এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • লর্ড বায়রনের বঙ্গ-লন্ডনে আগমন

    Shayak Mitra লেখকের গ্রাহক হোন
    ০১ জুলাই ২০২৬ | ৪৪ বার পঠিত
  • সতেরো বছর বয়সে ডাক্তারি কলেজের পড়া মাথায় তুলে লর্ড বায়রনের অসম্পূর্ণ মহাকাব্য, ও ইংরেজি ভাষায় অপূর্বতম কবিতাগুলির একটি, ‘ডন জুয়ান’-এর একাদশ সর্গের ছান্দিক ও লয়গত সংগতি বজায় রেখে অনুবাদের একটি তাৎক্ষণিক প্রয়াস। যদিও প্রকাশের ইচ্ছে নেই, পর্যায়ক্রমে বাকি সর্গগুলো শেষ করার ইচ্ছে আছে। এটি নিছকই এক "এক্সপেরিমেন্ট" হওয়ায় ধারাবাহিক রূপে নেই।
     
    'অনুবাদকের (অতিরিক্ত) কথা' এবং টীকাসমগ্র আপাতত, অর্থাৎ খেরোর খাতার এই পৃষ্ঠায়, উহ্য রইল।
     
     
    একাদশ সর্গ
     
    বার্কলি! তোমার তত্ত্বটি অপদার্থ
    যা দিয়ে পদার্থ অস্বীকার করো;
    শুনি এর বিরুদ্ধে সব তর্কই ব্যর্থ,
    যা উত্তম জ্ঞানের চাইতেও সূক্ষ্মতর;
    তাও কী বিশ্বাসে হবে এ কৃতার্থ?
    ভগ্ন পদার্থের সীসায় তুলে ধরো
    বা হীরকে লেখো ভুবনের আত্মা,
    যাতে এক মুণ্ডু থাকলেও পায় না পাত্তা।

    ব্রহ্মাণ্ডব্যাপী অহংকারের স্পর্শ
    ব্রহ্মাণ্ডে পাওয়া কি তীক্ষ্মই না আবিষ্কার!
    তাও কেবল আমরা সব হলে আদর্শ;
    থাক বিশ্বের বাজি (বিশ্ব বোঝার দায় তোমার)।
    ওঃ, সন্দেহ! তোমার অপার উৎকর্ষ
    আমায় করে সন্দিগ্ধ - সত্যের আর
    রশ্মি না নিক আমার আত্মিক পানীয়
    যা স্বর্গ-সুরা, তাও অসহনীয়।

    কারণ সবসময় আসে বদহজম
    (খুব আত্মিক কিছুই নয়), ও আমার ভাবনা
    এক সমস্যা দিয়ে করে খতম,
    যা কক্ষনোই আমার দুঃখের জবাব না:
    মানব সমাজে সেই জায়গা খুব কম,
    যেথা কাম ও লিঙ্গের পার্থক্যের লাভ না
    রয় লুপ্ত; জ্ঞান-বিস্ময়ের ঋক্ষকোষ
    এই বিশ্ব - তবু এক গৌরবময় দোষ।

    নিয়তিতে থাকলে এমন বিচার,
    সুখকর হবে হঠাৎ জোটার থেকে;
    সত্যি ফললে করব না অস্বীকার,
    পাছে আমায় মারধোর করে অনেকে।
    তা ভালো, কারণ এই প্রাণের সংহার
    হবে এসব সমাধান ব্যতিরেকে;
    যা অন্তে সবার কাছে হয় বিদিত,
    বা অন্তত তার আগেই আমরা মৃত।

    তাই ছাড়ছি সমস্ত দার্শনিক কথা,
    যার আদৌ খুঁজে পাইনি স্থায়ী এক আশ্রয়;
    আমার মতে, আসল বিচক্ষণতা -
    "যা আছে, তা আছে", এই উক্তিটাই বোধহয়।
    তাও ক'দিন আমার বুকে বড়ই ব্যথা!
    খারাপ বাতাসেই কি পীড়িত এই হৃদয়?
    জানি না - অবস্থা যে বেশ সঙ্গীন!
    তাই ধর্ম-পন্থাও হয়ে যায় প্রাচীন।

    প্রথম পীড়ায় দেখলাম ঈশ্বরের চিত্ত;
    (যা সন্দেহের বাইরেই, যেমন শয়তান)
    দ্বিতীয়ে বুঝলাম মেরির কুমারিত্ব;
    তৃতীয় দেয় পাপের উৎসের সন্ধান;
    চতুর্থ পীড়ায় ত্রিমূর্তির অস্তিত্ব
    এতই অকাট্যভাবে হয় প্রমাণ,
    যে আমার ভীষণ আশা তিন থেকে হোক চার,
    যাতে আমার ভক্তি হয় আরওই দুর্নিবার।

    গল্পে ফিরছি: অ্যাক্রোপলিস পদতলে
    রেখে অ্যাটিকা উপভোগ করেছে যে,
    যে নৌযাত্রার অন্তে কনস্ট্যান্টিনোপলে
    পা রেখেছে; চিনেমাটির পেয়ালাতে
    চা নিয়েছে চীনের ক্ষুদ্রাক্ষী মহলে;
    মৃন্ময় নাইনেভি অথবা টিম্বকটুর সে
    লোক হলেও, ভাববে "তুচ্ছ এই লন্ডন-নগর!"
    তাও সে প্রশ্ন কোরো তাকে এক বছর পর।

    ডন জুয়ান এখন শুটার'স হিলে হাঁটে,
    সূর্যাস্তের সময় সেই টিলা-টির নতি
    আস্ত লন্ডন অঙ্কিত যার ললাটে;
    তার রাস্তায় পাপ ও পূণ্যের কাল-বসতি;
    সে নিঝুম পরিবেশে, নির্ঝঞ্ঝাটে
    শোনে এক্কাটির ছান্দিক চক্রগতি;
    আর এক ফুটন্ত, অস্থির, ব্যস্ত কোলাহল
    সেই শহরের, যা নিজের জঞ্জালেই অচল।

    বলছি যে, জুয়ান, গভীর চিন্তায় মগ্ন,
    (এই মহান দেশের মহত্বে বিস্মিত)
    হেঁটে এক্কার সাথে থেকে সংলগ্ন,
    চেঁচিয়ে উঠল, যখন চূড়ায় স্থিত:
    "এইখানেই স্বাধীনতা রয় অভগ্ন!
    এইখানেই জনগর্জন নয় দমিত,
    কারারুদ্ধ, উৎপীড়িত; তাই, পুনরায়
    নতুন নির্বাচনে তার জন্ম প্রমাণ পায়।

    এই তো শুদ্ধ জীবন ও নারীগণ!
    ... সবই হয় যৌক্তিক মূল্যতে বিক্রয়;
    আর কেউ তার সম্পত্তি করলে বর্জন,
    সালে তার দেখি কত রোজগার হয়।
    এখানেই দুর্লঙ্ঘ্য আইনের শাসন,
    ফাঁদমুক্ত রাস্তায় নেই পথিকের ভয়;
    এখানেই" - তাকে চুপ করায় এক ছুরি,
    আর "মাল বের কর, নয় ফুটো করব ভুঁড়ি!"

