1997 সালে ডিজনির অ্যানিমেটেড মুভি 'হারকিউলিস' (Hercules) মুক্তি পাওয়ার পর গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে বেশ বড়সড় সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। গ্রিক জনগণ, গণমাধ্যম এবং দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ডিজনির ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়। গ্রিকদের প্রধান আপত্তি ছিল যে, হলিউড তাদের হাজার বছরের পুরনো ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে গিয়ে বিকৃত করেছে।
নায়কের আসল গ্রিক নাম হেরাক্লিস (Heracles), কিন্তু ডিজনি ব্যবহার করেছিল রোমান নাম 'হারকিউলিস'।
গ্রিক পুরাণে দেবরাজ জিউসের স্ত্রী হেরা ছিলেন হেরাক্লিসের সৎ মা, যিনি ঈর্ষার বশে হেরাক্লিসকে মারার জন্য আজীবন নানা ষড়যন্ত্র করেছিলেন।
কিন্তু ডিজনি মুভিতে দেখায় হেরা হচ্ছেন হারকিউলিসের অত্যন্ত স্নেহময়ী জন্মদাত্রী মা! অন্যদিকে পাতালপুরীর দেবতা হেডিসকে (Hades) খ্রিষ্টীয় ধারণার শয়তানের মতো ভিলেন বানিয়ে ফেলা হয়, যা গ্রিক পুরাণে এমন ছিল না।
গ্রীক পুরাণে মেডুসা ও মিনোটরকে বধ করার কৃতিত্ব ছিল যথাক্রমে পার্সিয়াস ও থিসিয়াসের। কিন্তু মুভিতে এই সব বীরত্ব হারকিউলিসের ঝুলিতে দিয়ে দেওয়া হয়।
গ্রিসের তৎকালীন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পরিচালক ইয়ানিস জেদাকিস সরাসরি মন্তব্য করেছিলেন: "এই সিনেমা গ্রিসের জন্য নয়। এটি হারকিউলিসের মিথ বা পুরাণের একটি বিকৃত রূপ। আর আমরা গ্রিকরা আমাদের পুরাণকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিই।"
ঝামেলা চূড়ান্ত রূপ নেয় যখন ডিজনি এথেন্সের ঐতিহাসিক প্নিক্স হিলে (Pnyx Hill) সিনেমাটির একটি গ্র্যান্ড প্রিমিয়ার করার পরিকল্পনা করে।
এই পাহাড়টি প্রাচীন এথেন্সের একটি অত্যন্ত পবিত্র স্থান, যেখানে ইতিহাসের প্রথম গণতান্ত্রিক সভাগুলো অনুষ্ঠিত হতো।
গ্রিক সরকার ও জনগণ বিষয়টিকে তাদের জাতীয় পরিচয়ের ওপর আঘাত হিসেবে দেখে। তাদের ক্ষোভের মুখে গ্রিস সরকার শেষ পর্যন্ত ডিজনির প্রিমিয়ারের অনুমতি বাতিল করতে বাধ্য হয়।
গ্রিকদের এই তীব্র প্রতিক্রিয়া ও বয়কটের কারণে এথেন্সের সিনেমা হলগুলোতে দর্শক উপস্থিতি রেকর্ড পরিমাণ কমে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডিজনি গ্রিসের বাজারের জন্য সিনেমাটির নাম পরিবর্তন করে রাখে "বিয়ন্ড দ্য মিথ অব হেরাক্লিস (Beyond the Myth of Heracles)"।
এর পাশাপাশি তারা সিনেমা হলের দর্শকদের জন্য একটি ব্যাখ্যামূলক পুস্তিকাও বিতরণ করে, যেখানে স্পষ্ট করা হয় যে—সিনেমাটি কোনো ঐতিহাসিক বা পৌরাণিক নির্ভুল তথ্য নয়, এটি স্রেফ বিনোদনের উদ্দেশ্যে তৈরি।
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।