এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  রাজনীতি

  • কিষেণজি মৃত্যু রহস্য - পর্ব ১৯ 

    বিতনু চট্টোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | রাজনীতি | ২৬ জুলাই ২০২৪ | ১০২৯ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • এনকাউণ্টার: শশধর মাহাতো

    ২০১১ সালের মার্চ, সকালবেলা খবরটা এল ঝাড়গ্রাম পুলিশের এক অফিসারের কাছে। এমন খবর আগের ছ’মাসে একাধিকবার এসেছে কয়েকজন অফিসারের কাছে। কোনও খবর কিছুটা ঠিক, কোনওটা নয়। কিন্তু ২০১০ সালের মাঝামাঝি থেকেই ঝাড়গ্রাম পুলিশ একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। একদম জেনুইন মাওয়িস্ট লিডার ছাড়া অন্য কাউকে গ্রেফতার করা হবে না। এমনকী অচেনা, সাধারণ কোনও স্কোয়াড মেম্বার সম্পর্কে খবর এলেও তা অ্যাভয়েড করা হবে আরও বড় টার্গেটের লক্ষ্যে। যদি সম্ভব হয় সাধারণ স্কোয়াড মেম্বারকে না গ্রেফতার করে বুঝিয়ে দিতে হবে, তাঁকে গ্রেফতার করা যেত, কিন্তু তা করা হয়নি। এতে তাঁর মধ্যে কনফিডেন্স তৈরি হবে। এভাবেই পুলিশ যথেষ্ট বিশ্বাস অর্জন করে ফেলেছিল বহু পিসিপিএ নেতা এবং মাঝারি মাপের স্কোয়াড মেম্বারের। তাঁরাই হয়ে উঠেছিলেন পুলিশের সোর্স।
    ঝাড়গ্রামের এমনই মাওয়িস্ট স্কোয়াডের এক সদস্য এক অফিসারের সোর্স হয়ে উঠেছিলেন। সোর্স কীভাবে তৈরি হয় এবং কীভাবে তাঁকে মেইনটেইন করতে হয়, তা লিখে শব্দ সংখ্যা বাড়িয়ে লাভ নেই। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এটাই, রাজ্যে পরিবর্তনের বছরে বিধানসভা ভোটের মাসখানেক আগে এক অফিসারের কাছে ফোন এল, ‘স্যার শশধর আজ চাঁনসরা গ্রামে আছে। কাল গেছে ওখানে, আজ সারাদিন থাকবে।’
     
    কিষেণজিকে বাদ দিলে শশধর মাহাতো সেই সময় তো বটেই, তার আগেও সবচেয়ে প্রমিনেন্ট মাওবাদী নেতা। আকাশ, মদন মাহাতোর বয়স হয়েছে, লালগড় আন্দোলন চলাকালীন যত বড়ো ঘটনা মাওবাদীরা ঘটিয়েছে, তার বেশিরভাগেরই নেতৃত্বে ছিলেন শশধর মাহাতো। তাঁর সম্পর্কে খবরটা পেয়েই প্ল্যানিংয়ে বসলেন ওই অফিসার, জানালেন শুধুমাত্র এক সুপিরিয়র অফিসারকে। আলোচনা করে দুপুর আড়াইটে-তিনটে নাগাদ অপারেশনের প্ল্যান করলেন তাঁরা। দুপুরে গ্রাম কিছুটা ফাঁকা থাকে। ঠিক হল, একদম সাদা পোশাকে অল্প কয়েকজন যাবেন চাঁচসরা গ্রামে। বড়ো গাড়ি নয়, মোটরসাইকেলে। সেই অনুযায়ী সিআরপিএফের বাছাই করা কয়েকজন জওয়ানকে নিয়ে এসডিপিও অম্লান কুসুম ঘোষ এবং বিনপুর থানার ওসি সুকোমল দাস রওনা দিলেন চাঁনসরার দিকে। আটটা মোটরসাইকেলে ষোলজন, সবাই সাদা পোশাকে। তখন দুপুর প্রায় ৩ টে। বিনপুর থেকে চাঁনসরা যাওয়ার সময় পথে নামল প্রচণ্ড বৃষ্টি। মোটরসাইকেল থামিয়ে রাস্তার ধারে এক স্কুলে অপেক্ষা করলেন অফিসাররা। সেই