এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • মুদ্রাস্ফীতি মূল্যবৃদ্ধি ও লুকিয়ে থাকা দুর্নীতি

    বই পুরুষ লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৩ জুলাই ২০২৬ | ১৬ বার পঠিত
  • মোদি সরকারের আমলে যত দুর্নীতি হয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় দুর্নীতি হল মুদ্রাস্ফীতি বা মূল্যবৃদ্ধি। শুধু সবচেয়ে বড় দুর্নীতিই নয়। সব দুর্নীতির শেকড়। মোদি সরকারের আমলে শুধু কর্পোরেট লোন মাফ করা হয়েছে প্রায় 10 লক্ষ কোটি টাকা বা তারও বেশি। মোট লোন মাফ করা হয়েছে প্রায় 18 লক্ষ কোটি টাকা। তার মধ্যে কৃষি লোন মাফ হয়েছে মাত্র 1.7 লক্ষ কোটি টাকার মতো। বাকি লোনের বেশির ভাগটা বিভিন্ন ভাবে বড় পুঁজিপতিদেরই মাফ করা হয়েছে। বর্তমানে শুধু কেন্দ্র সরকারের ঋণের পরিমান প্রায় 200 লক্ষ কোটি টাকা। তার মধ্যে মোদি সরকারের আমলেই প্রায় 140 লক্ষ কোটি টাকা ঋণ করা হয়েছে। এই বিপুল অর্থ দেশের সাধারন মানুষের কোন কাজে সরকার লাগিয়েছে। বা এই বিপুল পরিমান টাকা দিয়ে দেশের জন্য কোন অ্যাসেট বা সম্পত্তি তৈরি করা হয়েছে? যার মাধ্যমে সরকারের রেভিনিউ আসবে এবং একই সঙ্গে একটি উৎপাদন শিল্প হবে। এক দিকে সরকার বিপুল ঋণ সংগ্রহ করে চলেছে। অন্য দিকে কিছু পুঁজিপতি যাদের আমরা ক্রোণি ক্যাপিটালিস্ট বলে থাকি তাদের সম্পত্তির পরিমান উত্তরোত্তর বেড়ে চলেছে। এই ক্রোণিরা কি দেশের খারাপ সময়কালে তাদের সম্পত্তি দেশের মানুষের স্বার্থে দান করবে? বা ঐ সব কোম্পানিতে কাজ করে একজন সাধারন কর্মী, একজন সাধারন সরকারি কর্মীর চেয়ে বেশি আয় করবে? আমরা জানি একজন ব্যক্তি যা আয় করে তার একটা অংশ ভোগ করে, একটা অংশ সঞ্চয় করে। এই সঞ্চয়কে বিভিন্ন ভাবে বিনিয়োগ করা হয়। যেমন কেউ অর্থ সঞ্চয় করে ব্যাঙ্কে রাখলে। ব্যাঙ্ক সেই অর্থকে বিনিয়োগ করে তার উপর সুদ দেয় এবং ব্যাঙ্কের নিজের খরচা চালায়। একটি অর্থবর্ষে দেশে কত উৎপাদন হল। সেটা বোঝা যায় সেই দেশের জিডিপির মাধ্যমে। আগের বছরের চেয়ে পরের বছরে কত জিডিপি বা উৎপাদন বৃদ্ধি পেল? সেটা বোঝা যায় জিডিপি বৃদ্ধি বা গ্রোথের মাধ্যমে। এবার কথা হল এই উৎপাদন কোন কাজে লাগে বা উৎপাদন দিয়ে কি হয়? ...... এই উৎপাদন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে মানুষের ভোগের কাজে লাগে। কোনো পণ্য উৎপাদিত হলে বিভিন্ন ভাবে মানুষ সেই পণ্যকে ভোগ করে। অন্যদিকে সেই পণ্যকে বিভিন্ন ভাবে ভোগ করার জন্য প্রয়োজন অর্থের বা টাকার। সেই অর্থ বিভিন্ন ভাবে একজন ব্যক্তি আয় করে। একজন ব্যক্তি অর্থের মাধ্যমে যে কোনো পণ্য ভোগ করতে পারে, কারন সেই ব্যক্তি ঐ পণ্যের উৎপাদক, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে। অতএব এর থেকে আমরা সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে প্রত্যেক ব্যক্তিই(যারা অর্থ উপার্জন করে) উৎপাদক। আর যেহেতু উৎপাদক, তাই প্রত্যেকেই ভোক্তা। সুতরাং অর্থ বা টাকার মূল্য উৎপাদিত পণ্য মূল্যের সমান হবে।

    এক্ষেত্রে অর্থের মূল্য কী? এক্ষেত্রে অর্থের মূল্য হল, একটি অর্থবর্ষে যত মূল্যের উৎপাদন হয়েছে। সেই উৎপাদনের সঙ্গে টাকার মূল্য সমান হবে। কারন টাকা খরচ করেই সেই পণ্য ক্রয় করতে হয়। যে টাকা ব্যক্তিকে কোনো না কোনো ভাবে আয় করতে হবে ঐ পণ্য কেনার জন্য। এবার কথা হল, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো দ্রব্যের জন্য অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে। অর্থাৎ ঐ দ্রব্যের যা দাম হওয়া উচিৎ ঐ ব্যবসায়ী তার থেকে যদি বেশি দাম আদায় করে থাকে। তাহলে দুটি অবস্থা তৈরি হতে পারে। একটি হল ঐ ব্যক্তি অন্য দ্রব্য ক্রয় করা কমিয়ে দেবে। বা তার আগের সঞ্চয় থেকে ঐ দ্রব্যের জন্য অতিরিক্ত অর্থ খরচ করবে। সুতরাং এক্ষেত্রে হয় তার আয় কমছে নতুবা সঞ্চয় কমছে। আয় কমছে কারন ঐ উৎপাদিত পণ্যের জন্য ঐ ক্রেতার আয় নির্দিষ্ট বা সীমিত ছিল। আনলিমিটেড ছিল না। কারন উৎপাদনও লিমিটেড। যেহেতু প্রত্যেক ভোক্তাই উৎপাদক, তাই কোনো ব্যক্তির আয় অসীমিত হতে পারে না। কারন উৎপাদনও অসীমিত হতে পারে না। আর উৎপাদন অসীমিত হতে পারে না, কারন ব্যক্তি ও পরিবেশের উৎপাদন করার ক্ষমতা সীমিত। এবং ব্যক্তির ভোগ করার ক্ষমতাও সীমিত।..... অতএব এক্ষেত্রে যদি কোনো ব্যক্তির আয় কমে। আর উৎপাদিত পণ্য মূল্য একই থাকে (আয় কমার আগে যা ছিল)। তার অর্থ হল ঐ ব্যক্তির লোকসান। এবং যে ব্যক্তির কারনে ঐ ব্যক্তির লোকসান হল (এক্ষেত্রে ঐ ব্যবসায়ী) তার লাভ। কিন্তু উৎপাদন যদি বাড়ে, তাহলে উৎপাদিত পণ্য মূল্যকে অর্থের মূল্যের সঙ্গে সমান রাখার জন্য টাকার পরিমানও বাড়াতে হয়। সেই কারনে টাকা ছাপতে হয়। সেই অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ব্যক্তি ঐ উৎপাদিত পণ্য ক্রয় করে। কিন্তু যদি উৎপাদন বৃদ্ধি না পায়। তবুও টাকার পরিমান বৃদ্ধি পায়। তাহলে বিনিয়োগ না বাড়লে। ঐ ভোগ্য পণ্যের দাম বাড়বে। এবং একটা সময় পর্যন্ত বিনিয়োগ না হলে সঞ্চয় মূল্যও কমতে থাকে।

    জিডিপি = ভোগ+বিনিয়োগ+সরকারি খরচ+(এক্সপোর্ট - ইমপোর্ট)। জিডিপি বৃদ্ধি না হওয়ার কারন হল ভোগ, বিনিয়োগ ও সরকারি খরচ কমে যাওয়া। আর এখানেই আসে সরকারি আয়ের জন্য সরকারি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির গুরুত্ব। সরকারি ব্যবসা বাড়ার ফলে দেশে বিনিয়োগের পরিমান বাড়ে। যে বিনিয়োগ থেকে আয় করে বিভিন্ন খাতে সরকার ব্যয় করতে পারে। এবং এর প্রভাবে একই সাথে ভোগ বাড়ে। ফলে মোট জিডিপি বৃদ্ধি পায়। কিন্তু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে অধিক পরিমানে ব্যবসা তুলে দিলে, তারা অধিক মুনাফা করার জন্য অধিক দামে পণ্য বিক্রি করে অধিক মুনাফা করে। আর তার কারনে দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি হয়। কারন নাগরিকের ভোগ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো বিষয় নয়। যেমন ভোগ বাড়ানোর জন্য সরকার বিভিন্ন অনুদান বা ভাতা দিয়ে থাকে। কিন্তু কোনো বেসরকারি কোম্পানি এই ধরনের কোনো ভাতা দেয় না। কারন এটা বেসরকারি কোম্পানির কোনো বিষয় নয়। এটা সরকারের বিষয়। সেজন্য উৎপাদন ক্ষমতা সরকারের হাতে কিছুটা থাকলে। সরকার সাধারন ব্যক্তির ভোগকেও কিছুটা নিয়ন্ত্রন করতে পারে। এবং সরকারি ব্যয়কেও নিয়ন্ত্রন করতে পারে। যা সরকার এবং গণতান্ত্রিক দেশের সাধারন নাগরিকের জন্য অধিক লাভজনক। কারন উৎপাদন, ভোগ, বিনিয়োগ, সরকারি খরচ, টাকা প্রিন্ট করার দায়িত্ব যদি সরকার নামক একটি প্রতিষ্ঠানের হাতেই থাকে, তাহলে লোকসান ও মুদ্রাস্ফীতির সমস্যাকেও অনেক কমিয়ে আনা যায়।

    এবার যদি এই পুরো জিডিপিটাই বৃদ্ধি না পায়। কিন্তু অতিরিক্ত টাকার পরিমান বৃদ্ধি পায়। তাহলে উৎপাদিত ভোগ্য পণ্যের জন্য অতিরিক্ত টাকা খরচ হবে। এই অতিরিক্ত যে টাকাটা খরচ হল। এটাকে বলে মূল্য বৃদ্ধি। এই টাকা ছাপানো একটা জটিল প্রক্রিয়া। দেশে কত উৎপাদন হচ্ছে ও তার জন্য কত টাকা ছাপতে হবে। এটা একদম নিখুত ভাবে করা সম্ভব হয় না বলে। সরকার মোটামুটি 5% টাকা বেশি ছাপে। এই 5% যে অতিরিক্ত টাকা ছাপা হল। এটাকে বলা হয় ইনফ্লেশন। অর্থাৎ দেশে আয় বা উৎপাদন হল না। কিন্তু টাকা ছাপা হল। এবার এই অতিরিক্ত 5% টাকা দ্রব্যের দাম 5% বাড়াবে। একটি দেশে 5% ইনফ্লেশনকে মোটামুটি স্বাস্থ্যকর ইনফ্লেশন ধরা হয়। ইনফ্লেশন 5% এর যত উপরে উঠবে তত অস্বাস্থ্যকর হতে থাকবে। আদর্শ ইনফ্লেশন প্রতি বছর কিন্তু বাড়তে থাকবে না। 5% ইনফ্লেশনের অর্থ হল। পরবর্তী কালের জন্য দেশকে টার্গেট দেওয়া হল ঐ 5% ইনফ্লেশনকে জিডিপি তে পরিনত করার জন্য। যদি সরকার দেখে দেশ ঐ 5% ইনফ্লেশনকে জিডিপি তে কনভার্ট করতে পারছে না। তাহলে সরকার ইনফ্লেশন আর বাড়াবে না। অর্থাৎ 5% এর বেশি ইনফ্লেশন কখোনই হবে না। অর্থনীতিবিদ অরুন কুমার দেখিয়েছেন। বর্তমান ভারতের মোট জিডিপির(জিডিপি গ্রোথ নয়) প্রায় 40% ইনফ্লেটেড। যদিও এক্ষেত্রে উনি খুব সোজা হিসাব করেছেন। জটিল হিসেবের মধ্যে যাননি। জটিল হিসেব করলে ইনফ্লেশন ভ্যালু আরও বেশি। আর এই অতিরিক্ত ভ্যালুই সাধারন মানুষের সঞ্চয় কমাচ্ছে। এবং কতিপয় ক্রোনির পকেট ভরছে। অনেকের মতে মনমোহন সিং এর আমলে ভারতের জিডিপি আন্ডার ভ্যালু ছিল। এবং মোদি সরকারের আমলে ওভার ভ্যালু। তাহলে এই সরকারের আমলে অর্থব্যবস্থার কতটা সর্বনাশ হলে, আন্ডার ভ্যালু এস্টিমেশনকে রিকভার করে প্রায় 40% ওভার ভ্যালু হতে পারে। আসলে সংখ্যাটা 50%। এটা দুর্নীতি ছাড়া আর কী?

    এখন প্রশ্ন হল এই অতিরিক্ত টাকাটা কোথায় গেল? মুক্ত বাজার অর্থব্যবস্থায় যে প্রতিষ্ঠান একক ভাবে বাজারকে যত বেশি নিয়ন্ত্রন করতে পারবে। তারা তত বেশি এই অতিরিক্ত টাকা বা ইনফ্লেটেড অর্থের লভ্যাংশ পাবে। অর্থাৎ যে সব কোম্পানিরা বিভিন্ন সরকারি সহায়তা পাবে। এক টাকায় জমি পাবে। সরকারি সাবসিডি পাবে। বৈদেশিক বাণিজ্যের সঙ্গে বিপুল ভাবে জড়িত। তারাই এর লাভ তুলতে পারবে। বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার দরুন তাদের উৎপাদন মূল্য কমবে। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতির জন্য পণ্যের বাজার মূল্য বাড়র ফলে এই অতিরিক্ত টাকা তাদের পকেটে যাবে। অন্যদিকে বিদেশ থেকে কাঁচা মাল আমদানির ক্ষেত্রে, মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পেলে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে আমদানি করতে হয় ঠিকই। কিন্তু সেই দ্রব্যটা আরো বেশি টাকায় দেশীয় বাজারে বিক্রি করে অতিরিক্ত লাভ করা যায়। যেমন ধরে নিলাম কোনো দ্রব্যের দাম ভারতে 400 টাকা। আমেরিকায় 2 ডলার। তাহলে এখন টাকার হিসাবে তার ভারতীয় মূল্য হবে 190 টাকা। অতএব 400 - 190 = 210 টাকা লাভ। এবার মুদ্রাস্ফীতির কারনে যদি দেশীয় বাজারে ঐ দ্রব্যের দাম হয় 500 টাকা। আর ডলারের দাম বেড়ে হয় 115 টাকা। তাহলে ঐ ব্যবসায়ীর লাভ হবে 500 - 230= 270 টাকা। অতএব 270 - 210 = 60 টাকা অতিরিক্ত লাভ। ঠিক এই ভাবেই ডিসকাউন্টে রাশিয়ান তেল আমদানি করেও ভারতবাসী জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সুবিধা পায়নি। মাঝখান থেকে বড় পুঁজিপতিরা কামিয়েছে। আর এক্সপোর্টের ক্ষেত্রে কোনো উৎপাদিত দ্রব্যের দাম ভারতে 300 টাকা হলে বাণিজ্যিক দাম হবে 5 ডলার। অতএব 475 - 300= 175 টাকা লাভ। ডলারের দাম 95 থেকে বেড়ে 100 হলে, 500 - 300= 200; 200 - 175 = 25 টাকা অতিরিক্ত লাভ। সেই তুলনায় বেসরকারি ক্ষেত্রের সাধারন কর্মচারীদের বেতন কত বেড়েছে? অর্থাৎ সাধারন জনগণকে শোষনের মাধ্যমে দুই দিক থেকেই লাভ। এবার কথা হল এই অতিরিক্ত লাভ দিয়ে এই বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা পুঁজিপতিরা কী করে? এই অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগ করে যদি ভোগ্য পণ্য উৎপাদন করা হয়। তাহলে ঐ ভোগ্য পণ্য ক্রয় করার জন্য তো ভোক্তারও আয় বাড়াতে হবে। যদি ভোক্তার আয় বাড়ে, তাহলে ইনফ্লেশন কমবে। অর্থাৎ উৎপাদন বাড়বে। তাহলে কোনো অসুবিধাই নেই। কিন্তু যদি ভোক্তার আয় না বৃদ্ধি পায়। তাহলে পুঁজিপতি ঐ অতিরিক্ত অর্থ তো বিনিয়োগ করবে না। কারন সে জানে ঐ অর্থ বিনিয়োগ করে উৎপাদন করলে অর্থের অভাবের কারনে ভোক্তা ঐ দ্রব্য ক্রয় করবে