এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • বহ্নি মধুময় অথবা মধু বহ্নিময়: (উপন্যাসিকা ঃ পর্ব ১) 

    রানা সরকার লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ১৩ জুলাই ২০২৬ | ১১ বার পঠিত
  • মুখবন্ধঃ এই উপন্যাসিকাটি আমি লিখেছিলাম ২০১০-১১ সালে। এখানে যে সময়টার কথা বলা হয়েছে সেটা ১৯৯৫-১৯৯৯/২০০০। দুটি বড় বাংলা কাগজের শারদ সংখ্যায় দিয়েছিলাম। তারা ছাপেন নি।

    বাড়ির নাম অনাদি-অনন্ত। তার সিঁড়ির নীচের একটা ঘরে অনাদিবাবুর বৈঠকখানা। বৈঠকখানাও বলা যায়, আবার ক্লাবও বলা যায়।তবে যে অর্থে আপনারা ক্লাব ভাবছেন এটা ঠিক সেইরকম কিছু নয়। চ্যাংড়া ছোকরার সংখ্যা এখানে নেহাতই কম। যে ক’জন আছেন তাদের বেশীরভাগ দেহে না হলেও মনে চ্যাংড়া।

    অনাদিবাবুর বউ বছর ছয় হল গত হয়েছেন। সন্তানাদি বলতে ঐ একটি ছেলে; আমেরিকায় থাকে। নাম অনন্ত। একটা বেসরকারি ঔষুধের কোম্পানীতে কাজ করতেন অনাদিবাবু। পুরোনো লোক। সৎ, কর্মঠ। কোম্পানী তাকে রিটায়ারের পরেও কাজ করতে বলেছিল।তাতে তিনি জবাব দিয়েছিলেন যে রিটায়ারের পর আর কিচ্ছু নয়। হয় সমুদ্রে ফ্রি-টায়ারের ওপর ভাসব আর হাসব অথবা রিটায়ারের পর রেলের থ্রি-টায়ারে চেপে ভারতবর্ষ ঘুরে আসব। কিন্তু আর কোনো কাজ নয়। যে ক’টা দিন বাঁচি নিজের মতো করে বাঁচব।


    তা অনাদিবাবু তার রিটায়ার্ড লাইফ কাটানোর জন্য এখানে ওখানে বেড়ানোর পাশাপাশি খুলে ফেললেন একটা ক্লাব। পাড়ার-বেপাড়ার বিভিন্ন ধরণের লোকের আছে নিত্য যাতায়াত। ছেলে ছোকরাও কিছু আসে। সাহিত্য-বিজ্ঞান-দর্শন, হালফিলের রাজনীতি, খেলাধুলা ইত্যাদির চলে ঘনঘোর আলোচনা। চলে তাস, দাবা, শব্দছক। মাঝেমধ্যে চাঁদা তুলে খাওয়া হয় দেদার। এ যেন পাঁচমিশালী লোকের পাঁচখেয়ালী আড্ডাখানা।


    এইরকমই এক আড্ডাধারীর নাম শ্রীমান মধুময় সরখেল। ছোটোবেলায় সে কথা খানিকটা দেরী করে বলেছে।সবাই বলে তার মাথাটা নাকি ভোঁতা।বন্ধু-বান্ধবের কথা শুনে, তার একটা সারসংক্ষেপ করে নিজের সমস্ত কাজের সিদ্ধান্ত নেয় মধু।পড়াশুনায় অতটা ভালো না হলেও সরোদটা দারুন বাজায়। বৃষ্টিস্নাত করবী গাছভর্তি হলুদ ফুল যে মুগ্ধতা নিয়ে আসে, মধুর সারোদ বাদন তার থেকে কিছু কম আনে না। বরঞ্চ হিসেব কষলে তার থেকে বেশীই মনে হবে। মাত্র বছর ছয় হল শিখছে। মাষ্টার বলেছেন এভাবে এগোতে পারলে মধু একদিন নিশ্চয় দশের সেরা হবে, দেশের সেরা হবে। হবে আমাদের গর্ব।

