এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • বহ্নি মধুময় অথবা মধু বহ্নিময়ঃ (উপন্যাসিকা ঃ পর্ব ২) 

    রানা সরকার লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ১৭ জুলাই ২০২৬ | ৬৩ বার পঠিত
  • | |
    অনাদিবাবুর ঘরোয়া ক্লাব ঘর। এখানে কাউকে পরোয়া করা হয় না বা কেউ এখানে জড়োয়া গয়না পরে এসে ভেড়ৃয়া ময়না সেজে বসে থাকে না। এখানে যখন এসেছ তখন তুমি মুক্ত হও। মানে তোমার মনের কোণে যে শব্দগুচ্ছ জমেছে তা ক্লাবঘরের উষ্ণ আলাপচারিতায় গলিয়ে ফেল। জ্ঞান দাও; জ্ঞান নাও। কিন্তু বাপু ঘ্যানঘ্যান কোরো না।

    সেদিন সকাল থেকেই বৃষ্টি পড়ছিল। তবে জোরে নয়, ইলশেগুড়ি। আড্ডার টানে প্রায় সবাই এসে হাজির। আলোচনাও বেশ জমে উঠেছে। বিষয় ব্যবসা। অনেকে অনেক কথা বলল। যেমন, বাঙালীরা ব্যবসা বিমুখ। ব্যবসা করা ছেলের সাথে বিয়ে দিতে মেয়ের মায়েরা বত্রিশবার ভাবেন। অন্যজন বললেন যে ওটা আসলে অজুহাত। আসলে বাঙালীর উদ্যোম নেই। অনেকে হা হা করে উঠল। তাহলে দ্বারকানাথ, রবীন্দ্রনাথ, মতিলাল শীল প্রমুখেরা জন্ম নিতেন না। কতধরণের কতরকমের ব্যবসা আছে সেসব নিয়ে আলোচনা করলেন বারিণবাবু।

    সবশুনে অনাদিবাবু বললেন, “দেখ বাপু, সব থেকে ভালো ব্যবসা হল বিয়ের ব্যবসা।বেশ একটা শাঁসাল শ্বশুড় দেখে মেয়ে পাকড়াও, মানে পটিয়ে ফেল।ব্যাস, তারপর বিন্দাস দিন কাটাও”।

    বারিণবাবু হাসতে থাকলেন। বললেন, “তোমার মুখে আজকালকার ছেলে-ছোকরাদের ভাষা শুনতে বেশ লাগে। তবে ব্যাপারটা গোলমেলে হয়ে যাচ্ছে না তো? ব্যবসা, বিয়ে -গুলিয়ে যাচ্ছে না তো?”

    “বিন্দুমাত্র না। আগেকার রাজারাও বিয়ে করে করে রাজ্যবিস্তার করত। বিম্বিসারই তো করেছে”।

    “কিন্তু কোথায় রাজা আর কোথায় প্রজা..?”

    “এটা কিন্তু এখন প্রজাতান্ত্রিক দেশ। আর অনেক বিয়ে করারও দরকার নেই। বিম্বিসার রাজ্যবিস্তার করেছে, এরা না হয় একটা বিয়ে করে যৎকিঞ্চিৎ অর্থবিস্তার করবে”।

    কথাগুলো পলতেদা, মধু, মংকাদের লক্ষ্য করে। ওরা একটু চার্জড হয়ে উঠল।

    “কিন্তু এই সম্পর্ক কি মধুর হবে রায়মশা্ই ...?”

    “আরে হবে, হবে। মধু খাবেন আর হুল খাবেন না? তা হয়? তবে মনের চুনটি সাথে করে রাখতে হবে সবসময়। ফোটালেই প্রলেপ দিয়ে নেবেন”।

    “আপনি পারেনও বটে”।

    “হ্যাঁ!, শুনে নাও যুবাগন। প্রেম করতে হবে। ধরতে হবে পয়সাওয়ালা মেয়ে।তার জন্য হতে হবে উদ্যোগী ..”।

    “কারণ?”

    “কারণ ‘উদ্যোগীনঃ পুরুষসিংহ উপোত্যই পত্নী’”।

    সবাই হাসতে থাকল। যে গুমোট ভাবটা সবার মনে আকাশ বেয়ে জমে ছিল তা কেটে গেল অনেকটা। পুরোহিত মশাই কোণের দিক করে বসে ছিলেন। অনাদিবাবু তার মুখের জ্যামিতিটা পড়ে নিয়ে বললেন, “কী পুরোহিত মশাই, কথাটা মনে হচ্ছে মনঃপুত হয় নি আপনার ?”

    নিজের দিকে সবার দৃষ্টি অনুভব করে একটু নড়েচড়ে বসলেন পুরোহিত মশাই। বেশ একটা কেউকেটা ভাব করে বললেন, “হু, বন্দোবস্তোটা মন্দ নয়; মন্দ নয়। তবে অনেক কিছু দেখে নিতে হবে। যে সে মেয়ে বিয়ে করে শেষে ফাঁসবে নাকী ..”

    “সেটা কীরকম?”, বারিণবাবু জানতে চাইলেন।

    “প্রথমেই দেখে নিতে হবে মেয়ে মাঙ্গলিক কী না ...”।

    “কী লিক?”

    “মেয়ের মঙ্গল লিক করেছে কীনা দেখে নিতে বলছেন”, পলতেদা সবাইকে বুঝিয়ে দিলো।

    সবাই আবার ফেটে পড়ল হাসিতে।

    “এইজন্যই আমি কিছু বলি না। যতসব পশ্চাৎপাকার দল। ... যান, আমি আর বলবই না”।

    পুরোহিতমশাই গোঁসা করে মুখ গুঁজে রইলেন। সবাই যে যার মতো তাকে বোঝতে লাগল। শেষে অনাদিবাবু পলতেদাকে ইশারা করলেন। মুখ চেপে হেসে পলতেদা ক্ষমা চাইল। এই ব্রম্হাস্ত্রতে কাজ দিল। পুরোহিত মশাই পলতেদাকে ভগবানের ভঙ্গিতে বরাভয় দিয়ে বললেন, “ও আমি কিচ্ছু মনে করিনি। হ্যাঁ, সোনার চাঁদ ছেলেরা সব। ও একটু আধটু হয় ....”।

    “হ্যাঁ, কী যেন বলছিলেন?”, অনাদিবাবু খেইটা ধরতে চাইলেন।

    “মঙ্গল”, মংকা ধরিয়ে দিল।

    “হ্যাঁ, দেখে নিতে হবে মেয়ে মাঙ্গলিক কী না বা ভৌমদোষ আছে কীনা। পাত্র-পাত্রীর জন্মছক মেলাতে হবে। ওপাড়ার সমীরণ, বলি আমার কথা না শুনে করলি তো বিয়ে, করলি তো? তারপর সাতমাসের মাথায় কী হল, কী হল? .... গেলি তো ...”

    পুরোহিত মশাই যেন নস্ট্রাডামুস আর আমরা সব পাপীতাপী। যেন দিব্যচক্ষে যা দেখছেন বা বলা ভালো অবলোকন করছেন তাই কমেন্ট্রির মাধ্যমে আমাদেরকে বলছেন। বলছেন আমাদের মঙ্গলের জন্য, আমাদের পাপস্খালনের জন্য।

    পুরোহিত মশাই বলে চললেন, “আমি হলফ করে বলতে পারি, সমীরন যাকে বিয়ে করেছিল তার জন্মকুন্ডলীতে চতুর্থ, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, দশম অথবা দ্বাদশের কোথাও না কোথাও মঙ্গল আছে”।

    পকাই প্রতিবাদ করে উঠল, “না, পুরোহিত মশাই আপনার কথা মানতে পারলাম না। সমীরণদা খুব মদ খেত, তাই সিরোসিস হয়েছিল....”

    খুব করে পকাইকে লক্ষ্য করে হেসে নিলেন। বললেন, “আরে! ওকে মদ কে ধরিয়েছিল ?”

    “সবাই জানে। সারদাপল্লীর নাড়ুমাতাল!”।

    “না। নাড়ু না। ওকে মদ ধরিয়েছিল মঙ্গল ...”

    “কে মঙ্গল?”

    “কে মঙ্গল...”, পুরোহিত মশাই খানিকটা ভেঙালেন। বললেন, “মঙ্গলগ্রহ”।

    আমরা সবাই ফ্যাকফ্যাক করে হাসতে লাগলাম।পলতেদা আর থাকতে না পেরে বলল, “আপনার মঙ্গল কোথায় আছে ? নুনশোতে আবার লাইন দেয়নি তো ?”

    “এই ভালো হবে না বলে দিচ্ছি। যত্ত সব ....। তারপর গণ দেখতে হবে...”

    “সে আবার কী?”, মধু জানতে চাইল।

    “সেকী! তুমি গণ জানো না? নরগন, দেবগন আর রাক্ষসগন ...”

    এবার অনাদিবাবু বাকযুদ্ধে অবতির্ন হলেন। বললেন, “ঠাকুরমশাই, তাহলে হেক্সাগন, পেন্টাগন, ডেকাগন ...., এদের কী হবে?”

    “কিন্তু এদের সম্বন্ধে তো আগে কিছু শুনিনি!”। খানিকটা ধন্দে পড়ে গিয়ে বললেন, “আরো গণ আছে নাকী?”

    “আছে বৈকী। তবে সবচেয়ে ভয়ানক গন হল ...”

    মুখের কথা কেড়ে ঠাকুরমশাই এর জবাব, “রাক্ষস!”।

    “না”।

    “তবে?”

    “জনগন”।

    সবাই তুমুল হাসতে লাগল। কেউ কেউ হাসি চাপতে না পেরে টেবিলে, মেঝেতে, এর ওর গায়ে চাপড় মারল। ঠাকুরমশাই অপ্রস্তুত হযে পড়লেন।

    “বড্ড বাজে কথা হচ্ছে”। জয়ন্তদার জলদগম্ভীর গলায় তর্কের প্রস্তুতি। জয়ন্তদা একটা কলেজে পার্টটাইম করেন; বিষয় পলিটিক্যাল ইকনমিক্স। এই কিছু দিন আগে ঐতিহাসিক ভুল টুল ইত্যাদি নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছিল অনাদিবাবুর সঙ্গে। মার্কক্সিস্ট তাত্ত্বিক হিসেবে সমধিক পরিচিত। শোনা যায় জয়ন্তদা প্রেমে হাফসোল খেয়েছেন। অনেকক্ষন ধরে কী একটা যেন পড়ছিলেন। আমরা সকলে সাবধান হয়ে বসলাম। মনটাকে বললাম, খবরদার।

    জয়ন্তদা বলে চললেন, “আসল কথাটা কেউ বলছে না। যদি মার্ক্সীয় দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে দেখো, তবে দেখবে মেয়ে হ’ল চারপ্রকার .....”।

    ঠাকুরমশাই ব্যাপারটা নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্ল শুরু করলেন। বললেন, “অ্যাহ! কী চারপাতা ইংজিরি শিখেছ, আর বিদ্যে জাহির করছ? বলি পাঁজিটা পড়ে দেখেছ একবার? সেখানে জ্বলজ্বল করে লেখা আছে মেয়ে হল পাঁচপ্রকার। শঙ্খিনী, পদ্মিনী, হস্তীণী ...”।

    “দেখুন ঠাকুরমশাই এটা একটা ইন্টেলেকচুয়াল কথা হচ্ছে। আপনি আপনার নন-ইন্টেলেকচুয়াল পাঁজিপত্তর এর বাইরে রাখলেই ভালো হয়”।

    ঠাকুরমশাই মানে না বুঝে আবার কথা বলতে উদ্যত হয়েছিলেন। অনাদিবাবু ব্যাপারটা সামলালেন। ঠাকুরমশাইকে বললেন “আপনার বলার সময় জয়ন্ত কিন্তু কিছু বলেনি। সুতরাং কী বলছে আগে শুনুন, ওকে বলতে দিন। বলো, জয়ন্ত”

    “হ্যাঁ, যা বলছিলাম”, নিজেকে গুছিয়ে নিলেন জয়ন্তদা।, “যদি মার্ক্সীয় দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে দেখ তবে দেখবে মেয়ে হ’ল চারপ্রকার”।

    “কী রকম?”

    “আদিম সাম্যবাদী মেয়ে, সামন্ততান্ত্রিক মেয়ে, বুজোর্য়া মেয়ে আর প্রলেতারিয়েত মেয়ে। আদিম সাম্যবাদী মেয়ে পাওয়া এখন খুব মুশকিল। এরা অল্পবয়সেই বিয়ে করে নেয়, বেশী পাওয়া যায় না। স্বভাবে এরা খুব ঠান্ডা হয়। খুব যত্নআত্তি করে টরে”।


    “মানে নাবালিকা অবস্থাতেই ....?। আর সামন্ততান্ত্রিক?”, বারিণবাবু জানতে চাইলেন।

    “না। সদ্য সাবালিকা হলেই..., আর সামন্ততান্ত্রিকরা আবার মারধোর করলেও ঠিক সময়ে খেতে টেতে দেয়। মুড ভালো থাকলে আদরযত্নও করে”।

    “মারধোর!”, ভয়ে সিঁটিয়ে গেল মংকা।

    “হ্যাঁ। টাকা রোজগার করে না আনলে ঠ্যাঙাবে না? আর বুর্জোয়া মেয়েরা হল আবার বাজারকেন্দ্রিক। প্রতিমাসে এ্যায়সান শপিং করবে, এ্যায়সান শপিং করবে, যে দেখবে পকেট ফেল করে গেছে। তারপর ফি হপ্তায় এখানে খেতে যাওয়া, ওখানে আউটিং-এ যাওয়া...”।

    মধুরা সবাই নিজেদের পকেট হাতড়াল।

    “আর প্রলেতারিয়েত?” ফচকা আশাহত ভাবে জানতে চাইল।

    “এরা মুখরা হয়। হ্যাঁ, মুখে মুখে প্রচন্ড ঝগড়া করে। ঠ্যাঙাতেও ওস্তাদ। বড় বড় কথা বলে বাপের বাড়ি সম্বন্ধে। কিন্তু আসলে লবডঙ্কা.....। নিজেরা সব সময় কর্তৃত্ব করে। তবে মনটা ভালো হয়...। একেবারে জলের মতো”।

    “তাহলে কাকে বিয়ে করব?”, পলতেদার সারেন্ডার ভঙ্গি।

    “হুঁ, বলা খুব কঠিন”।

    অনাদিবাবু আমাদের আশ্বস্ত করলেন, “একটা সাম্যবাদী পয়সাওয়ালা বিধবা বা ডিভোর্সী মেয়ে পেলে তোমাদের ভালো হয়। তোমাদের তো চিনি। যা এক একটা ভীতু আর লোভী ছেলে সব তোমরা ...”।

    মধুময়ের এতো কিছু মাথায় ঢুকছিল না। একটা বিয়ে করবে তার জন্য এতো কিছু! কই, তাদের গুরুজনেররাও তো বিয়ে করেছেন। এতো ঝামেলা তো ছিল না। মা-বাবা পছন্দ করেছে আর ছেলে-মেয়ে তাদের কথা মতো বাধ্য হয়ে বিয়ে করেছে। বিয়ের পর হয়েছে প্রেম। তারপর সন্তানাদি নিয়ে হইহই করে করেছে সংসার। এখন না হয় ব্যাপারটা একটু পাল্টাতে পারে। যেমন আগে বাবা-মা পছন্দ করেছেন, এখন না হয় ছেলে-মেয়েরা নিজেদের পছন্দ করবে আর বাবা-মা দাঁড়িয়ে থেকে বিয়ে দেবে। তা বলে এতো সব!

    এর মধ্যে বরুনদা আবার আরও নতুন কথা শোনালেন। বরুনদা মানে বরুণ চট্টোপাধ্যায়। এশিয়াটিক সোসাইটিতে রিসার্চ করেন। সঙ্গে ফিল্ম স্টাডিজ। বহু সিনেমা দেখেছেন। ঐ যাকে বলে পুরোদস্তুর ‘ফিল্ম-বাফ’। তিনিও বললেন যে মেয়ে চাররকমের হয়, তবে জয়ন্তদা যা বলল ঠিক সেই রকম নয়, ওর কনসেপ্টটা নাকী পুরোনো; জং ধরে গেছে। নতুন কনসেপ্টে চারপ্রকার মেয়ে হল - পোস্টমর্ডান, পোস্টকলোনীয়াল, পোস্টস্ট্রাকচারাল আর পোস্টমার্ক্সীয়ান!।

    মধুময় ভাবতে বসল, এরা আবার কী রকম হবে কে জানে? বিয়ের পর সবকিছু ‘পোস্ট’ না করে দেয়! এদের বলা হয় নি, অনেকদিন ধরে পাড়ার ঐ বহ্নিকে তার বেশ পছন্দ। গ্রীবাটি একদম হংসের মতো। চাঁদের মতো মুখ। কলেজ যাবার পথে মধুকে দেখেছে কয়েকবার, হেসেছেও বোধহয়। কিন্তু মধু ভেবে পাচ্ছে না ঠিক কীভাবে ওর সাথে ভাব জমাবে। যা একটা জাঁদরেল বাবা। তার ওপর আছে একটা বিটকেল কাজের লোক।

    (চলবে)
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    | |
  • ধারাবাহিক | ১৭ জুলাই ২০২৬ | ৬৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে মতামত দিন