    এক্কার পাশে হঠাৎ এখন আগত,
    সে হয়ে ওঠে চার ডাকাতের লক্ষ্য।
    সুযোগটি নিতে কাজের ছেলের মত,
    ঘাপটি মেরে ছিল এই গোটা পক্ষ -
    যাতে আনমনে রাস্তায় ঘুরতে রত
    এক ব্যক্তি না হলে লড়াইয়ে দক্ষ,
    এই স্বর্ণদ্বীপে (খুব আতঙ্ক হয়),
    খুইতে পারে তার বস্ত্র-ধন উভয়।

    জুয়ান ইংরেজিতে হলেও নির্গুণ,
    জানত তাদের সেই গালিটি, "গড ড্যাম!"
    আর এক্ষেত্রেও তার হাল এমন করুণ,
    তাদের এই "শালা"-য় সে শুনছে "শালাম,"
    অর্থাৎ "ঈশ্বর তোমার সঙ্গে থাকুন!"
    মোর অর্ধ-ইংরেজ হওয়ার পরিণাম:
    দুর্ভাগ্য যে বলতে পারি না কভু,
    কেউ অন্যথা কয় "সঙ্গে থাকুন প্রভু!"

    তাও যা ছিল অতর্কিত ও ভণ্ড,
    তাদের সেই ইঙ্গিত জুয়ান বোঝে অতঃপর;
    হঠাৎ তার জামার পিস্তলের প্রচণ্ড
    গুলিতে ঘায়েল হয় এক দুষ্কৃতীর উদর।
    আর, যেন প্রান্তরে সুপ্ত এক ষণ্ড,
    লোকটা আছাড় খেয়ে কাদা মাখে বিস্তর,
    যার চিৎকার শোনে তার নিকটের সঙ্গী:
    "ওঃ, জ্যাক! খুন করে ফেলল ওই ফিরঙ্গী!"

    এ শুনে জ্যাক ও তার দল মারল ছুট,
    আর জুয়ানের-টা ছিল খানিক দূরে;
    কাণ্ড দেখে তাদের বিস্ময় প্রস্ফুট,
    ফলে সাহায্য এলো দেরি করে।
    জুয়ান ভাবল - তার কাণ্ডজ্ঞান অটুট -
    "মলম-পটিতে এঁকে দেব মুড়ে,"
    দেখে তার উন্মাদ দেহের রক্ত-বমি,
    "ইস! একটু যদি ধৈর্য ধরতাম আমি!

    মনে হয়, স্বাগত জানানোর রীতি
    এদেশে এই রকমই; দেখতে গেলে
    চুরি হেথা সরাইওয়ালার-ও নীতি,
    গালিগালাজ বা বন্দুক নাও পেলে।
    কিন্তু কি কষ্টকর এই লোকটির ইতি;
    এঁকে তো রাখতে চাই না রাস্তায় ফেলে -
    কি কাতরাচ্ছেন উনি! আচ্ছা, কি করি?"
    ও বলল, "এসো, এঁকে তুলে ধরি!"

    কিন্তু হঠাৎ আহতের আর্তনাদ -
    "চাপ নিস কেন? আসে মোর এন্তেকাল!"
    এক গেলাস মালই হোক তার শেষ প্রসাদ,
    "হেথাই মরব - লুঠের যে করুণ হাল!"
    গাঢ় রক্তের শ্বাসরুদ্ধ দুঃসংবাদ
    পেয়ে সে খুলল তার গলার রুমাল;
    অবশ কন্ঠে অনুরোধ রাখল সে
    মরার আগে: "রুমালটা স্যাল-কে দে!"

    জুয়ান বুঝল না - কেন অবতীর্ণ
    হয় রক্তাক্ত কাপড়টি ঠিক তার পায়ে;
    বা, দেখে তার শিকারের শব প্রকীর্ণ,
    কী যে মিনতি ছিল তার বিদায়ে।
    টম একদা ছিল না এত শীর্ণ!
    সে রংবাজির এক ওস্তাদ ছিল গাঁয়ে,
    আর বাদশা চারশো বিশ - তারপর তার ঝুলি
    হয় খালি, আর শরীরে ঢোকে গুলি।

    রাখতে এই দুর্ঘটনার শুভ অন্ত,
    জুয়ান প্রতিকার করল যথাসাধ্য;
    তাও শেষ হওয়ায় পরীক্ষকের তদন্ত,
    রাজধানীর দিকে ছুটতে হল বাধ্য।
    তাকে যেন এক বদমাশ শেষ পর্যন্ত
    না বানিয়ে দেয় এদেশের সান্নিধ্য;
    আত্মরক্ষায় এক হত্যা - আসার মোটে
    আধ-দিনের মধ্যে - খুব শোকেরই বটে!

    স্ব-যুগের যে ছিল জাঁদরেল বিজেতা,
    সেই বাচ্চুর উইকেট পড়ল স্বর্গক্রোড়ে;
    কে ছিল টমের মতো গুণ্ডা-নেতা,
    রকের মাতাল, বা ঠগবাজ পাড়ার মোড়ে?
    যদিও মামার দল নিষেধ করে তা,
    বট-রাস্তায় কে অমন তার যন্তর ছোঁড়ে?
    কে তার খুবসুরত আইটেম স্যাল-কে নিয়ে,
    তার পেয়ারকে টিপ-টপ করে নেয় রগড়িয়ে?

    কিন্তু টম আর নেই - তাই তার কথাও নেই।
    দৈব কৃপায় বীর-মৃত্যু অনিবার্য,
    পরবর্তী ঠাঁই কোথায় তা জানলেই।
    হে, থেমিস, নদ! জুয়ানের এক্কার ধার্য
    পথ লিখিত যে তোমার সৈকতেই!
    যার চাকায় ফলে বজ্রদস্তুর কার্য,
    কেনিংটন আর বাকি সকল "টন" ধরে;
    নাম শুনলেই ভাবি দৌড়ে যাই শহরে।

    এবং বনহীন সেই "গ্রোভ্স"-এর উপবন
    (বা "উপবন্যা"), ও "মাউন্ট প্লেজ্যান্ট" নামে
    রাজস্থানের নেয় পায়খানায় স্মরণ:
    ভাড়ায় সুলভ সব ইঁটের ছোট্ট খামে
    ধুলোর ঝড় আছে ভাড়াটে এখন;
    সভ্য সমাজের মুখে, "স্বর্গধামে"
    স্থান পায় এখানে যেসব ঘরের সারি,
    তা ছাড়লেই বাঁচত বিশ্বের প্রথম নারী।

    টাঙ্গায় ও এক্কায় করছে রাস্তার ধোলাই -
    যাত্রীর সংশয়ে গর্জায় প্রত্যেক চাকা;
    এই সরাইয়ে আছে সুস্বাদু চোলাই,
    আর ওই বাজার এক মুহূর্তে হয় ফাঁকা।
    নাপিতের দোকান চব্বিশ ঘণ্টা খোলাই -
    তার পুতুলে হরেক পরচুলো রাখা;
    এই যে দারোয়ান, লম্ফের তেলটা ঢালো!
    (সে আমলে ছিল না গ্যাসের আলো);

    এই সব, আরও অনেক সব, হয়ে আসে
    এক পর্যটক মায়াবী ব্যাবিলনে;
    কেউ ঘোড়ার পিঠে, কেউ টাঙ্গাতে ভাসে,
    তাও সকল পথই সমান - আমার মনে।
    বাকি কথা থাক! আমার ওপর হাসে
    মানচিত্রের অধিকার। আর, এতক্ষণে
    জুয়ানের দল পেরিয়েছে এক সেতু,
    চাঁদের আলোয় (আজ পূর্ণিমা যেহেতু)।

    বেশ মধুরই শুনতে, রুপোলি সাঁঝে
    থেমিস - স্নিগ্ধ, তাও প্রভাবান এক নালা!
    যদিও লন্ডনের চাঞ্চল্যের মাঝে
    আগে কানে আসে একগাদা "শালা!"
    আর ওয়েস্টমিনস্টারের উজ্জ্বলতর ঝাঁঝে
    সব জ্বললেও, তার সেই গির্জাটি নিরালা
    খ্যাতি যেথা ভৌতিক এক অতিথি,
    ও জ্যোৎস্না-ধৌত এক পবিত্র স্মৃতি।

    আদিবাসীরা আর নেই। ভালো কথা!
    আছে স্টোনহেঞ্জ - সেটাই বা কাকে বলে?
    বেথলেমের বেড়ি আছে, তাই অযথা
    কামড়াবে না তোমায় কোনো পাগলে;
    হাজতকে আঁকড়ে ধরছে ঋণের প্রথা,
    আর নগরপালের সুবিশাল মহলে
    কিচ্ছু চলছে না জনসাধারণের কাম;
    আর এসব চাইতে বেশি সেই গির্জাটির দাম।

    পেল মেল বা চেয়ারিং ক্রসে গিয়ে দেখ!
    আলোর সারিটাই যেন সোনায় পুষ্ট।
    হে, গরীব, মরচে-ধরা ইউরোপ, শেখ -
    তোমার প্রতি যে চন্দ্রিমাও রুষ্ট!
    ফ্রান্স! কই, দেখি এত যে বিপ্লব লেখ,
    তোমার আলোর খুঁটিগুলোও কি দুষ্ট!
    সেখান থেকে কোনো বাতি না লটকে,
    লটকাচ্ছে মড়াগুলো সব ঘাড় মটকে।

    রাস্তা জুড়ে তাও ভদ্দর মড়ার ছায়া
    বা সিংহাসনের কাঁচা কাঠের চিতা,
    পন্ডিতদের কাছে নয় সাময়িক মায়া;
    তাও কানাদেরই জন্যে এই কবিতা,
    কারণ বিপ্লবী চিন্তা এক আলেয়া।
    সভ্যতার এই বেশ অসভ্য ভণিতা
    সদর্পে জ্বললে করে ভীত-ভ্রান্ত -
    আর বুদ্ধির কৌশল দেয়, যদি হয় শান্ত।

    হেথা এতই আলো আছে, লন্ডনে
    একটি সৎ ব্যক্তি না পাওয়ার আফশোস
    ডায়োজেনিসের এক বিরাট লণ্ঠনে,
    নয় লোকের বা আলোকের সংখ্যার দোষ;
    দোষ থাকবে বিশ্বে সততার বণ্টনে
    (যদিও লন্ডন একটা বিশ্বকোষ)।
    আমিও সেই গুপ্তধন খুঁজতে ব্যর্থ,
    তাই ভাবি, বিশ্বের কেবল আছে স্বার্থ!

    ডন জুয়ান, আমাদের কূটনৈতিক ছেলে,
    খটখটিয়ে অন্য ছেলেদের পেরোয়;
    সব দরজার কড়ায় খটখট হয় পেল মেলে,
    ও পাওনাদার-রা ফকির হয়ে বেরোয়।
    ঘরে কেউ অতিথি পেট ভরে খেলে,
    রাত্রে আর ভবঘুরে রয় না সে। রয়
    জুয়ান, যে শেষটায় ছাড়াল এই সড়ক,
    সেন্ট জেমসের প্রাসাদ এবং জুয়ার "নরক"।

    জুয়ান-রা আসতেই শৌখীন সব বেয়ারা
    ভিড় জমাল তাদের সরাইয়ের দ্বারে;
    আর সেইসব নিশাচর পিঙ্গলা, যারা
    লাগে ভদ্র লন্ডনের উপকারে,
    এবং সমাজে দাম্পত্যের এক ধারা
    অভদ্রভাবেও বজায় রাখতে পারে,
    যেমন ম্যালথাস শেখায় বিবাহের মান।
    এক্কা থেকে এখন নামছে জুয়ান

    দেখতে তার সরাইরুপী স্বপ্ননীড়;
    অবশ্যই এক বিদেশীর - বা, তার জন্য
    যার সঙ্গে ভাগ্যের সম্পর্ক নিবিড়,
    আর হাতখরচ যার তোশামোদেই ধন্য।
    সেথা অনেক বাসি আবাসীর ভিড়,
    এক-একজন রাজনীতির হারানো পণ্য -
    যদি না কেউ, খ্যাতির ছোট্ট এক ফাঁকে,
    টাটকা হাতে তাদের বাসি নাম আঁকে।

    জুয়ানের ছিল না এক মোক্ষম পদ
    যা বলবে তার লক্ষ্যটি নিজের খাস,
    না দেশ-কল্যাণের পক্ষে ফলপ্রদ;
    তার ছিল বিরাট সূক্ষ্ম এক ফরমাশ।
    সবাই ভাবল, এক বিদেশী রসদ
    এই সুশ্রী যুবকটি; কোন্ গোপন আশ
    মেটাতে এসেছে সে স্বদেশ ছেড়ে,
    নিয়ে তাদের সম্রাজ্ঞীর হৃদয় কেড়ে?

