এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • কথার কথা এক 

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৩ জুলাই ২০২৬ | ২২ বার পঠিত
  • কথার কথা

    এক

    আলাপ

    ছয়ের দশকে গ্লোব সিনেমায় একাধিকবার সাউন্ড অফ মিউজিক ছবিটি দেখে দুটি জার্মান শব্দের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল - ফ্রয়লাইন ও আউফ উইডারজেন। কয়েক বছর বাদে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া আমাকে ফ্রাঙ্কফুর্ট ব্রাঞ্চে বদলির হুকুম দেবার সময়ে বড়ো কর্তারা আমার জার্মান বিদ্যের দৌড় ধর্তব্যের বিষয় বলেই মনে করেন নি। আমি সেই সামান্য শব্দবল, প্রভূত শঙ্কা এবং মা কা আশীর্বাদ নিয়েই দমদম থেকে হাওয়াই জাহাজে উঠে পড়েছি; জার্মানি গিয়ে বাকিটুকু শিখে নেওয়া যাবে। স্টেজে মেরে দেওয়াটা বাঙালির সনাতন অভ্যেস।

    অনেক বেড়া ডিঙ্গিয়ে, প্রচুর হোঁচট খেয়ে যতদিনে মনে হল ভাষাটা মোটামুটি আয়ত্ত হয়েছে, ব্যবসা বাণিজ্যে পথে ঘাটে পাবে চেনা অচেনা মানুষের সঙ্গে বিয়ার ওয়াইন বায়ার্ন মিউনিক ফ্লেন্সবুর্গের স্বর্ণকেশীর সঙ্গে ব্যাভেরিয়ান ব্লন্দিনির পার্থক্য হেন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অবলীলাক্রমে যোগ দিতে পারি, প্রেম নিবেদন ও গ্রহণ করতে পারি, এমন সময়ে জানা গেল ফ্রাঙ্কফুর্টের বন্ধনকাল এবারের মত নয়, চিরতরে শেষ হতে চলেছে। আবার পশ্চিমে একটি দ্বীপের পানে পাড়ি। ধরে নিয়েছি পৃথিবী যখন গোল তখন পশ্চিম মুখে যেতে থাকলে একদিন পুবের কলকাতা ঠিক পৌঁছে যাবো। কম্পাসের মাপে ভুল থাকলেও,জেনোয়ার সেই নাবিকের তত্ত্বটি আজও খাটে।

    ডিঙ্গা ভাসাও, চ্যানেলে, সাগরে।

    ফ্রাঙ্কফুর্ট এসেছিলাম আপনি আর কোপনি নিয়ে। এবার গাড়ি সমেত পুরো সংসারের বাসন কোসন ঝাড়ু ঝাঁটা বই পত্র একটি বিশাল ট্রাকে তুলে দিয়ে স্ত্রী কন্যা সহ গ্যাটউইক বিমান বন্দরে যেদিন নামলাম, জানতাম শুধু যে রাস্তার বাঁ দিকে গাড়ি চলে তাই নয়, ভাষার সমস্যাও এ দেশে নেই। ঝরিয়া বঙ্গ বিদ্যালয়ে বড়ো সার, বনবিহারি সরকার, নরেন্দ্রনাথ বিদ্যামন্দিরে হেড সার, দিনেশ মজুমদার ইংরেজি ভাষাটা কান মূলে শিখিয়েছেন, হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষায় অক্ষর বা লেটার সহ উচ্চ বর্গে উত্তীর্ণ হয়েছি। আমি কি ডরাই সখি এ দীন ইংরাজি ভাষায়?

    ডোভার বন্দরে জাহাজ থেকে নেমে হাঙ্গেরিয়ান জর্জ মিকেশের যেমন, চল্লিশ বছর বাদে গ্যাটউইক হাওয়াই আড্ডায় নেমে আমারও তেমন অভিজ্ঞতা হলো - ইংরেজি জানি এই ভুলটা ভাঙতে মাত্র ঘণ্টা খানেক লাগে।

