থিক অভিজাততন্ত্র, ব্যাঙ্কাররা, ইত্যাদি, উৎপাদনকারীদের দ্বারা আরও বেশি করে পটভূমিতে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। ১৬৮৯ সালের আপস, এমনকি বুর্জোয়াদের পক্ষে এটি ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হওয়ার পরেও, পক্ষগুলির আপেক্ষিক অবস্থানের সাথে আর সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না। এই পক্ষগুলির চরিত্রও পরিবর্তিত হয়েছিল; ১৮৩০ সালের বুর্জোয়ারা পূর্ববর্তী শতাব্দীর থেকে খুব আলাদা ছিল। অভিজাততন্ত্রের কাছে এখনও যে রাজনৈতিক ক্ষমতা অবশিষ্ট ছিল এবং তারা নতুন শিল্প বুর্জোয়াদের দাবি প্রতিরোধ করতে ব্যবহার করেছিল, তা নতুন অর্থনৈতিক স্বার্থের সাথে বেমানান হয়ে ওঠে। অভিজাততন্ত্রের সাথে একটি নতুন সংগ্রাম প্রয়োজনীয় ছিল; এটি কেবল নতুন অর্থনৈতিক শক্তির বিজয়ে শেষ হতে পারে। প্রথমত, ১৮৩০ সালের ফরাসি বিপ্লবের চাপে সমস্ত প্রতিরোধ সত্ত্বেও সংস্কার আইন পাশ করা হয়েছিল। এটি বুর্জোয়াদের সংসদে একটি স্বীকৃত এবং শক্তিশালী স্থান দিয়েছিল। তারপর শস্য আইন বাতিল করা হয়েছিল [মুক্ত বাণিজ্যের দিকে একটি পদক্ষেপ], যা একবার এবং সর্বদা বুর্জোয়াদের এবং বিশেষ করে এর সবচেয়ে সক্রিয় অংশ, উৎপাদনকারীদের জমিদার অভিজাততন্ত্রের উপর আধিপত্য নিষ্পত্তি করেছিল। এটি ছিল বুর্জোয়াদের সবচেয়ে বড় বিজয়; তবে, এটি শেষও ছিল যা এটি তার নিজস্ব একচেটিয়া স্বার্থে অর্জন করেছিল। এটি পরে যে কোনও বিজয় অর্জন করেছিল, তা একটি নতুন সামাজিক শক্তির সাথে ভাগ করে নিতে হয়েছিল — প্রথমে তার মিত্র, কিন্তু শীঘ্রই তার প্রতিদ্বন্দ্বী।শিল্প বিপ্লব বড় উৎপাদনকারী পুঁজিপতিদের একটি শ্রেণী তৈরি করেছিল, কিন্তু একটি শ্রেণীও — এবং আরও অনেক বেশি সংখ্যক — উৎপাদনকারী কর্ম-মানুষের। এই শ্রেণীটি ধীরে ধীরে সংখ্যায় বৃদ্ধি পেয়েছিল, যত অনুপাতে শিল্প বিপ্লব উৎপাদনের এক শাখার পর অন্য শাখায় আক্রমণ করেছিল এবং একই অনুপাতে এটি তার শক্তি বৃদ্ধি করেছিল। এই শক্তি এটি ১৮২৪ সালে প্রমাণ করেছিল, যখন এটি একটি অনিচ্ছুক সংসদকে শ্রমিকদের সমিতি নিষিদ্ধকারী আইন বাতিল করতে বাধ্য করেছিল। সংস্কার আন্দোলনের সময়, শ্রমিকরা সংস্কার দলের আমূল শাখা গঠন করেছিল; ১৮৩২ সালের আইন তাদের ভোটাধিকার থেকে বাদ দিয়ে, তারা তাদের দাবিগুলি জনগণের সনদ -এ প্রণয়ন করেছিল, এবং নিজেদেরকে মহান বুর্জোয়া বিরোধী শস্য আইন দলের বিরোধিতায় একটি স্বাধীন দল, চার্টিস্ট, আধুনিক যুগের প্রথম শ্রমিক-পুরুষদের দল হিসাবে গঠন করেছিল।তারপর এল ১৮৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি এবং মার্চের মহাদেশীয় বিপ্লব, যেখানে কর্মজীবী জনগণ এত বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেছিল, এবং, অন্তত প্যারিসে, এমন দাবি উত্থাপন করেছিল যা অবশ্যই পুঁজিবাদী সমাজের দৃষ্টিকোণ থেকে অগ্রহণযোগ্য ছিল। এবং তারপর এল সাধারণ প্রতিক্রিয়া। প্রথমত, ১৮৪৮ সালের ১০ এপ্রিল চার্টিস্টদের পরাজয়; তারপর একই বছরের জুন মাসে প্যারিসের কর্মজীবীদের বিদ্রোহ দমন; তারপর ১৮৪৯ সালে ইতালি, হাঙ্গেরি, দক্ষিণ জার্মানিতে বিপর্যয় এবং শেষ পর্যন্ত ১৮৫১ সালের ২ ডিসেম্বর লুই বোনাপার্টের প্যারিসের উপর বিজয়। কিছু সময়ের জন্য, শ্রমিক-শ্রেণীর দাবির ভয় দেখানো জিনিসটি দমন করা হয়েছিল, কিন্তু কী মূল্যে! যদি ব্রিটিশ বুর্জোয়া এর আগে সাধারণ মানুষকে ধর্মীয় মেজাজে বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলেন, তবে এই সমস্ত অভিজ্ঞতার পরে তিনি সেই প্রয়োজনীয়তা কত বেশি অনুভব করবেন? তার মহাদেশীয় সমকক্ষদের উপহাস উপেক্ষা করে, তিনি ধর্মপ্রচারের জন্য বছর বছর হাজার হাজার পাউন্ড ব্যয় করতে থাকেন; তার নিজস্ব দেশীয় ধর্মীয় যন্ত্রপাতির সাথে সন্তুষ্ট না হয়ে, তিনি ব্রাদার জোনাথন [১], ধর্মকে একটি ব্যবসা হিসাবে সংগঠিত করার সর্বশ্রেষ্ঠ বিদ্যমান সংগঠকের কাছে আবেদন করেন এবং আমেরিকা থেকে রিভাইভালিজম, মুডি এবং স্যাঙ্কি এবং এর মতো আমদানি করেন; এবং, শেষ পর্যন্ত, তিনি সালভেশন আর্মির বিপজ্জনক সাহায্য গ্রহণ করেন, যা প্রাথমিক খ্রিস্টান ধর্মের প্রচার পুনরুজ্জীবিত করে, দরিদ্রদের নির্বাচিত হিসাবে আবেদন করে, একটি ধর্মীয় উপায়ে পুঁজিবাদের সাথে লড়াই করে এবং এইভাবে প্রাথমিক খ্রিস্টান শ্রেণী বিরোধিতার একটি উপাদানকে লালন করে, যা একদিন ধনী লোকদের জন্য বিরক্তিকর হতে পারে যারা এখন এর জন্য প্রস্তুত অর্থ খুঁজে পায়।এটি ঐতিহাসিক বিকাশের একটি আইন বলে মনে হয় যে বুর্জোয়ারা কোনও ইউরোপীয় দেশে রাজনৈতিক ক্ষমতা পেতে পারে না — অন্তত কোনও দীর্ঘ সময়ের জন্য — একই একচেটিয়া উপায়ে যেভাবে সামন্ত অভিজাততন্ত্র মধ্যযুগে এটি ধরে রেখেছিল। এমনকি ফ্রান্সেও, যেখানে সামন্তবাদ সম্পূর্ণরূপে নির্মূল হয়েছিল, বুর্জোয়ারা সমগ্রভাবে খুব অল্প সময়ের জন্য সরকারের সম্পূর্ণ দখল রেখেছিল। লুই ফিলিপের রাজত্বকালে, ১৮৩০-৪৮, বুর্জোয়াদের একটি খুব ছোট অংশ রাজ্যটি শাসন করেছিল; অধিকাংশই উচ্চ যোগ্যতার দ্বারা ভোটাধিকার থেকে বাদ ছিল। দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্রের অধীনে, ১৮৪৮-৫১, সমগ্র বুর্জোয়ারা মাত্র তিন বছরের জন্য শাসন করেছিল; তাদের অক্ষমতা দ্বিতীয় সাম্রাজ্যের সূচনা করেছিল। এটি এখন, তৃতীয় প্রজাতন্ত্রে, বুর্জোয়ারা সমগ্রভাবে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শাসনের হাল ধরেছে; এবং তারা ইতিমধ্যে পতনের প্রাণবন্ত লক্ষণ দেখাচ্ছে। বুর্জোয়াদের একটি স্থায়ী রাজত্ব কেবল আমেরিকার মতো দেশেই সম্ভব হয়েছে, যেখানে সামন্তবাদ অজানা ছিল, এবং সমাজ একেবারে শুরু থেকেই একটি বুর্জোয়া ভিত্তি থেকে শুরু হয়েছিল। এবং এমনকি ফ্রান্স এবং আমেরিকাতেও, বুর্জোয়াদের উত্তরসূরিরা, কর্মজীবী জনগণ, ইতিমধ্যেই দরজায় কড়া নাড়ছে।ইংল্যান্ডে, বুর্জোয়ারা কখনও সম্পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করেনি। ১৮৩২ সালের বিজয়ও জমিদার অভিজাততন্ত্রকে প্রায় সমস্ত প্রধান সরকারি পদে একচেটিয়া দখল রেখেছিল। মধ্যবিত্ত যে নম্রতার সাথে এতে জমা দিয়েছিল তা আমার কাছে অকল্পনীয় ছিল যতক্ষণ না মহান লিবারেল উৎপাদনকারী, জনাব ডব্লিউ. এ. ফরস্টার, একটি জনসভায় ব্র্যাডফোর্ডের যুবকদের বিশ্বে এগিয়ে যাওয়ার উপায় হিসাবে ফরাসি শিখতে অনুরোধ করেছিলেন এবং তার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ধৃত করেছিলেন যে তিনি কতটা ভেড়ার মতো দেখতেন যখন, একজন কেবিনেট মন্ত্রী হিসাবে, তাকে সমাজে চলাফেরা করতে হয়েছিল যেখানে ফরাসি ছিল, অন্তত ইংরেজির মতো প্রয়োজনীয়! আসল বিষয়টি ছিল, সেই সময়ের ইংরেজ মধ্যবিত্ত, একটি নিয়ম হিসাবে, সম্পূর্ণ অশিক্ষিত নব্য-উদ্ভূত ছিল, এবং অভিজাততন্ত্রের কাছে সেই উচ্চতর সরকারি পদগুলি ছেড়ে দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না যেখানে কেবল দ্বীপপুঞ্জের সংকীর্ণতা এবং দ্বীপপুঞ্জের অহংকার, ব্যবসায়িক তীক্ষ্ণতা দ্বারা মশলা দেওয়া, অন্যান্য যোগ্যতার প্রয়োজন ছিল। [২] এখনও সংবাদপত্রের অবিরাম বিতর্কগুলি মধ্যবিত্ত শিক্ষা সম্পর্কে দেখায় যে ইংরেজ মধ্যবিত্ত এখনও নিজেকে সর্বোত্তম শিক্ষার জন্য যথেষ্ট ভাল মনে করে না, এবং আরও বিনয়ী কিছুর দিকে তাকায়। এইভাবে, এমনকি শস্য আইন বাতিলের পরেও, এটি স্বাভাবিক বলে মনে হয়েছিল যে যারা দিনটি বহন করেছিলেন — কোবডেন, ব্রাইটস, ফরস্টারস, ইত্যাদি — দেশের সরকারি শাসনে অংশ নেওয়া থেকে বাদ থাকবেন, যতক্ষণ না ২০ বছর পরে একটি নতুন সংস্কার আইন তাদের ক্যাবিনেটের দরজা খুলে দেয়। ইংরেজ বুর্জোয়ারা আজ পর্যন্ত তাদের সামাজিক নিকৃষ্টতার অনুভূতিতে এত গভীরভাবে প্রবিষ্ট যে তারা তাদের নিজস্ব খরচে এবং জাতির খরচে ড্রোনের একটি অলংকারিক বর্ণের রক্ষণাবেক্ষণ করে যাতে সমস্ত রাষ্ট্রীয় কার্যাবলীতে জাতিকে যোগ্যভাবে প্রতিনিধিত্ব করে; এবং তারা নিজেদের অত্যন্ত সম্মানিত মনে করে যখন তাদের মধ্যে একজনকে এই নির্বাচিত এবং বিশেষাধিকারপ্রাপ্ত সংস্থায় প্রবেশের যোগ্য পাওয়া যায়, যা সর্বোপরি, নিজেদের দ্বারা তৈরি।শিল্প ও বাণিজ্যিক মধ্যবিত্ত, তাই, জমিদার অভিজাততন্ত্রকে রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে সম্পূর্ণরূপে তাড়াতে সফল হয়নি যখন আরেক প্রতিযোগী, শ্রমিক-শ্রেণী, মঞ্চে উপস্থিত হয়েছিল। চার্টিস্ট আন্দোলন এবং মহাদেশীয় বিপ্লবগুলির পরে প্রতিক্রিয়া, সেইসাথে ১৮৪৮-৬৬ সাল থেকে ইংরেজি বাণিজ্যের অতুলনীয় বিস্তার (ভলগারলি শুধুমাত্র মুক্ত বাণিজ্যের জন্য দায়ী, কিন্তু রেলওয়ে, সমুদ্রগামী স্টিমার এবং সাধারণভাবে যোগাযোগের মাধ্যমগুলির বিরাট বিকাশের কারণে অনেক বেশি) আবার শ্রমিক-শ্রেণীকে লিবারেল পার্টির অধীনতায় চালিত করেছিল, যার তারা প্রাক-চার্টিস্ট সময়ের মতো আমূল শাখা গঠন করেছিল। ভোটাধিকারের জন্য তাদের দাবিগুলি, তবে, ধীরে ধীরে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে; যখন হুইগ লিবারেল নেতারা "ভয় পেয়েছিলেন", ডিজরালি লিবারেলদের চেয়ে তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছিলেন টোরিদের অনুকূল মুহূর্তটি দখল করে এবং বরোতে গৃহস্থালি ভোটাধিকার প্রবর্তন করে, আসন পুনর্বণ্টনের সাথে। তারপর ব্যালট; তারপর, ১৮৮৪ সালে, কাউন্টিতে গৃহস্থালি ভোটাধিকারের সম্প্রসারণ এবং আসনগুলির একটি নতুন পুনর্বণ্টন, যার দ্বারা নির্বাচনী জেলাগুলি কিছু পরিমাণে সমান করা হয়েছিল। এই সমস্ত ব্যবস্থা শ্রমিক-শ্রেণীর নির্বাচনী ক্ষমতা যথেষ্ট বৃদ্ধি করেছিল, এতটাই যে কমপক্ষে ১৫০ থেকে ২০০ নির্বাচনী এলাকায় সেই শ্রেণী এখন ভোটারদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা সরবরাহ করেছিল। কিন্তু সংসদীয় সরকার ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান শেখানোর জন্য একটি চমৎকার বিদ্যালয়; যদি মধ্যবিত্ত শ্রদ্ধা এবং বিস্ময়ের সাথে যা লর্ড জন ম্যানার্স মজা করে "আমাদের পুরানো অভিজাততন্ত্র" বলে ডাকতেন তার দিকে তাকায়, কর্মজীবী জনগণের জনসাধারণ তখন শ্রদ্ধা এবং সম্মানের সাথে যা "তাদের ঊর্ধ্বতন" হিসাবে মনোনীত করা হত, মধ্যবিত্ত, তার দিকে তাকাত। প্রকৃতপক্ষে, ব্রিটিশ শ্রমিক, প্রায় ১৫ বছর আগে, আদর্শ শ্রমিক ছিলেন, যার কর্তার অবস্থানের প্রতি সম্মানজনক শ্রদ্ধা এবং নিজের জন্য অধিকার দাবি করার ক্ষেত্রে তার আত্মসংযমী নম্রতা, আমাদের জার্মান ক্যাথেডার-সোশ্যালিস্ট অর্থনীতিবিদদের তাদের নিজস্ব কর্মীদের ঘরে অসংক্রামক কমিউনিস্ট এবং বিপ্লবী প্রবণতার জন্য সান্ত্বনা দিয়েছিল।কিন্তু ইংরেজ মধ্যবিত্ত — ব্যবসায়ের ভাল মানুষ হিসাবে — জার্মান অধ্যাপকদের চেয়ে বেশি দূরদর্শী ছিল। তারা তাদের ক্ষমতা অনিচ্ছায় শ্রমিক-শ্রেণীর সাথে ভাগ করেছিল। তারা চার্টিস্ট বছরগুলিতে শিখেছিল যে পুয়ের রোবস্টাস সেড ম্যালিটিওসাস, জনগণ, কী করতে সক্ষম। এবং সেই সময় থেকে, তারা জনগণের সনদের ভাল অংশটি যুক্তরাজ্যের আইনে অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য হয়েছিল। এখন, যদি কখনও, জনগণকে নৈতিক উপায়ে শৃঙ্খলায় রাখতে হবে, এবং জনগণের উপর কাজ করার সমস্ত নৈতিক উপায়ের মধ্যে প্রথম এবং সর্বাগ্রে রয়ে গেছে — ধর্ম। তাই স্কুল বোর্ডে যাজকদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা, তাই রিচুয়ালিজম থেকে সালভেশন আর্মি পর্যন্ত সব ধরণের রিভাইভালিজমের সমর্থনের জন্য বুর্জোয়াদের ক্রমবর্ধমান স্ব-কর।এবং এখন এল মহাদেশীয় বুর্জোয়াদের মুক্তচিন্তা এবং ধর্মীয় শিথিলতার উপর ব্রিটিশ সম্মাননীয়তার বিজয়। ফ্রান্স এবং জার্মানির শ্রমিকরা বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিল। তারা সম্পূর্ণরূপে সমাজতন্ত্রে সংক্রমিত হয়েছিল, এবং খুব ভাল কারণেই, তাদের নিজস্ব আধিপত্য সুরক্ষিত করার উপায়গুলির বৈধতা সম্পর্কে মোটেও সুনির্দিষ্ট ছিল না। পুয়ের রোবস্টাস, এখানে, দিনে দিনে আরও ম্যালিটিওসাস হয়ে উঠছিল। ফরাসি এবং জার্মান বুর্জোয়াদের কাছে শেষ আশ্রয় হিসাবে আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না তাদের মুক্তচিন্তা চুপচাপ ফেলে দেওয়া ছাড়া, যেমন একটি যুবক, যখন সমুদ্র-অসুস্থতা তার উপর ক্রিপ করে, সে যে জ্বলন্ত সিগারটি গর্বের সাথে জাহাজে নিয়ে এসেছিল তা চুপচাপ ফেলে দেয়; একে একে, বিদ্রূপকারীরা বাহ্যিক আচরণে ধার্মিক হয়ে ওঠে, চার্চ, তার মতবাদ এবং আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি শ্রদ্ধার সাথে কথা বলে এবং এমনকি পরবর্তীগুলির সাথে যতদূর সম্ভব সঙ্গতি রেখেছিল। ফরাসি বুর্জোয়ারা শুক্রবারে মেইগ্রে ডিনার করত, এবং জার্মানরা রবিবার তাদের পিউতে দীর্ঘ প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্মোপদেশ শুনত। তারা বস্তুবাদের সাথে ব্যর্থ হয়েছিল। "ডাই রিলিজিয়ন মুস ডেম ভলক এরহালটেন ওয়ার্ডেন" — জনগণের জন্য ধর্মকে জীবন্ত রাখতে হবে — এটি ছিল সমাজকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর একমাত্র এবং শেষ উপায়। দুর্ভাগ্যবশত নিজেদের জন্য, তারা এটি খুঁজে পায়নি যতক্ষণ না তারা চিরতরে ধর্ম ভেঙে ফেলার জন্য তাদের স্তরের সর্বোত্তম কাজ করেছিল। এবং এখন ব্রিটিশ বুর্জোয়াদের পালা ছিল উপহাস করার এবং বলার: "কেন, বোকা, আমি তোমাকে ২০০ বছর আগে বলতে পারতাম!"যাইহোক, আমি ভয় পাচ্ছি ব্রিটিশদের ধর্মীয় জড়তা বা মহাদেশীয় বুর্জোয়াদের পোস্ট-ফেস্টাম ধর্মান্তর ক্রমবর্ধমান সর্বহারা জোয়ারকে থামাতে পারবে না। ঐতিহ্য একটি মহান প্রতিবন্ধক শক্তি, এটি ইতিহাসের ভিস ইনর্শিয়া, কিন্তু, কেবল নিষ্ক্রিয় হওয়ায়, এটি ভেঙে যেতে বাধ্য; এবং এইভাবে ধর্ম পুঁজিবাদী সমাজের জন্য কোনও স্থায়ী সুরক্ষা হবে না। যদি আমাদের বিচারিক, দার্শনিক এবং ধর্মীয় ধারণাগুলি একটি প্রদত্ত সমাজে প্রচলিত অর্থনৈতিক সম্পর্কের কমবেশি দূরবর্তী শাখা হয়, তবে এই জাতীয় ধারণাগুলি দীর্ঘমেয়াদে এই সম্পর্কগুলির একটি সম্পূর্ণ পরিবর্তনের প্রভাব সহ্য করতে পারে না। এবং, যদি না আমরা অলৌকিক প্রকাশে বিশ্বাস করি, আমাদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে কোনও ধর্মীয় মতবাদ কখনও একটি ভাঙা-পড়া সমাজকে সমর্থন করার জন্য যথেষ্ট হবে না।প্রকৃতপক্ষে, ইংল্যান্ডেও, কর্মজীবী জনগণ আবার চলতে শুরু করেছে। তারা, নিঃসন্দেহে, বিভিন্ন ধরণের ঐতিহ্য দ্বারা শৃঙ্খলিত। বুর্জোয়া ঐতিহ্য, যেমন ব্যাপক বিশ্বাস যে কেবল দুটি দল থাকতে পারে, কনজারভেটিভ এবং লিবারেল, এবং যে শ্রমিক-শ্রেণীকে মহান লিবারেল পার্টির মাধ্যমে এবং দ্বারা তার মুক্তি কাজ করতে হবে। শ্রমিক-পুরুষদের ঐতিহ্য, তাদের স্বাধীন পদক্ষেপের প্রথম চেষ্টামূলক প্রচেষ্টা থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত, যেমন অনেক পুরানো ট্রেড ইউনিয়ন থেকে নিয়মিত শিক্ষানবিশের মধ্য দিয়ে না যাওয়া সমস্ত আবেদনকারীদের বাদ দেওয়া; যার অর্থ হল, প্রতিটি এই জাতীয় ইউনিয়ন দ্বারা তার নিজস্ব ব্ল্যাকলেগদের প্রজনন। কিন্তু, তা সত্ত্বেও, ইংরেজ শ্রমিক-শ্রেণী চলছে, এমনকি অধ্যাপক ব্রেন্টানোর দুঃখের সাথে তার সহকর্মী ক্যাথেডার-সোশ্যালিস্টদের কাছে রিপোর্ট করতে হয়েছে। এটি চলছে, ইংল্যান্ডের সমস্ত কিছুর মতো, একটি ধীর এবং পরিমাপিত পদক্ষেপে, এখানে দ্বিধা সহ, সেখানে কমবেশি ফলপ্রসূ, চেষ্টামূলক প্রচেষ্টা সহ; এটি এখন এবং তারপরে সমাজতন্ত্রের নামের প্রতি একটি অতিসতর্কিত অবিশ্বাসের সাথে চলে, যখন এটি ধীরে ধীরে পদার্থটি শোষণ করে; এবং আন্দোলনটি ছড়িয়ে পড়ে এবং শ্রমিকদের এক স্তরের পর অন্য স্তর দখল করে। এটি এখন লন্ডনের পূর্ব প্রান্তের অদক্ষ শ্রমিকদের তাদের জড়তা থেকে নাড়িয়ে দিয়েছে, এবং আমরা সবাই জানি এই নতুন বাহিনীগুলি বিনিময়ে এটিকে কী চমৎকার প্রেরণা দিয়েছে। এবং যদি আন্দোলনের গতি কিছু লোকের অধৈর্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ না হয়, তবে তারা যেন ভুলে না যায় যে এটি শ্রমিক-শ্রেণী যা ইংরেজ চরিত্রের সূক্ষ্ম গুণাবলীকে জীবন্ত রাখে, এবং যদি ইংল্যান্ডে একবার অগ্রগতি অর্জিত হয়, তবে এটি একটি নিয়ম হিসাবে, পরে কখনও হারিয়ে যায় না। যদি পুরানো চার্টিস্টদের পুত্ররা, উপরে ব্যাখ্যা না করা কারণে, মানদণ্ডের সাথে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ না হয়, তবে নাতিরা তাদের পূর্বপুরুষদের যোগ্য হতে বাধ্য।