শুধু অ্যান্টি ন্যাশনালরা একা নয়, এদের সঙ্গে আছে টুকরে টুকরে গ্যাং। দেখে ভীষণ রাগ ধরে কীভাবে প্রত্যেক শহরে, গঞ্জে গাঁয়ে এরা মিশে গেছে, ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টা সব জায়গায় ছড়িয়ে আছে, নিজেদের বিষাক্ত মতামত ছড়িয়ে দিচ্ছে বারবার করে, চেষ্টা করছে ভারতকে টুকরো টুকরো করার, এমন করে বলছে যেন ভারতের ভালো করার এদের কত ইচ্ছা, ভারতের ভালো চেয়ে এরা যেন রোজ উপোস করে। আর মাথা ঝাঁ ঝাঁ করে যখন দেখি শিক্ষিত লোকগুলো সব এদের লেখায় আহা উহু করছে, শেয়ার করছে গ্রুপে গ্রুপে। অথচ এরাই এমন সব কথা ছড়িয়ে দিচ্ছে লোকেরা একে অপরকে সন্দেহের চোখে দেখা শুরু করে দিচ্ছে, দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে ছোটবেলার বন্ধুর সাথেও। পুরনো চেনা ইতিহাসকেও আবার প্রশ্ন করতে হচ্ছে। এরাই খণ্ড খণ্ড করে ভেঙে ফেলছে এই সুপ্রাচীন ভারতভূমিকে। এই টুকরে টুকরে গ্যাং রা সত্যিই এই সমাজের বর্জ্য পদার্থ ছাড়া আর কিছু নয়, এদের সংস্রব এড়িয়ে চলুন, নইলে আপনার মাথাতেও এরা ভারত ধ্বংসের বিষ ঢুকিয়ে ছাড়বে।
প্রথমে বলি কীভাবে চিনবেন এই অ্যান্টি ন্যাশনালদের? গায়ে ঠিক সাধারণ মানুষদের মতোই জামা কাপড় পরে, শিক্ষিত নাগরিক সেজে এরা ঘুরে বেড়ায় কিন্তু সময়ে সময়ে এদের ভোল বদলে যায়। এই যেমন কাল এদের মাথায় ছিল হেলমেট, হাতে লাঠি। পুলিশ সেজে ঘুরছে, কিন্তু কোনো নেম ট্যাগ নেই, উর্দি নেই। এইতো কিছুদিন আগে গিয়েছিল সোনম ওয়াংচুককে তুলে আনতে। সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে কিডন্যাপ করে নিয়ে এলো ঠিক ভাড়াটে গুণ্ডাদের মতো। ছাত্রদের মিছিলে নির্বিচারে লাঠি চার্জ তো করলই, সাথে নিজেরাই লাঠি দিয়ে গাড়ির কাঁচ ভেঙে, রাত থেকে এনে রাখা পাথর ছুঁড়ে রক্তাক্ত করল দেশের ভবিষ্যৎকে। ভিডিওতে দেখা গেল, ল্যাং মেরে ফেলে দিচ্ছে একটি ছেলেকে, লাঠি দিয়ে খোঁচানোর চেষ্টা করছে একটি মেয়ের প্যান্ট, চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকা এক যুবককে মেরে বাঘের মতো ডোরাকাটা করে দিল। এরা একা নয় অ্যান্টি ন্যাশনাল তারাও যারা ফেসবুকে এই মারধরকে সাপোর্ট করল, প্রশ্রয় দিল, খিল্লি করল ছাত্র আন্দোলনকে নিয়ে, সোনম ওয়াংচুককে নিয়ে, দিপকের খাবার খাওয়ার ছবি নিয়ে, নেহার মর্ফ করা ফটো নিয়ে। কিন্তু এরাই একমাত্র অ্যান্টি ন্যাশনাল নয়।
বিল্ডিং এর ভেতরেও বসে আছে প্রচুর অ্যান্টি ন্যাশনাল, চেষ্টা করে যাচ্ছে নিয়মিত, কী উপায়ে দেশের পরিবেশ এর একদম ভূষ্টিনাশ করে তাদের মালিক যেসব সামন্তপ্রভু তাদের হাতে দেশকে তুলে দেওয়া যায়, কীভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে, সোশ্যাল মবিলিটি আটকে দিয়ে, মানুষের যুক্তি বুদ্ধি বিচার বিবেচনা বোধ লোপ পাইয়ে একটা অনুগত জম্বিতে পরিণত করে রাখা যায়। একের পর এক ইন্সটিটিউশন, গণতন্ত্রের একের পর এক স্তম্ভ গুঁড়িয়ে দিচ্ছে, বদলে বসিয়ে দিচ্ছে অনুগত দাসানুদাস। অবাক হই এদের পাকিস্তান প্রীতি দেখে, ভাবি পাকিস্তান সরকারের সাথে সম্ভবত এদের কোনো গোপন আঁতাত আছে, নইলে পাকিস্তান ট্যুরিজম কর্পোরেশন এর থেকেও বেশিবার করে পাকিস্তান এ যেতে বলে কেন দেশের নাগরিকদের?
সাথে টুকরে টুকরে গ্যাং কে চেনার উপায়ও বলে রাখি। ফেসবুকে দেখবেন বেশির ভাগ সময়ই লকড প্রোফাইল, সেইসব প্রোফাইলের বয়সও নতুন, সব কমেন্ট সেকশনে এসে হাগু করে যায়। ফেসবুকে রিপোর্ট করেন তবু কোনো একশন নেওয়া হয় না, নেবে কী করে, এদের বাপ দাদা রাই তো ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি বিজ্ঞাপন দেয়, ফেসবুক তো সোশ্যাল মিডিয়ার আড়ালে এডভারটাইজিং স্পেস বেচে আসলে, বিজ্ঞাপনদাতাদের চটালে চলবে? এরাই দিনের পর দিন ঘৃণা ছড়িয়ে চলে, ধর্মের নামে, জাতের নামে, বর্ণের নামে, বিভাজন ছড়িয়ে দেশকে টুকরো টুকরো করে চলেছে প্রতিনিয়ত। নেতা, অভিনেতা, ধর্ম ব্যবসায়ী এরকম প্রচুর লোক মিশে আছে এই টুকরে টুকরে গ্যাঙে। মিশে আছে চোখে ঠুলি পরতে চাওয়া কিম্বা ভেতরে ঘিনঘিনে বিষ ভরা কিছু মানুষের মতো দেখতে জনতাও।
তবে এদের একটা ব্যাপার প্রশংসা করা উচিত, এরা কখনো কখনো সত্যি কথাও বলে ফেলে। যেমন দেখুন শুরু থেকেই বলে আসছে হিন্দু খতরে মে হ্যায়, আমরাই তখন বিশ্বাস করিনি। আজ দেখছি শুধু হিন্দু নয়,ও গোটা হিন্দুস্তান তথা ভারতবর্ষ আজ ঘোর খতরে মে আছে। তা এই ঘোর বিপদে আপনি ইতিহাসের কোনদিকে থাকবেন?