এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  প্রবন্ধ

  • মাইসিনির কাঁটা ও ঘন্টা তিনেকের গল্প  

    সুকান্ত ঘোষ লেখকের গ্রাহক হোন
    প্রবন্ধ | ১৭ জুলাই ২০২৬ | ১১ বার পঠিত
  • মাইসিনির কাঁটা

    খ্রিস্টপূর্ব চতুর্দশ শতকে গ্রিসের পেলোপনেসাস উপদ্বীপ। মাইসিনীয় সভ্যতার কারিগরেরা ব্রোঞ্জের একটা তার বাঁকিয়ে এমন একটা জিনিস বানালেন, যেটা দেখতে অবিকল আজকের দিনের সেই জিনিসটার মত যার গল্প আজকে করব। একটা সূচালো মাথা, একটা কুণ্ডলী-স্প্রিং, আর একটা আঁকশি যেখানে মাথাটা আটকে থাকে। প্রত্নতত্ত্ববিদরা একে বলেন 'ফিবুলা'। প্রথম ধরনটার নাম 'ভায়োলিন-বো ফিবুলা', কারণ বাঁকটা বেহালার ছড়ের মতো চ্যাপ্টা।

    লাতিন 'ফিবুলা' মানে ব্রোচ। মজার কথা, আমাদের পায়ের হাড়টাকেও ফিবুলা বলা হয় কারণ সেটা দেখতে এই কাঁটাটার মতো। অর্থাৎ শরীরবিদ্যার পরিভাষা পোশাকের কাছ থেকে ধার করা।
    মাইসিনি থেকে ফিবুলা ছড়িয়ে পড়ল ক্রিট, সাইপ্রাস, সিসিলি, দক্ষিণ ইতালিতে। রোমানরা টোগা আটকাতেন ফিবুলা দিয়ে। এট্রুস্কানরা আটকাতেন আলখাল্লা। আর যেহেতু জিনিসটা সবার চোখে পড়ত, সেহেতু যা হওয়ার তাই হল - কাজের জিনিস ধীরে ধীরে দেখানোর জিনিস হয়ে উঠল। খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকের ফিবুলায় সিংহ আর স্ফিংক্সের সারি বসানো থাকত। একটা এট্রুস্কান ফিবুলায় হাঁসের নকশা। একটা ইরানি পিন মানুষের হাতের আকারে গড়া, দুটো সিংহ মাথা-লেজ করে বসানো। সোনা, রুপো, ব্রোঞ্জ।

    অর্থাৎ, এই কাঁটাটা জন্মমুহূর্ত থেকেই শ্রেণি চিহ্নিতকরণের সাথে জুড়ে গ্যাছে। কে দামি ফিবুলা পরতে পারে আর কে পারে না সেটাই ছিল প্রথম বিজ্ঞাপন। থরস্টাইন ভেবলেন উনিশশো সালের কাছাকাছি (দ্য থিয়োরি অফ দ্য লেজার ক্লাস, ১৮৯৯) যাকে বললেন 'কনস্পিকিউয়াস কনজাম্পশন' - অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নিজের অবস্থান জাহির করা, ফিবুলা তার সবচেয়ে পুরনো নিদর্শনগুলোর একটা। মধ্যযুগে ফিবুলা রূপ বদলে ব্রোচ হল, আর ব্রোচ তো নিখাদ গয়না।

    কিন্তু একটা সমস্যা তিন হাজার বছর ধরে অমীমাংসিত রয়ে গেল। ফিবুলাই হোক, ব্রোচই হোক, বা সাদামাটা সোজা পিন - কাঁটার ডগাটা সবসময় খোলা থাকত। আঙুল ফুটো হত, শিশুর গায়ে ফুটত। কেউ এটার সমাধান করেনি। মানুষ সিংহের নকশা কেটেছে, গ্র্যানুলেশনের কাজ শিখেছে, সোনার পাত বসিয়েছে, কিন্তু ডগাটা ঢাকার কথা কারও মাথায় আসেনি।
    সেই কাজটা করবেন নিউ ইয়র্কের এক আধপেটা মিস্ত্রি। সাড়ে তিন হাজার বছর পরে। মাত্র তিন ঘণ্টায়।

    কার কথা বলতে যাচ্ছি আজকে বুঝতে পেরেছেন? কার আবার! সেফটিপিন, সেই আপাত তুচ্ছ এক কাঁটা যা আমাদের মানব সভ্যতার সাথে প্রায় তিন হাজার বছর জাপ্টাজাপ্টি করে। প্রথম কখন সে জিনিস ব্যবহার করেছিলাম? সত্যি বলতে কি মনে নেই, আর মনে না থাকারই কথা কারণ সে মিশে গিয়েছিল আমার মত আমাদের প্রায় সবারই জীবনে কোন রকম আলাদা মনযোগের দাবী ছাড়াই। ব্যাগের ভেতরে, পার্সের ভাঁজে, ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে, শাড়ির আঁচলের কোণে, কখনও ব্লাউজের পাশে গোঁজা - যেন ওটা একটা অঙ্গ, ব্যবহার্য বস্তু নয়। জামার বোতাম ছিঁড়ে গেলে, ব্লাউজের হুক খুলে গেলে, কোনও পাজামার দড়ি হারিয়ে গেলে – সে আসবে উদ্ধার করতে প্রায় লুকানো কোন এক জায়গা থেকে, অনুচ্চারে।

    ঠাকুমার আঁচলে চাবির গোছা বাঁধা থাকত গিঁট ছাড়াও অনেক সময় সেফটিপিন দিয়ে। বাড়ির মেয়েদের কাছে সেফটিপিন ছিল পোশাকের ফ্যামিলি ডাক্তার। রোগ সারাত না, কিন্তু ব্যথাটা আপাতত ধরে রাখত। আর পুরুষদের কাছে? পুরুষদের কাছে সেফটিপিন ছিল সেই বস্তু, যেটা দরকারের সময় কখনও পাওয়া যায় না। ড্রয়ার হাতড়ে উনিশটা পেপার-ক্লিপ বেরোবে, একটা সেফটিপিন বেরোবে ন! এই রহস্যের কোনও সমাধান আজ পর্যন্ত হয়নি, এবং সম্ভবত হবেও না! সেদিনও দরকারের সময় অফিসে পেলাম না!

    অথচ এই যে জিনিসটা আমরা রোজ ব্যবহার করি এবং একবারও তাকিয়ে দেখি না, এর পেছনে সাড়ে তিন হাজার বছরের ইতিহাস আছে যেটার উল্লেখ করে এই লেখার শুরু করেছি। একজন উদ্ভাবকের হৃদয়বিদারক জীবন আছে, একটা পাংক বিপ্লব আছে। মিলানের একটা কালো পোশাক আছে যা এক অভিনেত্রীর জীবন বদলে দিয়েছিল। ব্রিটেনের রাস্তায় একটা রাজনৈতিক আন্দোলন আছে। আর কলকাতার ভিড়ে? বাহ! সবই কি আমি বলে দেব নাকি? নিজেরা একটু ভেবে নিন কলকাতার ভীড়ের সাথে সেফটিপিনের কি কি সম্পর্ক থাকতে পারে! দেখুন কোন তীক্ষ্ণ প্রতিবাদের কেস খুঁজে পান কিনা!

    চলুন, এবার তাহলে একটু ফিরে দেখা যাক সেফটিপিনের কেস যে তিন হাজার বছরের পুরানো সেটা আমরা জানলাম কিভাবে? কোন তথ্য প্রমাণ আছে নাকি মহাভারতের উড়োজাহাজ পুষ্পক রথের মত কেস!
     

    পিন-মানি, অথবা কাঁটার দাম

    তার আগে একটা ছোট গল্প। পঞ্চদশ শতক পর্যন্ত পিন ছিল ব্যয়বহুল জিনিস। তার টেনে (ওয়্যার-ড্রয়িং) পিন বানানোর কৌশল তখন সবে এসেছে, উৎপাদন কম, দাম বেশি। ব্রুয়ার্স ডিকশনারি অফ ফ্রেজ অ্যান্ড ফেব্‌ল (১৮৭০) জানাচ্ছে, চতুর্দশ শতকে পিন-নির্মাতাদের বছরে মাত্র দু'দিন, পয়লা আর দোসরা জানুয়ারি, খোলা দোকানে পিন বিক্রির অনুমতি ছিল। সেই দু'দিন অভিজাত মহিলারা আর শহুরে গিন্নিরা দোকানে ভিড় করতেন। আর তার আগে স্বামীদের কাছ থেকে আদায় করতেন একটা নির্দিষ্ট টাকা, পিন কেনার টাকা।

    ইংরেজিতে তার নাম হয়ে গেল 'পিন-মানি'। কালক্রমে অর্থ পাল্টাল। আজ পিন-মানি মানে হাতখরচ, অপ্রয়োজনীয় খুচরো জিনিসের জন্য বরাদ্দ সামান্য টাকা। ভাষার ভেতরে একটা পুরানো শব্দবন্ধ রয়ে গেল, যার আসল মানে কেউ আর মনে রাখে না। বাংলায় আমরা বলি 'হাতখরচ'। কেউ যদি বলত 'পিন-খরচ', সেটা ইতিহাসের দিক থেকে বেশি সঠিক হত হয়ত।
     

    ওয়াল্টার হান্ট: এক অসফল প্রতিভা

    এবার সেই উদ্ভাবকের গল্প, অনেকে বলেন কিছুটা হৃদয়বিদারক। ১৭৯৬ সালের ২৯ জুলাই, নিউ ইয়র্ক রাজ্যের লুইস কাউন্টির মার্টিন্সবার্গ নামের এক ছোট খামারে ওয়াল্টার হান্টের জন্ম। তেরো ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বড়। এক-ঘরের স্কুলে সামান্য পড়াশোনা, কৈশোরেই ইতি। তারপর চাষবাস।

    কিন্তু ছেলেটার হাতে যন্ত্র এলেই কিছু একটা ঘটত। কাছের একটা তিসি-কলে (ফ্ল্যাক্স মিল) তাঁর পরিবারের অনেকে কাজ করতেন। সেখানে মালিক উইলিস হসকিন্স আর ঝিবা নক্স নামের এক কর্মীকে তিনি তিসি-কাটা মেশিন উন্নত করতে সাহায্য করলেন। মেশিনটা ভালো হল, পেটেন্ট হল, কিন্তু হান্টের নাম তাতে রইল না।

    বেশ দুঃখ পেলেন হান্ট, কিন্তু দমলেন না। নিজে আরও ভালো একটা তিসি-কল বানালেন, ১৮২৬-এ পেটেন্ট নিলেন। এবার নিজেই বানাবেন, বিক্রি করবেন, পরিবারের ভাগ্য ফেরাবেন। নিউ ইয়র্ক শহরে গেলেন বিনিয়োগকারীর খোঁজে। কেউ তাঁকে পাত্তা দিল না। গ্রামের ছেলে, প্রথাগত শিক্ষা নেই, কথা বলার ধরন আলাদা - ব্যাঙ্কের লোকেরা তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে টাকার কথা ভাবতে পারল না। টাকা ফুরিয়ে এল। হান্ট পেটেন্টটা বেচে দিলেন। সেই টাকায় পরিবারকে নিউ ইয়র্কে নিয়ে এলেন।
     
    ১৮২৭ সালে দ্বিতীয় পেটেন্ট: ঘোড়ার গাড়ির জন্য পা দিয়ে বাজানোর ঘণ্টা। একটা ছোট মেয়েকে গাড়ির তলায় চাপা পড়তে দেখে তাঁর মাথায় এসেছিল ব্যাপারটা। তখনকার গাড়িতে হর্ন বাজাতে গেলে একটা হাত ছাড়তে হত - বিপদের সময় সেটাই সবচেয়ে অসম্ভব কাজ। পা দিয়ে বাজানো ঘণ্টা সমস্যাটা মিটিয়ে দিল। জিনিসটার দরকার স্পষ্ট, উপযোগিতা স্পষ্ট, তবু বিনিয়োগকারী জুটল না, তাই হান্ট আবারও পেটেন্ট বেচে দিলেন।

    এবং এইভাবেই চলতে থাকল। উদ্ভাবন করো, টাকা জোগাড় করতে ব্যর্থ হও, পেটেন্ট বেচো, পরেরটায় হাত দাও। ঝর্না-কলম, ছুরি-ধার দেওয়ার যন্ত্র, জাহাজের বরফ কাটার লাঙল, পেরেক বানানোর মেশিন, দড়ি পাকানোর মেশিন, উন্নত তেলের বাতি, কয়লার উনুন, কৃত্রিম পাথর, রিপিটিং রাইফেল।

    আর একটা বেশ ইন্টারেষ্টিং - 'অ্যান্টিপোডিয়ান অ্যাপারেটাস', ছাদে হাঁটার যন্ত্র। সাকশন-কাপ লাগানো জুতো, যাতে সার্কাসের কেউ দেওয়াল বেয়ে বা ছাদে উল্টো হয়ে হাঁটতে পারে। তিনি সেটা বিক্রি করেছিলেন এক সার্কাস কোম্পানিকে। পরের বার স্পাইডারম্যানকে দেওয়াল বেয়ে উঠতে দেখলে মনে রাখবেন, ভদ্রলোকের পেটেন্টের পূর্বপুরুষ উনিশ শতকের নিউ ইয়র্কে বসে ছিলেন এবং সেই লোকটাই স্পাইডারম্যানের পোশাক আটকানোর পিনটাও বানিয়েছিলেন।
     

    পনেরো ডলারের ঋণ, তিন ঘণ্টার আবিষ্কার

    ১৮৪৯ সালের কথা, হান্টের বয়স তখন বাহান্ন। চার সন্তানের বাবা এবং যথারীতি, টাকা নেই। জে. আর. চ্যাপিন নামে এক ড্রাফটসম্যান তাঁর আগের কয়েকটা পেটেন্টের নকশা এঁকে দিয়েছিলেন। পেটেন্ট আবেদনের সঙ্গে ছবি লাগে, আর হান্ট নিজে ছবি আঁকতে পারতেন না। চ্যাপিনের পাওনা ছিল পনেরো ডলার। আজকের হিসেবে যা চারশো থেকে ছ'শো ডলারের মতো। বিরাট টাকা নয়, কিন্তু হান্টের কাছে তাও ছিল না। চ্যাপিন তাগাদা দিচ্ছিলেন। হান্ট যা করার তাই করলেন - বসে গেলেন আবিষ্কার করতে। এখানেই হান্টের সাথে আমার হালকা পার্থক্য আছে, বেশী চাপে পড়লে আমি ভাবে কিছু একটা করতে হবে - কিন্তু করতে বসি না, ফেসবুকে রীলস দেখতে বসি!

    হান্ট নিলেন একটা পিতলের তার, ইঞ্চি আটেক লম্বা। হাতে নিয়ে পাকাতে শুরু করলেন। মাঝখানে একটা কুণ্ডলী দিলেন - সেটা স্প্রিং হয়ে গেল, ছেড়ে দিলেই খুলে যায়। এক প্রান্ত ছুঁচলো করলেন। অন্য প্রান্তে একটা আঁকশি বানালেন, যার ভেতরে ছুঁচলো মাথাটা ঢুকে থাকে, লুকিয়ে থাকে, কারও আঙুল ফুটো করতে পারে না। গোটা জিনিসটা একটাই তার থেকে, কোনও কব্জা নেই, কোনও জোড়া নেই, ভাঙার মতো কিছু নেই। কথিত আছে, পুরো ব্যাপারটায় তাঁর তিন ঘণ্টা লেগেছিল। তিন হাজার বছরের সমস্যা, তিন ঘণ্টায় খেল খতম! আজগুবি গল্পের মত লাগে না? কিন্তু ঘটনা সত্যি।

    ১৮৪৯ সালের ১০ এপ্রিল তিনি মার্কিন পেটেন্ট নম্বর ৬,২৮১ পেলেন। কাগজে জিনিসটার নাম 'সেফটিপিন' নয় - 'ড্রেস-পিন'। পেটেন্টের ভাষা আশ্চর্য রকম স্পষ্ট। হান্ট লিখছেন, এই নকশার সুবিধে হল এতে ভাঙার মতো কোনও জোড়া নেই, ক্ষয়ে যাওয়ার মতো কোনও কব্জা নেই। আর সবচেয়ে বড় সুবিধে, যেটা আগের কোনও নকশায় ছিল না, এটা পোশাকে গোঁজা যায় পিন বেঁকিয়ে না ফেলে, আঙুলে না ফুটিয়ে। ফলে এটা সমান ভাবে ব্যবহার্য অলংকার হিসেবে, সাধারণ পোশাকে, এবং শিশুর যত্নে। শেষে একটা লাইন যোগ করেছেন, একই নীতি চুলের কাঁটাতেও খাটে।

    এবং এখানে পেটেন্টের কাগজটায় এমন একটা জিনিস আছে, যেটা ইন্টারনেটে সার্চ করতে গিয়ে কোনও লেখায় আমি উল্লেখ পাইনি, অথচ নথিটার একেবারে নিচে সাদা কালিতে ছাপা আছে। সাক্ষীর ঘরে দুটো নাম, জন এম. নক্স এবং জে. আর. চ্যাপিন।

    অর্থাৎ, যে লোকটার পনেরো ডলার শোধ করার জন্য এই আবিষ্কার, সেই পাওনাদারই পেটেন্টে সাক্ষী হিসেবে সই করলেন। ছবিটা কল্পনা করুন। সাধারণত বাড়িতে পাওনাদার এলে বলা হয় যাকে খুঁজতে এসেছে সে নেই, দরজা খোলা হয় না। ওয়াল্টার হান্ট পাওনাদারকে টেবিলের ওপাশে বসিয়ে, তাঁকে সাক্ষী রেখে, ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত পেটেন্টে সই করলেন।
     

    চারশো ডলার, এবং একটি ছোট রহস্য

    পেটেন্ট হাতে পাওয়ার পর হান্ট যা করলেন, তা তিনি সারা জীবনই করে এসেছেন। বেচে দিলেন চারশো ডলারে। সেখান থেকে চ্যাপিনের পনেরো ডলার শোধ করলেন, বাকি রইল তিনশো পঁচাশি। আজকের হিসেবে চারশো ডলার মানে হাজার এগারো থেকে হাজার পনেরো ডলারের মধ্যে। মোদ্দা কথা, একটা মাঝারি মোটরসাইকেলের দাম আমেরিকায়। তার বিনিময়ে তিনি পৃথিবীর প্রতিটি ড্রয়ারে পড়ে থাকে এখন এমন একটা জিনিসের স্বত্ব ছেড়ে দিলেন। কিন্তু বেচলেন কার কাছে?

    এখানেই মজা। ইন্টারনেটের প্রায় সব লেখা বলছে তিনি পেটেন্ট বেচেছিলেন ডব্লিউ. আর. গ্রেস অ্যান্ড কোম্পানিকে। কথাটা এত বার লেখা হয়েছে যে সেটা এখন সত্যি হয়ে গেছে। কিন্তু একটু তলিয়ে দেখলে টের পাওয়া যায়, ডব্লিউ. আর. গ্রেস অ্যান্ড কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৮৫৪ সালে, পেরুর কাইয়াও বন্দরে, উইলিয়াম রাসেল গ্রেস নামের এক তরুণ আইরিশ অভিবাসীর হাতে এবং তাদের প্রথম ব্যবসা ছিল পাখির বিষ্ঠা রপ্তানি। অর্থাৎ পেটেন্ট বিক্রির পাঁচ বছর পরে, অন্য মহাদেশে, সম্পূর্ণ অন্য ব্যবসা নিয়ে কোম্পানিটার জন্ম। ১৮৪৯ সালে তারা হান্টের কাছ থেকে কিছু কেনেনি, কারণ ১৮৪৯ সালে তারা ছিলই না!

    তাহলে কে কিনল? উত্তরটা পেটেন্টের কাগজেই লেখা, একেবারে প্রথম লাইনে, 'ওয়াল্টার হান্ট, নিউ ইয়র্ক নিবাসী, স্বত্ব হস্তান্তরকারী উইলিয়াম রিচার্ডসন ও জন রিচার্ডসনের প্রতি।' রিচার্ডসন ভাইয়েরা, কোনও কোনও সূত্র বলে, জোনাথন রিচার্ডসন নামে এক নির্মাতা।

    এটা ছোট্ট একটা ব্যাপার মনে হতে পারে। কিন্তু জিনিসটা একটা কথা মনে করিয়ে দেয়, সেটা হল ইন্টারনেট পুনরাবৃত্তি করে, যাচাই করে না। আর মূল নথিটা সারা জীবন অপঠিত থাকে, কেউ তাকে পড়ে না।

    আর একটা কথা। ওই একই বছর, ১৮৪৯-এর অক্টোবরে, ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে চার্লস রাউলি নামে একজন প্রায় একই রকম একটা পিনের পেটেন্ট নেন - সম্পূর্ণ স্বাধীন ভাবে, হান্টের কথা না জেনেই। রাউলির পিন আজ আর তৈরি হয় না। ইতিহাস বড় নির্মম টিকে থাকার ব্যাপারে!
     

    সেলাই মেশিনের সেই হৃদয়বিদারক ঘটনা

    সেফটিপিন হান্টের সবচেয়ে বিখ্যাত আবিষ্কার। কিন্তু তাঁর সবচেয়ে মর্মান্তিক গল্পটা অন্য। ১৮৩৩-৩৪ সালের কাছাকাছি হান্ট বানিয়েছিলেন পৃথিবীর প্রথম কার্যকর সেলাই মেশিনগুলোর একটা - চোখ-ওয়ালা সূচ, বাঁকানো সূচ, শাটল, আর দুই-সুতোর লকস্টিচ। আজকের সেলাই মেশিনেও ওই লকস্টিচ চলে।

    তিনি পেটেন্ট নিলেন না।

    কেন? প্রচলিত গল্প এই যে তাঁর মেয়ে তাঁকে বুঝিয়েছিলেন, এই মেশিন বাজারে এলে হাজার হাজার দর্জি-মহিলা কাজ হারাবেন। বাবা রাজি হলেন না মেশিনটা বাজারে আনতে। গল্পটা সুন্দর, কিন্তু বেশ সন্দেহজনক, কারণ পেটেন্ট না নিলেও হান্ট মেশিনটা বানানোর অধিকার জর্জ অ্যারোস্মিথ নামে এক ব্যবসায়ীকে বেচে দিয়েছিলেন। যিনি সত্যিই দর্জিদের বাঁচাতে চান, তিনি স্বত্ব বেচেন না! সম্ভবত আসল কারণটা আরও সাদামাটা - টাকা।

    তারপর ১৮৪৬-এ ইলায়াস হাউ নামে এক ভদ্রলোক প্রায় একই রকম একটা লকস্টিচ সেলাই মেশিনের পেটেন্ট নিলেন। আইজ্যাক সিঙ্গার সেটা নকল করে বিক্রি শুরু করলেন। হাউ মামলা ঠুকলেন। আর সিঙ্গার, হাউয়ের পেটেন্ট বাতিল করানোর জন্য, খুঁজে বার করলেন সেই ভুলে-যাওয়া মিস্ত্রিকে, ওয়াল্টার হান্ট, যিনি হাউয়ের অনেক আগে একই জিনিস বানিয়েছিলেন।
    হান্ট এবার নিজেই লড়লেন। পেটেন্ট অফিস রায় দিল, হ্যাঁ, ওয়াল্টার হান্টই আসল উদ্ভাবক। কিন্তু তিনি সময়মতো আবেদন করেননি, তাই পেটেন্ট থাকবে হাউয়ের কাছে। কেস বুঝুন তাহলে একবার!

    তারপর, ১৮৫৮ সালে, সিঙ্গার কোম্পানি আদালতের বাইরে হান্টের সঙ্গে রফা করল পঞ্চাশ হাজার ডলারে। আজকের হিসেবে প্রায় চোদ্দো লক্ষ ডলার। জীবনে প্রথমবার ওয়াল্টার হান্টের হাতে সত্যিকারের টাকা আসতে চলেছে। কিন্তু ওই যে! ১৮৫৯ সালের ৮ জুন, টাকাটা হাতে পাওয়ার আগেই, নিউমোনিয়ায় তিনি মারা গেলেন।

    আর তাঁর রাইফেল? 'ভলিশনাল রিপিটিং রাইফেল' তিনি বেচেছিলেন সেই অ্যারোস্মিথকেই। সেখান থেকে সেটা পৌঁছল হোরেস স্মিথ, ড্যানিয়েল ওয়েসন আর বেঞ্জামিন টাইলার হেনরির হাতে। তাঁরা নকশা উন্নত করলেন। জন্ম নিল হেনরি রাইফেল, যা মার্কিন গৃহযুদ্ধে বিখ্যাত হল। তারপর তার থেকে উইনচেস্টার রিপিটার, 'যে বন্দুক পশ্চিম জয় করেছিল'। ওয়াল্টার হান্ট এক পয়সা রয়্যালটি পাননি।

    তাঁকে কবর দেওয়া হয় ব্রুকলিনের গ্রিন-উড সমাধিক্ষেত্রে। কাকতালীয় ভাবে, ইলায়াস হাউয়েরও কবর সেখানেই। হান্টের কবরফলকটা নেহাত সাধারণ পাথর নয়, কিন্তু হাউয়ের বিশাল স্মৃতিস্তম্ভের পাশে সেটা প্রায় দেখাই যায় না।

    নিউ ইয়র্ক ট্রিবিউন তাঁর মৃত্যুর পর একটা ছোট লেখা ছাপে শোকজ্ঞাপন করে। সেখানে বলা হয়, চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি ছিলেন কলাশিল্পের এক পরীক্ষক; যন্ত্রকৌশল, রসায়ন, বিদ্যুৎ বা ধাতুর মিশ্রণ - সব বিষয়েই তিনি ছিলেন সমান সপ্রতিভ; এবং সম্ভবত অন্য যে কোনও উদ্ভাবকের চেয়ে বেশি পরীক্ষা তিনি করেছিলেন।

    এইখানে একটা হালকা প্রশ্ন থেকে যায় – এত প্রতিভাবান হান্ট পেটেন্টের ব্যাপারে এত বোকামো করতেন কেন বারবার বেচে দিয়ে?

    আমার মনে হয়, ব্যাপারটা বুদ্ধির নয় ঠিক – হয়ত উত্তরটা লুকিয়ে আছে পরিস্থিতিতে, হান্ট যার মধ্যে জড়িয়ে ছিলেন। তেরো ভাইবোনের বড়, স্কুল-ছুট, চার সন্তানের বাবা, শহরে নতুন - এই লোকটাকে কোনও ব্যাঙ্ক টাকা দেবে না। রয়্যালটির অপেক্ষা করার বিলাসিতা তাঁর ছিল না। রয়্যালটি একটা লম্বা রেস, আর লম্বা রেসে তারাই খোলা মনে খেলতে নামতে পারে যাদের পেটে ভাত আছে।

    ওয়াল্টার হান্টের গল্প সেই ভাবে দেখতে গেলে উদ্ভাবনের গল্প নয়, মনে হয় যেন দর কষাকষির ক্ষমতার গল্প। কে ভাবতে পারে, আর কে অপেক্ষা করতে পারে - এই দুটো সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস, আর পৃথিবী দ্বিতীয়টাকেই পুরস্কৃত করে অনেক সময়!
     

    কারখানার ভেতরে সেফটিফিনের সাথে কি হচ্ছে?

    আজকের সেফটিপিন বানানোর পদ্ধতিটা মোটামুটি কেমন সেই নিয়ে একটু নাড়াচাড়া করা যাক এবার। কাঁচামাল সাধারণত স্প্রিং-স্টিল - উচ্চ-কার্বন ইস্পাত, যাতে বাঁকিয়ে ছেড়ে দিলে আবার আগের আকারে ফিরে আসে। কখনও পিতল (দুই ভাগ তামা, এক ভাগ দস্তা), কখনও স্টেনলেস স্টিল। ইস্পাতকে ক্রমশ ছোট হতে থাকা ছিদ্রের ভেতর দিয়ে টেনে তার বানানো হয়, মাঝে মাঝে গরম করে নরম করা হয় (অ্যানিলিং), নইলে তার ভঙ্গুর হয়ে যাবে।

    কারখানায় সেই তারের রিল খোলা হয়, সোজা করা হয়, নির্দিষ্ট মাপে কাটা হয়। তারপর গ্রাইন্ডিং হুইলে এক মাথা ছুঁচলো করা হয়, খোঁচা-খাঁচা ঘষে তোলা হয়। এরপর আসে 'ফোরস্লাইড' মেশিন - চার দিক থেকে চাপ দিতে পারে এমন যন্ত্র। ১৮৬৪ সালে ই. জে. ম্যানভিল যে স্বয়ংক্রিয় ফোরস্লাইড বানিয়েছিলেন, আজকের মেশিনগুলো তারই বংশধর। এই মেশিন তারটাকে একটা দণ্ডের চারপাশে পাকিয়ে কুণ্ডলী বানায়, অন্য প্রান্তে আঁকশি বাঁকায়। পাশ থেকে ইস্পাতের পাত ঢুকে ডাই-কাট হয়ে ক্যাপ তৈরি হয়, তারপর সেই ক্যাপ আঁকশির গায়ে চেপে বসে।

    শেষে ইলেকট্রোপ্লেটিং - ইস্পাতের পিনে ক্রোম, পিতলের পিনে নিকেল। ধুয়ে, পালিশ করে, ডিটারজেন্টে কেচে, মোম মাখিয়ে প্যাকেটে ভরা হয়।

    একটা কারখানা দিনে ত্রিশ লক্ষ সেফটিপিন বানাতে পারে। বছরে প্রায় একশো কোটির কাছাকাছি। মজার কথা, একুশ শতকের গোড়ায় গোটা আমেরিকায় মাত্র দুটো কোম্পানি সেফটিপিন বানাত। বাকিটা আসত বাইরে থেকে।

    কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্য তথ্য এই যে নকশাটা প্রায় পাল্টায়নি। ১৮৪৯ সালে হান্ট যা বানিয়েছিলেন, আজ আপনার ড্রয়ারে যেটা পড়ে আছে, সেটা কার্যত একই জিনিস। প্রকৌশলী হেনরি পেট্রোস্কি তাঁর 'দ্য এভোলিউশন অফ ইউজফুল থিংস' বইয়ে দেখিয়েছেন, জিনিস বদলায় কারণ জিনিস ব্যর্থ হয় - ব্যর্থতাই বিবর্তনের ইঞ্জিন। সেফটিপিন খুব একটা ব্যর্থ হয় না, তাই সে বদলায়ওনি!
     

    পাংক: কাঁটা যখন পতাকা

    ১৯৭০-এর দশক। লন্ডন আর নিউ ইয়র্ক। মন্দা, বেকারত্ব, ছেঁড়া জামা। নিউ ইয়র্কে রিচার্ড হেল - টেলিভিশন আর ভয়েডয়েডস ব্যান্ডের লোক, নিজের ছেঁড়া জামা সেফটিপিন দিয়ে জুড়ে পরতেন। শখে নয়। ছেঁড়া জামা, ঠান্ডা হাওয়া, আর পকেটে কিছু নেই। ম্যালকম ম্যাকলারেন নিউ ইয়র্কে গিয়ে সেই চেহারা দেখলেন, এবং লন্ডনে ফিরিয়ে আনলেন। কিংস রোডের ৪৩০ নম্বরে ভিভিয়েন ওয়েস্টউডের সঙ্গে তাঁর দোকান 'সেক্স'। সেখান থেকে সেক্স পিস্তলস। সেখান থেকে গোটা প্রজন্মের পোশাক।

    কিন্তু কেউ কেউ সারা জীবন এই রোম্যান্টিক ব্যাখ্যা নাকচ করে এসেছেন। তাঁদের মতে পিনটা কোনও শিল্প-বিবৃতি ছিল না। প্যান্টের পেছন ছিঁড়ে গেলে যাতে পেছনটা বেরিয়ে না পড়ে, সেই জন্যেই পিন। ব্যস।

    কিন্তু এই ফাঁকেতে ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত বিদ্রোহী ফ্যাশন-প্রতীকটার জন্ম হয়েছিল প্যান্টের ছেঁড়া দিকটার থেকে। তারপর যা হয়। শ্যারন হ্যানন তাঁর 'পাংকস' বইয়ে নিউ ইয়র্ক-ধাঁচের পাংক পোশাকের বর্ণনা দিচ্ছেন - কালো সরু প্যান্ট, কালো চামড়ার জ্যাকেট, খোঁচা খোঁচা চুল, আর ছেঁড়া টি-শার্ট সেফটিপিন দিয়ে জোড়া। ফ্যাশন-ইতিহাসবিদ শন কোল বলছেন, পাংক শুরু হয়েছিল স্বাধীন প্রকাশ হিসেবে, কিন্তু খুব দ্রুত সেটার একটা নির্দিষ্ট ব্যাকরণ তৈরি হয়ে গেল আর সেফটিপিন হয়ে উঠল সেই ব্যাকরণের অন্যতম চিহ্ন।

    আর তারপর কেস তো আরও জটিল হল। পিন কাপড় ছেড়ে চামড়ায় উঠল। গালে, কানে, নাকে, ভুরুতে। যে কাঁটার সমস্ত ইতিহাস ছিল 'না-ফোটার', সেই কাঁটা এখন ইচ্ছে করে ফুটল।
    যুগের নিয়ম কেমন পাল্টায় তারঅ একটা উদাহরণ আছে এখানে। আমাদের মায়েরা সেফটিপিন দিয়ে ছেঁড়া জায়গা ঢাকতেন, যাতে কেউ না দেখে। পাংকরা সেফটিপিন দিয়ে ছেঁড়া জায়গা দেখাতেন, যাতে সবাই দেখে। একই কাঁটা, একই ছেঁড়া জামা - শুধু লজ্জাটা কার, সেই প্রশ্নের উত্তর উল্টে গেল কালের তালেগোলে!
     

    মিলান, লেস্টার স্কোয়ার, এবং একটি শাড়ি

    ১৯৯৪-এর বসন্ত-গ্রীষ্ম সংগ্রহ। মিলান ফ্যাশন উইকে জিয়ান্নি ভার্সাচে। শো শুরু হল ভদ্রস্থ ভাবে – টেলর টেইলর করা দিনের পোশাক, স্কার্ট আটকানো একটামাত্র পিন দিয়ে। তারপর র‍্যাম্প যত এগোল, পিন তত বড় হতে লাগল, তত বেশি হতে লাগল। শেষে দাঁড়াল এমন পোশাক, যেগুলো আক্ষরিক অর্থেই সেফটিপিনে ঝুলছে!

    ভার্সাচে তাঁর অনুপ্রেরণা গোপন করেননি। মেট্রোপলিটন মিউজিয়ামের প্রদর্শনীর ক্যাটালগে তিনি বলেছিলেন, ওই সংগ্রহের দুটো উৎস - পাংক উপসংস্কৃতি, এবং ভারতীয় শাড়ি। পিন এল পাংক থেকে; শরীর জড়িয়ে থাকা প্যাঁচানো সিলুয়েটটা এল শাড়ি থেকে।

    ভাবুন একবার - মিলানের র‍্যাম্পে ইউরোপের সবচেয়ে দামি পোশাকটা তৈরি হচ্ছে লন্ডনের বেকার ছেলেদের ছেঁড়া প্যান্ট আর ভারতীয় মেয়েদের শাড়ির প্যাঁচ মিলিয়ে। আর যে কাঁটাটা দিয়ে সেটা আটকানো, সেটা এসেছে এক দেউলিয়া মিস্ত্রির পনেরো ডলারের ধার থেকে।

    এবার ১৯৯৪-এর ১১ মে। লন্ডনের লেস্টার স্কোয়ার। 'ফোর ওয়েডিংস অ্যান্ড আ ফিউনারাল'-এর প্রিমিয়ার। হিউ গ্র্যান্টের সঙ্গী এলিজাবেথ হার্লি, তখন কার্যত অচেনা। কেউ তাঁকে পোশাক ধার দিতে চায়নি। গ্র্যান্ট পরে স্বীকার করেছেন, একের পর এক ডিজাইনার-হাউস মুখের ওপর বলে দিয়েছিল: 'আপনি কে?'

    ভার্সাচে রাজি হল। হার্লি পরে বলেছেন, ওটা ছিল প্রেস অফিসে ঝুলে থাকা শেষ পোশাকটা। কোনও ফিটিং নেই, বাছাবাছি নেই। কালো সিল্ক আর লাইক্রা। দু'পাশে গভীর কাটা। আর সেই কাটা জুড়ে রাখা - বিশাল, সোনালি সেফটিপিনের সারি।

    পরদিন সকালে গোটা পৃথিবী একটা নামই জানত, এবং সেটা হিউ গ্র্যান্টের নয়। ইংরেজি সংবাদপত্রে পোশাকটার নামই হয়ে গেল 'দ্যাট ড্রেস'। ২০০৮ সালে ডেবেনহ্যামসের একটা সমীক্ষায় তিন হাজার মহিলা লাল-গালিচার সবচেয়ে আইকনিক পোশাক হিসেবে এটাকেই বেছে নেন। ২০০৭-এ হ্যারডস-এ এর একটা প্রতিলিপি বিক্রি হয়েছিল দশ হাজার ছ'শো নব্বই পাউন্ডে।
    হার্লি পোশাকটা পরদিনই ফেরত পাঠিয়ে দেন। আর কোনওদিন পরেননি। বছর কয়েক আগে তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন, পোশাকটার নিজস্ব একটা কেরিয়ার আছে; ও দুনিয়া ঘুরে বেড়ায়।
    পনেরো ডলারের ধার শোধ করতে বানানো কাঁটা, দশ হাজার পাউন্ডের পোশাক ধরে রেখেছে। ওয়াল্টার হান্ট যদি শুনতেন!
     

    সংহতির পিন

    ২০১৬ সালের ২৩ জুন, ব্রেক্সিট গণভোট। ফল বেরোনোর পরের কয়েক সপ্তাহে ব্রিটেনে বর্ণবিদ্বেষী ঘৃণা-অপরাধের রিপোর্ট হু হু করে বাড়ল - জাতীয় পুলিশ প্রধানদের হিসেবে সাতান্ন শতাংশ।
    ২৬ জুন, লন্ডনে বসবাসকারী এক মার্কিন মহিলা, টুইটারে যাঁর নাম @cheeahs, আসল নাম অ্যালিসন, একটা ছোট প্রস্তাব দিলেন। কোটের কলারে একটা খালি সেফটিপিন লাগান। কিচ্ছু লেখা নেই, কোনও স্লোগান নেই, কোনও রং নেই। শুধু একটা পিন।

    মানে? মানে হল, বাসে যদি হিজাব পরা কোনও মহিলা ওঠেন আর কেউ তাঁকে হেনস্থা করে, তাহলে পিন-পরা লোকটা চুপ করে থাকবে না। পিনটা একটা সংকেত: আমার পাশের সিটটা নিরাপদ।

    হ্যাশট্যাগ #safetypin ছড়িয়ে পড়ল, হাজার তিরিশ বার শেয়ার হল কয়েক দিনে। অ্যালিসন বলেছিলেন, ভাবনাটা এসেছিল ২০১৪-র সিডনির #IllRideWithYou আন্দোলন থেকে। আর তিনি বারবার একটা কথা বলেছেন, এটা কোনও ব্যাজ নয়, এটা একটা প্রতিশ্রুতি। পিন পরলে হস্তক্ষেপ করতে হবে, রিপোর্ট করতে হবে। নিজেদের পিঠ চাপড়ে 'আমরা তো বর্ণবিদ্বেষী নই' বলার জন্য এই জিনিস নয়।

    সে বছরেরই নভেম্বরে ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর পিনটা আটলান্টিক পেরিয়ে আমেরিকায় গেল। এবং সঙ্গে সঙ্গে বিতর্কও শুরু হল। সমালোচকরা বললেন, এটা 'স্ল্যাকটিভিজম' — আলস্য-সক্রিয়তা। কোনও পরিশ্রম নেই, কোনও ঝুঁকি নেই, পকেট থেকে একটা পয়সা যাচ্ছে না, শুধু একটা পিন পরে নিজেকে ভালো মানুষ মনে করা। হাফিংটন পোস্ট প্রথমে প্রশংসা করল, তারপর অন্য একটা লেখায় বলল, এটা বিব্রতকর, এবং এর মূল কাজ হল শ্বেতাঙ্গদের মনে শান্তি দেওয়া।

    তাহলে কে ঠিক?

    আমার মনে হয়, দুই পক্ষই ঠিক, এবং সেটাই সেফটিপিনের চরিত্র। পিন কাপড় ধরে রাখে। মানুষ ধরে রাখবে কি না, সেটা পিনের ওপর নির্ভর করে না, যে পরছে তার ওপর নির্ভর করে। প্রতীকের দাম শূন্য - এটাই তার প্রতিভা, এবং এটাই তার দারিদ্র্য। একটা কাঁটা কাউকে সাহসী করে তুলতে পারে না। সে শুধু মনে করিয়ে দিতে পারে যে সাহসের প্রতিশ্রুতি আপনি দিয়েছিলেন।
     

    মেয়েদের অস্ত্র

    বিবিসির সাংবাদিক গীতা পাণ্ডে ২০২৩ সালে একটা লেখা লিখেছিলেন, যার শুরুটা এইরকম ছিল যে কলেজে পড়ার সময় কলকাতার গাদাগাদি বাসে আর ট্রামে তাঁরা ছাতা ব্যবহার করতেন। কেউ নখ বড় রাখতেন। কেউ স্টিলেটোর ছুঁচলো হিল দিয়ে পেছনের লোকটার পায়ে চাপ দিতেন। আর অনেকে ব্যবহার করতেন সেফটিপিন। তবে এখানে কলকাতা বলা বলেও, সেই একই কেস অনেক শহরেই দেখা যায়।

    একজন মহিলা, দীপিকা শেরগিল, বিবিসিকে বলেছিলেন তাঁর অফিস-বাসের গল্প। তিনি তখন কুড়ি। লোকটার বয়স চল্লিশের মাঝামাঝি। ধূসর সাফারি স্যুট, খোলা চটি, চৌকো চামড়ার ব্যাগ। রোজ তাঁর পাশে এসে দাঁড়াত, ঝুঁকে পড়ত, ব্রেক কষলেই গায়ের ওপর পড়ত। মাসের পর মাস তিনি চুপ করে সহ্য করেছেন, কারণ তিনি ভীতু ছিলেন, কারণ কেউ তাঁর পাশে দাঁড়াবে কি না তিনি জানতেন না।

    তারপর একদিন তিনি পিনটা বার করলেন।

    ২০২১ সালের একটা সমীক্ষায় ভারতের একশো চল্লিশটা শহরের ছাপ্পান্ন শতাংশ মহিলা জানিয়েছেন, গণপরিবহণে তাঁরা যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছেন। পুলিশের কাছে গেছেন মাত্র দুই শতাংশ। আর সবচেয়ে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সংখ্যাটা হল এই যে বায়ান্ন শতাংশেরও বেশি মহিলা বলেছেন, নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাঁরা পড়াশোনা বা চাকরির সুযোগ ছেড়ে দিয়েছেন।
    'সেফটিপিন' নামের সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা কল্পনা বিশ্বনাথ বলেন, প্রকৃত হিংসার চেয়েও বেশি ক্ষতি করে হিংসার ভয়। মেয়েরা নিজেরাই নিজেদের ওপর বিধিনিষেধ চাপাতে শুরু করে। আর সেই মুহূর্তে তারা সমান নাগরিকত্ব হারায়। এটা ভারতের একার সমস্যা নয়। বিশ্বনাথ জানাচ্ছেন, লাতিন আমেরিকা আর আফ্রিকার মেয়েরাও তাঁকে বলেছেন, তাঁরাও পিন সঙ্গে রাখেন।

    আর ইতিহাসের একটা টুকরো এখানে না বললেই নয়।

    ১৯০৩ সালের ২৮ মে, নিউ ইয়র্কের ফিফথ অ্যাভিনিউ। ক্যানসাস থেকে বেড়াতে আসা তরুণী লিওটি ব্লেকার একটা ঘোড়ায় টানা স্টেজকোচে উঠলেন। ভিড় গাড়ি। পাশের সুবেশ, বয়স্ক, 'ভদ্রদর্শন' লোকটি ঝাঁকুনির অজুহাতে ক্রমশ ঘেঁষে আসতে লাগলেন। তারপর হাত রাখলেন তাঁর পিঠে।

    লিওটি নিজের টুপি থেকে হ্যাটপিনটা বার করলেন প্রায় এক ফুট লম্বা এবং লোকটার হাতে ঢুকিয়ে দিলেন। লোকটা চেঁচিয়ে উঠল। তিনি মুখের ভাব পাল্টালেন না। সাংবাদিককে পরে বলেছিলেন, নিউ ইয়র্কের মেয়েরা এসব সহ্য করতে পারে; ক্যানসাসের মেয়েরা করবে না।

    এরপর কী হল? এরপর সংবাদপত্র আতঙ্কিত হয়ে উঠল। নাম দিল 'হ্যাটপিন পেরিল', কাঁটার বিপদ। ১৯১০ সালে শিকাগো শহর আইন করল: ন'ইঞ্চির বেশি লম্বা হ্যাটপিন পরলে গ্রেফতার, পঞ্চাশ ডলার জরিমানা। হামবুর্গ আর প্যারিসের পুলিশপ্রধানরাও নাকি লম্বা মাপার কথা ভাবছিলেন। ভোটাধিকার আন্দোলনের মহিলারা প্রতিবাদ করলেন। তাঁদের যুক্তি ছিল সহজ, আপনারা যে লোকটা হাত বাড়াচ্ছে তাকে আটকাচ্ছেন না, আপনারা কাঁটার দৈর্ঘ্য মাপছেন।

    একশো কুড়ি বছর, দুটো মহাদেশ, দুটো ভিন্ন সভ্যতা এবং হুবহু একই দৃশ্য। মেয়েরা কাঁটা হাতে তুলে নিচ্ছেন, আর কর্তৃপক্ষ কাঁটাটার মাপ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে।

    সেফটিপিন সেই অস্ত্র, যেটা তাদের হাতে আসে যাদের অস্ত্র রাখার অধিকার নেই।
     

    তাবিজ, ম্যারাথন, ও মায়ের সেলাই-বাক্স

    এবার একটু অন্য ব্যাপারে চোখ বোলানো যাক। ইউক্রেনে শিশুর জামার ভেতরের দিকে একটা সেফটিপিন গেঁথে দেওয়া হয় - অপদেবতা তাড়ানোর জন্য। মেক্সিকোয় গর্ভবতী মহিলার পেটের যতটা কাছে সম্ভব একটা পিন লাগানো হয়, যাতে গর্ভস্থ সন্তানের কোনও ক্ষতি না হয়। ফিলিপিন্সে শিশুর জামায় তাবিজ আটকানো হয় সেফটিপিন দিয়ে, দুর্ভাগ্য ঠেকাতে।

    আমাদের দেশেও পিন প্রজন্ম পেরোয়। ভারতে পিন আর সেলাইয়ের সূচ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ব্যবহার করা হয়, মা মেয়েকে দিয়ে যান। পশ্চিমি লেখকের কাছে এগুলো হ্য়ত কৌতূহলের বিষয়, কিন্তু আমাদের কাছে এটা খুবই স্বাভাবিক।

    ন্যাপি-পিন, অর্থাৎ শিশুর ন্যাকড়ার ডায়াপার আটকানোর বিশেষ পিন, আজও তৈরি হয় - একটা অতিরিক্ত নিরাপত্তা-ঢাকনা লাগানো, যাতে শিশুর গায়ে না ফোটে। যদিও চিকিৎসকরা মনে করিয়ে দেন, গিলে ফেলার আশঙ্কা থেকেই যায়।

    আর ম্যারাথন। পৃথিবীর যে কোনও বড় দৌড়ে, যেখানে জুতোয় কার্বন প্লেট, ঘড়িতে জিপিএস, রক্তে ল্যাকটেট মাপার যন্ত্র - সেখানে বুকের নম্বরটা আটকানো থাকে চারটে সেফটিপিন দিয়ে। রানার্স ওয়ার্ল্ড ইউকে-র সম্পাদক অ্যান্ড্রু ডিক্সন এর ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন নিতান্ত ব্যবহারিক ভাষায়: আঠালো লেবেল বৃষ্টিতে বা ঘামে খুলে যায়, পিন খোলে না।
     

    একুশ ফুট লম্বা কাঁটা

    ১৯৯৯ সালে ভাস্কর ক্লেস ওল্ডেনবার্গ আর তাঁর স্ত্রী কোসিয়ে ফান ব্রুগেন একটা কাজ করলেন, যার নাম 'করিডর পিন, ব্লু'। স্টেনলেস স্টিল আর অ্যালুমিনিয়ামের একটা সেফটিপিন। নীল এনামেল করা। উচ্চতা একুশ ফুট। আসল সেফটিপিনের প্রায় আড়াইশো গুণ বড়। এবং সেটাকে দাঁড় করানো হয়েছে খাড়া ভাবে, যেভাবে আসল সেফটিপিন কোনওদিন দাঁড়াতে পারে না। একটা রাখা আছে সান ফ্রান্সিসকোর ডি ইয়ং মিউজিয়ামের ভাস্কর্য-বাগানে। যমজটা নিউ অর্লিন্স মিউজিয়াম অফ আর্টে।

    পপ আর্টের কাজটাই এই। যে জিনিসটার দিকে আপনি জীবনে একবারও তাকাননি, সেটাকে আড়াইশো গুণ বড় করে আপনার হাঁটাপথে বসিয়ে দেওয়া। আপনি এড়াতে পারবেন না। মাথা তুলে তাকাতেই হবে।

    শেষ কথা: যা ধরে রাখে

    সেফটিপিন একটা অদ্ভুত জিনিস, কারণ সে কখনও ভান করে না। বোতাম বলে, আমি জামার অংশ। জিপ বলে, আমি নকশার অংশ। সেলাই বলে, আমি স্থায়ী। কিন্তু সেফটিপিন কোনও দাবিই করে না। সে জানে সে সাময়িক। সে জানে, ছেঁড়াটা ছেঁড়াই থেকে যাবে, সে শুধু আপাতত ধরে রাখছে। এই সততাটাই তার সৌন্দর্য।

    'দি আটলান্টিক'-এ রিনা কাবাইয়ার একটা চমৎকার লেখা আছে, যেটা শুরু হয় তাঁর মায়ের কথা দিয়ে - স্কুলের জামার বোতাম গেলে মা ব্যাগ হাতড়ে পিন বার করতেন, এমন নিপুণ ভাবে আটকাতেন যে ক্লিপটা নিচে লুকিয়ে যেত, কিছু বোঝা যেত না। লেখাটা শেষ হয় এইভাবে: প্রতিটি সেফটিপিন কিছু না কিছু ধরে রাখে; আর তার সঙ্গে সে ধরে রাখে সময়টাকেও।

    ওয়াল্টার হান্ট মারা গিয়েছিলেন কিছু না রেখে, কিছু না পেয়ে। তাঁর নামে কোনও কোম্পানি নেই, কোনও ব্র্যান্ড নেই, কোনও মূর্তি নেই। ব্রুকলিনের কবরখানায় তাঁর পাথরটা প্রতিদ্বন্দ্বীর স্মৃতিস্তম্ভের ছায়ায় ঢাকা পড়ে আছে। অথচ পৃথিবীর প্রতিটি ড্রয়ারে, প্রতিটি হাতব্যাগে, প্রতিটি সেলাই-বাক্সে, প্রতিটি হাসপাতালের ওয়ার্ডে, প্রতিটি ম্যারাথনের বুকে - তাঁর তিন ঘণ্টার কাজটা পড়ে আছে। পনেরো ডলারের ধার শোধ করতে গিয়ে ভদ্রলোক দুনিয়াটাকে জুড়ে দিয়ে গেলেন, নিজে জোড়া লাগল না।

    সেই ভাবে ভেবে দেখলে আমাদের জীবনটাও তো তাই। কিছুই পুরোপুরি সেলাই করা নেই। সবটাই মনে হয় আসলে পিন দিয়ে আটকানো - সম্পর্ক, চাকরি, সংসার, বিশ্বাস। কোনটা কখন খুলে যাবে, কেউ জানি না! শুধু চাই, ক্লিপটা যেন ঢাকা থাকে। আর কাঁটাটা যেন কাউকে না ফোটে!

    বাকিটা? বাকিটা আপনার আমার ম্যানেজমেন্ট দক্ষতা!

     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • প্রবন্ধ | ১৭ জুলাই ২০২৬ | ১১ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    সংবৃতি  - Srimallar
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে মতামত দিন