এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ভ্রমণ  পথ ও রেখা

  • হিমাচলের ইতি উতি - ১০

    লেখকের গ্রাহক হোন
    ভ্রমণ | পথ ও রেখা | ১৪ জুলাই ২০২৬ | ৪৯ বার পঠিত

  • ছবির মত গ্রাম গ্রাহাণ

    ১২ তারিখ সকালে ঘুম ভাঙতে বেশ দেরী হল। আগেরদিনের অত হাঁটাহাঁটি সিঁড়ি ওঠানামায় এমন ক্লান্ত ছিলাম যে চোখ খুলতে খুলতে বেলা প্রায় সাড়ে নটা। তৈরী হয়ে বেরোতে সাড়ে দশটা। বাইরে একেবারে নীল চকচকে কাচের মত আকাশ। প্রথমেই হাজির হই The Evergreen Cafe. স্প্যানিশ অমলেট, বাটার টোস্ট আর কফি দিয়ে ভাল করে পেটপুজো সেরে একে ওকে জিজ্ঞাসা করে অল্প কিছুটা এগোতেই পুরোন ব্রিজ আর তার পাশ থেকেই ছাড়ছে গ্রাহাণ যাবার বোলেরো ক্যাম্পার।

    https://youtube.com/shorts/RyKGP0NbQSM?si=sZZvjWzg-oj6jWWG
    ব্রিজ পেরিয়ে নদীর পাশ দিয়ে চলে গেছে গ্রাহাণের পথ

    গ্রাহাণ ৭৭০০ ফিট উচ্চতায় একটা ছবির মত গ্রাম যেখানে এটিএম নেই, মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই, টিভি নেই, ইলেকট্রিসিটি খুব লিমিটেড, মদ্যপান, মদ্যপ্রস্তুতি, মদ্য প্রক্রিয়াকরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তবে গোটা পার্বতী উপত্যকা যে কারণে বিখ্যাত বা কুখ্যাত সেই মালানা ক্রিম এখানে দিব্বি পাওয়া যায়, তার চাষবাসও ভালই হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও জনসমাগমের বাইরে একটেরে এই গ্রামের খবর আমায় দিয়েছিলেন ভ্রামণিক সুদীপ চ্যাটার্জি। চালাল দেখে তেমন খুশী হই নি একথা জানানোয় সুদীপ বলেছিলেন আরেকটু ওপরে গ্রহণ চলে গেলেই ভাল লাগত।

    গ্রহণ বা গ্রাহাণ নিয়ে তখুনি খোঁজ খবর করে ওই ওপরের তথ্যগুলো দেখে মনে হল এখানে তো যেতেই হবে। চারদিন থাকছি কাসোলে একটা দিন আমায় গ্রাহাণে যেতেই হবে। আজ ১২ই নভেম্বর সেই দিন। দ্য এভারগ্রিন থেকে বেরিয়ে ওই রাস্তায় সোজা কিছুটা হাঁটলেই একটা বেশ পুরোন ব্রিজ। এখানে পার্বতীর আওয়াজ এত জোরালো যে রীতিমত গলা তুলে কথা বলতে হয়। ওহো বলা হয় নি, ক্যাফের লোকেশানও ভারী চমৎকার, ফরেস্ট রেস্ট হাউসের পাশেই। এদের ওপন এয়ার বসার জায়গায় দিব্বি পার্বতী দেখতে দেখতে শুনতে শুনতে খাওয়া দাওয়া করা যায়।

    ব্রিজের মুখেই কাদামাখা দুখানা বোলেরো ক্যাম্পার দাঁড়িয়ে, পার্বতী চলার পথে সুক্ষ্ম জলকণা ছড়িয়ে গোটা ব্রিজ, রাস্তা ভিজিয়ে নাচতে নাচতে চলেছে। ক্যাম্পারের ছাদ খোলা অংশে বসলে ভাড়া ২০০/- আর ভেতরে বসলে ৩০০/-। একটা কাদামাখা গাড়ির সারথী রাস্তার অন্যদিকের পাহাড়ের গা বেয়ে নামা একটা রোগাটে জলধারার সাথে পাইপ লাগিয়ে গাড়িটা ধুচ্ছিলেন, জানালেন ওঁরই নাম্বার যাবার। ধোয়া হলে ভেতরে উঠে একটা জানলার ধার দখল করে বসা গেল।


    যাত্রা শুরু

    মিনিট পনেরো কুড়ির মধ্যেই গাড়ি ভরে গেল। সারথী জানালেন যাদের যাদের ইউপিয়াই পেমেন্ট তারা এখানেই ভাড়া মিটিয়ে দেন যেন। ওখানে পৌঁছে ক্যাশ ছাড়া কিছুই নেওয়া সম্ভব নয়। টুং টাং করে ভাড়া মেটানোর আওয়াজ শেষ হতেই গাড়ি স্টার্ট নিল। কাসোল থেকে গ্রাহাণের দূরত্ব ১০ কিমি, উচ্চতা বৃদ্ধি ২৫০০ ফিট। ঘন দেওদার বনের মধ্যে দিয়ে অতি সঙ্কীর্ণ পাথুরে এবড়ো খেবড়ো চড়াইপথ। পুরো পথ কাটাকুটি করে বয়ে আসছে গ্রাহাণ নালা। নদীর বুকে মস্ত মস্ত বোল্ডারে ধাক্কা খেয়ে জায়গায় জায়গায় জল সহস্রধারায় নেমে এসে একফুট কি দেড়ফুট ছোট্ট প্রপাত তৈরী করছে।


    এই নড়বড়ে ব্রিজটা পেরিয়ে এগোলে পথ হারানো অবধারিত


    তাই এই ব্রিজের আগে সতর্কবার্তা দেওয়া আছে। স্থানীয়রাও চারণিকদের সাবধান করে দেন

    রাস্তা নয় পুরোটাই অফফরোডিং। মজা হচ্ছে যখন উল্টোদিক থেকে কোন ক্যাম্পার আসছে, একে তখন অনেকটা পিছিয়ে যেখানে সামান্য সাইড করার জায়গা আছে সেখানেই দাঁড়াতে হচ্ছে। যে নামছে তার রাস্তায় অগ্রাধিকার, উঠনেওয়ালা দাঁড়িয়ে পাশ দেবে এইই নিয়ম। পাশ কাটানোর সময় জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে দুই সারথী রাস্তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তথ্য বিনিময় করেন। তাতেই জানা গেল পাঁচ কিলোমিটারের মাথায় এক জায়গায় রাস্তার কাজ হচ্ছে সেখানে মিনিট পনেরো দাঁড়াতে হবে।


    গ্রাহাণ নালা কাটাকুটি খেলেছে গোটা পথ জুড়ে

    সে না হয় হল কিন্তু এখানে রাস্তাই নেই তো আবার রাস্তার কাজ কিসের? শোনা গেল এই নেই-রাস্তাও মাঝে মধ্যে ভেঙে ধ্বসে যায়, মাঝে মাঝে পাথর পড়ে মিনি টিলা হয়ে থাকে। নিয়মিত সেসব সরিয়ে তাপ্পিতুপ্পি দিয়ে ফোর হুইল ড্রাইভ গাড়ি চলার উপযুক্ত করে রাখতে হয়। আমরা যত উপরে উঠছি, নালা ততই নীচে চলে যাচ্ছে, আবার হঠাৎ কোন বাঁক পেরিয়েই দেখা হয়ে যাচ্ছে পাহাড় ফুঁড়ে বেরিয়ে আসা অন্য এক জলধারার সাথে। সেও ‘'এসেছ? এসো এসো এগিয়ে চলো' বলতে বলতে হইহই করে দৌড়ে নেমে যাচ্ছে নীচের নালার দিকে।


    সরু জলধারা নেমে আসছে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে

    গ্রাহাণ গ্রামের ওপরের তিনটে জলপ্রপাত আর পথের সব কটা জলধারা মিশে তৈরী গ্রাহাণ নালা গিয়ে পার্বতীর সাথে মিশেছে কাসোলের একটু আগে। সেখানে নদীর গর্জনে কানে প্রায় তালা লেগে যায়। জঙ্গলের মধ্যে কিছুটা পর পরই গাছের গায়ে গ্রাহাণের পথনির্দেশ দেওয়া। যাঁরা এপথে চারণিক তাঁদের পথ হারানোর সম্ভাবনা বেশ কম। মোটামুটি তিরিশ মিনিট হেঁটে কোন পথনির্দেশ দেখতে না পেলে জানবেন আপনি হারিয়ে গেছেন। থুঞ্জাগ্রামের রাস্তা খাড়াই উঠে গেছে, সারথী জানান এ গ্রামে নাকি মাত্র দুটো হোমস্টে আছে।

    পথের মাঝে এক জায়গায় দেখা গেল পাশে অনেকটা পরিস্কার খোলা জায়গা, একপাশে একটা স্টেজের মত করা। শুনলাম সেখানে রেভ পার্টি হয় নিয়মিত। ৩১শে ডিসেম্বর পার্টির জন্য এই ধরণের অফগ্রিড জায়গার চাহিদা খুব বেশী। সমগ্র পার্বতী উপত্যকায় বেশ কয়েক হাজার পার্টি হয় ইংরিজি বছরশেষের দিনটায়। তার শতকরা আশিভাগই এরকম পাহাড়ের গায়ে জঙ্গলের মধ্যে যেখানেই খানিকটা সমতলভূমি পাওয়া যায় সেখানেই হয়। তবে গ্রাহাণে বিশেষ পার্টি হয় না। অ্যালকোহলের উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা এখানে শাপে বর হয়েছে।

    গ্রাহাণে পৌঁছাবার বেশ অনেকটা আগে থেকেই গাছের গায়ে নোটিশ ঝুলছে ‘'নো অ্যালকোহল জোন'। শুধু যে গ্রাহাণে পাওয়া যায় না তাই নয় বহিরাগতরাও এখানে কোনওরকম অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় আনতে পারেন না। ধরা পড়লে গ্রাম থেকে বহিষ্কার এবং মোটা অঙ্কের জরিমানা হয়। কথিত আছে যাজ্ঞবল্ক্য ঋষি, স্থানীয় ভাষ্যে ইয়্যাজ্ঞ বাল বা ইয়্যাজ্ঞল ঋষি, এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। সেই থেকে বহু শত বছর ধরে এই প্রথা চলছে। আমরা গাড়ির মধ্যে বলাবলি করি আগেকার মুনিঋষিরা তো গাঁজাই বেশী পছন্দ করতেন কিনা তাই।

    এক একটা বাঁক এমন সরু আর এমন খাড়াই যে গাড়ি ২ কি ৩ বারের চেষ্টায় উঠে মোড় ঘুরতে পারে আর ঘোরার সময় অবধারিত একদিকের চাকা শুন্যে ঘোরে। এক চুলের ভুল মানেই সোওজা স্বগগো। তা সেসব পেরিয়ে ক্যাম্পার একসময় এসে দাঁড়ায় গ্রাহাণের বেস পয়েন্টে। গ্রামের দূরত্ব এখান থেকে ১ কিলোমিটার কিন্তু খাড়াই প্রায় সাড়ে পাঁচশো ফুট। সবাই ঝটপট নেমে চড়তে শুরু করে দিলেন। তাকিয়ে দেখি সামনে আবার একটা ভাঙা ধ্বসে যাওয়া ঢাল প্রায় ১৫ ফিটের মত উঁচু। লাঠি বসালেই লাঠিটা ভুসভুস করে ঝুরো মাটির ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে।

    দুই তিনবার এগিয়ে পিছিয়েও বিশেষ সুবিধে করতে পারলাম না। আচ্ছা মুশকিল তো। খান পাঁচেক বোলেরো ক্যাম্পার ছড়িয়ে ছিটিয়ে দাঁড়িয়ে। তাদেরই এক সারথী বলেন এইটুকুই একটু ভাঙা, ওই উপরে উঠলে পাকা রাস্তা পাবেন। পাকা রাস্তা! বলে কি রে! কিন্তু এইটাই বা উঠবো কী করে? এবার আরেকজন এগিয়ে আসেন ‘'চলিয়ে ম্যাডাম’’ বলে হাত বাড়িয়ে দেন। এইবার একহাতে লাঠি আরেকহাতে ওঁর হাত ধরে সেই নরম ঝুরঝুরে ধ্বসা জায়গাটা পেরিয়ে উঠে আসি।