বৃষ্টিই সেদিন অপারেশনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তিরিশ-চল্লিশ মিনিট বাদে বৃষ্টি একটু কমতেই রওনা দিলেন তাঁরা। প্রায় ৪ টে নাগাদ এক সঙ্গে আটটা মোটরসাইকেল ঢুকে পড়ল চাঁনসরা গ্রামে। ছোট গ্রাম চাঁনসরা। সব মিলিয়ে ৩০-৩৫টা বাড়ি। বড়ো রাস্তা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের এই গ্রাম ভৌগোলিক ভাবেও মাওয়িস্টদের পক্ষে অত্যন্ত অনুকূল জায়গা ছিল সেই সময়। কিন্তু সেদিন দুপুরে গোলমাল করে দিল প্রচণ্ড বৃষ্টি। চাঁনসরা গ্রামে মাওবাদীদের প্রভাব ছিল যথেষ্টই। গ্রামের অনেকেরই বাড়িতে আগেও আশ্রয় নিয়েছেন শশধর সহ একাধিক নেতা। তাঁরা যে জঙ্গলের মধ্যে বিভিন্ন গ্রামে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে রাত কাটাতেন, তার মধ্যে একটা ছিল চাঁনসরা। আগের রাতেই সেখানে পৌঁছেছিলেন শশধর, তাঁর স্ত্রী সুচিত্রা এবং আরও তিন-চারজন। গ্রামে ঢোকার মুখেই ছিলেন সেন্ট্রি, গ্রামেরও দু’একজন অন্যান্যবারের মতোই দায়িত্বে ছিলেন, সন্দেহজনক কিছু দেখলেই তাঁদের সতর্ক করার জন্য। কিন্তু সেদিন দুপুরে এক ঘণ্টার প্রবল বৃষ্টি সব গোলমাল করে দিল। সেন্ট্রি থেকে পাহারার দায়িত্বে থাকা গ্রামবাসী, সকলেই একটু ছন্নছাড়া হয়ে যান। প্রবল বৃষ্টির জন্য ঘরে ছিলেন তাঁরা। হয়তো ভাবতে পারেননি, এই বৃষ্টিতে দুপুরে পুলিশ চলে আসতে পারে! কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক সঙ্গে আটটা মোটরসাইকেল গিয়ে থামল চাঁনসরা গ্রামে। গ্রামের রাস্তা-মাঠ তখন অলমোস্ট ফাঁকা।
    গ্রামের এক বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন শশধর, সুচিত্রা এবং আরও তিন-চারজন। এতগুলো মোটর সাইকেলের আওয়াজে চমকে উঠলেন তাঁরা। বুঝে গেলেন পুলিশ এসে গেছে তাঁদের খোঁজে। গ্রামের অল্প কিছু লোক বাইরে ছিলেন, হাতে রাইফেল, সাধারণ প্যান্ট, টি-শার্ট পরা পনেরো-ষোলজনকে হুড়মুড় করে মোটরসাইকেল থেকে নামতে দেখে ভয়েই ঢুকে গেলেন ঘরে। চরম কিছু একটা ঘটবে, এই আশঙ্কায় ঘরের দরজা বন্ধ করে দিলেন। বুঝলেন, একটা হেস্তনেস্ত হবে আজ।
     
    এদিকে গ্রামে তো ঢুকে পড়েছেন, কিন্তু অফিসাররা নিজেরাও জানেন না, কোথায় বা কোন বাড়িতে আছে স্কোয়াড। গ্রামে ঢুকে কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করলেন ষোলজন। তারপর নিলেন এক পরিচিত কায়দা। যেখানে বোঝা যাচ্ছে না মাওবাদীরা কোথায় আছে, তা জানার জন্য পরিচিত ছক। আসলে আচমকা এনকাউণ্টার জলে নেমে সাঁতার শেখার মতোই, তা বই পড়ে হয় না। সেখানে নিজে বাঁচা এবং অপারেশন সাকসেসফুল করার জন্য কতগুলো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কখনও তা কাজে লাগে, কখনও লাগেও না। সেদিন একই সঙ্গে দুটো ঘটনাই ঘটেছিল। কীভাবে?
    পুলিশ এবং সিআরপিএফের দলটা মোটরসাইকেল থেকে নেমে ভাগ হয়ে ছড়িয়ে পড়ল পাঁচ-ছ’টা দলে। সবাই নিয়ে নিলেন পজিশন। এক একটা দলে দু-তিনজন। তারপর একজন শূন্যে একটা গুলি চালালেন। দেখার জন্য, কোনও জবাব আসে কিনা। এনকাউণ্টারের মানসিক যুদ্ধে এই কৌশল অনেক সময়েই কাজে দেয়। লুকিয়ে থাকা লোক ভাবে, তারা কোথায় আছে তা লোকেট করে ফেলেছে পুলিশ। এটাই যে কোনও লুকিয়ে থাকা মানুষের সাধারণ ইন্সটিঙ্কট বা প্রতিবর্ত ক্রিয়া। পুলিশ অপারেশনে এমন বহুবার হয়, গুলির আওয়াজ শুনে বাঁচার জন্য পালটা গুলি চালিয়ে জবাব দেয় তারা। আর সেই গুলির আওয়াজ শুনেই পুলিশ বুঝে যায়, লুকিয়ে থাকা লোকের নির্দিষ্ট লোকেশন। তাই ঘটল সেদিন বিকেলেও। পুলিশ শূন্যে গুলি চালানোর পর কয়েক সেকেন্ড চুপ। কোথাও কোনও শব্দ নেই। কয়েক সেকেন্ড বাদে পুলিশের আর একটা দলও কিছুটা দূরে পরপর গুলি চালাল শূন্যে। শশধররাও বুঝে গেলেন, ঘেরাও হয়ে গেছেন তাঁরা। পাল্টা গুলিয়ে চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করা ছাড়া রাস্তা নেই কোনও। এরপর শুরু হয়ে গেল এনকাউণ্টার। যা স্থায়ী হল সাকুল্যে পাঁচ থেকে সাত মিনিট। তারপর সব চুপচাপ।
    পালানোর জন্য গুলি চালাতে চালাতে শশধর মাহাতো সহ সবাই বেরিয়ে পড়লেন ঘর থেকে। চার-পাঁচজন আলাদা হয়ে গেলেন, এক একজন পালানোর চেষ্টা করলেন এক একদিকে। এটাও তাঁদের একটা কৌশল, সবার একসঙ্গে না থাকা। সবচেয়ে খারাপ কিছু হলেও সবাই যেন ধরা পড়ে না যান।
     
    ছোট্ট গ্রাম চাঁনসরা, পরপর বাড়ি, তারই মাঝে গোয়াল ঘর, সরু রাস্তা, হাঁস-মুরগি, ছাগল-গরু বাঁধা। একটা ছোট মাঠ। গুলির শব্দে কেঁপে উঠল এলাকা। ততক্ষণে বাড়ির আড়ালে পুলিশ, সিআরপিএফের দু-তিনজনের ছোট ছোট দলগুলো সেফ পজিশন নিয়ে নিয়েছে। চারদিক থেকে ফায়ারিং করছে পুলিশ। মাঝখানে পড়ে গেল শশধর, সুচিত্রার ছোট্ট স্কোয়াডটা। গুলি চালাতে চালাতে পালানোর সময় পুলিশ-সিআরপিএফের ছোট্ট একটা দলের নিশানার মধ্যে চলে এলেন শশধর মাহাতো। যদিও দলটা জানতো না, মাঝবয়সী যে লোকটা হাতে এ কে ৪৭ নিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে ছুড়তে দৌড়চ্ছেন তিনিই এই স্কোয়াডের লিডার, লালগড় আন্দোলনে কিষেণজির পর মোস্ট ওয়ান্টেড! এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে চালাতে দৌড়নোর সময় শশধর দেখতেও পেলেন না, তিনি চলে এসেছেন টার্গেটের মধ্যে। নাগাড়ে গুলি চালাচ্ছেন জওয়ানরা। সদ্য বৃষ্টিতে ভেজা মাটির রাস্তা কাদায় থিকথিক করছে। শশধর যখন বুঝলেন টার্গেটের মধ্যে চলে এসেছেন, তখন টার্ন নিতে গিয়ে কাদায় পা পিছলে পড়ে গেলেন তিনি। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর পড়লেন, না কাদায় পা পিছলে পড়ার মুহূর্তে গুলিবিদ্ধ হলেন, তা কোনওদিনই জানা সম্ভব নয়। কিন্তু প্রায় আধঘণ্টা পর মৃতদেহের সামনে পৌঁছে অফিসাররা ভালো করে দেখেন কাদায় পিছলে পড়ার চিহ্ন। দুটো বাড়ির মাঝখানে মাটির দেওয়ালে হেলান দিয়ে পড়ে আছে শশধর মাহাতোর মৃতদেহ। হাতে এ কে ৪৭। হাতে-পায়ে কাদা আর রক্ত। বুক থেকে শরীরের ওপরের অংশ রক্তে ভেসে যাচ্ছে।
    এদিকে, শশধর যেখানে জওয়ানদের গুলির মুখোমুখি, ঠিক সেই সময়ই কম-বেশি একশো মিটার দূরে একটা বাড়ির আড়াল দিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছিলেন সুচিত্রা মাহাতো। তাঁরও হাতে রাইফেল। এক বাড়ির আড়াল থেকে অন্য বাড়ির আড়ালে যেতে পেরোতে হবে ৫০-৬০ ফুট একটা ফাঁকা জায়গা। সেটা পেরোতে গিয়েই সুচিত্রা মুখোমুখি পড়ে গেলেন বিনপুরের ওসি সুকোমল দাসের। সামনে সাক্ষাৎ মৃত্যু, উদ্যত রিভলভার হাতে পুলিশ অফিসার, এক সেকেন্ডের জন্য থমকালেন সুচিত্রা মাহাতো। হাতের রাইফেল তাক করারও সময় পেলেন না। আর একশো হাতের মধ্যে রাইফেল হাতে সুচিত্রাকে দেখে যেন মুহূর্তের মধ্যে বিদ্যুৎ খেলে গেল বিনপুর থানার ওসি সুকোমল দাসের স্নায়ু বেয়ে। এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে রিভলভার তাক করলেন সুকোমল দাস। ট্রিগার টিপলেন, খট করে একটা আওয়াজ হল মাত্র। গুলি বেরোল না, লক হয়ে গেল বন্দুক। এমন বন্দুক লক হয়ে যাওয়া একদম অস্বাভাবিক নয়, এক হাজারবারে কয়েকবার হয় হয়তো। হল তো হল, সুচিত্রাকে নাগালের মধ্যে পেয়েই হল তা। যতক্ষণে সুকোমল দাস বুঝলেন গুলি বেরোয়নি, ততক্ষণে সুচিত্রা ৫০ ফুট রাস্তাটা পেরিয়ে চলে গিয়েছেন অন্য বাড়ির আড়ালে। আশ্চর্য নার্ভের জোর সুচিত্রা মাহাতোর। নিশ্চিত মৃত্যুকে সামনে থেকে দেখেও থামেননি এক সেকেন্ডও! নিজেও হয়তো বুঝেছেন, তাঁকে তাক করে থাকা বন্দুক লক করে গেছে, কিন্তু সেটা তো এক সেকেন্ডের কয়েক ভাগ মাত্র সময়, দৌড় থামালেন না তিনি। এই বাড়ি, সেই বাড়ির ফাঁক দিয়ে জল-কাদা পেরিয়ে পালিয়ে গেলেন এ কে ৪৭ হাতে সুচিত্রা মাহাতো। যতক্ষণে সেকেন্ড ফায়ার করতে যাবেন সুকোমল দাস, ততক্ষণে চোখের আড়ালে বাইরে চলে গেছেন সুচিত্রা। বেশি দূর যেতে পারেননি নিশ্চিত, তাড়া করলেন বিনপুর থানার ওসি। কিন্তু এর নাম এনকাউন্টার! রিয়েল লাইফ গুলির লড়াই, এখানে কোনও অ্যাকশন রিপ্লে নেই। কোনও স্ক্রিপ্ট নেই। এখানে প্রতিপক্ষের হাতেও এ কে ৪৭। জীবন নেওয়া এবং জীবন যাওয়া দুইই নির্ভর করে কিছু চান্স ফ্যাক্টরের ওপর। তখনও জল জমে গ্রামের অনেক জায়গায়। দৌড়তে গিয়ে কাদায় পা পিছলে মাটিতে পড়ে গেলেন সুকোমল দাস। লালগড় থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে রামগড়ের গ্রামে ঝড়ে-জলে মাঠে দৌড়ে, গাছে চড়ে বড় হওয়া সুচিত্রা ওই কাদা মাটিতে দৌড়ে গ্রামের এই রাস্তা, সেই রাস্তা পেরিয়ে বেরিয়ে গেলেন পুলিশের নাগালের বাইরে। মাটি থেকে উঠে ফের গুলি চালিয়েছিলেন বিনপুর থানার ওসি, কিন্তু ততক্ষণে সুচিত্রা নাগালের বাইরে। পুলিশ, সিআরপিএফের গুলি এড়িয়ে পালিয়ে গেলেন শশধরের বাকি বাকি সঙ্গীরাও। সব মিলে পাঁচ থেকে সাত মিনিটের অপারেশন। থেমে গেল গুলির আওয়াজ। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ১৬ জন পুলিশ এবং সিআরপিএফ অফিসার-জওয়ান নিজের নিজের জায়গায় অপেক্ষা করলেন মিনিট পনেরো। গ্রামে কোনও কিছুর কোনও শব্দ নেই, ভয়ে গ্রামের গরু, মুরগিগুলোও নিঃশব্দ। গ্রামের সব লোক বাড়ির ভেতরে বন্দি। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই কয়েকশো রাউন্ড ফায়ারিংয়ের শব্দের ঘোর তখনও কাটেনি। দিনের আলো তখনও পরিষ্কার, একে একে অফিসার ও জওয়ানরা জড়ো হলেন এক জায়গায়।
    অপেক্ষা করলেন কয়েক মিনিট। বুঝতে পারলেন, আর নেই কেউ। দেখলেন, একটা বাড়ির আড়ালে মাটিতে কাত হয়ে পড়ে আছেন মৃত শশধর মাহাতো। হাতের বন্দুক শক্ত করে ধরা। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, পা পিছলে পড়ে গিয়েছেন শীর্ষ মাওবাদী নেতা। শরীরের ওপরের অংশ রক্তে ভেসে যাচ্ছে। বুকে, গলায় গুলির ক্ষত। যদিও তিনিই যে শশধর মাহাতো তা সেই সময় নির্দিষ্ট ভাবে বোঝার কোনও উপায় ছিল না। তবে অফিসাররা আন্দাজ করেছিলেন। পরে এক সোর্সকে ডাকিয়ে এনে তাঁকে মৃত ব্যক্তিকে দেখিয়ে পুলিশ কনফার্ম হয়, লালগড়ের আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে তখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অপারেশন সাকসেসফুল। সেদিন শশধরের পকেটে পাওয়া গিয়েছিল মোবাইল ফোন, কিছু সিম কার্ড। যে বাড়িতে শশধররা আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেখানে পরে সার্চ করে মিলেছিল আরও কিছু বন্দুক। মিলেছিল ব্যাগ, তাতে ছিল শশধর মাহাতোর ওষুধ।
    জঙ্গলমহলে কাজ করা সমস্ত পুলিশ অফিসার থেকে রাজনৈতিক নেতা কিংবা সাংবাদিক জানতেন, কোনও সাধারণ স্কোয়াড মেম্বার ছিলেন না শশধর মাহাতো। তিনি ছিলেন জেনুইন লিডার এবং কিষেণজির পরেই মোস্ট ওয়ান্টেড নেতা। সিদু সোরেন বা আরও অনেকের মতো লালগড় আন্দোলন শুরু হওয়ার পর হাতে বন্দুক নিয়ে মানুষকে স্রেফ ভয় দেখিয়ে নেতা হননি শশধর মাহাতো। সমস্ত বড়ো অ্যাকশনে নেতৃত্ব দিতেন শশধর। যদিও কয়েক মাস বাদে কিষেণজির যখন পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয়, তখন যে প্রশ্ন উঠেছিল এবং এখনও যে প্রশ্ন মাঝে-মাঝেই উত্থাপন করেন অনেকে, একই প্রশ্ন কিন্তু সেভাবে ওঠেনি শশধর মাহাতোর এনকাউন্টারের পরও। কী সেই প্রশ্ন?
     
    কীভাবে এনকাউন্টারে একা কিষেণজির মৃত্যু হল, অথচ সুচিত্রা বেঁচে গেলেন? এই প্রশ্ন তো আট মাস আগে চাঁনসরার গ্রামে ওঠেনি সেভাবে! আমার মতে এর কারণ মূলত দুটো।
    প্রথম কারণ, শশধরের এনকাউণ্টার হয়েছিল সিপিআইএম জমানায়। আর কিষেণজির ক্ষেত্রে তা ঘটেছিল রাজ্যে সরকার বদলের পর তৃণমূল আমলে। যে সিপিআইএম মাসের পর মাস বলে এসেছে, মাওবাদী আর তৃণমূল সব এক, তাদের পক্ষে তো আর নিজের সরকারের আমলে পুলিশের এনকাউণ্টারের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা সম্ভব ছিল না! সেই কারণেই আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের রাজনৈতিক এবং কৌশলগত লাইন সিদু সোরেন, শশধর মাহাতো বা উমাকান্ত মাহাতোর এনকাউণ্টারকে ছাড়পত্র বা প্রকৃত গুলির লড়াইয়ের মর্যাদা দেয়, আর তৃণমূল জমানায় কিষেণজির এনকাউণ্টারে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আর এই প্রশ্নের মধ্যে একজন মহিলার নাম যুক্ত করতে পারলে যে তা নিয়ে চর্চা এবং রহস্য দুইই বৃদ্ধি পায়, তা চৌত্রিশ বছর সরকার চালিয়ে তো না বোঝার কিছু নেই। এত বছর সরকার চালাতে হলে সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্ব তো খানিকটা বুঝতেই হয়! আর এটাই আমার মতে দ্বিতীয় কারণ।
     
    আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজ সেই ২০১১ সালের ১০ মার্চ চাঁনসরা গ্রামের এনকাউণ্টারের পর প্রশ্ন তোলেনি, শশধর মাহাতোর অন্য পুরুষ সঙ্গীরা কীভাবে বেঁচে পালিয়েছিলেন! প্রশ্ন তোলেনি, শশধর মাহাতোর সেন্ট্রিরা কী করছিলেন পুলিশই অভিযানের মুহূর্তে! ঠিক সেভাবেই সে বছরের নভেম্বর মাসেও কেউ প্রশ্ন তোলেননি, কীভাবে কিষেণজির সেন্ট্রি মঙ্গল মাহাতো বেঁচে পালিয়েছিলেন এনকাউণ্টারের সময়? প্রশ্ন উঠেছে স্রেফ সুচিত্রা মাহাতোকে নিয়ে! কারণ, সুচিত্রা মাহাতো যে মহিলা! আত্মসমর্পণ করা সুচিত্রা মাহাতো বা জাগরী বাস্কের যে চরিত্র মূল্যায়ন আমাদের সমাজ করে থাকে, তা করে না আত্মসমর্পণ করা পুরুষ মাওবাদী সুমন মাইতি ওরফে সাঁওতা বা জাগরী বাস্কের স্বামী রাজারামের আত্মসমর্পণের ক্ষেত্রে!
    কিন্তু এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কেন সফট টার্গেট হিসেবে বারবার এনকাউণ্টারের পর স্কোয়াডে থাকা মহিলাদের চরিত্র মূল্যায়নে এত সময় ব্যয় করেছে, তা নিয়ে কিন্তু মাথাব্যথা ছিল না মাওয়িস্ট শীর্ষ নেতৃত্বের। তাঁদের কাছে শশধর এবং কিষেণজি, দুই মৃত্যুই ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ। কেন এনকাউণ্টার হল, কীভাবে হল, কে খবর দিল পুলিশকে, সবই পরে তদন্ত করে দেখে মাওয়িস্ট নেতৃত্ব এবং তাদের অভ্যন্তরীণ তদন্তে দু’বারই ক্লিনচিট পেয়েছেন সুচিত্রা মাহাতো। কেন এবং কীভাবে, সেই প্রসঙ্গে আসব পরে।
     
    আপাতত এই কিষেণজি মৃত্যু রহস্যের প্রায় শেষ লগ্নে এসে আলোকপাত করার চেষ্টা করব এক গুরুত্বপূর্ণ এবং মৌলিক রাজনৈতিক প্রশ্নের ওপর। এবং তারপরই আবার ফিরব, সেই ২০১১ সালের নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে কিষেণজির এনকাউণ্টারের ঘটনায়। যেখানে বুড়িশোলের জঙ্গলে সন্ধ্যায় গাছে ফেরা হাজার-হাজার পাখিরও নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছিল লাগাতার গুলির শব্দে! ঠিক কী ঘটেছিল সেই সন্ধ্যায়, সেই ঘটনায় ফিরব আবার, যেখান থেকে শুরু হয়েছিল এই লেখা।
    বিপুল ধৈর্য নিয়ে যাঁরা সাধারণ এক সাংবাদিকের লেখা এই কিষেণজি মৃত্যু রহস্য এতটা বরদাস্ত করেছেন, তাঁরা এতদিনে নিশ্চিতভাবেই জেনে গিয়েছেন এই লেখার উদ্দেশ্য। এই লেখার উদ্দেশ্য সাংবাদিক হিসেবে বারেবারে জঙ্গলমহলে গিয়ে যে সব প্রশ্নের জবাব মেলেনি তা খোঁজা নেওয়া কিংবা যে প্রশ্নের জবাব খোঁজার মতো সময় চব্বিশ ঘণ্টার চ্যানেলে প্রতিদিনকার সাংবাদিকতা অনুমোদন করে না, তার হদিশ করা।
    যে প্রশ্ন বারবার মাথায় এসেছে, কী কারণে এবং কোন প্রেক্ষাপটে মাওয়িস্টরা এরাজ্যে এতটা শক্তি অর্জন করেছিল? লালগড় আন্দোলনকে কি সত্যিই শ্রেণি সংগ্রাম বলা যায়? সেই সময় এই আন্দোলন নিয়ে যে বহুল প্রচার হয়েছিল দেশজুড়ে, তা কি মাওয়িস্টদের মূল রাজনৈতিক লাইনের প্রসারে কোনওভাবে সহায়ক হয়েছে? এবং শেষমেশ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, এই আন্দোলনই কি রাজ্যে প্রথমে এমসিসি-জনযুদ্ধ এবং পরে মাওয়িস্টদের বিশ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে যে প্রভাব বিস্তার, তার কোনও উপকার করেছে না ক্ষতি করেছে? এই শেষ প্রশ্নটাই আমার মাথায় বারবার ধাক্কা দেয় ২০১০ সাল থেকে ২০১১ র নভেম্বরের শেষে কিষেণজির এনকাউণ্টার পর্যন্ত। এই সমস্ত প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে মনে হয়েছে সাধারণ মানুষ থেকে পিসিপিএ নেতা, এমনকী স্কোয়াড মেম্বার পর্যন্ত কেন বারবার পুলিশকে ফোন করে মাওয়িস্ট নেতাদের ধরিয়ে দিচ্ছিলেন, সেই প্রশ্নের মধ্যেই লুকিয়ে আছে কিষেণজির মতো পলিটব্যুরো সদস্যের মৃত্যু রহস্য।

    ক্রমশ।..

