এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  আলোচনা  রাজনীতি

  • যে যাই বলুক আমি অ্যান্টি ন্যাশনালদের সমর্থন করব না

    কণিষ্ক
    আলোচনা | রাজনীতি | ২২ জুলাই ২০২৬ | ১৬৮ বার পঠিত | রেটিং ৪ (৩ জন)
  • আমি সত্যি বলছি, একদম সত্যি করে বলছি আমি একদম মনে প্রাণে বিশ্বাস করি যে অ্যান্টি  ন্যাশানালদের জন্যই দেশটা গোল্লায় যাচ্ছে। সবাই কত চেষ্টা করছে দেশটা ঠিক রাখার, ইকনমি ঠিক রাখার কিন্তু অ্যান্টি ন্যাশনালরাই সব কিছু নষ্ট করে দিচ্ছে, এদের জন্যই বিশ্বজুড়ে ভারতের এত বদনাম হচ্ছে ইদানীং, ওয়ার্ল্ড মিডিয়া ভারতের দিকে কাদা ছোড়ার সাহস করছে। 

    কাল প্রচুর সংখ্যক অ্যান্টি ন্যাশনাল দেখলাম ঘুর ঘুর করছে দিল্লির রাস্তায়, কারা এরা, কোথা থেকে এসেছে কেউ জানেনা। অথচ দলবল নিয়ে চলে এসেছে। কেউ কেউ রাত থাকতেই স্পটে হাজির ঝামেলা পাকাবে বলে। ভারতের মতো দেশের রাজধানী দিল্লির বুকে এত বড় নোংরামো, তবুও দেশের অনেক মানুষ এটাকে আবার সাপোর্ট করছে এটা দেখে আমার ভীষণ খারাপ লাগছে। কে সোশ্যাল মিডিয়ায় কী মিথ্যে কথা প্রচার করছে সেটা চোখ কান বুজে বিশ্বাস করবেন? আমার আপনার দেশের কথা একবারও ভাববেন না? লজ্জা করছে না আপনার দেশবাসী হিসেবে, রাজধানী জুড়ে অ্যান্টি ন্যাশনাল গুলো দাপাদাপি করবে? এর আগে এরা গেছিল আবার যন্তর মন্তরে। 

    শুধু অ্যান্টি ন্যাশনালরা একা নয়, এদের সঙ্গে আছে টুকরে টুকরে গ্যাং। দেখে ভীষণ রাগ ধরে কীভাবে প্রত্যেক শহরে, গঞ্জে গাঁয়ে এরা মিশে গেছে, ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টা সব জায়গায় ছড়িয়ে আছে, নিজেদের বিষাক্ত মতামত ছড়িয়ে দিচ্ছে বারবার করে, চেষ্টা করছে ভারতকে টুকরো টুকরো করার, এমন করে বলছে যেন ভারতের ভালো করার এদের কত ইচ্ছা, ভারতের ভালো চেয়ে এরা যেন রোজ উপোস করে। আর মাথা ঝাঁ ঝাঁ করে যখন দেখি শিক্ষিত লোকগুলো সব এদের লেখায় আহা উহু করছে, শেয়ার করছে গ্রুপে গ্রুপে। অথচ এরাই এমন সব কথা ছড়িয়ে দিচ্ছে লোকেরা একে অপরকে সন্দেহের চোখে দেখা শুরু করে দিচ্ছে, দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে ছোটবেলার বন্ধুর সাথেও। পুরনো চেনা ইতিহাসকেও আবার প্রশ্ন করতে হচ্ছে। এরাই খণ্ড খণ্ড করে ভেঙে ফেলছে এই সুপ্রাচীন ভারতভূমিকে। এই টুকরে টুকরে গ্যাং রা সত্যিই এই সমাজের বর্জ্য পদার্থ ছাড়া আর কিছু নয়, এদের সংস্রব এড়িয়ে চলুন, নইলে আপনার মাথাতেও এরা ভারত ধ্বংসের বিষ ঢুকিয়ে ছাড়বে।

    প্রথমে বলি কীভাবে চিনবেন এই অ্যান্টি ন্যাশনালদের? গায়ে ঠিক সাধারণ মানুষদের মতোই জামা কাপড় পরে, শিক্ষিত নাগরিক সেজে এরা ঘুরে বেড়ায় কিন্তু সময়ে সময়ে এদের ভোল বদলে যায়। এই যেমন কাল এদের মাথায় ছিল হেলমেট, হাতে লাঠি। পুলিশ সেজে ঘুরছে, কিন্তু কোনো নেম ট্যাগ নেই, উর্দি নেই। এইতো কিছুদিন আগে গিয়েছিল সোনম ওয়াংচুককে তুলে আনতে। সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে কিডন্যাপ করে নিয়ে এলো ঠিক ভাড়াটে গুণ্ডাদের মতো। ছাত্রদের মিছিলে নির্বিচারে লাঠি চার্জ তো করলই, সাথে নিজেরাই লাঠি দিয়ে গাড়ির কাঁচ ভেঙে, রাত থেকে এনে রাখা পাথর ছুঁড়ে রক্তাক্ত করল দেশের ভবিষ্যৎকে। ভিডিওতে দেখা গেল, ল্যাং মেরে ফেলে দিচ্ছে একটি ছেলেকে, লাঠি দিয়ে খোঁচানোর চেষ্টা করছে একটি মেয়ের প্যান্ট, চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকা এক যুবককে মেরে বাঘের মতো ডোরাকাটা করে দিল।  এরা একা নয় অ্যান্টি ন্যাশনাল তারাও যারা ফেসবুকে এই মারধরকে সাপোর্ট করল, প্রশ্রয় দিল, খিল্লি করল ছাত্র আন্দোলনকে নিয়ে, সোনম ওয়াংচুককে নিয়ে, দিপকের খাবার খাওয়ার ছবি নিয়ে, নেহার মর্ফ করা ফটো নিয়ে। কিন্তু এরাই একমাত্র অ্যান্টি ন্যাশনাল নয়। 

    বিল্ডিং এর ভেতরেও বসে আছে প্রচুর অ্যান্টি ন্যাশনাল, চেষ্টা করে যাচ্ছে নিয়মিত, কী উপায়ে দেশের পরিবেশ এর একদম ভূষ্টিনাশ করে তাদের মালিক যেসব সামন্তপ্রভু তাদের হাতে দেশকে তুলে দেওয়া যায়, কীভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে, সোশ্যাল মবিলিটি আটকে দিয়ে, মানুষের যুক্তি বুদ্ধি বিচার বিবেচনা বোধ লোপ পাইয়ে একটা অনুগত জম্বিতে পরিণত করে রাখা যায়। একের পর এক ইন্সটিটিউশন, গণতন্ত্রের একের পর এক স্তম্ভ গুঁড়িয়ে দিচ্ছে, বদলে বসিয়ে দিচ্ছে অনুগত দাসানুদাস। অবাক হই এদের পাকিস্তান প্রীতি দেখে, ভাবি পাকিস্তান সরকারের সাথে সম্ভবত এদের কোনো গোপন আঁতাত আছে, নইলে পাকিস্তান ট্যুরিজম কর্পোরেশন এর থেকেও বেশিবার করে পাকিস্তান এ যেতে বলে কেন দেশের নাগরিকদের? 

    সাথে টুকরে টুকরে গ্যাং কে চেনার উপায়ও  বলে রাখি। ফেসবুকে দেখবেন বেশির ভাগ সময়ই লকড প্রোফাইল, সেইসব প্রোফাইলের বয়সও নতুন, সব কমেন্ট সেকশনে এসে হাগু করে যায়। ফেসবুকে রিপোর্ট করেন তবু কোনো একশন নেওয়া হয় না, নেবে কী করে, এদের বাপ দাদা রাই তো ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি বিজ্ঞাপন দেয়, ফেসবুক তো সোশ্যাল মিডিয়ার আড়ালে এডভারটাইজিং স্পেস বেচে আসলে, বিজ্ঞাপনদাতাদের চটালে চলবে? এরাই দিনের পর দিন ঘৃণা ছড়িয়ে চলে, ধর্মের নামে, জাতের নামে, বর্ণের নামে, বিভাজন ছড়িয়ে দেশকে টুকরো টুকরো করে চলেছে প্রতিনিয়ত। নেতা, অভিনেতা, ধর্ম ব্যবসায়ী এরকম প্রচুর লোক মিশে আছে এই টুকরে টুকরে গ্যাঙে। মিশে আছে চোখে ঠুলি পরতে চাওয়া কিম্বা ভেতরে ঘিনঘিনে বিষ ভরা কিছু মানুষের মতো দেখতে জনতাও। 

    তবে এদের একটা ব্যাপার প্রশংসা করা উচিত,  এরা কখনো কখনো সত্যি কথাও বলে ফেলে। যেমন দেখুন শুরু থেকেই বলে আসছে হিন্দু খতরে মে হ্যায়, আমরাই তখন বিশ্বাস করিনি। আজ দেখছি শুধু হিন্দু নয়,ও গোটা হিন্দুস্তান তথা ভারতবর্ষ আজ ঘোর খতরে মে আছে। তা এই ঘোর বিপদে আপনি ইতিহাসের কোনদিকে থাকবেন? 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। সুচিন্তিত মতামত দিন