না। সুতরাং এক্ষেত্রে পুঁজিপতির উপায় হল ঐ উদবৃত্তকে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের খাতে বিনিয়োগ করা। যেমন বিদ্যুৎ, কৃষি পণ্য, খাদ্য দ্রব্য, রেল, বিমান, বন্দর, পরিবহন, বর্তমানে সরকারি তথ্য, বিভিন্ন সরকারি কোম্পানি- অস্ত্র নির্মান, ইত্যাদি। এবং এমন কোনো দ্রব্যে বিনিয়োগ করা। যেখানে মূদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সঙ্গে সঞ্চয়ের মূল্য কমে না যায়। যেমন রিয়েল অ্যাসেট বা রিয়েল এস্টেট। জমি জমা সম্পত্তি, প্রাকৃতিক সম্পদ, ইত্যাদি। এই ভাবে ক্রোণি ক্যাপিটালিজম আস্তে আস্তে সমন্ত তন্ত্রের রূপ ধারন করে। আর সামন্ত তান্ত্রিক সমাজ গঠন হলে। হকার ঝালমুড়ি, মোমো বিক্রেতাকে সরিয়ে বড় বড় পুঁজিপতিরা ঝালমুড়ি, মোমো, দই শিল্পে বড় বড় বিনিয়োগ করে থাকে। এটাই সামন্ত তন্ত্রের চরিত্র।

    সরকারি সম্পত্তি বনাম বেসরকারি সম্পত্তি: যেহেতু গণতান্ত্রিক দেশে সরকারি সম্পত্তি জনগণের সম্পত্তি। তাই সেই সব সরকারি কোম্পানির উপর পরোক্ষ ভাবে হলেও জনগণের অধিকার আছে। আর অধিকার আছে বলেই সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ন্যায্য বেতন ও গণতান্ত্রিক অধিকার আছে। এই গণতান্ত্রিক অধিকার সরকারি চাকরি থেকে যদি অবলুপ্ত হয়ে যায়। তাহলে সেই সরকারি চাকরিও বেসরকারি চাকরির সমান হয়ে যাবে। এছাড়া সরকারের হাতে সম্পত্তি থাকলে সাধারন জনগণের অর্থও সুরক্ষিত থাকবে। যেমন একজন সাধারন জনতা টাকা জমা করে থাকে সরকারি ব্যাঙ্কে। সরকারি ব্যাঙ্ক কোনো সময়ে কোনো লস বা বিপদের শিকার হলে। সরকার তার হাতে থাকা সম্পত্তির মাধ্যমে জনগণের সঞ্চয়কে রক্ষা করতে পারে। ফলে মূদ্রাস্ফীতির আশঙ্কাও কমে যায়। এটাকে সহজ ভাবে বোঝার জন্য একটি কাল্পনিক অবস্থা কল্পনা করে নিচ্ছি। ধরে নিলাম যে, সরকারের হাতে কোনো সম্পত্তি নেই। এবং ধরে নিলাম সেই অবস্থায় সরকারি ব্যাঙ্কের লস হল। যেমন সেটা লোন মাফ করা থেকে শুরু করে ব্যাঙ্কের টাকা নিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া হতে পারে। বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পর, সেই ব্যক্তির সম্পত্তি বিক্রি করে সেই ক্ষতি পূরণ করা যদি সম্ভব না হয়। তাহলে ঐ পরিমান অর্থ ব্যাঙ্কের ক্ষতি হল। এবং যেটা ক্ষতি হল সেটা তো জনগণেরই সঞ্চিত অর্থ। অতএব ধরে নিলাম এক্ষেত্রে সরকারের পরমর্শ ক্রমে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক টাকা ছাপলো, যাতে জনসাধারনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের উপর এই ক্ষতির প্রভাব না পড়ে। তাহলে এই কাল্পনিক অবস্থা, যেটা আমরা বোঝার সুবিধার জন্য ধরে নিয়েছি। সেই অবস্থায় জনগণের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট তো ঠিক থাকবে। কারন টাকা ছাপানো হয়েছে। কিন্তু সেই টাকা ছাপানোর বিপরীতে কোনো উৎপাদন না হওয়ার জন্য সেই অতিরিক্ত অর্থ মূদ্রাস্ফীতির কারন হয়ে উঠবে। এই স্থানে যদি সরকারের হাতে সম্পত্তি বা কোনো উৎপাদন শিল্প থাকে। তাহলে সেই শিল্পের মাধ্যমে এই ধরনের ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব হয়।

    অতএব দেশের অর্থব্যবস্থাকে আরো বেশি শক্তিশালী করতে হলে যেসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিৎ, সেগুলি হল, সকল প্রাকৃতিক সম্পদ ও সেগুলির ব্যবহার বা উত্তোলন সরকারের হাতে রাখতে হবে। এবং নতুন কিছু সরকারি শিল্প তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে সেই ধরনের শিল্প। যে শিল্পের ক্ষেত্রে সধারন মানুষের উৎপাদন সম্পর্ক সরাসরি জড়িত। তার মধ্যে একটি হল কৃষি ভিত্তিক শিল্প। কিছু ঔষধি শিল্প। যেমন বেঙ্গল কেমিক্যালস। বিদ্যুৎ শিল্প। এবং সর্বপরি গবেষণা শিল্প। এই গবেষণা শিল্পটি আমার মস্তিষ্ক প্রসূত(অর্থাৎ গবেষণা শিল্পের একটা মডেল)। আমি এই বিষয়টা নিয়ে কাজ করছি। এবং চাই আরো অনেক মানুষ এই বিষয় নিয়ে কাজ করুক। কিন্তু পুঁজিবাদী সমাজ এই বিষয়টির বিপক্ষে। সেজন্যই পুঁজিবাদী সমাজ একদিকে প্রযুক্তির কথা বলে অন্যদিকে কুসংস্কারকেও প্রোমোট করে। কিন্তু বিজ্ঞানের কথা খুব একটা বলে না। যেখানে প্রযুক্তির অর্থ পণ্য। যা বিক্রি করে মুনাফা আসে। কুসংস্কারের অর্থ একটা অলীক ধারনা। যার মাধ্যমে অনেক পণ্য বিক্রি করা যায়। যেমন বাঙালির পুজোর বাজার, বৃহৎ আকারের বিবাহ অনুষ্ঠান, ইত্যাদি। কিন্তু বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে রয়েছে বিশুদ্ধ জ্ঞান। কোনো মুনাফার হিসাব বিজ্ঞানে নেই। অর্থাৎ জনগণের স্বার্থে কিছু ব্যবসা সরকারকেও করতে হবে। যাতে সরকার মুনাফাকে জনগণের কাজে লাগাতে পারে। বা জন সাধারনের মুনাফা জন সাধারনকে ফিরিয়ে দিতে পারে। এখানে সরকার একটা মধ্যস্থতাকারির ভূমিকা পালন করবে। উৎপাদন করবে জন সাধারন এবং ভোগও করবে জন সাধারন। এবং জন সাধারন উৎপাদক হলে, বিভিন্ন উৎপাদকের মধ্যে প্রতিযোগিতাও থাকবে। কে কত ভালো পণ্য উৎপাদন করতে পারে। সেক্ষেত্রে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রতিযোগিতারও ঘাটতি হবে না। বরং তখন প্রতিযোগিতাটা হবে ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে। কারন পণ্য উৎপাদনের দক্ষতা তো তাদেরই আছে। এভাবে কারিগরি শিল্পেরও অধিক উন্নতি হবে। এবং ইঞ্জিনিয়ারদেরও চাহিদা বাড়বে। অর্থব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নতি হবে।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে মতামত দিন