    তবে মধুর সময়টা এখন খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। বি.এ. পাশ করে চাকরীর চেষ্টা করছিল। নম্বরও তেমন ভালো নয়, তাছাড়া মামার জোরও নেই। এক বন্ধু বলল যে বিজনেস কর। কী বিজনেস? না, এখন কনজিউমার প্রোডাক্ট খুব বিক্রি হচ্ছে। লোকজন এখন তাদের রূপ-যৌবন সম্পর্কে দারুন সচেতন। আগে মেয়েরা এই দলে থাকলেও এখন ছেলেরাও ভিড়ে গেছে সেই গড্ডপ্রবাহে। দেদার বিকোচ্ছে শ্যাম্পু-ক্রিম-সাবান। বেশীরভাগ পন্যই ক্রেতাদের রূপ-যৌবন অটুট রাখবার জন্য। তা সেই রকমই কিছু একটা যদি করা যায়।

    কথা হচ্ছিল স্কুল মাঠের ধারে বসে। রাত তখন আটটা। মাঠের এদিকটা প্রায় চুপচাপ। অফিস ফেরতা লোকজনের বাড়ি ফেরার তাড়া, সাইকেল-রিক্সোর ঘন্টি আর তাদের কথাবার্তা ছাড়া প্রকৃতির নিস্তব্ধতার আইন কেউ ভঙ্গ করছে না। যে সময়ের কথা বলছি সেই সময়ে পকেটে পকেটে মোবাইল ফোনের অথবা রাস্তায় রাস্তায় মোটরবাইকের প্রাদুর্ভাব ঘটেনি।

    ফচকে ফোঁড়ন কাটল, “কিন্তু জৈব বা হার্বাল হওয়া চাই”।

    মংকা যোগ দিল, “আরে ছাড়। হার্বাল ব্যাপারটা জাস্ট একটা ভার্বাল ব্যাপার। হার্বালের নাম করে কী যে চলছে কে দেখতে গেছে, কিগো পলতেদা? তাইতো?”।

    পলতেদা একটা বিড়ি খাচ্ছিল। বেশ মন দিয়ে। মংকার প্রশ্নটা এক ধোঁয়ায় উড়িয়ে দিল। বলল, “আরে এসব তো হবেই। যারা বেচছে শুধু তাদেরকেই দেখলি, আর যারা কিনছে? তাদের দেখিসনি। হাড়-হাভাতের দল, মাথায় কিছু নেই। যা বুঝিয়ে দিল ব্যাস তাই বুঝে নিয়ে ছুটল তার পেছনে পেছনে ....। দূর দূর, এদের ওপর আবার করুণা ..... বরঞ্চ ..... বরঞ্চ ”। দাড়িতে খানিকক্ষণ হাত বুলিয়ে বলল, “আমার না দারুন একটা আইডিয়া এসেছে”।

    “কি গো?”

    “আমরাও কনজিউমার প্রোডাক্ট তৈরী করে বিক্রি করব ...”

    “কন .. জিউ ... মার?”, মংকার কথায় একটা বেশ তাচ্ছিল্লের ভাব।

    “হ্যাঁ। একটা ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট হবে আর একটা ট্রেডিং ...। কী বলবি তো?”

    “ট্রেড লাইসেন্স লাগবে ...। তারপর পলিউশন কন্ট্রোল থেকে সার্টিফিকেট ...”

    “দূর দূর। কত লোকে বিনা লাইসেন্সে কারবার করে খাচ্ছে। আর দেখগে যা যত কারখানা আছে তার থেকে বেশী আছে পলিউশন সার্টিফিকেট”।

    “তবে?”

    “তবে আবার কী। সব আছে কথায়; কাজে নয়। আসুক না পলিউশন, এমন ইলিউশন দেখাব না, বাছাধনেরা পালাবার পথ পাবে না”।

    “তাহলে কী করবে?, আমরা সকলে পলতেদার কথায় বেশ উৎসাহিত বোধ করলাম”।

    “শোন, আমার বাড়িতে যে পুরনো গোয়ালঘরটা আছে ..”

    “গরু পুষবে!”, বলে মংকা বেশ একটা শ্লাঘা অনুভব করল।

    আমাদের মধ্যে পলতেদার কথা বোঝা নিয়ে বেশ একটা প্রতিযোগিতা চলে। কে কতবার সবার আগে পলতেদার কথা ঠিক বুঝেছে, তাই দেখে নম্বর দেওয়া হয়। আবার ভুল বুঝলে মাইনাস। মাসের শেষে খাতা দেখে হিসেব কষা হয়।নম্বর যার বেশী থাকে তাকে সেই মাসে আমাদের মধ্যে সমঝদার বলে খাতির করা হয়। মংকা একবারও ‘সমঝদার অফ দি মান্থ’ হয় নি। এবার তাই জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। কথাটা বলে মুখে একটা বেশ প্রশান্তির ভাব এনে আমাদের দিকে তাচ্ছিল্লের ভাব করে তাকাচ্ছিল মংকা।

    “হ্যাঁ ....”।

    মংকার হাসি ক্রমশ চওড়া হচ্ছে..

    “তুই একটা গরু, আর তোকেই পোষা হবে”।

    মংকার চোয়াল ঝুলে পড়ল। আমরা ফেটে পড়লাম হাসিতে। পলতেদা সে দিকে নজর না দিয়ে বলতে থাকল, “শোন, আমাদের ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটটা হবে গোয়াল ঘরে। সাবান আর ক্রিম”। মধুকে ঠেলা মারল পলতেদা। বলল, “আমরা স্কুলের ওয়ার্ক এডুকেশনে সাবান তৈরী শিখেছিলাম না ...?”

    “সাবান আর ফিনাইল ..

    “যা একটা সাবান বানিয়েছিলাম না মাইরী। নমিতাবৌদিকে দিতেই পরদিন বলল কী সাবান দিয়েছ? এখানে ওখানে ফুসকুরি উঠেছে। বাইরে বেরোনো যাচ্ছে না ...! এমন সব অসভ্য জায়গায় চুলকোচ্ছে”। বলেই খ্যাকখ্যাক করে খানিকটা হেসে নিল পলতেদা।হাসি থামিয়ে বলতে থাকল, “বললাম কুছ পরোয়া নেই বৌদি, এ হল হোমিওপ্যাথ সাবান। আগে সব ইরাপশন বের করে দেবে, তারপর দেখবেন কোনো রোগ নেই”।

    নমিতাবৌদি আমাদের ড্রিমগার্ল, আমাদের হার্টথ্রব, আমাদের লাব-ডুব-লাব। পলতেদার সাবান মেখে তার হালত খুব খারাপ হয়ে গেছিল। শেষে ভালো একজন স্কিন স্পেশালিস্ট দেখিয়ে সে যাত্রায় রক্ষে পায়। অতীতের এই অভিজ্ঞতার জেরে মধুময় বলল যে সে এসবের মধ্যে নেই। শেষে কী মারধোর খাবে না কী।

    পলতেদা মধুকে আশ্বাস দিল। বলল, “ধুর, ওটা তো কাঁচা কাজ হয়ে গেছে। এবার যা করব না পৃথিবীতে হয় নি”।

    আমরা সব উত্তেজনায় পলতেদার গা ঘেঁষে বসলাম। কী এমন কাজ পলতেদা করবে যা এখনও অবধি পৃথিবীতে কেউ করেনি জানতে তর আর সই ছিল না আমাদের।

    পলতেদা মাতব্বরের মতো বলতে থাকল, “ভেজিটেবল ওয়েল দেব বুঝলি। ফ্যাটি অ্যাসিডের জন্যে দেব পাঁঠার চর্বি”।

    -“পাঁঠার চর্বি!”

    “হ্যাঁ। পাঁঠার চর্বির বড়া খেয়েছিস? একবার খেলে হাত ধুতেই ইচ্ছে করবে না”।

    মংকা, ফচকেরা নাক সিঁটকালো। বলল, “কিন্তু গা দিয়ে যদি পাঁঠা পাঁঠা গন্ধ বেরোয়?”

    “তাহলে ..... তাহলে”, পলতেদা হাতড়াতে থাকল...।

    “তাহলে?”

    “ইউরেকা। চাঁপা, শিউলি আর বকুল হামানদিস্তায় পিষে দিয়ে দেব”।

    “চাঁপা, শিউলি আর বকুল তুমি পাবে কোথায়?”, মংকার ব্যাপারটা অবিশ্বাস্য ঠেকছিল।

    “কেন তোরা এর ওর বাগান থেকে পেড়ে আনবি। আহ, যা একটা খুশবু আসবে না, আহ!”।

    মংকা থাকতে না পেরে যোগ দিল, “সাথে কলকে, আকন্দ ...”

    “তোমার মুন্ডু!”

    “আর ক্রিম?”

    “হ্যাঁ, ক্রিমটা আমরা বানাব না। তুলে আনব আর ভরে ভরে বিককিরি করব ...”।

    আমাদের তো চোয়াল ঝুলে ঝুলবারান্দা। বলে কী? ক্রিম তুলে আনবে আর ভরবে!

    “তুলে আনব কী গো? একী নদীর বালি না পুকুরের জল? নাকী তোমার হবু শ্বশুড়ের ক্রিমের ফ্যাক্টরি আছে, না কোনো কোম্পানী স্টক ক্লীয়ার করছে?”

    “না না, তা নয় ..”।

    “তবে?”।

    “গঙ্গামাটি”, কানটা কড়ে আঙুল দিয়ে চুলকে নিল পলতেদা।

    “গঙ্গামাটি!”।

    “তোদের ফান্ডা এতো পুয়োর কেন। জানিস না গঙ্গামাটি মাখলে স্কিন কীরকম স্মুদ হয়ে যায়?”

    “কিন্তু কালো হবে যে? তাছাড়া একটা বিটকেল গন্ধ থাকবে না?”

    “গন্ধর জন্য স্প্রে করে দেব আর কালো বলছিস? বলব ...., বলব, হ্যাঁ, ক্যারিবিয়ান ক্রিম। টিভিতে ক্রিকেট খেলায় দেখিস নি....। ব্যাস, তোরা সাইকেল করে বালতি বালতি আনবি। ভরব আর সিল মারব। দেখবি কোথায় আমাদের ব্যবসা চলে যাবে”।

    “কোথায়?”, মংকা আশ্চর্য হয়ে বলল।

    “হংকং, প্যারিস, ইওরোপে ছড়িয়ে পড়বে। অফিস, গাড়ী, স্যুট,বুট, সেক্রেটারি ...”।

    ফচকা আবদার করে বলল, “আমি কিন্তু নমিতা বৌদিকে সেক্রেটারী করব”।

    আড্ডা ভাঙতে ভাঙতে বেজে গেল সাড়ে এগারোটা। বাড়িতে মা-দিদি না খেয়ে বসেছিল। দুদ্দার করে খেয়েই বিছানায় শুয়ে পড়ল মধুময়। রাতে ঠিক মতো ঘুমাতে পারল না। শেষরাতের দিকে স্বপ্ন দেখল। বিরাট কাঁচঘেরা ঘর। কম্প্যুটার, সেলফোন, ল্যাপটপ, ভিডিও কন্ফারেন্সিং রুম। কাজ করতে করতে একটু ঝিম এসে যাচ্ছিল। অনেকদিনের ভাতঘুমের অভ্যাস তো। হঠাৎ কে যেন দিল মৃদু ধাক্কা। বলল, “ইটস্ কফি টাইম, স্যার”। মুখটা অবিকল নমিতাবৌদি। তবে অনেকটা লম্বা। সাদা ধবধবে পা অনেকটা বেরিয়ে! পায়ের পাতাটা বাঘের থাবার মতো। ধরতে গেল, দেখে কাঠ কাঠ। আবার ধাক্কা।

    ধড়মড় করে ঘুম ভেঙে দেখে যে মধু তার খাটের পায়া ধরে আছে আর ওর মা চা খাওয়ার জন্য ডাকছেন। বললেন, “ঘুমের মধ্যে কী যাতা বকছিলি? যা, হাতমুখ ধুয়ে চা খেয়ে বাজারে যা। বাবা আজ তাড়াতাড়ি অফিস বেরিয়ে গেছে আর বাড়িতে আনাজ একটুও নেই”।

    বাজার যাওয়ার পথে পলতেদার সাথে দেখা। বলল, “এগারোটা নাগাদ আমাদের গোয়ালঘরে চলে আসিস”।

    সকালের জলখাবার দুদ্দার করে খেয়েই পলতেদার গোয়ালঘরে ছুটল মধু। দেখে ভুতোও চলে এসেছে। একটা ভাঙা বালতি নিয়ে এসেছে ওর বাড়ি থেকে। ফচকে আর মংকাও হাজির। প্লাস্টিক প্যাকেট করে নিয়ে এসেছে ফুল। সকালে এর ওর গাছ থেকে পেরেছে। পলতেদা নিয়ে এসেছে আধকেজি পাঁঠার চর্বি। মাহমুদের দোকান থেকে। বালতিটা মধুকে দিয়ে বলল, “যা, গঙ্গামাটি নিয়ে আয়”।