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ধারাবাহিক | ২৬ জুলাই ২০২৪ | ১০২৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • অসিতবরণ বিশ্বাস | 2409:*:*:*:*:*:*:* | ২৬ জুলাই ২০২৪ ১২:৪১535380
  • মনে পড়ে কিষেনজীকে খুন করার কদিন পরেই সুচিত্রা মাহাতোকে টিভিতে দেখেছিলাম। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছিলেন, 'ওকে বেশি প্রশ্ন করবেন না। ও না অসুস্থ।' মনে হয়েছিল সুচিত্রা মাহাতোকে আড়াল করার চেষ্টা করছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • | ২৬ জুলাই ২০২৪ ১৫:৩৫535382
  • সাংবাদিকের এই ধৈর্য্য আর সত্যানুসন্ধানে নিষ্ঠাই দুর্লভ বাংলা সাংবাদিকতা মহলে। সেই দুর্লভ কাজটিই করার জন্য ধন্যবাদ জানবেন।
  • aranya | 2601:*:*:*:*:*:*:* | ২৭ জুলাই ২০২৪ ১০:০৭535413
  • ভাল লেখা, খুবই ভাল
  • রঞ্জন | 2001:*:*:*:*:*:*:* | ২৮ জুলাই ২০২৪ ১৩:৩৫535467
  • দ যা বলছেন তার সঙ্গে সহমত।
    ধন্যবাদ।
  • বিতনু চট্টোপাধ্যায় | ২৮ জুলাই ২০২৪ ১৯:১৬535474
  • আমি তো লেখক বা সাহিত্যিক নই। যা চোখে দেখেছি, যা বুঝেছি লিখেছি। কোনও দিন ভাবিনি এতজন পড়বেন এবং ভালো বলবেন। ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা সবাইকে।
  • aranya | 2601:*:*:*:*:*:*:* | ২৯ জুলাই ২০২৪ ০১:৩১535489
  • বিতনু, আগে বলেছি কিনা মনে নেই, ময়ুরঝর্ণা-ও খুবই ভাল লেগেছিল। আপনার লেখা বড় প্রাপ্তি আমাদের জন্য
  • Niladri Deb | ৩০ জুলাই ২০২৪ ২০:০৪535548
  • দারুন লেখা দুর্ধষ এবং টানটান আপনাদের মতো সাংবাদিকদের জন্যই এই পেশাতে তরুণ প্রজন্ম উৎসাহী হবে | এই সমস্ত লেখা ময়ূরঝর্ণা আর কিষেণজি মৃত্যু রহস্য কখনও যদি বই আকারে ছাপা হয় সেটা হবে এক ​​​​​​​অনন্য আর সমকালীন রাজনৈতিক বৃত্তান্ত | যেটা সংগ্রহ যোগ্য এবং অবশ্যই একান্ত পাঠ্য |
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে মতামত দিন