রেলের এই যে বিশাল সম্পত্তি, যেখান থেকে দখলদার মুক্ত করার কাজ চলছে, রেল এত সম্পত্তি বা জমি পেল কোথা থেকে?
ভারতীয় রেলের বিপুল জমি ও সম্পত্তি একদিনে তৈরি হয়নি। এর বেশিরভাগই এসেছে ঔপনিবেশিক যুগ থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে জমি অধিগ্রহণ, দান এবং সরকারি হস্তান্তরের মাধ্যমে।
মূল উৎসগুলো হল— ব্রিটিশ আমলের জমি অধিগ্রহণ
১৮৫৩ সালে ভারতে রেল চলাচল শুরু হওয়ার পর ব্রিটিশ সরকার রেললাইন, স্টেশন, ইয়ার্ড, ওয়ার্কশপ, সেতু ইত্যাদি তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করে। সে সময়ের আইন অনুযায়ী কৃষিজমি, খাস জমি এবং অন্যান্য জমি রেল প্রকল্পের জন্য নেওয়া হত।
দেশীয় রাজ্য ও জমিদারদের দান --
অনেক দেশীয় রাজা, নবাব ও জমিদার রেললাইন বা স্টেশন স্থাপনের সুবিধার জন্য জমি দান করেছিলেন।
কারণ রেল এলে বাণিজ্য ও যোগাযোগ বৃদ্ধি পেত।
স্বাধীনতার পর নতুন রেল প্রকল্প --
নতুন লাইন, ডাবল লাইন, ইলেকট্রিফিকেশন, মালবাহী করিডর, কারখানা ও আবাসনের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার বিভিন্ন সময়ে জমি অধিগ্রহণ করেছে।
রেলের অপারেশনাল প্রয়োজন --
শুধু ট্র্যাকের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের কথা ভেবেও অনেক জায়গায় অতিরিক্ত জমি রাখা হয়েছে।
স্টেশন চত্বর, সিগন্যাল ব্যবস্থা, কর্মচারী কোয়ার্টার, গুদাম, লোকো শেড, ইয়ার্ড ইত্যাদির জন্যও বিশাল জমি লাগে।
ফলে আজ ভারতীয় রেল বিশ্বের বৃহত্তম ভূমি-মালিক সরকারি সংস্থাগুলোর একটি। বহু জায়গায় কয়েক দশক ধরে অব্যবহৃত বা কম ব্যবহৃত রেল জমিতে বস্তি, দোকান বা অন্যান্য অবৈধ দখল গড়ে উঠেছে। বর্তমানে রেল কর্তৃপক্ষ সেই জমিগুলোর একটি অংশ দখলমুক্ত করার অভিযান চালাচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গে বা অন্যান্য রাজ্যে যে রেল জমির উচ্ছেদ অভিযান দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, তার অধিকাংশ জমিই ব্রিটিশ আমল বা স্বাধীনতার পর রেল প্রকল্পের জন্য আইনগতভাবে অধিগ্রহণ করা জমি। তবে কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় উচ্ছেদ নিয়ে বিতর্ক থাকলে সেখানে জমির মালিকানা, লিজ, আদালতের নির্দেশ বা পুনর্বাসনের প্রশ্নও উঠে আসে, যা স্থানভেদে আলাদা হতে পারে।
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।