এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  দর্শন

  • রটন্তী কুমার এবং ভারতীয় ও পাশ্চাত্য দর্শনে প্রমাণঃ পর্ব ৫ 

    রানা সরকার লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | দর্শন | ০৩ জুন ২০২৬ | ১২৮ বার পঠিত
  • | | | |
    প্রথমেই দুটি বাক্য লিখছি –

    ‘পড়লে কথা সবার মাঝে / যার কথা তার বুকে বাজে’।
    এই ধরুন যারা যারাই নানা দেশে বহুদিন ধরে সাহিত্য রচনা করেছেন, তাঁরা তারাই সেই সাহিত্যের উপাদান সংগ্রহ করেছেন জীবন থেকে। সাহিত্য জীবনেরই প্রতিফলন। কিন্তু সাহিত্য জীবনের ১০০% প্রতিফলন নয়।

    ইদানীং নানান এলাকায় একটা অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই ব্যাপারটা আগে ছিল না। নেটে লেখা বা অডিও স্টোরি শুরু হতেই কিন্তু ব্যাপারটা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

    কারণ মানুষ টাকা দিয়ে সাহিত্যের বই কেনেন না। তাঁরা মনে করেন সাহিত্যের বই হল আবর্জনা। এমনিতেই বেশিরভাগ বাড়িতে কোনোরকমে পড়াশোনা শেষ করে সেই বইগুলো বেচে দিতে পারলে অনেকেই বেঁচে যান। আর বাড়ির জায়গায় তো আজকাল ফ্ল্যাট। স্থান সংকুলান হয় না। ফলে কারুর বই রাখবার ইচ্ছে থাকলেও তিনি বা তাঁরা রাখতে পারেন না।

    একসময় মানুষ এর বই তার বই নিয়ে, নোটস নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। বাড়িতে বাড়িতে স্কুলের বাংলা ও ইংরেজি গ্রামার, অভিধান ইত্যাদি মানুষ রেখে দিতেন। আজ নেট, কম্পিউটার তদুপরি এ.আই. এসে সেসব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

    সারাজীবনের নামে সামান্য ৫০টাকা দিয়ে স্থানীয় গ্রন্থাগারেও মানুষ যান না। কেন? না, সময় নষ্ট! হায় রে! সেই মানুষদের যখন দেখি বাড়িতে বসে গোগ্রাসে হাড় হাভাতের মতো রদ্দি সিরিয়াল গিলতে বা ইন্সটা বা ফেবুতে রীল গিলতে তখন মনে হয় যে নেতাদের আর দোষ কী?

    ওপরে যে ব্যাপারটার কথা বললাম, সেটা কী?

    নেটে, ফেসবুকে বা অডিও স্টোরি হিসেবে কোনও গল্প বা উপন্যাস রিলিজ হলে সেইসব বই না পড়া মানুষজন কিন্তু আবার সেসব পড়ে বা শুনে নেন। কারণ সময় অঢেল আর বাড়তি টাকা লাগছে না। বাড়ি বয়ে বই আনতে হচ্ছে না বা বই পড়তেই হচ্ছে না; খালি শুনতে হচ্ছে।

    এখন, বেশিরভাগ উপন্যাস বা গল্পে চরিত্র থাকে। চরিত্রহীন উপন্যাস আছে, তবে সেসব আবার সাধারণ মানুষ বোঝেন না। সাধারণ মানুষ এমনকি প্রতীকী বা সংকেতমূলক উপন্যাসও বোঝেন না। কারণ তাঁরা অতো মাথা খাটাতে চান না। খাটাতেই চান না।

    এখন ধরুন, সুকান্তদা, আমাদের এখানকার স্বনামধন্য লেখক শ্রী সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় উপন্যাস লিখবেন। তা, তিনি কি উপন্যাসে কোনও চরিত্র বা সেই চরিত্রের কোনও নাম দেবেন না? নিশ্চয়ই দেবেন।

    এখন, পরে সেই উপন্যাসের অডিও স্টোরি শুনে সুকান্তদা যে এলাকায় বসবাস করেন সেখানকার লোক যদি দুম করে মনে করেন বা করতে থাকেন যে ওমা! দেখো সুকান্তদা আমাদের নিয়ে লিখছেন? বা তাদের মতো কাউকে নিয়ে লিখছেন?

    দেখা গেল, এলাকায় কেউ হয়তো রটিয়ে দিল। বলল, শুনেছেন? সুকান্তদা তো অমুকের তমুককে নিয়ে লিখেছে। এহ! ঠিক করে নি!

    এই কথা যারা রটিয়েছেন তারা তো হারামী বটেই, আর যারা যারা অডিও শুনে শুধু কিছু চরিত্রের নাম তাদের নামের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে বলে এটা ভেবে ফেলছেন যে লেখক তাদের কথাই লিখছেন, তাঁরা হলেন খাঁটি উপহাসাস্পদ। এমনকী লেজ বিশিষ্ট প্রাণীদের বুদ্ধি তাঁদের থেকে বেশি। যদিও মানুষেরও লেজ আছে; তবে সেটা অপ্রকাশ্য!!!

    ওদিকে সারাটা ভারতবর্ষ জুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেলে, খেলার মাঠে ফ্ল্যাট হয়ে গেলে, জলাশয় ভরাট করা হলে, জঙ্গল পাহাড় সাফ হয়ে গেলে, ওষুধের দাম বেড়ে গেলে, নেতা ক্ষনে ক্ষনে মিথ্যা কথা বললেও কিন্তু দেশের বহু মানুষ চুপ করে থাকেন। আর দূর্নীতি তো হরদম চলছেই।

    বিরোধী থাকাকালীন রাজনৈতিক দল গুলোর এক রকম কথা আর শাসক হলেই আরেকরকম।

    এখন, তাহলে কি উপন্যাস বা গল্প লেখবার আগে সুকান্তদাকে ভোটার লিস্ট চেক করে জেনে নিতে হবে, কোন কোন নামের কোন কোন লোক এলাকায় বসবাস করছেন, আর কোন কোনও নামের লোক এলাকায় বসবাস করছেন না! তারপর তাকে জানতে হবে যে কোন কোন নামের লোক এলাকা ছেড়ে চলে গেলেন, মারা গেলেন আর কোন কোন নামের লোক এলাকায় আসতে পারেন।

    তারপর এইসব হিসেব নিকেস করে যখন লিখতে বসলেন, তখন আবার কিছু লোক এলাকায় বসবাস করতে এলেন। সুকান্তদা লেখা ফেলে তাঁদের নাম জানতে দৌড়ে গেলেন।

    আর এইভাবে, হ্যাঁ, আর লেখাই হল না।

    দারুণ! গল্প না?

    (গল্পটা আমার লেখা আছে। পরে প্রকাশ করবো)

    অনেক লেখক আছেন যারা ‘গল্পে গরুকে গাছে তুলে দেন’। এই যেমন, সমরেন্দ্রনাথ পাণ্ডে ওরফে স্বপন কুমার লিখিত দীপক চ্যাটার্জী পড়লে এরকম মনে হয়।

    আবার এলাকায় এলাকায় অনেক ততোধিক নির্বোধ পাঠক বা শ্রোতা আছেন যারা যারা কোনও উপন্যাসের কয়েকটা নামের সঙ্গে তাঁদের নাম মিলে গেলে বা তাঁদের চেহারার বর্ণনার সঙ্গে তাঁদের চেহারার বর্ণনা মিলে গেলেই ভাবতে থাকেন যে লেখক মনে হয় তাঁদের নিয়েই লিখচ্ছেন। ফলে তাঁদের কাজের মাধ্যমে তাঁরা গরুকে গাছে না তুলে, গাছকে গরুর ওপর তুলে দেন! এলাকায় এলাকায় কত রকমের যে ইয়ে আছে সেটা না অনুভব করলে বোঝাই যায় না।

    আর যারা যারা তার পরেও মনে করবেন যে সুকান্তদা তাঁদের নিয়েই লিখেছেন, তাঁদের জন্য বলতে হয়, ‘পড়লে কথা সবার মাঝে / যার কথা তার বুকে বাজে’।

    সুকান্তদা যদি এই লেখাটা পড়ে থাকো বা পড়ো, তোমার নাম ব্যবহার করার জন্য তোমার কাছ থেকেই আগাম জামিন নিয়ে রাখছি (হা হা হা)। কারণ আমরা জানি যে ‘মাঝেরপাড়া’ জায়গাটা কোথায়? আর একজন লেখক কোন সমস্যায় পড়লে তিনি এইসব নাম ব্যবহার করতে বাধ্য হন।

    এই প্রসঙ্গে, শ্রী সুবোধ ঘোষের একটা গল্পের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।


    যাই হোক, আমরা অনেক সময় বলি, নিরপেক্ষ মতামত দিন। আবার অনেকেই বলেন যে রাজনীতিতে নিরপেক্ষ থাকাই যায় না।

    যেমন ডেসমন্ড টুটু একবার বলেছিলেন – হাতির পা ইঁদুরের লেজে থাকলে আর আপনি নিরপেক্ষ থাকলে, ইঁদুর কিন্তু আপনার শংসা করবে না।

    অথবা মার্টিং লুথার কিং বলেছেন – নরকের সবচেয়ে উচ্চতম স্থান তাঁদের জন্য সংরক্ষিত, যারা নৈতিক দ্বন্দ্বের সময়ে নিরপেক্ষ থাকেন।

    আবার কেউ মজা করে বলেন – দুজন ঝগড়া করলে, যে নিরপেক্ষ থাকে, সে সাধারণত পপকর্ণ খায়!

    গত কোনও একটি পর্বে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, দলবদলুদের অন্তত ১০ বছরের জন্য নতুন কোনও রাজনৈতিক দলে প্রার্থী করা থেকে বিরত রাখা আর বিধায়ক ও সাংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থানাধিকারিদেরও শেষ দেড় বছর যথাক্রমে বিধায়ক ও সাংসদ রূপে কাজ করবার আইনি অধিকারের কথা বলেছিলাম।

    আজ আর একটা গল্প বলছি। এই গল্পটাও আপনারা পড়েছেন। কিন্তু ভুলে গেছেন।

    একজন জাদুক্ষমতা সম্পন্ন মানুষের কাছে একদিন একটি ইঁদুর গিয়ে বলল যে তাকে কিছু কুকুর খুব ডিস্টার্ব করছে; তাড়া করছে। সে ইঁদুর হয়ে অনেক কিছু কাজও করতে পারছে না। তাই তাকে কুকুর করে দেওয়া হোক। জাদুকর হেসে বললেন, তথাস্তু।

    এর কয়েক মাস পর সেই ইঁদুর থেকে কুকুর হওয়া সেই কুকুরটা আবার সেই জাদুকরের কাছে এসে হাজির হল। এবার বলল, তাকে এখন শেয়ালেরা খুব ডিস্টার্ব করছে; তাড়া করছে। সে কুকুর হয়ে অনেক কিছু কাজও করতে পারছে না। তাই তাকে শেয়াল করে দেওয়া হোক। জাদুকর হেসে বললেন, তথাস্তু।

    এর কয়েক মাস পর সেই কুকুর থেকে শেয়াল হওয়া শেয়ালটা আবার সেই জাদুকরের কাছে এসে হাজির হল। এবার বলল, তাকে এখন বাঘেরা খুব ডিস্টার্ব করছে; তাড়া করছে। সে শেয়াল হয়ে অনেক কিছু কাজও করতে পারছে না। তাই তাকে বাঘ করে দেওয়া হোক। জাদুকর হেসে বললেন, তথাস্তু।

    এবার সেই বাঘ প্রথমেই জাদুরকরকে খেতে এলে জাদুকর তার জাদুর সাহায্যে তাকে আবার ইঁদুরে রূপান্তরিত করে দিল।

    আমরা, জনগণ আমাদের ভোটের মাধ্যমে প্রার্থীদেরকে চলতি আইন মোতাবেক নির্বাচিত করে নানান ক্ষমতা প্রদান করি। কিন্তু যদি দেখা যায় তাঁদের মধ্যে নির্বাচিত অনেক নেতা (সবাই নন) জনগণের ভালো করার বদলে, খারাপ করতে থাকেন, তখন যেন জনগণের হাতে সেই সেই ক্ষমতা থাকে (ঐ ৫ বছর পরে নয়; তার আগেই), যাতে সেই নির্বাচিত নেতাকে তৎক্ষণাৎ পুনরায় ক্ষমতাহীন করে ফেলা যায়।

    সেটিই হবে কিন্তু আসল গণতন্ত্র।

    জনগণের ভোটে জিতে কোনও নেতা বা দল যদি তৎক্ষণাৎ জনবিরোধি কাজ করেন তাহলে দেশের সংবিধান ও আইন মোতাবেক যেন সেই নেতা বা সেই দলকে যেন সেই সেই জনবিরোধি কাজ তৎক্ষণাৎ রদ করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং সবার সঙ্গে কথা বলে সকল বা বেশিরভাগ মানুষের সহমতের ভিত্তিকে অন্য কোনও যুক্তিযুক্ত উপায় অবলম্বন করা হয়, যাতে সবাই বাঁচে।

    নয়তো সেই নেতাকে যেন জনগণের বহিষ্কার করার অধিকার সংবিধান দেয়। কারণ জনগণের কল্যানই হল শেষ কথা। জনগণের অকল্যাণ করার জন্য নিশ্চয়ই জনগণ কাউকে নির্বাচিত করেন না।

    ফিরে আসি দর্শনে।
    এখন, পাশ্চাত্য যুক্তিতে নিরপেক্ষ বা শর্তহীন বচন কেমন?

    যখন কোনও উক্তি কোনও শর্তের উপর নির্ভর করে না, তখন সেই বচনকে নিরপেক্ষ বা শর্তহীন বচন বলে।

    এইসব বচনের ৪টি অংশ।
    পরিমানক – উদ্দেশ্য – সংযোজক – বিধেয়।
    সকল – মানুষ – হয় – মরণশীল জীব।

    এখন এই উদ্দেশ্য আর বিধেয়ের স্বরূপ কী?

    এক্ষেত্রে আবার ৪টি মতবাদ আছে-
    ১) ব্যক্তর্থ ভিত্তিক বা শ্রেণিভিত্তিক মতবাদ। - উদ্দেশ্য ও বিধেয় দুটিকেই গ্রহণ করতে হবে ব্যক্তর্থ-এর দিক দিয়ে। উদাঃ কোনও কোনও ফুল হয় লাল। রাসেল একজন বড় দার্শনিক ছিলেন।
    ২) ব্যক্তর্থ-ভাবার্থভিত্তিক মতবাদ। - একটি বচনের উদ্দেশ্য কোনও ব্যাক্তি বা বস্তুকে বোঝায় আর বিধেয় বলতে বোঝায় তাঁর গুণ বা ধর্মকে। উদাঃ সমস্ত তরলের গতি হয় নিম্নগামী।
    ৩) ভাবার্থভিত্তিক মতবাদ - উদ্দেশ্য ও বিধেয় দুটিকেই গ্রহণ করতে হবে ভাবার্থ-এর দিক দিয়ে। উদাঃ- ক্ষমা হল পরম ধর্ম।
    ৪) সমন্বয় ভিত্তিক বা ব্যপক মতবাদ। - এক্ষেত্রে উদ্দেশ্য ও বিধেয়কে ব্যক্তর্থ ও ভাবার্থ – দুদিক দিয়েই গ্রহণ করা যেতে পারে। উদাঃ- বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানী আমাদের সকলকে নতুন দৃষ্টি প্রদান করে।

    এই নিরপেক্ষ বচন আবার দুই প্রকার। সদর্থক ও নঞর্থক।

    নিরপেক্ষ বচনের চতুর্বর্গের পরিকল্পনা –

    অ্যারিষ্টটল সমস্ত বচনকে সাপেক্ষ ও নিরপেক্ষ এই দুইর শ্রেনীতে ভাগ করেছেন। আবার গুণ অনুসারে সদর্থক ও নঞর্থক। আর পরিমাণ অনুসারে সার্বিক ও বিশেষ।

    সামান্য সদর্থক – সকল মানুষ হয় মরণশীল। (A)
    সামান্য নঞর্থক – কোনও মানুষ নয় অমর। (E)
    বিশেষ সদর্থক – কোনও কোনও লোক হন জ্ঞানী। (I)
    বিশেষ নঞর্থক – কোনও কোনও লোক নয় শিক্ষিত। (O)

    ল্যাটিনে Affirmo এবং Nego - এই শব্দ দুটি থেকে যথাক্রমে A,I ও E,O নেওয়া হয়েছে।

    এখন এই ৪টি বচনের উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের ব্যাপ্যতার জন্য একটি ফর্মুলা আছে। - AsEbInOp (s- সাবজেক্ট ব্যাপ্য। b- দুটোই ব্যাপ্য। n – কোনটাই ব্যাপ্য নয়। আর p- বিধেয় ব্যাপ্য)
    AsEbInOp মানে?
    As Ebony Opposes Indigo.

    অনুমান নিয়ে আমি আগেই লিখেছি; তবে সেটা ভারতীয় দর্শনের কথা।

    এখানে পাশ্চাত্য দর্শনের অনুমান ব্যাপারটা সংক্ষেপে অনুধাবন করার চেষ্টা করবো।

    দামী জামা জুতো পরে কেউ সামনে এলেন। আমরা অনুমান করলাম যে উনি দারুণ কেতাদুরস্ত। সঙ্গে ভাবলাম বুঝি এলেমও আছে। কিন্তু কথা বলতেই বুঝলাম ভুটভাট! একেবারে অশিক্ষিত!!

    আবার, কোনও বিশেষ রাজনীতির লোকের সঙ্গে কেউ তার বাড়িতে গিয়ে কথা বললেই আমরা ধরে নিই, ও তার মানে…। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার বা ডাক্তারের সঙ্গে কথা বললে কি ধরে নিই যে আমরা ইঞ্জিনিয়ার বা ডাক্তার হয়ে গেছি? না।

    তাহলে উপরের অনুমান গুলো হল আসলে গেরিমান! গেরিলা আর হনুমান মিলিয়ে গেরিমান! (কৃতিত্ব – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়)

    কোনও জানা বিষয় থেকে সাধারণত অজানা বিষয়ে পৌঁছানোর মানসিক প্রক্রিয়ার নাম হন অনুমান।

    এই অনুমান আবার দু’ভাগে ভাগ করা হয়। আরোহ আর অবরোহ।
    অবরোহে সিদ্ধান্ত কখনো হেতুবাক্যকে অতিক্রম করে না। অর্থাৎ বেশি ব্যাপক হয় না।

    আর আরোহে কিন্তু সিদ্ধান্ত সর্বদাই হেতুবাক্যের থেকে বেশি ব্যাপক হয়।

    দুটি অনুমান পদ্ধতিই কিন্তু আমরা প্রত্যহ ব্যবহার করি।

    এখন অবরোহ অনুমানকে আবার দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। অমাধ্যম ও মাধ্যম।

    অমাধ্যম অবরোহ অনুমান – সকল মানুষ হয় প্রাণী। অতএব, কোনও কোনও প্রাণী হয় মানুষ।

    মাধ্যম অবরোহ অনুমান – সকল দার্শনিক হন পণ্ডিত ব্যাক্তি। লক হন একজন দার্শনিক। অতএব, লক হন একজন পণ্ডিত ব্যাক্তি।

    এই মাধ্যম অবরোহ অনুমানে বহু সংখ্যক হেতুবাক্য ব্যবহার করা যায়। আর তাকে বলে ন্যায় শৃঙ্খল (Train of Syllogism)

    যদি ক হয় খ, খ হয় গ, গ হয় ঘ, আর ঘ হয় ঙ, তবে, ক হয় ঙ।

    অনেক দার্শনিক কিন্তু আবার অমাধ্যম অনুমানকে প্রকৃত অনুমান হবেন না। মিল এবং বেইন এই মতের প্রবক্তা। কারণ এখানে কোনও নতুন বক্তব্য বা তথ্য পরিবেশিত হয় না। যেমন – সব গোলাপ হয় সুগন্ধী। অতএব, কোনও কোনও সুগন্ধী বস্তু হয় গোলাপ।

    এই অমাধ্যম অনুমানকে আবার সূত্রের সাহায্যে একধরণের থেকে অন্য ধরণ করে ফেলা যায়।

    ১) আবর্তন

    ২) ব্যাবর্তন

    ৩) সমবিবর্তন

    ৪) অন্তরাবর্তন

    (চলবে)
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    | | | |
  • আলোচনা | ০৩ জুন ২০২৬ | ১২৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে মতামত দিন