কিন্তু ইউরোপীয় শ্রমিক-শ্রেণীর বিজয় কেবল ইংল্যান্ডের উপর নির্ভর করে না। এটি কমপক্ষে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স এবং জার্মানির সহযোগিতার মাধ্যমে সুরক্ষিত হতে পারে। পরবর্তী উভয় দেশেই, শ্রমিক-শ্রেণী আন্দোলন ইংল্যান্ডের চেয়ে অনেক এগিয়ে। জার্মানিতে, এটি এমনকি সাফল্যের পরিমাপযোগ্য দূরত্বের মধ্যে। গত ২৫ বছরে এটি সেখানে যে অগ্রগতি করেছে তা অতুলনীয়। এটি ক্রমবর্ধমান গতিতে অগ্রসর হয়। যদি জার্মান মধ্যবিত্ত রাজনৈতিক ক্ষমতা, শৃঙ্খলা, সাহস, শক্তি এবং অধ্যবসায়ে দুঃখজনকভাবে ঘাটতি দেখিয়ে থাকে, তবে জার্মান শ্রমিক-শ্রেণী এই সমস্ত গুণাবলীর যথেষ্ট প্রমাণ দিয়েছে। চারশ বছর আগে, জার্মানি ছিল ইউরোপীয় মধ্যবিত্তের প্রথম উত্থানের সূচনা বিন্দু; এখন যেমন আছে, এটি কি সম্ভাবনার বাইরে যে জার্মানি ইউরোপীয় সর্বহারা শ্রেণীর প্রথম মহান বিজয়ের স্থানও হবে?ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসলন্ডন২০ এপ্রিল, ১৮৯২ইউটোপীয় সমাজতন্ত্রের বিকাশআধুনিক সমাজতন্ত্র, তার সারমর্মে, একদিকে, আজকের সমাজে মালিক এবং অ-মালিকদের মধ্যে, পুঁজিপতি এবং মজুরি-শ্রমিকদের মধ্যে বিদ্যমান শ্রেণী বিরোধিতার স্বীকৃতির; অন্যদিকে, উৎপাদনে বিদ্যমান বিশৃঙ্খলার স্বীকৃতির সরাসরি পণ্য। কিন্তু, তার তাত্ত্বিক রূপে, আধুনিক সমাজতন্ত্র মূলত ১৮শ শতাব্দীর মহান ফরাসি দার্শনিকদের দ্বারা প্রতিপাদিত নীতিগুলির একটি আরও যৌক্তিক সম্প্রসারণ হিসাবে আবির্ভূত হয়। প্রতিটি নতুন তত্ত্বের মতো, আধুনিক সমাজতন্ত্রকেও প্রথমে তার হাতে প্রস্তুত বুদ্ধিবৃত্তিক স্টক-ইন-ট্রেডের সাথে নিজেকে সংযুক্ত করতে হয়েছিল, তার শিকড়গুলি বস্তুগত অর্থনৈতিক তথ্যগুলিতে যত গভীরভাবে নিহিত থাকুক না কেন।মহান ব্যক্তিরা, যারা ফ্রান্সে আসন্ন বিপ্লবের জন্য মানুষের মন প্রস্তুত করেছিলেন, তারা নিজেরাই চরম বিপ্লবী ছিলেন। তারা যে কোনও ধরণের বাহ্যিক কর্তৃত্বকে স্বীকৃতি দেননি। ধর্ম, প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, সমাজ, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান — সবকিছুই সবচেয়ে নির্মম সমালোচনার অধীন ছিল: প্রতিটি জিনিসকে যুক্তির বিচার-আসনের সামনে তার অস্তিত্বকে ন্যায্যতা দিতে হবে অথবা অস্তিত্ব ত্যাগ করতে হবে। যুক্তি সবকিছুর একমাত্র পরিমাপ হয়ে ওঠে। এটি ছিল সেই সময় যখন, হেগেল যেমন বলেন, বিশ্ব তার মাথার উপর দাঁড়িয়েছিল [১]; প্রথমে এই অর্থে যে মানুষের মাথা, এবং তার চিন্তাভাবনা দ্বারা অর্জিত নীতিগুলি, সমস্ত মানব কর্ম ও সমিতির ভিত্তি হওয়ার দাবি করেছিল; কিন্তু ধীরে ধীরে, আরও বিস্তৃত অর্থেও, যে বাস্তবতা যা এই নীতিগুলির সাথে বিরোধপূর্ণ ছিল, তাকে উল্টে দিতে হয়েছিল। তখন বিদ্যমান সমাজ ও সরকারের প্রতিটি রূপ, প্রতিটি পুরানো ঐতিহ্যবাহী ধারণা, যুক্তিহীন হিসাবে আবর্জনার স্তূপে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল; বিশ্ব এখন পর্যন্ত কেবল কুসংস্কার দ্বারা পরিচালিত হতে দিয়েছিল; অতীতের সবকিছু কেবল করুণা এবং অবজ্ঞার যোগ্য ছিল। এখন, প্রথমবারের মতো, আলোর দিন, যুক্তির রাজ্য উপস্থিত হয়েছিল; এখন থেকে কুসংস্কার, অবিচার, বিশেষাধিকার, নিপীড়ন, চিরন্তন সত্য, চিরন্তন অধিকার, প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে সমতা এবং মানুষের অবিচ্ছেদ্য অধিকার দ্বারা প্রতিস্থাপিত হওয়ার কথা ছিল।আমরা আজ জানি যে যুক্তির এই রাজ্যটি বুর্জোয়াদের আদর্শ রাজ্য ছাড়া আর কিছুই ছিল না; যে এই চিরন্তন অধিকার বুর্জোয়া ন্যায়বিচারে তার বাস্তবায়ন খুঁজে পেয়েছিল; যে এই সমতা আইনের আগে বুর্জোয়া সমতা-তে পরিণত হয়েছিল; যে বুর্জোয়া সম্পত্তি মানুষের অপরিহার্য অধিকারগুলির মধ্যে একটি হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল; এবং যে যুক্তির সরকার, রুসোর কন্ট্রা সোশ্যাল, একটি গণতান্ত্রিক বুর্জোয়া প্রজাতন্ত্র হিসাবে এসেছিল এবং কেবল আসতে পারে। ১৮শ শতাব্দীর মহান চিন্তাবিদরা, তাদের পূর্বসূরীদের চেয়ে বেশি, তাদের যুগ দ্বারা তাদের উপর আরোপিত সীমার বাইরে যেতে পারেননি।কিন্তু, সামন্ত অভিজাততন্ত্র এবং নগরবাসীদের বিরোধিতার পাশাপাশি, যারা সমাজের বাকি অংশের প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করেছিল, ছিল শোষক এবং শোষিত, ধনী অলস এবং দরিদ্র শ্রমিকদের সাধারণ বিরোধিতা। এই খুব পরিস্থিতিই বুর্জোয়াদের প্রতিনিধিদের পক্ষে নিজেদেরকে এক বিশেষ শ্রেণীর নয়, বরং সমগ্র দুঃখী মানবতার প্রতিনিধি হিসাবে উপস্থাপন করা সম্ভব করেছিল। আরও। তার উৎপত্তি থেকেই বুর্জোয়ারা তার বিরোধীতার সাথে বোঝা ছিল: পুঁজিপতিরা মজুরি-শ্রমিক ছাড়া থাকতে পারে না, এবং, একই অনুপাতে যেটিতে গিল্ডের মধ্যযুগীয় নগরবাসী আধুনিক বুর্জোয়াতে বিকশিত হয়েছিল, গিল্ডের সহকারী এবং গিল্ডের বাইরের দিন-শ্রমিক সর্বহারা শ্রেণীতে বিকশিত হয়েছিল। এবং যদিও, সামগ্রিকভাবে, বুর্জোয়ারা, অভিজাততন্ত্রের সাথে তাদের সংগ্রামে, সেই সময়ের বিভিন্ন কর্মজীবী শ্রেণীর স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করতে পারে, তবুও প্রতিটি মহান বুর্জোয়া আন্দোলনে সেই শ্রেণীর স্বাধীন বিস্ফোরণ ঘটেছিল যা ছিল আধুনিক সর্বহারা শ্রেণীর কমবেশি বিকশিত অগ্রদূত। উদাহরণস্বরূপ, জার্মান সংস্কার এবং কৃষক যুদ্ধের সময়, অ্যানাব্যাপটিস্ট এবং মহান ফরাসি বিপ্লবে, বাবেফ।এগুলি ছিল তাত্ত্বিক ঘোষণা, একটি এখনও বিকশিত নয় এমন শ্রেণীর এই বিপ্লবী বিদ্রোহগুলির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ; ১৬শ এবং ১৭শ শতাব্দীতে, আদর্শ সামাজিক অবস্থার ইউটোপীয় চিত্র; ১৮শ শতাব্দীতে, প্রকৃত কমিউনিস্ট তত্ত্ব (মোরেলি এবং মাবলি)। সমতার দাবি আর রাজনৈতিক অধিকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি ব্যক্তিদের সামাজিক অবস্থার সাথেও প্রসারিত হয়েছিল। কেবল শ্রেণী বিশেষাধিকারগুলিই নয়, শ্রেণী পার্থক্যগুলি নিজেরাই বিলুপ্ত করতে হয়েছিল। একটি কমিউনিজম, তপস্বী, জীবনের সমস্ত আনন্দকে নিন্দা করে, স্পার্টান, নতুন শিক্ষার প্রথম রূপ ছিল।তারপর এল তিন মহান ইউটোপিয়ান: সেন্ট-সাইমন, যার কাছে মধ্যবিত্ত আন্দোলন, সর্বহারা আন্দোলনের পাশাপাশি, এখনও একটি নির্দিষ্ট তাত্পর্য ছিল; ফুরিয়ার; এবং ওয়েন, যিনি সেই দেশে যেখানে পুঁজিবাদী উৎপাদন সবচেয়ে বিকশিত ছিল, এবং এর দ্বারা সৃষ্ট বিরোধিতার প্রভাবের অধীনে, শ্রেণী পার্থক্য দূর করার জন্য তার প্রস্তাবগুলি পদ্ধতিগতভাবে এবং ফরাসি বস্তুবাদের সাথে সরাসরি সম্পর্ক রেখে তৈরি করেছিলেন।তিনজনের মধ্যে একটি জিনিস সাধারণ। তাদের কেউই সেই সর্বহারা শ্রেণীর স্বার্থের প্রতিনিধি হিসাবে আবির্ভূত হয় না যা ঐতিহাসিক বিকাশ ইতিমধ্যে তৈরি করেছিল। ফরাসি দার্শনিকদের মতো, তারা প্রথমে একটি বিশেষ শ্রেণীকে নয়, বরং একসাথে সমস্ত মানবতাকে মুক্ত করার দাবি করে। তাদের মতো, তারা যুক্তি এবং চিরন্তন ন্যায়বিচারের রাজ্য আনতে চায়, কিন্তু এই রাজ্য, তারা যেমন দেখে, ফরাসি দার্শনিকদের থেকে স্বর্গ ও পৃথিবীর মতো দূরে।কারণ, আমাদের তিন সামাজিক সংস্কারকের কাছে, এই দার্শনিকদের নীতির উপর ভিত্তি করে বুর্জোয়া বিশ্বটি ঠিক ততটাই অযৌক্তিক এবং অবিচারপূর্ণ, এবং তাই, সামন্তবাদ এবং সমাজের সমস্ত পূর্ববর্তী স্তরের মতোই সহজেই আবর্জনার স্তূপে তার পথ খুঁজে পায়। যদি বিশুদ্ধ যুক্তি এবং ন্যায়বিচার এখনও বিশ্বকে শাসন না করে, তবে এটি কেবল এই কারণেই হয়েছে যে মানুষ সেগুলি সঠিকভাবে বোঝেনি। যা প্রয়োজন ছিল প্রতিভাবান ব্যক্তি, যিনি এখন আবির্ভূত হয়েছেন এবং যিনি সত্য বোঝেন। যে তিনি এখন আবির্ভূত হয়েছেন, যে সত্য এখন স্পষ্টভাবে বোঝা গেছে, এটি ঐতিহাসিক বিকাশের শৃঙ্খলের একটি অনিবার্য ঘটনা নয়, বরং একটি নিছক সুখী দুর্ঘটনা। তিনি ঠিক তেমনই ৫০০ বছর আগে জন্মগ্রহণ করতে পারতেন, এবং তখন মানবতাকে ৫০০ বছরের ত্রুটি, সংগ্রাম এবং যন্ত্রণা থেকে রক্ষা করতে পারতেন।আমরা দেখেছি কীভাবে ১৮শ শতাব্দীর ফরাসি দার্শনিকরা, বিপ্লবের অগ্রদূতরা, যুক্তিকে সবকিছুর একমাত্র বিচারক হিসাবে আবেদন করেছিলেন। একটি যুক্তিসঙ্গত সরকার, যুক্তিসঙ্গত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে; চিরন্তন যুক্তির বিপরীতে যা কিছু ছিল তা নির্মমভাবে বিলুপ্ত করতে হবে। আমরা আরও দেখেছি যে এই চিরন্তন যুক্তি বাস্তবে ১৮শ শতাব্দীর নাগরিকের আদর্শিক বোধশক্তি ছাড়া আর কিছুই ছিল না, যিনি তখন বুর্জোয়াতে বিবর্তিত হচ্ছিলেন। ফরাসি বিপ্লব এই যুক্তিসঙ্গত সমাজ ও সরকারকে উপলব্ধি করেছিল।কিন্তু জিনিসের নতুন ক্রম, পূর্ববর্তী অবস্থার তুলনায় যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত, সম্পূর্ণরূপে যুক্তিসঙ্গত হতে পরিণত হয়নি। যুক্তির উপর ভিত্তি করে রাষ্ট্রটি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়ে। রুসোর কন্ট্রা সোশ্যাল সন্ত্রাসের রাজত্বে তার বাস্তবায়ন খুঁজে পেয়েছিল, যেখান থেকে বুর্জোয়ারা, যারা তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক ক্ষমতার উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল, প্রথমে ডিরেক্টরেটের দুর্নীতিতে এবং শেষ পর্যন্ত নেপোলিয়নীয় স্বৈরতন্ত্রের ডানার নীচে আশ্রয় নিয়েছিল। প্রতিশ্রুত চিরন্তন শান্তি বিজয়ের একটি অবিরাম যুদ্ধে পরিণত হয়েছিল। যুক্তির উপর ভিত্তি করে সমাজের অবস্থা ভাল ছিল না। ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বিরোধিতা, সাধারণ সমৃদ্ধিতে বিলীন হওয়ার পরিবর্তে, গিল্ড এবং অন্যান্য বিশেষাধিকারগুলি অপসারণের দ্বারা তীব্রতর হয়েছিল, যা কিছু পরিমাণে এটি সেতুবন্ধন করেছিল, এবং চার্চের দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলি অপসারণের দ্বারা। সামন্ত বন্ধন থেকে সম্পত্তির "স্বাধীনতা", এখন সত্যিকার অর্থে সম্পন্ন হয়েছে, ছোট পুঁজিপতি এবং ছোট মালিকদের জন্য, বড় পুঁজিপতি এবং জমিদারদের অপ্রতিরোধ্য প্রতিযোগিতার অধীনে তাদের ছোট সম্পত্তি এই মহান প্রভুদের কাছে বিক্রি করার স্বাধীনতা হিসাবে পরিণত হয়েছিল, এবং এইভাবে, যতদূর ছোট পুঁজিপতি এবং কৃষক মালিকরা উদ্বিগ্ন ছিল, "সম্পত্তি থেকে স্বাধীনতা" হয়ে ওঠে। একটি পুঁজিবাদী ভিত্তিতে শিল্পের বিকাশ শ্রমজীবী জনগণের দারিদ্র্য এবং দুর্দশাকে সমাজের অস্তিত্বের শর্ত করে তুলেছিল। নগদ অর্থ প্রদান ক্রমবর্ধমানভাবে, কার্লাইলের বাক্যে [থমাস কার্লাইল, পাস্ট অ্যান্ড প্রেজেন্ট, লন্ডন ১৮৪৩ ], মানুষ ও মানুষের মধ্যে একমাত্র সম্পর্ক হয়ে ওঠে। অপরাধের সংখ্যা বছর বছর বেড়েছে। পূর্বে, সামন্ত দুষ্কর্মগুলি খোলা দিনের আলোতে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করত; যদিও নির্মূল না হয়, সেগুলি এখন অন্তত পটভূমিতে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। তাদের পরিবর্তে, বুর্জোয়া দুষ্কর্মগুলি, এখন পর্যন্ত গোপনে চর্চা করা, আরও বেশি করে প্রস্ফুটিত হতে শুরু করে। বাণিজ্য ক্রমবর্ধমানভাবে প্রতারণায় পরিণত হয়েছিল। বিপ্লবী নীতিবাক্যের "ভ্রাতৃত্ব" প্রতিযোগিতার যুদ্ধের কৌশল এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উপলব্ধি করা হয়েছিল। বল দ্বারা নিপীড়ন দুর্নীতি দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছিল; প্রথম সামাজিক লিভার হিসাবে তরোয়াল, সোনা দ্বারা। প্রথম রাতের অধিকার সামন্ত প্রভুদের থেকে বুর্জোয়া উৎপাদনকারীদের কাছে স্থানান্তরিত হয়েছিল। পতিতাবৃত্তি এমন পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছিল যা আগে কখনও শোনা যায়নি। বিবাহ নিজেই আগের মতোই রয়ে গিয়েছিল, পতিতাবৃত্তির আইনত স্বীকৃত রূপ, সরকারি আবরণ, এবং উপরন্তু, ব্যাভিচারের সমৃদ্ধ ফসল দ্বারা পরিপূরক হয়েছিল।এক কথায়, দার্শনিকদের দুর্দান্ত প্রতিশ্রুতির তুলনায়, "যুক্তির বিজয়" থেকে জন্ম নেওয়া সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলি তিক্তভাবে হতাশাজনক ব্যঙ্গচিত্র ছিল। যা প্রয়োজন ছিল এই হতাশা প্রণয়নের জন্য মানুষ, এবং তারা শতাব্দীর মোড় নিয়ে এসেছিল। ১৮০২ সালে, সেন্ট-সাইমনের জেনেভা চিঠি প্রকাশিত হয়; ১৮০৮ সালে ফুরিয়ারের প্রথম কাজ প্রকাশিত হয়, যদিও তার তত্ত্বের ভিত্তি ১৭৯৯ সালের; ১৮০০ সালের ১ জানুয়ারি, রবার্ট ওয়েন নিউ ল্যানার্কের পরিচালনার দায়িত্ব নেন।এই সময়ে, তবে, পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতি, এবং এর সাথে বুর্জোয়াদের এবং সর্বহারা শ্রেণীর মধ্যে বিরোধিতা, এখনও খুব অসম্পূর্ণভাবে বিকশিত ছিল। আধুনিক শিল্প, যা ইংল্যান্ডে সবেমাত্র উদ্ভূত হয়েছিল, ফ্রান্সে এখনও অজানা ছিল। কিন্তু আধুনিক শিল্প বিকশিত হয়, একদিকে, সেই দ্বন্দ্বগুলি যা উৎপাদন পদ্ধতিতে একটি বিপ্লব এবং এর পুঁজিবাদী চরিত্রের বিলোপকে একেবারে প্রয়োজনীয় করে তোলে — দ্বন্দ্বগুলি কেবল এর দ্বারা সৃষ্ট শ্রেণীগুলির মধ্যে নয়, উৎপাদন শক্তি এবং এর দ্বারা সৃষ্ট বিনিময়ের রূপগুলির মধ্যেও। এবং, অন্যদিকে, এটি এই খুব বিরাট উৎপাদন শক্তিগুলিতে এই দ্বন্দ্বগুলি শেষ করার উপায়গুলি বিকশিত করে। যদি, তাই, ১৮০০ সালের দিকে, নতুন সামাজিক ব্যবস্থা থেকে উদ্ভূত দ্বন্দ্বগুলি কেবল আকার নিতে শুরু করেছিল, তবে সেগুলি শেষ করার উপায়গুলির ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি সত্য। সন্ত্রাসের রাজত্বের সময় প্যারিসের "নির্বোধ" জনগণ মুহূর্তের জন্য কর্তৃত্ব অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল, এবং এইভাবে বুর্জোয়াদের নিজেদের সত্ত্বেও বুর্জোয়া বিপ্লবকে বিজয়ের দিকে পরিচালিত করেছিল। কিন্তু, তা করার মাধ্যমে, তারা কেবল প্রমাণ করেছিল যে তখনকার অবস্থার অধীনে তাদের আধিপত্য কতটা অসম্ভব ছিল। সর্বহারা শ্রেণী, যা তখন প্রথমবারের মতো এই "নির্বোধ" জনগণ থেকে একটি নতুন শ্রেণীর কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে বিকশিত হয়েছিল, স্বাধীন রাজনৈতিক কর্মের জন্য এখনও সম্পূর্ণ অক্ষম, একটি নিপীড়িত, যন্ত্রণাদায়ক শ্রেণী হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিল, যাকে তার নিজের সাহায্য করতে অক্ষমতায়, সাহায্য সর্বোত্তমভাবে বাইরে থেকে বা উপর থেকে আনা যেতে পারে।এই ঐতিহাসিক পরিস্থিতি সমাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতাদেরও প্রভাবিত করেছিল। পুঁজিবাদী উৎপাদনের অপরিণত অবস্থা এবং অপরিণত শ্রেণী অবস্থার সাথে অপরিণত তত্ত্বগুলি সঙ্গতিপূর্ণ। সামাজিক সমস্যার সমাধান, যা এখনও অনুন্নত অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে লুকিয়ে ছিল, ইউটোপিয়ানরা মানুষের মস্তিষ্ক থেকে বিবর্তিত করার চেষ্টা করেছিল। সমাজ কেবল অন্যায় উপস্থাপন করেছিল; এগুলি দূর করা ছিল যুক্তির কাজ। এটি প্রয়োজনীয় ছিল, তাই, সামাজিক ব্যবস্থার একটি নতুন এবং আরও নিখুঁত পদ্ধতি আবিষ্কার করা এবং প্রচারের মাধ্যমে বাইরে থেকে সমাজের উপর এটি চাপিয়ে দেওয়া, এবং যেখানেই সম্ভব, মডেল পরীক্ষার উদাহরণ দ্বারা। এই নতুন সামাজিক ব্যবস্থাগুলি ইউটোপীয় হিসাবে পূর্বনির্ধারিত ছিল; যত বেশি বিস্তারিতভাবে সেগুলি তৈরি করা হয়েছিল, তত বেশি তারা বিশুদ্ধ কল্পনায় প্রবাহিত হওয়া এড়াতে পারেনি।এই তথ্যগুলি একবার প্রতিষ্ঠিত হলে, আমাদের প্রশ্নের এই দিকটিতে আরও কিছুক্ষণ থাকার দরকার নেই, যা এখন সম্পূর্ণরূপে অতীতের অন্তর্গত। আমরা এটি সাহিত্যিক ক্ষুদ্র ব্যক্তিদের উপর ছেড়ে দিতে পারি যারা এই কল্পনাগুলি নিয়ে গম্ভীরভাবে তর্ক করে, যা আজ আমাদের কেবল হাসায়, এবং এই ধরনের "উন্মাদনার" তুলনায় তাদের নিজস্ব টাক যুক্তির শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে গর্ব করে। নিজেদের জন্য, আমরা সেই বিরাট মহান চিন্তাভাবনা এবং চিন্তার জীবাণুগুলিতে আনন্দিত হই যা তাদের কল্পনাপ্রবণ আবরণের মাধ্যমে সর্বত্র উদ্ভূত হয়, এবং যাদের কাছে এই ফিলিস্টিনরা অন্ধ।সেন্ট-সাইমন মহান ফরাসি বিপ্লবের পুত্র ছিলেন, যার প্রাদুর্ভাবের সময় তিনি ৩০ বছর বয়সী ছিলেন না। বিপ্লব ছিল ৩য় এস্টেটের বিজয় — অর্থাৎ, উৎপাদন ও বাণিজ্যে কর্মরত জাতির বিশাল জনগণের — বিশেষাধিকারপ্রাপ্ত অলস শ্রেণী, অভিজাত এবং যাজকদের উপর। কিন্তু ৩য় এস্টেটের বিজয় শীঘ্রই নিজেকে এই "এস্টেট" -এর একটি ছোট অংশের একচেটিয়া বিজয় হিসাবে প্রকাশ করেছিল, এর সামাজিকভাবে বিশেষাধিকারপ্রাপ্ত অংশের রাজনৈতিক ক্ষমতা বিজয় হিসাবে — অর্থাৎ, সম্পত্তিশালী বুর্জোয়ারা। এবং বুর্জোয়ারা অবশ্যই বিপ্লবের সময় দ্রুত বিকশিত হয়েছিল, আংশিকভাবে অভিজাত এবং চার্চের জমি বাজেয়াপ্ত এবং পরে বিক্রয়ের জন্য রাখা জমিতে জল্পনা করে, এবং আংশিকভাবে সেনাবাহিনীর চুক্তির মাধ্যমে জাতির উপর জালিয়াতি করে। এটি এই প্রতারকদের আধিপত্য ছিল যে, ডিরেক্টরেটের অধীনে, ফ্রান্সকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছিল, এবং এইভাবে নেপোলিয়নকে তার অভ্যুত্থানের অজুহাত দিয়েছিল।