    কয়েক বছর আগে ইংল্যান্ড ঘুরে গিয়েছি একা, দরিদ্র টুরিস্ট বেশে, সে যাত্রায় আমার ওপর কারো দায়িত্ব ছিল না। হাতে ম্যাপের অভয় কবচ, প্রশ্ন সীমিত - কোথায় বাসের ট্রেনের টিকিট, খাবার মেলে। একবারে না বুঝলে দু বার জিজ্ঞেস করেছি। কারো সঙ্গে গল্প গুজবের প্রশ্ন ওঠে নি। এখন সপরিবারে লন্ডন পৌঁছে বুঝলাম কল মিস্ত্রী, মুদি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, মেয়ের পাঠশালা, টিউবের সিজন টিকিট, টেলিফোনের লাইন, স্থানীয় ডাক্তারখানায়, পৌরসভায় নাম লেখানো, ড্রাইভিং লাইসেন্সের অনুবাদ তথা নবীকরণ সর্বত্র সকল কাজের ভাষাটা দেশ থেকে চিনে আসি নি। হ্যাঁ, চোদ্দ বছর বয়েসে বীণা সিনেমায় টেন কমান্ডমেনটস দেখেছি, মোজেসের লাঠিকে সাপ বানানো, সাগর চিরে পার হওয়া মনে আছে । জেমস বন্ড,কাম সেপ্টেম্বর, মাই ফেয়ার লেডি ইত্যাদি ছবির পর্দায় ঘটনার ঘনঘটা দেখেছি, কিন্তু বেশির ভাগ সংলাপ আমার কাছে প্রলাপ থেকে গেছে।

    গৃহকোণেও সমস্যা দেখা দিল ; ফ্রাঙ্কফুর্ট পর্বে আপার হ্যান্ড ছিল আমার। প্রাক্তন স্ত্রীর জার্মান জ্ঞান ঢু ঢু,বাংলাটা মোটামুটি, এক গুরুজনকে বলেছিলেন আমি আপনাকে খুব শ্রাদ্ধ করি। দু বছর বয়েসে তিনি ইংল্যান্ডে আসেন, এখন গোলডারস গ্রিনে পুনরায় পদার্পণ করেই ফিশ ব্যাক টু দি ওয়াটার সুলভ আনন্দ অনুভব করতে লাগলেন। আমার ইংরেজি শুনে করুণা বশত সংশোধন করেন অথবা দোকানে বাজারে আমার বরানগরী জুবানকে ভদ্র ইংরেজিতে অনুবাদ করে সেলস পারসনকে বুঝিয়ে দেন। আমি পড়লাম ফাটা বাঁশের মাঝখানে।

    এই সঙ্কট থেকে মুক্তি আজও মেলে নি। অনেক বছর বাদে আর্সেনাল বনাম এভারটনের খেলা দেখতে গিয়েছি লিভারপুলে; পুত্র ইন্দ্রনীলকে কেবলই জিজ্ঞেস করতে হয়েছে, হ্যাঁরে, উনি কি বললেন ? এভারটনের তৎকালীন হোম গ্রাউনড গুডিসন পার্কে গিয়ে ইন্দ্রনীল বলেছিল, গালি গালাজগুলো অনুবাদ করতে বোলো না যেন।

    এই বিভূঁইতে আগমনের ঠিক চারদিন বাদে, ৩১শে জানুয়ারি সিটি ব্যাঙ্ক লন্ডনে আমার প্রথম হাজিরা। ভাবলাম– চাকরি টিকবে তো ?

    আজ ভারতের সেন্ট স্টিফেন্স, সন্ত জেভিয়ার, লা মার্টস, ক্যালকাটা বয়েজ, লয়োলা স্কুল কলেজে শিক্ষিত যুবক যুবতীরা ইংল্যান্ডে আমেরিকায় গিয়ে এহেন সঙ্কটের সম্মুখীন হন না ; তাঁরা তাঁদের বিদ্যাভ্যাস ও সামাজিক মাধ্যমের নিয়মিত সদ্ব্যবহারের কারণে আধুনিকতম বাক্যাংশ, টার্ন অফ ফ্রেজের সঙ্গে সম্যক পরিচিত। সেগুলি ব্যবহার করেন অবহেলে, চোস্ত উচ্চারণে। চল্লিশ বছর আগের আমার সেই দুঃস্বপ্নের দিনগুলির কাহিনী তাঁদের কাছে বাতুলতা শোনাবে।

    ঝরিয়া, বরানগরে যে ইংরেজি শিখেছি সেটি আমার পূজনীয় শিক্ষকদের মানভূম তথা কুমিল্লা জিলার উচ্চারণ দোষে দুষ্ট কিন্তু সেখানে লদ্ধ ব্যাকরণজ্ঞানের জন্য আমি আজীবন গর্বিত। বিলিতি পাবলিক স্কুলে পড়া আমার তিন ছেলে মেয়েকে বহু বার বলেছি তোমাদের অ্যাকসেন্ট উচ্চ মার্গের, কষ্টে সৃষ্টে তার খেই ধরতে হয় কিন্তু গ্রামারের কিসুই জানো না।

    পেয়েছি একটা বিচিত্র উত্তর, ‘ ইংরেজি তোমার তৃতীয় কিন্তু আমাদের প্রথম এবং মাতৃভাষা ! সেখানে অত আইন মানার প্রয়োজন নেই’। বর্তমানে কিংস কলেজে পাঠরতা ছোট মেয়ে মায়ার এম এ ক্লাসের ডিসারটেশন পড়তে গিয়ে ভুলে ভরা পাঙ্কচুয়েশন চোখে পড়েছে ; নরেন্দ্রনাথ বিদ্যামন্দিরে ক্লাস টেনের এসেতে কমা কোলনের এমন দুর্ব্যবহার দেখলে নগেন বাবু সার বেঞ্চে দাঁড় করিয়ে রাখতেন।

    জোড়

    সমস্যাটা কোথায় ?

    পয়লা নম্বর – উচ্চারণ। গয়েথে ইনসটিটুটের সৎসঙ্গে যে জার্মান শিখেছি সেটি হানোভার গোয়েটিংগেনের উচ্চতম সৌকর্যের চৌবাচ্চায় চোবানো; মামেকং শরণং ব্রজ ! নিন্দিত নরকে থেকে যায় আলট নুরনবেরগিশ, বায়ারিশ, শোয়েবিশ সহ অন্তত দুশোটি আঞ্চলিক ডায়ালেকট।

    জার্মানির প্রথম কয়েক বছর ঘর সংসার নেই আছে ছাড়া গরুর স্বাধীনতা। ভোজনং এবং কখনো শয়নং অবধি যত্র তত্র। হাটে বাজারে, ফ্রাঙ্কফুর্ট জাকসেনহাউসেনের পাবে, মাইন্তসের ঊনটার হাউসে, মিউনিকের শোয়াবিংগের সঙ্গী সাথিরা আমার হোখ ডয়েচের তোয়াক্কা করে নি। তারা আপন পাড়ার জার্মান বলেছে। কখনো আটকে গেলে বুঝিয়ে দিয়েছে; এই বিষয়ে সমগ্র জার্মান মহিলাকুলের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা অপরিসীম, টুটা ফুটা জার্মানের ভেতরে হৃদয়ের যে কথাটি আমি বলিতে ব্যাকুল সেটি চিনে নিয়ে সযত্নে আমাকে ভাষা নদী পার করিয়েছেন। হাইলব্রনের গ্রাতসিয়া কুরতস বলেছিল, হোখ ডয়েচ জানো, সেটা আমাদের সকলকে টেলিভিশনে রোজ শুনতে হয় ; তোমার বাক্যি লোকে কষ্ট করে হলেও বুঝে নেবে।

    লন্ডনে এসে জানলাম গয়েথে ইনসটিটুটে শেখা হাই জার্মান আমাকে যে প্রবল আত্মবিশ্বাস দিয়েছিল, সেটির অধিকার এখানে আমার নেই। ব্যাকরণ নয়, বচনের গোড়ায় গলদ। মুখ খুললেই আমার ইমিগ্রান্ট পরিচয় ঘোষিত হতে থাকে।

    লন্ডনে অনেক যুগ ধরে বিভিন্ন উচ্চারণের যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চালু আছে ক্রমশ সেটি আবিষ্কার করে অবশ্য নিজের হীনমন্যতাকে নির্বাসন দেওয়া গেলো একদিন। আইরিশ, ওয়েলশ, স্কটিশ, ককনি, জরডি যখন বাজারে জলচল, নানা উচ্চারনের বিবিধের মিলন মহান, তখন আমার বরানগরের ইংরেজি উচ্চারণ নিয়ে সঙ্কুচিত হবার কোন কারণ নেই, অপর পক্ষ বুঝতে পারলেই হল ! চল্লিশ বছর কেটে গেলো, জানি অব তক ঠিক সে নহি নিকলতি । অ্যাকসেন্টেই লোকের মালুম হয় আমার আদি পাসপোর্ট কোন দেশের – তবে সেটা আমাকে আর কখনো বিব্রত করে নি। আমার যেমন বেণী তেমনি রবে।

    পাঁকে ফেলেছে দুসরা নম্বর –শব্দের চাতুরী। চেনা শব্দ চেনা মুখ চেনা চেনা হাসিমুখ কিন্তু কখন কোন স্টেশনে তাদের বনাতের রং বদলে গিয়েছে তার সুলুক সন্ধান পাই কই ? কথা এক, অর্থ অন্য ? প্রচলিত বাক্যাংশ তাদের তাৎপর্য বদলায় ( টার্ন অফ ফ্রেজ)। কোনো বুক অফ ইউজফুল ফ্রেজেস অ্যান্ড ইডিয়মসে তার বিস্তারিত টীকা টিপ্পনী মেলে না, কোন টেক্সট বুক নেই, থেকে থাকলেও খুঁজে পড়ার সময় নেই। ইউ টিউব অনেক দূরে। দৈনন্দিন ব্যবহারে, লোক মুখে সেগুলি চিনে নিতে হয়। জানি উচিত প্রয়োগে কথ্য বাচন ভঙ্গি বর্ণময় হয়ে ওঠে, সমাজে লোকে সম্মতি সূচক মাথা নাড়েন; কখনো বলেন, ওয়েল, দ্যাটস ক্লেভার !

    ইংল্যান্ডে ইউরোপে কলেজ ইউনিভারসিটির ছুটির সময়ে আমাদের ব্যাঙ্কে ইন্টার্নের ভিড় , কোন বড়ো সায়েবের চেনা জানা বা কোন কাস্টমারের ছেলে মেয়েকে উপরোধে অনুরোধে দেড় দু মাসের জন্যে রাখতে হতো। এই সামান্য সময়ে তারা কি যে শিখবে কে জানে তবে তাদের জীবনপঞ্জি বা সি ভিতে সিটি ব্যাঙ্ক বা স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাঙ্কের দোরগোড়া পেরিয়ে ফাইল পড়ার সার্টিফিকেটের নাকি বিশেষ মূল্য আছে। ২০১২ সাল অবধি তাদের কোন স্টাইপেনড দেবার বাধ্য বাধকতা ছিল না, কোন কোন সময়ে আমার দফতরে এক সামারে জনা চারেক হাজিরা দিয়েছে, বসতে দেবার জায়গা জুটত না।

    সরকার বাহাদুর একদিন বেগার খাটানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন, ইন্টার্নদের সপ্তাহে তিনশ পাউনড দিতে হবে। তৎক্ষণাৎ এই অবৈতনিক বিদ্যালয়ের দরোজা বন্ধ হবার জোগাড়। সেই সঙ্গে কমপ্লায়েন্স দফতর জানালো এই ইন্টার্নশিপ দেবার নাম করে কোন কাস্টমারকে অন্যায় সুযোগ সুবিধে দেওয়া যাবে না, সেটা স্বজন পোষণ, দুর্নীতি, ভ্রষ্টাচার। ইন্টার্নের সাপ্লাই লাইন কমতে থাকে।

    ইন্টার্নশিপের স্বর্ণ যুগে আমাদের মুশকিল ছিল উৎসুক বালক বালিকাদের কিমিতি সারাদিন ব্যস্ত রাখা যায়। এই দেড় দু মাসে কোন কাজ তারা শিখবে, আমার অফিসে কারই বা সময় আছে অর্থকরী ডিল ফেলে রেখে এদের অ্যাভারেজ লাইফ অফ এ লোন বোঝানোর। বরং হাতে ফাইল ধরিয়ে দিয়ে বলা হতো, পড়ো,শেখো। এদের সঙ্গে আমি নিয়ম করে গল্প গুজব করেছি, কোন মিটিঙে নিয়ে গেছি। সেথায় চুপ করে বসে শুনবে কিছু। কে জানে এদেরই মধ্যে কেউ কোনদিন আমাদের অফিস অলঙ্কৃত করবে ! কলেজ ইউনিভারসিটি দূরের কথা, টেনে টুনে মাধ্যমিক মাত্র পাস করে ভবিষ্যতের ব্রিটিশ প্রধান মন্ত্রী জন মেজর একদা স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাঙ্কে সাময়িক শিক্ষণ নিয়েছিলেন।

    বায়ার এ জি কোম্পানির সূত্র ধরে ডুসেলডরফের হাইনরিখ হাইনে ইউনিভারসিটিতে অর্থনীতির (ফোলকসভিরটশাফট ) ছাত্র মাথিয়াস এসেছে সামার ইন্টার্ন রূপে।

    লন্ডন চেম্বার অফ কমার্সের বর্ষীয়ান প্রধান ক্রিস ফিনডলের সঙ্গে সাক্ষাৎকার হবে; মাথিয়াসকে সঙ্গে নিয়ে গেলাম সেই মিটিঙে, ব্যাঙ্কের ছ তলায় (সেখান থেকে টেমসের শোভা অতি মনোরম)। ব্যাঙ্কের ক্যান্টিনের লোক চা কফি ও রূপোর কেটলিতে গরম জল সাজিয়ে দিয়ে গেছে। মাথিয়াসকে বললাম, তুমি আমাদের সেবা করো দেখি। এমন একটা জরুরি কাজ পেয়ে সে মহা উৎসাহে জেনে নিল কে চা বা কফি চায়। এবার চিনি দেবার পালা। মাথিয়াস আমাদের অতিথিকে জিজ্ঞেস করলো, হাউ মেনি সুগার, সার ? ওয়ান ?পক্বকেশ ক্রিস অত্যন্ত বিনয়ের সহিত বললেন, ইফ ইউ উইল বি সো কাইন্ড।

    চিনির কিউব তোলার ছোট্ট রুপোলী আংটা সহ মাথিয়াসের ডান হাত তখন মৃণাল সেনের আকাশ কুসুম ছবির ফ্রিজ শটের আকার ধারণ করেছে ; তার মুখে দ্বিধা দ্বন্দ্ব। ক্রিস কি বলছেন? হ্যাঁ অথবা না ? তাকে ইঙ্গিতে বোঝালাম একটা চিনি দাও ক্রিসের পেয়ালায়। ক্রিস বিদায় নিলে পর মাথিয়াস বললে, অনেক ধন্যবাদ। আমি বুঝতেই পারছিলাম না উনি কি চান। তাকে বললাম, বৎস (মাইন ইউঙ্গে), ইফ ইউ উইল বি সো কাইন্ড মানে যে সম্মতি, হ্যাঁ, সেটা জানতে আমার বিশ বছর লেগে গেছে।

    জার্মান অফিসে অধস্তনকে ডেকে অথবা তার টেবিলের সামনে গিয়ে বলা যায়, এটা যেন দু ঘণ্টার মধ্যে আমার সইয়ের জন্য তৈরি থাকে। সিটি ব্যাঙ্কে প্রথম বস জো ম্যাকিইয়েভিতস আমাকে প্রথমেই সহজ সুরে বুঝিয়ে দিয়েছেন ঐ জার্মান স্টাইল এ দেশে চলে না, বিনীত ভাবে কাজ আদায় করতে হবে। সদ্য ৩৩৬ নম্বর স্ট্র্যানড অফিসে কাজে যোগ গিয়েছি ( কি আশ্চর্য সমাপতন, কলকাতা স্টেট ব্যাঙ্কে আমার শেষ অফিসের ঠিকানা ছিল এক নম্বর স্ট্র্যানড রোড !) আমার এক কাস্টমারের ভীষণ তাগাদা, তার ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি চাই পরের দিন। সেই দরখাস্ত প্রসেস করার কাজ ছ ফুট লম্বা, স্পোর্টিং চেহারার এক যুবকের, তার নাম রিচার্ড। তার ডেস্কে গিয়ে বললাম এটা করে দেবে, তাড়া আছে। রিচার্ড বললে, লিভ দিস উইথ মি। সুদর্শন যুবক, তায় সায়েব, বললে আমার হাতে ছেড়ে দিন। এর পর ভাবনার কি থাকতে পারে। খুশি হয়ে নিজের অফিসে ফিরেছি কিন্তু মন খুঁত খুঁত করছে। বিকেল বেলা কি যেন মনে হল একবার দেখি কাজ কতদূর এগুলো।

    তিন তলায় রিচার্ডের আসন শূন্য। তার পাশের ডেস্কে বসে শারলি ওয়াগহর্ন । সে জানালে লাঞ্চের পর রিচার্ড ইন্টার ব্যাঙ্ক ক্রিকেট খেলতে গেছে ফিন্সবেরি স্কোয়ারে, আজ আর ফিরবে না। কোনমতে শারলিকে বাবা বাছা করে কাজ উদ্ধার করতে হল।

    মরাল অফ দি স্টোরি - লিভ দিস উইথ মি মানে আমি সে কর্ম অদ্য অথবা কল্য সম্পন্ন করিতে পারি নাও পারি, মেরি মরজি। চান্স নেওয়াটা আপনার ব্যক্তিগত বিবেচনার বিষয়।

    পরে যেমন জেনেছি ‘ইয়োর ফাইল ইজ রিসিভিং আওয়ার অ্যাটেনশন’ কথাটার সরল অর্থ হল আপনার বছর খানেক আগে লেখা চিঠিটা সবে মাত্র খুঁজে পাওয়া গেছে। ‘দিস ওন্ট টেক এ মিনিট টু গেট ব্যাক টু ইউ’ মানে আগামী সপ্তাহ নাগাদ জবাব মিললেও মিলতে পারে। বস যখন বলেন আই হিয়ার ইউ, তার অর্থ আমার এতো খেটে খুটে বানানো প্রোপোজালটি তাঁর মোটেও পছন্দ নয়, পণ্ড শ্রম।

    ঝালা

    ইংরেজির ভাণ্ডারে বিবিধ রতন এবং তার শোভা দেখে মাথা ঝিম ঝিম করছে। এমন সব শব্দের দেখা পাই, অবস্থান ও প্রয়োগ বিচারে যাদের অর্থ বদলে যায়। ভাষা এক জীবন্ত প্রাণী; একই শব্দ, ফ্রেজ ব্যবহারের গুণে আনে নতুন ব্যঞ্জনা। যতদিন না জনসনের বসওয়েল বা সুনীতি চাটুজ্যের মতন কোন মনীষী অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফ ফাইনান্সিং পারলান্স নামক একটি থান ইট প্রস্তুত করছেন ততদিন এই শব্দ সম্ভারের কপি রাইট বিতর্কিত থেকে যাবে, কেবল মাত্র ওয়াল স্ট্রিট বা লম্বারড স্ট্রিটকে সেটি দেওয়া যাবে না। কিন্তু মেনে নিতেই হয় এই জিতা জাগতা জুবান একদিন ব্যাঙ্ক, ষ্টক মার্কেট, আই টি এবং কর্পোরেট মহলের চৌহদ্দি ছাড়িয়ে ঢুকে পড়েছে জেনটেলমেন্স ক্লাবে, হাউসেস অফ পার্লামেন্টে, এম সি সি প্যভিলিয়নের হর্ম্য মণ্ডিত হলে। প্রতি বছর কনসাইজ অক্সফোর্ড ডিকশনারির কাজ বাড়ে।

    আজকের সামাজিক মাধ্যমের গতি তীব্র ও ব্যাপ্তি বিশাল হলেও দেশ ভেদে ইংরেজি ভাষার শব্দ চয়নে ও অর্থে বিস্তর ফারাক থেকে গেছে।

    যেমন আমাদের পাস আউট।

    পাসিং আউট অর্থ গ্র্যাজুয়েশন, যেমন পাসিং আউট প্যারেড ; তার অর্থ শিক্ষা সম্পূর্ণ করা প্রাক্তনী। কিন্তু কোন মানুষকে পাস আউট বললে ইংরেজের বা আমেরিকানের কাছে বোঝাবে সে মাতাল বা বেএক্তেয়ার ; হি হ্যাজ পাসড আউট মানে সে কোন পরীক্ষা পাস করে নি, মদ্যপান অথবা গঞ্জিকা সেবন করে বেহোশ হয়েছে।

    প্রেসিডেন্সি ও কাঁটাকলের অর্থনীতির কৃতী ছাত্র এবং স্টেট ব্যাঙ্কে আমার সমসাময়িক ( পরে ডেপুটি এম ডি ) অভিজিৎ দত্তের কাছে শুনেছি একটি আবেগময় বক্তৃতায় তৎকালীন অধ্যক্ষ ড: সনত বোস বলেছিলেন, মেনি ব্রিলিয়ানট স্টুডেন্টস হ্যাভ পাসড অ্যাওয়ে ফ্রম দি প্রেসিডেন্সি কলেজ। আরেকজন ছাত্র টেস্ট পরীক্ষায় ‘অ্যাপিয়ার ‘ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় তাঁকে ড: বোস বলেন, দেন ইউ ক্যান ডিসঅ্যাপিয়ার।

