


"মুনির পুত্র তপস্বী শৃঙ্গী, বালকদের সঙ্গে কিছুটা দূরে খেলা করছিল। তিনি অত্যন্ত তেজস্বী। রাজা পরীক্ষিৎ আশ্রমে এসেছিলেন এবং রাজা পিতাকে দুঃখ দিয়েছেন শুনেই তিনি বালকদের বললেন, “কি আশ্চর্য, রাজারা প্রজাদের অর্থেই সমৃদ্ধ হয়ে, কি রকম অধর্ম করে, দেখ। প্রভুর অন্নে বেঁচে থাকা কুকুর আর কাক যেমন প্রভুরই অনিষ্ট করে, তেমনি এই রাজাও আমার পিতার অনিষ্ট করে গেল! ব্রাহ্মণেরা ক্ষত্রিয়দের দ্বারপাল কুকুর বলেই মনে করে, তাদের উচিৎ দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা, তারা কিভাবে আশ্রমে প্রবেশ করে?" আহা, একজন ক্ষত্রিয় রাজার প্রতি এক ইঁচড়ে-পাকা বালক-ব্রাহ্মণের কি মনোভাব! ... ...

আর দ্বিতীয় কথাটা হল, চারটি স্তম্ভের বাইরে বেশ তাগড়াই একটি পঞ্চম বাহিনীও আছে। স্পেনের গৃহযুদ্ধে ফাসিস্ত ফ্রাঙ্কোর বিরুদ্ধে লড়ছিল আন্তর্জাতিক সংহতি। ফ্রাঙ্কো তখন বলেছিলেন, মাদ্রিদ আমরা দখল করবই, কারণ মাদ্রিদের চারদিকে আছে আমাদের চারটি বাহিনী। আর মাদ্রিদের ভিতরে আছে পঞ্চম বাহিনী। ... ...

মৃতপ্রায় নদী শুয়ে আছে বালি মেখে, ক্ষত আঁকা দেহ পথিকের পায়ে পায়ে। ... ...

ওদিকে চেহারার বাজারদর মাপার কাজটা করেছেন অর্থনীতিবিদরা। ড্যানিয়েল হ্যামারমেশ প্রায় গোটা কেরিয়ার এই নিয়ে খরচ করেছেন – ‘পালক্রোনমিক্স’ বলে ইয়ার্কি করে ডাকা হয় জিনিসটাকে, সৌন্দর্যের অর্থনীতি। তাঁর হিসেব অনুযায়ী আমেরিকায় এক জন সুশ্রী মানুষ গোটা কর্মজীবনে গড়ে প্রায় দুই লক্ষ তিরিশ হাজার ডলার বেশী রোজগার করেন গড়পড়তা-থেকে-কম-দেখতে সহকর্মীর তুলনায়। শতাংশের হিসেবটা ছোট – দু-তিন-চার শতাংশ – কিন্তু তিরিশ বছর ধরে জমলে আর ছোট থাকে না। সুন্দর লোকেরা চাকরী বেশী পান, প্রোমোশন বেশী পান, ব্যাঙ্কে লোন পান সহজে, সুদটাও তাঁদের দিতে হয় একটু কম। এ জিনিসও আমি নিজে সামনা সামনি দেখেছি – পৃথিবীর নানা দেশে ঘুরতে গিয়ে কত জিনিসের ডিসকাউন্ট পেয়েছি কেনার সময়, অনেক সময় না চাইতেই, কেবল সাথে সুন্দরী একজন ছিল বলে! ... ...

....আমাদের কারো মুখে কোনো কথা নেই। অপলক দৃষ্টিতে ঘাড় উঁচিয়ে সুদূর জ্যোতিষ্কলোকের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে চলেছি আমরা। এতোদিন বইয়ের পড়ায় মন আটকে ছিল আমাদের। রাতের এই ক্লাসের হাতধরে আমরা পৌঁছে গেলাম সুদূর জ্যোতিষ্কলোকের আঙিনায়। তারকা লেখনি পাঠ আমাদের কাছে এক নতুন অজানা জগতের দুয়ার খুলে দিল। রাত আকাশ পাঠে আগ্রহী হতে এই লেখাটি পড়তেই হবে। ... ...

বাঙালির খোপবাজি ... ...

লোকায়ত মতের বিশ্বাসীরাই ছিলেন নিরীশ্বরবাদী – মহাভারতে এই মতের প্রচারক ছিলেন মুনি চার্বাক যিনি দুর্যোধনের মিত্র ছিলেন। আবার রামায়ণে এই মতের প্রচারক ছিলেন মুনি জাবালি, যিনি শ্রীরামচন্দ্রকে পিতৃসত্য পালনের জন্যে বনবাসে না যাওয়ার উপদেশ দেওয়াতে, শ্রী রাম তাঁকে ধিক্কার দিয়ে তিরষ্কার করেছিলেন]। ... ...

আমি আমার মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শ্যামাপ্রসাদের ডায়েরি যা তিনি অনিয়মিতভাবে লিখতেন এবং যা Leaves from a diary নামে প্রকাশিত সেটাকেই কেন্দ্রীয় ফোকাসে রেখেছি। কারণ একজন ব্যক্তির মতাদর্শ, পছন্দ অপছন্দ, স্ববিরোধিতা সবকিছু ডায়েরিতে অন্তরঙ্গভাবে ধরা পড়ে যা মানুষটিকে চিনতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পরিপ্রেক্ষিত ব্যাখ্যা করার জন্য আমি জয়া চ্যাটার্জীর দুটি বই যা বামপন্থীদের কাছে প্রশংসিত এবং বিপরীত শিবিরের কাছে নিন্দিত – সে দুটির সাহায্য নিয়েছি। ... ...

সব মিলিয়ে যা বোঝা যাচ্ছে, বিরোধীদের জন্য বারুইপুর অবরুদ্ধ। কিছু হলেও ডিম্মিডিয়া দেখাবেনা। মোটের উপর ব্ল্যাক আউট চলছে। পোস্ট মর্টেম কী হয়েছে কেউ জানেনা। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, যে বস্তায় দেহ ছিল, সেটা এখনও পড়ে। এভিডেন্স আদৌ সংগ্রহ করা হয়েছে কিনা জানা নেই। এবং ময়ূখের বক্তব্যের পর সন্দেহ হচ্ছে, একমাত্র সাক্ষী বলে যাঁর কথা শোনা যাচ্ছে, তাঁকেই "খরচা" করে দেওয়া হতে পারে। পরপর অনেকগুলো ধর্ষণ বা লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটল নতুন জমানায়। চন্দ্রনাথের খুনের কোনো কিনারা হয়নি। ইভিএম পুড়ে গেল এবং ডিম-ছোঁড়া জাতীয় গণহিংসায় কার্যত উৎসাহ দেওয়া চলছে। ... ...

ছেড়ে যাও পিতৃস্মৃতি, মায়ায় জড়িয়ে থাকা খাট উঠোনের কোণে রাখা অভিমানী টগরের চারা সেই কবে উড়ে যাওয়া ময়নার ভাঙাচোরা খাঁচা পাথরের শিলনোড়া, বৈশাখী মেলা থেকে কেনা। ... ...

ইংরেজির ভাণ্ডারে বিবিধ রতন এবং তার শোভা দেখে মাথা ঝিম ঝিম করছে। এমন সব শব্দের দেখা পাই, অবস্থান ও প্রয়োগ বিচারে যাদের অর্থ বদলে যায়। ভাষা এক জীবন্ত প্রাণী; একই শব্দ, ফ্রেজ ব্যবহারের গুণে আনে নতুন ব্যঞ্জনা। যতদিন না জনসনের বসওয়েল বা সুনীতি চাটুজ্যের মতন কোন মনীষী অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফ ফাইনান্সিং পারলান্স নামক একটি থান ইট প্রস্তুত করছেন ততদিন এই শব্দ সম্ভারের কপি রাইট বিতর্কিত থেকে যাবে, কেবল মাত্র ওয়াল স্ট্রিট বা লম্বারড স্ট্রিটকে সেটি দেওয়া যাবে না। কিন্তু মেনে নিতেই হয় এই জিতা জাগতা জুবান একদিন ব্যাঙ্ক, ষ্টক মার্কেট, আই টি এবং কর্পোরেট মহলের চৌহদ্দি ছাড়িয়ে ঢুকে পড়েছে জেনটেলমেন্স ক্লাবে, হাউসেস অফ পার্লামেন্টে, এম সি সি প্যভিলিয়নের হর্ম্য মণ্ডিত হলে। প্রতি বছর কনসাইজ অক্সফোর্ড ডিকশনারির কাজ বাড়ে। আজকের সামাজিক মাধ্যমের গতি তীব্র ও ব্যাপ্তি বিশাল হলেও দেশ ভেদে ইংরেজি ভাষার শব্দ চয়নে ও অর্থে বিস্তর ফারাক থেকে গেছে। বাংলা সাহিত্যের ক্লাসে অর্থ বিস্তার পড়েছি ; যেমন গঙ্গা একটি নদীর নাম, তা থেকে পেয়েছি গাঙ, গ্রামের এলে বেলে জলধারাকে সে নামে ডাকা যায়। হয়তো এমনটা ঘটেছিল শিল্প বিপ্লবের আমলেও। গত চার দশকে তারই পুনরাবৃত্তি দেখি, অর্থনীতিক, বাজারি জগতে। সেখান থেকে উদ্ভূত শব্দ অথবা বাক্যাংশ চালু হল মুখে মুখে। তারই গৎ পরের পর্বে। পরিশেষে একাকি কথকের এ নহে তো আসর ; তাই পাঠকের সক্রিয় সংযোজনা, পরামর্শ, সম্যক এবং যে কোন আলোচনা একান্ত প্রার্থনীয়। ... ...

পরীবন নামখানা সার্থক। পাইন আর দেওদার একদম ঘেঁষাঘেঁষি হয়ে এমনভাবে মাথা তুলেছে যে আলো আর ছায়া কখনো কাটাকুটি খেলছে তো কখনো লুকোচুরি। পাইনের গাঢ় গন্ধ, দেওদারের ঘন বোতলসবুজ রঙ, আলোছায়ার চিকিমিকি আর হঠাৎ নেমে যাওয়া তাপমাত্রায় গায়ে শিরশিরানি ধরানো ঠান্ডায় ঘোর লাগে। মনে হয় ওই তো কুয়াশারঙা পরী ফুরুৎ করে ভেসে গেল। ওই ওওই যে পরীর ঝিকমিকে ডানাজোড়া নীচের আপেলবাগানের দিকে উড়াল দিল বুঝি বা। ... ...

কিন্তু অনুযোগ আছে অনেকের। হঠাৎ করে বদলে যাওয়া সামাজিক অর্থনৈতিক পটভূমিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে অনেক অনেক মানুষ। গ্রামের খোলশ ছেড়ে শহরের মলাটে সবকিছুকে মুড়ে নিতে গিয়ে আজ বিসর্জনের বাজনা বেজেছে তাদের ঘরে। এসব কথা বিনোদ ডাক্তারের মনে তুফান তোলে কিন্তু তিনি জানেন একে রোখা যাবেনা। শহুরে হাওয়ায় হয়তো উপড়ে যাবে এত দিনের শেকড়ের সব বাঁধন। বড় একা মনে হয় নিজেকে। এক বদলে যাওয়া গ্রাম আর মানুষের কথা। ... ...

এই তো সময়, যখন বিপ্লবীরা শমীকবাবুর থানে গিয়ে হত্যে দিচ্ছেন, বাম কবিরা অটলবিহারী বাজপেয়ীতে মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছেন, সায়নী ঘোষ সাদা শাড়ি ছেড়ে টি-শার্টে ফিরে যাচ্ছেন, চাকরি হারিয়ে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন আরবানায় থাকতে যোগ্যতা লাগে। ... ...

যদুবংশীয় ও যে সকল অসুর রাজকুলে জন্ম নিয়ে পৃথিবীকে ভারযুক্ত করেছিল, তারা সকলেই শ্রীকৃষ্ণের তনু। প্রথমটিকে যাদব-তনু এবং দ্বিতীয়টিকে ভূভার-তনু বলা যেতে পারে। পায়ে ফোটা কাঁটা যেমন লোকে আরেকটি কাঁটা দিয়ে তুলে ফেলার পর, দুটি কাঁটাকেই পরিত্যাগ করে, তেমনই শ্রীকৃষ্ণ যাদব-তনুর সাহায্যে ভূভার-তনুর বিনাশ করে, অবশেষে যাদব-তনুরও সংহার করলেন। কারণ উভয়েই সংহারযোগ্য বলে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে সমান। ... ...
আমার বড়োই খোঁজার বাতিক, পিঁপড়ে খুঁজি কম্বলে। ভরদুপুরে ডাকাত খুঁজি, হাজির হয়ে চম্বলে। ... ...

আপাতত, এই সার্ভের অনেকগুলি সূচক থেকে বাছাই করে শুধু স্বাস্থ্য, এবং নারী এবং শিশুকল্যাণের কয়েকটি সূচকের জন্য পশ্চিমবঙ্গ আর গোটা দেশের সার্বিক গড়ের তুলনা করবো। একশো-একটা ইন্ডিকেটর থেকে বেছে গোটা দশেক বের করা কঠিন কাজ, এবং কিছু একদেশদর্শিতা থেকেই যাবে। তার আগে খুব ছোট্ট করে বলতে গেলে, রাজ্য জনকল্যাণমূলক পরিকাঠামো গড়ে তোলায় যতটা দক্ষ হয়ে উঠেছে, সামাজিক পরিবর্তনে ততটাই ধীরে এগিয়েছে। একদিকে যেমন স্বাস্থ্যবিমা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং অ্যান্টিনেটাল কেয়ার প্রায় সর্বজনীন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, অন্যদিকে চাইল্ড ম্যারেজ, মহিলাদের শিক্ষার নিম্ন হার এবং এনসিডির বর্ধনশীল বোঝা একই গতিতে এগোয়নি। দুটো ধারা পাশাপাশি রাখলে যা বোঝা যায়, তা হলো: কল্যাণ প্রকল্প পৌঁছে দেওয়ার কাঠামো যত দ্রুত তৈরি হয়েছে, সামাজিক পরিবর্তন (অথবা প্রগতি) তার সাথে তাল রাখতে পারেনি। ... ...

জলবায়ুর পরিবর্তন আজ আর গল্পকথা নয়, নিদারুণ সত্য, নির্মম বাস্তবতা। বাতাবরণের এমন বদলের হাত ধরেই বদল আসছে আমাদের এতোদিনের চেনা রুটিনে। পাল্টে যাচ্ছে সব, বলা ভালো পাল্টাতে বাধ্য হচ্ছি আমরা। এই আকস্মিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে গভীর সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে আমাদের শিশুদের।তারাই আমাদের ভবিষ্যৎ। অথচ কি অনিশ্চয়তায় ভরা তাদের মহার্ঘ্য শৈশবকাল। এই অনিশ্চিয়তার কারণ ও প্রভাব নিয়েই এই নিবন্ধ। পড়ে মতামত জানান। আমি মন্থনে বিশ্বাস করি। ... ...