সুতরাং, সেন্ট-সাইমনের কাছে ৩য় এস্টেট এবং বিশেষাধিকারপ্রাপ্ত শ্রেণীগুলির মধ্যে বিরোধিতা "শ্রমিক" এবং "অলস" এর মধ্যে বিরোধিতার রূপ নিয়েছিল। অলসরা কেবল পুরানো বিশেষাধিকারপ্রাপ্ত শ্রেণীই ছিল না, বরং তারাও যারা, উৎপাদন বা বিতরণে কোনও অংশ না নিয়ে, তাদের আয়ের উপর বাস করত। এবং শ্রমিকরা কেবল মজুরি-শ্রমিকই ছিল না, বরং উৎপাদনকারী, বণিক, ব্যাঙ্কারও ছিলেন। যে অলসরা বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক আধিপত্যের ক্ষমতা হারিয়েছিল তা প্রমাণিত হয়েছিল এবং বিপ্লব দ্বারা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়েছিল। যে অ-সম্পত্তিশীল শ্রেণীগুলির এই ক্ষমতা ছিল না তা সেন্ট-সাইমনের কাছে সন্ত্রাসের রাজত্বের অভিজ্ঞতা দ্বারা প্রমাণিত বলে মনে হয়েছিল। তাহলে, কে নেতৃত্ব ও আদেশ দেবে? সেন্ট-সাইমনের মতে, বিজ্ঞান এবং শিল্প, উভয়ই একটি নতুন ধর্মীয় বন্ধনে একত্রিত, যা সংস্কারের সময় থেকে হারিয়ে যাওয়া ধর্মীয় ধারণার ঐক্য পুনরুদ্ধার করার জন্য নির্ধারিত — একটি অগত্যা রহস্যময় এবং কঠোরভাবে শ্রেণিবদ্ধ "নতুন খ্রিস্টান ধর্ম"। কিন্তু বিজ্ঞান, তা ছিল পণ্ডিতরা; এবং শিল্প, তা ছিল, প্রথমত, কর্মজীবী বুর্জোয়ারা, উৎপাদনকারী, বণিক, ব্যাঙ্কার। এই বুর্জোয়ারা অবশ্যই সেন্ট-সাইমনের দ্বারা নিজেদেরকে এক ধরণের সরকারি কর্মকর্তা, সামাজিক ট্রাস্টিতে রূপান্তরিত করার উদ্দেশ্যে ছিল; কিন্তু তারা এখনও শ্রমিকদের তুলনায় একটি কমান্ডিং এবং অর্থনৈতিকভাবে বিশেষাধিকারপ্রাপ্ত অবস্থান ধরে রাখতে হবে। ব্যাঙ্কারদের বিশেষভাবে ঋণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সমগ্র সামাজিক উৎপাদন পরিচালনা করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছিল। এই ধারণাটি ঠিক সেই সময়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল যখন ফ্রান্সে আধুনিক শিল্প এবং এর সাথে বুর্জোয়াদের এবং সর্বহারা শ্রেণীর মধ্যে ব্যবধান কেবল তৈরি হচ্ছিল। কিন্তু সেন্ট-সাইমন বিশেষ করে যা জোর দেন তা হল: তাকে প্রথম এবং সর্বোপরি আগ্রহী করে তা হল সবচেয়ে সংখ্যাধিক্য এবং সবচেয়ে দরিদ্র শ্রেণীর অবস্থা ("লা ক্লাসে লা প্লাস নম্বরোজ এ লা প্লাস পাওভ্রে")।ইতিমধ্যেই তার জেনেভা চিঠিতে, সেন্ট-সাইমন এই প্রস্তাবটি রাখেন যে "সমস্ত মানুষের কাজ করা উচিত"। একই কাজে তিনি স্বীকার করেন যে সন্ত্রাসের রাজত্ব ছিল অ-সম্পত্তিশীল জনগণের রাজত্ব। "দেখুন," তিনি তাদের বলেন, "ফ্রান্সে তখন কী ঘটেছিল যখন আপনার কমরেডরা সেখানে কর্তৃত্ব করেছিল; তারা দুর্ভিক্ষ এনেছিল।" [লেত্র দ্যুন আবিতাঁ দ্য জেনেভ আ সা কনটেমপোরাঁ, সেন্ট-সাইমন, ১৮০৩]কিন্তু ফরাসি বিপ্লবকে একটি শ্রেণী যুদ্ধ হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া, এবং কেবল অভিজাততন্ত্র এবং বুর্জোয়াদের মধ্যে নয়, বরং অভিজাততন্ত্র, বুর্জোয়ারা এবং অ-সম্পত্তিশীলদের মধ্যে, ১৮০২ সালে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আবিষ্কার ছিল। ১৮১৬ সালে, তিনি ঘোষণা করেন যে রাজনীতি হল উৎপাদনের বিজ্ঞান, এবং অর্থনীতির দ্বারা রাজনীতির সম্পূর্ণ শোষণের ভবিষ্যদ্বাণী করেন। যে অর্থনৈতিক অবস্থাগুলি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি তা সম্পর্কে জ্ঞান এখানে কেবল ভ্রূণ অবস্থায় উপস্থিত হয়। তবুও এখানে যা ইতিমধ্যে খুব স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়েছে তা হল মানুষের উপর রাজনৈতিক শাসনের ভবিষ্যত রূপান্তরের ধারণা জিনিসগুলির একটি প্রশাসন এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার একটি দিকনির্দেশনা — অর্থাৎ, "রাষ্ট্রের বিলোপ", যা সম্প্রতি নিয়ে এত শোরগোল হয়েছে।সেন্ট-সাইমন তার সমসাময়িকদের উপর একই শ্রেষ্ঠত্ব দেখান, যখন ১৮১৪ সালে, মিত্রদের প্যারিসে প্রবেশের পরপরই, এবং আবার ১৮১৫ সালে, শত দিনের যুদ্ধের সময়, তিনি ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ডের জোট ঘোষণা করেন, এবং তারপর এই উভয় দেশের জার্মানির সাথে জোট, ইউরোপের সমৃদ্ধ উন্নয়ন ও শান্তির একমাত্র গ্যারান্টি হিসাবে। ১৮১৫ সালে ওয়াটারলুতে বিজয়ীদের সাথে জোটের প্রচার করার জন্য ফরাসিদের কাছে যেমন সাহসের প্রয়োজন ছিল তেমনি ঐতিহাসিক দূরদর্শিতারও।যদি সেন্ট-সাইমনে আমরা একটি ব্যাপক দৃষ্টিভঙ্গি দেখতে পাই, যার গুণে পরবর্তী সমাজতন্ত্রীদের প্রায় সমস্ত ধারণা যা কঠোরভাবে অর্থনৈতিক নয় সেগুলি তার মধ্যে ভ্রূণ অবস্থায় পাওয়া যায়, আমরা ফুরিয়ারে বিদ্যমান সমাজের অবস্থার একটি সমালোচনা দেখতে পাই, প্রকৃতপক্ষে ফরাসি এবং বুদ্ধিমান, কিন্তু তার জন্য কম পুঙ্খানুপুঙ্খ নয়। ফুরিয়ার বুর্জোয়াদের, বিপ্লবের আগে তাদের অনুপ্রাণিত লোক এবং এর পরে তাদের আগ্রহী প্রশংসকদের তাদের নিজস্ব কথায় ধরে। তিনি নির্মমভাবে বুর্জোয়া বিশ্বের বস্তুগত এবং নৈতিক দুরবস্থা উন্মোচন করেন। তিনি এটিকে পূর্ববর্তী দার্শনিকদের চমকপ্রদ প্রতিশ্রুতির সাথে তুলনা করেন একটি সমাজের যেখানে কেবল যুক্তি রাজত্ব করবে, একটি সভ্যতার যেখানে সুখ সর্বজনীন হবে, একটি সীমাহীন মানব উন্নতিযোগ্যতা, এবং তার সময়ের বুর্জোয়া আদর্শবিদদের গোলাপী রঙের বাক্যাংশের সাথে। তিনি দেখান কীভাবে সর্বত্র সবচেয়ে করুণ বাস্তবতা সবচেয়ে উঁচু-শোনা বাক্যাংশগুলির সাথে মিলে যায়, এবং তিনি তার তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ দিয়ে এই আশাহীন বাক্যাংশের ব্যর্থতাকে অভিভূত করেন।ফুরিয়ার কেবল একজন সমালোচক নন, তার অস্থির নির্মল প্রকৃতি তাকে একজন ব্যঙ্গকারী করে তোলে, এবং নিশ্চিতভাবে সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গকারী। তিনি সমান শক্তি এবং আকর্ষণীয়তার সাথে চিত্রিত করেন বিপ্লবের পতনের পর যে প্রতারণামূলক জল্পনা-কল্পনা ফুলে উঠেছিল, এবং সেই সময়ে ফরাসি বাণিজ্যে প্রচলিত এবং বৈশিষ্ট্যযুক্ত দোকানদারি মনোভাব। আরও শিল্পীসুলভ হল যৌন সম্পর্কের বুর্জোয়া রূপ এবং বুর্জোয়া সমাজে নারীর অবস্থানের তার সমালোচনা। তিনিই প্রথম ঘোষণা করেন যে কোনও প্রদত্ত সমাজে নারীর মুক্তির মাত্রা হল সাধারণ মুক্তির প্রাকৃতিক পরিমাপ।কিন্তু ফুরিয়ার সমাজের ইতিহাস সম্পর্কে তার ধারণায় সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনি এর সমগ্র গতিপথ, এখন পর্যন্ত, বিবর্তনের চারটি স্তরে বিভক্ত করেন — বর্বরতা, অসভ্যতা, পিতৃতন্ত্র, সভ্যতা। এই শেষটি আজকের তথাকথিত অসভ্য, বা বুর্জোয়া, সমাজের সাথে অভিন্ন — অর্থাৎ, ১৬শ শতাব্দীর সাথে যে সামাজিক ব্যবস্থা এসেছিল। তিনি প্রমাণ করেন "যে সভ্য পর্যায় অসভ্যতার দ্বারা একটি সরল পদ্ধতিতে অনুশীলিত প্রতিটি দুষ্কর্মকে অস্তিত্বের একটি জটিল, অস্পষ্ট, দ্ব্যর্থক, ভণ্ড রূপে উন্নীত করে" — যে সভ্যতা "একটি দুষ্ট বৃত্তে" চলে, দ্বন্দ্বগুলিতে যা এটি ক্রমাগত পুনরুত্পাদন করে কিন্তু সমাধান করতে অক্ষম; তাই এটি ক্রমাগত ঠিক বিপরীতে পৌঁছায় যা এটি অর্জন করতে চায়, বা অর্জন করতে চায় বলে দাবি করে, যাতে, যেমন, "সভ্যতার অধীনে দারিদ্র্য আধিক্য থেকেই জন্ম নেয়"।ফুরিয়ার, আমরা দেখি, তার সমসাময়িক হেগেলের মতোই শিল্পীসুলভভাবে দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এই একই দ্বান্দ্বিকতা ব্যবহার করে, তিনি সীমাহীন মানব উন্নতিযোগ্যতা সম্পর্কে আলোচনার বিরুদ্ধে যুক্তি দেন যে প্রতিটি ঐতিহাসিক পর্যায়ের তার উত্থানের সময়কাল এবং তার পতনের সময়কালও রয়েছে, এবং তিনি এই পর্যবেক্ষণটি সমগ্র মানবজাতির ভবিষ্যতে প্রয়োগ করেন। যেমন কান্ট প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে পৃথিবীর চূড়ান্ত ধ্বংসের ধারণা প্রবর্তন করেছিলেন, ফুরিয়ার ঐতিহাসিক বিজ্ঞানে মানবজাতির চূড়ান্ত ধ্বংসের ধারণা প্রবর্তন করেছিলেন।যখন ফ্রান্সে বিপ্লবের ঝড়ো হাওয়া দেশ জুড়ে বইছিল, ইংল্যান্ডে একটি শান্ত, কিন্তু তার জন্য কম ভয়ঙ্কর নয়, বিপ্লব চলছিল। বাষ্প এবং নতুন টুল-নির্মাণ যন্ত্রপাতি নির্মাণশিল্পকে আধুনিক শিল্পে রূপান্তরিত করছিল, এবং এইভাবে বুর্জোয়া সমাজের সমগ্র ভিত্তি বিপ্লব করছিল। নির্মাণশিল্পের সময়কালের ধীর গতির বিকাশ উৎপাদনের একটি সত্যিকারের ঝড় ও চাপের সময়ে পরিণত হয়েছিল। ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছিল গতিতে বড় পুঁজিপতি এবং অ-সম্পত্তিশীল সর্বহারা শ্রেণীতে বিভাজন চলছিল। এগুলির মধ্যে, পূর্ববর্তী স্থিতিশীল মধ্যবিত্তের পরিবর্তে, কারিগর এবং ছোট দোকানদারদের একটি অস্থির জনসাধারণ, জনসংখ্যার সবচেয়ে অস্থির অংশ, এখন একটি অনিশ্চিত অস্তিত্ব যাপন করত।উৎপাদনের নতুন পদ্ধতিটি তখনও তার উত্থানের সময়কালের শুরুতে ছিল; তখনও এটি ছিল উৎপাদনের স্বাভাবিক, নিয়মিত পদ্ধতি — বিদ্যমান অবস্থার অধীনে সম্ভব একমাত্র। তবুও, তখনও এটি কান্নার সামাজিক অপব্যবহার উৎপন্ন করছিল — বড় শহরগুলির সবচেয়ে খারাপ এলাকায় গৃহহীন জনসংখ্যার একত্রিত হওয়া; সমস্ত ঐতিহ্যবাহী নৈতিক বন্ধন, পিতৃতান্ত্রিক অধীনতা, পারিবারিক সম্পর্কের শিথিলতা; ভয়ঙ্কর মাত্রায় অতিরিক্ত কাজ, বিশেষ করে মহিলা এবং শিশুদের; শ্রমিক-শ্রেণীর সম্পূর্ণ নৈতিক অবক্ষয়, হঠাৎ সম্পূর্ণ নতুন অবস্থায় নিক্ষিপ্ত, গ্রাম থেকে শহরে, কৃষি থেকে আধুনিক শিল্পে, অস্তিত্বের স্থিতিশীল অবস্থা থেকে অনিশ্চিত অবস্থায় যা দিন দিন পরিবর্তিত হচ্ছে।এই সন্ধিক্ষণে, একজন সংস্কারক হিসাবে এগিয়ে এসেছিলেন একজন ২৯ বছর বয়সী উৎপাদনকারী — প্রায় মহৎ, শিশুসুলভ সরলতার চরিত্রের একজন মানুষ, এবং একই সাথে মানুষের কয়েকজন জন্মগত নেতার একজন। রবার্ট ওয়েন বস্তুবাদী দার্শনিকদের শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন: যে মানুষের চরিত্র হল পণ্য, একদিকে, বংশগতির; অন্যদিকে, ব্যক্তির জীবনকালে এবং বিশেষ করে তার বিকাশের সময়কালে পরিবেশের। শিল্প বিপ্লবে তার শ্রেণীর বেশিরভাগ কেবল বিশৃঙ্খলা এবং বিভ্রান্তি দেখেছিল, এবং এই উত্তাল জলে মাছ ধরার এবং দ্রুত বড় ভাগ্য তৈরি করার সুযোগ। তিনি এতে তার প্রিয় তত্ত্ব অনুশীলন করার এবং এইভাবে বিশৃঙ্খলার মধ্যে শৃঙ্খলা আনার সুযোগ দেখেছিলেন। তিনি ইতিমধ্যে ম্যানচেস্টারের একটি কারখানায় ৫০০ জনেরও বেশি লোকের সুপারিনটেনডেন্ট হিসাবে সফলভাবে এটি চেষ্টা করেছিলেন। ১৮০০ থেকে ১৮২৯ পর্যন্ত, তিনি স্কটল্যান্ডের নিউ ল্যানার্কের মহান সুতি কলটি পরিচালনা করেন, ব্যবস্থাপনা অংশীদার হিসাবে, একই লাইন ধরে, কিন্তু বৃহত্তর কর্মের স্বাধীনতা সহ এবং এমন সাফল্যের সাথে যা তাকে ইউরোপীয় খ্যাতি এনে দেয়। একটি জনসংখ্যা, মূলত সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় এবং বেশিরভাগ অংশে খুব নৈতিকভাবে অধঃপতিত উপাদানগুলির সমন্বয়ে গঠিত, একটি জনসংখ্যা যা ধীরে ধীরে ২,৫০০ জনে বৃদ্ধি পেয়েছিল, তিনি এটিকে একটি মডেল উপনিবেশে পরিণত করেছিলেন, যেখানে মদ্যপান, পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট, মামলা-মোকদ্দমা, দরিদ্র আইন, দান-খয়রাত অজানা ছিল। এবং এই সমস্ত কেবল মানুষকে মানুষের যোগ্য অবস্থায় স্থাপন করে, এবং বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান প্রজন্মকে যত্ন সহকারে লালন-পালন করে। তিনি শিশু বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং প্রথমে নিউ ল্যানার্কে সেগুলি প্রবর্তন করেন। দুই বছর বয়সে, শিশুরা স্কুলে আসত, যেখানে তারা এত মজা করত যে তাদের বাড়ি ফিরিয়ে আনা কষ্টকর ছিল। যখন তার প্রতিযোগীরা তাদের লোকদের দিনে ১৩ বা ১৪ ঘন্টা কাজ করত, নিউ ল্যানার্কে কর্মদিবস ছিল মাত্র সাড়ে দশ ঘন্টা। যখন সুতি শিল্পে একটি সংকট চার মাসের জন্য কাজ বন্ধ করে দেয়, তখন তার শ্রমিকরা সমস্ত সময় তাদের সম্পূর্ণ মজুরি পেত। এবং এই সবকিছুর সাথে ব্যবসাটি মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পায় এবং শেষ পর্যন্ত তার মালিকদের জন্য বড় মুনাফা দেয়।এই সব সত্ত্বেও, ওয়েন সন্তুষ্ট ছিলেন না। তিনি তার শ্রমিকদের জন্য যে অস্তিত্ব সুরক্ষিত করেছিলেন তা তার দৃষ্টিতে এখনও মানুষের যোগ্য হওয়া থেকে অনেক দূরে ছিল। "মানুষগুলি আমার করুণায় দাস ছিল।" তিনি তাদের যে অপেক্ষাকৃত অনুকূল অবস্থায় রেখেছিলেন তা এখনও সমস্ত দিকে চরিত্র এবং বুদ্ধির যুক্তিসঙ্গত বিকাশের অনুমতি দেয়নি, তাদের সমস্ত ক্ষমতার মুক্ত অনুশীলনের কথা তো বলা বাহুল্য। "এবং তবুও, এই ২,৫০০ জনের কর্মজীবী অংশ প্রতিদিন সমাজের জন্য ততটুকু বাস্তব সম্পদ উৎপাদন করছিল যতটা, অর্ধ শতাব্দীরও কম আগে, ৬,০০,০০০ জনসংখ্যার কর্মজীবী অংশ তৈরি করতে প্রয়োজন হত। আমি নিজেকে জিজ্ঞাসা করলাম, ২,৫০০ জনের দ্বারা ভোগকৃত সম্পদ এবং ৬০০,০০০ জনের দ্বারা ভোগকৃত হত তার মধ্যে পার্থক্য কী হয়েছিল?" [৩]উত্তরটি স্পষ্ট ছিল। এটি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের তাদের বিনিয়োগকৃত মূলধনের উপর ৫ শতাংশ পরিশোধ করতে ব্যবহৃত হয়েছিল, অতিরিক্ত £৩০০,০০০ এর বেশি নিট মুনাফা। এবং নিউ ল্যানার্কের জন্য যা সত্য ছিল তা ইংল্যান্ডের সমস্ত কারখানার জন্য আরও বেশি পরিমাণে সত্য ছিল।"যদি এই নতুন সম্পদ যন্ত্রপাতি দ্বারা সৃষ্ট না হত, অসম্পূর্ণভাবে প্রয়োগ করা সত্ত্বেও, নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে এবং সমাজের অভিজাত নীতিগুলিকে সমর্থন করার জন্য ইউরোপের যুদ্ধগুলি বজায় রাখা যেত না। এবং তবুও এই নতুন শক্তি ছিল শ্রমজীবী শ্রেণীগুলির সৃষ্টি।"তাদের কাছে, তাই, এই নতুন শক্তির অন্তর্ভুক্ত ফল। নব-সৃষ্ট বিরাট উৎপাদন শক্তিগুলি, এখন পর্যন্ত কেবল ব্যক্তিদের সমৃদ্ধ করতে এবং জনগণকে দাসত্ব করতে ব্যবহৃত হত, ওয়েনকে সমাজের পুনর্গঠনের ভিত্তি প্রদান করেছিল; তারা সকলের সাধারণ সম্পত্তি হিসাবে, সকলের সাধারণ মঙ্গলের জন্য কাজ করার জন্য নির্ধারিত ছিল। ওয়েনের কমিউনিজম এই সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক ভিত্তির উপর ভিত্তি করে ছিল, তাই বলতে গেলে, বাণিজ্যিক গণনার ফলাফল। সর্বত্র, এটি এই ব্যবহারিক চরিত্রটি বজায় রেখেছিল। এইভাবে, ১৮২৩ সালে, ওয়েন কমিউনিস্ট উপনিবেশগুলির মাধ্যমে আয়ারল্যান্ডের দুর্দশা থেকে মুক্তির প্রস্তাব করেছিলেন, এবং সেগুলি প্রতিষ্ঠার খরচ, বার্ষিক ব্যয় এবং সম্ভাব্য রাজস্বের সম্পূর্ণ অনুমান তৈরি করেছিলেন। এবং ভবিষ্যতের জন্য তার নির্দিষ্ট পরিকল্পনায়, বিশদ বিবরণের প্রযুক্তিগত কাজকর্ম এত ব্যবহারিক জ্ঞানের সাথে পরিচালিত হয় — স্থল পরিকল্পনা, সামনে এবং পাশে এবং পাখির চোখের দৃশ্য সবই অন্তর্ভুক্ত — যে ওয়েনের সামাজিক সংস্কারের পদ্ধতি একবার গৃহীত হলে, ব্যবহারিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশদ বিবরণের প্রকৃত বিন্যাস সম্পর্কে বলার মতো সামান্যই থাকে।কমিউনিজমের দিকে তার অগ্রগতি ছিল ওয়েনের জীবনের টার্নিং-পয়েন্ট। যতক্ষণ তিনি কেবল একজন পরোপকারী ছিলেন, ততক্ষণ তিনি সম্পদ, প্রশংসা, সম্মান এবং গৌরব ছাড়া আর কিছুই পাননি। তিনি ইউরোপের সবচেয়ে জনপ্রিয় মানুষ ছিলেন। কেবল তার নিজস্ব শ্রেণীর মানুষই নয়, রাষ্ট্রনায়ক এবং রাজকুমাররাও তাকে অনুমোদনের সাথে শুনতেন। কিন্তু যখন তিনি তার কমিউনিস্ট তত্ত্বগুলি নিয়ে বেরিয়ে আসেন তখন তা ছিল সম্পূর্ণ অন্য কথা। তিনটি মহান বাধা তার কাছে সামাজিক সংস্কারের পথে বিশেষভাবে বাধা বলে মনে হয়েছিল: ব্যক্তিগত সম্পত্তি, ধর্ম, বিবাহের বর্তমান রূপ। তিনি জানতেন যে তিনি যদি এগুলিকে আক্রমণ করেন তবে তার কী সম্মুখীন হবে — বহিষ্কার, সরকারি সমাজ থেকে বহিষ্কার, তার সমগ্র সামাজিক অবস্থানের ক্ষতি। কিন্তু এর কিছুই তাকে পরিণতির ভয় ছাড়াই তাদের আক্রমণ করতে বাধা দেয়নি, এবং তিনি যা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন তা ঘটেছিল। সরকারি সমাজ থেকে নির্বাসিত, প্রেসে তার বিরুদ্ধে নীরবতার ষড়যন্ত্র, আমেরিকায় তার ব্যর্থ কমিউনিস্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধ্বংস, যেখানে তিনি তার সমস্ত ভাগ্য উৎসর্গ করেছিলেন, তিনি সরাসরি শ্রমিক-শ্রেণীর দিকে ফিরে যান এবং তাদের মধ্যে ৩০ বছর ধরে কাজ করতে থাকেন।ইংল্যান্ডে প্রতিটি সামাজিক আন্দোলন, শ্রমিকদের পক্ষে প্রতিটি বাস্তব অগ্রগতি রবার্ট ওয়েনের নামের সাথে যুক্ত। তিনি পাঁচ বছর লড়াইয়ের পর ১৮১৯ সালে কারখানায় মহিলা ও শিশুদের কাজের সময় সীমাবদ্ধকারী প্রথম আইনটি পাস করান। তিনি প্রথম কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন যেখানে ইংল্যান্ডের সমস্ত ট্রেড ইউনিয়ন একটি একক মহান ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনে একত্রিত হয়েছিল। তিনি সমাজের সম্পূর্ণ কমিউনিস্ট সংগঠনের উত্তরণ ব্যবস্থা হিসাবে প্রবর্তন করেন, একদিকে, খুচরা বাণিজ্য এবং উৎপাদনের জন্য সমবায় সমিতি। এইগুলি তখন থেকে, অন্তত, ব্যবহারিক প্রমাণ দিয়েছে যে বণিক এবং উৎপাদনকারী সামাজিকভাবে সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়। অন্যদিকে, তিনি শ্রম-নোটের মাধ্যমে শ্রমের পণ্য বিনিময়ের জন্য শ্রম বাজারের প্রবর্তন করেন, যার একক ছিল এক ঘন্টা কাজ; প্রতিষ্ঠানগুলি ধ্বংসপ্রাপ্ত হতে বাধ্য, কিন্তু সম্পূর্ণরূপে প্রুডনের অনেক পরে ব্যাঙ্ক অফ এক্সচেঞ্জের পূর্বাভাস দেয়, এবং এটি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন যে এটি সমস্ত সামাজিক অসুস্থতার জন্য সর্বজনীন প্রতিকার হিসাবে দাবি করেনি, বরং সমাজের আরও আমূল বিপ্লবের দিকে একটি প্রথম পদক্ষেপ মাত্র।ইউটোপিয়ানদের চিন্তাধারা দীর্ঘকাল ধরে ১৯শ শতাব্দীর সমাজতান্ত্রিক ধারণাগুলিকে শাসন করেছে, এবং এখনও তাদের কিছুকে শাসন করে। অতি সম্প্রতি পর্যন্ত, সমস্ত ফরাসি এবং ইংরেজ সমাজতন্ত্রীরা এটিকে শ্রদ্ধা করত। প্রাথমিক জার্মান কমিউনিজম, ওয়েইটলিংয়ের সহ, একই বিদ্যালয়ের ছিল। এই সকলের কাছে, সমাজতন্ত্র হল পরম সত্য, যুক্তি এবং ন্যায়বিচারের অভিব্যক্তি, এবং কেবল আবিষ্কৃত হতে হবে তার নিজস্ব শক্তির গুণে সমগ্র বিশ্ব জয় করার জন্য। এবং যেহেতু একটি পরম সত্য সময়, স্থান এবং মানুষের ঐতিহাসিক বিকাশ থেকে স্বাধীন, এটি কখন এবং কোথায় আবিষ্কৃত হয় তা একটি নিছক দুর্ঘটনা। এই সবের সাথে, পরম সত্য, যুক্তি এবং ন্যায়বিচার প্রতিটি পৃথক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতার সাথে আলাদা। এবং যেহেতু প্রত্যেকের নিজস্ব বিশেষ ধরণের পরম সত্য, যুক্তি এবং ন্যায়বিচার আবার তার বিষয়গত বোধশক্তি, তার অস্তিত্বের অবস্থা, তার জ্ঞানের পরিমাপ এবং তার বুদ্ধিবৃত্তিক প্রশিক্ষণ দ্বারা শর্তযুক্ত, তাই পরম সত্যের এই সংঘাতে আর কোনও শেষ সম্ভব নয় যাতে তারা একে অপরের সাথে পারস্পরিকভাবে বাদ পড়ে। সুতরাং, এটি থেকে এক ধরনের সারগ্রাহী, গড় সমাজতন্ত্র ছাড়া আর কিছুই আসতে পারে না, যা বাস্তবিকভাবে এখন পর্যন্ত ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ডের বেশিরভাগ সমাজতান্ত্রিক কর্মীদের মনে আধিপত্য বিস্তার করেছে। তাই, একটি মিশমাশ যা মতামতের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় ছায়াগুলিকে অনুমতি দেয়: বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতাদের দ্বারা এই ধরনের সমালোচনামূলক বিবৃতি, অর্থনৈতিক তত্ত্ব, ভবিষ্যত সমাজের চিত্রগুলির একটি মিশমাশ, যা সর্বনিম্ন বিরোধিতা জাগিয়ে তোলে; একটি মিশমাশ যা তৈরি করা তত সহজ যত বেশি নির্দিষ্ট ধারালো প্রান্তগুলি পৃথক উপাদানগুলির বিতর্কের স্রোতে ঘষে দেওয়া হয়, যেমন একটি স্রোতে গোলাকার নুড়ি।সমাজতন্ত্রকে একটি বিজ্ঞান করতে হলে, প্রথমে এটিকে একটি বাস্তব ভিত্তির উপর স্থাপন করতে হয়েছিল। দ্বান্দ্বিকতাএদিকে, ১৮শ শতাব্দীর ফরাসি দর্শনের সাথে এবং পরে, নতুন জার্মান দর্শন আবির্ভূত হয়েছিল, যা হেগেলে চূড়ান্ত হয়েছিল।এর সর্বশ্রেষ্ঠ যোগ্যতা ছিল যুক্তির সর্বোচ্চ রূপ হিসাবে দ্বান্দ্বিকতার পুনরুদ্ধার। প্রাচীন গ্রীক দার্শনিকরা সবাই জন্মগত প্রাকৃতিক দ্বান্দ্বিকবাদী ছিলেন, এবং অ্যারিস্টটল, তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত, ইতিমধ্যেই দ্বান্দ্বিক চিন্তার সবচেয়ে প্রয়োজনীয় রূপগুলি বিশ্লেষণ করেছিলেন। অন্যদিকে, নতুন দর্শন, যদিও এতেও দ্বান্দ্বিকতার উজ্জ্বল প্রবক্তা ছিল (যেমন ডেকার্ত এবং স্পিনোজা), বিশেষ করে ইংরেজি প্রভাবের মাধ্যমে, তথাকথিত অধিবিদ্যাগত যুক্তি পদ্ধতিতে আরও বেশি কঠোরভাবে স্থির হয়ে গিয়েছিল, যার দ্বারা ১৮শ শতাব্দীর ফরাসিরাও প্রায় সম্পূর্ণরূপে প্রভাবিত হয়েছিল, অন্তত তাদের বিশেষ দার্শনিক কাজে। সংকীর্ণ অর্থে দর্শনের বাইরে, ফরাসিরা তবুও দ্বান্দ্বিকতার মাস্টারপিস তৈরি করেছিল। আমাদের কেবল ডিডেরোর লে নেভিউ দ্য রামো এবং রুসোর ডিস্কুর স্যুর লরিজিন এ লে ফন্ডমঁ দ্য লিনেগালিতে পার্মি লে হোম -এর কথা মনে করতে হবে। আমরা এখানে সংক্ষেপে এই দুটি চিন্তাধারার প্রয়োজনীয় চরিত্র দিই।যখন আমরা প্রকৃতি, বা মানবজাতির ইতিহাস, বা আমাদের নিজস্ব বুদ্ধিবৃত্তিক ক্রিয়াকলাপকে সাধারণভাবে বিবেচনা করি এবং প্রতিফলিত করি, প্রথমে আমরা সম্পর্ক এবং প্রতিক্রিয়া, পরিবর্তন এবং সংমিশ্রণের একটি অন্তহীন জটবদ্ধতার চিত্র দেখতে পাই, যেখানে কিছুই যা, যেখানে এবং যেমন ছিল তা থাকে না, বরং সবকিছু চলে, পরিবর্তিত হয়, জন্ম নেয় এবং বিলীন হয়। আমরা দেখি, তাই, প্রথমে একটি সম্পূর্ণ হিসাবে চিত্র, এর পৃথক অংশগুলি এখনও কমবেশি পটভূমিতে রাখা হয়েছে; আমরা চলাচল, পরিবর্তন, সংযোগগুলি পর্যবেক্ষণ করি, বরং যে জিনিসগুলি চলে, একত্রিত হয় এবং সংযুক্ত থাকে তার চেয়ে। বিশ্বের এই আদিম, সরল কিন্তু অন্তর্নিহিতভাবে সঠিক ধারণাটি প্রাচীন গ্রীক দর্শনের, এবং প্রথমে হেরাক্লিটাস দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রণয়ন করা হয়েছিল: সবকিছুই আছে এবং নেই, কারণ সবকিছুই তরল, ক্রমাগত পরিবর্তনশীল, ক্রমাগত জন্ম নিচ্ছে এবং বিলীন হচ্ছে।[ক]কিন্তু এই ধারণা, সামগ্রিকভাবে উপস্থিতির চিত্রের সাধারণ চরিত্রটি সঠিকভাবে প্রকাশ করে, এই চিত্রটি তৈরি করে এমন বিশদ বিবরণ ব্যাখ্যা করার জন্য যথেষ্ট নয়, এবং যতক্ষণ না আমরা এগুলি বুঝতে পারি, ততক্ষণ আমাদের পুরো চিত্রের একটি স্পষ্ট ধারণা নেই। এই বিশদগুলি বোঝার জন্য, আমাদের অবশ্যই সেগুলিকে তাদের প্রাকৃতিক, বিশেষ কারণ, প্রভাব ইত্যাদি থেকে পৃথক করতে হবে। এটি প্রাথমিকভাবে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান এবং ঐতিহাসিক গবেষণার কাজ: বিজ্ঞানের শাখা যা ধ্রুপদী সময়ের গ্রীকরা, খুব ভাল কারণেই, একটি অধীনস্থ অবস্থানে রেখেছিল, কারণ তাদের প্রথমে এই বিজ্ঞানগুলির জন্য কাজ করার জন্য উপাদান সংগ্রহ করতে হয়েছিল। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রাকৃতিক এবং ঐতিহাসিক উপাদান সংগ্রহ করতে হবে তার আগে কোনও সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ, তুলনা এবং শ্রেণী, ক্রম এবং প্রজাতিতে বিন্যাস থাকতে পারে। সঠিক প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের ভিত্তি, তাই, প্রথমে আলেকজান্দ্রিয়ান সময়ের গ্রীকরা [খ] এবং পরে, মধ্যযুগে, আরবরা তৈরি করেছিল। প্রকৃত প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ১৫শ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ থেকে শুরু হয় এবং তারপর থেকে এটি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে গতিতে অগ্রসর হয়েছে। প্রকৃতির তার পৃথক অংশে বিশ্লেষণ, বিভিন্ন প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া এবং বস্তুগুলিকে নির্দিষ্ট শ্রেণীতে গোষ্ঠীবদ্ধ করা, জৈব দেহের অভ্যন্তরীণ শারীরস্থান তাদের বহুরূপে অধ্যয়ন — এগুলি ছিল গত ৪০০ বছরে আমাদের প্রকৃতির জ্ঞানে করা বিরাট অগ্রগতির মৌলিক শর্ত। কিন্তু এই কাজের পদ্ধতিটি আমাদের একটি উত্তরাধিকার হিসাবে রেখে গেছে প্রাকৃতিক বস্তু এবং প্রক্রিয়াগুলিকে বিচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করার অভ্যাস, বিশাল সমগ্রের সাথে তাদের সংযোগ থেকে পৃথক; তাদের গতিতে নয়, বিশ্রামে পর্যবেক্ষণ করা; ধ্রুবক হিসাবে, অপরিহার্যভাবে পরিবর্তনশীল হিসাবে নয়; তাদের মৃত্যুতে, তাদের জীবনে নয়। এবং যখন বস্তুর দিকে তাকানোর এই পদ্ধতিটি বেকন এবং লক দ্বারা প্রাকৃতিক বিজ্ঞান থেকে দর্শনে স্থানান্তরিত হয়েছিল, তখন এটি গত শতাব্দীর特有的 সংকীর্ণ, অধিবিদ্যাগত চিন্তাধারার জন্ম দেয়।অধিবিদ্যাবিদের কাছে, জিনিস এবং তাদের মানসিক প্রতিচ্ছবি, ধারণা, বিচ্ছিন্ন, একের পর এক এবং একে অপরের থেকে পৃথকভাবে বিবেচনা করা হবে, স্থির, অনমনীয়, একবারের জন্য প্রদত্ত তদন্তের বস্তু। তিনি একেবারে অপরিবর্তনীয় বিরোধিতায় চিন্তা করেন। তার যোগাযোগ হল 'হ্যাঁ, হ্যাঁ; না, না'; যার জন্য এর চেয়ে বেশি তা মন্দের থেকে আসে।" তাঁর কাছে, একটি জিনিস হয় অস্তিত্ব রয়েছে বা নেই; একটি জিনিস একই সময়ে নিজেও হতে পারে না এবং অন্য কিছুও হতে পারে না। ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক একে অপরকে একেবারে বাদ দেয়; কারণ এবং প্রভাব একে অপরের সাথে একটি অনমনীয় বিরোধিতায় দাঁড়িয়ে থাকে।প্রথম নজরে, এই চিন্তাধারা আমাদের কাছে খুব উজ্জ্বল বলে মনে হয়, কারণ এটি তথাকথিত সাধারণ জ্ঞানের। শুধুমাত্র সাধারণ জ্ঞান, সম্মানিত সহকর্মী যে তিনি, তার নিজের চার দেয়ালের ঘরোয়া অঞ্চলে, খুব বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা অর্জন করে যখন তিনি সরাসরি গবেষণার বিস্তৃত জগতে প্রবেশ করেন। এবং অধিবিদ্যাগত চিন্তাধারা, যতটা ন্যায়সঙ্গত এবং প্রয়োজনীয় যতটা এটি অনেক ক্ষেত্রে যার পরিধি তদন্তের বিশেষ বস্তুর প্রকৃতি অনুসারে পরিবর্তিত হয়, শীঘ্রই বা পরে একটি সীমাতে পৌঁছায়, যার বাইরে এটি একতরফা, সীমাবদ্ধ, বিমূর্ত, অমীমাংসিত দ্বন্দ্বে হারিয়ে যায়। পৃথক জিনিসের চিন্তায়, এটি তাদের মধ্যে সংযোগ ভুলে যায়; তাদের অস্তিত্বের চিন্তায়, এটি সেই অস্তিত্বের শুরু এবং শেষ ভুলে যায়; তাদের বিশ্রামের, এটি তাদের গতি ভুলে যায়। এটি গাছের জন্য বন দেখতে পারে না।দৈনন্দিন উদ্দেশ্যে, আমরা জানি এবং বলতে পারি, যেমন, একটি প্রাণী জীবিত আছে কি না। কিন্তু, নিবিড় অনুসন্ধানে, আমরা দেখতে পাই যে এটি অনেক ক্ষেত্রে একটি খুব জটিল প্রশ্ন, যেমনটি আইনজীবীরা খুব ভাল জানেন। তারা মায়ের গর্ভে শিশু হত্যা কখন হত্যা হয় তার একটি যুক্তিসঙ্গত সীমা আবিষ্কার করতে বৃথা মস্তিষ্ক চর্চা করেছে। মৃত্যুর মুহূর্তটি একেবারে নির্ণয় করাও ঠিক তেমনই অসম্ভব, কারণ শারীরবিদ্যা প্রমাণ করে যে মৃত্যু একটি তাৎক্ষণিক, ক্ষণিকের ঘটনা নয়, বরং একটি খুব দীর্ঘ প্রক্রিয়া।একইভাবে, প্রতিটি সংগঠিত সত্তা প্রতি মুহূর্তে একই এবং একই নয়; প্রতি মুহূর্তে, এটি বাইরে থেকে সরবরাহকৃত পদার্থকে আত্মসাৎ করে এবং অন্য পদার্থ থেকে মুক্তি পায়; প্রতি মুহূর্তে, তার দেহের কিছু কোষ মারা যায় এবং অন্যরা নতুন করে গঠন করে; একটি দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত সময়ে, তার দেহের পদার্থ সম্পূর্ণরূপে পুনর্নবীকরণ হয় এবং পদার্থের অন্যান্য অণু দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়, যাতে প্রতিটি সংগঠিত সত্তা সর্বদা নিজেই থাকে, এবং তবুও নিজের থেকে অন্য কিছু।আরও, আমরা নিবিড় অনুসন্ধানে দেখতে পাই যে একটি বিরোধিতার দুটি মেরু, যেমন ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক, যেমন অপরিচ্ছেদ্য তেমনি বিপরীত, এবং তাদের সমস্ত বিরোধিতা সত্ত্বেও, তারা পরস্পরকে প্রবেশ করে। এবং আমরা একইভাবে দেখতে পাই যে কারণ এবং প্রভাব এমন ধারণা যা কেবলমাত্র পৃথক ক্ষেত্রে তাদের প্রয়োগে বৈধ; কিন্তু যত তাড়াতাড়ি আমরা পৃথক ক্ষেত্রেগুলিকে সমগ্র মহাবিশ্বের সাথে তাদের সাধারণ সংযোগে বিবেচনা করি, তারা একে অপরের মধ্যে চলে যায়, এবং তারা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে যখন আমরা সেই সার্বজনীন ক্রিয়া এবং প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করি যাতে কারণ এবং প্রভাব চিরকাল স্থান পরিবর্তন করে, যাতে এখানে এবং এখন যা প্রভাব তা সেখানে এবং তারপর কারণ হবে, এবং বিপরীতভাবে।এই প্রক্রিয়া এবং চিন্তাধারার কোনটিই অধিবিদ্যাগত যুক্তির কাঠামোতে প্রবেশ করে না। অন্যদিকে, দ্বান্দ্বিকতা জিনিস এবং তাদের উপস্থাপনা, ধারণাগুলিকে তাদের প্রয়োজনীয় সংযোগ, সংযোজন, গতি, উৎপত্তি এবং শেষে উপলব্ধি করে। উপরে উল্লিখিত প্রক্রিয়াগুলি, তাই, তার নিজস্ব পদ্ধতির পদ্ধতির অনেকগুলি নিশ্চিতকরণ।প্রকৃতি হল দ্বান্দ্বিকতার প্রমাণ, এবং আধুনিক বিজ্ঞানের জন্য এটি বলা উচিত যে এটি এই প্রমাণটি দৈনিক ক্রমবর্ধমান খুব সমৃদ্ধ উপাদান দিয়ে সরবরাহ করেছে, এবং এইভাবে দেখিয়েছে যে, শেষ পর্যন্ত, প্রকৃতি দ্বান্দ্বিকভাবে কাজ করে এবং অধিবিদ্যাগতভাবে নয়; যে সে চিরন্তন একত্বের মধ্যে চলে না একটি চিরপুনরাবৃত্ত বৃত্তের, বরং একটি বাস্তব ঐতিহাসিক বিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। এই সংযোগে, ডারউইনের নাম অবশ্যই সবার আগে নিতে হবে। তিনি তার প্রমাণ দিয়ে প্রকৃতির অধিবিদ্যাগত ধারণাকে সবচেয়ে বড় আঘাত করেছিলেন যে সমস্ত জৈব সত্তা, উদ্ভিদ, প্রাণী এবং মানুষ নিজেই, লক্ষ লক্ষ বছর ধরে চলমান বিবর্তনের একটি প্রক্রিয়ার পণ্য। কিন্তু, প্রকৃতিবিদরা, যারা দ্বান্দ্বিকভাবে চিন্তা করতে শিখেছেন, তারা সংখ্যায় কম, এবং আবিষ্কারের ফলাফল এবং পূর্বকল্পিত চিন্তাধারার এই সংঘাত তাত্ত্বিক প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে এখন রাজত্বকারী অন্তহীন বিভ্রান্তি, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের, লেখক এবং পাঠকদের উভয়ের হতাশার ব্যাখ্যা দেয়।মহাবিশ্বের, এর বিবর্তনের, মানবজাতির বিকাশের এবং মানুষের মনে এই বিবর্তনের প্রতিফলনের একটি সঠিক উপস্থাপনা তাই কেবল দ্বান্দ্বিকতার পদ্ধতি দ্বারা অর্জন করা যেতে পারে যা জীবন ও মৃত্যু, প্রগতিশীল বা প্রতিগামী পরিবর্তনের অগণিত ক্রিয়া এবং প্রতিক্রিয়াগুলির প্রতি অবিরাম বিবেচনা করে। এবং এই চেতনায়, নতুন জার্মান দর্শন কাজ করেছে। কান্ট তার কর্মজীবন শুরু করেছিলেন নিউটনের স্থিতিশীল সৌরজগত এবং তার চিরস্থায়ী সময়কালকে, বিখ্যাত প্রাথমিক আবেগ একবার প্রদান করার পরে, একটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার ফলাফলে, একটি ঘূর্ণায়মান, নীহারিকাপূর্ণ ভর থেকে সূর্য এবং সমস্ত গ্রহের গঠনে রূপান্তরিত করে। এর থেকে তিনি একই সাথে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, সৌরজগতের এই উৎপত্তি দেওয়া হলে, এর ভবিষ্যত মৃত্যু অগত্যা অনুসরণ করে। তার তত্ত্ব, অর্ধ শতাব্দী পরে, ল্যাপ্লেস দ্বারা গাণিতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, এবং অর্ধ শতাব্দী পরে, বর্ণালীবীক্ষণ যন্ত্রটি মহাকাশে এই ধরনের জ্বলন্ত গ্যাসের ভরের অস্তিত্ব প্রমাণ করেছিল বিভিন্ন পর্যায়ের ঘনীভবনে।এই নতুন জার্মান দর্শন হেগেলীয় পদ্ধতিতে চূড়ান্ত হয়েছিল। এই পদ্ধতিতে — এবং এখানেই এর মহান যোগ্যতা — প্রথমবারের মতো সমগ্র বিশ্ব, প্রাকৃতিক, ঐতিহাসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, একটি প্রক্রিয়া হিসাবে উপস্থাপিত হয় — অর্থাৎ, ধ্রুব গতিতে, পরিবর্তনে, রূপান্তরে, বিকাশে; এবং এই সমস্ত গতি এবং বিকাশকে একটি অবিচ্ছিন্ন সমগ্র করে তোলে এমন অভ্যন্তরীণ সংযোগ খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা করা হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, মানবজাতির ইতিহাস আর বোধগম্য সহিংসতার একটি বন্য ঘূর্ণি হিসাবে দেখা যায় না, পরিপক্ক দার্শনিক যুক্তির বিচার-আসনে সমানভাবে নিন্দনীয় এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভুলে যাওয়া উচিত, বরং মানুষের নিজের বিবর্তনের প্রক্রিয়া হিসাবে। এখন এটি বুদ্ধির কাজ ছিল এর সমস্ত ঘুরপথের মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়ার ধীরে ধীরে অগ্রগতি অনুসরণ করা, এবং এর সমস্ত আপাতদৃষ্টিতে আকস্মিক ঘটনার মধ্য দিয়ে চলমান অভ্যন্তরীণ আইনটি খুঁজে বের করা।হেগেলীয় পদ্ধতি যে এটি উত্থাপিত সমস্যার সমাধান করেনি তা এখানে অপ্রাসঙ্গিক। এর যুগ-নির্মাণকারী যোগ্যতা ছিল যে এটি সমস্যাটি উত্থাপন করেছিল। এই সমস্যাটি এমন একটি যা কোনো একক ব্যক্তি কখনও সমাধান করতে পারবে না। যদিও হেগেল ছিলেন — সেন্ট-সাইমনের সাথে — তার সময়ের সবচেয়ে আলোচিত মনন, তবুও তিনি সীমাবদ্ধ ছিলেন, প্রথমত, তার নিজস্ব জ্ঞানের প্রয়োজনীয় সীমিত পরিধি দ্বারা এবং দ্বিতীয়ত, তার যুগের জ্ঞান এবং ধারণার সীমিত পরিধি এবং গভীরতা দ্বারা। এই সীমাগুলিতে, একটি তৃতীয় যোগ করতে হবে; হেগেল ছিলেন একজন আদর্শবাদী। তার কাছে, তার মস্তিষ্কের মধ্যে চিন্তাগুলি বাস্তব জিনিস এবং প্রক্রিয়াগুলির কমবেশি বিমূর্ত চিত্র ছিল না, বরং, বিপরীতভাবে, জিনিস এবং তাদের বিবর্তন ছিল কেবল "আইডিয়া" -এর উপলব্ধিকৃত চিত্র, যা বিশ্ব সৃষ্টির আগে অনন্তকাল থেকে কোথাও বিদ্যমান ছিল। এই চিন্তাধারা সবকিছুকে উল্টে দিয়েছিল, এবং বিশ্বের জিনিসগুলির প্রকৃত সংযোগকে সম্পূর্ণরূপে বিপরীত করেছিল। হেগেল যত সঠিকভাবে এবং চতুরতার সাথে তথ্যের অনেক গোষ্ঠী উপলব্ধি করেছিলেন, তবুও, এইমাত্র প্রদত্ত কারণে, বিস্তারিতভাবে অনেক কিছু আছে যা বাজে, কৃত্রিম, পরিশ্রমী, এক কথায়, ভুল। হেগেলীয় পদ্ধতি, নিজেই, একটি বিশাল গর্ভপাত ছিল — কিন্তু এটি তার ধরণের শেষও ছিল।এটি আসলে একটি অভ্যন্তরীণ এবং অসংক্রামক দ্বন্দ্বে ভুগছিল। একদিকে, এর অপরিহার্য প্রস্তাব ছিল এই ধারণা যে মানব ইতিহাস হল বিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া, যা তার প্রকৃতিগতভাবে তথাকথিত পরম সত্যের আবিষ্কারে তার বুদ্ধিবৃত্তিক চূড়ান্ত শব্দ খুঁজে পেতে পারে না। কিন্তু, অন্যদিকে, এটি এই পরম সত্যের সারমর্ম হওয়ার দাবি করেছিল। প্রকৃতি এবং ইতিহাসের একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক পদ্ধতি, যা সবকিছুকে আলিঙ্গন করে এবং সর্বকালের জন্য চূড়ান্ত, তা দ্বান্দ্বিক যুক্তির মৌলিক আইনের একটি দ্বন্দ্ব।এই আইন, প্রকৃতপক্ষে, বাদ দেয় না, বরং, বিপরীতে, অন্তর্ভুক্ত করে যে বাহ্যিক মহাবিশ্বের পদ্ধতিগত জ্ঞান যুগ থেকে যুগে বিরাট অগ্রগতি করতে পারে।জার্মান আদর্শবাদের মৌলিক দ্বন্দ্বের উপলব্ধি অগত্যা বস্তুবাদের দিকে ফিরিয়ে নিয়েছিল, কিন্তু — নোটা বেনে — ১৮শ শতাব্দীর সরল অধিবিদ্যাগত, একচেটিয়াভাবে যান্ত্রিক বস্তুবাদে নয়। পুরানো বস্তুবাদ সমস্ত পূর্ববর্তী ইতিহাসকে অযৌক্তিকতা এবং সহিংসতার একটি অপরিণত স্তূপ হিসাবে দেখেছিল; আধুনিক বস্তুবাদ এতে মানবতার বিবর্তনের প্রক্রিয়া দেখে এবং এর আইন আবিষ্কারের লক্ষ্য রাখে। ১৮শ শতাব্দীর ফরাসিদের সাথে এবং এমনকি হেগেলের সাথে, প্রকৃতির ধারণা পাওয়া গিয়েছিল একটি সম্পূর্ণ হিসাবে — সংকীর্ণ বৃত্তে চলমান এবং চিরকাল অপরিবর্তনীয়, তার চিরন্তন স্বর্গীয় দেহ সহ, যেমন নিউটন, এবং অপরিবর্তনীয় জৈব প্রজাতি, যেমন লিনিয়াস শিক্ষা দিয়েছিলেন। আধুনিক বস্তুবাদ প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের আরও সাম্প্রতিক আবিষ্কারগুলিকে আলিঙ্গন করে, যা অনুসারে প্রকৃতিরও সময়ে তার ইতিহাস রয়েছে, স্বর্গীয় দেহগুলি, যেমন জৈব প্রজাতিগুলি যা, অনুকূল পরিস্থিতিতে, তাদের বাস করে, জন্মগ্রহণ করে এবং মারা যায়। এবং এমনকি যদি প্রকৃতি, সামগ্রিকভাবে, এখনও পুনরাবৃত্ত চক্রে চলে বলে বলা যায়, এই চক্রগুলি অসীম বৃহত্তর মাত্রা ধারণ করে। উভয় দিকেই, আধুনিক বস্তুবাদ মূলত দ্বান্দ্বিক, এবং আর সেই ধরণের দর্শনের সাহায্যের প্রয়োজন হয় না যা, রানীর মতো, বিজ্ঞানের অবশিষ্ট জনতাকে শাসন করার ভান করত। যত তাড়াতাড়ি প্রতিটি বিশেষ বিজ্ঞান জিনিসের মহান সমগ্র এবং জিনিস সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের মধ্যে তার অবস্থান স্পষ্ট করতে বাধ্য হয়, এই সমগ্রতার সাথে সম্পর্কিত একটি বিশেষ বিজ্ঞান অপ্রয়োজনীয় বা অপ্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে। পূর্ববর্তী সমস্ত দর্শন যা এখনও টিকে আছে তা হল চিন্তার বিজ্ঞান এবং এর আইন — আনুষ্ঠানিক যুক্তিবিদ্যা এবং দ্বান্দ্বিকতা। বাকি সবকিছু প্রকৃতি ও ইতিহাসের ইতিবাচক বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত।যখন, তবে, প্রকৃতির ধারণার বিপ্লব কেবল গবেষণা দ্বারা সরবরাহিত সংশ্লিষ্ট ইতিবাচক উপাদানের অনুপাতে করা যেতে পারে, ইতিমধ্যেই অনেক আগে কিছু ঐতিহাসিক তথ্য ঘটেছিল যা ইতিহাসের ধারণায় একটি সিদ্ধান্তমূলক পরিবর্তন এনেছিল। ১৮৩১ সালে, লিয়ন্সে প্রথম শ্রমিক-শ্রেণীর বিদ্রোহ হয়; ১৮৩৮ এবং ১৮৪২ সালের মধ্যে, ইংরেজ চার্টিস্টদের প্রথম জাতীয় শ্রমিক-শ্রেণীর আন্দোলন তার শিখরে পৌঁছেছিল। সর্বহারা এবং বুর্জোয়াদের মধ্যে শ্রেণী সংগ্রাম ইউরোপের সবচেয়ে উন্নত দেশগুলির ইতিহাসে সামনে এসেছিল, একদিকে আধুনিক শিল্পের বিকাশের অনুপাতে, অন্যদিকে বুর্জোয়াদের নব-অর্জিত রাজনৈতিক আধিপত্যের অনুপাতে। তথ্যগুলি ক্রমবর্ধমানভাবে বুর্জোয়া অর্থনীতির শিক্ষাগুলিকে মিথ্যা প্রমাণ করেছিল পুঁজি এবং শ্রমের স্বার্থের পরিচয় সম্পর্কে, সীমাহীন প্রতিযোগিতার ফলাফল হিসাবে সার্বজনীন সম্প্রীতি এবং সার্বজনীন সমৃদ্ধি সম্পর্কে। এই সমস্ত জিনিস আর উপেক্ষা করা যাবে না, ফরাসি এবং ইংরেজ সমাজতন্ত্রের মতো যা তাদের তাত্ত্বিক, যদিও খুব অসম্পূর্ণ, অভিব্যক্তি ছিল। কিন্তু ইতিহাসের পুরানো আদর্শবাদী ধারণা, যা এখনও উচ্ছেদ করা হয়নি, অর্থনৈতিক স্বার্থের উপর ভিত্তি করে শ্রেণী সংগ্রামের কিছুই জানত না, অর্থনৈতিক স্বার্থের কিছুই জানত না; উৎপাদন এবং সমস্ত অর্থনৈতিক সম্পর্ক এতে "সভ্যতার ইতিহাস" -এ শুধুমাত্র আনুষঙ্গিক, অধীনস্থ উপাদান হিসাবে উপস্থিত হয়েছিল।নতুন তথ্যগুলি সমস্ত অতীত ইতিহাসের একটি নতুন পরীক্ষাকে অপরিহার্য করে তুলেছিল। তখন দেখা গেল যে সমস্ত অতীত ইতিহাস, তার আদিম পর্যায়গুলি বাদ দিয়ে, শ্রেণী সংগ্রামের ইতিহাস ছিল; যে সমাজের এই যুদ্ধরত শ্রেণীগুলি সর্বদা উৎপাদন ও বিনিময়ের পদ্ধতির পণ্য — এক কথায়, তাদের সময়ের অর্থনৈতিক অবস্থার; যে সমাজের অর্থনৈতিক কাঠামো সর্বদা প্রকৃত ভিত্তি সরবরাহ করে, যা থেকে শুরু করে আমরা কেবলমাত্র আইনি ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সমগ্র অধিকাঠামোর পাশাপাশি একটি প্রদত্ত ঐতিহাসিক সময়ের ধর্মীয়, দার্শনিক এবং অন্যান্য ধারণার চূড়ান্ত ব্যাখ্যা তৈরি করতে পারি। হেগেল ইতিহাসকে অধিবিদ্যা থেকে মুক্ত করেছেন — তিনি এটিকে দ্বান্দ্বিক করেছেন; কিন্তু ইতিহাস সম্পর্কে তার ধারণা ছিল মূলত আদর্শবাদী। কিন্তু এখন আদর্শবাদকে তার শেষ আশ্রয়স্থল, ইতিহাসের দর্শন থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল; এখন ইতিহাসের একটি বস্তুবাদী চিকিৎসা প্রস্তাব করা হয়েছিল, এবং মানুষের "জানা" দ্বারা তার "সত্তা" ব্যাখ্যা করার একটি পদ্ধতি পাওয়া গিয়েছিল, এর পরিবর্তে, এখন পর্যন্ত, তার "সত্তা" তার "জানা" দ্বারা।সেই সময় থেকে, সমাজতন্ত্র আর এই বা সেই প্রতিভাবান মস্তিষ্কের একটি আকস্মিক আবিষ্কার ছিল না, বরং দুটি ঐতিহাসিকভাবে বিকশিত শ্রেণী — সর্বহারা এবং বুর্জোয়াদের মধ্যে সংগ্রামের প্রয়োজনীয় ফলাফল ছিল। এর কাজটি আর যতটা সম্ভব নিখুঁত একটি সমাজের পদ্ধতি তৈরি করা ছিল না, বরং ঐতিহাসিক-অর্থনৈতিক ঘটনার ক্রম পরীক্ষা করা ছিল যেখান থেকে এই শ্রেণীগুলি এবং তাদের বিরোধিতা অগত্যা উদ্ভূত হয়েছিল, এবং এইভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে সংঘাত শেষ করার উপায়গুলি আবিষ্কার করা ছিল। কিন্তু পূর্ববর্তী দিনগুলির সমাজতন্ত্র এই বস্তুবাদী ধারণার সাথে যেমন বেমানান ছিল তেমনি ফরাসি বস্তুবাদীদের প্রকৃতির ধারণা দ্বান্দ্বিকতা এবং আধুনিক প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের সাথে ছিল। পূর্ববর্তী দিনগুলির সমাজতন্ত্র অবশ্যই বিদ্যমান পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতি এবং এর পরিণতিগুলির সমালোচনা করেছিল। কিন্তু এটি সেগুলি ব্যাখ্যা করতে পারেনি, এবং তাই সেগুলির উপর কর্তৃত্ব পেতে পারেনি। এটি কেবল সেগুলিকে খারাপ হিসাবে প্রত্যাখ্যান করতে পারে। এই পূর্ববর্তী সমাজতন্ত্র যত বেশি জোরেশোরে পুঁজিবাদের অধীনে অনিবার্য শ্রমিক-শ্রেণীর শোষণের নিন্দা করেছিল, তত কম এটি স্পষ্টভাবে দেখাতে সক্ষম হয়েছিল যে এই শোষণটি কীসের মধ্যে ছিল এবং কীভাবে এটি উত্থিত হয়েছিল। কিন্তু এর জন্য এটি প্রয়োজনীয় ছিল —পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতিকে তার ঐতিহাসিক সংযোগে এবং একটি বিশেষ ঐতিহাসিক সময়কালে এর অনিবার্যতা উপস্থাপন করা, এবং তাই, এর অনিবার্য পতনও উপস্থাপন করা; এবংএর প্রয়োজনীয় চরিত্রটি উন্মোচন করা, যা এখনও একটি রহস্য ছিল। এটি করা হয়েছিল উদ্বৃত্ত-মূল্যের আবিষ্কারের মাধ্যমে।এটি দেখানো হয়েছিল যে অপরিশোধিত শ্রমের আত্মসাৎ পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতি এবং এর অধীনে সংঘটিত শ্রমিকের শোষণের ভিত্তি; যে পুঁজিবাদী বাজারে তার শ্রমিকের শ্রমশক্তি তার পূর্ণ মূল্য হিসাবে একটি পণ্য হিসাবে কিনলেও, সে তা থেকে তার প্রদত্ত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য আহরণ করে; এবং যে শেষ পর্যন্ত, এই উদ্বৃত্ত-মূল্যই সেই মূল্যের যোগফল গঠন করে যেখান থেকে অধিকারী শ্রেণীগুলির হাতে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে পুঁজির ভর জমা হয়। পুঁজিবাদী উৎপাদনের উৎপত্তি এবং পুঁজির উৎপাদন উভয়ই ব্যাখ্যা করা হয়েছিল।এই দুটি মহান আবিষ্কার, ইতিহাসের বস্তুবাদী ধারণা এবং উদ্বৃত্ত-মূল্যের মাধ্যমে পুঁজিবাদী উৎপাদনের রহস্য উন্মোচন, আমরা মার্ক্সের কাছে ঋণী। এই আবিষ্কারগুলির সাথে, সমাজতন্ত্র একটি বিজ্ঞান হয়ে ওঠে। পরবর্তী কাজটি ছিল এর সমস্ত বিবরণ এবং সম্পর্কগুলি বিস্তারিত করা।ঐতিহাসিক বস্তুবাদইতিহাসের বস্তুবাদী ধারণা এই প্রস্তাব থেকে শুরু করে যে মানুষের জীবন সমর্থনের উপায় উৎপাদন এবং উৎপাদনের পাশাপাশি উৎপাদিত জিনিসের বিনিময় সমস্ত সামাজিক কাঠামোর ভিত্তি; যে ইতিহাসে আবির্ভূত প্রতিটি সমাজে, সম্পদ বিতরণ এবং সমাজকে শ্রেণী বা পদে বিভক্ত করার পদ্ধতি নির্ভর করে কী উৎপাদিত হয়, কীভাবে উৎপাদিত হয় এবং কীভাবে পণ্য বিনিময় হয় তার উপর। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, সমস্ত সামাজিক পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক বিপ্লবের চূড়ান্ত কারণগুলি মানুষের মস্তিষ্কে, চিরন্তন সত্য ও ন্যায়বিচারে মানুষের উন্নত অন্তর্দৃষ্টিতে নয়, বরং উৎপাদন ও বিনিময়ের পদ্ধতির পরিবর্তনে খোঁজা উচিত। সেগুলি দর্শনে নয়, প্রতিটি বিশেষ যুগের অর্থনীতিতে খোঁজা উচিত। বিদ্যমান সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলি অযৌক্তিক এবং অন্যায্য, যে যুক্তি অযৌক্তিক হয়ে উঠেছে এবং অধিকার অন্যায় হয়েছে [১] এই ক্রমবর্ধমান উপলব্ধি কেবল প্রমাণ যে উৎপাদন ও বিনিময়ের পদ্ধতিতে নীরবে পরিবর্তন ঘটেছে যার সাথে পূর্ববর্তী অর্থনৈতিক অবস্থার সাথে খাপ খাওয়ানো সামাজিক ব্যবস্থা আর সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এটি থেকেও অনুসরণ করে যে প্রকাশিত অসঙ্গতিগুলি থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়গুলিও পরিবর্তিত উৎপাদন পদ্ধতির মধ্যে কমবেশি বিকশিত অবস্থায় উপস্থিত থাকতে হবে। এই উপায়গুলি মৌলিক নীতি থেকে অনুমান করে আবিষ্কার করা যায় না, বরং উৎপাদনের বিদ্যমান পদ্ধতির একগুঁয়ে তথ্যগুলিতে আবিষ্কার করা উচিত।তাহলে, এই সংযোগে আধুনিক সমাজতন্ত্রের অবস্থান কী? সমাজের বর্তমান পরিস্থিতি — এটি এখন বেশ সাধারণভাবে স্বীকৃত — আজকের শাসক শ্রেণীর, বুর্জোয়াদের সৃষ্টি। বুর্জোয়াদের উৎপাদন পদ্ধতি, যা মার্ক্সের পর থেকে পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতি নামে পরিচিত, সামন্ত ব্যবস্থার সাথে, এটি ব্যক্তি, সম্পূর্ণ সামাজিক পদ এবং স্থানীয় কর্পোরেশনগুলিকে প্রদত্ত বিশেষাধিকারগুলির সাথে, পাশাপাশি বংশগত অধীনতার বন্ধনের সাথে বেমানান ছিল যা এর সামাজিক সংগঠনের কাঠামো গঠন করেছিল। বুর্জোয়ারা সামন্ত ব্যবস্থা ভেঙে দেয় এবং তার ধ্বংসাবশেষের উপর পুঁজিবাদী সামাজিক ব্যবস্থা গড়ে তোলে, মুক্ত প্রতিযোগিতার রাজ্য, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, আইনের আগে সমস্ত পণ্য মালিকদের সমতা, বাকি সমস্ত পুঁজিবাদী আশীর্বাদ। তখন থেকে, পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতি স্বাধীনভাবে বিকশিত হতে পারে। যেহেতু বাষ্প, যন্ত্রপাতি এবং যন্ত্রপাতি দ্বারা যন্ত্রপাতি তৈরি পুরানো নির্মাণশিল্পকে আধুনিক শিল্পে রূপান্তরিত করেছিল, বুর্জোয়াদের নির্দেশনায় বিকশিত উৎপাদন শক্তিগুলি পূর্বে কখনও শোনা যায়নি এমন দ্রুততা এবং মাত্রায় বিকশিত হয়েছিল। কিন্তু ঠিক যেমন পুরানো নির্মাণশিল্প, তার সময়ে, এবং হস্তশিল্প, তার প্রভাবের অধীনে আরও বিকশিত হয়ে, গিল্ডগুলির সামন্ত বাধার সাথে সংঘর্ষে এসেছিল, এখন আধুনিক শিল্প, তার সম্পূর্ণ বিকাশে, সেই সীমাগুলির সাথে সংঘর্ষে আসে যার মধ্যে পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতি এটি আবদ্ধ রাখে। নতুন উৎপাদন শক্তিগুলি ইতিমধ্যেই সেগুলি ব্যবহারের পুঁজিবাদী পদ্ধতিকে ছাড়িয়ে গেছে। এবং উৎপাদন শক্তি এবং উৎপাদন পদ্ধতির মধ্যে এই সংঘাত মানুষের মনে উৎপন্ন একটি সংঘাত নয়, যেমন মূল পাপ এবং ঐশ্বরিক ন্যায়বিচারের মধ্যে। এটি বাস্তবে, উদ্দেশ্যমূলকভাবে, আমাদের বাইরে, এটি ঘটানো মানুষদের ইচ্ছা ও কর্ম থেকে স্বাধীনভাবে বিদ্যমান। আধুনিক সমাজতন্ত্র এই দ্বন্দ্বের বাস্তবতায় চিন্তার প্রতিফলন ছাড়া আর কিছুই নয়; প্রথমে সরাসরি এর অধীনে ভোগা শ্রেণীর, শ্রমজীবী শ্রেণীর মনে তার আদর্শ প্রতিফলন।এখন, এই দ্বন্দ্বটি কীসের মধ্যে?পুঁজিবাদী উৎপাদনের আগে — অর্থাৎ, মধ্যযুগে — সাধারণভাবে ক্ষুদ্র শিল্পের পদ্ধতি প্রচলিত ছিল, যা শ্রমিকদের তাদের উৎপাদনের উপায়ে ব্যক্তিগত সম্পত্তির উপর ভিত্তি করে ছিল; গ্রামে, ছোট কৃষকের কৃষি, স্বাধীন মানুষ, বা দাস; শহরগুলিতে, গিল্ডে সংগঠিত হস্তশিল্প। শ্রমের যন্ত্রগুলি — জমি, কৃষি যন্ত্রপাতি, কর্মশালা, হাতিয়ার — পৃথক ব্যক্তিদের শ্রমের যন্ত্র ছিল, একজন শ্রমিকের ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত, এবং তাই, অগত্যা, ছোট, বামন, সীমাবদ্ধ। কিন্তু, এই কারণে, তারা একটি নিয়ম হিসাবে উৎপাদকের নিজের belonged. এই বিচ্ছুরিত, সীমিত উৎপাদনের উপায়গুলিকে কেন্দ্রীভূত করা, সেগুলিকে বড় করা, সেগুলিকে আজকের উৎপাদনের শক্তিশালী লিভারে পরিণত করা — এটি ছিল পুঁজিবাদী উৎপাদন এবং এর সমর্থক, বুর্জোয়াদের ঐতিহাসিক ভূমিকা। পুঁজি -এর চতুর্থ বিভাগে, মার্ক্স বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন কীভাবে ১৫শ শতাব্দী থেকে এটি সহজ সহযোগিতা, নির্মাণশিল্প এবং আধুনিক শিল্পের তিনটি পর্যায়ের মাধ্যমে ঐতিহাসিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু বুর্জোয়ারা, যেমন সেখানে দেখানো হয়েছে, এই ক্ষুদ্র উৎপাদনের উপায়গুলিকে শক্তিশালী উৎপাদন শক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারেনি তাদের একই সাথে ব্যক্তির উৎপাদনের উপায় থেকে শুধুমাত্র মানুষের একটি সমষ্টি দ্বারা কার্যকর সামাজিক উৎপাদনের উপায়ে রূপান্তরিত না করে। চরকা, হাততাঁত, কামারের হাতুড়ি প্রতিস্থাপিত হয়েছিল চরকা মেশিন, পাওয়ার-লুম, বাষ্প-হাতুড়ি দ্বারা; পৃথক কর্মশালা, শত শত এবং হাজার হাজার শ্রমিকের সহযোগিতা বোঝায় এমন কারখানা দ্বারা। একইভাবে, উৎপাদন নিজেই পৃথক ক্রিয়াগুলির একটি সিরিজ থেকে সামাজিক ক্রিয়াগুলির একটি সিরিজে পরিবর্তিত হয়েছিল, এবং উৎপাদন পৃথক থেকে সামাজিক পণ্যগুলিতে। সুতা, কাপড়, ধাতব জিনিসপত্র যা এখন কারখানা থেকে বেরিয়ে আসে সেগুলি ছিল অনেক শ্রমিকের যৌথ পণ্য, যাদের হাত দিয়ে সেগুলি প্রস্তুত হওয়ার আগে ক্রমান্বয়ে যেতে হয়েছিল। কোনও একক ব্যক্তি তাদের সম্পর্কে বলতে পারত না: "আমি এটি তৈরি করেছি; এটি আমার পণ্য।"কিন্তু যেখানে, একটি প্রদত্ত সমাজে, উৎপাদনের মৌলিক রূপ হল শ্রমের সেই স্বতঃস্ফূর্ত বিভাজন যা ধীরে ধীরে এবং কোনও পূর্বকল্পিত পরিকল্পনা অনুযায়ী নয়, সেখানে পণ্যগুলি পণ্যের রূপ নেয়, যার পারস্পরিক বিনিময়, ক্রয়-বিক্রয়, পৃথক উৎপাদকদের তাদের বহুবিধ চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম করে। এবং এটি ছিল মধ্যযুগের ক্ষেত্রে। কৃষক, যেমন, কারিগরের কাছে কৃষি পণ্য বিক্রি করত এবং তার কাছ থেকে হস্তশিল্পের পণ্য কিনত। পৃথক উৎপাদকদের এই সমাজে, পণ্য উৎপাদকদের, উৎপাদনের নতুন পদ্ধতি নিজেকে প্রবেশ করায়। পুরানো শ্রম বিভাজনের মাঝখানে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবং কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই বেড়ে ওঠা, যা সমগ্র সমাজকে শাসন করেছিল, এখন একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনায় শ্রম বিভাজন দেখা দেয়, যেমন কারখানায় সংগঠিত; পৃথক উৎপাদনের পাশাপাশি সামাজিক উৎপাদন আবির্ভূত হয়। উভয়ের পণ্য একই বাজারে বিক্রি হত, এবং তাই, অন্তত প্রায় সমান দামে। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনার সংগঠন স্বতঃস্ফূর্ত শ্রম বিভাজনের চেয়ে শক্তিশালী ছিল। মানুষের একটি সমষ্টির সম্মিলিত সামাজিক শক্তির সাথে কাজ করা কারখানাগুলি তাদের পণ্যগুলি পৃথক ছোট উৎপাদকদের তুলনায় অনেক সস্তায় উৎপাদন করত। পৃথক উৎপাদকরা এক বিভাগের পর এক বিভাগে পরাজিত হয়। সামাজিকীকৃত উৎপাদন সমস্ত পুরানো উৎপাদন পদ্ধতিতে বিপ্লব ঘটায়। কিন্তু এর বিপ্লবী চরিত্রটি একই সাথে এত কম স্বীকৃত হয়েছিল যে, বিপরীতে, এটি পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিকাশের একটি উপায় হিসাবে প্রবর্তিত হয়েছিল। যখন এটি উত্থিত হয়েছিল, এটি পণ্য উৎপাদন ও বিনিময়ের জন্য কিছু যন্ত্রপাতি প্রস্তুত পেয়েছিল এবং উদারভাবে ব্যবহার করেছিল: বণিকদের পুঁজি, হস্তশিল্প, মজুরি-শ্রম। সামাজিকীকৃত উৎপাদন এইভাবে নিজেকে পণ্য উৎপাদনের একটি নতুন রূপ হিসাবে প্রবর্তন করে, এটি স্বাভাবিক ছিল যে এর অধীনে আত্মসাতের পুরানো রূপগুলি সম্পূর্ণভাবে বলবৎ ছিল এবং এর পণ্যগুলির জন্যও প্রয়োগ করা হয়েছিল।পণ্য উৎপাদনের বিবর্তনের মধ্যযুগীয় পর্যায়ে, শ্রমের পণ্যের মালিক কে এই প্রশ্ন উঠতে পারে না। পৃথক উৎপাদক, একটি নিয়ম হিসাবে, তার নিজের অন্তর্গত কাঁচামাল থেকে, এবং সাধারণত তার নিজস্ব হস্তশিল্প, তার নিজের হাতের শ্রম বা তার পরিবারের শ্রম দ্বারা তার নিজস্ব সরঞ্জাম দিয়ে এটি উৎপাদন করত। নতুন পণ্য আত্মসাৎ করার জন্য তার কোনও প্রয়োজন ছিল না। এটি একটি স্বাভাবিক বিষয় হিসাবে সম্পূর্ণরূপে তার belonged. পণ্যে তার সম্পত্তি, তাই, তার নিজস্ব শ্রমের উপর ভিত্তি করে ছিল। এমনকি যেখানে বাহ্যিক সাহায্য ব্যবহার করা হত, এটি একটি নিয়ম হিসাবে, সামান্য গুরুত্বের ছিল, এবং খুব সাধারণভাবে মজুরি ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হত। গিল্ডগুলির শিক্ষানবিশ এবং সহকারীরা বোর্ড এবং মজুরির চেয়ে কম শিক্ষার জন্য কাজ করত, যাতে তারা নিজেরাই মাস্টার কারিগর হতে পারে।তারপর এল উৎপাদনের উপায় এবং উৎপাদকদের বড় কর্মশালা এবং কারখানায় কেন্দ্রীভূত করা, তাদের প্রকৃত সামাজিকীকৃত উৎপাদনের উপায় এবং সামাজিকীকৃত উৎপাদকগুলিতে রূপান্তর। কিন্তু সামাজিকীকৃত উৎপাদক এবং উৎপাদনের উপায় এবং তাদের পণ্যগুলি এই পরিবর্তনের পরেও ঠিক আগের মতোই বিবেচিত হয়েছিল — অর্থাৎ, পৃথক ব্যক্তিদের উৎপাদনের উপায় এবং পণ্য হিসাবে। এখন পর্যন্ত, শ্রমের যন্ত্রের মালিক নিজেই পণ্যটি আত্মসাৎ করতেন, কারণ, একটি নিয়ম হিসাবে, এটি তার নিজস্ব পণ্য ছিল এবং অন্যদের সহায়তা ব্যতিক্রম ছিল। এখন, শ্রমের যন্ত্রের মালিক সর্বদা নিজের কাছে পণ্যটি আত্মসাৎ করতেন, যদিও এটি আর তার নিজস্ব পণ্য ছিল না বরং অন্যদের শ্রমের একচেটিয়া পণ্য ছিল। এইভাবে, এখন সামাজিকভাবে উৎপাদিত পণ্যগুলি তাদের দ্বারা আত্মসাৎ করা হয়নি যারা প্রকৃতপক্ষে উৎপাদনের উপায়গুলি চালু করেছিল এবং প্রকৃতপক্ষে পণ্যগুলি উৎপাদন করেছিল, বরং পুঁজিপতিদের দ্বারা। উৎপাদনের উপায় এবং উৎপাদন নিজেই সারমর্মে সামাজিকীকৃত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেগুলি আত্মসাতের একটি রূপের অধীন ছিল যা পৃথক ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত উৎপাদনকে পূর্বাভাস দেয়, যার অধীনে, তাই, প্রত্যেকে তার নিজস্ব পণ্যের মালিক হয় এবং এটি বাজারে নিয়ে আসে। উৎপাদন পদ্ধতি আত্মসাতের এই রূপের অধীন, যদিও এটি পরবর্তীটির ভিত্তি তৈরি করে এমন শর্তগুলিকে বিলুপ্ত করে। [২]এই দ্বন্দ্ব, যা উৎপাদনের নতুন পদ্ধতিকে তার পুঁজিবাদী চরিত্র দেয়, আজকের সমস্ত সামাজিক বিরোধিতার জীবাণু ধারণ করে। উৎপাদনের নতুন পদ্ধতি উৎপাদনের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র এবং সমস্ত উৎপাদনকারী দেশে যত বেশি কর্তৃত্ব অর্জন করেছিল, তত বেশি এটি পৃথক উৎপাদনকে একটি তুচ্ছ অবশিষ্টাংশে হ্রাস করেছিল, তত বেশি স্পষ্টভাবে সামাজিকীকৃত উৎপাদনের সাথে পুঁজিবাদী আত্মসাতের বেমানানতা প্রকাশিত হয়েছিল। প্রথম পুঁজিপতিরা, আমরা যেমন বলেছি, শ্রমের অন্যান্য রূপের পাশাপাশি, বাজারে মজুরি-শ্রম প্রস্তুত পেয়েছিলেন। কিন্তু এটি ছিল ব্যতিক্রমী, পরিপূরক, আনুষঙ্গিক, অস্থায়ী মজুরি-শ্রম। কৃষি শ্রমিক, যদিও মাঝে মাঝে, তিনি দিনের জন্য নিজেকে নিয়োগ দিতেন, তার নিজস্ব জমির কয়েক একর ছিল যার উপর তিনি অন্তত কঠিন সময়ে বাঁচতে পারতেন। গিল্ডগুলি এমনভাবে সংগঠিত ছিল যে আজকের সহকারী আগামীকালের মাস্টার হয়ে ওঠে। কিন্তু এই সব পরিবর্তিত হয়, যত তাড়াতাড়ি উৎপাদনের উপায়গুলি সামাজিকীকৃত এবং পুঁজিপতিদের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়। পৃথক উৎপাদকের উৎপাদনের উপায়, সেইসাথে পণ্য, আরও বেশি মূল্যহীন হয়ে পড়ে; তার জন্য পুঁজিপতির অধীনে মজুরি-শ্রমিক হওয়া ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। মজুরি-শ্রম, পূর্বে ব্যতিক্রম এবং আনুষঙ্গিক, এখন নিয়ম এবং সমস্ত উৎপাদনের ভিত্তি হয়ে ওঠে; পূর্বে পরিপূরক, এটি এখন শ্রমিকের একমাত্র অবশিষ্ট কাজ হয়ে ওঠে। মজুরি-শ্রমিক একটি সময়ের জন্য আজীবন মজুরি-শ্রমিক হয়ে ওঠে। এই স্থায়ী শ্রমিকদের সংখ্যা আরও বিরাটভাবে বৃদ্ধি পায় একই সময়ে সংঘটিত সামন্ত ব্যবস্থার ভাঙনের মাধ্যমে, সামন্ত প্রভুদের অনুচরদের বিলুপ্তি, কৃষকদের তাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ ইত্যাদির মাধ্যমে। বিচ্ছেদ সম্পূর্ণ করা হয়েছিল একদিকে পুঁজিপতিদের হাতে কেন্দ্রীভূত উৎপাদনের উপায় এবং অন্যদিকে তাদের শ্রমশক্তি ছাড়া কিছুই নেই এমন উৎপাদকদের মধ্যে। সামাজিকীকৃত উৎপাদন এবং পুঁজিবাদী আত্মসাতের মধ্যে দ্বন্দ্ব সর্বহারা এবং বুর্জোয়াদের বিরোধিতা হিসাবে নিজেকে প্রকাশ করে।আমরা দেখেছি যে পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতি তার পথ তৈরি করেছিল পণ্য-উৎপাদকদের একটি সমাজে, পৃথক উৎপাদকদের, যাদের সামাজিক বন্ধন ছিল তাদের পণ্যের বিনিময়। কিন্তু পণ্য উৎপাদনের উপর ভিত্তি করে প্রতিটি সমাজের এই বৈশিষ্ট্য রয়েছে: যে উৎপাদকরা তাদের নিজস্ব সামাজিক আন্তঃসম্পর্কের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। প্রতিটি মানুষ নিজের জন্য উৎপাদন করে এমন উৎপাদনের উপায়গুলি দিয়ে যা তার কাছে ঘটতে পারে, এবং এই ধরনের বিনিময়ের জন্য যা তার অবশিষ্ট চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজন হতে পারে। কেউ জানে না তার বিশেষ নিবন্ধের কতটা বাজারে আসছে, না কতটা চাওয়া হবে। কেউ জানে না তার পৃথক পণ্য একটি প্রকৃত চাহিদা পূরণ করবে কিনা, সে তার উৎপাদন খরচ পূরণ করতে সক্ষম হবে কিনা বা এমনকি তার পণ্য বিক্রি করতে পারবে কিনা। সামাজিকীকৃত উৎপাদনে বিশৃঙ্খলা রাজত্ব করে।কিন্তু পণ্য উৎপাদন, অন্য যে কোনও উৎপাদনের মতো, এর নিজস্ব, অন্তর্নিহিত আইন রয়েছে যা থেকে অবিচ্ছেদ্য; এবং এই আইনগুলি, বিশৃঙ্খলা সত্ত্বেও, বিশৃঙ্খলার মধ্যে এবং মাধ্যমে কাজ করে। তারা সামাজিক আন্তঃসম্পর্কের একমাত্র অবিরাম রূপ — অর্থাৎ, বিনিময় — এ নিজেদের প্রকাশ করে, এবং এখানে তারা পৃথক উৎপাদকদের প্রতিযোগিতার বাধ্যতামূলক আইন হিসাবে প্রভাবিত করে। তারা প্রথমে এই উৎপাদকদের নিজেদের কাছে অজানা থাকে, এবং ধীরে ধীরে এবং অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ তাদের দ্বারা আবিষ্কৃত হতে হয়। তারা নিজেদেরকে তাই উৎপাদকদের থেকে স্বাধীনভাবে এবং তাদের বিরোধিতায় কাজ করে, তাদের বিশেষ উৎপাদনের অপরিবর্তনীয় প্রাকৃতিক আইন হিসাবে। পণ্য উৎপাদকদের শাসন করে।মধ্যযুগীয় সমাজে, বিশেষ করে পূর্ববর্তী শতাব্দীগুলিতে, উৎপাদন মূলত ব্যক্তির চাহিদা পূরণের দিকে পরিচালিত ছিল। এটি মূলত শুধুমাত্র উৎপাদক এবং তার পরিবারের চাহিদা পূরণ করত। যেখানে ব্যক্তিগত নির্ভরতার সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল, যেমন গ্রামে, এটি সামন্ত প্রভুর চাহিদা পূরণেও সাহায্য করত। এই সবকিছুতে, তাই, কোনও বিনিময় ছিল না; ফলস্বরূপ, পণ্যগুলি পণ্যের চরিত্র ধারণ করেনি। কৃষকের পরিবার প্রায় সবকিছুই উৎপাদন করত যা তারা চাইত: পোশাক এবং আসবাবপত্র, সেইসাথে জীবিকার উপায়। শুধুমাত্র যখন এটি তার নিজস্ব চাহিদা এবং সামন্ত প্রভুদের প্রকৃত প্রদত্ত অর্থের চেয়ে বেশি উৎপাদন করতে শুরু করে, তখনই এটি পণ্যও উৎপাদন করত। এই উদ্বৃত্ত, সামাজিকীকৃত বিনিময়ে নিক্ষিপ্ত এবং বিক্রয়ের জন্য দেওয়া, পণ্যে পরিণত হয়।শহরগুলির কারিগর, এটি সত্য, প্রথম থেকেই বিনিময়ের জন্য উৎপাদন করতে হয়েছিল। কিন্তু তারাও নিজেদের ব্যক্তিগত চাহিদার সবচেয়ে বড় অংশ সরবরাহ করত। তাদের বাগান এবং জমির প্লট ছিল। তারা তাদের গবাদি পশুকে সাম্প্রদায়িক বনে চরাত, যা তাদের কাঠ এবং জ্বালানিও দিত। মহিলারা শণ, উল ইত্যাদি কাটত। বিনিময়ের উদ্দেশ্যে উৎপাদন, পণ্য উৎপাদন, তখনও শিশু অবস্থায় ছিল। তাই, বিনিময় সীমাবদ্ধ ছিল, বাজার সংকীর্ণ ছিল, উৎপাদনের পদ্ধতি স্থিতিশীল ছিল; বাইরে স্থানীয় একচেটিয়াতা ছিল, ভিতরে স্থানীয় ঐক্য; গ্রামে মার্ক; শহরে গিল্ড।কিন্তু পণ্য উৎপাদনের প্রসারের সাথে, এবং বিশেষ করে পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতির প্রবর্তনের সাথে, পণ্য-উৎপাদনের আইনগুলি, এখন পর্যন্ত সুপ্ত, আরও খোলাখুলিভাবে এবং আরও বেশি শক্তির সাথে কাজ করতে শুরু করে। পুরানো বন্ধনগুলি আলগা হয়ে গিয়েছিল, পুরানো একচেটিয়া সীমাগুলি ভেঙে গিয়েছিল, উৎপাদকরা ক্রমবর্ধমানভাবে স্বাধীন, বিচ্ছিন্ন পণ্য উৎপাদকে পরিণত হয়েছিল। এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে সাধারণভাবে সমাজের উৎপাদন পরিকল্পনার অনুপস্থিতি, দুর্ঘটনা, বিশৃঙ্খলা দ্বারা পরিচালিত হয়; এবং এই বিশৃঙ্খলা আরও বেশি উচ্চতায় বৃদ্ধি পায়। কিন্তু পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতি সামাজিকীকৃত উৎপাদনের এই বিশৃঙ্খলাকে তীব্র করার প্রধান উপায় ছিল বিশৃঙ্খলার ঠিক বিপরীত। এটি ছিল প্রতিটি পৃথক উৎপাদন প্রতিষ্ঠানে একটি সামাজিক ভিত্তিতে উৎপাদনের ক্রমবর্ধমান সংগঠন। এর দ্বারা, পুরানো, শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল অবস্থার সমাপ্তি ঘটে। যেখানেই উৎপাদনের এই সংগঠনটি শিল্পের একটি শাখায় প্রবর্তিত হয়েছিল, এটি তার পাশে অন্য কোনও উৎপাদন পদ্ধতি সহ্য করত না। শ্রমের ক্ষেত্রটি একটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। মহান ভৌগোলিক আবিষ্কারগুলি এবং তাদের অনুসরণকারী উপনিবেশকরণ বাজারগুলিকে বহুগুণিত করে এবং হস্তশিল্পকে নির্মাণশিল্পে রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করে। যুদ্ধ কেবল নির্দিষ্ট অঞ্চলের পৃথক উৎপাদকদের মধ্যে শুরু হয়নি। স্থানীয় সংগ্রামগুলি তাদের পালাক্রমে জাতীয় সংঘাতের জন্ম দেয়, ১৭শ এবং ১৮শ শতাব্দীর বাণিজ্যিক যুদ্ধ।শেষ পর্যন্ত, আধুনিক শিল্প এবং বিশ্ব-বাজারের উন্মোচন সংগ্রামকে সর্বজনীন করে তোলে, এবং একই সাথে এটি অভূতপূর্ব তীব্রতা দেয়। উৎপাদনের প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম অবস্থার সুবিধাগুলি এখন পৃথক পুঁজিপতি, পাশাপাশি সম্পূর্ণ শিল্প এবং দেশগুলির অস্তিত্ব বা অস্তিত্বহীনতা নির্ধারণ করে। যে পতন ঘটে তাকে নির্মমভাবে বাদ দেওয়া হয়। এটি প্রকৃতি থেকে সমাজে স্থানান্তরিত ব্যক্তির অস্তিত্বের জন্য ডারউইনীয় সংগ্রাম, তীব্র সহিংসতার সাথে। প্রাণীর জন্য প্রাকৃতিক অস্তিত্বের শর্তগুলি মানব বিকাশের চূড়ান্ত শব্দ হিসাবে উপস্থিত হয়। সামাজিকীকৃত উৎপাদন এবং পুঁজিবাদী আত্মসাতের মধ্যে দ্বন্দ্ব এখন পৃথক কর্মশালায় উৎপাদনের সংগঠন এবং সাধারণভাবে সমাজে উৎপাদনের বিশৃঙ্খলার মধ্যে একটি বিরোধিতা হিসাবে নিজেকে উপস্থাপন করে।পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতি তার উৎপত্তি থেকেই অন্তর্নিহিত বিরোধিতার এই দুটি রূপে চলে। এটি কখনই ফুরিয়ার ইতিমধ্যে আবিষ্কৃত সেই "দুষ্ট বৃত্ত" থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম নয়। ফুরিয়ার যা, প্রকৃতপক্ষে, তার সময়ে দেখতে পারেনি তা হল যে এই বৃত্তটি ধীরে ধীরে সংকীর্ণ হচ্ছে; যে গতি ক্রমবর্ধমান একটি সর্পিল হয়ে ওঠে, এবং কেন্দ্রের সাথে সংঘর্ষের মাধ্যমে, গ্রহগুলির গতির মতো, শেষ হতে হবে। এটি সাধারণভাবে সমাজের উৎপাদনে বিশৃঙ্খলার বাধ্যতামূলক শক্তি যা ক্রমবর্ধমানভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে সর্বহারা করে তোলে; এবং এটি আবার সর্বহারা জনগণই শেষ পর্যন্ত উৎপাদনে বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটাবে। এটি সামাজিক উৎপাদনে বিশৃঙ্খলার বাধ্যতামূলক শক্তি যা আধুনিক শিল্পের অধীনে যন্ত্রপাতির সীমাহীন উন্নতিযোগ্যতাকে একটি বাধ্যতামূলক আইনে পরিণত করে যা দ্বারা প্রতিটি পৃথক শিল্প পুঁজিপতিকে ধ্বংসের শাস্তির অধীনে তার যন্ত্রপাতি আরও বেশি উন্নত করতে হবে।কিন্তু যন্ত্রপাতির উন্নতির অর্থ হল মানব শ্রমকে অপ্রয়োজনীয় করা। যদি যন্ত্রপাতির প্রবর্তন এবং বৃদ্ধির অর্থ কয়েকটি মেশিন-শ্রমিক দ্বারা ম্যানুয়াল লক্ষ লক্ষের স্থানচ্যুতি, যন্ত্রপাতির উন্নতি অর্থ আরও বেশি মেশিন-শ্রমিকদের নিজেদের স্থানচ্যুতি। এর অর্থ, শেষ পর্যন্ত, পুঁজির গড় প্রয়োজনীয়তার চেয়ে বেশি সংখ্যক উপলব্ধ মজুরি শ্রমিকের উৎপাদন, একটি সম্পূর্ণ শিল্প রিজার্ভ সেনাবাহিনীর গঠন, যেমনটি আমি ১৮৪৫ সালে [৩] বলেছিলাম, শিল্প যখন উচ্চ চাপে কাজ করছে তখন উপলব্ধ, যখন অনিবার্য বিপর্যয় আসে তখন রাস্তায় ফেলে দেওয়ার জন্য, শ্রমিক-শ্রেণীর পুঁজির সাথে তার অস্তিত্বের সংগ্রামে একটি ধ্রুবক মৃত ওজন, মজুরি পুঁজির স্বার্থে উপযুক্ত নিম্ন স্তরে রাখার জন্য একটি নিয়ন্ত্রক।এইভাবে এটি ঘটে, মার্ক্সের উদ্ধৃতি দিতে, যে যন্ত্রপাতি পুঁজির শ্রমিক-শ্রেণীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হয়ে ওঠে; যে শ্রমের যন্ত্রগুলি ক্রমাগত শ্রমিকের হাত থেকে জীবিকার উপায় কেড়ে নেয়; শ্রমিকের পণ্যই তার বশীকরণের একটি যন্ত্রে পরিণত হয়।এইভাবে এটি ঘটে যে শ্রমের যন্ত্রের সাশ্রয় একই সাথে শ্রম-শক্তির সবচেয়ে বেপরোয়া অপচয় হয়ে ওঠে, এবং শ্রমের স্বাভাবিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে ডাকাতি; "শ্রম সময় সংক্ষিপ্ত করার জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী যন্ত্র, পুঁজির মূল্য প্রসারিত করার উদ্দেশ্যে শ্রমিকের সময় এবং তার পরিবারের প্রতিটি মুহূর্ত পুঁজিপতির নিষ্পত্তিতে রাখার জন্য সবচেয়ে অকাট্য মাধ্যম হয়ে ওঠে।"এইভাবে এটি ঘটে যে কারও অতিরিক্ত কাজ অন্যদের অলসতার প্রাথমিক শর্ত হয়ে ওঠে, এবং যে আধুনিক শিল্প, যা সারা বিশ্বে নতুন ভোক্তাদের শিকার করে, দেশের জনগণের ভোগকে ক্ষুধার্ত ন্যূনতম পর্যন্ত নামিয়ে দেয়, এবং তা করার মাধ্যমে তার নিজস্ব দেশীয় বাজার ধ্বংস করে।"আপেক্ষিক উদ্বৃত্ত-জনসংখ্যা, বা শিল্প রিজার্ভ সেনাবাহিনীকে সর্বদা সঞ্চয়ের পরিমাণ এবং শক্তির সাথে সমতুল্য করে এমন আইনটি শ্রমিককে পুঁজির সাথে আরও শক্তভাবে বেঁধে দেয় ভলকানের কীলকগুলি প্রমিথিউসকে শিলার সাথে বেঁধেছিল তার চেয়ে। এটি দুর্দশার একটি সঞ্চয় প্রতিষ্ঠা করে, পুঁজির সঞ্চয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। এক মেরুতে সম্পদের সঞ্চয়, তাই, একই সময়ে অন্য মেরুতে দুর্দশা, শ্রমের যন্ত্রণা, দাসত্ব, অজ্ঞতা, পাশবিকতা, মানসিক অবক্ষয়ের সঞ্চয়, অর্থাৎ, যে শ্রেণীটি তার নিজস্ব পণ্যকে পুঁজির আকারে উৎপাদন করে তার পক্ষে (মার্ক্সের পুঁজি, পৃষ্ঠা ৬৬১)এবং পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতি থেকে পণ্যের অন্য কোনও বিভাজন আশা করা একই রকম যে একটি ব্যাটারির ইলেক্ট্রোডগুলি অ্যাসিডযুক্ত জলকে পচিয়ে দেবে না, ধনাত্মক মেরুতে অক্সিজেন, ঋণাত্মক মেরুতে হাইড্রোজেন মুক্ত করবে না, যতক্ষণ না তারা ব্যাটারির সাথে সংযুক্ত থাকে।আমরা দেখেছি যে আধুনিক যন্ত্রপাতির ক্রমবর্ধমান উন্নতিযোগ্যতা, সামাজিক উৎপাদনের বিশৃঙ্খলার দ্বারা, একটি বাধ্যতামূলক আইনে পরিণত হয় যা পৃথক শিল্প পুঁজিপতিকে সর্বদা তার যন্ত্রপাতি উন্নত করতে, সর্বদা তার উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে বাধ্য করে। উৎপাদনের ক্ষেত্র প্রসারিত করার নিছক সম্ভাবনা তার জন্য একইভাবে একটি বাধ্যতামূলক আইনে রূপান্তরিত হয়। আধুনিক শিল্পের বিরাট প্রসারিত শক্তি, যার তুলনায় গ্যাসগুলির নিছক শিশু খেলা, এখন আমাদের কাছে একটি প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা হিসাবে দেখা যায়, উভয় গুণগত এবং পরিমাণগত, যা সমস্ত প্রতিরোধে হাসে। এই ধরনের প্রতিরোধ দেওয়া হয় খরচ, বিক্রয়, আধুনিক শিল্পের পণ্যগুলির বাজার দ্বারা। কিন্তু বাজারের প্রসারণের ক্ষমতা, ব্যাপক এবং নিবিড়, প্রাথমিকভাবে সম্পূর্ণ ভিন্ন আইন দ্বারা পরিচালিত হয় যা অনেক কম জোরালোভাবে কাজ করে। বাজারের প্রসারণ উৎপাদনের প্রসারণের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে না। সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে ওঠে, এবং যেহেতু এটি ততক্ষণ পর্যন্ত কোনও বাস্তব সমাধান উৎপন্ন করতে পারে না যতক্ষণ না এটি পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতিকে টুকরো টুকরো না করে, সংঘর্ষগুলি পর্যায়ক্রমিক হয়ে ওঠে। পুঁজিবাদী উৎপাদন আরেকটি "দুষ্ট বৃত্ত" তৈরি করেছে।বাস্তবিকভাবে, ১৮২৫ সাল থেকে, যখন প্রথম সাধারণ সংকট শুরু হয়, সমগ্র শিল্প ও বাণিজ্যিক বিশ্ব, সমস্ত সভ্য মানুষের মধ্যে উৎপাদন ও বিনিময় এবং তাদের কমবেশি বর্বর অনুগামীরা, প্রায় প্রতি ১০ বছরে একবার ছিন্নভিন্ন হয়। বাণিজ্য থমকে যায়, বাজারগুলি পরিপূর্ণ হয়, পণ্যগুলি জমা হয়, যতটা অগণিত ততটাই অবিক্রেয়, নগদ অর্থ অদৃশ্য হয়ে যায়, ঋণ অদৃশ্য হয়ে যায়, কারখানাগুলি বন্ধ হয়ে যায়, শ্রমিকদের বিশাল জনগণের জীবিকার উপায়ের অভাব হয়, কারণ তারা অত্যধিক জীবিকার উপায় উৎপাদন করেছে; একের পর এক দেউলিয়াত্ব, একের পর এক ফাঁসি। স্থবিরতা বছর ধরে স্থায়ী হয়; উৎপাদন শক্তি এবং পণ্যগুলি পাইকারি নষ্ট এবং ধ্বংস করা হয়, যতক্ষণ না জমে থাকা পণ্যের ভর শেষ পর্যন্ত ফিল্টার হয়ে যায়, কমবেশি অবমূল্যায়িত হয়, যতক্ষণ না উৎপাদন এবং বিনিময় ধীরে ধীরে আবার চলতে শুরু করে। ধীরে ধীরে, গতি বাড়ে। এটি একটি ট্রট হয়ে ওঠে। শিল্প ট্রট একটি ক্যান্টারে ভেঙে যায়, ক্যান্টারটি ঘুরে শিল্প, বাণিজ্যিক ঋণ এবং জল্পনার একটি সম্পূর্ণ স্টিপলচেজের দ্রুতগামী গলপে পরিণত হয়, যা শেষ পর্যন্ত, ভাঙা-পড়া লাফের পরে, যেখানে শুরু হয়েছিল সেখানে শেষ হয় — একটি সংকটের খাদে। এবং তাই বারবার। আমরা এখন, ১৮২৫ সাল থেকে, এই পাঁচবার অতিক্রম করেছি, এবং বর্তমান মুহূর্তে (১৮৭৭), আমরা এটি ষষ্ঠবারের জন্য অতিক্রম করছি। এবং এই সংকটগুলির চরিত্রটি এত স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত যে ফুরিয়ার প্রথম "ক্রিস প্লেথোরিক", প্রাচুর্য থেকে একটি সংকট বর্ণনা করার সময় তাদের সবাইকে আঘাত করেছিলেন।এই সংকটগুলিতে, সামাজিকীকৃত উৎপাদন এবং পুঁজিবাদী আত্মসাতের মধ্যে দ্বন্দ্ব একটি সহিংস বিস্ফোরণে শেষ হয়। পণ্যের সঞ্চালন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। অর্থ, সঞ্চালনের মাধ্যম, সঞ্চালনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পণ্য উৎপাদন ও সঞ্চালনের সমস্ত আইন উল্টে যায়। অর্থনৈতিক সংঘর্ষ তার শীর্ষে পৌঁছেছে। উৎপাদন পদ্ধতি বিনিময় পদ্ধতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে।সত্য যে কারখানার মধ্যে উৎপাদনের সামাজিকীকৃত সংগঠন এতদূর বিকশিত হয়েছে যে এটি সমাজে উৎপাদনের বিশৃঙ্খলার সাথে বেমানান হয়ে উঠেছে, যা এর পাশে বিদ্যমান এবং এটি আধিপত্য বিস্তার করে, সংকটের সময় সংঘটিত পুঁজির সহিংস ঘনত্বের মাধ্যমে পুঁজিপতিদের নিজেদের কাছে ফিরিয়ে আনা হয়, অনেক বড় এবং আরও বেশি সংখ্যক ছোট পুঁজিপতিদের ধ্বংসের মাধ্যমে। পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতির সমগ্র প্রক্রিয়া উৎপাদন শক্তির চাপে, তার নিজস্ব সৃষ্টির অধীনে ভেঙে পড়ে। এটি আর উৎপাদনের উপায়ের এই সমস্ত ভরকে পুঁজিতে পরিণত করতে সক্ষম নয়। তারা পতিত থাকে, এবং সেই কারণে শিল্প রিজার্ভ সেনাবাহিনীকেও পতিত থাকতে হয়। উৎপাদনের উপায়, জীবিকার উপায়, উপলব্ধ শ্রমিক, উৎপাদন এবং সাধারণ সম্পদের সমস্ত উপাদান প্রচুর পরিমাণে উপস্থিত রয়েছে। কিন্তু "প্রাচুর্য দুর্দশা এবং অভাবের উৎস হয়ে ওঠে" (ফুরিয়ার), কারণ এটিই সেই জিনিস যা উৎপাদনের উপায় এবং জীবিকার পুঁজিতে রূপান্তরকে বাধা দেয়। কারণ পুঁজিবাদী সমাজে, উৎপাদনের উপায়গুলি কেবল তখনই কাজ করতে পারে যখন তারা পুঁজিতে, মানব শ্রম-শক্তিকে শোষণের উপায়ে একটি প্রাথমিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে। উৎপাদনের উপায় এবং জীবিকার পুঁজিতে এই রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা একটি ভূতের মতো এগুলির এবং শ্রমিকদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকে। এটি একা উৎপাদনের বস্তুগত এবং ব্যক্তিগত লিভারগুলিকে একত্রিত হতে বাধা দেয়; এটি একা উৎপাদনের উপায়গুলিকে কাজ করতে, শ্রমিকদের কাজ করতে এবং বাঁচতে বাধা দেয়। একদিকে, তাই, পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতি এই উৎপাদন শক্তিগুলিকে আরও নির্দেশিত করার নিজস্ব অক্ষমতার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়। অন্যদিকে, এই উৎপাদন শক্তিগুলি নিজেরাই, ক্রমবর্ধমান শক্তির সাথে, বিদ্যমান দ্বন্দ্ব দূর করতে, পুঁজি হিসাবে তাদের গুণমান বাতিল করতে, সামাজিক উৎপাদন শক্তি হিসাবে তাদের চরিত্রের ব্যবহারিক স্বীকৃতির জন্য চাপ দেয়।উৎপাদন শক্তির এই বিদ্রোহ, যেহেতু তারা আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে, পুঁজি হিসাবে তাদের গুণমানের বিরুদ্ধে, তাদের সামাজিক চরিত্র স্বীকৃত হওয়ার এই শক্তিশালী এবং আরও শক্তিশালী আদেশ, পুঁজি শ্রেণীকে নিজেই তাদের সাথে আরও বেশি করে সামাজিক উৎপাদন শক্তি হিসাবে আচরণ করতে বাধ্য করে, যতদূর এটি পুঁজিবাদী অবস্থার অধীনে সম্ভব। শিল্পের উচ্চ চাপের সময়কাল, তার সীমাহীন ঋণ স্ফীতির সাথে, বিপর্যয়ের মতো নয়, বড় পুঁজিবাদী প্রতিষ্ঠানগুলির পতনের মাধ্যমে, উৎপাদনের উপায়ের বিশাল জনগণের সামাজিকীকরণের সেই রূপটি আনতে থাকে যা আমরা বিভিন্ন ধরণের যৌথ-স্টক সংস্থাগুলিতে দেখতে পাই। উৎপাদন ও বিতরণের এই উপায়গুলির মধ্যে অনেকগুলি শুরু থেকেই এত বিশাল যে, রেলওয়ের মতো, তারা পুঁজিবাদী সম্প্রসারণের অন্যান্য সমস্ত রূপকে বাদ দেয়। বিবর্তনের আরও পর্যায়ে, এই রূপটিও অপর্যাপ্ত হয়ে পড়ে। একটি নির্দিষ্ট দেশে একটি শিল্পের একটি বিশেষ শাখার বড় আকারের উৎপাদনকারীরা একটি "ট্রাস্টে" একত্রিত হয়, উৎপাদন নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে একটি ইউনিয়ন। তারা উৎপাদিত মোট পরিমাণ নির্ধারণ করে, এটি নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে এবং এইভাবে পূর্বনির্ধারিত বিক্রয় মূল্য প্রয়োগ করে। কিন্তু এই ধরণের ট্রাস্টগুলি, যত তাড়াতাড়ি ব্যবসা খারাপ হয়, সাধারণত ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা থাকে, এবং এই কারণে আরও বেশি সংঘবদ্ধতা জোর করে। একটি বিশেষ শিল্পের সম্পূর্ণ অংশ একটি বিশাল যৌথ-স্টক সংস্থায় পরিণত হয়; অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা এই একক সংস্থার অভ্যন্তরীণ একচেটিয়াকে স্থান দেয়। এটি ১৮৯০ সালে ইংরেজি ক্ষার উৎপাদনের সাথে ঘটেছে, যা এখন, ৪৮টি বড় কারখানার একীভূত হওয়ার পর, একটি একক সংস্থার হাতে, একটি একক পরিকল্পনায় পরিচালিত এবং £৬,০০০,০০০ পুঁজি সহ।ট্রাস্টগুলিতে, প্রতিযোগিতার স্বাধীনতা তার বিপরীতে পরিবর্তিত হয় — একচেটিয়াতে; এবং পুঁজিবাদী সমাজের কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই উৎপাদন আক্রমণকারী সমাজতান্ত্রিক সমাজের একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনায় উৎপাদনের কাছে আত্মসমর্পণ করে। অবশ্যই, এটি এখনও পুঁজিপতিদের সুবিধা এবং লাভের জন্য। কিন্তু, এই ক্ষেত্রে, শোষণ এত স্পষ্ট যে এটি ভেঙে পড়তে হবে। কোনও জাতি ট্রাস্ট দ্বারা পরিচালিত উৎপাদন সহ্য করবে না, লভ্যাংশ-মঙ্গারদের একটি ছোট দল দ্বারা সম্প্রদায়ের এত নগ্ন শোষণের সাথে। যাই হোক, ট্রাস্ট সহ বা ছাড়া, পুঁজিবাদী সমাজের সরকারি প্রতিনিধি — রাষ্ট্র — শেষ পর্যন্ত উৎপাদনের দিকনির্দেশনা গ্রহণ করতে বাধ্য হবে। [৪] রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিতে রূপান্তরের এই প্রয়োজনীয়তা প্রথম অনুভূত হয় যোগাযোগ ও যোগাযোগের মহান প্রতিষ্ঠানগুলিতে — ডাকঘর, টেলিগ্রাফ, রেলওয়ে।যদি সংকটগুলি আধুনিক উৎপাদন শক্তিগুলি আর পরিচালনা করতে বুর্জোয়াদের অক্ষমতা প্রমাণ করে, উৎপাদন ও বিতরণের মহান প্রতিষ্ঠানগুলির যৌথ-স্টক সংস্থা, ট্রাস্ট এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিতে রূপান্তর দেখায় যে বুর্জোয়ারা সেই উদ্দেশ্যে কতটা অপ্রয়োজনীয়। পুঁজিপতির সমস্ত সামাজিক কাজের আর কোনও সামাজিক কাজ নেই লভ্যাংশ পকেটে নেওয়া, কুপন ছিঁড়ে ফেলা এবং স্টক এক্সচেঞ্জে জুয়া খেলা ছাড়া, যেখানে বিভিন্ন পুঁজিপতিরা একে অপরের পুঁজি লুণ্ঠন করে। প্রথমে, পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতি শ্রমিকদের বাইরে ঠেলে দেয়। এখন, এটি পুঁজিপতিদের বাইরে ঠেলে দেয়, এবং তাদের, ঠিক যেমনটি এটি শ্রমিকদের হ্রাস করেছিল, উদ্বৃত্ত-জনসংখ্যার পদে হ্রাস করে, যদিও অবিলম্বে শিল্প রিজার্ভ সেনাবাহিনীতে নয়। কিন্তু, রূপান্তর — হয় যৌথ-স্টক সংস্থা এবং ট্রাস্টে, বা রাষ্ট্রীয় মালিকানায় — উৎপাদন শক্তির পুঁজিবাদী প্রকৃতি দূর করে না। যৌথ-স্টক সংস্থা এবং ট্রাস্টগুলিতে, এটি স্পষ্ট। এবং আধুনিক রাষ্ট্র, আবার, কেবল সেই সংগঠন যা বুর্জোয়া সমাজ শ্রমিকদের পাশাপাশি পৃথক পুঁজিপতিদের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতির বাহ্যিক শর্তগুলিকে সমর্থন করার জন্য গ্রহণ করে। আধুনিক রাষ্ট্র, তার রূপ নির্বিশেষে, মূলত একটি পুঁজিবাদী যন্ত্র — পুঁজিপতিদের রাষ্ট্র, মোট জাতীয় পুঁজির আদর্শ ব্যক্তিত্ব। এটি যত বেশি উৎপাদন শক্তি গ্রহণের দিকে অগ্রসর হয়, তত বেশি এটি প্রকৃতপক্ষে জাতীয় পুঁজিপতি হয়ে ওঠে, তত বেশি নাগরিক এটি শোষণ করে। শ্রমিকরা মজুরি-শ্রমিক — সর্বহারা থেকে যায়। পুঁজিবাদী সম্পর্ক দূর হয় না। বরং, এটি শীর্ষে আনা হয়। কিন্তু, শীর্ষে আনা হলে, এটি উল্টে যায়। উৎপাদন শক্তির রাষ্ট্রীয় মালিকানা দ্বন্দ্বের সমাধান নয়, তবে এটির মধ্যে প্রযুক্তিগত শর্তগুলি লুকিয়ে আছে যা সেই সমাধানের উপাদান গঠন করে।এই সমাধান কেবলমাত্র আধুনিক উৎপাদন শক্তির সামাজিক প্রকৃতির ব্যবহারিক স্বীকৃতিতে থাকতে পারে, এবং তাই উৎপাদনের উপায়ের সামাজিকীকৃত চরিত্রের সাথে সঙ্গতিপূর্ণকরণে। এবং এটি কেবল তখনই আসতে পারে যখন সমাজ প্রকাশ্যে এবং সরাসরি উৎপাদন শক্তিগুলির দখল নেয় যা সমগ্র সমাজ ছাড়া অন্য কোনও নিয়ন্ত্রণকে ছাড়িয়ে গেছে। উৎপাদনের উপায় এবং পণ্যের সামাজিক চরিত্র আজ উৎপাদকদের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখায়, পর্যায়ক্রমে সমস্ত উৎপাদন এবং বিনিময়কে ব্যাহত করে, কেবল প্রকৃতির একটি আইনের মতো কাজ করে অন্ধভাবে, জোর করে, ধ্বংসাত্মকভাবে। কিন্তু, সমাজ দ্বারা উৎপাদন শক্তির দখল নেওয়ার সাথে সাথে, উৎপাদনের উপায় এবং পণ্যের সামাজিক চরিত্র উৎপাদকদের দ্বারা এর প্রকৃতির একটি নিখুঁত বোঝাপড়ার সাথে ব্যবহার করা হবে, এবং বিভ্রান্তি এবং পর্যায়ক্রমিক পতনের উৎস হওয়ার পরিবর্তে, উৎপাদনের সবচেয়ে শক্তিশালী লিভার হয়ে উঠবে।সক্রিয় সামাজিক শক্তিগুলি প্রাকৃতিক শক্তির মতোই কাজ করে: অন্ধভাবে, জোর করে, ধ্বংসাত্মকভাবে, যতক্ষণ না আমরা সেগুলি বুঝতে পারি এবং তাদের সাথে হিসাব করি। কিন্তু, যখন একবার আমরা সেগুলি বুঝতে পারি, যখন একবার আমরা তাদের ক্রিয়া, তাদের দিকনির্দেশনা, তাদের প্রভাবগুলি ধারণ করি, তখন কেবল আমাদের নিজেদের উপর নির্ভর করে তাদের আরও বেশি করে আমাদের নিজস্ব ইচ্ছার অধীন করা এবং তাদের মাধ্যমে আমাদের নিজস্ব লক্ষ্যে পৌঁছানো। এবং এটি আজকের শক্তিশালী উৎপাদন শক্তিগুলির বিশেষভাবে সত্য। যতক্ষণ আমরা একগুঁয়েভাবে এই সামাজিক ক্রিয়ার উপায়গুলির প্রকৃতি এবং চরিত্র বুঝতে অস্বীকার করি — এবং এই বোঝাপড়া পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতি এবং এর রক্ষকদের বিরুদ্ধে যায় — ততক্ষণ এই শক্তিগুলি আমাদের সত্ত্বেও, আমাদের বিরোধিতায় কাজ করে, ততক্ষণ তারা আমাদের আয়ত্ত করে, যেমনটি আমরা উপরে বিস্তারিতভাবে দেখিয়েছি।কিন্তু যখন একবার তাদের প্রকৃতি বোঝা যায়, তখন তারা, একসাথে কাজ করা উৎপাদকদের হাতে, শয়তানী কর্তা থেকে ইচ্ছুক সেবকে রূপান্তরিত হতে পারে। পার্থক্যটি ঝড়ের মধ্যে বিদ্যুতের ধ্বংসাত্মক শক্তি এবং টেলিগ্রাফ এবং ভোল্টাইক চাপে আদেশের অধীনে বিদ্যুতের মধ্যে; অগ্নিকাণ্ড এবং মানুষের সেবায় কাজ করা আগুনের মধ্যে। উৎপাদনের আজকের শক্তির প্রকৃত প্রকৃতির এই স্বীকৃতির সাথে, উৎপাদনের সামাজিক বিশৃঙ্খলা সম্প্রদায়ের এবং প্রতিটি ব্যক্তির প্রয়োজনের একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুসারে উৎপাদনের একটি সামাজিক নিয়ন্ত্রণের স্থান দেয়। তখন পুঁজিবাদী আত্মসাতের পদ্ধতি, যেখানে পণ্যটি প্রথমে উৎপাদককে এবং তারপর আত্মসাৎকারীকে দাসত্ব করে, তা আধুনিক উৎপাদনের উপায়ের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে পণ্য আত্মসাতের পদ্ধতি দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়; একদিকে, উৎপাদনের রক্ষণাবেক্ষণ এবং সম্প্রসারণের উপায় হিসাবে প্রত্যক্ষ সামাজিক আত্মসাৎ — অন্যদিকে, জীবিকা ও উপভোগের উপায় হিসাবে প্রত্যক্ষ পৃথক আত্মসাৎ।যখন পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতি ক্রমবর্ধমানভাবে জনসংখ্যার বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠকে সর্বহারা করে তোলে, এটি সেই শক্তি তৈরি করে যা, তার নিজস্ব ধ্বংসের শাস্তির অধীনে, এই বিপ্লব সম্পন্ন করতে বাধ্য হয়। যখন এটি ইতিমধ্যে সামাজিকীকৃত বিরাট উৎপাদনের উপায়গুলির রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিতে রূপান্তরকে আরও বেশি করে জোর করে, তখন এটি এই বিপ্লব সম্পন্ন করার পথ নিজেই দেখায়। সর্বহারা শ্রেণী রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করে এবং উৎপাদনের উপায়গুলিকে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিতে পরিণত করে।কিন্তু, তা করার মাধ্যমে, এটি নিজেকে সর্বহারা হিসাবে বিলুপ্ত করে, সমস্ত শ্রেণী পার্থক্য এবং শ্রেণী বিরোধিতা বিলুপ্ত করে, রাষ্ট্রকেও রাষ্ট্র হিসাবে বিলুপ্ত করে। সমাজ, এখন পর্যন্ত, শ্রেণী বিরোধিতার উপর ভিত্তি করে, রাষ্ট্রের প্রয়োজন ছিল। অর্থাৎ, বিশেষ শ্রেণীর একটি সংগঠনের, যা ছিল, প্রো টেম্পোর, শোষণকারী শ্রেণী, উৎপাদনের বিদ্যমান অবস্থার সাথে বাইরে থেকে কোনও হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ করার উদ্দেশ্যে একটি সংগঠন, এবং তাই, বিশেষ করে, উৎপাদনের প্রদত্ত পদ্ধতির (দাসত্ব, দাসপ্রথা, মজুরি-শ্রম) সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নিপীড়নের অবস্থায় শোষিত শ্রেণীগুলিকে জোরপূর্বক রাখার উদ্দেশ্যে। রাষ্ট্র ছিল সমগ্র সমাজের সরকারি প্রতিনিধি; এটি একটি দৃশ্যমান মূর্ত রূপে একত্রিত করা। কিন্তু, এটি কেবল এই অর্থে ছিল যে এটি সেই শ্রেণীর রাষ্ট্র ছিল যা নিজেই, সময়ের জন্য, সমগ্র সমাজের প্রতিনিধিত্ব করত:প্রাচীনকালে, দাস-মালিক নাগরিকদের রাষ্ট্র;মধ্যযুগে, সামন্ত প্রভুদের;আমাদের সময়ে, বুর্জোয়াদের।যখন, শেষ পর্যন্ত, এটি সমগ্র সমাজের প্রকৃত প্রতিনিধি হয়ে ওঠে, তখন এটি নিজেকে অপ্রয়োজনীয় করে তোলে। যত তাড়াতাড়ি আর কোনও সামাজিক শ্রেণী নেই যা বশীভূত করতে হবে; যত তাড়াতাড়ি শ্রেণী শাসন এবং উৎপাদনে আমাদের বর্তমান বিশৃঙ্খলার উপর ভিত্তি করে অস্তিত্বের জন্য পৃথক সংগ্রাম, এর থেকে উদ্ভূত সংঘর্ষ এবং অতিরিক্ত সহ, দূর হয়, দমন করার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না, এবং একটি বিশেষ দমন শক্তি, একটি রাষ্ট্র, আর প্রয়োজন হয় না। যার গুণে রাষ্ট্র সত্যিই নিজেকে সমগ্র সমাজের প্রতিনিধি হিসাবে গঠন করে — সমাজের নামে উৎপাদনের উপায়ের দখল নেওয়া — এই প্রথম কাজটি একই সাথে রাষ্ট্র হিসাবে তার শেষ স্বাধীন কাজ। সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ হয়ে ওঠে, এক ডোমেনের পর এক ডোমেনে, অপ্রয়োজনীয়, এবং তারপর নিজেই শেষ হয়ে যায়; ব্যক্তিদের সরকার জিনিসের প্রশাসন এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার পরিচালনা দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। রাষ্ট্র "বিলুপ্ত" হয় না। এটি শেষ হয়ে যায়। এটি "মুক্ত রাষ্ট্র" বাক্যাংশটির মূল্যের পরিমাপ দেয়, উভয়ই আন্দোলনকারীদের দ্বারা সময়ে সময়ে এর ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার হিসাবে, এবং এর চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক অদক্ষতা হিসাবে; এবং তথাকথিত নৈরাজ্যবাদীদের হাত থেকে রাষ্ট্রের বিলোপের দাবিরও।পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতির ঐতিহাসিক উপস্থিতি থেকে, সমাজ দ্বারা উৎপাদনের সমস্ত উপায়ের আত্মসাৎ প্রায়শই ব্যক্তিদের দ্বারা, পাশাপাশি সম্প্রদায়ের দ্বারা, ভবিষ্যতের আদর্শ হিসাবে কমবেশি অস্পষ্টভাবে স্বপ্ন দেখা হয়েছে। কিন্তু এটি সম্ভব হতে পারে, একটি ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয়তা হয়ে উঠতে পারে, কেবল যখন এর বাস্তবায়নের প্রকৃত শর্তগুলি উপস্থিত ছিল। অন্য যে কোনও সামাজিক অগ্রগতির মতো, এটি কার্যকর হয়, না মানুষ বোঝার দ্বারা যে শ্রেণীর অস্তিত্ব ন্যায়বিচার, সমতা ইত্যাদির সাথে বিরোধপূর্ণ, না এই শ্রেণীগুলি বিলুপ্ত করার নিছক ইচ্ছার দ্বারা, বরং নির্দিষ্ট নতুন অর্থনৈতিক শর্তের গুণে। সমাজের একটি শোষণকারী এবং একটি শোষিত শ্রেণী, একটি শাসক এবং একটি নিপীড়িত শ্রেণীতে বিভাজন ছিল পূর্ববর্তী সময়ে উৎপাদনের অপর্যাপ্ত এবং সীমাবদ্ধ বিকাশের প্রয়োজনীয় পরিণতি। যতক্ষণ মোট সামাজিক শ্রম কেবল এমন একটি উৎপাদন দেয় যা সকলের অস্তিত্বের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণের চেয়ে সামান্য বেশি; যতক্ষণ, তাই, শ্রম সমাজের সদস্যদের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রায় সমস্ত সময় দখল করে — ততক্ষণ, অগত্যা, এই সমাজটি শ্রেণীতে বিভক্ত। বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠের পাশাপাশি, একচেটিয়াভাবে শ্রমের বন্ধনদাস, একটি শ্রেণী উত্থিত হয় যা প্রত্যক্ষ উৎপাদনশীল শ্রম থেকে মুক্ত, যা সমাজের সাধারণ বিষয়গুলি দেখাশোনা করে: শ্রমের দিকনির্দেশনা, রাষ্ট্রীয় কাজ, আইন, বিজ্ঞান, শিল্প, ইত্যাদি। এটি, তাই, শ্রম বিভাজনের আইন যা শ্রেণীতে বিভাজনের ভিত্তি। কিন্তু এটি এই বিভাজনকে শ্রেণীতে সহিংসতা এবং ডাকাতি, কৌশল এবং জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পন্ন হতে বাধা দেয় না। এটি শাসক শ্রেণীকে, একবার উপরের হাত পেলে, শ্রমিক-শ্রেণীর ব্যয়ে তার ক্ষমতা সুসংহত করতে, তার সামাজিক নেতৃত্বকে জনগণের শোষণের তীব্রতায় পরিণত করতে বাধা দেয় না।কিন্তু, যদি এই প্রদর্শনের উপর, শ্রেণীতে বিভাজনের একটি নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ন্যায্যতা থাকে, তবে এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, কেবল নির্দিষ্ট সামাজিক অবস্থার অধীনে থাকে। এটি উৎপাদনের অপ্রতুলতার উপর ভিত্তি করে ছিল। এটি আধুনিক উৎপাদন শক্তির সম্পূর্ণ বিকাশ দ্বারা দূর হবে। এবং, প্রকৃতপক্ষে, সমাজে শ্রেণীগুলির বিলোপ ঐতিহাসিক বিবর্তনের এমন একটি মাত্রা পূর্বাভাস দেয় যেখানে কেবল এই বা সেই বিশেষ শাসক শ্রেণীর নয়, বরং যে কোনও শাসক শ্রেণীর অস্তিত্ব, এবং তাই, শ্রেণী পার্থক্যের অস্তিত্ব নিজেই একটি অপ্রচলিত অসঙ্গতি হয়ে উঠেছে। এটি, তাই, উৎপাদনের এমন একটি মাত্রায় উন্নয়নকে পূর্বাভাস দেয় যেখানে উৎপাদনের উপায় এবং পণ্যের আত্মসাৎ, এবং এর সাথে রাজনৈতিক আধিপত্য, সংস্কৃতির একচেটিয়া এবং সমাজের একটি বিশেষ শ্রেণী দ্বারা বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব কেবল অপ্রয়োজনীয় নয় বরং অর্থনৈতিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে, বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে, বিকাশের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।এই বিন্দুটি এখন পৌঁছেছে। তাদের রাজনৈতিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব বুর্জোয়াদের নিজেদের কাছে আর গোপন নয়। তাদের অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্ব প্রতি ১০ বছরে নিয়মিত ফিরে আসে। প্রতিটি সংকটে, সমাজ তার নিজস্ব উৎপাদন শক্তি এবং পণ্যের ওজনের নীচে শ্বাসরুদ্ধ হয়, যা এটি ব্যবহার করতে পারে না, এবং অসহায় দাঁড়িয়ে থাকে এই অযৌক্তিক দ্বন্দ্বের মুখোমুখি যে উৎপাদকদের কিছুই খাওয়ার নেই, কারণ ভোক্তাদের অভাব রয়েছে। উৎপাদনের উপায়ের প্রসারিত শক্তি পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতি তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া বন্ধনগুলিকে বিদ্ধ করে। এই বন্ধনগুলি থেকে তাদের মুক্তি উৎপাদন শক্তির একটি নিরবচ্ছিন্ন, ক্রমাগত-ত্বরান্বিত বিকাশের জন্য এবং সেইসাথে উৎপাদনের একটি ব্যবহারিকভাবে সীমাহীন বৃদ্ধির জন্য একমাত্র পূর্বশর্ত। এটাই সব নয়। উৎপাদনের উপায়ের সামাজিকীকৃত আত্মসাৎ কেবল উৎপাদনের বর্তমান কৃত্রিম বিধিনিষেধগুলিই দূর করে না, বরং উৎপাদন শক্তি এবং পণ্যের ইতিবাচক অপচয় এবং ধ্বংসও দূর করে যা বর্তমানে উৎপাদনের অনিবার্য সঙ্গী এবং যা সংকটে তাদের উচ্চতায় পৌঁছায়। আরও, এটি আজকের শাসক শ্রেণী এবং তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের অর্থহীন বিলাসিতা দূর করে সম্প্রদায়ের জন্য উৎপাদনের উপায় এবং পণ্যের একটি ভর মুক্ত করে। সমাজের প্রতিটি সদস্যের জন্য, সামাজিকীকৃত উৎপাদনের মাধ্যমে, একটি অস্তিত্ব সুরক্ষিত করার সম্ভাবনা কেবল বস্তুগতভাবে সম্পূর্ণ পর্যাপ্ত নয়, এবং দিনে দিনে আরও পরিপূর্ণ, বরং একটি অস্তিত্ব যা সকলের শারীরিক ও মানসিক ক্ষমতার মুক্ত বিকাশ এবং অনুশীলনের নিশ্চয়তা দেয় — এই সম্ভাবনা এখন প্রথমবারের মতো, এখানে, কিন্তু এটি এখানে। [৫]সমাজ দ্বারা উৎপাদনের উপায়ের দখল নেওয়ার সাথে সাথে, পণ্য উৎপাদন দূর হয়, এবং একই সাথে উৎপাদকের উপর পণ্যের কর্তৃত্ব। সামাজিক উৎপাদনে বিশৃঙ্খলা পদ্ধতিগত, নির্দিষ্ট সংগঠন দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। অস্তিত্বের জন্য পৃথক সংগ্রাম অদৃশ্য হয়ে যায়। তখন, প্রথমবারের মতো, মানুষ, একটি নির্দিষ্ট অর্থে, শেষ পর্যন্ত প্রাণীজগতের বাকি অংশ থেকে চিহ্নিত হয়, এবং নিছক প্রাণী অস্তিত্বের অবস্থা থেকে সত্যিকারের মানবিক অবস্থায় আবির্ভূত হয়। জীবনের অবস্থার সম্পূর্ণ ক্ষেত্র যা মানুষকে পরিবেষ্টিত করে, এবং যা এখন পর্যন্ত মানুষকে শাসন করেছে, এখন মানুষের আধিপত্য এবং নিয়ন্ত্রণে আসে, যিনি প্রথমবারের মতো প্রকৃতির প্রকৃত, সচেতন প্রভু হন, কারণ তিনি এখন তার নিজস্ব সামাজিক সংগঠনের কর্তা হয়েছেন। তার নিজস্ব সামাজিক কর্মের আইনগুলি, এখন পর্যন্ত মানুষের সামনে প্রকৃতির আইন হিসাবে দাঁড়িয়ে ছিল যা তার কাছে পরক এবং তাকে আধিপত্য বিস্তার করে, তখন সম্পূর্ণ বোঝার সাথে ব্যবহার করা হবে এবং তাই তার দ্বারা আয়ত্ত করা হবে। মানুষের নিজস্ব সামাজিক সংগঠন, এখন পর্যন্ত প্রকৃতি এবং ইতিহাস দ্বারা আরোপিত একটি প্রয়োজনীয়তা হিসাবে তার মুখোমুখি ছিল, এখন তার নিজস্ব মুক্ত কর্মের ফলাফল হয়ে ওঠে। এখন পর্যন্ত ইতিহাসকে শাসন করা বহির্মুখী উদ্দেশ্যমূলক শক্তিগুলি মানুষের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। শুধুমাত্র সেই সময় থেকে মানুষ নিজেই, আরও বেশি সচেতনভাবে, তার নিজস্ব ইতিহাস তৈরি করবে — শুধুমাত্র সেই সময় থেকে তিনি যে সামাজিক কারণগুলি গতিশীল করবেন তার ফলাফলগুলি মূলত এবং ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে পরিমাপে তাঁর দ্বারা অভিপ্রেত ফলাফল হবে। এটি প্রয়োজনীয়তার রাজ্য থেকে স্বাধীনতার রাজ্যে মানুষের আরোহণ।আসুন আমরা সংক্ষেপে আমাদের ঐতিহাসিক বিবর্তনের রূপরেখাটি সংক্ষিপ্ত করি।I. মধ্যযুগীয় সমাজ — ক্ষুদ্র স্কেলে পৃথক উৎপাদন। পৃথক ব্যবহারের জন্য অভিযোজিত উৎপাদনের উপায়; তাই আদিম, অগোছালো, ক্ষুদ্র, কর্মে বামন। তাৎক্ষণিক ভোগের জন্য উৎপাদন, হয় উৎপাদকের নিজের বা তার সামন্ত প্রভুর। শুধুমাত্র যেখানে এই ভোগের উপর উৎপাদনের একটি আধিক্য ঘটে সেখানে এই ধরনের আধিক্য বিক্রয়ের জন্য দেওয়া হয়, বিনিময়ে প্রবেশ করে। পণ্য উৎপাদন, তাই, কেবল তার শিশু অবস্থায়। কিন্তু এটি ইতিমধ্যেই নিজের মধ্যে ধারণ করে, ভ্রূণে, সাধারণভাবে সমাজের উৎপাদনে বিশৃঙ্খলা।II. পুঁজিবাদী বিপ্লব — প্রথমে সহজ সহযোগিতা এবং নির্মাণশিল্পের মাধ্যমে শিল্পের রূপান্তর। এখন পর্যন্ত বিচ্ছুরিত উৎপাদনের উপায়গুলির বড় কর্মশালায় কেন্দ্রীভূতকরণ। ফলস্বরূপ, তাদের পৃথক থেকে সামাজিক উৎপাদনের উপায়ে রূপান্তর — একটি রূপান্তর যা সামগ্রিকভাবে বিনিময়ের রূপকে প্রভাবিত করে না। আত্মসাতের পুরানো রূপগুলি বলবৎ থাকে। পুঁজিপতি আবির্ভূত হয়। উৎপাদনের উপায়ের মালিক হিসাবে তার ক্ষমতায়, তিনি পণ্যগুলিও আত্মসাৎ করেন এবং সেগুলিকে পণ্যে পরিণত করেন। উৎপাদন একটি সামাজিক কাজ হয়ে উঠেছে। বিনিময় এবং আত্মসাৎ পৃথক কাজ, ব্যক্তিদের কাজ হিসাবে অব্যাহত থাকে। সামাজিক পণ্য পৃথক পুঁজিপতি দ্বারা আত্মসাৎ করা হয়। মৌলিক দ্বন্দ্ব, যেখান থেকে আমাদের বর্তমান সমাজে চলমান সমস্ত দ্বন্দ্বের উদ্ভব হয় এবং যা আধুনিক শিল্প আলোতে আনে।ক. উৎপাদককে উৎপাদনের উপায় থেকে বিচ্ছিন্ন করা। আজীবন মজুরি-শ্রমের জন্য শ্রমিকের অভিশাপ। সর্বহারা এবং বুর্জোয়াদের মধ্যে বিরোধিতা।খ. পণ্য উৎপাদন শাসনকারী আইনগুলির ক্রমবর্ধমান আধিপত্য এবং ক্রমবর্ধমান কার্যকারিতা। সীমাহীন প্রতিযোগিতা। পৃথক কারখানায় সামাজিকীকৃত সংগঠন এবং সামগ্রিকভাবে উৎপাদনে সামাজিক বিশৃঙ্খলার মধ্যে দ্বন্দ্ব।গ. একদিকে, প্রতিযোগিতার দ্বারা প্রতিটি পৃথক উৎপাদকের জন্য বাধ্যতামূলক যন্ত্রপাতির উন্নতি, এবং ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে শ্রমিকদের স্থানচ্যুতি দ্বারা পরিপূর্ণ। শিল্প রিজার্ভ-সেনাবাহিনী। অন্যদিকে, প্রতিযোগিতার অধীনে প্রতিটি উৎপাদকের জন্য উৎপাদনের সীমাহীন সম্প্রসারণও বাধ্যতামূলক। উভয় দিকে, উৎপাদন শক্তির অভূতপূর্ব বিকাশ, যোগানের উপর চাহিদার আধিক্য, অতিরিক্ত উৎপাদন এবং পণ্যের প্রাচুর্য — সেখানে, শ্রমিকদের, কর্মসংস্থান এবং জীবিকার উপায় ছাড়া। কিন্তু উৎপাদন এবং সামাজিক কল্যাণের এই দুটি লিভার একসাথে কাজ করতে অক্ষম, কারণ পুঁজিবাদী উৎপাদন রূপ উৎপাদন শক্তিগুলিকে কাজ করতে এবং পণ্যগুলিকে প্রচার করতে বাধা দেয়, যদি না সেগুলি প্রথমে পুঁজিতে পরিণত হয় — যা তাদের অত্যধিক প্রাচুর্য প্রতিরোধ করে। দ্বন্দ্বটি একটি অযৌক্তিকতায় পরিণত হয়েছে। উৎপাদন পদ্ধতি বিনিময়ের রূপের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে।ঘ. উৎপাদন শক্তির সামাজিক চরিত্রের আংশিক স্বীকৃতি পুঁজিপতিদের নিজেদের উপর জোর করে। উৎপাদন ও যোগাযোগের মহান প্রতিষ্ঠানগুলির দখল নেওয়া, প্রথমে যৌথ-স্টক সংস্থাগুলি দ্বারা, পরে ট্রাস্ট দ্বারা, তারপর রাষ্ট্র দ্বারা। বুর্জোয়াদের একটি অপ্রয়োজনীয় শ্রেণী হিসাবে প্রদর্শিত। এর সমস্ত সামাজিক কার্যাবলী এখন বেতনভোগী কর্মচারীদের দ্বারা সম্পাদিত হয়। সর্বহারা বিপ্লব — দ্বন্দ্বের সমাধান। সর্বহারা শ্রেণী জনশক্তি দখল করে, এবং এর মাধ্যমে বুর্জোয়াদের হাত থেকে পিছলে যাওয়া সামাজিকীকৃত উৎপাদনের উপায়গুলিকে জনসম্পত্তিতে রূপান্তরিত করে। এই কাজের মাধ্যমে, সর্বহারা শ্রেণী উৎপাদনের উপায়গুলিকে তারা এখন পর্যন্ত বহন করেছে এমন পুঁজির চরিত্র থেকে মুক্ত করে এবং তাদের সামাজিকীকৃত চরিত্রকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়। একটি পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনায় সামাজিকীকৃত উৎপাদন তখন থেকেই সম্ভব হয়। উৎপাদনের বিকাশ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর অস্তিত্বকে তখন থেকে একটি অসঙ্গতি করে তোলে। সামাজিক উৎপাদনে বিশৃঙ্খলা যতই অদৃশ্য হয়, রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ততই শেষ হয়ে যায়। মানুষ, শেষ পর্যন্ত তার নিজস্ব সামাজিক সংগঠনের রূপের কর্তা, একই সাথে প্রকৃতির উপর প্রভু, নিজের কর্তা — মুক্ত হয়।মুক্তির এই সার্বজনীন কাজটি সম্পন্ন করা আধুনিক সর্বহারা শ্রেণীর ঐতিহাসিক মিশন। এই কাজের ঐতিহাসিক শর্তগুলি এবং এইভাবে এর প্রকৃতি সম্পূর্ণরূপে উপলব্ধি করা, এখন নিপীড়িত সর্বহারা শ্রেণীকে এটি সম্পন্ন করার জন্য আহ্বান করা হয়েছে সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজের শর্ত এবং অর্থের সম্পূর্ণ জ্ঞান প্রদান করা, এটি সর্বহারা আন্দোলনের তাত্ত্বিক অভিব্যক্তি, বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের কাজ।[১] গোটের ফাউস্ট -এ মেফিস্টোফিলিস[২] এই সংযোগে উল্লেখ করা খুব কমই প্রয়োজন যে, এমনকি যদি আত্মসাতের রূপ একই থাকে, তবুও আত্মসাতের চরিত্রটি উপরে বর্ণিত পরিবর্তনের দ্বারা উৎপাদনের মতোই বিপ্লবিত হয়। এটি অবশ্যই একটি খুব আলাদা বিষয় যে আমি আমার নিজস্ব পণ্য আত্মসাৎ করি বা অন্যের। পাস করছে নোট করুন যে মজুরি-শ্রম, যা সমগ্র পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতিকে ভ্রূণে ধারণ করে, খুব প্রাচীন; একটি বিচ্ছিন্ন, বিচ্ছুরিত আকারে, এটি দাস-শ্রমের পাশাপাশি শতাব্দী ধরে বিদ্যমান ছিল। কিন্তু ভ্রূণটি যথাযথভাবে পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতিতে বিকশিত হতে পারে কেবল যখন প্রয়োজনীয় ঐতিহাসিক পূর্বশর্তগুলি সরবরাহ করা হয়েছিল।[৩] "ইংল্যান্ডে কর্মজীবী শ্রেণীর অবস্থা" — সোনেনশেইন অ্যান্ড কোং, পৃষ্ঠা ৮৪।[৪] আমি বলি "করতে হবে"। কারণ কেবল যখন উৎপাদন ও বিতরণের উপায়গুলি প্রকৃতপক্ষে যৌথ-স্টক সংস্থাগুলি দ্বারা পরিচালনার ফর্মকে ছাড়িয়ে গেছে, এবং যখন, তাই, রাষ্ট্র দ্বারা তাদের দখল নেওয়া অর্থনৈতিকভাবে অনিবার্য হয়ে উঠেছে, কেবল তখনই — এমনকি যদি আজকের রাষ্ট্রই এটি সম্পন্ন করে — সেখানে একটি অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয়, সমস্ত উৎপাদন শক্তিকে সমাজ নিজেই দখল করার পূর্ববর্তী আরেকটি ধাপের অর্জন। কিন্তু সম্প্রতি, বিসমার্ক শিল্প প্রতিষ্ঠানের রাষ্ট্রীয় মালিকানায় যাওয়ার পর থেকে, এক ধরণের ছদ্ম সমাজতন্ত্রের উদ্ভব হয়েছে, মাঝে মাঝে চাটুকারিতার কিছুতে অধঃপতিত, যা বিনা দ্বিধায় সমস্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানাকে, এমনকি বিসমার্কীয় ধরণেরও, সমাজতান্ত্রিক বলে ঘোষণা করে। অবশ্যই, যদি রাষ্ট্র দ্বারা তামাক শিল্পের দখল নেওয়া সমাজতান্ত্রিক হয়, তাহলে নেপোলিয়ন এবং মেটারনিখকে সমাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে গণনা করতে হবে। যদি বেলজিয়াম রাষ্ট্র, সম্পূর্ণ সাধারণ রাজনৈতিক এবং আর্থিক কারণে, নিজেই তার প্রধান রেলপথগুলি নির্মাণ করে; যদি বিসমার্ক, কোনও অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতার অধীনে নয়, প্রধান প্রুশিয়ান লাইনগুলিকে রাষ্ট্রের জন্য দখল করে, কেবল যুদ্ধের ক্ষেত্রে সেগুলি তার হাতে রাখতে আরও ভালভাবে সক্ষম হওয়ার জন্য, রেলওয়ে কর্মচারীদের সরকারের জন্য ভোটদানকারী গবাদি পশু হিসাবে তুলতে, এবং বিশেষ করে সংসদীয় ভোট থেকে স্বাধীন আয়ের একটি নতুন উৎস তৈরি করতে — এটি কোনও অর্থেই একটি সমাজতান্ত্রিক পদক্ষেপ ছিল না, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ, সচেতন বা অচেতন। অন্যথায়, রাজকীয় সামুদ্রিক সংস্থা, রাজকীয় চীনামাটির বাসন কারখানা, এবং এমনকি সেনাবাহিনীর রেজিমেন্টাল দর্জিও সমাজতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হবে, অথবা যেমনটি ফ্রেডরিখ উইলিয়াম III -এর রাজত্বকালে একজন ধূর্ত লোক গুরুত্ব সহকারে প্রস্তাব করেছিলেন, রাষ্ট্র দ্বারা পতিতালয়ের দখল নেওয়াও।[৫] কয়েকটি পরিসংখ্যান আধুনিক উৎপাদনের উপায়ের বিরাট প্রসারিত শক্তির একটি আনুমানিক ধারণা দিতে পারে, এমনকি পুঁজিবাদী চাপের অধীনেও। মিস্টার গিফেনের মতে, গ্রেট ব্রিটেন এবং আয়ারল্যান্ডের মোট সম্পদ ছিল, মোটামুটিভাবে,১৮১৪ সালে £২,২০০,০০০,০০০,১৮৬৫ সালে £৬,১০০,০০০,০০০,১৮৭৫ সালে £৮,৫০০,০০০,০০০।একটি সংকটের সময় উৎপাদনের উপায় এবং পণ্যের অপচয়ের উদাহরণ হিসাবে, জার্মান লোহা শিল্পে একা মোট ক্ষতি, ১৮৭৩-৭৮ সালের সংকটে, দ্বিতীয় জার্মান শিল্প কংগ্রেসে (বার্লিন, ফেব্রুয়ারি ২১, ১৮৭৮) £২২,৭৫০,০০০ হিসাবে দেওয়া হয়েছিল। 
  • ভাট...
    comment. | বৈকুন্ঠ মল্লিক ফের টইয়ে আবির্ভূত হয়েছেন।
    commentতরমুজ | //আহা বেশ বেশ। এই সব শক্তির উৎস সম্পর্ক আর একটু শোনা যাবে?//
     
    যেমন সেক্স করতে একটা হরমোনাল ফোর্স লাগে।
     
    //মানে atheist রাও অন্ধভাবে কিছু ফলো করলে সেটা ধর্মের মতোই দাঁড়াবে//
     
    অবশ্যই, যখন বিষয়ের মধ্যে থেকে কার্য কারন সম্পর্ক হারিয়ে যাবে। তখনই সেটা অন্ধ বিশ্বাস বা ধর্মের আকারও নিতে পারে।
    commentX | মানে atheist রাও অন্ধভাবে কিছু ফলো করলে সেটা ধর্মের মতোই দাঁড়াবে
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত