এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  শিক্ষা

  • সা বিদ্যা যা বিমুক্তয়ে?

    যদুবাবু
    আলোচনা | শিক্ষা | ২১ জুলাই ২০২৬ | ১৬১ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • এই লেখাটা সম্পাদনা করার সময় খবর পাচ্ছি, গতকাল ও আজকে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ হচ্ছে। হ্যাঁ স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ-ই। দিল্লির ছবি আর ভিডিও তো দেখছিই, পুলিশের লাঠিচার্জের ভিডিও, রাস্তায় পড়ে থাকা টিয়ার গ্যাসের শেলের ছবি, আর দেখছি একরত্তি ছেলেমেয়েদের সাহস। কিছুদিন আগেই এক বন্ধুর লেখা প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ পড়লাম গুরুর পাতায়। আর অজস্র ভিডিও দেখছি নিতান্ত সাধারণ মানুষের। বোম্বের ছবি দেখলাম, আরও … জয়পুর, যোধপুর, গোয়ালিয়র, ইন্দোর। আজকে যাদবপুরে দেখলাম বিপুল জমায়েত হয়েছে, এবং তারা কেউ কোনো দলের ঝাণ্ডার আশ্রয়ে আসেননি বলেই অনুমান।


    এদিকে গতকাল আমার এক বাল্যবন্ধু গেছিল টরণ্টোয়, ছবি তুলে পাঠিয়েছে। আমি কিছুই করিনি ও করি না, তাই যাকে বলে ‘লিভিং ভিকারিয়াসলি’। পড়তে পড়তে, দেখতে দেখতে ভাবছি ও ভেবেছি ইশ যদি একবার কোনো একটা জমায়েতে যেতে পারতাম। কিছুই না, ঐ ভিড়ের মধ্যে দাঁড়াতাম। উদ্দীপিত হতাম। সংক্রামিত হতাম। বৃথা হোক না হোক, আশা করতাম।


    মিছিল থেকে আমি বহুদূরে তাই আমি যেইটুকু পারি সেইটুকুই করছি। দুই একটা তথ্য-উপাত্ত তুলে রাখছি এক জায়গায়। শিক্ষা, শিক্ষার অধিকার ও অবস্থা সংক্রান্ত।


    স্কুলশিক্ষা নিয়ে নীতি আয়োগের একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন বেরিয়েছে এই মে ২০২৬-এই। প্রতিবেদনের নাম স্কুল এডুকেশন সিস্টেম ইন ইন্ডিয়া – টেম্পোর‍্যাল অ্যানালিসিস অ্যান্ড পলিসি রোডম্যাপ ফর কোয়ালিটি এনহ্যান্সমেন্ট। রিপোর্টের সময়কাল দশ বছর ’১৪-’১৫ থেকে ’২৪-‘২৫, অর্থাৎ কেন্দ্রে বিজেপির শাসনকাল। বিশাল রিপোর্ট, অজস্র সংখ্যা-সারণী এইসব চট করে পড়ে ফেলা কঠিন কাজ। আমিও এক কিস্তিতে সবটুকু লিখবো না। খুব সামগ্রিক দুই-একটা ছবি।


    প্রথম ছবিটি এই যে, গত দশ বছরে সরকারি স্কুলের সংখ্যা ১১.০৭ লাখ থেকে কমে হয়েছে ১০.১৩ লাখ, আর এই এক-ই সময়ে সরকারি স্কুলে ভর্তির শতকরা ভাগ কমে ৫৪.৩% থেকে হয়েছে ৪৯.২৫%, অর্থাৎ, আমাদের দেশে এখন অর্ধেকের কম ছাত্রছাত্রী পড়ে সরকারি ইস্কুলে। কমার কারণ হিসেবে রিপোর্টে লেখা, “কনসলিডেশন অ্যাণ্ড র‍্যাশনালাইজেশন”, এবং, প্রাইভেট স্কুলিং-এর “চাহিদা”র বৃদ্ধি! চাহিদার নেপথ্যে কী কারণ সে বিস্তারে বলা নেই, অথবা চাহিদা আর বাধ্যতার ফারাক কোথায় সেটাও এক প্রশ্ন। আমার বন্ধুরা বলেন যে এর জন্য দায়ী সাধারণ মানুষের ‘পারসেপশন’। কিন্তু সেই পারসেপশনের নেপথ্যে কারণ আমরা সাধারণতঃ খুঁজি না।


