কী খোরাক মাইরি, একুশে জুলাই এসে গেল, অথচ পিসিমনি বাড়িতে লুকিয়ে, কই সেই লাখ লাখ লোক, কই রাত থেকে জমায়েত, কই বিরিয়ানির প্যাকেট, মুখখানা যে একেবারে শুকিয়ে আমসি হয়ে গেছে। উফ চৌঠা মের পর থেকে খবর দেখে এত মজা লাগছে কী বলব! প্রত্যেকটা চ্যানেল রসিয়ে রসিয়ে এমন টপ টপ গ্রাফিক্স দিচ্ছে। কীভাবে ভাইপো বাড়িতে লুকিয়ে আছে, কীভাবে ডিম থেরাপি দেওয়া হচ্ছে নেতাদের ধরে, কীভাবে উত্তর প্রদেশ থেকে বুলডোজার এনে রাস্তা পরিষ্কার করা হচ্ছে। ভাবলেও লজ্জা লাগে, কীভাবে একটা ছেলে দলের কোনো নেতাকে কাজ করতে দিত না, সবাইকে দাবিয়ে রেখে দিত। আরে ধর্মের কল বলেও তো একটা জিনিষ আছে নাকি, সবাই আজ ভালো দলে এসে প্রাণ খুলে কথা বলতে পারছে। ওই যে জোড়াসাঁকোর দাড়িওলা কবিটা একটা নাটক লিখেছিল না, ইস্কুলের বইতে ছিল, একজন এসে একটা জানলা খুলে দিল, আর আশ্রম শুদ্ধু সবাই শ্বাস নিয়ে বাঁচল, শমীকদা এসে অমনি দরজা খুলে দিয়েছে বলে তো আমরা আজ ভেতরের এত সব খবর জানতে পারছি, এতগুলো মানুষ শ্বাস নিতে পারছে বুক ভরে, নেতা বলে কী এরা মানুষ নয়। কিন্তু দাড়িওলা কবিটাও বিশেষ সুবিধার লোক নয়, আগে এসব জানতাম না তেমন, ইসকনের মহারাজ বললেন বলে জানলাম। আর ইসকনের কথায় মনে পড়ল এখনো কয়েকটা অ্যান্টি ন্যাশানাল পিস রয়ে গেছে বাংলায়, ইসকন বাচ্চাদের খাবার দিচ্ছে, তাতেও এদের সমস্যা। ডিম ডিম করে এদের কী যে কান্না, ইস্কুলে বসেই ডিম খেতে হবে হ্যাংলার মতো, ইস্কুল হলো মন্দির, ছোঁয়া লেগে যাবেনা? নির্লজ্জ যত্তোসব। বাড়ি গিয়ে খেলেই পারে।
আর অ্যান্টি ন্যাশানালদের কথায় মনে পড়ল, বাপিদা হোয়াটস্যাপ করল, এইসব অ্যান্টি ন্যাশনালরা নাকি বাইরে থেকে টাকা খেয়ে দিল্লিতে হামলা করতে আসছে দল বেঁধে। কী অবস্থা হয়েছে, কদ্দুর বার বেড়েছে এদের। চীন নাকি কিছুদিন আগে একটা লোককে পাঠিয়েছিল না খেয়ে বসে থাকার জন্য, সে নাকি বাথরুমে গিয়ে জলের মধ্যে মাঞ্চাও সুপ গুলে খেয়ে আসত, তার কারসাজি যেই দিল্লির পুলিশ ধরে ফেলে টানতে টানতে নিয়ে চলে গেছে, সেই রাগে সব কটা এন্টি ন্যাশনাল মিলে হামলা করতে ছুটে আসছে। তবে টেরোরিস্টদের ঠিক যেভাবে শায়েস্তা করতে হয়, ঠিক সেইভাবে পুলিশও রেডি ছিল, ব্যারিকেড করা আছে, সাঁজোয়া গাড়ি, টিয়ার গ্যাস আনা আছে, মিসাইল, মিলিটারি, মেশিনগান সব তাক করা আছে। সব টুকরে টুকরে গ্যাংকে টুকরো টুকরো করে দেবে পেঁদিয়ে। তবে দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে সব গোপন খবর আমাদের মিডিয়ায় দেখানো হচ্ছে না। ব্ল্যাক আউট করে রাখা আছে। তাও লুকিয়ে চুরিয়ে একটা দুটো ভিডিও আমি দেখে ফেলেছি। কীভাবে ব্রেন ওয়াশ করে বাচ্চা বাচ্চা ছেলেগুলোকেও দলে টেনে নিয়েছে টেরোরিস্টগুলো। কী ইনোসেন্ট মুখ, মার খেয়ে কেঁদে ফেলেছে। ওদের বুঝিয়েছে এটা নাকি কী সব পরীক্ষার কোশ্চেন লিক হয়েছে, তাই নিয়ে বিক্ষোভ, তাই জন্য নাকি সেই সোনম না কে একজন না খেয়ে ছিল। আমি ভাবি এরা পাগল না পেট খারাপ, কোশ্চেন লিক হয়েছে বলে ভাত খাবোনা। এসব তো আমরা ছোটো বেলায় করতাম, বাবা ব্যাট কিনে দেয়নি, ভাত খাবোনা, তারপর ঠিক পিঠে দুটো কিল পড়লে বাপ বাপ বলে খেয়ে নিতাম। এরা আবার এখন নাকি বলছে শুধু শিক্ষামন্ত্রী ইস্তফা দিলে হবে না, প্রধান মন্ত্রীর ইস্তফা চাই। লজ্জা করেনা? এরকম প্রধান মন্ত্রী দেখেছিস আগে কোনোদিন? রোজ এক একটা দেশ থেকে পুরস্কার দিতে ডাকে। এতগুলো দেশ থেকে রোজ ডাকে, সেসব প্রাইজ নিতে গিয়ে দিল্লিতেই তো কতদিন পরে পরে আসেন উনি। আগে তো অ্যান্টি ন্যাশনাল গুলোর প্রিয় প্রধান মন্ত্রী ছিল, পেয়েছে সেশেলস থেকে পরিবেশ রক্ষার ফার্স্ট প্রাইজ?
এইসব অ্যান্টি ন্যাশনালগুলোর ওপর রাগে আমার সব কাজকর্ম গুবলেট হয়ে যাচ্ছে এদিকে। শ্বশুর মশাই এর গিফট করা গাড়িটা তো কিছুদিন আগে হঠাৎ চলতে চলতে বন্ধ হয়ে গেছিল রাস্তায়, এমনিতেই মাইলেজ কম দিচ্ছিল বেশ কদিন ধরে। বাপিদাকে বললাম কোন গ্যারেজে দেওয়া যায়? বাপিদা বলেছে সব গ্যারেজ নাকি আব্দুলদের খপ্পরে, গাড়ি গ্যারেজে দিলেই নাকি আখের রস টসের মিথ্যে গপ্পো ফেঁদে বেশি টাকা নিয়ে নিচ্ছে, তাছাড়া মাইলেজ মাপাও নাকি আলাদা ব্যাপার, একমাত্র গাড়ির ডিলার টেকনিশিয়ান দিয়ে মাপতে পারে। তবে উপায়ও ব্যাপিদা হোয়াটস্যাপে বলে দিয়েছে, ইসরো স্পেস টেকনোলজি দিয়ে একটা গাড়ি বানাচ্ছে, নাইট্রাস অক্সাইড দিয়ে চলবে। দু-হাজার সাতচল্লিশ সালে মধ্যেই রিলিজ করবে। এসেই গেল প্রায়, বেরোলেই কিনে নেব। তদ্দিন বাসে বসে বাদাম ভাজা খেতে খেতেই কাটিয়ে দেওয়া গেলেই নিশ্চিন্তি।