এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • দোজখের ওম!  

    bikarna লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১৭ জুলাই ২০২৬ | ১৩ বার পঠিত
  • ঢাকা সহ বেশ কিছু জায়গায় আবার একটা ছাত্র আন্দোলন চলছে। ঘুরেফিরে এই জুলাইয়েই আবার ছাত্ররা রাস্তায়। এবারের দাবি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে, প্রবল বর্ষণের ফলে দেশের নানা জায়গায়, বিশেষ করে ঢাকার রাস্তাঘাট পানির নিচে, পরীক্ষার হল পানির নিচে, এমন অবস্থাতেই পদার্থ বিদ্যার মত বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। ছাত্ররা হাঁটু পানিতে বসে পরীক্ষা দিয়েছে এমন অনেক গুলা ছবিই আমরা দেখছি। কেন এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নিলো এই প্রতিবাদেই মন্ত্রীর পদত্যাগ চাচ্ছে, এই জন্যই পরীক্ষা চলাকালীন সময়েই তারা রাস্তায়। পুলিশের মার খাওয়া শেষ। তবুও তারা রাস্তায়। এমন ছোট একটা আন্দোলনেই লীগ সরকারের পতন হয়। কোন অলৌকিক ঘটনা না ঘটলে এবার তেমন হবে এমন ভাবার কোন কারণ নাই। মজাটা হচ্ছে অন্য জায়গায়। এখন বিএনপি বা এন্টি লীগ সমর্থকেরা এই ছাত্রদের ভাষা বুঝতেছে না। কেন এত হাস্যকর কথা ওরা বলছে এইটা তাদের মাথায় আসছে না। তাদের নিয়ে মজা নিচ্ছে, যুক্তি দিয়ে বলতে চাচ্ছে যে এইটা কেমনে সম্ভব বল তো? বৃষ্টি হইছে, কিছু জায়গায় সমস্যা ছিল, মানলাম, এর জন্য সব জায়গার পরীক্ষা বন্ধ করে দিতে হবে? যুক্তিতে মিলে না। আবার মন্ত্রী আবার পরীক্ষা নিতে চাইছে, কোন এক জায়গায় এদেরকে ফার্মের মুরগি ডাকছেন এই জন্য মাফ চাইছেন। কিন্তু এরা কোন কিছুই মানতে রাজি না। মাফ চাইলাম, পরীক্ষাও আবার নিতে চাইলাম, এখন তবুও তোমরা রাস্তায় কেন? ঠিক দুই বছর আগের চিত্র। কোন যুক্তি দিয়েই তখন কাওকে কিচ্ছু বুঝানো যায় নাই। প্রবল আন্দোলন! আরে কেন? সরকার তো নিজেই আদালতে গেছে কোটার রায়ের বিরুদ্ধে। তাহলে কেন তোমরা রাস্তায়? আদালতের রায় আসুক, শুনানি হোক, না, কোন যুক্তিই কেউ শুনে নাই সেদিন। উল্টা রাজাকার ট্যাগ নিজেদের ঘাড়ে নিয়ে লড়াইয়ে নেমে গেছিল। সেদিন লীগ সমর্থকেরা যেমন বুঝে নাই এদের কথাবার্তা আজকে একই রকম দেখছি এদের অবস্থা, আশ্চর্য হয়ে নানা পোস্ট করতেছে ফেসবুকে। এরা চায় কী? জানতে চাচ্ছে আগ্রহ নিয়ে! এই প্রজন্মের কথাবার্তা বুঝা বড় দায়। দুই বছর আগে এরা মোর্স কোড দিয়া কথাবার্তা বুঝে যেত! আমিই রাজাকার বলে গর্ব করত। তখনও বুঝি নাই এদের কথাবার্তা। এখনও বুঝি না…

    দুই বছর হয়ে গেল জুলাই আন্দোলনের। কই এসে পৌঁছালাম আমরা? দেশ এখন কেমন আছে? উত্তর গুলো ভয়ংকর। ভাবতেও শিউরে উঠতে হয়। ইউনুস সরকার যে উগ্রবাদীদের উত্থান করে দিয়ে গেছে সেই উত্থানের সীমা এখনও কেউ নির্ধারণ করেনি। তারা তাদের কর্মকাণ্ড এখনও যথাযথ ভাবেই পরিচালনা করে যাচ্ছে। তারেক রহমানের সরকার এই ব্যাপারে এখন পর্যন্ত বিবৃতি, দেশে কোন উগ্রবাদ নেই বলেই কাজ চালাচ্ছে। কিন্তু অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে? কয়েকটা মাদ্রাসায় শক্তিশালী বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। কী মনে হয়, তারা বোমা নিয়ে খেলাধুলা করতে গিয়ে ফুটায় ফেলছি বোম? কই মারতে চায় এগুলা? কেউ জানে না, তদন্তের কোন হদিস নাই। এর মধ্যে একটা সংগঠন সারা দেশে এক যোগে কলেমার পতাকা দিয়ে ভরতি করে ফেলেছে। আমার নিজ জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে মিছিল করে আসছে এরা, এসে নানা উগ্র বক্তব্য দিয়েছে। গণতন্ত্র হারাম, শরিয়া আইন চাই ইত্যাদি স্লোগান দিয়েছে। একজন জিজ্ঞাস করাতে বলল আমি শরিয়া আইন চাই, এইটা বলা আমার গণতান্ত্রিক অধিকার, আপনি এই অধিকার হরণ করতে পারবেন না! বুঝেন এখন? যেই অধিকারে এই দাবি করছে সেই অধিকারী নিষিদ্ধ করার জন্য মাঠে নামছে! কত বুদ্ধিরে! এদিকে প্রশাসন জানিয়েছে কে বা কারা এই পতাকা লাগিয়েছে তা তারা জানেন না!

    উগ্রবাদ নাই এমন বলার উপায় আছে কি? ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে কয়েকদিন আগে পুলিশের CTTC (কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) ইউনিট ছয়জনকে আটক করেছে। কেন? এদের একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে একজন দাঁ নিয়ে নানা অঙ্গভঙ্গি করছে পিছনে আরবি রণ সঙ্গীত ধরণের কিছু বাজছিল। এরা কারা? এখানেই মজার শুরু। FATAH COMBAT SYSTEM (FCS) নামের একটা সংগঠন, এরা মার্শাল আর্ট শেখায়। খুব ভালো। কিন্তু এদের কাজ কারবার একটু অন্য রকম। এদের দলের যে প্রধান সাবির তিনি এক আজব চরিত্র। তিনি নিজের সাথীদের নিয়ে ধরা খাওয়াকে ষড়যন্ত্র ( কার ষড়যন্ত্র? ভারতের, আবার কার!) বলছেন। তিনি মার্শাল আর্ট শেখান, টুপি পরে মার্শাল আর্ট শেখা কি অপরাধ? এই জন্য আপনে তাদেরকে ধরবেন? শুনলে মনে হতে পারে তাই তো, এমন কী করছে তারা যে ধরতে হল? এইটার জন্য একটু গভীরে যেতে হবে, চলেন, আমিই নিয়ে যাচ্ছি।

    যে ভিডিওর কথা বলছি সেখানে যে রণ সঙ্গীত বাজানো হচ্ছিল তা কোন নিরীহ রণ সঙ্গীত না। ওইটা ছিল আইএসের তৈরি করা একটা সঙ্গীত। সাবির নিজেকে আমির বলে দাবি করত। সে উপরে যে লিখলাম কলেমার পতাকা দিয়ে দেশ ভরতি করে ফেলেছে সেই দলেরই লোক। সে গণতন্ত্রকে কুফরি বলছে, হারাম করছে, খেলাফতের জন্য সবাইকে আহবান করছে। গত বছর যশোরে এক লোকের ইজি বাইক চুরি হয়, ভুক্তিভুগি থানায় অভিযোগ করলে জানা যায় এইটা সাবিরের লোকের কাজ। সাবির এর পক্ষে যুক্তি দেয় এইটা সারিয়া! সারিয়া কী? নবীর আমলে যে সব সামরিক অভিযানে নবী অংশ নিতো না তাকে সারিয়া বলা হত! বুইঝেন কিসের সাথে কী মিলাচ্ছে এরা। কেন এইটা সারিয়া? কারণ যার ইজি বাইক চুরি করছে সে হিন্দু ধর্মের অনুসারী, নাম কমল বিশ্বাস!! হিন্দুদের জিনিস কেড়ে নেওয়া যায় আবার ওইটাকে ধর্মের নামে জায়েজ করা যায়। আচ্ছা, এখানেই শেষ না, সাবির আটক হওয়ার পরে সবচেয়ে যে জোরেশোরে আওয়াজ তুলে তিনি কে? বিক্রমপুরই নামের চিহ্নিত জঙ্গি। একে ইউনুস সরকার মুক্তি দিয়েছে। সে মুক্তি পাওয়ার পরদিন থেকেই তার কাজ শুরু করে দিয়েছে। একদিনও বিশ্রাম নেয়নি। সেইই কাশিমপুর কারাগারে গিয়ে সোজা বলেছেন যে এখন ছেড়ে দিতে হবে জামাতের নেতাদের, জঙ্গি হিসেবে যারা আটক আছে তাদেরকে ছেড়ে দিতে হবে। কোন কাগজপত্র নাই, আইন কানুন নাই, এখন ছাড়তে হবে নাহ হলে সেখানে যে পুলিশ ছিল তাদেরকে দেখে নেওয়া হবে বলে হুমকিও দিয়েছে! এই পুতপবিত্র মালটা যে সাবিরকে বাঁচাতে আওয়াজ তুলবে তা তো জানা কথাই, তাই না?
    একদিকে পুলিশ জঙ্গি সন্দেহে ছয়জনকে আটক করেছে অন্য দিকে ক্রমাগত বলে যাচ্ছে দেশে কোন জঙ্গি, উগ্রবাদী নেই! বিক্রমপুরি এগুলা দেখে আর হাসে সম্ভবত।

    জুলাই নিয়ে বলতে গেলে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বলতে হয়। ইউনুস সরকার বেশ পরিষ্কার করেই দিয়ে গিয়েছিলেন যে জুলাই মুক্তিযুদ্ধের বিপরীতে। তিনি রিসেট বাটনে ক্লিক করে সব নতুন করে চালু করতে চেয়েছিলেন। এবং সেই মতে চেষ্টাও করে গেছেন। একের পর এক মুক্তিযুদ্ধের উপরে আঘাত হানা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ভাবে করা হয়েছে অপমান। এখন কী অবস্থা? এইটা এক আশ্চর্য অবস্থা চলছে! বিএনপি নিজেকে দাবি করে মুক্তিযুদ্ধের দল, তাদের নেতা জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক বলে তারা প্রচার করে অথচ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাদের কোন হেলদোল নাই। কেন কে জানে! চব্বিশের আগস্টের পর থেকেই দেশে হুট করেই কিছু বিশেষজ্ঞর আবির্ভাব হয়েছে। ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির নাম একজনের। এই রকম জিনিস যে পয়দা হয়ে দেশের বুকে আলো বাতাস খেয়ে বেঁচে ছিল এইটা আমার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয় এখন। একটা লোক মুখ খুললেই দুর্গন্ধ বের করছে, একটা কথা সে আবর্জনা ছাড়া বলতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধ তো যুদ্ধই না, এইটা ভারতের চাল, লীগ আর ভারত মিলে এইটা পাকিস্তানের সর্বনাশ করতে করছে। মুজিব আর ইন্দিরা মিলে করছে। দেশ মূলত স্বাধীন হয়েছে ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসে, মুজিব হত্যাকাণ্ডের পরে! এমন নানা কথা তিনি নিয়মিত টেলিভিশনে এসে বলেন। এমন আরেকজন হচ্ছে আরেক ব্যারিস্টার ফুয়াদ! একই জিনিস, একই বক্তব্য দেন। জাতীয় টেলিভিশনে যে এমন কথা বলা যায়, দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কেউ ফাইজলামি করতে পারে এইটা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। বিএনপি এগুলা বলতে দেয়। যখন এগুলা বলতে দেয় তখন আমি অবশ্যই প্রশ্ন করব তোমরা কেমন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক? ফারুকি জুলাই নিয়ে কেউ কটূক্তি করলে তাকে ধরার জন্য আইন চান। এই ফারুকিই এক সময় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জান দিয়ে দেয় এমন আচারন করতেন। তিনি একবারের জন্যও মনে করেন না যে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যারা ফাইজলামি করছে তাদেরকে আটকানো উচিত? যে ফারুকি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযোদ্ধাদের ফাঁসি দেওয়া নিয়ে টেলিফিল্ম বানিয়েছে সে এখন জিয়া চরিত্র উদ্ধারের জন্য, তারেক রহমানের নেক নজর পাওয়ার জন্য জান প্রাণ দিয়ে নেমেছেন!
     

    যাই হোক, বিএনপি এদেরকে কিছু বলে না কেন? বলে না কারণ বিএনপি এইটা ধারণ করে না। তার এখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলা দরকার তাই বলে যাচ্ছেন। এবং এমন ভাবে বলতে হবে আবার যেন কোনমতেই লীগের নাম না আসে বা বঙ্গবন্ধুর নাম না আসে! এমন কাঁঠালের আমসত্ত্ব বানানোর পথেই বিএনপি আছে। তাই মুক্তিযোদ্ধা সংসদের স্পিকার বলেন শেখ মুজিব পাকিস্তানের ভাঙন চায় নাই! একটা লোক স্বাধীনতা চায় নাই তাও তাকেই ধরে পাকিস্তান জেলে আটকে রাখল, ফাঁসির রায় দিলো, কবর পর্যন্ত খুঁড়ে ফেলল! আশ্চর্য না? আচ্ছা, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার বা ফুয়াদ গিয়ে কেন বুঝায় না স্পিকারকে যে মুজিব ষড়যন্ত্র করেই পাকিস্তান ভাঙছে? বা স্পিকারই কেন এদেরকে ডেকে বলে না, ভাই শুনো, তোমরা ভুল জান, মুজিব পাকিস্তান ভাঙতে চায় নাই, জিয়াই ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ শুরু করাতে পাকিস্তান ভেঙে গেল! গালি দিলে জিয়াকেই দেও প্লিজ!

    অনলাইনে তো এখন উপচে পড়ছে এই সব কন্টেন্ট। ফেসবুকে পাঠশালা নামে একটা গ্রুপ আছে। এরা নিয়মিত নিয়ম করে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর নামে কুৎসিত পোস্ট করে চলে। জামাতের এমন শত শত গ্রুপ আছে। গত বছর ডেইলি স্টার একটা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, যেখানে দেখানো হয় অনলাইনের ৭০% দখল জামাতের হাতে, বাকি অল্প কিছু লীগ আর বাকিখানি বিএনপির হাতে! মোর্স কোড দেখা প্রজন্ম এগুলা দেখে আর ইতিহাস শিখে আর বলে এগুলা এত দিন জানতে দেওয়া হয় নাই আমাদের!

    শিবিরের এক নেতা গেছে পাকিস্তানে। সে এক এলাহি কাণ্ড। পাকিস্তান জামাত তাকে সংবর্ধনা দিয়েছে। সেই ভিডিও অনলাইনে পোস্ট করেছে। ভিডিওর ব্যাক গ্রাউন্ডে একটা গান বাজানো হচ্ছিল, - মুক্তিবাহিনী গুন্ডো সে কন লড়া থা ঢাকা মে! এমন সুন্দর স্বীকারোক্তির পরেও আমাকে নানা তথ্য উপাত্ত দিয়ে বুঝাতে হবে জামাত কেন বিপদজনক আমাদের জন্য?

    এক অবিশ্বাস্য সময় পার করছি আমরা। দৈনিক মনে প্রশ্ন জাগে শেষ কবে? কবে একটা আলোকিত বাংলাদেশ পাব আমরা? তারেক রহমানের সামনে বিশাল সুযোগ। কিন্তু তিনি আছেন ঘোরের মধ্যে। ভারতের সাথে সম্পর্ক এখন তলানিতে। এতদিন পরে ভিসা দেওয়া শুরু করেছে ভারত। সেই ভিসার আবার নানা ফ্যাঁকড়া। কেন চালু করল এমন করে কে জানে। কোন দালাল শ্রেণি টাকা খাচ্ছে তা পরিষ্কার। এর মধ্যে আরেক পাকনা আইনজীবী রিট করেছে বাংলাদেশীরা যেন পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরায় ভ্রমণ না করতে পারে! এইটা কেমনে সম্ভব বাস্তবায়ন করা? আমি জানি না, মনে চাইছে রিট করে দিলেই হল। এগুলাই সম্পর্ককে কঠিন থেকে কঠিনতর করে দিচ্ছে। এদিকে রাম মন্দির বানানোর মূল হোতাকে মানি লন্ডারিং মামলায় সংখ্যালঘুরা কেমন আছে এইটাও নিশ্চয়ই বুঝা যাচ্ছে। চিন্ময় দাসকে তো আজ পর্যন্ত মুক্তি দিলো না সরকার! মন্দির ভাঙছে কয়টা?
     
    এখন কেউ এগুলা হিসাব নেয় না? না। এখন সবাই চুপ। ফারুকি জুলাই যাদুঘর বানিয়েছেন। সেখানে ফেলানির সীমান্ত কাঁটাতারে ঝুলন্ত লাশের ছবি দিয়েছেন। বেশ। তার আমলেই যে কতজন গুলি খেয়ে মরল তাদের দায় কেন তারা নিবে না? ১৫ বছরের ফেলানির মৃত্যু কষ্টদায়ক কিন্তু ওইটা লীগের আমলে, তাই লীগের দায়। ১৪ বছর বয়সই স্বর্ণা দাসের মৃত্যুর দায় ফারুকি কেন নিবে না তাহলে? একই তরিকায় মারা হয়েছে দুইজনকেই। একটা আরেকটা থেকে বেশি গুরুত্ব হয়ে গেল কেমনে? কে জবাব দিবে? তখন ইলিশ পাঠায় দেখে আবরার পোস্ট দিয়া মাইর খায়া মরছে এখন এবং ইউনুস সরকারের আমলে যে তারচেয়েও ঢের ঢের বেশি ইলিশ গেল ভারতে? অনেকদিন আগে আমি একটা লেখায় লিখেছিলাম দেশে যত রকমের বয়কট আন্দোলন চলে তার কোনটাই অরগানিক না। কোক বয়কট থেকে শুরু করে ইন্ডিয়া বয়কট সবই একই লক্ষে আয়োজন করা হত। যে রিজভি নিজের স্ত্রীর ইন্ডিয়ান শাড়ি পুড়ে ইন্ডিয়া বয়কট করেছিল সেই রিজভি এখন গভীর নিদ্রায় আছেন। এদিকে আবার তারেক রহমান বলেছেন একটা বিশেষ দেশকে সুবিধা দিতে পরিকল্পিত ভাবে দেশের চিকিৎসা শিক্ষা খাতকে নষ্ট করা হয়েছে! তারেক রহমান কাকে দেখে ভয় পেয়ে দেশের নাম মুখে নেয় না? এই পদানমন্ত্রি চাইছিলাম আমরা?

    শেখ হাসিনা রয়টার্সে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডিসেম্বরে দেশে আসতে চেয়েছেন। এসে আত্মসমর্পণ করবেন, মামলা লড়বেন। এইটা নিয়া এখন শুরু হয়েছে ক্যাচাল। কেউ আসতেই দিবে না! কেন? তারাই না আনতে চায় তাকে? তাহলে তিনি আসলে সমস্যা কী? কেউ বলছে আসলেই ধরে ফাঁসি দিয়ে দিবে! মানে তাকে মামলা লড়তেও দেওয়া হবে না! আবার কেউ বলছে আসুক, মামলা লড়ে যদি জিতে জিতুক! মানে হচ্ছে একটা ঘোষণায় এদিকে বেশ ভালো ছ্যারাব্যারা লাগছে। এরা কেউ প্রস্তুতিই না শেখ হাসিনার জন্য। সে আসলে যে কী করতে হবে তা কেউ জানে না। ধরেই নিয়েছে তিনি বাহিরেই থাকবে, সেখানেই শেষ হবে তার ইতিহাস।

    আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবে এইটা পুরোটাই একটা স্ট্যান্টবাজ এপ্রোচ। তিনি মোটেও ডিসেম্বরে ফিরবেন না। লীগের ভাগ্য এত সহজেই সুপ্রসন্ন হবে না আমার বিশ্বাস। লীগ আপাতত চুপচাপ থাকলেই ভাল করবে। মানুষকে বলে দিতে হয় না। মানুষ এমনেই তুলনা করবে আগের সাথে বর্তমানের। বিএনপির এক নেতা সংসদে বলেই বসেছেন যে আগে তো এত চাঁদাবাজ ছিল না, এত হত্যা, ছিনতাই হত না। তিনি বলতেছিলেন মানুষ আমাদেরকে প্রশ্ন করে… তিনি বক্তব্য শেষ করতে পারেন নাই, কারো ইশারায় স্পিকার তার মাইক অফ করে দেন। কিন্তু ব্যর্থ হতে থাকলে মানুষ প্রশ্ন করবে, সেই প্রশ্ন করার থামানোর জন্য কেউ থাকবে না। পদ্মা সেতুর দরকার ছিল না, মেট্রো রেলের দরকার ছিল না, এগুলা মানুষ শুনে আর হাসে। তাই আপাতত লীগের জন্য চুপ করেই থাকা মঙ্গল। কিন্তু লীগ তো লীগই। জুলাই নিয়ে কুৎসিত অনলাইন লড়াইয়ে নেমেছে তারা। কিন্তু তারা বুঝে না যেভাবেই হোক, যে মায়ের বুক খালি হয়েছে তার সন্তানের মৃত্যু নিয়ে এমন কুৎসিত লড়াই তারা কোনভাবেই মেনে নিবে না। কিন্তু কে শোনে কার কথা?
     
    আমাকে বলা হয়েছে চুপ করে থাকতে। সুশীলগিরি দেখানো যাবে না। শিবির নেতাদের দাওয়াতে জুলাই নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ লন্ডন গিয়েছিল। প্রচার করেছিল অক্সফোর্ড থেকে তাকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে গেছে। একজন খুঁজে বের করল ওইটা মোটেই অক্সফোর্ডের দাওয়াত না। অক্সফোর্ডের ওই হল রুম যে কেউ ভাড়া নিয়ে অনুষ্ঠান করতে পারে। জামাত এই কাজটা করেছে। প্রচার করেছে অক্সফোর্ড থেকে দাওয়াত নিয়ে হাসনাতের বক্তব্য শুনবে তারা! আমি যে ফ্যাক্ট চেক করেছে তার পোস্ট শেয়ার দিয়েছিলাম। ফেসবুকে কেউ আমাকে ওই পোস্টের জন্য রিপোর্ট করেছে। আমাকে ফেসবুক দেখাল যে একটা ওয়েব সাইটে আমার প্রচার করা তথ্য ভুল। আমি ওই সাইটে গিয়েই বুঝলাম এইটা আরেক জামাতের প্রোডাক্ট! ফেসবুক ওইতা দেখেই আমাকে সতর্ক করে দিয়েছে, সামনে চিরতরে আইডি নাই হয়ে যাইতে পারে বলে ধমক দিয়েছে! আমি দুইটা জিনিস বুঝলাম এতে, এক ফেসবুককে এমন আজাইরা জিনিস দিয়ে বুঝ দেওয়া যায়, দুই আমার আইডিতে কেউ নজর রাখে! দুইটাই ভয়ংকর কথা! তাই আমি লিখিই না কিছু। ফুটবল বিশ্বকাপ, নদীর পানি, আকাশের মেঘ, রূপবান সিনেমার রঙ ইত্যাদি নিয়ে টিকে আছি আর কী!
     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ১৭ জুলাই ২০২৬ | ১৩ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    সংবৃতি  - Srimallar
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। সুচিন্তিত মতামত দিন