লেখাটার পিছনে কোনো লেখাপড়া নেই . সস্তার "emotional writing" . ফাঁকিবাজির " emotional writing" . হ্যাঁ, তবে কারুর জন্যে কষ্ট পাওয়া আছে . তাদের জন্যে কষ্ট পেয়ে নিজে শান্তি তে না থাকতে পারা আছে . Empathy ? হয়তো নেই . আবার, হয়তো আছে . চোখের সামনে আমার ছোট্টো মফস্বলএর চেহারা পাল্টে গেলো রাতারাতি . প্ল্যাটফর্মের উপর আমার প্রিয় আমের চপ আর ফুলুরির দোকান টা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিলো . থানকুনি পাতা আর কলমী শাক নিয়ে বসতো যে দিদি ( তার অবিশ্যি স্যারের খাতায় আগেই নাম কেটে গিয়েছে ) কোন অন্ধকারে যেন চাপা পড়ে গেলো . ওই কান চাপলে যেমন গোঙানির আওয়াজ শোনা যায়না ।....ঠিক সেইরকম। .....একনম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে নেমেই অনিলদার কচুরির দোকান . গুমটি দোকান তবে অমন কচুরী আর ছোলার ডাল ত্রিভুবনে মিলবে না . না, আর কোনোদিনই মিলবে না . অনিলদার পেট চলবে কিভাবে আমি জানিনা . সন্ধ্যেবেলায় অনিলদার হাতের বেগুনি খেতে খেতে বলেছিলাম তোমায় নিয়ে লিখবো . অনিল দা বলেছিলো ওসব করলে আর কচুরি দেবো না . দারুন পরিহাস ! শুধু মাটির উনোন টা রেখে বাকিটুকু সব দুমড়েমুচড়ে দিলো .
টিকিট কাউন্টার এর কোনাকুনি লেবুর সরবতের দোকান . গরমের দুপুরে দশ টাকায় অমৃতপান . এগুলোই জীবন। .বিশ্বাস করুন। ...গুমটি দোকানের ডিমটোস্ট। ....তার আলাদাই স্বাদ ..... পান বিড়ি সিগারেটের দোকানে ভাত খেয়ে ঢেকুর তুলে একটা পান। ....বিকেলের ফুরফুরে হাওয়ায় কিংবা সন্ধ্যের ব্যস্ততার মাঝে মাটির ভাঁড়ে দুধ চা, চায়ের দোকানের বিস্কুট, দু একটা স্টেশনে ঝিমোতে থাকা সারমেয় দের সঙ্গে ভাগ করে নিয়ে বাকি টুকুর দুধের চায়ে রস্সাস্বাদন। ....তারপর সিগারেটের ধোঁয়ায় খানিক রাজনীতি খানিক ফুটবল, খানিক "দিদি ", খানিক " দাদা " .... এইটাই জীবন - প্রায় ৭০ ভাগের। ....এইসব কিছুকে বুলডোজারের চাকায় পিষে যে " sunshine" আনার চেষ্টা করা হচ্ছে তা ওই ধুলো ময়লার স্লীপার ক্লাস ঠেলে সরিয়ে ট্রেনের এসি কামড়ায় ঢুকে পড়ার মতো . এসির দরজা বন্ধ। ...যাক বাবা আর ঢুকবে না গরম হাওয়া আর পেচ্ছাপের গন্ধ .
ধবধবে সাদা চাদরে টানটান নিচু নিচু খাটের উপর বসে তাঁতের, ছাপার শাড়ী দেখানো দোকানগুলো বড়ো প্রিয় ছিলো . সুতির পাঞ্জাবী, ছোটোদের সুতির জামা ঢিলা প্যান্ট আর সাদা ফতুয়ায় রমরমিয়ে চলতো দোকানগুলো . পয়লা বৈশাখের আগে, চৈত্র সেলে স্টেশন বাজার জমজমাট। ......এছাড়া টিপ্, চুড়ি, ক্লিপ, পুঁতির হার, কমদামী সিটিগোল্ড, স্টীলের থালা বাসন, দশকর্মা, দশটাকার ধূপকাটির প্যাকেট, পাঁচ টাকার গোলাপ, কুড়ি টাকায় তিনশো গাঁদাফুল, বেল তুলসী পাতা, ৫০ - ৬০ বছরের পুরোনো মিষ্টিখানা, পুজোর জন্যে মাখাসন্দেশ, ৯০ টাকায় ছাতা, ৩০ টাকায় ব্যাগ। .......মধ্যবিত্ত আর গরীবের ইকোসিস্টেম টাকেই পুরো ধ্বংস করে দিলো - " জাতের নামে বজ্জাতি সব / জাত - জালিয়াত খেলছে জুয়া !! "
আর আছে কিছু স্তাবকের দল। ....যারা বলছেন বেশ হয়েছে . বলছেন দোকানগুলো ছিলো " অবৈধ "। ......অথচ এই তথাকথিত অবৈধ দোকানগুলোরই বাঁধাধরা খোদ্দের ছিলেন আপনারা ! বছরের পর বছর ! তখন আবার এলাকায় ঘাঁটি গাড়তে থাকা রিলায়্যান্স ট্রেন্ডস আর জিও মার্ট কে খিস্তি খেউড় করতেন ! সত্যি সত্যজিৎএর হীরক রাজার দেশে দেখি আর ভাবি এ ছবি উনি আপনাদের জন্যেই বানিয়েছিলেন .
আর সবুজ তো কর্পূরের মতো কোথায় উবে গেলো . সবুজ কোনো দল নয়। ...আসলে দল বলে কিছু ছিলই না। ....শুধু নীলপাড় সাদা শাড়ি পড়ে একজন কেই জানি এবং মানি যিনি একাই লড়ে যাচ্ছেন .. তাঁকে দেখলাম পথে নামতে আমার উপরিউক্ত আলোচ্য বিষয়ে। ......আর হ্যাঁ, সৃজন, মীনাক্ষী কে নিয়ে স্বপ্ন দেখি। ...জানি বোকা বোকা। ....তাও দেখি । .....ওই যে, আশায় বাঁচে চাষা। .....কারণ আমার প্রিয় খাবার লেবু দিয়ে ডাল ভাত আর আলুসিদ্ধ মাখা ... সে যতই KFC খাই না কেনো . .
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।