    ডন জুয়ানের রক্ষক হয় অনেক জল্পনা:
    প্রেমে তার দাপট, আর অদ্ভুত যুদ্ধতে।
    সকল ইংরেজদের মাথা ভর্তি কল্পনা;
    মেয়েদের বেশি - আহ্লাদের জগতে
    যুক্তির বিরুদ্ধে বিপ্লব তাদের অল্প না!
    লন্ডনে লাগল জুয়ান চটুল হতে:
    ধীরে ধীরে সে এসে সবার চর্চায়,
    হয় ভাবুক লোকের খাদ্য - বিনা খরচায়।

    বলছি না যে তারা কেউ খায় না খেটে;
    খাবার বা খবর থাকে সবার মুখে।
    এ সবই জমা হলে তাদের পেটে,
    তফাৎ আর থাকবে না কারুরই সুখে;
    রন্ধন-প্রণালী জানলেই তোমরা সেঁটে
    খেয়ে, যুক্তির প্রতি দাঁড়াবে রুখে।
    সব যদি প্রেম-গুজবের কাঙাল হয়,
    কি তফাৎ রাখে মগজ আর হৃদয়?

    যথাস্থানে জুয়ান হয় পরিচিত,
    ও তার রুশ রাজকীয় খুঁটিনাটি;
    বুঝেই তারা ভদ্র ভেংচিতে স্ফীত,
    যাদের শাসনে সন্দেহটাই খাঁটি।
    দেখে (সরকারে এটাই জরুরি তো!)
    কচি জুয়ানের বোকা চেহারাটি,
    তার সকল স্বপ্ন গিলতে এরা চায় -
    বাজপাখি যেমন চড়ুই ধরে খায়।

    তাদের এই দোষটি বয়সের বিকার,
    তাও সে কথায় পরে আসব। না এলে,
    বুঝবে তারিফের ইচ্ছে নেই আমার
    এক রাজনীতিজ্ঞ ঘুষ আর মানুষ খেলে,
    যার সাহস নেই মিথ্যেটুকু বলার।
    এখন এই গুণটি নারীর মধ্যে মেলে -
    তার মিথ্যে ছাড়া কিছু বলা বারণ;
    সে সত্যেরই তুলনায় অসাধারণ।

    আসল প্রশ্ন হল, "মিথ্যা" মানে কি?
    বোধহয় তা শুধুই মুখোশ-পরা সত্য;
    আমি বলব, এক চিমটে হলেও মেকি
    ইতিহাস, ধর্ম, আইনের সব তথ্য।
    আসল সত্যের ছায়াটুকু পড়লে কি
    বেঁচে থাকবে এই কবিতার মহত্ত্ব?
    না অতীতের কোনো ঘটনা নিয়ে
    কেউ ভবিষ্যদ্বাণী দেবে চালিয়ে?

    জয় মিথ্যা! জয় মিথ্যাবাদী! কে আছে,
    যে আমার চরিত্রকে করবে ঘৃণা?
    সমাজের সব প্রশংসা আমার কাছে,
    তাই দুঃখ আর প্রকাশ করতে পারি না
    (সততার চোটে কেউ না মানলে পাছে,
    যে রাজ্যের তারিফ একদম ভণ্ডামি না)
    ... সবুজ আইরিশদের দেখ! - সত্যের ভয়ে
    রাজমুকুট চেটে জিভটা গেছে ক্ষয়ে।

    জুয়ানের দেহ ও তার চাল হয় পেশ,
    যা দেখে উঠল অবাক ফিসফিসানি;
    একটি বিশাল হীরায় দীপ্ত তার বেশ,
    যা দেখে সবার চোখে এলো পানি।
    ক্যাথরিন একদিন জুয়ানকে সবিশেষ
    মত্ততায় (প্রেমের বা মদের, কি জানি)
    ওই রত্ন প্রদান করে বানায় ধন্য,
    তার দেহের প্রচুর যত্ন নেওয়ার জন্য।

    আর ছিল যেসব মন্ত্রী ছোটখাটো,
    কষ্টে থামায় সেই হিংসুক গলা সাধা
    যার ঠ্যালা বুঝে তাদের বড়লাটও
    হাতে নেয় ফকির রাজার আইনধাঁধা;
    তার কেরানিরাও লোভে আঁটোসাঁটো -
    এক স্নানঘর-হর্ম্যের নর্দমার সেই বাধা
    যা এমন দুর্নীতির কাদায় হয় মোটা -
    তাও ছাড়ল নম্র জলের দু-এক ফোঁটা।

    বেয়াদপিটাই তাদের মাসিক আয়;
    লোভের জন্যই তো রোজ তাদের খাটুনি,
    যুদ্ধে বা শান্তিতে, যেখানেই যায়।
    এ নিয়ে সন্দেহ থাকলে, কই, শুনি! -
    পড়শিকে জিজ্ঞেস করা তোমার দায়:
    এমন করখেকোদের বজ্র আঁটুনি
    যে কারুর স্বাধীন হাড় জ্বালিয়ে গেলে,
    সে ভাববেই - সব পা-চাটা খানকির ছেলে।

    জুয়ান তাও नौटंकी-র সাথে হয় গ্রহণ -
    ওই ঢং মেলাতে বললাম রাষ্ট্রভাষা,
    যে রাষ্ট্রে সকল চালই করে বহন
    ভাবনার বক্রতা (যেন জুয়ার পাশা),
    আর বাক্য, লিপি - দুই প্রথাতেই গহন।
    যখন এক জায়গা মানুষে হয় ঠাসা -
    কায়দা, চালাকি, গালাগালিও বাড়ে,
    ঠিক যেমন দেখতে পাও মাছের বাজারে।

    বাংলা "শালা"-টি তবু অভিজাত।
    অন্য "রাষ্ট্রগালি"-তে গলদ অনেক,
    যার জন্যে মানবদেহই আজ কুখ্যাত;
    তাই আমি ভদ্রতা রাখতে ভীষণ এক
    অশ্রাব্য আর কিছু বলতে চাই না তো!
    (সে ক্ষতি এমনিই হয়েছে আগে ক্ষণেক)
    তাই এর তুলনায় "শালা"-টা বেশ সূক্ষ্ম -
    খিস্তির আত্মা, তাও দার্শনিকের দুঃখ।

    গাল খাওয়ার জন্য আছে নিজের বাড়ি।
    আসল বা নকল ভদ্রতা যার দরকার
    সে নীল সমুদ্র পারে দেবে পাড়ি,
    বাইরে যদিও পরেরটাই দেয় সরকার।
    কালে-ভদ্রে একটা স্বদেশে ছাড়ি,
    দেখবে আরেকটার গল্প সব এরপরকার;
    যাইহোক, এসব কথা ধরেছে গতে -
    এই পদ্যের দরকার ঐক্য, আমার মতে।

    ওই মহান দুনিয়ায় - সমাজে - মানে
    যা রয় পাশ্চাত্য শহরের পশ্চাতে;
    ক'হাজার লোকলস্কর থেকে যে পানে
    (যাদের জ্ঞান নেই মাথায় বা কৌশল হাতে),
    আর সব ঘুমোলেও উঠে বসে, জানে
    পৃথিবীর ওপর করুণায় তাকাতে -
    সেই উচ্চাঙ্গ সমাজে পায় সম্মান,
    বিলাসিতায় অভ্যস্ত ডন জুয়ান।

    সে ছিল কুমার, তাই হল আকৃষ্ট
    উৎসুক কুমারী ও সন্দিগ্ধ কনে,
    বিচার করতে তার পৌরুষের বৈশিষ্ট্য;
    আর (প্রেম বা অহংকার না থাকলে মনে)
    দ্বিতীয় গোষ্ঠীও তার প্রতি সুমিষ্ট,
    তাও কণ্টকস্বরূপ পতিদের জীবনে -
    খাতিরের কাঙাল - ও পরকিয়ার
    দ্বিগুণ পাপ লুকোনোর ঝামেলাই সার।

    কিন্তু সত্যিই এক কুমার আমার নায়ক,
    ধনের, প্রাণের, ও জ্ঞানের পথিকৃৎ;
    অপূর্ব নর্তক আর এমন এক গায়ক,
    ভাবালু যেন মোৎসার্টের সংগীত -
    ঠিক সময়ে মধুর বা দুঃখদায়ক;
    এই বয়সেই তার শিক্ষা হয় উচিত,
    কারণ সে জানে কি বিকট এই বিশ্ব,
    ও সাহিত্যের কাছে কত অস্পৃশ্য।

    কন্যাদের গালে লজ্জার লোহিত লীলা;
    তাও কনেদের রংটাই রয় বেশিক্ষণ -
    যৌবনে রঙিন আর সীসায় রঙ্গিলা
    টেমসের ধারে এই দুই গোষ্ঠীর বদন;
    জুয়ানের মত "দাসেরে রাখিলা
    চির-ঋণী", তাদের সেই প্রলোভন।
    মেয়েদের তার রোজগার আর পোষাক চাই;
    মায়েরা শুধোয়, "তোমার কয়টা ভাই?"

    জুয়ানের বিদেশি ধনের যে শস্য,
    সেসব চতুর দর্জি তার নেয় সুযোগ
    গিন্নিরা যাদের হাল পোশাকের পোষ্য,
    ধার দিতে করে মোটা দর প্রয়োগ;
    দাম্পত্যের পেয়ারকে করবে তাদের বশ্য -
    যা সুদে আর আসলে হবে ভোগ,
    শেষে বরগুলোর পকেট করে খালি;
    আর বাড়তি পাওনা রয় আফশোস ও গালি।

    আসে সব প্রেমপত্রপ্রেমী বিদুষী
    নিয়ে টুপি-পরা আঁতেল গরিমা,
    যারা জমকালো নীল পোশাকেই খুশি।
    ছড়ার কাঙাল, নরম একদল নীলিমা,
    বলে সব সস্তা ফরাসি বা রুশী
    জানতে চায় কিছু পণ্ডিতের মহিমা -
    হোমারের উপর জুয়ানের জবানি,
    আর কোনটা মধুর: রুশ না ইস্পাহানি।

    জুয়ান বোধহয় কখনও নেয়নি গড়ে
    নিজেকে এক মধুসূদনের ছাঁচে,
    তাই এসে পণ্ডিত বুড়িদের নজরে
    এখন বুঝল, পালাতে পারলেই বাঁচে।
    তার জ্ঞান ছিল যুদ্ধে, প্রেমে, দপ্তরে,
    আর দৈহিক শিল্পে (মানে - যেমন, নাচে);
    এখন দেখে কাব্য-ঝর্ণা নিখিল,
    সে জানল তা স্বচ্ছ নয়, ঘোলা নীল।

    কোনক্রমে এক শান্ত প্রত্যয় রেখে
    যত্রতত্র শব্দের সে ছোটায় বন্যা;
    ভাবি এই বিরল অধ্যবসায় দেখে,
    তা সংকোচের অকাট্য নিদর্শন না।
    এমন তার কথাবার্তা খাতায় লেখে
    মিস অ্যারামিন্টা স্মিথ (এই বিস্ময়কন্যা
    "ক্ষিপ্ত হার্কিউলিস"-কে অনুবাদ করে
    ক্ষিপ্ততর ইংরেজিতে - কৈশোরে)।

    জুয়ান জানত বেশ কয়টা ভাষা - যেমন
    স্বাভাবিক - যে চর্চাতে হয় আকর্ষ
    এই বিজ্ঞ নারীদের তার প্রতি এমন।
    তবু তার কলজেয় নেই কবিত্বের স্পর্শ,
    ভাবতেই পণ্ডিতদের মনটা করে কেমন
    (থাকলেই যে তার প্রতিভা হয় আদর্শ!);
    মিস পুরু-শালিনী আর আঁতেলিনী চান
    তাঁদের নামে সুন্দর এক ইস্পাহানি গান।

    যাইহোক, জুয়ান শেষে হয় অন্তর্ভুক্ত
    বড় আর ছোট তাদের সব বৈঠকে;
    আর যেমন সস্তা পত্রিকায় সব যুক্ত,
    নজর দেয় তাকে দশ হাজার লেখকে
    (বিক্রি বাঁচাতে এই সংখ্যাই হয় উক্ত)
    ফেলতে তার শিক্ষাকে কাগজের ছকে;
    সঙ্গে "সেরা আশিটা জ্যান্ত কবি"
    ব্যাঙ্কুও-র স্ফটিকে মেধার প্রতিচ্ছবি।

    "সেরার সেরা কবি"-র তিন সাল অন্তরে
    ক্ষমতা জাহির করাটাই হয় কাজ -
    যেন এক কুস্তির আখড়ায় তার ডাক পড়ে,
    যদিও জিনিসটাই যে নকল আজ।
    জয়ী না হতে চাইলেও এ সমরে
    বা টুপি মাথায় গর্দভ-ধামে রাজ,
    নিজেই সকলকে দেখেছি, অজান্তে
    আমাকে কবিদের নেপোলিয়ন মানতে।

    তাও মস্কোয় পড়ল জুয়ান, আর ফালিয়েরো
    লাইপ্সিগে - কেন্ আমার সঁ-জাঁয়ের টিলা;
    "আলিয়ঁস"-এর কোঠায় পাকছে গাধার গেরো,
    আর স্বয়ং সিংহও হারছে মোকাবিলা;
    কিন্তু এমন "কব" বা "রেজি" সিংহেরও
    হয় ধ্বংস আসে, নয় থাকে রাজলীলা,
    নয় একাই সে কোন্ দ্বীপে সন্ন্যাস নেয় -
    তার কপট সাউদি লোয়ের কপাট দেয়।

    আজ ধর্মের চূড়ায় হলেও, আমার আগে
    রাজ করত স্কট, মুর, ক্যাম্পবেলের ঘরানা;
    সব কবিই এখন পুরোহিত বিভাগে
    (কাব্য আর নেই কাব্যলক্ষীর জেলখানা)।
    পক্ষীরাজের আজ উড়তে রণ-পা লাগে,
    নিষ্ঠুর মালিক যার ছিঁড়ে ফেলছে ডানা;
    আমার অতি শ্রদ্ধেয় বুলি গুরু!
    যে গির্জার সম্পদ লুঠতে করবে শুরু।

    তবু লোকটা খাটে প্রচুর, তার ফলদ
    কাব্য-দ্রাক্ষা থেকে ঢালতে মদিরা,
    তাও শেষে পড়ে ভিনিগার। এই গলদ
    ন' কাব্যদূতীকে দেয় নীরস পীড়া;
    শোনায় পদ্যের এই লাঙল-টানা বলদ
    (যাকে খেদায় সু-পুরুষ ও কবিরা)
    পারস্য রাজে বন্ধ্য রোমান অত্যাচার,
    তার কুৎসিত দেবীর বন্ধ্য পূজারীর চিৎকার।

    আর আছে আমার ভদ্দর বাবু, যে
    নাকি আমার কবিতায় আনবে নীতি;
    স্বয়ং আমিও হতে চায় যদি সে,
    তার সব প্রচেষ্টার থাকতেই হবে ইতি।
    কোলরিজকেই মহান ভাবে অনেকে;
    ওয়ার্ডসওয়ার্থের রয় দু-তিন চামচার সমিতি।
    ভাবছে ল্যান্ডর, ওই জংলী মাথামোটা,
    যে দাঁড়কাক সাউদি রাজহংসই পুরোটা।

    জন কীটস্! তাকে করল অকালে হত্যা
    তার একটু "ধ্রুপদী" বার্তার কটাক্ষ;
    ওর গ্রীক-মার্কা পদ্যের দুর্বোধ্য সত্তা
    দেয় দেবদেবীর জীবনের উদ্ভট সাক্ষ্য,
    আর এতেই জানা যায় তার বুদ্ধিমত্তা।
    হায়, বেচারা কবি! বানিয়ে লক্ষ্য,
    একটিমাত্র প্রবন্ধ দিল ফুঁকে
    অদ্ভুতভাবেই এই অগ্নিময় বস্তুকে।

    সংখ্যায় তার বাড়ছেই জ্যান্ত-মৃত দাবি,
    যা দুষ্প্রাপ্য ও যার মালিক অজানা;
    লাভ করার আগেই পরলোকের চাবি,
    কালে তার শীতল রক্তের ওপর হানা
    দেবে তাদের পোড়া ঘিলুর ঘি। ভাবি
    এই ভিড়েই বিধ্বস্ত সেই মালিকানা;
    যেন ত্রিশ নকল শাসকের ভীমরতি
    করছে রোমের ঐতিহ্যের প্রচুর ক্ষতি।

    যেথা আসল শক্তিধর রাজার "রক্ষক",
    এ সাহিত্যের সেই নিকৃষ্ট সাম্রাজ্য;
    যে বিষাক্ত অমৃত আনে এই "ভক্ষক",
    তা আলস্য ও লাম্পট্যে বিভাজ্য -
    যাতে খাদ্যরূপ রাজার করতে শখ হোক
    তোষণে এই রাক্ষসদের মূক সাহায্য;
    তাও এদের আমি, নিজের জায়গায় হলে,
    দেখাতাম মগজ-যুদ্ধ কাকে বলে।

    আমি বোধহয় থাকলে লড়ার মেজাজে,
    দিতাম - মেরে দু-একটা সস্তা কায়দা -
    মোচড় এই ভাড়াটে গুন্ডাদের ল্যাজে;
    তাও চুনোপুঁটি পাকড়ে কার কি ফায়দা?
    এক নিরীহ স্বভাবই আমায় সাজে।
    এদের মোক্ষম ভোগান্তি রইলে, হায়! তা
    আমার ছোট্ট জ্ঞানদাত্রীর মুচকি চাওয়া,
    যে হয় এক লাজুক প্রণাম ঠুকেই হাওয়া।

    মহা সমস্যায় ফেলছিল জুয়ানকে
    সেই একদল জ্যান্ত কবি আর নীল মেয়ে;
    এমন নিষ্ফল আলোচনা তার প্রাণকে
    কালে করায় দুর্বল - আর সেই একঘেয়ে
    বৈঠক ত্যাগ করতে বাধ্য, তার সম্মানকে
    অক্ষত রেখেই সে সন্ধানে পেয়ে
    যায় নক্ষত্রের ন্যায় কোনো উৎফুল্ল বিষয়;
    হায়, সূর্যশিশু! সত্যের রশ্মি - বাষ্প নয়!

    তার প্রত্যেক সকাল জুড়ে রয় কাজকর্ম -
    মানে, সব কাজকর্মের মতোই এক শূন্য
    যা আঁকতে অবস্থা হয় গলদঘর্ম;
    আর বিশ্রামকেই ভাববে মহাপুণ্য
    মারণ-দায়িত্বে বিষাক্ত তার চর্ম।
    খাটে একবার পড়লে, সব কাজেই ক্ষুণ্ণ
    হই আমরা (নিজের দেশের কল্যাণ বাদে;
    যার সময় এলেও দেশ রইবেই বিষাদে)।

    তার বিকেল জুড়ে রয় নিদ্রা আর মুষ্টি,
    ভোজন আর নিমন্ত্রণ; সন্ধ্যায়, "উদ্যান"
    নামক সবজির ঝুড়িতে পায় সন্তুষ্টি
    ঘোড়ার পিঠে তার ভবঘুরে প্রাণ,
    যার ফুল বা ফলে নেই মৌমাছির পুষ্টি;
    তাও এটাই তো সেই একমাত্র "বাগান"
    (মূরের ভাষায়) যেথা শৌখিন সমাজ -
    নারীগণ - পায় মুক্ত বায়ুর আন্দাজ।

    তারপর পোশাক! - নৈশভোজ! - বিশ্বের জাগরণ!-
    বাতির ঝকঝক! - চাকার খটখট! - সড়ক-বাজার
    জুড়ে ধূমকেতুর ন্যায় এক্কাদের আলোড়ন! -
    জলসাঘরে সাজসজ্জার জমকালো সম্ভার! -
    নৃত্যের আর শিল্পের এক জীবন্ত বিস্ফোরণ! -
    বিস্ফোরণ! - সকল দরজায় পিতলের কড়ার! -
    যা খুললেই কয়েক হাজার শৌখিন বাবু
    হয় নকল সোনার নকল স্বর্গে কাবু।

    ওই তো সম্ভ্রান্ত কর্ত্রী! - সে দাঁড়িয়ে
    থাকবে তিন হাজার নমস্কারের পরে;
    ওই ওয়াল্ৎজ্! একমাত্র নাচ যা ভাবিয়ে
    তুলে মেয়েদের (সমাজের নজরে),
    তার দোষের সাথে দেয় প্রেমেও ফাঁসিয়ে।
    কামরা-বৈঠক যায় কানায় কানায় ভরে -
    "দাঁড়াও, পথিক লর্ড, তিষ্ঠ দীর্ঘকাল!"
    লেডির সাথে সিঁড়িতে সামলাও টাল!

    দরজার বাইরে দেখে এই হট্টগোল,
    ভিড়ের বাইরে তারই অশেষ বিলাস রয়
    যে ঘরকুনো ব্যাঙ পায় তার "কুয়োর জল",
    কোনও গোপন কোটরে নিয়ে আশ্রয়;
    অন্য দর্শকদের ওঠে কান্নার রোল,
    ওঠে তিরস্কার, বিদ্রুপ, কেউ উদাস রয়,
    ওঠে অহংবোধ, প্রশংসা, কেউ হাসে -
    রাত বাড়লে প্রচুর হাইও কারুর আসে।

    তাও এই উপায় সর্বদা সফল নয়;
    এক জলসায়, জুয়ানের ন্যায় স্বতঃস্ফূর্ত
    যোদ্ধাকে দিক বুঝে পা ফেলতে হয় -
    রণস্থল যে চাঞ্চল্যেই পরিপূর্ত!
    রত্নে, রেশমে, মুক্তায় দীপ্তিময়
    এই সভায় নিজেই যেন সে বিমূর্ত;
    হায়! ওয়াল্ৎজের মাধুর্যে সে হয় বিলীন,
    বা কোয়াদ্রিলের তাণ্ডবে সংজ্ঞাহীন।

    সেসব তাল না গুনে, কেউ চাইলে নাচতে
    এক রাজকন্যার (বা পড়শির বউয়ের) কাছে,
    আগে তার নিজের পকেটকে হয় বাঁচতে:
    তাড়াহুড়োয় ধরা না পড়ে পাছে!
    নিজের জন্যে এক প্রিয়তমা যাচতে
    অধৈর্য ভদ্রলোকের বিপদ আছে;
    তাই বোকা সাজতে সবাই করলে চালাকি,
    সে জানবে যে বেশি লাফানোর জ্বালা কি।

    মেয়ে পটলে, তার পাশেই বসো খেতে;
    না পটলে - লুকোও! দাও তাকে নজর!
    আহ্লাদের স্বর্ণাভ চাবুক এই প্রেতে
    স্মৃতির ওপর সর্বদাই করবে ভর,
    যৌবনের বিলাসের মৃত্যুসংকেতে;
    ক্লান্তির আহত শরীরের গহ্বর!
    এক নরম মানস বোঝে খুবই অল্প
    এসব ওয়াল্ৎজ্-বিদারক আবেগের গল্প।

    তাই নেবে আমার এই উপদেশবাণী
    মাত্র কয়েক নগণ্য মানুষ। তারা
    দেয় নজর, নেয় পিছু, আর হয় সাবধানী -
    ফন্দি ফসকালেই ফাঁসবে তাদের ফাঁড়া;
    আজকাল মেয়েরা তাদেরই চায় জানি
    (আগে বেশি চাইত - আর ছাড়ত), যারা
    দামি, নতুন, বা সুন্দর; বিরাট যোদ্ধা,
    চটুল, বিরাট বুদ্ধু - বা একটু বোদ্ধা।

    থাকলেও যৌবন, খ্যাতি, উচ্চাঙ্গ ধন,
    আমার নায়ক - এক সুশ্রী আগন্তুক -
    প্রত্যেক দাসের ন্যায় দেবেই মুক্তিপণ
    সেই সংকট-ত্যাগে যদি হয় উৎসুক,
    যা এক বিশিষ্ট ব্যক্তির আচ্ছাদন।
    কষ্টের জীবনে (ভাবে সব নিন্দুক)
    রয় সাহিত্য, ব্যাধি, বা "পকেট গড়ের মাঠ";
    এক উচ্চাঙ্গ যুবার জীবন সে করুক পাঠ!

    যৌবনই সে যুবকের পক্ষে নব্য,
    সুশ্রী - তাও জীর্ণ - বিত্তবান ভিখারী,
    এক ইহুদিই যার উৎস ও গন্তব্য -
    গিলছে যার পৌরুষ কয়েক হাজার নারী;
    রাত্রের দুই সভায় পায় এদের মন্তব্য
    একদল ভুঁইফোড় বা একদল অত্যাচারী;
    এরা নেয় খাদ্য, মদ্য, বেশ্যা, জুয়া,
    আর তারপর ভরে বংশের মরণ-কুয়া।

    "হে আশির বুড়ো," চেঁচায় ইয়ং, "তুই নিঃস্ব!
    কই তোর শৈশবের বিশ্ব? কই তার স্ফূর্তি?"
    হায় আটের ছেলে! কই তোর বাল্যের বিশ্ব?
    খুঁজে দেখি - চূর্ণ সে স্ফটিকমূর্তি!
    ছিল কম্পিত, রুক্ষ, প্রায় অদৃশ্য;
    নিমেষেই হয় তার নীরব আয়ুপূর্তি।
    সম্রাট, শাসক, সচিব, ভাষক, সংগ্রামী,
    শৌখিন ভণ্ডলোক - সবাই অন্তগামী।

    আজ মহাবীর বোনাপার্ট কই, হে ভগবান?
    মহাকীট ক্যাসলরে কই? শয়তান জানে।
    কই বা সমস্ত গ্র্যাটান, কার‍্যান, শেরিডান,
    সভা-দপ্তর তটস্থ যাদের ঘ্রাণে?
    এখন কই বেচারি রাণীমার ক্ষুণ্ন প্রাণ?
    কই শার্লট - ব্রিটেন পাগল যার সম্মানে?
    শহীদ পাঁচ শতাংশের ঠিকানা ছাড়া,
    বলি কোন চুলোয় গেছে আমার ভাড়া?

    কই ব্রামেল, ওয়েলস্লি? দু-নম্বরীর দোরে।
    হুইটব্রেড? রমিলি? জর্জ (তিন-নম্বর দস্যি)?!
    তার চরমপত্র আজ চরম ফাঁপরে;
    কই, গত জর্জের চাট্টিখানি পুষ্যি?
    নেচেই বেহাল স্কটিশ বেহালার ছড়ে
    সেই দেশে; কি হে, চতুর সব মনুষ্যি,
    ছয় মাস চলছে মাথায় এই ফন্দি ভাঁজা,
    তেল মেরে চুলকে দেবে রাজার হাজা?

    কই আমার সব মাননীয়া শ্রীমতী,
    কই আমার লেডি অমুক? কই লর্ড তমুক?
    কারুর যাত্রার ছেঁড়া পোশাকের গতি;
    বিয়ে, বিচ্ছেদ, আরেকবার বিয়ে প্রমুখ
    আপদই আজ প্রায় সবার পরিণতি।
    কই ডাবলিনের চিৎকার? লন্ডন কেন মূক?
    কই গ্রেনভিলের দল আজ? দল পাল্টে ক্লান্ত।
    কই হুইগ ভাইসব মোর? পক্ষাঘাতেই ক্ষান্ত।

    কই সব লেডি ফ্রান্সেস আর ক্যারোলাইনের
    দাম্পত্য? ভঙ্গুর, ছিন্ন! - হে পত্রিকা,
    প্রভাতেই যাতে সব বিবাহ-আইনের
    ও বিধ্বস্ত শয্যার থাকে তালিকা!
    কও, মায়াময় শখের বাহক, কোন মাইনের
    ঘটকের হল্লায় ভরছে এই পঞ্জিকা?
    স্বদেশে থাকলে তীব্র কেচ্ছার সম্পদ,
    আজ মৃত্যু বা গা-ঢাকা দেওয়াই কম বদ।

    ভীতু ডিউককে চোখ মারত যে একদা,
    তার প্রেমপাত্র আজ তাঁর "কনিষ্ঠ ভ্রাতা";
    ঠগবাজদের টোপই গিলছে কেউ সর্বদা:
    কন্যা হচ্ছে কনে, বা শুধুই মাতা।
    বুড়িরা আর রূপসী রয়নি সদা;
    বড়ই লম্বা এমন ঝামেলার খাতা -
    তাও নতুন কিছুই নয়। যা নতুন অতি,
    তা চেনা বদলের অচেনা গতি।

    সত্তর বছরের গল্প রাখো! সাতে,
    রাজ-রাজড়া থেকে চামারের কপালে
    আমি এত বদল গুনেছি হাতে,
    যে আসবে না এক শতাব্দীর নাগালে;
    নিয়তির খেলায় হোক, বা সমপাতে।
    বদলের মানেটাও বারবার বদলালে,
    মানুষের সবই নশ্বর ও পুরানো;
    নয় কেবল হুইগদের গদি না জেতানো।

    আমি নেপোলিয়নকে দেখেছি হতে
    দেবরাজ থেকে যমদূতের এক অতিথি।
    দেখেছি এক ডিউক (নাম নেই যার জগতে)
    মহাগর্দভ সেজে করছে রাজনীতি,
    নিজের মুখোশ বিকিয়ে। চাই নৌকোতে
    নতুন পাল তুলে লিখতে নতুন স্মৃতি -
    তাও দেখে জর্জের ধিক্কার ও জয়গান,
    ভাবতে ভয় করে কোনটা রাজসম্মান।

    দেখেছি লাখপতিদের চাইতে ভিক্ষা,
    দেখেছি মাদাম সাউথকোটের মাতলামি;
    দেখেছি রাজসভায় মজুরদের দীক্ষা,
    লোকসভায় কর-ভক্ষণ দেখেছি আমি;
    দেখেছি রাণীর ইজ্জতের পরীক্ষা,
    দেখেছি ঘুঁটের মালায় রাজপ্রণামী;
    দেখেছি ক্লান্ত গর্দভরূপ ক' জাতি
    উচ্চ সমাজের বোঝায় মারছে লাথি।

    দেখেছি ছোট্ট কবি, গোদা বক্তা -
    অরোধ্য - আরাধ্য নয় - অনেক শাসক;
    দেখেছি যে, রাজকোষের উপভোক্তা
    জমিদারই তার বংশজমির নাশক;
    ঘোড়সওয়ার কুকুরদের বন্দুকে তক্তা
    হওয়া জনতার দেখেছি মহাশোক।
    দেখেছি মদের দরে জীবন গেলা,
    জন বুল অর্ধেক বুঝলেও বোকামির ঠ্যালা।

    তাও "দিনটা তোমার", জুয়ান, "তোমার, তোমার!"
    জীবনের ভঙ্গমঞ্চে রোজ-রোজ আসে
    এমনই এক রঙিন নাট্যনিগম, আর
    দিন শেষে কাঙালরা যায় রাহুর গ্রাসে।
    যা করছ তাতে নজর রেখো কম, আর
    যা বলছ তা রেখো নিজের তল্লাশে;
    হও সাবধান, হও জোচ্চোর, হও সবসময়
    যা দেখছ তা; যা দেখাচ্ছ তা নয়।

    অন্য সর্গেও আর শোনাই কোন আক্কেলে
    কি দেখল আমার নায়ক, সেই প্রদেশে
    যার সভ্যতা নিয়ে সব বুড়ো-ছেলে
    উন্মাদ গর্বেই মরছে? তা ঝেড়ে কেশে
    ফেলতাম আমাকে হুতোম প্যাঁচায় পেলে,
    তাও একটাই কথা বলে রাখছি শেষে:
    তোমরা নৈতিক মানুষ নও, তোমরা জানো -
    কেউ কবির স্পষ্ট বিচার না-ই মানো।

    তাও জুয়ান যা দেখল আর বুঝল - ঠিক
    করলাম, থাকবে আমার বিষয় ও তর্কে।
    এই কল্পনা হোক ভদ্রতার প্রতীক,
    কারণ পদ্যটা নয় আমার সম্পর্কে;
    বাক্যের ও ইঙ্গিতের সব খুচরো দিক
    পেঁচিয়ে প্রত্যেক কলমচি তার স্বরকে
    কুপথে ঠেললেও - জানবে সর্বোপরি,
    আমার যা বলার বলি সরাসরি।

    কোনো কি বিজ্ঞ স্বামী-শিকারিনী
    এক কন্যার সাথে দেয় জুয়ানের বিয়ে?
    না আর কোনও মূল্যবতী রঙ্গিণী
    (মানে, ভাগ্যের বৈবাহিক দৌলত নিয়ে)
    রাখে সন্তান-সন্তোষে তাকে ঋণী,
    দাম্পত্যের বৈধ বদ বাধ্যতা দিয়ে?
    নারীগানে সে হওয়ায় একটু বন্য,
    তার পয়সা বা আব্রু কি হয় বিপন্ন?

    সব জবাব সময়ের গোপন সিন্দুকে।
    হে আক্রামক কাহিনী, নাও বিশ্রাম;
    মিশ্রিত হও দীর্ঘ বিবাদের বুকে,
    দিনকে রাত বানানোই যার কণ্ঠের কাম
    (বা স্থূল ভাবা সূক্ষ্ম সাহিত্যকে)।
    তোমায় কেউ না ঠুকলে ছান্দিক প্রণাম,
    তাই হোক! - থেকো একা এই স্বাধীন স্বরে,
    যা পাবে না কেউ সিংহাসনের দরে।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন