১৯৭৯ সালে এক গবেষণার ফল বের হল যা দেখে অনেকেরই চোখ কপালে উঠে গিয়েছিল! তাঁরা দেখলেন, ম্যানেজারিয়াল পদের জন্য দরখাস্ত করলে সুন্দরী মহিলা প্রার্থীরা কম সুন্দরী প্রার্থীদের চেয়ে খারাপ মূল্যায়ন পাচ্ছেন। পুরুষদের বেলায় ঠিক উল্টো - সুন্দর পুরুষ সব পদেই সুবিধে পাচ্ছেন। এই ব্যাপারটার নাম হয়ে গেল 'বিউটি ইজ বিস্টলি', সৌন্দর্যই হিংস্র! পরে আরও পরিষ্কার দেখা গেল, সুন্দরী মহিলারা বিপদে পড়েন বিশেষত সেইসব চাকরির ক্ষেত্রে যেগুলো সমাজের চোখে 'পুরুষালি' এবং তখন তাঁদের ঘাড়ে চাপানো হয় একগুচ্ছ বিদঘুটে বিশেষণ: ধূর্ত, স্বার্থপর, ঝগড়াটে, ছলনাময়ী। তাহলে দাঁড়ালো গিয়ে সৌন্দর্য একই সঙ্গে কোথাও ঢোকার টিকিট আবার ফাঁদ! কোন দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন, তার ওপর নির্ভর করে ঠিক হবে ওটা আপনাকে ঢুকতে দেবে নাকি ঠেলে বার করে দেবে। ... ...
খ্রিস্টপূর্ব চতুর্দশ শতকে গ্রিসের পেলোপনেসাস উপদ্বীপ। মাইসিনীয় সভ্যতার কারিগরেরা ব্রোঞ্জের একটা তার বাঁকিয়ে এমন একটা জিনিস বানালেন, যেটা দেখতে অবিকল আজকের দিনের সেই জিনিসটার মত যার গল্প আজকে করব। একটা সূচালো মাথা, একটা কুণ্ডলী-স্প্রিং, আর একটা আঁকশি যেখানে মাথাটা আটকে থাকে। প্রত্নতত্ত্ববিদরা একে বলেন 'ফিবুলা'। প্রথম ধরনটার নাম 'ভায়োলিন-বো ফিবুলা', কারণ বাঁকটা বেহালার ছড়ের মতো চ্যাপ্টা। ... ...
ওদিকে চেহারার বাজারদর মাপার কাজটা করেছেন অর্থনীতিবিদরা। ড্যানিয়েল হ্যামারমেশ প্রায় গোটা কেরিয়ার এই নিয়ে খরচ করেছেন – ‘পালক্রোনমিক্স’ বলে ইয়ার্কি করে ডাকা হয় জিনিসটাকে, সৌন্দর্যের অর্থনীতি। তাঁর হিসেব অনুযায়ী আমেরিকায় এক জন সুশ্রী মানুষ গোটা কর্মজীবনে গড়ে প্রায় দুই লক্ষ তিরিশ হাজার ডলার বেশী রোজগার করেন গড়পড়তা-থেকে-কম-দেখতে সহকর্মীর তুলনায়। শতাংশের হিসেবটা ছোট – দু-তিন-চার শতাংশ – কিন্তু তিরিশ বছর ধরে জমলে আর ছোট থাকে না। সুন্দর লোকেরা চাকরী বেশী পান, প্রোমোশন বেশী পান, ব্যাঙ্কে লোন পান সহজে, সুদটাও তাঁদের দিতে হয় একটু কম। এ জিনিসও আমি নিজে সামনা সামনি দেখেছি – পৃথিবীর নানা দেশে ঘুরতে গিয়ে কত জিনিসের ডিসকাউন্ট পেয়েছি কেনার সময়, অনেক সময় না চাইতেই, কেবল সাথে সুন্দরী একজন ছিল বলে! ... ...
আমি এখন এমন এক ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছি যেটাকে আমি সবসময়ই আমার জন্য বেশ সম্ভব বলে মনে করতাম, যদিও আমি সাধারণত এর সম্ভাবনা ১০:১-এর বিপরীতে ধরতাম। আমি শীঘ্রই এক তরুণ পুরুষের সাথে যৌন অপরাধের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হতে চলেছি। ব্যাপারটা কীভাবে ফাঁস হয়ে গেল তা একটা দীর্ঘ ও মনোগ্রাহী ঘটনা, যেটা নিয়ে একদিন একটা ছোটগল্প লিখে ফেলতে হবে - কিন্তু এখন তোমাকে সেটা বলার সময় নেই। সন্দেহ নেই যে এই সব মিটে যাবার পর আমি একজন ভিন্ন মানুষ হয়ে উঠব, কিন্তু সেই ভিন্ন মানুষটা ঠিক কে হবে সেটা এখনো জানি না। ... ...
সুশির জন্ম হয়েছিল প্রিজার্ভেশনের প্রয়োজনে, আনন্দের জন্য নয়। শুনতে অবাক লাগলেও এমনটাই নাকি খাদ্য ইতিহাস নিয়ে যারা নাড়াচাড়া করেন তাঁদের দাবী! আজকের দিনে সুশি রেষ্টুরান্ট জাপানের বাইরে অনেক জায়গাতেই বিলাসিতা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু এই খাবারের শুরু হয়েছিল একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে, মাছ টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনে। প্রায় ৭০০ থেকে ১০০০ বছর আগে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় (সম্ভবত বর্তমান মিয়ানমার বা মেকং নদী অঞ্চলে) জেলেরা আবিষ্কার করেন যে কাঁচা মাছকে ভেজানো ভাতের সাথে মিশিয়ে রাখলে মাছ দীর্ঘদিন ভালো থাকে। ভাতের গাঁজন প্রক্রিয়া মাছকে পচন থেকে রক্ষা করত। একসময় এই ভাত ফেলে দিয়ে শুধু মাছটুকুই খাওয়া হতো। ... ...
১৮৬৫ সালের কথা – বিদ্যাসাগর একদিন দেখা করতে এলেন অক্ষয়কুমার দত্তের সাথে। এখনো মাঝে মাঝে গ্রামে যান তিনি, মা এখনো বেঁচে আছেন। এমনিতে বৌবাজারের বাড়ি থেকে বেরিয়ে হেঁটে বাগবাজার যেতেন। বাগবাজার ঘাট থেকে খেয়া ধরে সালকিয়া (শালিখা) - সেখান থেকে পাকা সড়ক ধরে মশাট, তারপর একটানা পুরো বীরসিংহ পর্যন্ত হেঁটে। মাঝে চণ্ডীতলায় সরাইখানায় রাত্রিযাপন করে পরদিন রাজবল্লভহাট দিয়ে খেয়ায় দামোদর পার হতেন। কিন্তু ইদানিং হচ্ছে কি, কলেজ বা কলকাতার কাজকর্ম শেষ করে রওয়ানা দিয়ে যখন তিনি যাত্রার শেষ ধাপে এসে পৌঁছন, তখন প্রায়ই সমস্যা হচ্ছে। রাত হয়ে যায়, দামোদর পেরোনোর জন্য নৌকা পাওয়া যায় না। তাই তিনি ভাবছেন সাঁতারে পেরোনো সম্ভব কিনা। বিদ্যাসাগর যে সাঁতার জানেন, সেটা অক্ষয় কুমার দত্ত জানতেন, কারণ দুজনে একই সাথে বাগবাজারের কাছের গঙ্গায় মাঝে মাঝে সাঁতার কাটতে যেতেন। বিদ্যাসাগর ধুতি পরে সাঁতারের সমস্যার কথা জানালেন অক্ষয়কুমার দত্তকে। বাগবাজারের গঙ্গায় গরমের দিনে বিকেল বেলায় খানিকক্ষণ ধুতি পরে সাঁতার কাটা এক, আর বর্ষায় প্রবল ভয়ঙ্কর দামোদরে ধুতি পরে ঝাঁপানো আরেক ব্যাপার! ... ...
এই শহর বরফে ঢেকেছে না ওঠা ছাদ হারানো চাবির সন্ধানে কতদিন বাড়ির মালিককে পাঠিয়েছে বার্তা একদিন গুঁড়ো বরফের ভিতরে চলার স্বপ্ন নিয়ে নেমেছিল যারা কিছু দূরের ট্রেন স্টেশনে ... ...
বরং সেই গাঢ় বাদামী গভীরে চাঁদের ছায়া নিভে গিয়ে ঘেমে ওঠা পিঠে রবিবারের সকাল এসে গেছে বলে ফিসফাস করে আরো একটু বেলা বাড়লে সাদা চাদর সরিয়ে ময়ূরের পালক গুলি গুটিগুটি পায়ে লাল স্ট্রবেরীর দিকে এগিয়ে যাবে - ... ...
আও নাং নাইট মার্কেটে যদি না, তাহলে সেখানে কুমীরের মাংস কি আর একবার ট্রাই করবেন না! এতদিন যে কুমিরকে আমরা চিড়িয়াখানায় বা সুন্দরবনের খাঁড়িতে দেখে সমীহ করেছি, তাকেই এখন লঙ্কা-মশলা মাখিয়ে কাঠকয়লার ওপর দিব্যি সেঁকা হতে দেখা যাচ্ছে! অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, তবে কি ক্রাবির সমুদ্র থেকে কুমির ধরে এনে খাওয়ানো হচ্ছে? ... ...
তুমি না জানলেও, তোমাদের ছাদ জানে সেই রাতে কাকলিও একটি রবীন্দ্রসংগীত গেয়েছিল ... ...