

ছবি: রমিত
একটা চারকোনা টিনের বাক্স। তার ভেতরে বই, রুলটানা খাতা আর কাঠ পেন্সিল। আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দিন।
নিরিবিলি, শান্ত আর নেহাতই আটপৌরে এক মফস্বলি শহরে শুরু হয় আমার পাঠশালার দিন। সবে শহরের গায়ে জেলা সদরের ভারিক্কি নাম ঝোলানো হলেও আচারে আচরণে সে শহর ছিল একদমই সাদামাটা। রাস্তার মোরে কিংবা গলির মাথায় দাঁড়িয়ে থাকা টিনের আটচালা ঘরগুলো তখনও সাক্ষ্য দিতো এক আড়ম্বরহীন সময়ের। তবে সেসবের মাঝেও বেশকিছু বনেদি বাড়ি এখানে সেখানে ছড়িয়ে থেকে নিভৃতে বলে যেতো শহরের সমৃদ্ধ ইতিহাসের কথা।
নদীর শহর। তাই বাড়ি থেকে বাক্স পেটরা নিয়ে বাবার চাকরির সুত্রে প্রথম যেদিন সে শহরে আসা হয় সেদিন কিন্তু স্টিমারেই করোতোয়া পার হতে হয়েছে। মন খারাপের আকাশভাঙা কান্না নিয়ে যখন বাড়ি আর ঠাকুমাকে ছেড়েছিলাম তখনও জানতাম না নদী পাড়ের সেই শহরের সঙ্গেই হয়ে যাবে আমার আজীবনের বোঝাপড়া।
নদীর পাশেই নীচু এক পাড়, আমলাপাড়া। সেখানেই আমাদের মফস্বলি সময়ের শুরু। তখনও যমুনা নদীতে শহর রক্ষা বাঁধ পড়েনি। তাই বাঁধনহারা নদী ইচ্ছে হলেই চলে আসতো বাসার উঠোনে।
এজন্য নদী আর জলেই আমার শৈশবের কাগজনৌকা ভেসে বেড়াতো ইছেমতন যখন তখন।
তবে সেসব বাঁধাহীন দুরন্তপনা শেষে আমাকে যথারীতি ফিরতে হতো বাঁধাধরা জীবনের কাছে। দাদুর কাছে হাতেখড়ি আর পন্ডিত স্যারের কাছে শ্লেট চকে স্বরবর্ণ জীবন শুরু হলেও আক্ষরিক স্কুলজীবন শুরু হয় আমার সেই মফস্বলি সেই শহরে। গন্তব্য গৌরি আরবান প্রাথমিক বিদ্যালয়। কালিবাড়ি মন্দিরের গা ঘেঁষা ইটের ওয়ালগাঁথায় ঢেউটিনের দোচালা। ক্লাসের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছোট্ট চোখে প্রথমদিনই দেখে নিয়েছিলাম গোল্লাছুট খেলার অবারিত মাঠ আর টলটলে এক টুকরো পুকুরকে।
হাতে ধরা আমার বই, প্রাথমিক গণিত আর সামনে শিক্ষকের টেবিলে ঊষা মাসি, মঞ্জু দি, অশোকা দি, আলপনা আপা। হাজিরা খাতায় ভর্তি রোল ২৭।
বাবা ওপার বাজার থেকে কিনে এনে দিয়েছিলো একটা চারকোনা টিনের বাক্স। শুরু হলো বালিকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম দিন।
মধ্য জানুয়ারী, বাংলায় মাঘ। নদী জল থেকে উঠে আসা কুয়াশায় ঢেকে থাকা মফস্বলি শহরের আলস্য ভেঙে যে দু'একজন রাস্তায় তারা হয় ফুলের সাজি ভরে সাদা টগর তুলছে নয়তো চায়ের টঙ দোকানের উনুনে ঘষি জ্বালছে। বাবার ঠিক করে দেওয়া রিক্সা। কুয়াশা কেটে কেটে আমার প্রথম স্কুলের দিকে এগিয়ে যাওয়া।
আকাশী রঙের স্কুল ইউনিফর্ম। সাদা কেডস। সাদা স্কার্ফ। চুলে দুই ঝুঁটি। আমার বইয়ের প্রথম ভাগ।
এসেম্বলিতে মুষ্টিবদ্ধ হাত সামনে ছড়িয়ে,
আমি শপথ করিতেছি যে, দেশের প্রতি অনুগত থাকিবো...
দফতরি ঘন্টা বাজায়। একবার। প্রথম পিরিয়ড। প্রথম শ্রেণির স্কুলবেঞ্চ। রূপা, রনি, রাজিব, সবুজ সবাই এক বেঞ্চে। অশোকা দি'র গম্ভীর মুখ। সবুজ রঙের হাজিরা খাতা। রোল কল। দাঁড়িয়ে উচ্চকন্ঠে 'উপস্থিত আপা'।
ব্ল্যাকবোর্ড ডাস্টার চক। আমার বইয়ের প্রথম পাতা। আতা গাছে তোতা পাখি। রুলটানা খাতার প্রথম পাতা ভরে নিজের নামের বানান শেখা।
আমার উত্তরণ। আমার বড় হওয়ার ভান করা। স্কুলের মাঠ। দাঁড়িয়াবান্ধা। ছুঁয়ে দিয়ে ভোঁ দৌঁড়।
কালিবাড়ির গৌরমন্দিরে বাল্যভোগ। আর হলুদ কল্কি ফুলের ডালে একটা দুটো কাঠঠোকরা,
ঠক...ঠক...ঠক...
দফতরির একটানা ঘন্টা। ছুটি। মাটি জড়ানো পা কেডসে ঢোকানো। স্কুল গেটে হজমির পুরিয়া। লাল সবুজ কাঠি বরফ। আর চার আনায় পাওয়া নারকেল ছড়ানো সাদা বরফ।
১৯৮৩ সাল। ছবিতে ছোট বৌমা বাড়িতে আসা নতুন এক অবাক বাকশের সঙ্গে। দত্ত স্টুডিও থেকে সেদিন সাটার টানা ক্যামেরা বাড়িতে এসেছিলো সময়কে কালো রিলে বন্দি করতে।
ও হ্যাঁ, ঠাকুমার একান্ত অনুসারী আমি কাকিদের মুরুব্বীপনা করে বৌমা ডাকতাম।
ফিরি এবার সেই অবাক বাকশের গল্পে। নব ঘুরালে প্রথমে সাদাকালো ঝিরঝির। এরপর উঠোনে বাঁশের মাথায় লাগানো এন্টেনার মাথা এদিক ওদিক ঘোরালে আস্তে আস্তে স্পষ্ট হতো ছবি। সে ছবি হাসে, কাঁদে, গল্প বলে।
আমাদের একান্ন উঠোনকে মাঝখানে রেখে চারপাশের ঘরগুলোর মধ্যে বড়ঘরই ছিল আমাদের বৈঠকখানা। তবে কেতাবিয়ানা ছিল না তাতে। ঘরের মেঝেয় নেহাতই পাটি পেতে সকাল-সন্ধ্যায় চা মুড়ি খাওয়া অথবা জরুরী কোনো আলোচনার আটপৌরে আয়োজনে সে ঘরই ছিল আমাদের অব্যর্থ গন্তব্য। একখানা কালো রঙের নকশী কাঠে খাট, খুব সাধারণ একখানা টেবিলক্লথে ঢাকা টেবিল আর মাত্র একটা চেয়ার। সেই চেয়ার অবশ্য বাড়ির যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একমাত্র দাদুর দখলে থাকতো দায়িত্বশীলতার একমাত্র বাহক হয়ে।
আর ছিল একটা বারো ব্যান্ডের রেডিও। যে সন্ধ্যা থেকে কুনকুন সুরে কখনো গাইতো কখনো গুরুগম্ভীর হয়ে পড়ে যেতো সন্ধ্যা সাতটার সংবাদ। তবুও বৈঠকখানার সাধারণ সংজ্ঞা হয়ে বড়ঘরই ছিল আমাদের সকল বিনোদনের একমাত্র অনুসঙ্গ।
কিন্তু সেই অবাক বাকশো আমাদের বাড়িতে আসতেই বদলে গেলো সন্ধ্যার সকল হিসেবনিকেশ। একান্ন উঠোনের পশ্চিমপাশে তখন একহারা তিনটা ইটের ঘর। সদ্য মাথা তোলা সেই ঘরগুলোর একটিতে মহাসমারোহে স্থাপিত হয়েছিলো সেই বাকশো। বিকেল হতেই বাড়ির উনুন নিভে যেতেই মা কাকিরা গা ধুয়ে মাড় দেওয়া কড়কড়ে শাড়ি পড়ে যখন কপালে সিঁদুর আঁকতে বসতো তখন মনিপিসি ঘড়ি দেখে ঠিক পাঁচটায় পৌঁছে যেতো অদ্ভুত সেই বাকশের সামনে। নব ঘুরিয়ে এন্টেনা এদিকওদিক নাড়িয়ে নানা কসরতে যখন বাকশোতে ছবি স্পষ্ট করতো তখন সেখানে নেহাতই কোনো এক গুরুগম্ভীর আলোচনা কিংবা হাটেমাঠে কৃষি নিয়ে জরুরী কোনো বাতালাপ। তবে এসবের মাঝেও মন খুশি হয়ে উঠতো যখন নিটোল মুখের অঞ্জলি মোস্তফা ঘোষণা করতো 'বি জে এন্ড দ্যা বিয়ার' উপস্থাপনার তখন বেশ গেড়েগুড়ে বসতাম আমি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমার আশেপাশে আস্তে আস্তে ভিড় বাড়তো। মা কাকিদের কেউ কেউ সন্ধ্যার চায়ের পালা শেষ করেই এসে বসতো সেই অবাক বাকশের সামনে।
তবে সপ্তাহের কোনো একদিন যখন রাত ন'টার পর সকাল-সন্ধ্যা নাটকের প্রারম্ভিক সুর বেজে উঠতো তখন বলতে গেলে সারা পাড়া হয়ে উঠতো আমাদের কুটুম। ঘর ছাড়িয়ে বারান্দা উঠোন থেকেও তখন একনিষ্ঠ নিবন্ধ অসংখ্য চোখ সেই অবাক বাক্সে।
এরপর রাত পোহালেও সপ্তাহজুড়ে মা কাকিদের গল্পে থেকে যেতো সেই শিমু ভাবি কিংবা বুবলি।
গল্প বদলে যাচ্ছিলো বাড়ির। বদলে যাচ্ছিলো বাড়ির সন্ধ্যা। মাটির কোলে, যদি কিছু মনে না করেন, এইসব দিনরাত্রি, ছায়াছন্দ, পূর্ণ দৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি, দ্যা বিল কসবি শো, মাটি ও মানুষ---আমরা বড়ঘরকে পেছনে ফেলে একটু একটু করে অভ্যস্ত হচ্ছিলাম সেই অবাক সাদাকালো বাকশে। মেঝেয় পাতা পাটিকে একলা করে আমাদের চায়ের আড্ডা সীমিত হয়ে আসছিলো ঘড়ির কাঁটা সাতটার ঘরে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই।
সাদাকালো অবাক বাকশো বদলে দিচ্ছিলো আমাদের বাড়ির একান্ন সময়ের গল্প।
তবে সেই অবাক বাকশের সকল আকর্ষণ উপেক্ষা করে কাঠের টেবিলে কুনকুন করে বেজে চলা রেডিও তখনও দাদুর সামনে একাই বলিষ্ঠ হয়ে বলে চলতো,
সন্ধ্যা সাতটা, আপনারা শুনছেন ভয়েস অফ আমেরিকা...
আশির আউনিবাউনি তাই সেই শোলোক যা আওড়াতে আওড়াতে আমরা শুধু বড়ই হই না, বদলেও যাই একান্ন উঠোনের এক্কাদোক্কা সময়কে পাশ কাটিয়ে।
আমার ইশকুল। আমাদের বালিকা বিদ্যালয়। আমাদের আনন্দ আশ্রম। মফস্বলি শহরের বুকে এক ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকা প্রাচীন এক বিদ্যাপীঠ।
১৯৯১ সাল প্রাইমারিতে সেবারই সমাপনী পরীক্ষার চল শুরু। সে বিশাল (পড়ুন হাবেভাবে) বোর্ড পরীক্ষার বাঁধা ডিঙিয়ে রীতিমতো ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তবেই জায়গা হয়েছিলো এই বিদ্যানিকেতনে। তখন দিনপ্রতি দু'টাকায় রিক্সা ভাড়া পাওয়া যেতো। গাঢ় নীল রঙের ফ্রক আর সাদা স্কার্ফ, সাদা ফিতের কলা বেণী সঙ্গে টিফিনের চার আনা।
সহজ, সরল কিন্তু মণিমাণিক্যে ভরা।
সুকুমারের গলির মাথায় দাঁড়ালেই রাস্তার ওপাশে রিক্সা স্ট্যান্ড। বাবু'র মেয়ে। হাত তুলতেই প্যাডেলে পা পড়তো কারো না কারোর। এরপর ক্রাউন স্টুডিও, কড়ইতলা, রনি আইসক্রিমের ফ্যাক্টরি পেরিয়ে নীলা সিনেমা হল।
ততদিনে রোজিনার গালের কালো তিলের দিন ফুরিয়ে শাবনাজের কাব্যিক চোখের দিন শুরু হয়ে গেছে। কেন জানি না সিনেমা হলে যাওয়া কোনো এক অজানা কারণে বারণ ছিল আমার তখন। তাই ম্যাটিনি শো'এর সব আহবান পুষিয়ে নিতাম নীলা হলে ঝুলিয়ে রাখা সিনেমার পোস্টার থেকেই।
আর ছিল বসাক স্টোর্স। সেখান থেকে বেছে বেছে কেনা ভিউকার্ডেও মিটিয়ে নিতাম খানিক শখ।
এরপর একটা মোড়। তার মাথায় ছিল ভিডিও ক্যাসেটের দোকান। নাম ভুলে গেছি তার। তবে সারাক্ষণ বেজে চলা হিন্দি গানগুলো দিব্যি মনে আছে! বলে রাখা ভালো তখন কিন্তু ৯০। তাই ৯০'র মেলোডিকে অস্বীকার করার দু:সাহস আসলে কখনই হয়নি আমার।
মোড় পেরিয়ে লম্বা রাস্তা। তারপর আই এ কলেজ ( তখনও ইসলামিয়া কলেজ নামকরণ হয়নি)। এর সামনে বিশাল মাঠের এক কোণে মধ্যবয়সী কদম গাছ। জানি না কেন ফুল ভরা সেই কদম গাছ এখনো আমার স্বপ্নে চলে আসে হুটহাট। আরেকটু এগোলেই ইশকুল। তার আগে বুজে আসা একটা ছোট্ট পুকুর।
বর্ষায় কচুরিপানা ফুলের সঙ্গে সখ্যতা কিন্তু আমার এখান থেকেই হয়েছে।
এরপর রিক্সা থেকে নামতেই ফটক পেরিয়ে এক দৌঁড়। জানি না কেন অতটুকুন মাঠকে কী বিশাল প্রান্তর মনে হতো তখন!
খ শাখার ক্লাশ নীচ তলাতেই ছিল। সীমানা প্রাচীরের বাঁধা ডিঙিয়ে অপ্রতুল আলোতেও আমরা হাসতাম, আমরা গাইতাম। নীরুপমা, সুমি (১) রনি, সালমা,মালবিকা, সুমি (২), ইভা, রুবা, ছালানা সবাই বন্ধু। নির্ভেজাল বন্ধুত্ব, এতোটাই গাঢ় যে হিন্দুধর্মের ক্লাশ ফাঁকি দিয়ে থেকে যেতাম সকলের সঙ্গে। মৌলবী স্যার আসতেন, চোখে পড়তেই বকা দিয়ে পাঠিয়ে দিতেন আমার ক্লাশে।
মিলু দি অবশ্য হিন্দু ধর্ম ক্লাশে গান আর রেওয়াজ নিয়ে কথা বলেই সময় পাড় করতেন।
খাতায় কাটাকুটি খেলা আর ইকোনো বল পেনের সব কালি ফুরিয়ে হাতে নকশা আঁকা শেষ হতেই টিফিনের ঘন্টা। আমাদের দুরন্ত সময়। কালো হজমি আর মিঠে জলের সময়।
জামতলায় বসতো মাসি। চার আনায় এক প্যাকেট চানাচুর আর এক পুরিয়া হজমি। স্কুল থেকে মাথা গুনতি টিফিনে কখনো খুরমা কিংবা প্যাটিসের ভাগাভাগি শেষে আমরা বসতাম হজমি নিয়ে। আঙুল দিয়ে জিহবায় কালো হজমির গুড়ো লাগিয়ে দিয়েই ছুটতাম কলতলা। পুকুরের পাশে টিউবওয়েল চেপে অঞ্জলি ভরা জল মুখে চালান করে দিতেই হদিস পেতাম মিঠে জলের।
আচ্ছা, সেই মিঠে জলের স্বাদ এখন আর পাই না কেন?
এরপর দাঁড়িয়াবান্ধা, বরফ পানি সময়। ঘেমে নেয়ে যখন ক্লাশে ফিরতাম তখন খড়খড়ি তোলা জানালা পেরিয়ে আসা ইউক্যালিপটাসের গন্ধমাখা হাওয়া দিন ফুরানোর আভাস দিতো।
বিকেল চারটা। ঢং ঢং ঢং ঢং....। দপ্তরীর ঘন্টায় দিনশেষের পরোয়ানা জারি হতেই আবার পরের দিনের অপেক্ষা।
আমার বিদ্যালয়। আজও ফেসবুকের পাতায় ভেসে আসা ছবি দেখলে থেমে যাই। জুম করে দেখি। বারবার দেখি। খুঁজে খুঁজে বের করি এসেম্বলির জায়গা, বার্ষিক পুরস্কার বিতরণীর অস্থায়ী মঞ্চ, টিনশেডের হিন্দু ধর্ম ক্লাশ, পি.টি. ক্লাশের সেই এক চিলতে মাঠ।
আর খুঁজি কতগুলো চেনা মুখ কিংবা নিজেকে।
১৯৯৬ থেকে ২০২৬ সাল। লম্বা সময়। ত্রিশ বছরেও পিছু ছাড়ে না এই বালিকা বিদ্যালয়ের পিছুডাক।