    ছোট বেলায় বাবার কাছে গল্প শুনেছিলাম - রাশিয়ান রাজসভায় কোনো পারিষদ একটা অচেনা শব্দ ব্যবহার করেছেন; জার আলেকজান্দার বললেন এটা তো চিনি নে, এলো কোথা হতে ? সূত্র সন্ধান করে জানাও ‘। বাবা বলেছিলেন এর নাম রুটস, চিনতে না পারলে মূলের খোঁজ করো। এই সদ্ভাবনা আমার মাথায় ঢুকিয়ে দিয়ে তিনি পরলোকে প্রস্থান করেছেন কবে। শাস্তি পাচ্ছে আমার ছেলে মেয়েরা। তাদের উৎপাত করি- বলো দেখি এটা কোত্থেকে এলো? না, জানি না বললে চলবে না। ফাঁকি দিয়ে হলেও স্কুলে খানিক ফ্রেঞ্চ জার্মান শিখেছো, এবার ভাবো !

    বাতিক যায় না মলে !

    বিদেশি শব্দ আত্মসাৎ করায় ইংরেজের জুড়ি নেই – চেক রোবোট, পোলকা, প্র্যাম রাশিয়ান ম্যামথ, ওল্ড নর্স ব্যাগ ব্যান্ড বার্থ এগ, ইদিশ ড্রেক, বেগল, সুইডিশ মোপেড, জার্মান কিন্ডার গারটেন, শাদেনফ্রয়ডে, গ্রিক হিউবরিস – তালিকা অতি দীর্ঘ। কিন্তু আজকের মুখর ইংরেজি ইডিয়ম শুধু অন্য ভাষা থেকে ধার নিয়ে নয় ( লোন ওয়ার্ডস ) নিজের ভাষার ওপরেই খোদকারি করে।

    মনে রাখা ভালো হলিউড যেদিন ‘সবাক’ হল, চিত্রনাট্যকারের সংলাপে স্থান পেলো নিউ ইয়র্কের লিটল ইতালি, ব্রঙ্কস, লন্ডনের ইস্ট এন্ডের, লিভারপুল ডকের মানুষের মুখের ভাষা। চলচ্চিত্রের জনপ্রিয়তার কারণে সেটি গেল বিশ্বময় ছড়ায়ে।

    মার্গারেট মিচেলের গন উইথ দি উইন্ড বইতে উত্যক্ত রেট বাটলার তাঁর বাড়ি এবং পত্নীকে ত্যাগ করে যখন চলে যাচ্ছেন, রোরুদ্যমানা স্কারলেট ও’হারা বললেন, হোয়ের শ্যাল আই গো, হোয়াট শ্যাল আই ডু। দরোজা দিয়ে বেরিয়ে যাবার সময়ে এক মুহূর্ত থেমে রেট বাটলার বলেছিলেন, ‘আই ডোন্ট গিভ এ ড্যাম ‘। ছবির অন্যতম চিত্রনাট্যকার সিডনি হাওয়ার্ড একটিমাত্র শব্দ জুড়ে দেওয়ার ফলে আজ দুনিয়ার সবচেয়ে পরিচিত, ব্যবহৃত ফিল্মি পাঞ্চ লাইন হলো

    ফ্র্যাঙ্কলি মাই ডিয়ার, আই ডোন্ট গিভ এ ড্যাম।

    হনোলুলু থেকে হন্ডুরাস অবধি মানুষ এই বাক্যাংশ বহুবার বলেছেন, বলবেন !

    এ ব্যাপারে অবশ্য আমি গ্রাউচো মার্কসকে গুরু মানি।

    সকাল বেলা রাস্তায় বেরুতেই একজন জিজ্ঞেস করেছে, হাউ ডু ইউ ডু ? তার উত্তরে গ্রাউচো বললেন, হাউ আই ডু ইট, ইজ মাই বিজনেস। অথবা ধরুন হর্স ফেদারসের সেই কড়া জবাব, আই নেভার ফরগেট এ ফেস, বাট ইন ইয়োর কেস আই উইল বি গ্ল্যাড টু মেক অ্যান একসেপশন। নীতিবাগীশ গ্রাউচো বলেন,দোজ আর মাই প্রিন্সিপলস। বাট ইফ ইউ ডোন্ট লাইক দেম, আই হ্যাভ আদারস।

    ক্যাসাব্লাঙ্কা ছবির কিছু অনন্য ওয়ান লাইনার স্মরণ করুন –

    চিত্রনাট্যে ছিল না কিন্তু হারিয়ে যাওয়া প্রিয়তমাকে পুনরায় দেখে রিক রূপী হামফ্রি বোগারট যোগ করে দিলেন, ‘ অফ অল দি জিন জয়েনটস ইন অল দি টাউন ইন অল দি ওয়ার্ল্ড, শি ওয়াকস ইন টু মাইন ‘।

    প্রিয়তমের সঙ্গে শেষ বিদায়ের ক্ষণে ইলসা বললেন, চলে যেতে বলছ কিন্তু আমাদের প্রেমের কি এই শেষ ?হোয়াট অ্যাবাউট আস ? রিক বললেন, উই উইল অলওয়েজ হ্যাভ প্যারিস!

    ভালবাসার দিনগুলির স্মৃতি থেকে যায় ; বাকি জীবন একত্রে না কাটালেও।

    ফরাসি পুলিস চিফ রেনে চোখের সামনে বোগারটের গুলিতে জার্মান মেজরকে নিহত হতে দেখে তাঁর বাহিনীকে আদেশ দিলেন, ‘মেজর স্ট্রাসার হ্যাজ বিন শট, রাউনড আপ দি ইউজুয়াল সাসপেকটস’। এটি আজ ইংরেজি ভাষায় সাদরে গৃহীত শব্দ বন্ধ।

    তবে সাতের, বিশেষ করে আটের দশকের ফাইনান্স জগতের হঠাৎ আলোর ঝলকানি উত্তরোত্তর ধনী করেছে ইংরেজি শব্দকোষকে, একদিন কনসাইজ অক্সফোরড ডিকশনারি ( সি ও ডি ) খাতির করে তাকে জাতে তুলেছে। ইন্টারনেটের অভ্যুত্থান পরিচিত জনতার সরণিতে নিয়ে এলো ব্যান্ডউইডথ, ওয়েভলেংথ, রিবুট, অফ লাইন ; সমাজ মাধ্যম যোগ করেছে মিম, হ্যাশ ট্যাগ, ট্রোল ভাইরাল এবং আরও অনেক।

    আজকে যারা মুম্বাই সিঙ্গাপুর লন্ডন নিউ ইয়র্কের কর্পোরেট জগতে বিচরণ করেন, বেঙ্গালুরু সিয়াটল পালো আলতো থেকে আটলানটা অবধি আই টি জগতকে আলোকিত রাখেন, তাঁরা অবশ্যই এই ক্রমবর্ধমান শব্দ ভাণ্ডার ও তাঁর দৈনন্দিন ব্যবহারের বিষয়ে সবিশেষ ওয়াকিবহাল আছেন। তাঁদের কাছে আগাম আন্তরিক ক্ষমা চেয়ে নিয়ে আমার চার দশকের কর্ম জীবনে প্রতিদিনের কাজে, কাজের আলোচনায়, ব্যবসায়িক ই মেলে, বসের শ্রী মুখে, লন্ডন ইস্ট এন্ডের গলিতে, ফুটবলের মাঠে, ফোনালাপে, পাবের আড্ডায়, চলার পথে অযাচিতে অজান্তে যা পেয়েছি, ক্রমশ বিবর্তিত হতে দেখেছি তাকে আম জনতার আসরে আনবার উদ্যোগে এই আলাপ জোড় ঝালার পর্ব।

    বাংলা সাহিত্যের ক্লাসে অর্থ বিস্তার পড়েছি ; যেমন গঙ্গা একটি নদীর নাম, তা থেকে পেয়েছি গাঙ, গ্রামের এলে বেলে জলধারাকে সে নামে ডাকা যায়। হয়তো এমনটা ঘটেছিল শিল্প বিপ্লবের আমলেও। গত চার দশকে তারই পুনরাবৃত্তি দেখি, অর্থনীতিক, বাজারি জগতে। সেখান থেকে উদ্ভূত শব্দ অথবা বাক্যাংশ চালু হল মুখে মুখে।

    তারই গৎ পরের পর্বে।

    পরিশেষে

    একাকি কথকের এ নহে তো আসর ; তাই পাঠকের সক্রিয় সংযোজনা, পরামর্শ, সম্যক এবং যে কোন আলোচনা একান্ত প্রার্থনীয়।

    পুঃ

    দয়া করে অবধান করুন এটি সপরিবারে পড়বার সিরিয়াল, ডব্লিউ টি এফ মানে ওয়েডনেসডে থারসডে ফ্রাইডে, অন্যটি নয়।

     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ০৩ জুলাই ২০২৬ | ২২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন