গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় শ্রীশ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির চত্বরে রামের বিগ্রহ নির্মাণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা। কেন এই উত্তেজনা তা বুঝতে হলে আপনাকে ঘিলুহিন হতে হবে, একটুও যদি ঘিলু থাকে তাহলে আপনি বুঝবেন না এই উত্তেজনার কারণ। মন্দিরে বিগ্রহ তৈরি হবে, তারা মূর্তি পূজা করে, এইটা তাদের ধর্মীয় আচারন। এখানে অন্য ধর্মের কেউ কেন বাধা দিবে? মন্দিরে মূর্তি থাকা নিয়ে যদি উত্তেজনা তৈরি হয় তাহলে তাহলে মুশকিল না? এর তো আশু কোন সমাধান নাই। আসলে আশু না, কোন সমাধানই না। আছে হচ্ছে একটাই রাস্তা, এই দেশে আর কোন মন্দির তৈরি হবে না, কোন বিগ্রহ তৈরি হবে না, এইটা সরকারি ভাবে ঘোষণা দিয়ে দেওয়া। আমি তো আর কোন রাস্তা দেখি না এখানে।
কেউ কেউ বলার চেষ্টা করল রামের নামে এইদিকে কিছু হবে কেন? এদিকে শুধু হবে দুর্গা পূজা, কালি পূজা ইত্যাদি। কেউ কেউ দেখি শিবের নামও নিলো! শিব পূজা কবে কে করে জিজ্ঞাস করলে দাঁত লেগে যাবে কিন্তু বলে দিল এখন একটা কথা! বলা হল রাম নিয়ে কারবার সব উত্তর ভারতের দিকে, এইটা ভারতের ষড়যন্ত্র! মানে এইদিকে রামকে মানুষ চিনেই না? পাশাপাশি এত বছর থাকার পরে হিন্দুদেরকে ধমক দেওয়া যায় কেন তারা মুসলমানদের সম্পর্কে জানে না বলে অথচ নিজেরা এইটুকুও জানে না যে কম হলেও (ভারতবর্ষের অন্য অঞ্চলের তুলনায়) রামের নাম এই অঞ্চলেও চালু আছে, বহু আগে থেকেই আছে। বাংলাদেশের এমন একটা অঞ্চলও পাওয়া যাবে না যে অঞ্চলে রামের নামে কোন এলাকার নাম নাই। রামপুর, রামপুরা কিংবা রাম রামপুর বাজার, এমন সহস্র নাম আছে এখানে। রঘুনাথ মন্দির আছে সব জায়গায়। রাঘব, রঘুনাথ, রঘুপতি এগুলা রামেরই আরেক নাম। তাহলে হঠাৎ রাম মূর্তি দেখে চমকে যাওয়া কেন? এর মধ্যে ভারতের ষড়যন্ত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে কেন? আমি ভারত চিকিৎসার জন্য বা ঘুরতে যাইতে চাই, এ জন্য ভিসা চাই, শুধু এইখানেই কোন ষড়যন্ত্র নাই, বাকি সব জায়গায়ই ভারতের ষড়যন্ত্র?
এরপরে এই শক্তি, যারা আজকে আস্ফালন করে বিগ্রহ নির্মাণ বন্ধ করে দিলো তাদের চাহিদা কী হবে? তারা জানায় দিবে কত বড় বিগ্রহ বানানো যাবে? তারা সিদ্ধান্ত নিবে দুর্গা পূজায় কে কেমন করে কত বড় প্রতিমা তৈরি করবে? আমরা এর আগে নোবেল ম্যানের আমলে দুর্গা পূজার সময় অসুরের দাঁড়ি গোঁফ থাকবে না থাকবে না তা নিয়ে আলোচনা দেখেছি। কোন কোন জায়গায় গামছা দিয়ে অসুরের দাঁড়ি ঢেকে দেওয়াও হয়েছিল। আমরা আবার তেমন কিছুই দেখব? ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত শুধু এক ধর্মের মানুষেরই অধিকার? এই বিগ্রহের কাজ বন্ধের দাবিতে ঢাকায় যে হিন্দুধর্মকে চরমভাবে অপদস্থ করা হল প্রতিবাদের নামে তাতে কেউ কিছুই মনে করবে না? রীতিমত রামের ছবিতে জুতা মারা হয়েছে! এতে কোন ধর্ম অবমাননা হয়নি? এতে কারো অনুভূতিতে আঘাত লাগবে না? আচ্ছা, তাদের সেই অধিকার আছে?
৮১ ফিট উচ্চতার রাম মূর্তি বানানো হচ্ছিল। বলা হচ্ছিল এইটা এশিয়ার সবচেয়ে বড় রাম মূর্তি। এই মন্দির প্রাঙ্গণে শিব ও কৃষ্ণের মূর্তি আগে থেকেই ছিল, এখন রামের মূর্তি বানানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু কাজ স্থিগত করা হয়েছে। এই জিনিস আর আলোর মুখ দেখবে না। অন্তত এখনই দেখার কোন সম্ভবনা নাই। বাংলাদেশের সুশীল সমাজ ফুল পাখি লতাপাতা নিয়ে ব্যস্ত আছে। কেউ একটু মৃদু গলা খাকড়ি দিয়ছেন।ভালো হচ্ছে না কিন্তু বলে অন্য প্রসঙ্গে চলে যাচ্ছেন তারা। সংসদ চলছে, সেখানে অন্য সবার সাথে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনও আছেন। তারা কেউ একটা শব্দ পর্যন্ত করে নাই এখন পর্যন্ত। সংসদে তো নাইই সংসদের বাহিরেও কোন উচ্চবাচ্য নাই। সংসদে দেখলাম কোন শিবির নেতা গার্ল ফ্রেন্ডকে প্রেগন্যান্ট করে পালিয়েছিল, তাকে গুম করা হয়েছে বলে জামাতের আমিরও চিল্লাফাল্লা করেছেন। এখন সেই পোলা ধরা খাইছে। এইটা নিয়া সরকারি আর বিরোধী দল ব্যাপক তর্ক করে চলছে।এই ফাঁকে বগুড়ায় তিনটা মন্দির ভাঙা হয়েছে, যা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনায় নাই। কোন পথে যাচ্ছে দেশ?
জানি না আসলে। আমি জানি না এরপরে যদি কেউ সরকারকে উগ্রবাদীদের কাছে নতজানু বলে তাহলে সরকার তা অস্বীকার করবে কি না। আমি জানি না কেন দিনের পর দিন বিনা অপরাধে একজনকে জেলে থাকতে হচ্ছে! আমি জানি না এই দেশের মানুষ কবে প্রকৃত অর্থেই মানুষ হয়ে উঠবে। আমি জানি কাঁচায় না নোয়ালে বাঁশ, পাকলে করে ঠাস ঠাস! এখনই শক্ত হাতে এগুলাকে প্রতিহত না করতে পারলে সামনে আরও ভয়ংকর দিন অপেক্ষা করে আছে আমাদের জন্য। এইটা আমরা জানি।
ভয়ংকর কতখানি তার নমুনা পাওয়া যায় যে কোন হিন্দু মানুষের সাথে কথা বললে। এদের বড় অংশ ভারতে মুভ করতে চায়। বিজেপি এসে বৈধ অবৈধ সব ঠেলে পাঠানো শুরু করছে সীমান্তে। যত এগুলা হচ্ছে তত এরা আতঙ্কিত হচ্ছে। যাবে কই? এদেরকে দেখবে কে? রক্ষাকর্তা কে? দেশ ছেড়ে কয়জন যেতে পারে? কিন্তু কল্পনা করে যে ধুর, চলে যাব ইন্ডিয়া! কল্পিত এক রাষ্ট্রের ভাবনা মাথায় নিয়ে ঘুরে। ভাবে সেখানেই বুঝি মিলবে মুক্তি। এখন সেই কল্পনার সুখটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছে!
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।