
মাননীয় বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষকে আমার খুব ভালো লাগে। যেরকম দৃপ্ত কণ্ঠ, তেমনই বক্তব্যের জোর। প্রতি জমানাতেই আগের জমানা কত খারাপ ছিল, এই নিয়ে ওঁর কথা শুনেই অনেক কিছু জানতে পারি। এবার একটু বেশিই পারছি। অনেক ভিডিও ঘুরে বেড়াচ্ছে। এক জায়গায় দেখলাম বললেন, রামকে ভোলা যাবেনা, কারণ ওঁর আদি বাড়ি রামরাজাতলা। রামকে কে ভুলে যাচ্ছিল, আমি ঠিক জানিনা। আমাদের ইশকুলে পাঠ্য ছিল "সীতা বিনা আমি যেন মণিহারা ফণী", আমরা কলেজ বেলা থেকে মহায়ন লিখে এবং পড়ে আসছি, কেরেস্তান মধূ দত্ত অবধি মেঘনাদবধ কাব্য লিখে ফেললেন। তবে গুরুবাক্য মহাবাক্য, বলেছেন যখন, নিশ্চয়ই যাচ্ছিল।
আরেকটা ভিডিওয় দেখলাম, ওঁকে সামনে বসিয়ে একজন বললেন সৌরভ পালোধীকে বার করে দিতে হবে, চল ফোট। কোনো একটা শিল্পকর্মী সভা-টভায়ই হবে। সেটা ঠিকই আছে। কিন্তু সঙ্গে আরও বললেন, রুদ্রদাকে আমি দেখেছি রাতের পর রাত ঘুমোতে পারেননা। শুনে আমার পথের দাবীর সব্যসাচীর কথা মনে পড়ল। সেই হে বীর, তুমি দেশের জন্য সর্বস্ব ত্যাগ করিয়াছ, ইত্যাদি প্রভৃতি। রুদ্রবাবু শুনে দেখি মিটিমিটি হাসছেন। এই ইনসোমনিয়ার ব্যাপারটা ২১ সালের, না তার আগেও হত, সেটা আর খোলসা হলনা।
কিন্তু সবথেকে ভালো যেটা দেখলাম, সেটা অন্য আরেকটা লম্বা বক্তৃতা। প্রথমে বললেন, ব্রাত্য বসুরা গুণী শিল্পী। ওঁরা জেলে থাকবেন না বেলে থাকবেন, সে আইন ঠিক করবে, কিন্তু শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত। শুনে আমার দুর্ধর্ষ লাগল। জেলে থাকবেন না বেলে থাকবেন, সেটা আইন না ডিমধারী 'সাধারণ মানুষ' ঠিক করবে, সেটা নিয়ে একটু ধন্দ ছিল, কিন্তু সে ঠিকই আছে। তারপর বললেন, স্বরূপ বিশ্বাসরা শিল্পের কিচ্ছু বোঝেন না, কস্মিনকালেও চাষবাস নেই, শিল্পকে দখল করতে এসেছিলেন। এর চেয়েও খাঁটি কথা আর হয়না। সম্পূর্ণ একমত হয়ে গেলাম। কিন্তু তারপরই এল ক্লাইম্যাক্স। উনি বললেন, এই জন্যই ব্রাত্য বসুরা বেশি অপরাধী। কারণ তাঁরা যা করেছেন জেনেবুঝে করেছেন। ওঁদের ক্ষমা নাই।
এইটা শুনে আমি, যাকে বলে বাকরহিত। শুধু বিষয়বস্তুর গুণে না। থ্রোয়িং এবং ক্লাইম্যাক্সের গুণে একটা সাধারণ বক্তব্যই কীরকম সিনেমা হয়ে উঠতে পারে, এ যেন তার জ্বলন্ত হাতেকলমে উদাহরণ। এই জন্যই আমার ওঁকে এত ভালো লাগে। আশা করব এটা উনি চালিয়ে যাবেন। বাম জমানায় গণসঙ্গীত গেয়ে শ্রেণীশত্রুদের মুখোশ খুলে দিয়েছেন, তৃণ জমানায় বাম অপশাসনকে চিনিয়ে দিয়েছেন, বিজেপি জমানায় নিখুঁত ভাবে চিহ্নিত করেছেন তৃণমূলের অপরাধীদের। আশা করি, পরের জমানায় একই ভাবে বিজেপিরও মুখোশ খুলে খানখান করে দেবেন। এক আধটা জমানায় এক-আধজনকে এরকম করতে দেখেছি, কিন্তু সমস্ত জমানায় এই একই ধারাবাহিকতা? অসম্ভব। ওঁর উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি এবং সর্বাঙ্গীণ কুশল কামনা করি।
পুঃ বক্তব্যগুলো কোনোটাই হুবহু না, যেজন্য উদ্ধৃতি-চিহ্ন দিইনি। হুবহু শুনতে গেলে ভিডিও শুনে নেবেন।