    ওই যে নীচে ক্যাম্পার দাঁড়িয়ে আছে সারিসারি ওইটাই গ্রাহাণের বেস পয়েন্ট

    আর্ধেক হাঁটু অবধি ট্রাউজার, জুতোয় চন্দনরঙা মিহি মাটির একটা হাফ ইঞ্চি স্তর হয়ে গেছে। সত্যিই এখান থেকে বেশ একটা রাস্তাই করা। কোথাও মাটির পথের উপরে পাতলা সিমেন্টের আস্তরণ কোথাও পাথরের ফাঁকে ফাঁকে সিমেন্ট জমিয়ে তৈরী পথ। ওই ভাঙা জায়গাটা পেরিয়ে উঠেই একটা ছোট চায়ের দোকান। চা, ম্যাগী, মোমো, ওমলেট ইত্যাদি পাওয়া যাচ্ছে। দোকানে না উঠে একটু বসি দোকানের ধাপে। অল্পবয়সী দোকানি ছেলেটি বলে দিদি বেশীক্ষণ বোসো না, একটু দম নিয়েই উঠতে শুরু করো। এই এক কিলোমিটার রাস্তা একটু খাড়াই আছে।

    তা খাড়াই বলে খাড়াই… আমার অনভ্যস্ত ঠ্যাঙ আর তারচেয়েও বেশী অনভ্যস্ত হৃৎপিন্ড একটা করে বাঁক ঘুরলেই এমন দুমদুমাদুম করে লাফাতে থাকে যে কোথাও পাঁচমিনিট কোথাও আরো বেশী জিরিয়ে নিই। অনেক জায়গাতেই রাস্তা এত সরু যে জিরোতে গেলে ওই পাশের পাথরে ভর দিয়ে হেলে অন্যদের পাশ দিতে হয়। ওঠার লোক সব চলে গেলেও অনেকে নামছেন। ট্যুরিস্টই মূলত, একদিন বা দুদিন কাটিয়ে কিম্বা আরো উপরে ট্রেক করে ফিরছেন। সকলেই উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন ‘'বাস আ গ্যয়ে, অউর থোড়া হি যানা হ্যায়’’ এবং আমি চড়ছি তো চড়ছিই।


    ট্র‍্যাডিশানাল পাথর আর কাঠের বাড়ি

    তা চলতে থাকলে সব রাস্তাই একসময় ফুরায়, এও ফুরালো। ঠিক গ্রামে ঢোকার আগে প্রায় ৮০ ডিগ্রি কোণে খান চল্লিশেক সিঁড়ি। একবার ভাবি ধুত্তোর আর পারছি না এখান থেকেই ফিরি। এমনিতে তো এই রাস্তাটাও দেওদার গাছের চিরল পাতার ফাঁক দিয়ে আসা সূর্য্যের আলোয় চিকরি মিকরি নকশাকাটা, ছায়া ছায়া ঘুম ঘুম। পাতার ফাঁকে বাতাস চলার হালকা শিষের আওয়াজ হলুদ ঠোঁট ম্যাগপাই আর ব্লু হুইসলিং থ্রাশের ডাক ছাড়া আর কোন শব্দ নেই।

    https://youtube.com/shorts/IHDQj4vqRi4?si=K3WAOurZ6pwAgXoC
    Sound of Silence

    এখানেই এলিয়ে বসে থাকি খানিকক্ষণ, তারপর নামবো। আজকের আকাশটা মনে হচ্ছে কেউ পার্বতীর জলে ধুয়ে, লাপিস লাজুলির রঙে ছুপিয়ে মেলে দিয়েছে, এত উজ্জ্বল। ঈশ সুদীপ বলেছিলেন তেমন কিছু নয় নিতান্ত সহজ রাস্তা, শেষটা একটু খাড়া। এ তো বেশ খাড়াই বাপু। সুদীপের উদ্দেশ্যে কি একটু দাঁত কিড়মিড় করবো? নাহ তাতে অনেকটা এনার্জী খরচা হবে। তার চেয়ে বরং সিঁড়িটাই চড়ার চেষ্টা করা যাক। এরকম খাড়া সিঁড়ির ক্ষেত্রে আমি সব জায়গায় যা করি, এখানেও তাই করলাম। সোজা চার হাতপায়ে উঠতে শুরু করলাম। নামার সময় বসে বসে নেমেছিলাম।


    পাথরের ছাদওলা বাড়ি, সামনে শীতের জন্য কাঠ জড়ো করে রাখা

    গ্রাহাণ গ্রামে যতগুলো বাড়ি ঠিক ততগুলোই বা তার চেয়েও কয়েকটা বেশী হোমস্টে। তবে টিভি, মোবাইল, বাইক, গাড়ি এইসব না থাকায় ভারী শান্ত চুপচাপ জায়গা। এখানে একটা প্রাইমারী আর একটা জুনিয়ার হাই স্কুল আছে। স্কুল বোধহয় সকালে বসে, এখন ছুটি। রাস্তা জুড়ে অনেক বাচ্চা দৌড়ে খেলে বেড়াচ্ছে। বাড়িগুলো কাঠ আর পাথরের তৈরী। একটা বাড়ির বাইরে ডিশ অ্যান্টেনা লাগানো দেখে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারি মাঝেমধ্যে দু একটা চ্যানেলের সিগনাল পাওয়া যায়। ঘুরেফিরে মন্দির চত্বরে পোঁছাই।


    কাঠের উপরে সুক্ষ্ম কুনি কাজ করা মন্দির



    পাথরের ভিতের ওপরে কাঠের কুনিকাজ করা অপূর্ব স্থাপত্য। বহিরাগতদের মন্দিরে ঢোকা বা মন্দিরের কোন অংশ স্পর্শ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। মন্দিরে উপাস্য দেবতা হলেন ঋষি যাজ্ঞবল্ক্য। গ্রামের চারদিকে গম আর বার্লির খেত। গম তোলা হয়ে গেছে, বার্লি কিছু আছে এখনো। আর আছে সর্ষেখেত। যেদিকে তাকাই সেদিকেই ধাপে ধাপে হলুদ আর সবুজের নানা শেডের রংবাহার। সুকুন ক্যাফের বাইরের সিঁড়ির ধাপে বসে ইউকুলেলে নিয়ে টুং টাং করছিলেন এক যুবক, নাম বললেন যোশুয়া। এখানে এসেছেন দিন পনেরো, কাসোলে আরো আগে।


    যাজ্ঞবল্ক্যের মন্দির - ভারতে আর কোথাও আছে কি?

    যোশুয়া এতদিনে হিন্দি মোটামুটি বলতে পারেন এবং হিন্দী বাৎচিৎ করতে ভারী উৎসাহী। দু:খ করে বললেন একটা রাস্তা তৈরী হচ্ছে, দুই তিন বছরের মধ্যে হয়ে যাবে নয়া গ্রাহানের দিক দিয়ে। নয়া গ্রাহাণ আবার কোথায়? ওইই যে গ্রামের যেদিকটা তত খাড়া নামে নি একটু ঢালু হয়ে নেমেছে সেইদিকে দেখো কখানা বাড়ি, ওই হল নয়া গ্রাহাণ। পিছন থেকে একটা কচি গলা বলে ও গ্রামের নাম পুলগি, তোমাদের জন্য নয়া গ্রাহাণ বলা হয়। ফিরে দেখি।একজন আড়াইফুটি ভদ্রমহিলা, স্কুল ড্রেস পরা। সঙ্গে আরো তিনজন ওনার সাইজের। সকলেই স্কুল ফেরত।


    এদিকে তাকিয়ে চুপচাপ বসে থাকা যায় ঘন্টার পর ঘন্টা

    সবকটা পুঁচকে একসাথে তড়বড়িয়ে কথা বলতে লাগল। সে এক্কেবারে কলকাকলি ব্যান্ড। অনেক কষ্টে বোঝা গেল এরা আমায় জলপ্রপাত দেখাতে নিয়ে যেতে চায়। যদিও পা আর চলছে না তবু ঝকঝকে চোখের কচি মুখগুলোকে নিরাশ করতে মন চাইল না। কিন্তু গ্রাম ছাড়িয়ে একশো মিটার মত উঠেই এমন পা ব্যথা শুরু হল যে আর এগোনর সাহস পেলাম না। ওই বদখত পথটা নেমে ফিরতে হবে তো। তা সেও একসময় নামলাম। এবারে দোকানে ঢুকে বসি। নামার সময় পায়ের পাতায় চাপ পড়ে খুব, একটু বসে নেওয়া যাক।


    জলপ্রপাত - গ্রাহাণ
    ছবি সৌজন্য - যোশুয়া


    দোকানী ছেলেটির নাম চাঁদ। ও মানালির অটলবিহারি বাজপেয়ী ইন্সটিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং থেকে অ্যাডভান্সড কোর্স করেছে, সার্টিফায়েড গাইড। এছাড়া বরা সিগ্রি হিমবাহ ট্রেকিঙের সময় তুষারঝড়ের পরে উদ্ধারকাজেও অংশ নিয়েছে, প্রশংসাপত্র পেয়েছে। বলে দিদি তুমি ক্ষীরগঙ্গা ট্রেকে এসো, আমায় ৩ মাস আগে বলবে, আমি তোমাকে হাতে ধরে ঘুরিয়ে আনবো। সার পাস ট্রেক ক্ষীরগঙ্গার চেয়ে কঠিন। ক্ষীরগঙ্গা আরামসে গাছের ছায়ায় ছায়ায় হাঁটতে হাঁটতে চলে যাবে দেখো।


    চাঁদভাই

    শুনে লোভ লাগে। আসতে হবে, কিন্তু তার আগে ফিটনেস আরেকটু বাড়াতে হবে। জিজ্ঞাসা করি ও যখন গাইড হয়ে যায় তখন দোকান কে দেখে? বলে আরে এটা আমার মৌসির দোকান। মৌসি গেছে খেত থেকে বার্লি তুলতে আমি আজ ফ্রি তাই বসেছি। অনেক গল্প করে ওর ট্রেক করানোর, রেস্কিউ করার। সেই মাটি ধ্বসা পনেরো ফুট হাত ধরে নামিয়ে বোলেরো স্ট্যান্ডে পৌঁছে দিয়ে যায়। এক সারথীকে ডেকে বলে দিদিকে সাহি সালামৎ কাসোল পৌঁছে দিও। আমায় বলে, নম্বর তো রইল, হোয়াপ করে চলে এসো নিয়ে যাবো ক্ষীরগঙ্গা, মানতালাই লেক।

    ক্যাম্পার তো অন্তত পাঁচজন না হলে ছাড়বে না। আরেক সরকারী আধিকারিক ছিলেন অপেক্ষায়। গ্রাহাণে কিছু সরকারি কাজে এসেছেন। এলেন এক পুলিশ সাব ইনস্পেক্টার, তবে তিনি তাঁর শালার বাড়ি এসেছিলেন কোন বিয়ের সম্বন্ধের ব্যপারে। এইসব শুনতে শুনতে দেখতে দেখতে আরো জনা তিনেক হয়, তবে তাঁরা লোকাল তাই ৫০ টাকা করে দেবেন এবং খোলা জায়গায় বসবেন। আরো একজন হতে পুলিশবাবুর তাড়ায় গাড়ি ছাড়ে। অন ডিউটি না হলেই বা কি, পুলিশ তো বটে।

    পথে এক জায়গায় পাথর পড়ায় তার আগের বাঁকে থামতে হয়েছিল মিনিট পঁচিশেক মত। ততক্ষণে বিকেল পাঁচটা বেজে গেছে, গাড়ি থেকে নেমে দেখি কনকনে ঠান্ডা। গাড়ি থামাবার জন্য যারা নিযুক্ত, তারা রাস্তার পাশে কাঠ, গাছের ডাল শুকনো পাতা জড়ো করে আগুন জ্বেলেছে। বলে এসো এসো হাত পা সেঁকে নাও, কতক্ষণ পাথর পড়বে তার কোন ঠিক ঠিকানা নেই। তিনজন অল্পবয়সী ছেলেমেয়ে হেঁটে ফিরছিল, বলে আমরা চলে যাই, হাঁটছি তো। সবাই হেসে ওঠে, ‘পাগল নাকি তোমরা? পাথর কি জানে তোমরা হাঁটছ, তাই রেয়াত করবে?’

    মেয়েদুটো দিল্লি ইউনিভার্সিটির, ইংরিজিতে মাস্টার্স করছে, ছেলেটা এমবিএ ছাত্র। কাসোলে এসেছিল বেড়াতে, আগামীকাল ফেরত যাবে। কাসোল ফিরতে ফিরতে প্রায় অন্ধকার হয়ে আসে। কাল ফেরা, সারাদিন বাসে কাটবে তাই কিছু শুকনো খাবার কিনে হোস্টেলে ফিরি। কাসোল পুরোন ব্রিজ থেকে পুরোন মার্কেট পর্যন্ত খান আষ্টেক জার্মান বেকারি৷ চিজকেকের স্বাদ পুণের জার্মান বেকারির মত নয়, একটু নীরেশ। হোস্টেলে ফিরে খানিক জিরিয়ে নৈশাহারের জন্য বেরোই রাত আটটা নাগাদ।


    কাসোলে সন্ধ্যে গাঢ়, পাহাড়চুড়ায় তখনো অস্তসূর্য্যের রশ্মি

    মুনড্যান্স ক্যাফে একেবারে নদীর ধার ঘেঁষে। প্রথমে বাইরের লনে মিনিট পনেরো বসে প্রায় জমে যাবার অবস্থা। বাধ্য হয়ে ভেতরে গিয়ে বসি। হিমাচলে ট্রাউট মাছ ধরার সময় হল ৩১শে মার্চ থেকে ৩১শে অক্টোবর। নির্বিঘ্ন প্রজননের জন্য ১লা নভেম্বর থেকে ৩০শে মার্চ অবধি ট্রাউট ধরা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তবে নভেম্বরের প্রথম দুই তিন সপ্তাহ কাসোলে অন্তত আপনি টাটকা ট্রাউট খেতে পাবেন। সরকারি পরিদর্শন হলে ফ্রিজারে রাখা মাছ বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। নিট্টু বলেছিল মুনড্যান্সে টাটকা মাছ পাবোই।


    গ্রিলড ট্রাউট উইত ম্যাশড পট্যাটো

    তা পেলাম। গ্রিলড ট্রাউট, আস্ত মাছও নেওয়া যায় বা কিছুটা অংশ। গ্রিলড ট্রাউট উইত ম্যাশড পোট্যাটো। সাথে স্যালাড ও দুই টুকরো গার্লিক ব্রেড। আহাহা অপূর্ব স্বাদ। মাছট এত টাটকা, মুখে দিলে মিলিয়ে যায়। খেয়েদেয়ে আজ আর ঘোরাঘুরি করতে পারলাম না, সোজা হোস্টেল এবং নিদ্রাদেবীর কোল। ১৩ই নভেম্বর সকালে উঠে তাপমাত্রা দেখে তো হাঁ। -২৪!! সোসান হলেও সেখানে এত কম হওয়া কী করে সম্ভব? কে জানে হয়ত কোন গ্লেসিয়ার আছে কাছাকাছি। নিট্টুকে আগেই বলে রেখেছিলাম আজ সকাল সাড়ে আটটায় কফি চাই আমার। চাইই চাই।


    এ কি গ্লেসিয়ারের পাশে নাকি, অ্যাঁ!

    কাসোল থেকে দিল্লি আসার সরাসরি বাস সবকটাই রাত্রিবেলা। আমি চাইছি সকাল বা দুপুরের বাস, যাতে রাত্রে দিল্লি পৌঁছাতে পারি। তা ওডিন হোস্টেলের গেটের পাশের বাস বুকিং অফিস জানিয়েছিল সকাল সাড়ে এগারোটার দিল্লিগামী বাস আছে তবে ভুন্টার থেকে। নিজ দায়িত্বে সাড়ে এগারোটার মধ্যে ভুন্টার পৌঁছাতে হবে। সেইমত ট্যাক্সি ইউনিয়ানের অফিসে বলে এসেছিলাম সকাল নটায় গাড়ি লাগবে। ওঁরা বলেছিলেন পনেরো মিনিট আগে ফোন করতে, তখন যে সারথীর নম্বর আসবে তাকেই পাঠাবেন।


    ভুন্টার থেকে দিল্লির পথে মান্ডির কাছাকাছি

    সেইমত ফোন করে যাকে পাওয়া গেল সে নিতান্ত বাচ্চা ছেলে। একটু চিন্তিত হয়ে বয়স জিজ্ঞাসা করে জানা গেল কুড়ি। কিছুদূর যেতেই তার গাড়ির অ্যালার্ম পিঁক পিঁক শুরু করল। ক্রমশ বাড়তে থাকায় এক জায়গায় একটা সার্ভিস সেন্টার পেয়ে সেখানে দেখিয়ে জানা গেল এঞ্জিন অয়েল লিক করছে। ছেলে গজগজ করছে এইমাত্র সার্ভিস করিয়েছি। মেকানিক সাহেব এক দাবড়ানি দিলেন, এ পুরোন লিকেজ নিশ্চয়ই দেখিয়েছিল তুমি পয়সা বাঁচাতে তাপ্পি লাগিয়েছ। ১৩০০ টাকা দিয়ে ঠিক করিয়ে গাড়ি চলল সাথে চলল ছেলের গজগজ। ১৫০০ টাকা ভাড়ার ১৩০০ বেরিয়ে গেল, আমার তো তেলের খরচই উঠবে না।


    কুলুর কাছে

    বাকী পথটুকু নির্বিঘ্নেই কাটল। ভুন্টারে পৌঁছে ঘন্টা দেড়েক অপেক্ষার পর বাসও এলো। বড় ভলভো, আরামদায়ক যাত্রা। শুধু চন্ডীগড়ে পঞ্চকুল্লার ওখানে এমন মারাত্মক জ্যাম পেলাম যে দিল্লি ISBT তে রাত দশটার বদলে পৌণে একটায় গিয়ে নামলাম। পরে দেখি সেই ছোকরা গুগল পে'তে মেসেজ করেছে বাড়িভাড়া দিতে পারছে না, ২০০০ টাকা পাঠাই যেন আমি। উত্তর না পেয়ে ১০০০টাকা ধার দিতে পারবো কিনা। যেহেতু ট্যাক্সি ইউনিয়ান থেকে পাঠিয়েছিল তাই আমার ফোন নম্বর ছিল না, গুগল পেতেই মেসেজ করে গেছে।


    ইনি বাসের পাশে পাশে উড়ছিলেন

    ফিরে আসবার এতগুলো মাস পরেও কালগা পুলগা পরীবন গ্রাহাণের কথা মনে হলেই একটা কনকনে ঠান্ডা, চনমনে ভাললাগায় মন ভরে যায়। ভুলে গেছি চড়াই ওঠার কষ্ট। ভুলে গেছি গ্রাহাণ থেকে নামার পরের পায়ের ব্যথার কথা, ভুলে গেছি বাড়ি ফেরার পরে এক সপ্তাহ পায়ের ফোলা, পা ফেলতে না পারা ব্যথার কথা। মনে আছে মায়াবী পরীবন, ছোট্ট জলপ্রপাত, উত্তাল গ্রাহাণ নালা, স্কুল ইউনিফর্ম পরা অপাপবিদ্ধ তিন শিশুর কলকল, হলুদ সবুজ বাদামী ধাপে ধাপে নেমে যাওয়া খেত। আবার যাবো শীগগিরই।

    (সমাপ্ত)
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ভ্রমণ | ১৪ জুলাই ২০২৬ | ৪৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে প্রতিক্রিয়া দিন