    এক-ই সঙ্গে এই রিপোর্টের টেবিল ৪.২-এর ডেটা দেখলে চমকে উঠতে হয়। দেশে প্রায় আট হাজার স্কুলে (৭,৯৯৩) একজনও ছাত্র নেই, অথচ শিক্ষক আছেন, সরকারি অর্থও আসছে। এই এক-ই টেবিলের ডেটায় দেখছি, পশ্চিমবঙ্গে ৬,৪৮২টি স্কুলে হাতেগোনা ঠিক এক জন শিক্ষক, আর সেই সিঙ্গল-টিচার স্কুলে পড়ছে ২.৩৫ লক্ষ শিশু, আর উত্তরপ্রদেশে ৯,৫০৮টি এমন স্কুলে ৬.২৪ লক্ষ। এক গ্রামে ছাত্রহীন শিক্ষক; পাশের গ্রামে শিক্ষকহীন ছাত্র।


     


    আরও দুশ্চিন্তাজনক প্যাটার্ন স্কুলভর্তির হারের, যার নাম এনরোলমেন্ট ফানেল, অথবা এনরোলমেন্ট পিরামিড। সেটা কেমন দেখা যাক। ভর্তির হার মাপার যে সূচক এই রিপোর্টে মাপা হয় সেটার নাম গ্রোস এনরোলমেন্ট রেট, জি ই আর। সোজা করে বলতে গেলে, জি-ই-আরের মাপতে হলে, কোনো একটি শিক্ষার স্তরে (ধরা যাক প্রাইমারি), মোট যতজন শিক্ষার্থী সেই সংখ্যাকে ভাগ করা হয়, ঐ স্তরের অফিশিয়াল এজ-গ্রুপের জনসংখ্যা দিয়ে। এই রেট কখনও-সখনও ১০০% টপকেও যেতে পারে, বেশি বয়সে যাঁরা পড়াশুনো করছেন, বা পরিযায়ী জনসংখ্যা ধরলে। আমাদের দেশে প্রাইমারি জি-ই-আর বেশ ভালো ৯০.৯%, আপার প্রাইমারিতেও তাই ৯০.৩। সেখান থেকে ঝপ করে কমে মাধ্যমিকে ৭৮.৭, আর উচ্চমাধ্যমিকে মাত্র ৫৮.৪। অর্থাৎ, আমাদের এডুকেশন সিস্টেমে প্রতি দশজন শিশুর মধ্যে চারজন ক্লাস ইলেভেনে পৌঁছায় না।



    জি-ই-আরের অবনতি সর্বত্র অবশ্যই সব রাজ্যে সমান নয়, এবং আশ্চর্যের কথা সেইসব রাজ্যে অবনতির হার বেশি যেখানে ডবল ইঞ্জিন সরকার, মানে বেশিরভাগ সময় শাসক দল বা তার শরিকদের হাতে রাজ্যের ভার যেখানে। উদাহরণ হিসেবে, মেয়েদের প্রাইমারি জি-ই-আর মধ্যপ্রদেশে ১০৭ থেকে নেমে ৭৬, উত্তরপ্রদেশে ১১৫ থেকে ৮৪, গুজরাটে ১০০ থেকে ৮২, বিহারে ১১০ থেকে ৭৯; বিহারের সেকেন্ডারি জি-ই-আর ৫৯ থেকে কমে ৫১ (বিহার গোটা দেশে সর্বনিম্ন।) তবে সত্যের খাতিরে দুটো কথা সঙ্গে বলতেই হবে। এক, এই আপাত অবনতির একটা অংশ আসলে মাপজোখের ব্যাপার: ২০২২-২৩ থেকে ইউডাইস+ ছাত্রপিছু আলাদা রেকর্ডে চলে গিয়ে ডুপ্লিকেট নাম ছাঁটতে শুরু করে, ফলে যে সংখ্যাগুলো ফুলেফেঁপে ১০০ পেরিয়ে গিয়েছিল সেগুলো কিছুটা চুপসে আসে। তবুও, অবনতির হার তুলনা করা খুবই ন্যায্য।






    স্কুলশিক্ষা চালানোর দায় মূলত রাজ্যের ধরে নিলেও এইটুকু সম্ভবত সরকারের সমর্থকরাও মেনে নেবেন, যে, যে দশকে একই দল দিল্লি আর এই রাজ্য-রাজধানীগুলো দুই-ই চালিয়েছে, সেই দশকের শেষে তাদেরই স্কুলশিক্ষার সূচক প্রতিটি ম্যাপের একেবারে তলায়। ডবল ইঞ্জিন, অন্তত এই প্রমাণে, উল্টোদিকে চলেছে।


    এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য সেকেণ্ডারি (মাধ্যমিক) জি-ই-আর দেখলে, গত দশকে পশ্চিমবঙ্গের উন্নতি হয়েছে ৭৫.৩% থেকে ৯৯.৪%। এর পেছনে সেই দশকের রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কোনো ভূমিকা ছিল কী না সেই নিয়ে অর্থনীতিবিদরা হয়ত একদিন কাজ করবেন। তবে, সেকেণ্ডারি জি-ই-আর যেমন ভালো, পশ্চিমবঙ্গের সেকেণ্ডারি ড্রপ-আউট রেট তেমনই খারাপ, ২০%, এবং, ক্লাস টেন থেকে ইলেভেনে যাওয়ার হার ৫৭.৪%। প্রায় সার্বজনীন জি-ই-আর আর বেশ বেশি ড্রপ-আউটের অর্থ, রাজ্য প্রায় সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের মাধ্যমিক স্তর অব্দি পৌঁছতে সক্ষম, কিন্তু ১০ থেকে ১১-র রাস্তায় তাদের ~৪০% বাদ পড়ে যায়।  


    এই “অ্যাট্রিশনের” একটা কারণ অবশ্যই ঐ কাঠামোই। ভারতের অর্ধেক স্কুলে পড়ানো হয় শুধু ক্লাস ওয়ান থেকে ফাইভ, আর ক্লাস ওয়ান থেকে টুয়েলভ অব্দি টানা এক-ই স্কুলে যাওয়ার বন্দোবস্ত মাত্র ৫.৪ শতাংশ স্কুলে। উঁচু ক্লাসে ওঠা মানে বারবার স্কুল পাল্টানোর ঝক্কি হলে, অথবা প্রাথমিকের তুলনায় মাধ্যমিক শিক্ষা পাওয়ার স্কুল অনেকটাই কম সংখ্যার হলে, কিছুটা সেইখানে বাদ পড়ে যাওয়ার একটা ঝুঁকি থেকে যায়। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের ৭৯% স্কুল প্রাইমারি-ওনলি, আসামে ৬৪.৯%, আর গোটা ভারতের গড় ৪৯.৬%।


    আর, পিরামিডের দিকে খেয়াল করলে বোঝা যায় আপার-প্রাইমারি আর সেকেণ্ডারির মাঝে বেশ বড় একটা ফাঁক। কেন? হয়ত তার একটা উত্তর এই যে রাইট টু এডুকেশন বা শিক্ষার অধিকার আইনের অধিকার ফুরিয়ে যায় ঠিক ঐ চোদ্দ বছর বয়সে, ক্লাস এইটে, মানে, ঠিক সেই সময় টিউশন, বই আর যাতায়াতের খরচ আবার পরিবারের ঘাড়ে এসে পড়ে। আমি সামান্য বুদ্ধিতে এর মানে বুঝি এই যে ঐ পিরামিড আসলেই আর্থিক-সামাজিক ক্ষমতার-ও পিরামিড!


    ঐ পিরামিডের চুড়ো অব্দি যে ক'জন পৌঁছয়, তাদের জন্য তারপরের ধাপ ঐসব কম্পিটিটিভ পরীক্ষা - নিট, জেইই, ইত্যাদি। সামাজিক-সাংস্কৃতিক পুঁজি নেই যাদের সেইসব পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের আপওয়ার্ড মোবিলিটির অন্যতম একটা দরজা তো এইগুলোই। নাঃ, এইসব পরীক্ষার মধ্যেও কি একটুও বায়াস নেই? কোচিংয়ের খরচ, শহুরে ইস্কুল, পারিবারিক শিক্ষা বা অন্য রিসোর্স, সব মিলিয়ে খেলতে নামার আগেই মাঠ সবার জন্য সমান না, কেউ কেউ একটু বা অনেকটা এগিয়ে শুরু করছেন রেসের দৌড়। সে তুমি যেই লাইনেই দাঁড়াও না কেন, তোমার আগে দেড়শো খোকার রেজিউমে।


