এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  বইপত্তর

  • চেনা দেশ অচেনা পোষ্টকার্ড        

    সুকান্ত ঘোষ লেখকের গ্রাহক হোন
    বইপত্তর | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ৪৩১ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • প্রথমেই বলে নিই এই লেখাটি একটি খবর ভাগ করে নেবার জন্য - সেটি হল আমার একটি বই প্রকাশের। আমার বইয়ের রিভিউ এবং অ্যাড দেবার তেমন কেউ নেই, তাই সেই কাজটা নিজেকেই করতে হয় :) আর তেমন ভাবে দেখতে গেলে ফেসবুক এবং এই গুরু-র পাতা ছাড়া আমার ভাব প্রকাশের প্লাটফর্ম-ও নেই! ফেসবুকে পোষ্ট দিয়ে দিয়েছি, তাই ভাবলাম গুরু-র পাতাই বা বাকি থাকে কেন! 
     
    তবে ব্যাপার হল, আমি যেটুকু বুঝেছি গুরু-র পাতায় আমার যারা পাঠক, তাঁরা প্রায় সবাই অনলাইন পাঠকই-ই - বই কেনার সম্ভাবনা তাঁদের প্রায় নেইই বলতে গেলে - তবুও থাক খবরটা - 
     
    আমার বেশীর ভাগ লেখাই গুরু-র অনলাইন পাতায় লিপিবদ্ধ - ব্যতিক্রম মনে হয় ভ্রমণের গল্প গুলি।  বেশ কিছু ভ্রমণ নিয়ে লিখেছি অবশ্য এই পাতায়, কিন্তু তার থেকেও আরো বেশী লেখা লিখেছি অন্যত্র, ফেসবুক ফোরামে।
     
     
     
     
    ভ্রমণ নিয়ে যে বিশাল লেখাপত্র ফেঁদে বসব এমনটা খুব বেশ দিন আগেও ভাবি নি।  আর আগে তেমনটা আগে ভাবি নি বলেই মোটা ডায়েরী নিয়ে ঘুরেছি বা ঘুরে এসেই সব লিখতে বসে গেছি – এমনটাও হয় নি।  অন্যদিকে দেখতে গেলে গত কুড়ি-পঁচিশ বছরে ঘোরা ঘুরিও কম হল না! এই কুড়ি এত ঘুরেছি যে সেটাই যেন স্বভাবিক এমন ভাবনায় মস্তিষ্ক নর্মালাইজড হয়ে গিয়েছিল! 

    তারপর এল কোভিড – একদম ঘর থেকে বেরুনো বন্ধ হয়ে গেলেই টের পেতে লাগলাম কি মিস করছি।  বাইরে বেরুনো থেকে প্রাপ্ত অক্সিজেন এ কিভাবে প্রতি মুহুর্তে জীবনের রসদ যুগিয়ে গেছে তা টের পেতে লাগলাম।  একপ্রকার গৃহবন্দী অবস্থায় থাকাকালীন পুরানো বেড়ানোর ছবিগুলো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে লাগলাম – সে এক নষ্টালজিয়া চেপে বসল।  ছবি দেখতে দেখতে একসময় ভাবলাম – এই যে এত জায়গায় ঘুরলাম, তাদের সাথে কত গল্প জড়িয়ে আছে, সেই সব গল্পের কিছুটা অন্তত লিখে সবার সাথে ভাগ করে নেওয়া যাক।  সেই ভাবে দেখতে গেলে আমার এই বইয়ের অনেক লেখারই জন্ম পুরানো ছবি ফিরে দেখা থেকে।  

    তো এবার প্রশ্ন হল কেমন ভাবে লিখব! ব্যাপার এমনও নয় যে, যেখানে ঘুরতে গেছি সেখানে আর কেউ জাননি, বা সেই নিয়ে কেউ লেখেন নি! বাজারে আজকাল ভ্রমণ নিয়ে লেখা খুব চলছে। তাই এই ভ্রমণ কাহিনী লিখতে গিয়ে নজর রেখেছিলাম সেগুলো যে গতানুগতিক না হয়ে যায়।  তবে এটাও ঘটনা যে এমন অনেক জায়গার গল্প এসেছে যেগুলো নিয়ে বাংলায় হয়ত আগে লেখা হয় নি।  চেনা জায়গা আমার কাছে কেমন ভাবে ধরা দিয়েছে তার গল্পও এসেছে।  কেমন ভাবে যাব, কোন হোটেলে থাকব – এই বইয়ের লেখাগুলি সেই নিয়ে নয়।  এসেছে ইতিহাস, মানুষ, তাদের সাথে মেলামেশার গল্প ইত্যাদি

    যাই হোক লেখা শুরু করার পর টুকটাক লেখাগুলি পোষ্ট করতে থাকি কিছু অনলাইন ফোরাম, ফেসবুক বা ওয়েবজিনের ব্লগে।  এবং সত্যি কথা বলতে গিয়ে আমাকে অবাক করে দিয়ে সেই লেখাগুলি খুবই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।  বিশেষ করে ফেসবুকের একটি ভ্রমণ গ্রুপে – পাঠক সংখ্যা ক্রমশঃ বাড়তে থাকে, পেতে থাকি আরো বেশী লেখার উৎসাহ।  এই বইয়ের অনেক লেখা যেহেতু পাঠকদের সাথে সরাসরি সংযোগের ফলে গড়ে উঠেছে, তাই পাঠকদের পঠন রীতির দিকেও নজর দিতে হয়েছিল।  এর ফলে ইচ্ছে করেই কোন লেখাই খুব বেশী দীর্ঘ করি নি।  পরে লেখাগুলি পড়তে গিয়ে নিজেরই মনে হয়েছে, বেশ কিছু লেখায় যেন “শেষ হয়েও হইল না শেষ” ভাবটা রয়ে গেছে! হয়তবা ভালোই হয়েছে একদিক থেকে – কত গল্পই তো না-বলা রয়ে গেল! পরে না হয় না-শেষ হবার রেশ থেকেই বাকি গল্পগুলি লিখে ফেলা যাবে। 

    আমার ভ্রমণের গল্পের পাঠক তৈরী হল বেশ কিছু।  তাঁদের মধ্যে অনেকেই বললেন তাঁরা বইয়ের আকারে লেখাগুলি দেখতে চান।  আমার নিজেরও মনে হল ব্যাপারটা তেমন হলে মন্দ হয় না! লেখাগুলি একজায়গায় করে পান্ডুলিপি তৈরী করে ফেললাম।  পান্ডুলিপি তৈরী হলে দেখলাম যে আকারে সে জিনিস বিশাল হয়ে গেছে – ফলতঃ প্রকাশনার বাস্তব দিকটা ভেবে দুই ভাগে ভাগ করে ফেললাম সেই পান্ডুলিপি।  বেড়ানোর গল্পের একখন্ডের পান্ডুলিপি এক প্রকাশকের কাছে গত দুই বছর ধরে 'যন্ত্রস্থ' অবস্থায় পড়ে আছে! কবে প্রকাশ পাবে বা আদোউ প্রকাশ পাবে কিনা কে জানে!
     
    তবে অপর ভাগের পান্ডুলিপি নিয়ে বইটি প্রকাশ পেল এবারের বইমেলার শেষ দিনে! অনেক যত্ন করে বইটা করার চেষ্টা করেছেন প্রকাশক, বোঝাই যাচ্ছে অনেক পরিশ্রম জড়িয়ে আছে। ফুল ডিজিট্যাল কালারে ছাপানো – সাথে অসংখ্য রঙীন ছবি। ছাপানো বই নিয়ে খুঁতখুঁতে আমি নিজেই ভালোবেসে ফেলেছি বইয়ের গেট আপ দেখে। ফলে বইটা হাতে নিয়ে উল্টে পালটে দেখলেই মন ভালো হয়ে যাবে এই টুকু গ্যারান্টি আমি নিজেই দিতে পারছি!
     
    নিজের বই বলে তো বায়াস থাকবেই – কিন্তু তার বাইরে বেরিয়ে বলতে পারি প্রকাশক যেমন ভাবে ছেপেছেন তাতে করে ভ্রমণ নিয়ে এই বই এক কালেক্টবল আইটেম হয়ে উঠেছে প্রায়।
    বাই দি ওয়ে, এই বইটি উৎসর্গ করেছি আমার সব পাঠক-পাঠিকা দের যাদের উৎসাহ ছাড়া ভ্রমণের গল্পগুলি হয়ত লিখে উঠতে পারতাম না।
     
    এই লেখাগুলির সাথে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে – মানুষের, জায়গার, তাদের জীবন যাপনের।  আশা করছি বইটি পড়তে গিয়ে পাঠক তারই অংশীদার হয়ে উঠবেন। 

     
    বই - চেনা দেশ অচেনা পোস্ট কার্ড
    লেখক - সুকান্ত ঘোষ
    প্রচ্ছদ - সৌজন্য চক্রবর্তী
    প্রকাশক - ছাপাখানা
     

     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • বইপত্তর | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ৪৩১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • শান্তনু | 2401:4900:7075:4013:6bac:7519:8d9f:68b7 | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২০:১৯528201
  • কি করে কিনবো? 
  • সুকি | 49.206.131.6 | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২১:০৭528202
  • পরে Flipkart & Amazon- এ পাওয়া যাবে। বা কলেজ স্ট্রীটে ধ্যানবিন্দু, দে-বুক স্টোরে। তবে আপাতত প্রকাশককে হোয়াটসঅ্যাপ করে সরাসরি +91 80175 96954
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন