এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ইস্পেশাল  নজরুল-পক্ষ

  • নজরুলের রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্ব

    পারভেজ আলম
    ইস্পেশাল | ০৯ জুন ২০২৬ | ৫০ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • অলংকরণ: রমিত





    মা ফাতেমা! কোন জন্নতে আছ? দুনিয়ার পানে চাহো,
    প্রার্থনা করো, দূর হোক ভায়ে ভায়ে বিদ্বেষ দাহ!
    - “মোহররম”, (অগ্নিবীণা) কাজী নজরুল ইসলাম

    কাজী নজরুল ইসলামের লেখালেখিতে ধর্ম এবং আধুনিকতার যেই বৈপরীত্য ও দ্বন্দ্ব দেখা যায় (যা নিয়ে আজো অনেক আলোচনা চলছে), তাকে আর বৈপরীত্য বা দ্বন্দ্ব মনে হবে না, যদি আমরা নজরুলের চিন্তায় উপস্থিত থাকা রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্বকে (পলিটিকাল থিওলজি) আমলে নেই। নজরুল ছিলেন খুবই সহজাত একজন রাজনৈতিক ধর্মতাত্ত্বিক লেখক/ভাবুক। কিন্তু রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্ব বলতে কী বুঝাচ্ছি?

    রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্ব (পলিটিকাল থিওলজি) বিষয়ক সমকালীন তত্ত্বের সারকথা হলো যে আধুনিক যুগের অধিকাংশ রাজনৈতিক দার্শনিক তত্ত্ব আসলে সেকুলারাইজড ধর্মতত্ত্ব। বা বহু রাজনৈতিক দার্শনিক তত্ত্বেরই ধর্মতত্ত্বীয় পূর্বসূরী পাওয়া যাবে। যদিও রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্ব ধারণার এহেন সংজ্ঞায়নে কার্ল শ্মিটের ভূমিকাই সবচাইতে বেশি স্বীকৃতি পেয়ে থাকে, কিন্তু ধারণাটি তার আগে থেকেই দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে উঠেছে। এবং কার্ল শ্মিটের সমকালীন ইহুদি মার্ক্সিস্ট দার্শনিক ও সংস্কৃতি বিচারক ওয়াল্টার বেনিয়ামিনও পলিটিকাল থিওলজি বিষয়ক সমকালীন তত্ত্ব নির্মানে প্রভাবশালী ভূমিকা রেখেছেন। জার্মান ভাষায় ধারণাটি প্রথম ব্যবহার করেন এনলাইটেনমেন্টের আমলের ইহুদি দার্শনিক সলমোন মাইমন। তিনি ধারণাটি নিয়েছেন স্পিনোজার বিখ্যাত বই পলিটিকাল থিওলজিকাল ট্রিটিজ থেকে। স্পিনোজার লেখায় পলিটিকাল থিওলজির অর্থ হলোঃ সেকুলার থিওলজি (বা পলিটিকাল ফিলোসফি)। যেহেতু তিনি পলিটিকাল এবং সেকুলার শব্দ দুইটিকে সমার্থক অর্থে ব্যবহার করেছেন। এক্ষনে স্মরণ করা যেতে পারে যে বাংলা ভাষায়ও উনবিংশ শতকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ধর্মতত্ত্ব ধারণাটির একটি সেকুলার ব্যাখ্যা (দ্বীজবর্ণের কালচার অর্থে) হাজির করেছিলেন, যেই ব্যাখ্যা হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্যারাডাইমের ভূমিকা রেখেছে।

    আমি এখানে রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্ব ধারণাটি ব্যবহার করছি মোটাদাগে ওয়াল্টার বেনিয়ামিনের অনুসরণে। বেনিয়ামিন আধুনিক বিভিন্ন রাজনৈতিক তত্ত্বের ধর্মতত্ত্বীয় কাঠামোকে অস্বীকার বা গোপন করার বদলে উন্মোচন করার পক্ষপাতি ছিলেন। পাশাপাশি তিনি মার্ক্সিয় তত্ত্বচর্চা ও বিশ্লেষণে পলিটিকাল থিওলজিকাল বিভিন্ন বর্গ, তত্ত্ব ও ধারণার (যেমনঃ মেসিয়ানিজম) ব্যাবহারও করেছেন। কাজী নজরুল ইসলামের লেখায় উপস্থিত থাকা রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্ব বোঝার জন্যেও মাহদিবাদ (মেসিয়ানিজম) গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হতে পারে। এমনিতে নজরুলের বহু কবিতাতেই একধরণের সেকুলার মাহদিবাদ উপস্থিত আছে প্রচ্ছন্নভাবে। বিশেষ করে, নজরুলের অন্যতম দুই সমাজতন্ত্রী কিতাব সর্বহারা (২৯২৬) এবং সাম্যবাদী (১৯২৫) কে মার্ক্সিয় মাহদীয় ধারার কিতাব হিসাবে পাঠ করা সম্ভব। বিশেষ করে "মানুষ" (সাম্যবাদী) অথবা "ধূমকেতু"র (অগ্নিবীণা, ১৯২২) মতো কবিতাগুলিতে নজরুলের মাহদিয় চেতনা বেশ স্পষ্ট। চব্বিশের জুলাইয়ের দিনগুলিতেও, দেবাশিসের পোস্টারের স্লোগান হিশাবে ধূমকেতু কবিতার কিছু মাহদিয় পঙক্তি গণঅভ্যুত্থানের প্রেরণা জুগিয়েছিল।



    বর্তমানের কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই 'নবি'।
    কবি ও অকবি যাহা বলো মোরে মুখ বুঁজে তাই সই সবি!
    - কাজী নজরুল ইসলাম, "আমার কৈফিয়ত", সর্বহারা

    সর্বহারা (১৯২৬) নিখাদ কবিতার বই না। বইটাকে খুব সহজেই এক ধরণের সমাজতন্ত্রী মেনিফেস্টো বা অন্তত সমাজতন্ত্রী প্রোপাগান্ডা হিসাবে হিসাবে পাঠ করা যেতে পারে। বিশের দশকের নজরুল সমাজতন্ত্রী ভাবধারা প্রভাবিত বিদ্রোহী-বিপ্লবী ভাবের কবি এবং রাজনৈতিক কর্মী (একটিভিস্ট) ছিলেন। সেসময় মোল্লাদের সাথেও তিনি বড় ধরণের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছিলেন। কাফের ফতোয়া পেয়েছেন। আবার ফারসি শব্দ ব্যবহারের কারনে তৎকালীন হিন্দু পাঠক সমাজও তাকে নিয়ে অস্বস্তিতে ছিল। "আমার কৈফিয়ত" কবিতায়, কবির ভাষায়ঃ
    "মৌ-লোভী যত মৌলবী আর 'মোল্-লারা কন হাত নেড়ে,
    'দেব-দেবী নাম মুখে আনে, সবে দাও পাজিটার জাত মেরে!
    ফতোয়া দিলাম-কাফের কাজী ও,
    যদিও শহীদ হইতে রাজি ও!
    'আমপারা'-পড়া হাম্বড়া মোরা এখনো বেড়াই ভাত মেরে!'
    হিন্দুরা ভাবে, পার্শি শব্দে কবিতা লেখে, ও পাত-নেড়ে!"

    আবার, কবিকূল ও সাহিত্য সমালোচকদেরকেও জবাব দিতে চেয়েছেন নজরুল, যারা হয়তো তার "অকবি"-সুলভ রাজনৈতিকতার কারনে তার কবিত্বকে খারিজ অথবা খাটো করতে চাইতেন। একটা রাজনৈতিক মেনিফেস্টো ধরণের বইয়ে "আমার কৈফিয়ত" কবিতাটি খুব সম্ভবত নজরুলের সবচাইতে ব্যক্তিগত কাব্য। অন্তত, যদি আমরা এই কবিতার বইয়ের অন্যান্য বিখ্যাত কবিতার কথা মাথায় রাখি। কেনোনা, সর্বহারা বইটি হয়তো এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচাইতে সফল প্রোপাগান্ডাধর্মী বইগুলির একটি। বাংলাদেশের সংস্কৃতি থেকে শুরু করে রাজনীতির জগতে বইটির বিভিন্ন কবিতা, রূপক ও ধারণা আজো প্রচন্ড রকম প্রভাবশালী।

    সর্বহারা বইটিতে যদিও নজরুলের সমকালীন সমাজতন্ত্রী পজিটিভিজমের (ইতিহাস অনিবার্যভাবে সাম্যবাদী বিপ্লবের দিকে আগাইয়া যাইতেছে) ছাপ দেখা যায়, কিন্ত কবি দিনশেষে নিজেকে পজিটিভিস্ট সমাজতন্ত্রীদের থেকে আলাদা রেখেছেন বলেই মনে হয়। তিনি পরিষ্কার করেই বলেছেন যে তিনি "নবী" নন। তিনি ভবিষ্যতবাণী করছেন না। বরং তিনি "বর্তমানের কবি"। তিনি, আমাদের "বর্তমানের" কবিও বটে। ইতিহাসের অনিবার্য নিয়মে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একদিন সাম্যবাদী বিপ্লব ঘটবে, এমন ভবিষ্যতবাণী তিনি করছেন না আলোচ্য কবিতাটিতে। বরং, বর্তমানেই সাম্যবাদকে ধরে রাখতে চাচ্ছেন, সংগ্রাম ও কাব্যের মধ্যে। "আমার কৈফিয়ত" নামক আপাত ব্যক্তিগত কবিতাটিও এইদিক থেকে প্রচন্ড রাজনৈতিক, যেহেতু তা শেষ হয়েছে সর্বহারার পক্ষ থেকে প্রতিশোধের ঘোষণার মাধ্যমেঃ
    "পরোয়া করি না, বাঁচি বা না বাঁচি যুগের হুজুগ কেটে গেলে।
    মাথার উপরে জ্বলিছেন রবি, রয়েছে সোনার শত ছেলে।
    প্রার্থনা করো-যারা কেড়ে খায় তেত্রিশ কোটি মুখের গ্রাস,
    যেন লেখা হয় আমার রক্ত-লেখায় তাদের সর্বনাশ!"



    "পুজিছে গ্রন্থ ভন্ডের দল !–মুর্খরা সব শোনো
    মানুষ এনেছে গ্রন্থ, – গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোনো।"
    - মানুষ (সাম্যবাদী)

    বাংলাদেশের আধুনিকতাবাদী, সেকুলার, নাস্তিক ও বামপন্থীদের মধ্যে “মানুষ” নাম কবিতার এই দুই পঙক্তি অত্যন্ত জনপ্রিয়। নাস্তিক এবং বক-ধার্মিক, দুই পক্ষের কাছেই এই দুই লাইন নাস্তিকতাবাদী বক্তব্য হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। কিন্তু নজরুলের কবিতার প্রায় স্বতস্ফূর্ত রাজনৈতিক ধর্মতাত্ত্বিকতাকে আমলে নিলে এই দুই লাইনের একেবারেই ভিন্ন ব্যাখ্যা করা সম্ভব। কোন টেক্সট/বিধান বা এমনকি কোরানও যে নিজে থেকে কিছু বলতে পারে না, বরং মানুষকেই ব্যাখ্যার কর্তা হইতে হয় (বা মানুষই হলো জীবন্ত কোরান), এহেন ধারণা ইসলামী ঐতিহ্যে নতুন কিছু না। কিন্তু নজরুলের কবিতায় এই ধরণের চিন্তা ধর্মতত্ত্বের গন্ডি অতিক্রম করে আধুনিকতা ও সেকুলার রাজনৈতিকতার মোকামে উত্তীর্ণ হয়েছে, যা এই কবিতার আরো বহু বাক্য থেকেই স্পষ্ট।

    নজরুলের যেই আধুনিকতার মোকাম, বাঙালি রক্ষণশীল মুসলমানরা তাতে উঠতে পেরেছেন, তা বলা যাবে না। কিন্তু আধুনিকতাবাদীরাও তো নজরুলকে নিয়ে অস্বস্তিতে থাকেন। মানুষ কবিতাটিতে এমন অনেক লাইন আছে, যা তারা পাতে তুলতে রাজি নয়। যেমন, মানুষ কবিতাতে, উপরে উল্লেখিত পঙক্তিদ্বয়ের পরেই, নজরুল লিখেছেনঃ
    "আদম দাউদ ঈসা মুসা ইব্রাহিম মোহাম্মদ
    কৃষ্ণ বুদ্ধ নানক কবীর, - বিশ্বের সম্পদ।"

    এসব বাক্যকে বাঙলার বামপন্থীরা আধুনিকতার মোকামে (তারা মোকামটাকে যেভাবে চেনেন আর কী) প্রবেশ করতে দিতে চান না। তাই তাদের মুখস্ত দুই পঙক্তির পরেই যে এই দুইটা লাইন উপস্থিত আছে, তাও অনেকে জানেন না। এমনকি নজরুল যে আমাদের মধ্যে নবী রাসুল কিংবা কৃষ্ণ বুদ্ধদের এযুগের উত্তরসূরী হওয়ার সদা বিদ্যমান সম্ভাবনার কথা বর্ণনা করেছেন, তাও তাদের অনেকের জন্যেই অস্বস্তিকর। নজরুল হাসতে মানা করলেও, আজকালকার অনেক নাস্তিক নিচের লাইনগুলা পড়ে হাসতেও পারেনঃ
    "আমরা তাঁদেরি সন্তান, জ্ঞাতি, তাঁদেরি মতন দেহ
    কে জানে কখন মোরাও অমনি হয়ে যেতে পারি কেহ।
    হেস না বন্ধু! আমার আমি সে কত অতল অসীম
    আমিই কি জানি কে জানে কে আছে আমাতে মহামহিম।"

    উপরোক্ত পঙক্তিগুলোর মধ্যে একধরণের প্রচ্ছন্ন মাহদিয় ধর্মতত্ত্বের উপস্থিতি খুঁজে পাওয়া কঠিন নয়। কিন্তু এর পরের লাইনগুলিতে নজরুলের মাহদিয় তাত্ত্বিকতা বেশ স্পষ্ট ভাষাতেই উচ্চারিত হয়েছেঃ
    "হয়ত আমাতে আসিছে কল্কি, তোমাতে মেহেদি ঈসা,
    কে জানে কাহার অন্ত ও আদি, কে পায় কাহার দিশা?"

    বাংলাদেশের ইতিহাসে (হয়তো আধুনিক মুসলমানদের ইতিহাসেও), নজরুলের হাত ধরেই মাহদি, মসিহ, কল্কি ইত্যাদি নামগুলো অনাগত কোন ব্যক্তির নাম নয়, বরং এমনকিছু ধারণায় পরিণত হয়েছে, যা বর্তমানেই উপস্থিত আছে, প্রভাবক সম্ভাবনা আকারে, আমাদের সকলের দেহের মধ্যেই।

    এমনিতে এধরণের মাহদিয় চিন্তারও পূর্বসূরী আছে সুফিতত্ত্বের মধ্যে (যেমন মাওলানা রুমির কবিতায়)। তবে যা বললাম আর কী, নজরুল ইসলামী ধর্মতত্ত্বের বহু ধারণাকেই আধুনিকতার মোকামে উত্তীর্ণ করেছেন। মাহদিবাদের ক্ষেত্রেও তা বলা যায়। এবং আমরা আধুনিক বাংলাদেশীরা (জনগণ হিসাবে) আজো নজরুলের আধুনিকতাবাদের মোকামে উত্তীর্ণ হইতে পারি নাই।



    বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম, গণঅভ্যুত্থান ও বিপ্লবী মুহুর্তে কাজী নজরুল ইসলামের বিশের দশকের কবিতার প্রভাব ও ব্যবহার দেখা যায়। সর্বশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও তা দেখা গেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা রাখা দেবাশিস চক্রবর্তীর কিছু পোস্টার-আর্টে নজরুলের কবিতার যেই উপস্থিতি, তা আমাদের আলোচনার জন্যে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জুলাইয়ের বেশ কিছু পোস্টারে দেবাশিস গণঅভ্যুত্থানের মুহূর্তটিকে উপস্থাপন করেছেন ধূমকেতুর ছবির মাধ্যমে, এবং ক্ষেত্রবিশেষে সরাসরি নজরুলের ধূমকেতু কবিতার পঙক্তি ব্যবহার করে।

    এই পোস্টারগুলোর মধ্যে সবচাইতে বিখ্যাত খুব সম্ভবত রক্তাক্ত জুলাই (Bloody July in Bangladesh) পোস্টারটি। কারফিউ, ইন্টারনেট ব্লাকআউট, আর বর্বর হত্যাযজ্ঞের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশের মানুষ সে সময়টিতে যে প্রবল শক (shock) ও শোকে আক্রান্ত হয়েছিল, তার প্রকাশ দেখা যায় এই পোস্টারটিতে। জনগণ তখন শোকার্ত, ক্ষুদ্ধ, এবং হতবিহবল। জনগণের যৌথ চেতনা ও অচেতনে উপস্থিত অব্যক্ত ভাব প্রকাশের সক্ষমতার কারনেই পোস্টারটি তখন ভাইরাল হয়েছিল। লাল রঙের এই পোস্টারটিতে আমরা এক তরুণকে তার শহীদ সহযোদ্ধার লাশ হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। আর তার পেছনের লাল দিগন্ত ফুড়ে খসে পড়ছে একটা ধূমকেতু। পরবর্তি কিছু পোস্টারে আমরা দেখি আসমানের দিকে ধেয়ে উঠতে থাকা এক অথবা বহু ধূমকেতুর দৃশ্য। জমিনে প্রতিবাদরত ছাত্র জনতা আর আসমানে ধেয়ে ছুটতে থাকা ধূমকেতুর এসব পোস্টার জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ইতিহাসের দিগন্ত ছাড়িয়ে উপস্থাপন করেছে এক মহাজাগতিক দিগন্তে। অথবা, বলা যায় যে, ঐতিহাসিক এবং মহাজাগতিক দিগন্ত এসব পোস্টারে একাকার হয়ে গেছে।

    এমনিতে নজরুলের প্রভাব দেবাশিসের উপর নতুন নয়, বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পূর্বেও নজরুলের বিভিন্ন কবিতার ব্যবহার দেখা যায় তার শিল্পে। কিন্তু তার আঁকা জুলাইয়ের পোস্টারগুলি যে বিশেষভাবে নজরুলের মাহদিয় চেতনা দ্বারা প্রভাবিত, তা বেশ পরিষ্কার। নজরুলের ধূমকেতু কবিতার দুইটি পঙক্তি (“আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুন মহাবিপ্লব হেতু, এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু”) তিনি ব্যবহার করেছেন জুলাইয়ের দুটি পোস্টারে। ধূমকেতু হলো কলিযুগের (শেষ জমানার) মাহদিয় অবতার কল্কির প্রতীক। আর মহাকালতো দেবতা শিবেরই অপর নাম, যার তাণ্ডব নৃত্যে পুরাতন দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যায়, আর নতুন দুনিয়ার সুচনা ঘটে।

    নজরুল ও দেবাশিস যেই মাহদিয় সত্ত্বার উপস্থাপন করেছেন, তিনি কোন অনাগত ভবিষ্যতের মাহদি/কল্কি নন। বরং যিনি ইতিহাসে বারবার ফেরত আসেন, ধূমকেতুর মতো। যিনি ধূমকেতুর মতোই ফেরত এসেছিলেন জুলাইয়ের ওয়াক্তে। কিন্তু আবার ধূমকেতুর মতোই, দ্রুতই চোখের আড়াল হয়েছেন।


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • ইস্পেশাল | ০৯ জুন ২০২৬ | ৫০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • দীপ | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ০৯ জুন ২০২৬ ১৭:৪৩741111
  • বৈপরিত্ব নয় বৈপরীত্য।
    শীব নয় শিব।
  • দীপ | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ০৯ জুন ২০২৬ ১৭:৪৫741112
  • বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলন কোনো ছাত্র আন্দোলন নয়, ইসলামী মৌলবাদী শক্তির আগ্রাসন।
    পরবর্তী ঘটনা খুব স্পষ্টভাবে এই সত্য প্রমাণ করেছে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে মতামত দিন