এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  প্রবন্ধ

  • সুন্দর দেখতে বলেই আপনি ঠিক কথা বলছেন না 

    সুকান্ত ঘোষ লেখকের গ্রাহক হোন
    প্রবন্ধ | ১১ জুলাই ২০২৬ | ১৪৮ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • তারা আপনাকে দেখেই ঠিক করে ফেলেছে

    ১৯৯০ সালের কথা - স্যান্ড্রা ফরসাইথ নামে মায়ামি ইউনিভার্সিটির এক গবেষক একটা বেশ সাধারণ কিন্তু আবার চালাকি মেশানো পরীক্ষা করলেন। তিনি চারজন মহিলাকে ভিডিওতে রেকর্ড করলেন, যাঁরা একটা ম্যানেজমেন্ট পোষ্টের জন্য ইন্টারভিউ দিচ্ছেন। চারজনের প্রত্যেককে চার রকমের পোশাকে, যে পোশাকগুলো সাজানো হয়েছিল ‘পুরুষালি’ হবার মাত্রা অনুযায়ী। এক নম্বর পোশাক সবচেয়ে নরম, মেয়েলি; চার নম্বর সবচেয়ে কড়া, কাটা-কাটা, প্রায় পুরুষের স্যুটের মত। তারপর ব্যাঙ্কিং আর মার্কেটিং জগতের ১০৯ জন লোককে সেই ভিডিও দেখানো হল আওয়াজ বন্ধ করে। মানে, কে কী বলছেন তা শোনার উপায় নেই, শুধু দেখা যাচ্ছে। বলা হল যে মহিলারা ইন্টারভিউ দিয়েছেন তাঁদের সবার যোগ্যতা, ডিগ্রী, অভিজ্ঞতা সমান – এবার আপনারা নম্বর দিন।

    ফলাফল কি হল অনুমান করতে পারছেন? যাঁরা বেশী ‘পুরুষালি’ পোশাক পরেছিলেন, তাঁদের অনেক বেশী মাত্রায় দৃঢ়চেতা, আত্মনির্ভর, ক্ষিপ্র, আক্রমণাত্মক এবং সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম বলে মনে করা হল। এবং তাঁদের চাকরী দেবার সুপারিশও বেশী এল। মজার ব্যাপার, ইন্টারভিউ যিনি নিচ্ছেন তিনি পুরুষ না মহিলা, ব্যাঙ্কার না মার্কেটিং-এর লোক, তাতে বিশেষ কিছু হেরফের হল না। মানে, সবাই একই ছাঁচে ভাবছে।

    এবার আপনি বলতেই পারেন, ভাই বড়ই সরলীকরণ করে ফেললে কেসটা। এমন ব্যাপার স্যাপার হলে তো সব কোম্পানীর বড় পোষ্টের লোকজনকে ব্র্যাড পিট হতে হবে! কিন্তু আমরা জানি তা তো হয় না। তার মানে ভিতরে থাকলে বা বাকিদের থেকে লক্ষণীয় ভাবে ভালো হলে এই সব পোষাক ইত্যাদি নিয়ে ভাবতে হয় না। আর যদি গড়পড়তা লোক হয়ে বাকিদের সাথে ফাইট দিতে হয়, তাহলে একটা চান্স থেকে যায় পোষাক দিয়ে প্রভাব ফেলার বা প্রভাবিত হবার।

    ফরসাইথ-ও সেটা জানতেন না এমন নয়! তিনি নিজেও কিন্তু সৎ ভাবে লিখেছিলেন যে পোশাকের প্রভাব ব্যক্তির নিজের প্রভাবের তুলনায় ছোট – মুখ, ভঙ্গী, হাসি, হাত নাড়ার ধরণ, এ সবের ওজন বেশী। কিন্তু তারপরেই তিনি এমন একটা কথা লিখেছেন যা বেশ জোরালোঃ পোশাক জিনিসটা সহজে বদলানো যায়, মুখ বদলানো যায় না! এবং এই ‘সহজে বদলানো যায়’ বলেই গোটা একটা শিল্প গড়ে উঠেছে আমাদের ঘাড়ে চেপে। সেই পোষাক এবং ফ্যাশন ইন্ডাষ্ট্রি নিয়ে কথা পরে হবেক্ষণ।

    তবে কিনা এই নিয়ে গবেষণার লিষ্ট লম্বা, এবং প্রায় সবই এক দিকে ঝুঁকে আছে। ফর্ম্যাল জামা পরা টিচিং অ্যাসিষ্ট্যান্টদের ছাত্ররা বেশী বুদ্ধিমান ভাবে, কিন্তু কম ইন্টারেষ্টিং। ফর্ম্যাল পোশাক পরা থেরাপিষ্টের কাছে ক্লায়েন্ট দ্বিতীয়বার ফিরে আসে বেশী। হাই স্কুলের ছেলেমেয়েদের জামাকাপড়ের ধরণ দেখে বন্ধু এবং শিক্ষক – দু’পক্ষই ঠিক করে ফেলে ছেলেটি বা মেয়েটি পড়াশুনায় কেমন। আর সবচেয়ে বাজে তৈরী হওয়া ধারণাটি হল - উঁচু পদের চাকরীতে কোন মহিলা যদি একটু বেশী আকর্ষণীয় করে সাজেন, তাঁকে কম যোগ্য বলে মনে হয়। মানে মেয়েদের জন্য দড়িটা এত সরু যে হাঁটাই মুশকিল, বেশী মেয়েলি হলে অযোগ্য, বেশী পুরুষালি হলে ‘অ্যাগ্রেসিভ’, আর সুন্দরী হলে তো কথাই নেই! খুবই গুণী এবং তার সাথে প্রচন্ড সুন্দরী একজনাকে খুবই কাছাকাছি একছাদের তলায় দীর্ঘদিন দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। আমরা এই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করতাম, এমনকি নিজেদের মধ্যে ছোটখাট পরীক্ষাও, সেই সব নিয়েও দীর্ঘ লেখা লিখে ফেলা যাক। তবে সে সবই কিন্তু বাকি প্রকাশিত স্টাডিগুলির সমর্থনসূচকই ছিল বেশীর ভাগ সময়।


    সুন্দর দেখতে বলেই আপনি ঠিক কথা বলছেন না

    ওদিকে চেহারার বাজারদর মাপার কাজটা করেছেন অর্থনীতিবিদরা। ড্যানিয়েল হ্যামারমেশ প্রায় গোটা কেরিয়ার এই নিয়ে খরচ করেছেন – ‘পালক্রোনমিক্স’ বলে ইয়ার্কি করে ডাকা হয় জিনিসটাকে, সৌন্দর্যের অর্থনীতি। তাঁর হিসেব অনুযায়ী আমেরিকায় এক জন সুশ্রী মানুষ গোটা কর্মজীবনে গড়ে প্রায় দুই লক্ষ তিরিশ হাজার ডলার বেশী রোজগার করেন গড়পড়তা-থেকে-কম-দেখতে সহকর্মীর তুলনায়। শতাংশের হিসেবটা ছোট – দু-তিন-চার শতাংশ – কিন্তু তিরিশ বছর ধরে জমলে আর ছোট থাকে না। সুন্দর লোকেরা চাকরী বেশী পান, প্রোমোশন বেশী পান, ব্যাঙ্কে লোন পান সহজে, সুদটাও তাঁদের দিতে হয় একটু কম। এ জিনিসও আমি নিজে সামনা সামনি দেখেছি – পৃথিবীর নানা দেশে ঘুরতে গিয়ে কত জিনিসের ডিসকাউন্ট পেয়েছি কেনার সময়, অনেক সময় না চাইতেই, কেবল সাথে সুন্দরী একজন ছিল বলে!

    এবার একটা ইনটারেষ্টিং পরীক্ষার কথা বলি, যেটা আমাদের নিজেদের রাজনৈতিক পক্ষপাত নিয়েও একটু খোঁচা দিয়ে যায়! আগে থেকে জানা ছিল যে ডানপন্থী রাজনীতিবিদদের ভোটাররা বেশী সুশ্রী বলে মনে করেন – অষ্ট্রেলিয়া, ফিনল্যান্ড, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আমেরিকা – চার জায়গার নির্বাচনের ডাটাতেই এইরকম ফলের ইঙ্গিত দিয়েছিল একসময়। এখন প্রশ্ন হল, কেন? দুটো ব্যাখ্যা সম্ভব। এক, ডানপন্থী লোকজন এমনিতেই দেখতে ভালো – কারণ সুন্দর লোকেরা বেশী রোজগার করেন, আর বেশী রোজগেরে লোকেরা সম্পদের পুনর্বন্টন কম পছন্দ করেন। একটা নিখুঁত গোল বৃত্ত। দুই, ডানপন্থী দলে প্রার্থী বাছাই করার সময়েই চেহারার উপর বেশী জোর দেওয়া হয়।

    হেলসিঙ্কি ইউনিভার্সিটির জান-এরিক লনভিষ্ট এই দুটোকে আলাদা করার জন্য এক দারুণ ভাবনা বেছে নিলেন। তিনি রাজনীতিবিদদের ছেড়ে ধরলেন বুদ্ধিজীবীদের – ডানপন্থী ও বামপন্থী পত্রিকায় যাঁরা লেখেন, সেই সব অধ্যাপক-লেখকদের ছবি। যুক্তিটা সহজ: বুদ্ধিজীবী হবার জন্য কেউ কাউকে সুন্দর হতে বলে না। ওই লাইনে সুশ্রী মুখের কোন বাজারদর নেই।

    ফল বেরুলো - বিচারকরা ছবি দেখে দিব্যি আন্দাজ করতে পারলেন কে বামপন্থী আর কে ডানপন্থী (মুখ দেখে রাজনীতি চেনা যায়, এ এক আলাদা অস্বস্তিকর গল্প)। কিন্তু সৌন্দর্য? ডানপন্থী বুদ্ধিজীবীরা মোটেই বেশী সুশ্রী নন। উল্টে, ছবির কোয়ালিটি আর ‘গ্রুমিং’-এর হিসেব বাদ দিয়ে দেখা গেল বেশী সুশ্রী মানুষরা বরং বামপন্থী পত্রিকাতেই বেশী লিখছেন। ডানপন্থীরা যেখানে এগিয়ে, সেটা সৌন্দর্য নয় – সেটা হল পরিপাট্য। চুল আঁচড়ানো, দাড়ি কামানো, জামার ভাঁজ। মানে, ঈশ্বরপ্রদত্ত মুখ নয়, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে খরচ করা সময়।

    লনভিষ্টের পেপারটার নাম, যার থেকে ভালো নাম হতে পারত না, ‘Just because you look good, doesn’t mean you’re right’। দেখতে ভালো বলেই আপনার কথাটা ঠিক, তা নয়। ইংরেজীতে ‘right’ শব্দটার দুটো মানে – ‘ঠিক’ এবং ‘ডান’। লনভিষ্ট ভাষার সাথে একটু খেলা করেছেন আর কি!

    নোবেলজয়ী লেখক আইজ্যাক বাশেভিস সিঙ্গার এক জায়গায় লিখেছিলেন, পোশাকের ভিতরে এক অদ্ভুত ক্ষমতা লুকিয়ে থাকে। কথাটা কেবল কথার কথা নয়, ওটা মাপা যায় বা মাপার চেষ্টা অন্তত অনেকেই করেছেন দীর্ঘদিন ধরে। তাই সেই নিয়ে গবেষণাও কম নেই।

    এখন এটা একটু কমেছে গত কিছু বছর হল, বিজনেস ক্লাসের লাইনে দাঁড়ালে (বিশেষ করে ভারতে), গেট খুলে বোর্ডিং-এর আগে একবার করে এসে টিকিট চেক করে যায়। এমন নয় যে আগে করত না, কিন্তু আগে মাঝে মাঝে ফট করে হয়ত লাইনে দাঁড়ানো কাউকে বলেই দিত, “আপনার লাইন এটা নয়, ওটা ওদিকে”। আমার সাথে অনেকবার হয়েছে এটা। টিকিট চেক না করে কি দেখে তারা বিজনেস ক্লাস বা ইকনমি ক্লাসের পার্থক্য করত তারা বলে আপনার মনে করেন? যেহেতু ট্রাভেল একটু বেশিই করতে হয় – তাই পরীক্ষাও চালিয়ে ছিলাম আগে কখন এরা আর জিজ্ঞেস করবে না আমি ইকনমি ক্লাসে কিনা। দেখেছিলাম হাতে ইংরাজি বই থাকলে প্রশ্ন কম করে।

    বহু আগে এই সব নিয়ে বেশ বিরক্ত হতাম। সুধা ম্যাডাম এই নিয়ে ফুটেজ দেবার বহু আগে থেকেই এই জিনিস চলে আসছে। তো এই ব্যাপারটা নিয়ে ভাবতে ভাবতেই একদিন আবিষ্কার করলাম, আমি যা নিয়ে বিরক্ত হচ্ছি, গত পঞ্চাশ বছর ধরে দুনিয়ার সাইকোলজিষ্ট, সমাজতত্ত্ববিদ, আর ইকনমিষ্টরা তা নিয়ে রীতিমতন ল্যাবরেটরীতে পরীক্ষা চালিয়ে গেছেন। এবং তাঁদের ফলাফল আমার বিরক্তিকে সমর্থনই করে, আরো খানিকটা অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়ে।


    এবার উল্টো দিক – জামাকাপড় আপনাকে কী করে?

    এতক্ষণ যা বললাম তা হল, অন্যরা আপনাকে জামা দেখে বিচার করে। সেটা তো জানা কথাই, শুধু মাপজোখ হয়েছে। আসল চমকটা এল ২০১২ সালে।

    নর্থওয়েষ্টার্ন ইউনিভার্সিটির দুই গবেষক, হাইয়ো অ্যাডাম আর অ্যাডাম গ্যালিনস্কি একটা শব্দ বানালেন: ‘এনক্লোদ্‌ড কগনিশন’। বাংলায় বলা যেতে পারে ‘পরিহিত মনন’, যদিও তাতে জিনিসটার মজাটা মরে যায়। তাঁদের বক্তব্য এই যে জামাকাপড় শুধু অন্যের চোখে আপনাকে বদলায় না, জামাকাপড় আপনার নিজের মাথার ভিতরের ধারণাটাও বদলে দেয়।

    তাঁরা বেছে নিলেন সাদা ল্যাব কোট। প্রথমে ৩৮ জনকে জিজ্ঞেস করে নিশ্চিত হলেন যে হ্যাঁ, লোকে সাদা ল্যাব কোট দেখলে মনে করে – মনোযোগী, সতর্ক, দায়িত্বশীল, বৈজ্ঞানিক। তাহলে যদি আপনি সেই কোটটা গায়ে চড়ান, আপনার মনোযোগ কি বাড়বে?

    প্রথম পরীক্ষা করা হল স্ট্রুপ টেস্ট। যাঁরা জানেন না, ব্যাপারটা এই: স্ক্রীনে একটা শব্দ ভেসে উঠবে, ধরুন ‘লাল’ – কিন্তু লেখাটা নীল কালিতে। আপনাকে বলতে হবে কালির রঙ, শব্দটা নয়। শুনতে সহজ, করতে গিয়ে মাথা ঘুরে যায়, কারণ মস্তিষ্ক পড়া বন্ধ করতে পারে না। ১৯৩৫ সাল থেকে এই টেস্টকে মনোযোগ মাপার সোনার কাঠি বলা হয়। দেখা গেল, যাঁরা ল্যাব কোট পরে বসেছেন, তাঁরা কঠিন প্রশ্নগুলোতে প্রায় অর্ধেক কম ভুল করছেন সেই তুলনায় যাঁরা নিজের জামাতেই আছেন।

    এখানেই থামলে গল্পটা বিশ্বাসযোগ্য হবে না হয়ত। প্রশ্ন উঠতেই পারে, সাদা কোটটা তো নিছক ‘ডাক্তার’ কথাটা মনে করিয়ে দিচ্ছে, তাতেই কাজ হচ্ছে না তো? গায়ে চড়ানোর দরকার কী?
    তাই দ্বিতীয় পরীক্ষা। ৭৪ জন ছাত্রছাত্রীকে তিন ভাগে ভাগ করা হল। এক দলকে একই ডিসপোজেব্‌ল সাদা কোট পরানো হল, বলা হল এটা ডাক্তারের কোট। আর এক দলকে একদম হুবহু সেই একই কোট পরানো হল, শুধু বলা হল এটা শিল্পীর কোট, ছবি আঁকার সময় পরে। তৃতীয় দলকে কোটটা পরানো হল না, শুধু টেবিলে সাজিয়ে রাখা হল সামনে, বলে দেওয়া হল ওটা ডাক্তারের কোট। তারপর সবাইকে ‘দুটো ছবির মধ্যে চারটে তফাৎ খুঁজে বার করুন’ ধরণের কাজ দেওয়া হল – মনোযোগ ধরে রাখার পরীক্ষা।

    ফল: ডাক্তারের কোট গায়ে থাকা দলটা বাকি দুই দলকে হারিয়ে দিল। আর বাকি দুই দলের মধ্যে, শিল্পীর কোট পরা দল আর ডাক্তারের কোট দেখা দল, কোন তফাৎই নেই!
    অর্থাৎ কাপড়টা এক, সুতোটা এক, ওজন এক। বদলেছে শুধু নামটা। কোটের গায়ে যে অদৃশ্য লেবেলটা সাঁটা আছে – ‘ডাক্তার’ না ‘শিল্পী’ – সেটাই আপনার মনোযোগ ঠিক করে দিচ্ছে। এবং শুধু লেবেল যথেষ্ট নয়, গায়ে চড়াতেই হবে। দেখলে হবে না।

    অ্যাডাম আর গ্যালিনস্কি লিখলেন, এনক্লোদ্‌ড কগনিশনের দুটো শর্ত: এক, জামার প্রতীকী অর্থ; দুই, জামাটা সত্যি সত্যি গায়ে দেওয়ার শারীরিক অভিজ্ঞতা। দুটো একসাথে না হলে কিছু হয় না।
     

    এবং তারপর সেই পরীক্ষা ভেঙে পড়ল

    অ্যাডাম-গ্যালিনস্কির পেপারটা হইহই করে বিখ্যাত হয়ে গেল। ছ’বছরে দুশোর বেশী উদ্ধৃতি, খবরের কাগজে লেখালিখি, টেড টক-এর মালমশলা। এবং তারপর, ২০১৯ সালে, ডেভিন বার্নস আর তাঁর সহকর্মীরা কাজটা আবার করলেন। এবারে আগে থেকে সব কিছু ঘোষণা করে – কী মাপব, কতজনের উপর, কীভাবে হিসেব কষব, সব রেজিষ্টার করা, যাতে ফল দেখে পরে অঙ্ক পাল্টানো না যায়। অনেক বেশী লোক, অনেক বেশী ট্রায়াল।

    ভাবছেন কি পাওয়া গেল পরীক্ষায়? ল্যাব কোটের কোন প্রভাবই পাওয়া গেল না!

    বার্নস দেখালেন, তাঁদের যন্ত্রপাতি এতই সূক্ষ্ম যে সাত মিলিসেকেন্ডের তফাৎও ধরা পড়ছে। কাজেই ‘ভুলটা আমাদের যন্ত্রের’ – এ ওজর চলবে না। ল্যাব কোটের এফেক্ট যদি থেকেও থাকে, সেটা এত ছোট যে মূল পরীক্ষায় ওটা ধরা পড়ারই কথা নয়।

    এবার এই সময়েই বিজ্ঞানীদের সঠিক চরিত্র বোঝা যায়। অ্যাডাম আর গ্যালিনস্কি একই জার্নালে একটা উত্তর লিখলেন যা পড়ে উনাদের প্রতি সম্মান বেড়ে যেতে বাধ্য। তাঁরা লিখলেন, রিপ্লিকেশনের কাজটা যোগ্য হাতে হয়েছে, এবং তার ফল তাঁদের নিজেদের স্ট্রুপ-ফলাফল নিয়ে সত্যিকারের সন্দেহ তৈরী করছে। ঝগড়া নয়, গোঁজামিল নয়, ‘আমাদের বোঝোনি’ নয়। তারপর তাঁরা বললেন – কিন্তু মূল ধারণাটা, যে আমরা যা পরি তা আমাদের ভাবা-অনুভব-করা-আচরণকে প্রভাবিত করে, সেটা অন্য অনেক পরীক্ষাতেই দাঁড়িয়ে আছে।

    এবং সেটা মিথ্যে নয়। যেমন ধরুন মাইকেল স্লেপিয়ানের কাজ, পাঁচটা পরীক্ষায় তিনি দেখিয়েছেন, ফর্ম্যাল পোশাক পরলে মানুষ বেশী বিমূর্ত ভাবে ভাবতে শুরু করে। গাছের দিকে না তাকিয়ে জঙ্গলটা দেখে, ছোট ছোট বিশদের বদলে বড় ছবিটা ধরে। মাঝখানে যে জিনিসটা কাজ করছে তা হল ‘ক্ষমতার অনুভূতি’ – টাই বাঁধলে যেমন নিজেকে খানিকটা তফাতের, খানিকটা উপরের মানুষ মনে হয়, আর দূর থেকে দেখলে সব কিছুই বড়-বড় দাগে দেখা যায়।

    তার মানে, সাদা কোট পরে বসে থাকলেই আপনি খুঁটিয়ে দেখতে শুরু করবেন - এই সহজ, লোভনীয়, ইনস্টাগ্রামে-ছড়ানোর-মত সিদ্ধান্তটা টেকে না। কিন্তু জামার সাথে মনের একটা যোগ আছে – সেটা একটা ঘটনা।


    সাঁতারের পোশাক এবং একটা অঙ্ক পরীক্ষা

    জামা যে কেবল আত্মবিশ্বাস বাড়ায় তা নয়। কখনো কখনো সে কেস কেলো-ও করে দেয়।

    ১৯৯৮ সালে বারবারা ফ্রেডরিকসন এবং তাঁর সহকর্মীরা একটা পরীক্ষা করেছিলেন যেটার কথা আমি প্রথমবার পড়ে বেশ ভেবেছিলাম। ছাত্রছাত্রীদের বলা হল, এটা ‘আবেগ এবং ক্রেতা-আচরণ’ নিয়ে একটা গবেষণা – তাদের কিছু জিনিসপত্র পরে দেখে মতামত দিতে হবে। তারপর প্রত্যেককে একা একা একটা ট্রায়াল রুমে ঢুকিয়ে দেওয়া হল, সামনে আয়না। অর্ধেককে দেওয়া হল একটা সোয়েটার। বাকি অর্ধেককে সাঁতারের পোশাক। সেই পোশাক পরে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই তাদের কিছু প্রশ্নপত্র ভরতে দেওয়া হল, তারপর কিছু খাবার চাখতে দেওয়া হল, এবং শেষে একটা অঙ্ক পরীক্ষা।

    ঘরে আর কেউ নেই, কেউ দেখছে না। তবুও -

    মেয়েদের ক্ষেত্রে সাঁতারের পোশাক জন্ম দিল লজ্জা এবং একটা তীব্র আত্ম-বিতৃষ্ণার। তারা খাবার কম খেলো, নিজেকে সংযত করলো এবং অঙ্ক পরীক্ষায় খারাপ করলো সোয়েটার-পরা মেয়েদের তুলনায়। গবেষকদের ব্যাখ্যা: শরীরটাকে যখন বাইরের একজোড়া চোখ দিয়ে দেখতে শুরু করি, তখন মাথার একটা বড় অংশ ওই পাহারা দেওয়ার কাজেই খরচ হয়ে যায়। অঙ্ক করার জন্য যা পড়ে থাকে, তা কম।

    ছেলেদের ক্ষেত্রে? সাঁতারের পোশাক পরে তারা লজ্জা তো পায়নি বটেই বরং পেয়েছে তাদের হাসি। তারা লিখেছে নিজেদের ‘বোকা-বোকা’, ‘অস্বস্তিকর’, ‘হাস্যকর’ লাগছে। গবেষকরা রিপোর্টে লিখেছেন, ট্রায়াল রুমের বন্ধ দরজার ওপাশ থেকে কয়েকজনের হাসির আওয়াজ পাওয়া গিয়েছিল। তাঁদের খাওয়ায় কোন হেরফের হয়নি। অঙ্কেও না, বরং সামান্য ভালোই করেছিলেন।
    একই ঘর, একই আয়না, একই কম কাপড়। একদলের কাছে সেটা ঠাট্টা, আর একদলের কাছে বিচারসভা।

    এটা আমাদের বাড়ির ভিতরেও রোজ ঘটে, শুধু আমরা নাম দিই না। মেয়েটির ‘এই জামায় আমাকে মোটা লাগছে না তো?’ আর ছেলেটির ‘যা হোক একটা গলিয়ে নিয়েছি’ – এই দুটো বাক্যের মধ্যে যে অসমান দূরত্ব, তার একটা মাপ আছে, এবং সেই মাপটা কারো তৈরী করা।
     

    বাজার এই পেপারগুলো পড়ে ফেলেছে

    ভাবছেন এই যে সব গবেষণাপত্রের কথা লিখলাম, তারা শুধু জার্নালের পাতায় ধুলো খাচ্ছে? মোটেই না – মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টগুলো এগুলো আমাদের অনেক আগে পড়েছে।
    ‘অ্যাথলেজার’ শব্দটা শুনেছেন? অ্যাথলেটিক আর লেজার মিলিয়ে বানানো – ব্যায়ামের পোশাক, যা ব্যায়ামের বাইরেও পরা হয়। লেগিংস, জগার, হুডি, ইয়ো গা প্যান্ট। যে জিনিসটা জিমে পরার কথা ছিল, সেটা এখন অফিসে, ব্রাঞ্চে, মুদির দোকানে, বিমানবন্দরে। বাজারের মাপ? সমীক্ষা-সংস্থাগুলোর হিসেব একেক রকম, কিন্তু সবাই একমত যে ২০২৫ সালে এটা চারশো বিলিয়ন ডলারের [১ বিলিয়ন ডলার মানে মোটামুটি ১০০ কোটি টাকা] আশেপাশে দাঁড়িয়ে এবং আগামী দশ বছরে দ্বিগুণেরও বেশী হবে। একটা প্যান্টের ব্যবসা, যেটা কার্যত পঁচিশ বছর আগেও ছিল না।

    ২০১৯ সালে সারা লিপসন এবং তাঁর সহকর্মীরা প্রথমবার এই ট্রেন্ডটাকে শরীর-ভাবনার আয়নায় ফেললেন – কুড়িজন নিয়মিত অ্যাথলেজার-পরা মহিলার সাথে দীর্ঘ কথাবার্তা। যা বেরিয়ে এল, তা প্রায় নিখুঁত এক ফাঁদের নকশা।

    এক, লেগিংস পরলে তাঁদের মনে হয় তাঁরা ফিট, স্বাস্থ্যসচেতন, আত্মবিশ্বাসী – পোশাকটা যেন একটা লাইফস্টাইলের সদস্যপত্র। এনক্লোদ্‌ড কগনিশন হাতেনাতে।

    দুই, একই পোশাক শরীরটাকে এমন ভাবে ধরে রাখে যে যেখানে যেখানে ‘সমস্যা’, সেগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। একজন বলেছেন, আঁটোসাঁটো জিনিস পরলে আমি ঠিক বুঝতে পারি কোথায় কোথায় কাজ করতে হবে। আর একজন আরো এগিয়ে গিয়ে বলেছেন, এই কারণেই তাঁর মাথায় প্লাষ্টিক সার্জারির কথা আসতে শুরু করেছে।

    তিন, তাই তাঁরা জিমে যান। জিমে গিয়ে শরীর বদলায়, বদলটা লেগিংসে দেখা যায়, দেখে ভালো লাগে, আরো জিমে যান।

    চার, এবং এটাই সবচেয়ে মনে হয় ইন্টারেষ্টিং – কুড়ি জনের মধ্যে উনিশ জনই স্পষ্ট বলেছেন যে এই গোটা ব্যাপারটা অবাস্তব, অসম্ভব, বিজ্ঞাপনের দুনিয়া বাস্তবের সাথে সম্পর্কহীন। তাঁরা জানেন, কিন্তু তবুও -

    এটাকে গবেষকরা বলেছেন ‘কগনিটিভ ডিসোন্যান্স’। আমি বলব, এটাকে বলে ভালো ব্যবসা। আমার পিসতুতো দাদা অরবিন্দ যেটা ভালো বোঝে খুব! যে পণ্যটা আপনার অভাববোধ তৈরী করে এবং সেই অভাব মেটানোর পথও দেখায়, এবং যার দাম আশি ডলার – সেই পণ্যের চেয়ে নিখুঁত জিনিস বাজারে খুব বেশী নেই। জিমের সদস্যপদটা পর্যন্ত এত ভালো কাজ করে না, কারণ জিমে না গেলে অন্তত ব্যাপারটা চোখে পড়ে না। লেগিংস রোজ সকালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হিসেব চায়!


    ইউনিফর্ম – ক্ষমতার সবচেয়ে সস্তা রূপ

    এবার একটু অন্য দিকে তাকানো যাক। আমাদের হাউসিং সোসাইটির সিকিউরিটি গার্ডরা অনেকেই যেভাবে ডেলিভারী বয়-গুলোকে হ্যাটা করে সেটা দিনের পর দিন দেখার পর এই দিকটা নিয়ে না কিছু লিখলে আমার নিজেরই খারাপ লাগবে।

    ১৯৯৬ সালে আমেরিকার শিক্ষা দপ্তর হিসেব করে দেখল, মাত্র ৩ শতাংশ সরকারী স্কুলে ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক। প্রেসিডেন্ট ক্লিন্টন বললেন, ইউনিফর্ম ক্লাসঘরকে বেশী শৃঙ্খলাবদ্ধ, বেশী সুশৃঙ্খল করে তোলে – স্কুলগুলোর উচিত এটা চালু করা। ২০০৫ সালের মধ্যে সংখ্যাটা দাঁড়াল ১৪ শতাংশে। চারগুণেরও বেশী।

    কিন্তু সত্যিই কি এত পজিটিভ এফেক্ট পাওয়া যায় ?

    এলিসাবেতা জেন্টিলে আর স্কট ইমবারম্যান দক্ষিণ-পশ্চিম আমেরিকার এক বিশাল শহুরে স্কুল ডিষ্ট্রিক্টের তথ্য নিয়ে বসলেন। সুবিধেটা এই যে সেখানে প্রতিটা স্কুল নিজে ঠিক করে ইউনিফর্ম চালু করবে কিনা, এবং আলাদা আলাদা বছরে করে। ফলে একই ছাত্রকে ইউনিফর্মের আগে আর পরে দু’ভাবেই দেখা যায়।

    ফল? উঁচু ক্লাসে হাজিরা সামান্য বাড়ে, বছরে বাড়তি আধখানা দিন মত। শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় কোন উল্লেখযোগ্য হেরফের নেই। পরীক্ষার নম্বরে কার্যত কিছুই না।

    তবে একটা জায়গায় বেশ বড় প্রভাব পাওয়া গেল, এবং সেটা প্রায় কেউ ভাবেইনি: প্রাথমিক স্কুলে ইউনিফর্ম চালু হবার পর শিক্ষকরা চাকরী ছেড়ে যাওয়া অনেক কমে গেল। গড়ে যেখানে পঁচিশ শতাংশ শিক্ষক প্রতি বছর চলে যেতেন, সেখানে পাঁচ শতাংশ কমে গেল।

    অর্থাৎ ইউনিফর্মে ছেলেমেয়েদের কিছু বিশেষ হল না। যা হল, তা হল শিক্ষকদের। একটা শৃঙ্খলাবদ্ধ ক্লাসঘরের চেহারা দেখলে শিক্ষকের নিজের মনে হয় জায়গাটা চালানোর মত। মজাটা এখানেই – ইউনিফর্ম শিশুদের বদলায় না, বদলায় শিশুদের দিকে তাকিয়ে থাকা লোকটাকে।

    এই বিভ্রম কতদূর যেতে পারে, তার একটা মোক্ষম উদাহরণ পাওয়া যায় বেসরকারী নিরাপত্তারক্ষীদের ইউনিফর্ম নিয়ে লেখাপত্রে। আমেরিকার প্রাইভেট সিকিউরিটি কোম্পানীরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের লোকেদের প্রায়-পুলিশ পোশাক পরিয়ে এসেছেন – গাঢ় নীল শার্ট, ব্যাজ, বেল্টে ঝোলানো সরঞ্জাম। কারণ? লোকে ভয় পাবে, কথা শুনবে। ক্যালিফোর্নিয়ার আইনে এটা রীতিমতন নিষিদ্ধ – পোশাক এমন হতে পারবে না যাতে মনে হয় লোকটি সরকারী আইনরক্ষী।

    আর যাঁরা এই নিয়ে কাজ করেছেন, তাঁরা বলছেন, আইন বাদ দিলেও ব্যাপারটা ব্যবসার দিক থেকেই বোকামি। কারণ পুলিশের পোশাক পরলে মানুষ পুলিশের মত সেবা আশা করে – যা এঁরা দিতে পারেন না, দেবার অধিকারও নেই। আবার পুলিশের প্রতি মানুষের যত রাগ, বিরক্তি, তিক্ত অভিজ্ঞতা – সে সবও ছিটকে এসে এঁদের গায়ে লাগে। ঠকানোর চেষ্টা ধরা পড়লে মানুষ ক্ষমা করে না। লেখকদের যুক্তিটা চমৎকার: কর্তৃত্ব আসে আইন থেকে, আর ব্যক্তিগত গুণ থেকে। পোশাকের রঙ থেকে নয়। পৃথিবীর নানা দেশে পুলিশের পোশাক সাদা, খাকি, বাদামী, সবুজ, কালো – সব রকমই আছে। তাহলে কর্তৃত্ব কোন রঙে?
     

    লাল স্নিকার এবং যাঁরা নিয়ম ভাঙার লাইসেন্স পান

    এতক্ষণ পড়ে যদি ভাবেন তাহলে সবাই স্যুট পরাই ভালো, তাঁদের বলি একটু সবুর করুন। আমি নিজে যেহেতু কোট, স্যুট ইত্যাদি পরি না, তাই সেগুলো না পরলেও তেমন কিছু পার্থক্য হয় না এমন কিছু স্টাডির প্রতি দুর্বলতা আছে।

    সিলভিয়া বেলেৎসা, ফ্রান্সেসকা জিনো আর অ্যানাট কেইনান, হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের এই তিনজন এক অদ্ভুত জিনিস দেখালেন, যার নাম দিয়েছেন ‘লাল স্নিকার এফেক্ট’। ধরুন এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ফর্ম্যাল মিটিং-এ ঢুকলেন লাল স্নিকার পায়ে। বা ধরুন এক ভদ্রলোক দামী বুটিকে ঢুকলেন জিমের পোশাকে। ছাত্র বা দোকানের বিক্রেতা কী ভাবে?
    গবেষণা বলছে – তাঁরা লোকটিকে বেশী উঁচু জাতের, বেশী ক্ষমতাশালী, বেশী যোগ্য বলে ধরে নেন। কারণ যুক্তিটা মাথার ভিতরে এই রকম চলে: এই লোকটা তো জানে নিয়মটা কী। তবুও ভাঙছে। মানে ভাঙার সামর্থ্য আছে। মানে ভয় পাবার কিছু নেই। মানে বড় লোক।

    এই যুক্তিটা দিয়েই সিলিকন ভ্যালির হুডি, স্টিভ জবসের কালো টার্টলনেক, বিলিয়নেয়ারের ছেঁড়া জিন্স।

    কিন্তু – এবং এই ‘কিন্তু’-টা বেশ জটিল - গবেষকরা খুব যত্ন করে দেখিয়েছেন কখন এই ম্যাজিক কাজ করে না। এক, যদি দর্শক জায়গাটাকে না চেনে (মানে নিয়মটাই যদি না জানে, তাহলে নিয়ম ভাঙাটা দেখবে কী করে?)। দুই, যদি মনে হয় লোকটা ইচ্ছে করে নয়, বেখেয়ালে ভুল করেছে। তিন, যদি সেখানে ফর্ম্যাল হবার কোন প্রত্যাশাই না থাকে।

    অর্থাৎ, নিয়ম ভাঙার লাইসেন্স পাওয়া যায় কেবল তখনই, যখন সবাই জানে যে আপনার নিয়ম মানার আর দরকার নেই। আমার মত লোক টি-শার্ট পরে গেলে কোন ফ্যাক্টরির গেটে হয়ত দাঁড় করিয়ে দেবে – আর মার্ক জুকারবার্গ হুডি পরে গেলে সেটা দর্শন।

    এ ব্যাপারটা আমাদের গ্রামের দিকে অন্য চেহারায় বহুদিন ধরে আছে। বড়লোক বড়ির কর্তা ময়লা ধুতি পরে বাজার করতে বেরুতে পারেন, তাতে কারো ভুল হয় না। ভুল হয় না কারণ সবাই জানে ধুতিটা কার। দারিদ্র্য আর সাদাসিধেপনার মধ্যে যে তফাৎ, সেটা কাপড়ে নয় – সেটা দর্শকের মাথায়।


    লিফটের পাশের আয়না

    সমাজতত্ত্বে এই গোটা ব্যাপারটার একটা সুন্দর ব্যাখ্যা আছে, যেটা দিয়েছিলেন গ্রেগরি স্টোন, ১৯৬২ সালে। তাঁর মতে পোশাক দিয়ে পরিচয় তৈরী হয় দুটো ধাপে। প্রথম ধাপ – যাকে তিনি বলেছেন ‘প্রোগ্রাম’ – আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখি এবং ঠিক করি আমি কী বলতে চাইছি। দ্বিতীয় ধাপ – ‘রিভিউ’ – অন্যরা আমাকে দেখে এবং প্রতিক্রিয়া জানায়। দুটো যদি মিলে যায়, আমার ‘আমি’-টা প্রতিষ্ঠিত হয়। আর যদি না মেলে? তাহলে, স্টোন বলছেন, মানুষ নিজেকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে শুরু করে। ভাবলে বেশ ভজকট মনে হয়! মানে আমার নিজের সম্পর্কে ধারণাটা পুরোপুরি আমার নিজের হাতে নেই। ওটা একটা যৌথ প্রকল্প, যেখানে ভোট দেয় বাসের সহযাত্রী, অফিসের রিসেপশনিষ্ট, আর গেটের সিকিউরিটি ছেলেটি।

    সাংগঠনিক পোশাক নিয়ে কাজ করা এক গবেষকদলের একটা কথা মাথায় গেঁথে গেছে। তাঁরা বলছেন, অফিসের সবচেয়ে অবহেলিত অথচ সবচেয়ে ক্ষমতাশালী যন্ত্রটি হল আয়না এবং লক্ষ্য করুন, আয়নাগুলো সাধারণত বসানো থাকে লিফটের পাশে। কেন? কারণ ঠিক ওইখানেই দুটো জগতের সীমানা - ঘর আর অফিস, ব্যক্তিগত আর সরকারী। কলার ঠিক করে নেওয়া, চুলে হাত বুলিয়ে নেওয়া, শাড়ির আঁচলটা টেনে দেওয়া – ওটা প্রসাধন নয়। ওটা সীমান্তে পাসপোর্ট দেখানো।
     

    এবং একটা নতুন জামার গন্ধ

    তাহলে কি দাঁড়ালো মোটের উপর? এত পরীক্ষা, এত পরিসংখ্যান, এত ব্যাখ্যা! কিন্তু আমাদের অনেকের মনে যে ছবিটা বা ছবিগুলো আসল হিসেবে গেঁথে থাকে, সেটা কোন জার্নালে ছাপা নেই।

    ছোটবেলায় বছরে জামা হত কটা? গোটা কয়েক এবং তাদের প্রায় সব কটাই কেনা হত দুর্গা পুজোয়। কেনা হত মাসখানেক আগে, তারপর আলমারীতে তোলা থাকত, প্লাষ্টিকের প্যাকেট সমেত। মাঝে মাঝে খুলে দেখা হত বাড়িতে কেউ এলে। শুঁকে দেখা হত। নতুন কাপড়ের সেই গন্ধ – একটু কড়া, একটু মিষ্টি, খানিকটা রঙ আর খানিকটা মাড় – ওটা আসলে গন্ধ ছিল না, ওটা ছিল একটা প্রতিশ্রুতি। পুজোর সকালে ওটা গায়ে চড়ালে আমি একটু অন্য মানুষ হয়ে যাব।

    এবং হতাম না কি আমরা? আমার তো মনে হয় সত্যিই হতাম এবং এখনো অনেকেই হয়। বুক চিতিয়ে হাঁটতাম, পাড়ার যে ছেলেটার সাথে ঝগড়া তার সামনে দিয়ে বার তিনেক ঘুরে আসতাম, আর মন্ডপে যে মেয়েটি প্রতি বছর আসত তার দিকে খানিকটা বেশী সাহস নিয়ে তাকাতাম। অ্যাডাম আর গ্যালিনস্কি এটার নাম দিয়েছেন এনক্লোদ্‌ড কগনিশন। আমরা নামটা জানতাম না, কিন্তু জিনিসটা জানতাম।

    তফাৎ শুধু এই যে তখন জামাটা ছিল একটা ঘটনা – বছরে একবার। আর এখন জামা একটা অবিরাম ব্যবস্থা। এখন কেউ আপনাকে প্রতিশ্রুতি বিক্রী করে না; বিক্রী করে একটা অভাববোধের সাবস্ক্রিপশন। লেগিংস কিনবেন যাতে ফিট মনে হয়, ফিট নন বলে জিমে যাবেন, জিমের জন্য আরো লেগিংস কিনবেন। স্যুট কিনবেন যাতে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়, তারপর দেখবেন সহকর্মীর স্যুটটা আরো ভালো।

    গবেষণাগুলো পড়ে আমি এই সিদ্ধান্তে আসিনি যে কাল থেকে টি-শার্ট পরে অফিস যাব – সেটাতে নতুন কিছু নেই, কারণ আমি ট-শার্ট আর জিন্স পরেই অফিস যাই। তাহলে এই বিষয়ের পেপারগুলো পড়ি কেন? আসলে ব্যাপারটা বুঝতে চাই – বুঝতে চাই মানুষের মনস্তত্ত্ব। তো যা বুঝলুম তার একটা দিক হল, সরল ভাবে বললে - সকালে একটা জামা বাছি যেটা পরে অফিসে যাব, আর সারাদিন ধরে অন্যের জামা দেখে তাদের বিচার করি। প্রথম কাজটা নিয়ে আমরা অনেক ভাবি, অনেক খরচ করি, অনেক দুশ্চিন্তা করি।

    দ্বিতীয় কাজটা নিয়ে আমরা কার্যত কিছুই ভাবি না। ওটা হয়ে যায়, আপনা আপনি, নিঃশব্দে, চোখের পলক পড়ার আগেই। ফরসাইথের ভিডিওতে আওয়াজ ছিল না – তবুও ১০৯ জন লোক দিব্যি বলে দিলেন কে চাকরীটা পাবার যোগ্য।

    আমার মনে হয়, বদলানোর জায়গাটা ওইখানে। নিজের জামাকাপড় নিয়ে যত মাথা ঘামাই, তার এক শতাংশও যদি অন্যের জামাকাপড় নিয়ে নিজের জাজমেন্ট-টাকে চ্যালেঞ্জ করার কাজে খরচ করতাম, তাহলে হয়ত সামগ্রিক পরিস্থিতি উন্নতি হবার ব্যাপারে আমার নিজের একটু অবদান থাকত!

    এখন প্রশ্ন হল, আজ সকালে আপনি যে পোষাকটা পরে বেরিয়েছেন – সেটা কে বেছেছে? আপনি? না কি আজ যাদের সাথে দেখা হবে, তারা?

    তথ্যসূত্র

    1) Adam, H., & Galinsky, A. D. (2012). Enclothed cognition. Journal of Experimental Social Psychology, 48(4), 918–925.
    2) Burns, D. M., Fox, E. L., Greenstein, M., Olbright, G., & Montgomery, D. (2019). An old task in new clothes: A preregistered direct replication attempt of enclothed cognition effects on Stroop performance. Journal of Experimental Social Psychology, 83, 150–156.
    3) Adam, H., & Galinsky, A. D. (2019). Reflections on enclothed cognition: Commentary on Burns et al. Journal of Experimental Social Psychology, 83, 157–159.
    4) Slepian, M. L., Ferber, S. N., Gold, J. M., & Rutchick, A. M. (2015). The cognitive consequences of formal clothing. Social Psychological and Personality Science, 6(6), 661–668.
    5) Forsythe, S. M. (1990). Effect of applicant's clothing on interviewer's decision to hire. Journal of Applied Social Psychology, 20(19), 1579–1595.
    6) Fredrickson, B. L., Roberts, T.-A., Noll, S. M., Quinn, D. M., & Twenge, J. M. (1998). That swimsuit becomes you: Sex differences in self-objectification, restrained eating, and math performance. Journal of Personality and Social Psychology, 75(1), 269–284.
    7) Lönnqvist, J.-E. (2017). Just because you look good, doesn't mean you're right. Personality and Individual Differences, 108, 133–135.
    8) Berggren, N., Jordahl, H., & Poutvaara, P. (2017). The right look: Conservative politicians look better and voters reward it. Journal of Public Economics, 146, 79–86.
    9) Hamermesh, D. S. (2011). Beauty Pays: Why Attractive People Are More Successful. Princeton University Press.
    10) Lipson, S. M., Stewart, S., & Griffiths, S. (2020). Athleisure: A qualitative investigation of a multi-billion-dollar clothing trend. Body Image, 32, 5–13.
    11) Gentile, E., & Imberman, S. A. (2012). Dressed for success? The effect of school uniforms on student achievement and behavior. Journal of Urban Economics, 71(1), 1–17.
    12) Bellezza, S., Gino, F., & Keinan, A. (2014). The red sneakers effect: Inferring status and competence from signals of nonconformity. Journal of Consumer Research, 41(1), 35–54.
    13) Johnson, K., Lennon, S. J., & Rudd, N. (2014). Dress, body and self: Research in the social psychology of dress. Fashion and Textiles, 1:20.
    14) Johnson, K. K. P., Yoo, J.-J., Kim, M., & Lennon, S. J. (2008). Dress and human behavior: A review and critique. Clothing and Textiles Research Journal, 26(1), 3–22.
    15) Lennon, S. J. (2012). Clothing and adornment: Social psychology perspectives. In Encyclopedia of Body Image and Human Appearance (pp. 321–327). Elsevier.
    16) Fredrickson, B. L., & Roberts, T.-A. (1997). Objectification theory: Toward understanding women's lived experiences and mental health risks. Psychology of Women Quarterly, 21(2), 173–206.
    17) Stone, G. P. (1962). Appearance and the self. In A. M. Rose (Ed.), Human Behavior and Social Processes. Houghton Mifflin.
    18) Sena, J. F. (2015). Presenting a professional image. In Conflict Management for Security Professionals (Ch. 4). Elsevier/Butterworth-Heinemann.
    19) Harding, N., & Tomkins, L. (2012/2013). 'Do I look right?' De-familiarizing the organizational fashioning of the body. European Management Journal (organizational dress and the mirror).
    20) Glick, P., Larsen, S., Johnson, C., & Branstiter, H. (2005). Evaluations of sexy women in low- and high-status jobs. Psychology of Women Quarterly, 29(4), 389–395.
    21) Morris, T. L., Gorham, J., Cohen, S. H., & Huffman, D. (1996). Fashion in the classroom: Effects of attire on student perceptions of instructors in college classes. Communication Education, 45(2), 135–148.
    22) Fortune Business Insights / Grand View Research (2026). Athleisure Market Size, Share & Growth Reports (global market estimates, 2025–2026).
     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • প্রবন্ধ | ১১ জুলাই ২০২৬ | ১৪৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পড়লাম | ১১ জুলাই ২০২৬ ১৭:৪২741690
  • প্রচুর খেটেখুটে লেখা তো! বেশ।
  • kk | ১১ জুলাই ২০২৬ ১৮:১০741692
  • খুবই ভালো লাগলো আমার এই লেখাটা।
  • . | ১১ জুলাই ২০২৬ ১৮:২৪741693
  • সাইকোলজির ক্লাসে এগুলে কিছু কিছু জেনেছি। ভালো লেখা।
  • | ১১ জুলাই ২০২৬ ২০:০৪741699
  • চমৎকার। পড়তে ভারী ভাল লাগল।

    পোষাক ব্যপারটা চাকরিজীবনে বেশ খেয়াল করে বাছতাম। বিশেষ করে প্রেজেন্টেশান দেবার থাকলে। উল্টোদিকের লোকজনেদের প্রতিক্রিয়া আন্দাজ করেই বাছতাম এবং তা মিলতও।
  • ঈর্ষাতুর | ১১ জুলাই ২০২৬ ২১:৫৯741704
  • চমৎকার বিষয়। আর সুকির গদ্যের হাত ঈর্ষণীয়। এই অনুচ্ছেদটা দেখুন -

    "তফাৎ শুধু এই যে তখন জামাটা ছিল একটা ঘটনা – বছরে একবার। আর এখন জামা একটা অবিরাম ব্যবস্থা। এখন কেউ আপনাকে প্রতিশ্রুতি বিক্রী করে না; বিক্রী করে একটা অভাববোধের সাবস্ক্রিপশন।"
     
    "এখন জামা একটা অবিরাম ব্যবস্থা"-র মত আশ্চর্য বাংলা বাক্য এর আগে কেও লিখেচেন বলে মনে হয়না।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু মতামত দিন