    সেইসব প্রিভিলেজের গল্প বাদ দিলেও, এও তো সত্যি যে এইসব ছিলো বলেই তো আজ খেয়েপরে বেঁচে আছি। আমি তো বটেই, আমার বেশিরভাগ বন্ধুরাও প্রায় সকলেই আমার-ই মতন, বাপের টাকাপহা বিশাল কিছু ছিল না, কিন্তু তাও ভালো স্কুলেই পড়েছি প্রায় বিনি পয়সায়, সরকারি কিংবা সরকারি-সাহায্যপ্রাপ্ত, শিখেওছি যা যা শেখার ছিল, হাতেগোনা ব্যতিক্রম বাদ দিলে আমাদের ক্লাসে শিক্ষক আসতেন, মন দিয়েই পড়াতেন, আমরাও সেইসব শুনেটুনেই উতরে গেছি, তারপর কলেজে পড়েছি, সেখানেও খরচ শূন্য উল্টে সামান্য স্টাইপেণ্ড ইত্যাদিও পেতাম, সেই কলেজে পাশ দিয়ে চাকরিবাকরি পেয়েছি, আমার মত কেউ কেউ চাকরি করেটরে আরও উচ্চশিক্ষার জগতে এসেছি, সেও আজ এক দশকের বেশি অতিক্রান্ত।


    আমাদের সময় নীট ছিল না, আমরা জয়েন্ট ইত্যাদি পরীক্ষা দিতাম। আমিও দিয়েছিলাম, দুরন্ত রেজাল্ট করেছিলাম, করেও কোনো কাজে লাগেনি, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার না হয়ে যদুবাবু হয়ে গেলাম। তবে, আমি ও আমার বন্ধুরা জানতাম, মানে একটা এইরকম বিশ্বাস ছিল যে পড়াশুনো করাই আমাদের সোশ্যাল মোবিলিটির একমাত্র উপায়। ছিলো, এই একের-পর-এক নীট কেলেঙ্কারির আগে অব্দি।


    প্রশ্নপত্র ফাঁস তখনও কী হ’ত না? হত, কিন্তু এই ব্যাপক স্কেলে পরীক্ষাও হ’ত না, কেলেঙ্কারিও না। মনে রাখা দরকার, এই নীট গোছের পরীক্ষাগুলোয় বাছাই হয় একেবারে চুলচেরা হিসেবে। লক্ষ-লক্ষ পরীক্ষার্থী, হাজারকয়েক আসন, দু-চার নম্বরের বেশি-কম সরকারি মেডিকেল সিট আর শূন্যের ফারাক। ফাঁস হওয়া প্রশ্ন কত দামে বিকিয়েছে, জানেন? পার হেড ১৫ লাখ! ধৃত ব্যক্তি জানিয়েছেন তিনি কিনেছিলেন ১০ লাখ টাকায়।  


    আর সবচেয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়তো প্রতিষ্ঠানের, এবং প্রতিষ্ঠানের উপর বিশ্বাসভঙ্গের। যে ষোলো-সতেরো-আঠেরো বছরের কিশোর বুঝে যায় যে ঐ যাবতীয় যা কিছু তাকে একদিন পেতে হবে, আসলে সেই সব-ই তার নাগালের বাইরেই থেকে যাবে। যে দরজা সত্যি বলে বিশ্বাসই রইল না, সে দরজার দিকে কে-ই বা হাঁটতে চায় বলুন? অথচ, শিক্ষা – প্রধানতঃ শিক্ষা-ই - হওয়ার কথা ছিল এই পোড়া দেশে ক্ষমতাহীন মানুষের প্রথম ও প্রধান সোপান।


    কিন্তু প্রতিষ্ঠানের উপর বিশ্বাস হারালেই বা আখেরে ক্ষতি কী?


    অর্থনীতিবিদ ড্যারন আচেমোগলু “হোয়াই নেশনস ফেইল” বইতে একটা তত্ত্ব খাড়া করেছিলেন, প্রতিষ্ঠান সম্পর্কেই। ওঁর এবং ওঁর সহ-গবেষকদের মতে, প্রতিষ্ঠান মূলতঃ দুই রকম – ইনক্লুসিভ আর এক্সট্র্যাকটিভ। ইনক্লুসিভ, যাঁরা ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করেন, আইনের শাসন জারি রাখেন, এবং এমন একটা “লেভেল-প্লেয়িং-ফিল্ড” তয়ের করেন যাতে বৃহত্তর জনসমাজ শিক্ষা, বা ইনোভেশন, বা অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশীদার হতে পারেন সহজেই। আর এর উল্টোদিকে, এক্সট্র্যাকটিভ – শোষক। এরা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতাহীন রেখে দিয়ে, মুষ্টিমেয় মানুষের হাতে ধনসম্পত্তি ও তাবৎ ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। আচেমোগলুরা দেখিয়েছিলেন, কীভাবে মানুষের ইতিহাসে ঐ দীর্ঘস্থায়ী ইনক্লুসিভ অর্থ-রাজনৈতিক কাঠামোই দেশকে উদ্ধার করতে পারে দারিদ্র্যের হাত থেকে। আর অন্যদিকে কী হয়, আন্দাজ করা আশা করি শক্ত না।


    যে প্রসঙ্গে শুরু করেছিলাম তাতেই ফিরে আসি। আমি আজকাল নৈরাশ্যবাদী হয়ে গেছি। আমি ধরে নিয়েছি যে রাষ্ট্রের বুটজোড়ার সামনে আমাদের পেরেক হওয়ার ক্ষমতাও নেই। আর আমি ধরেই নিয়েছি যে আসলেই সংখ্যাগুরু ক্ষমতাহীন মানুষের জন্য যাবতীয় হতাশার এবং বিশ্বাসভঙ্গের যুক্তিসঙ্গত প্রতিক্রিয়া পুরো সিস্টেমকেই ছুঁড়ে ফেলে ঘৃণাভরে এর থেকে সরে যাওয়া।


    এই যন্তর-মন্তরের জমায়েতের ভিডিও দেখে মনে হ’ল, কে জানে, হয়তো আমি ভুল। হয়তো হতাশার এক ও একমাত্র যুক্তিসঙ্গত প্রতিক্রিয়া রাগ। বিশ্বাসভঙ্গের একমাত্র যৌক্তিক প্রতিক্রিয়া হয়তো বিরুদ্ধাচারণ। হয়তো।


    ভোটের ঠিক পরেপরেই এক দাদাকে ফোনে বলেছিলাম, ভয় করছে। তিনি বলেছিলেন, ভয় করবেন না, সাহস করুন, মনে রাখবেন ভয়ের থেকে সাহস বেশি সংক্রামক। হয়তো তিনিও ঠিক-ই বলেছিলেন। হয়তো?


    নীতি আয়োগের রিপোর্টের শুরুতেই জনৈক আধিকারিকের একটি ভারি সুন্দর বার্তা ছাপানো আছে, তাতে লেখা যে কর্মসংস্থান শুধু নয়, শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য মুক্তি – “সা বিদ্যা যা বিমুক্তয়ে”। সে কার মুক্তি, ক্ষমতাবান না ক্ষমতাহীন না আপামর জনগণের, এর উত্তর আসবে কি না আমার-আপনার কারুর জানা নেই, অথবা সবার-ই আসলেই জানা।


    সূত্রঃ


    ১) নীতি আয়োগের প্রতিবেদন, স্কুল এডুকেশন সিস্টেম ইন ইন্ডিয়া – টেম্পোর‍্যাল অ্যানালিসিস অ্যান্ড পলিসি রোডম্যাপ ফর কোয়ালিটি এনহ্যান্সমেন্ট। https://niti.gov.in/sites/default/files/2026-05/School-Education-System-in-India.pdf


    ২) https://www.brut.media/in/articles/who-is-shubham-khairnar-the-man-behind-the-neet-ug-paper-leak


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • আলোচনা | ২১ জুলাই ২০২৬ | ১৬১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • :|: | ২১ জুলাই ২০২৬ ০৪:১৭741885
  • প্রথম লাইনে পৃথিবীর বদলে হয়ত ভারতবর্ষ লিখতে চেয়েছিলেন, তাই না?
  • অরিন | ২১ জুলাই ২০২৬ ০৪:৫১741887
  • খুব গুরুত্বপূর্ণ লেখা |
    দু একটা কথা যদি বলা যায়,
    - "সেখান থেকে ঝপ করে কমে মাধ্যমিকে ৭৮.৭, আর উচ্চমাধ্যমিকে মাত্র ৫৮.৪। অর্থাৎ, আমাদের এডুকেশন সিস্টেমে প্রতি দশজন শিশুর মধ্যে চারজন ক্লাস ইলেভেনে পৌঁছায় না।"
     
    GER বিচার করলে মনে হয় আসল অনুপাত আরো কম, কারণ GER এর numerator এ যে কোন বয়সের মানুষ ঐ ক্লাসে পড়তে পারে, শুধু denominator ধরতে হবে age-group এ কত সংখ্যক মানুষ আছেন তার হিসেবে। তার মানে ক্লাস টেনে বা ক্লাস ইলেভেন টুয়েলভে যদি ৪০-৫০ বা তার চেয়েও বয়স্ক মানুষ পড়তে যান, যেমন অনেক সময় মাধ্যমিক পরীক্ষায় বা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় দেখা যায়, তাহলে সেই সব মানুষকে numerator এ ধরতে হবে, কিন্তু denominator এ একটি নির্দিষ্ট "official age-group population" ধরার কথা। এবারে official age-group population যদি 2011 census অনুযায়ী ধরা হয়, তাহলে যে সংখ্যাটি দেখান হচ্ছে তার থেকে কিছু কমই ধরতে হবে মাধ্যমিক আর উচ্চ মাধ্যমিক হার। মূল রিপোর্টটি পড়িনি, এই বিষয়ে সেখানে কি কিছু মন্তব্য করা হয়েছে?
     
    - "ক্লাস টেন থেকে ইলেভেনে যাওয়ার হার ৫৭.৪%। প্রায় সার্বজনীন জি-ই-আর আর বেশ বেশি ড্রপ-আউটের অর্থ, রাজ্য প্রায় সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের মাধ্যমিক স্তর অব্দি পৌঁছতে সক্ষম, কিন্তু ১০ থেকে ১১-র রাস্তায় তাদের ~৪০% বাদ পড়ে যায়"
    এই যুক্তিতে একই কথা বলা যেতে পারে যে, ক্লাস টেন থেকে ইলেভেনে যাওয়ার হার যদি ৫৭% এর কাছাকাছি হয়, আর মাধ্যমিক এর হার যদি ৯৯% শতাংশ হয়, তাহলে একটা ব্যাখ্যা এও হতে পারে বহু বেশী বয়সী লোক মাধ্যমিক পরীক্ষা যে কোন কারণে দিতে আসছে, যারা তার পরে একাদশে পড়তে আর যাচ্ছে না। ফলে এই ৯৯% এর যে হার সেটা যে কেবলই official age group এর ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে মাপা হয়েছে তেমন নাও হতে পারে। যে কারণে মাধ্যমিক completion হয়ত inflated, যদিও ১০-১১ র transition percentage হয়ত অধিকতর বিশ্বাসযোগ্য | আবার, না পুরোাটা পড়ে লিখছি, ভুল হতেই পারে |
     
    তবে গল্পটা একই থেকে যায়, তৃণমূল স্তর থেকে উচ্চতম স্তরে পৌঁছতে পারে খুব কম শতাংশ ছাত্রছাত্রী, সেক্ষেত্রে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষা আরো শুধু সার্বজনীন নয়, তার সামগ্রিক গুরুত্ব আরো বাড়াতে হবে বৈকি। ভাল generalist শিক্ষার সাংঘাতিক গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন রয়েছে সারা দুনিয়াতেই, শুধু ভারত বলে নয়। বিশেষ করে আসন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারে যে ধরণের কাজকর্মের বিকাশ হতে চলেছে, তাতে এই ব্যাপারটি নিয়ে চিন্তাভাবনার অবকাশ রয়েছে।
     
    উচ্চশিক্ষা নিয়ে আপনার কথাগুলোর সঙ্গে মোটামুটি একমত কারণ আপনার যে অভিজ্ঞতা, ভারতে (কলকাতায় স্নাতক/স্নাতকোত্তর শিক্ষা) করার সুবাদে আমারও মোটামুটি একরকমের অভিজ্ঞতা, কিন্তু তবুও, সে সময় আর এই সময় এক নয়। ভারতের যেমন NEET মতন চীনেরও তেমন Gaokao, নীট দেয় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থী, Gaokao দেয় প্রায় দেড় কোটি পরীক্ষার্থী, দুটোই একই রকমের পরীক্ষা, একই রকমের উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্রভাব, কিন্তু কার্যক্ষেত্রে প্রচুর তফাত |
  • যদুবাবু | ২১ জুলাই ২০২৬ ০৫:৩৭741888
  • অরিনদা, আপনি যে সম্ভাবনাগুলোর কথা বলছেন সেগুলো যথেষ্ট plausible এ তো বলাই বাহুল্য, তবে যাচাই করতে গেলে যে গ্রানুলারিটির (disaggregated) ডেটা লাগবে, অথবা যতটা রিসার্চ তার অ্যাকসেস নেই / করা হয়নি। এইগুলো তো আসলেই অন্য ডেটার উপর বেস করে এগ্রিগেট রিপোর্ট। তার থেকে আবার বেছেবুছে নেওয়া, কাজেই আমার লেখাতেও কিছু বায়াস/ অমিশন থেকেই গেছে।
     
    এই নিয়ে অনেকে সিরিয়াস কাজ করেন। আমি তো সত্যি বলতে এক্সপার্ট নই, তবে রিপোর্ট পড়তে আর কী লাগে?
  • Somnath mukhopadhyay | ২১ জুলাই ২০২৬ ০৬:৪২741890
  • খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি আলোচনা। প্রতিবেদনের সূত্রে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার যে চিত্রটি উঠে এসেছে তা যে খুব স্বস্তিদায়ক অনুভূতি জাগায় না তা বলা বাহুল্য। গতকাল এক প্রতিবেদনে দেখলাম আমাদের দেশে প্রতিদিন ২২ টি করে সরকারি বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে,বলা ভালো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এমন খবর কেমন গা স‌ওয়া হয়ে গেছে। আমরা সবাই এটা মেনে নিয়েছি যে এটাই সরকারি স্কুলের অনিবার্য ভবিষ্যৎ। এমনিতেই রাষ্ট্রীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে ব‌্যয় নগণ্য তার ওপর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য - এই দুই মৌলিক নাগরিক পরিষেবার বেসরকারিকরণের জন্য সরকার সদা ব্যস্ত। আম নাগরিকদের কাছে এই বিষয়টি একটি বদ্ধমূল ধারণা তৈরি করেছে যে সরকার পরিষেবিত ব্যবস্থাপনা অকার্যকর।ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো চরম ঔদাসিন্যতার শিকার হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষা পিরামিডের উচ্চতর স্তরে ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার এই প্রবণতা যে মোটেই স্বাস্থ্যকর নয় তা বুঝিয়ে বলার অপেক্ষা রাখেনা। এই অসমতা এন ই পির গালভরা প্যাকেজে দূর হবার নয়। এ নিয়ে আরো গম্ভীর চিন্তা ভাবনার প্রয়োজন। আমাদের মতো অশক্ত কলমচিদের আলোচনায় যদি কিছু কাজ হয় তাহলে আমরা সেই কাজটুকু নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাবো।
    যদুবাবুকে ধন্যবাদ।
     
  • অরিন | ২১ জুলাই ২০২৬ ০৭:২৩741891
  • যদুবাবু, আপনি যেটা লিখেছেন সেটা তো বোঝাই যায়। যে কারণে fine grained data র কথাটা মনে আসছে, সরকার যদি প্রাথমিক মাধ্যমিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন, তাহলে একটি মার্কভ চেন মনটি কারলো জাতীয় প্রসেস অনুসরণ করার তাঁদের অবকাশ আছে যেখানে স্কুলের সিট অকুপ‍্যানসিকে মডেল করে কোথায় কতটা ফাণ্ড দেবেন, তার পলিসি তৈরী করুন। কারণ গলদ গোড়ায়। তার সঙ্গে সামগ্রিক শিক্ষা ব‍্যবস্থা নিয়ে বিস্তর ভাবনা চিন্তার অবকাশ রয়েছে, মানে কোথায় কি পড়ানো কতদূর হবে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে মতামত দিন