    মধু প্রথমে বাড়ি গেল। ফুলপ্যান্ট ছেড়ে পড়ল আধময়লা একটা হাফপ্যান্ট। মাথায় খানিকটা তেল নিল মেখে। তারপর ঠাকুমার থেকে নিয়ে নিল একটা তোবড়ান জার; গঙ্গাজল আনবে। বুড়ি অনেকদিন ধরে বলছিল। তারপর সাইকেলটা নিয়ে সোজা গঙ্গায়। বাড়ি ফিরে গা-হাত-পা মুছে শুকনো জামাকাপড় পরে যখন আবার পলতেদার গোয়ালঘরে এল আধবালতি গঙ্গামাটি নিয়ে শুনল পলতেদা বাগরি মার্কেট চলে গেছে। ক্রিমের কৌটো আর সাবানের র‍্যাপার-এর অর্ডার দিতে।

    বিকেলে পাড়ার দু’একজন লোক দেখতে এলেন কী হচ্ছে। কেউ বললেন, “হবে, হবে। ও আজকাল চাকরি করে কিসসু হবে না। ফোর্ডও এভাবেই শুরু করে ছিল।

    অপরজন বললেন, “বানিজ্যে বসতে লক্ষী। যারা ব্যবসা করে দাঁড়িয়েছেন তাদের শুরুটাও এমনই। জানো আমাদের পাড়ার যে মিষ্টির দোকান দিয়েছেন তিনিও এক সময় বাঁকে বাঁকে দুধ বিক্রি করতেন। তোমাদেরও হবে”।

    অন্য একজন জানতে চাইলেন যে আমরা কীসের বিজনেস করছি। ক্রিম আর সাবানের শুনে বললেন বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে, পাড়ার দাদা বলে কথা। মাঝে মধ্যে এসে উৎসাহও দেবেন জানিয়ে গেলেন।

    মধুর আনন্দ আর ধরে না।নিজের জমান টাকা দিল ঢেলে। পলতেদা কলকাতা থেকে চলে এসেছে। সাথে এসেছে নীল রঙ-এর ক্রিমের কৌটো আর দুধসাদা রং এর সাবানের র‍্যাপার। নাম কী হবে তাই নিয়ে তর্ক চলল খানিকক্ষণ। শেষে ঠিক হল ক্রিমের নাম হবে ‘ডবল বিউটি ক্রিম’ আর সাবানের নাম ‘পলিগ্যামী সোপ’।

    ‘ডবল বিউটি ক্রিম’ কারণ এই ক্রিম ত্বকের কালোভাব তুলবে, আবার রঙ এবং জেল্লা দুটোই বাড়াবে। পলিগ্যামি সাবান শরীরের যে কোনো জায়গায়, মানে মাথা থেকে পা পর্যন্ত মাখা যাবে।

    বিজ্ঞাপনে আরও লেখা থাকবে - ‘ডবল বিউটি ক্রিম’ আর ‘পলিগ্যামী সোপ’ মাখুন ও মাখান। প্রথমে স্নানের আধঘন্টা আগে ক্রিম মেখে নাকে হাত দিয়ে বসে থাকুন। কারণ তখন শরীরে কম অক্সিজেন লাগবে।বেশি অক্সিজেনে বিপরীত ফল হতে পারে। একহাতে লাগান আর অন্য হাতে মশা-মাছি তাড়ান।তারপর গায়ে জল ঢেলে খোসা দিয়ে ঘষে আলতো করে সাবান মেখে আবার জল ঢেলে ভিজে গায়ে হাসতে হাসতে বাথরুম থেকে বেড়িয়ে আসুন। মুখের হাসি যেন লেগে থাকে, অন্যথায় বিপরীত ফল হতে পারে। এরপর তোয়ালে দিয়ে চোয়ালে বুলিয়ে নিন। তারপর মুছে নিন শরীরের অন্যান্য অংশ। এভাবে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর বা সঠিক অর্থে যুগ যুগ ধরে উপহার পান এক অর্নিবচনীয় মহাজাগতিক তুলতুলে মার্বেল টাইলসের মতো ত্বক, যা ঝকঝক করবে, চকচক করবে। ত্বকের ওপর আলো পড়লে হবে আভ্যন্তরীন পূর্ণ প্রতিফলন। যার ফলে ছেলেদের চোখ ট্যারা হয়ে যাবে। শরীর হবে ঠান্ডা, ত্বক হবে মসৃন। ত্বকের মেলানিন ‘মেলাবেন তিনি মেলাবেন’ বলে মিলিয়ে যাবে। আপনি হয়ে উঠবেন অপরূপা, অপ্সরা। আপনার পেছনে অনেকে লাইন দেবে। তবে লাইন ভঙ্গকারী আইন অমান্যকারীকে প্রশয় দেবেন না। একডজন ক্রিম আর সাবান কিনলে সাথে ফ্রি ফোল্ডিং ছাতা। রোদ-বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পাবেন। তৎসহ অনভিপ্রেত পুরুষদের ছাতাপেটাও করতে পারবেন।

    মধু বলল, “এসব কী যাতা লিখছ!”

    পলতেদা মুখে একটা সবজান্তা ভাব এনে বলল, “থাম তো।এটা হচ্চে নিউ মার্কেটিং টেকনিক, বুঝলে চাঁদ? নীচে বড় বড় করে লেখা থাকবে ‘ইন্ডিয়ান ক্যাডাভারাস অ্যাসোসিয়েশন’ দ্বারা প্রমানিত”।

    “ক্যাডাভারাস অ্যাসোসিয়েশন!সেটা আবার কী?”, আমরা সবাই জানতে চাইলাম।

    “মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের খুঁড়োশ্বশুড়। সঙ্গে থাকবে ‘স্ক্র্যাচ কার্ড’। ঘষলেই রোকরা। ফুর্তি করুন, মূর্তি গড়ুন”।

    “কিন্তু উপহার দেবে কেমন করে?”

    “আরে দূর। ১০,০০০ টাকা লাভ করলে পাঁচ টাকা প্রাইজ।দেখবি প্রাইজের লোভে কেমন মাল বিক্রি হয়”।

    “আচ্ছা, আমরা কী লোকালই বিক্রি করব?”

    “লোকালে তো এজেন্ট থাকবে। তার আগে প্রোমো প্যাক দেব। তবে দূরে, পাড়ায় নয়”।

    “কেন গো?”

    “ওসব বিজনেসের ব্যাপার বুঝবি না। যা এখন স্টোভ ধরা। সাবান তৈরী করতে হবে। আর তুই ভুতোকে নিয়ে গঙ্গামাটি থেকে নোংরা বাছ”।

    তারপর একদিন সাবান আর ক্রিম তৈরি হয়ে গেলে পলতেদা ঠিক করে দিল কোনদিকে কারা যাবে। যারা যেদিকে যেদিন যাবে, তারা পরের দিন যাবে উল্টোদিকে। কারণ প্রথমদিন যদি কোনো গোলমাল হয় তাহলে ধরা পরে ধোলাই খেতে হবে না। দল করে দিল পলতেদা। মধু আর ভুতো একসাথে যাবে। মংকা আর ফচকা যাবে একসাথে। কোথায় কখন ঠিক কী বলতে হবে পাখি পড়ানোর মতো বুঝিয়ে দিল পলতেদা। সকালবেলা যথারীতি ঠাকুর প্রণাম সেরে বেরিয়ে পড়ল চারজনে। গেল একটু দূরেই।

    এক বাড়িতে গিয়ে ভুতো বেল বাজাল। বৃদ্ধ এলেন বেরিয়ে। হাসি মুখে ডাকলেন বাড়ির ভিতর। মধুকে চোখ টিপল ভুতো, মানে কেস সাকসেস। অনেকক্ষণ কথা বললেন। কোনটা কীভাবে ব্যবহার করতে হবে বিশদে জানলেন সবকিছু। মধু আর ভুতোর তর সইছে না। কখন যে অর্ডারটা দেবেন। শেষে থাকতে না পেরে নিজেরাই বলল সেই কথা। বৃদ্ধ জানালেন যে তিনি কিছুই নেবেন না।

    বিরক্ত হয়ে ভুতো জানতে চাইল, “নেবেন না যখন, তখন আমাদের এতো বকালেন কেন? আর কেনই বা নষ্ট করলেন সময়?”

    বৃদ্ধ হেসে বললেন, “সারাটা দিন একা থাকি তো। কথা বলবার লোক নেই। তাই যে সেলসম্যান আসে তার সাথেই কথা বলি। নয়ত অসামাজিক হয়ে পড়ব যে”।

    অন্যদিকে আরেক অবস্থা। ফচকা আর মংকাকে এক ভদ্রমহিলা ক্রিম দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, “কালো কেন? ” ফচকা ঢোক গিলল। ভদ্রমহিলা বলে চললেন, “টিভিতে যে সমস্ত ক্রিমের অ্যাডর্ভ্যাটাইস দেখেছি তাদের রঙ হয় সাদা নয়তো অফ-হোয়াইট অথবা গোলাপী। কিন্তু কালো রঙের ক্রিম তো দেখিনি?”

    মংকা একটুও না দমে উত্তর দিল, “বুঝলেন না, এটা হোল নিগ্রো ক্রিম। কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা বোঝেন, চোখের বদলে চোখ?” মহিলা ঘাড় নাড়লেন, মানে বোঝেন। মংকা বলে চলল, “এও ঠিক তাই। আমরা কালো দিয়ে কালো তুলব।তারপর সাবান তো আছেই। কি, বুঝলেন এবার?”

    ক্রিমের কৌটো নিয়ে মহিলা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে থাকলেন। মংকা বলল, “নিয়মাবলী ঐ প্যাকের মধ্যেই পাবেন”। মহিলা সাবান আর ক্রিম কিনলেন।

    মংকাকে তখন দেখে কে। জামার কলার তুলে সিগারেট ধরাল। চোখ নাচিয়ে বলল, “দেখলি, কেমন দিলাম”। এই ভাবে বেশ কয়েকটা মাল বিক্রি হল। সন্ধ্যেবেলায় পলতেদা সমস্ত কিছু জেনে পিঠ চাপড়ে দিল মংকার। বলল, “এই তো চাই। আমার উপযুক্ত শিষ্য হওয়ার দিকে তোর যাত্রা শুরু হয়ে গেছে। তোরাও শেখ”। বাড়ি ফিরবার সময় মংকা বলল, “নতুন ক’টা জামা বানাতে দিতে হবে বুঝলি”

    “কেন?”

    “বুকের ছাতিটা ৫৬ ইঞ্চি হয়ে গেছে”।

    বেশ কয়েকদিন পর মধু, ভুতো আর পকাই রোজকার মতো মাল বিক্রী করতে বেড়িয়েছে। পকাই নতুন এসেছে। পাড়ায় ঢোকবার মুখে সাফারি স্পোর্টিং মাঠের কাছে গিয়ে দেখে একটা জটলা। বেশ কিছু লোক হাতে লাঠি,উইকেট, দরজার খিল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েরা রয়েছে ঝাঁটা, খুন্তি হাতে। ব্যাপার দেখে ভুতো বুঝল কেস জন্ডিস। পকাইকে পাঠাল। কারণ ও নতুন এসেছে। কেউ ওকে আগে দেখেনি। নিজেরা একটা সিগারেটের দোকানে অপেক্ষা করতে থাকল। দুরু দুরু বুকে এগোল পকাই। কাছে গিয়ে বলল, “আচ্ছা দাদা, চপলদের বাড়িটা কোথায় বলতে পারেন?”

    তাচ্ছিল্যপূর্ণ দৃষ্টি নিয়ে এক মহিলা বলল, “ও নামে তো এখানে কেউ থাকে না। কিগো ?” পাশের এক ভদ্রলাককে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন, “হ্যাঁ গো, চপল নামে কেউ থাকে? আমাদের এখানে?”

    একেই লোকজন ক্ষেপে ছিল। বিরক্ত হয়ে বলল, “এরকম বিদঘুটে নামের লোক যদি থাকত তাহলে পেঁদিয়ে নাম পাল্টে দিতাম। যান তো, ম্যালা মাথা চাটবেন না। একেই দেখছেন আর্মস নিয়ে রয়েছি। বাছাধনেরা একবার আসুক। ... আজ আর প্রাণ নিয়ে ফেরত যেতে হচ্ছে না ....”

    না বোঝার ভান করে পকাই কারণ জানতে চাইল। হাতে দাদুর ছাতা নিয়ে এক ভদ্রলোক লুঙ্গী গুটিয়ে নধর দেহটা নিয়ে রনংদেহী মূর্তিতে বেরিয়ে এলেন ভিড় ঠেলে।বললেন, “আর বলবেন না দাদা, দু’তিনটে ঠকবাজ! কী সব আজেবাজে ক্রিম আর সাবান বেচে গ্যাছে কী বলব আপনাকে! আমার বৌ-এর হাতের চামড়া পুড়ে গেছে। কারো মুখে এমন কালো দাগ হয়ে গেছে যে সকলের সামনে বেরোতে পারছে না। কে যেন ক্রিমের গন্ধে বমি করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাই এইসব নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছি। পেলেই হাড় ক’টা ভেঙে একেবারে গুঁড়ো গুঁড়ো করে দেব”।

    পকাই একবার নিজের হাড়গুলো দেখে নিল। বলল, “বেশ করবেন। পেলে আমার হয়েও ক’ঘা দেবেন”। বলে সটকান দিল।

    সিগারেটের দোকানে এসে এই ভীষণ খবরটা শুনে আজকের বিক্রি ক্যানসেল করে তিনজনে সটান ফিরে গেল বাড়িতে। সবশুনে পলতেদা বলল, “এই ব্যবসা এখানেই খতম। যা পুজিঁ হয়েছে তা দিয়ে নতুন ব্যবসা করব। কারণ ডাইভার্সিফাই করতে হবে। একটা নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। পরে আবার সাবান আর ক্রিম বেচা যাবে”।

    “তা এখন আমরা কিসের ব্যাবসা করব?”

    “আমি ভেবেই রেখেছি..”

    “কিসের?”

    “ঘি”।

    “হ্যাঁ, ঘি! নাম দেব ‘খাঁটিঁ বাংলা ব্যকরণ ঘি’”।

    “খাঁটিঁ ....!” বলে মংকা পেট চেপে হাসতে থাকল। থামল ধমক খেয়ে।

    “হ্যাঁ, খাঁটিঁ বাংলা ব্যকরণ ঘি। এই ঘি খেলে মাথার গ্রামার পোক্ত হবে, শক্ত হবে। এই গ্রামার হল ইউনিভার্সাল গ্রামার। বাচ্চাদের রোজ নিয়ম করে দু’বেলা খাওয়ালে দেখবেন বড় হয়ে আট-দশটা ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারবে। তবে বাংলায় প্রস্তুত বলে ‘বাংলা’ শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে। জানবেন, স্বয়ং নোম চমস্কি এই ঘি খেয়েই বড় হয়েছেন”।

    কিন্তু নোম চমস্কিই বা কে আর তিনি সত্যিই এই ঘি খেয়েছেন কী না, সেসব জিজ্ঞাসা করলে কোনও উত্তর দিল না পলতেদা। আর কীভাবে এসব করব জানতে চাইলে পলতেদা বোঝাল যে ব্যাপারটা তেমন কিছুই নয়। এক হিন্দুস্থানি ঘি-ওয়ালার থেকে ঘি নিয়ে তার সাথে সস্তার রেপসিড বা পাম তেল মিশিয়ে বিক্রি করবে। সাবান-ক্রিমের বেলায় যে সব জায়গায় যাওয়া হয়েছিল এবার আর সেদিকে যাওয়া হল না। কিন্তু এবারেও সেই বিপত্তি।

    বেশি লাভ করতে গিয়ে বেশি বেশি করে পামতেল মেশান হয়েছিল। তাই খেয়ে কারও পেট ব্যাথা, কারো আমাশা। কেউ কেউ তো ডায়রিয়া হয়ে আধমাস ভর্তি ছিল হাসপাতালে। মার খায় আর কী। কোনো রকমে প্রাণ নিয়ে এলো পালিয়ে। দোষ দিল ঐ হিন্দুস্তানি ঘি বিক্রেতার নামে। এইসব ঘটনা ঘটার পর সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিল যে নাহ্, ব্যবসা আর নয়। বেশ কিছু টাকা গেছে বেরিয়ে। মধুময়ের গেছে সবচেয়ে বেশি, উৎসাহটা ওরই বেশি ছিল কীনা। এবার চাকরি করে সেই সব টাকা তুলতে হবে। এখন কোন ধরণের চাকরি করা যায় ভাবতে ভাবতে ওরা সবাই এসে হাজির হল অনাদিবাবুর সেই ঘরোয়া ক্লাব ঘরে।

    (চলবে)
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ধারাবাহিক | ১৩ জুলাই ২০২৬ | ১১ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    বসত  - Anjan Banerjee
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন