এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  সমোস্কিতি

  • পঞ্চম বাহিনী

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়
    সমোস্কিতি | ১৩ জুলাই ২০২৬ | ১৪ বার পঠিত
  • মে মাস থেকে, না হলেও গোটা পঁচিশেক মারাত্মক নারীলাঞ্ছনার অভিযোগ এসেছে। কয়েকটা খুন অবধি গড়িয়েছে। কয়েকটা একদম অন ক্যামেরা হয়েছে। কয়েকটায় শাসক দলের লোকজন সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ। কৃষ্ণনগরে এক শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে ক্যামেরা অন করে মারধোর করে থান পরিয়ে দেবার চেষ্টা করে শাসক দলের লোকেরা। শান্তিপুরে একটি দুবছরের মেয়েকে যৌন লাঞ্ছনার দায়ে জেলে ছিলেন শাসক দলের এক স্থানীয় নেতা। অভিযোগ তুলে নেওয়ার চাপ দেওয়া হয় এবং মাকে খুনের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বলাবাহুল্য, শাসক দলের বিরুদ্ধে।

    এগুলো সবই মারাত্মক ঘটনা। কিন্তু ভয়াবহতর ব্যাপারটা হল, এগুলো সবই এসেছে ছোটো মিডিয়ায়। ডিম্মিডিয়া এইসব ঘটনায় জমা-খরচের হিসেব নিয়ে সরকারকে বিব্রত করবে আশা করা যায়না। কিন্তু যা করছে সে আরও বিপজ্জনক। এদের একটাই লাইন। কয়েকমাস আগে পর্যন্ত সমস্ত হিংসার দায় ছিল সরকারের এবং শাসক দলের। এখন সবই বিরোধীদের দায়। কিছুদিন আগে পর্যন্ত খুব 'জনরোষ' চলছিল, ডিম ও মারছিল বিরোধীরাই, এখন লজ্জা পেয়ে সেটা বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু ব্যাপার একই আছে। গতকালই নরেন্দ্রপুরে বিজেপি সমর্থক এক মহিলাকে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে মারা হয় বলে অভিযোগ। ডিম্মিডিয়া লিখেছে, তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের কান্ড। শাসক তৃণমূল কিছু ধোয়া তুলসিপাতা ছিলনা, কিন্তু এই প্রতিবেদন সত্যি হলে মানতে হয়, তৃণমূলই এখনও পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী, সরকার, সব চালাচ্ছে, এত ডিম মেরেও শাসক দল বুড়ো আঙুল চোষা ছাড়া আর কিছু করতে পারেনি।

    বারুইপুরই দেখুন। এ ঘটনা ছমাস আগে ঘটলে ভোর থেকে ক্যামেরা নিয়ে কোমরে গামছা বেঁধে ডিম্মিডিয়া হাজির হত। রাজ্য কীরকম ধর্ষণের মুক্তাঞ্চল হয়ে গেছে, সেই নিয়ে ঘাড়নাড়া প্যানেলিস্টরা সকলেই একমত হয়ে সরকারের মুন্ডু চিবোতেন। আর এখানে কী হল? সারাদিন ধরে মিডিয়া ব্ল্যাক-আউট। তাদের গাড়ির পেট্রোল মনে হয় ফুরিয়ে দিয়েছিল। তারপর ঘটনাটা এমন জায়গায় পৌঁছল, যে, কিছুটা দেখাতেই হল। কী কী হল? একটি নয়, চার-চারটি অস্বাভাবিক মৃত্যু। একই পুকুর থেকে উদ্ধার হল স্থানীয় দুজন 'নিখোঁজ'এর লাশ। তার মধ্যে দশ বছরের একটি মেয়ে। গণপিটুনিতে একজন মারা গেল, একজন পুলিশি হেফাজতে। জড়িয়ে গেল স্থানীয় বিজেপি নেতাদের নাম।

    পুলিশ কী করল? অভিযোগ, যে, স্থানীয় লোকেরা ধরে দেবার পর, আসামীদের প্রাথমিকভাবে ছেড়ে দিল। সেখানেও বিজেপির হস্তক্ষেপের অভিযোগ। তারপর সবচেয়ে ন্যক্করজনক, যে, পুলিশি হেফাজতে এমন একজনের মৃত্যু হল, যে আরও অনেকের নাম করছিল। কে সেই 'রাজা', এখনো কেউ জানেনা। ফরেনসিক পৌঁছল জলে সবকিছু ধুয়ে যাবার পর। মৃতার পরিবার সরাসরি আসল দোষীদের আড়াল করার অভিযোগ করলেন।

    মুখ্যমন্ত্রী কী করলেন? অনেক আগেই সকালে জমা, বিকেলে খরচার কথা বলছিলেন। কে নির্দোষ সেটাও তিনি বলে দিলেন। বললেন, নাম-ধাম দেখে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে। বললেন, বাম এবং অতিবামরা এর জন্য দায়ী।

    সব মিলিয়ে পুরোটা থেকেই ধামাচাপা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টার আঁশটে গন্ধ বেরোচ্ছে। আর মিডিয়া কী করছে? একজন সঞ্চালক তো সোশাল মিডিয়ায় সরাসরি খরচার দাবী তুলেছেন। আরেকজন গোলগোল চোখ করে বলছেন, সরকার বদলায়, পুলিশ বদলায়না। ভাবুন, ছমাস আগে হলে কী হত? আরজিকরে ফরেনসিক নিয়ে এখনও উড়ো চিঠি উল্লেখ করে বলা হচ্ছে কী কী যেন প্রমাণ লোপাট হয়ে গেছে, আর এখানে ফরেনসিক পৌঁছলই কতদিন পরে। পুলিশ গদাম করে সম্ভাব্য সাক্ষীকে মেরে দিল। প্রতিবাদীদেরই ধরে জেলে পোরা হচ্ছে বলে অভিযোগ। বাম নেতার বিরুদ্ধেও নাকি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং ঠিক করে দিচ্ছেন দোষী-নির্দোষ। এর এক শতাংশ হলে ১ বছর আগে ঝড় বয়ে যেত। মিডিয়ায় বয়ে যেত, প্রতিবাদীদের মধ্যে বয়ে যেত। এখন মিডিয়া ছেড়ে দিন, অভয়া মঞ্চের সরকারি বিবৃতিতে দেখলাম, "এই জাতীয় খুন ধর্ষণের ঘটনা ঘটার প্রশাসন এবং সমাজের সক্রিয়তা অবশ্যই জরুরি, তার চেয়েও জরুরি এমন ঘটনা যেন না ঘটে তা দেখা"। সিরিয়াসলি? সুবিচার, তদন্ত, সিবিআই, বিচারবিভাগীয় তদন্ত, এসব শুধু অন্য আমলে দরকার ছিল, এখন আর নেই, ধামাচাপার জ্বলন্ত চেষ্টা দেখা যাচ্ছে, সে নিয়ে আওয়াজ তোলার আর দরকার নেই, প্রশাসন, সরকার কারো বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার দরকার নেই, এখন সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে এমন ঘটনা যেন না ঘটে?
    বিজেপির সংগঠন নেই। কিন্তু ডিম্মিডিয়া থেকে শুরু করে তথাকথিত 'প্রতিবাদী' অবধি সর্বত্র ঢুকে বসে আছে স্লিপার সেল, কোথায় ভয়ে কোথাও ভক্তিতে, কোথাও স্বার্থের কারণে, সেইটাই হল সবচেয়ে মারাত্মক ব্যাপার।




    সিপিএম নেতা লাহেক আলিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, এই মাত্র দেখলাম। ডিম্মিডিয়ায় কয়েকদিন ধরেই দাবী উঠছিল। এখন তো ডিম্মিডিয়া সরকারের মধ্যে এমবেডেড। তারা 'খরচা চাই' বললে খরচা হয়ে যায়, 'গ্রেপ্তার চাই' বললে গ্রেপ্তার হয়ে যায়। বা এগুলো হবে ঠিক করে তাদেরকে বলা হয় এগুলোর পক্ষে প্রচার করতে। এই খবরটা আসার আগেই ডিম্মিডিয়ায় দেখছিলাম, 'জিহাদি' কানেকশন নিয়ে জোরদার তদন্ত চলছে বারুইপুরের ঘটনায়। এবার নির্ঘাত সেটাও পাওয়া যাবে। এগুলোকে খুব গোদা ভাষায় বললে বলে কনসেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং। অনেকদিন ধরেই চলছে। বাধা না পেয়ে এখন চূড়ান্ত অবস্থায় পৌঁছেছে। এরপর শুনছি গুন্ডাদমন আইন প্রয়োগ হবে। তখন আর আদালতের গল্পও থাকবেনা। বৃটিশ আমলে রাউলাট আইনের পর এ জিনিস হয়নি, আর রাউলাট আইনের পরেই ঘটেছিল জালিয়ানওয়ালাবাগ। চেনার মধ্যে শুনছি সুজন চক্রবর্তী, শ্রীলেখা মিত্র এদের বিরুদ্ধেও এফআইআর হয়েছে। তাঁদের ধরা হবে, নাকি এটা ওয়ার্নিং জানিনা। যেটাই হোক, ডিম্মিডিয়ায় তার পক্ষেও সজোরে প্রচার হবে। ঘাড় নাড়া চ্যানেলজীবীরা ঠিক-ঠিক বলবেন।

    বিরোধী পক্ষের লোকজনকে দুটো অনুরোধ করব। এক, গণতন্ত্রের চারটি স্তম্ভ মোটামুটি মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের জায়গা কতটা আছে জানিনা। এমতাবস্থায় অন্তত ডিম্মিডিয়ায় যাবেন না। আপনারা ভাবছেন, আপনাদের কথা লোককে শোনানোর একটাই উপায়, ডিম্মিডিয়ায় মুখ দেখানো। আসলে উল্টো। আপনারা ভিউয়ারশিপ আনছেন ডিম্মিডিয়ায়। তার জোরেই চলছে এই মতাদর্শ নির্মাণ। তার জায়গায় সমাজমাধ্যমে জোর দিন। ছোটো চ্যানেলগুলোর পাশে থাকুন। মূলধারা যদি গোল্লায় যায়, তো অন্য ধারা তৈরির কাজে একটু হাত লাগান। সর্বাত্মক বয়কট হোক ডিম্মিডিয়া।

    আর দ্বিতীয় কথাটা হল, চারটি স্তম্ভের বাইরে বেশ তাগড়াই একটি পঞ্চম বাহিনীও আছে। স্পেনের গৃহযুদ্ধে ফাসিস্ত ফ্রাঙ্কোর বিরুদ্ধে লড়ছিল আন্তর্জাতিক সংহতি। ফ্রাঙ্কো তখন বলেছিলেন, মাদ্রিদ আমরা দখল করবই, কারণ মাদ্রিদের চারদিকে আছে আমাদের চারটি বাহিনী। আর মাদ্রিদের ভিতরে আছে পঞ্চম বাহিনী। এখানেও কিন্তু পঞ্চম বাহিনী বিজেমূল এবং রাম্বাম দুই পক্ষেই। কেউ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বারুইপুর যান। কারো 'প্রতিবাদী' বক্তব্য শুরু হয় সরকার এবং পুলিশের প্রতি চূড়ান্ত আস্থা জ্ঞাপন করে। বৃটিশ আমলে রাউলাট আইনের নতুন সংস্করণ যারা আনে তাদের উপর এত আস্থা একমাত্র পঞ্চম বাহিনীর পক্ষেই থাকা সম্ভব। তো, অনুরোধ এই, যে, এদের তোল্লাই দেবেন না।


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • সমোস্কিতি | ১৩ জুলাই ২০২৬ | ১৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভালবেসে মতামত দিন