এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • বৈঠকি আড্ডায় ৫ 

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১৫ মার্চ ২০২৪ | ৩৮৮ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)
  • ভাষা ও উপভাষা -দ্বিতীয় পর্ব

    প্রাশিয়ান রাজা ফ্রিডরিখ ও বারন ফন ভাঙ্গেনহাইম

    ফ্রয়লাইন বোয়েটলে চোখ  বড়ো বড়ো করে বললে , জানেন হের সিংহারায় , আমার নতুন বস ( শেফ) এক রাজ পরিবারের মানুষ!

    আমি বললাম , সে তো দারুণ ব্যাপার ! আপনার পদোন্নতি হয়ে গেল ! রাজপুরুষের সঙ্গে কাজ করবেন -  ক’ জনের ভাগ্যে জোটে ?
     
    • ঠাট্টা করবেন না । তাঁকে কি বলে সম্বোধন করব সেটাই আমার সমস্যা !
    • কেন তাঁর যা পদবি তার সঙ্গে হের জুড়ে দেবেন ।
    • সেটা একটু জটিল – কারণ তাঁর পুরো নাম হের ইওয়াকিম ফ্রাইহের ফন ভাঙ্গেনহাইম কাজেই তাঁকে হের ফন ভাঙ্গেনহাইম নয়, দিনের মধ্যে একশবার আমাকে বলতে হবে হের ফ্রাইহের ফন ভাঙ্গেনহাইম!

    বিদেশি ব্যাঙ্কের শাখা খোলার অনুমোদন দিতেন বার্লিনের জার্মান ব্যাংকিং পর্যবেক্ষণ দপ্তর । তাঁদের শর্ত ছিল ভারতীয় ম্যানেজারের সঙ্গে একজন জার্মান নাগরিককেও যুগ্ম শাখা সঞ্চালক হিসেবে নিযুক্ত করতে হবে -শুধু তাই নয় , সেই মানুষটির  যোগ্যতা ,  কতটা ব্যাংকিং বোঝেন তার পরীক্ষা নেওয়া হতো বার্লিনের সেই অফিসে । স্টেট ব্যাঙ্ক ফ্রাঙ্কফুর্টে  আমার দেখা প্রথম জার্মান ম্যানেজার ছিলেন হ্যারমান এরেনবেরগার । সাদা সিধে মানুষ, পদ মর্যাদায় দশ ধাপ উঁচুতে হলেও একেবারে বন্ধুর মতন আচরণ করতেন , তাঁর বাড়িতে নিয়ে গেছেন।  তাঁরই  সঙ্গে প্রথম সরকারি সফরে হামবুর্গ যাই। তিনি অন্য কাজ নিয়ে ব্রেমেন চলে গেলে স্টেট ব্যাঙ্ক যাকে সেই পদে নিযুক্ত করে তাঁর নাম হের ইওয়াকিম ফ্রাইহের ফন ভাঙ্গেনহাইম, আমার দেখা প্রথম কোন জার্মান রাজবংশের মানুষ।

    ১৯১৯ সালে জার্মানির প্রথম গণতান্ত্রিক সংবিধান নতুন করে আর রাজ পদবি দেওয়া বণ্টন বেআইনি ঘোষণা করল।  , রাজা নেই আর সে পদবি দেবেই বা কে ?  রাজন্যবর্গ হারালেন তাঁদের বিশেষ সুবিধা (প্রিভিলেজ ) – খানিকটা ১৯৬৯ সালে আমাদের দেশে  প্রিভি পার্স খারিজ করার মতো । তবে তাঁদের আপন জমিদারি ও টাইটেল রাখার অনুমতি দেওয়া হলো । উচ্চ বংশের জার্মান রাজ পুরুষদের চেনা যায় নামের আগে ফন বা তসু কখনো বা ফন উনড তসু দিয়ে। একটু কাগজপত্র ঘেঁটে জানলাম ফ্রাইহেরের অবস্থান  হলো রিটার ( নাইট ) এবং গ্রাফের ( কাউনট) মাঝামাঝি।।

    ফ্রয়লাইন বোয়েটলের প্রাথমিক শঙ্কার নিরসন হলো পয়লা দিনেই- আমাদের সঙ্গে পাঁচ মিনিটের ছোট্ট মিটিঙে হের ইওয়াকিম ফ্রাইহের ফন ভাঙ্গেনহাইম দেখা দিলেন - দীর্ঘদেহী ক্ষীণকায় এবং হাস্যময় ! আমাদের অবগতির জন্য জানালেন তিনি কেবলমাত্র ফন ভাঙ্গেনহাইম নামে পরিচিত হতে চান । প্রায় প্রথম দিন থেকে তিনি আমাকে পুত্রবৎ স্নেহ করতেন , ভিজবাদেনে তাঁর বাড়ি গেছি । এমনকি আমাদের দীন  ভবনেও তিনি পদার্পণ করেছেন । তাঁর কন্যা ডক্টর কারোলিনে  ফ্রাইহেরিন ফন ভাঙ্গেনহাইমের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ আছে। সে গল্প পরে হবে।  

     
    আলেকজানদার,কারোলিনে , স্টেফান ফন ভাঙ্গেনহাইম
     
    এই গৌরচন্দ্রিকাটির প্রয়োজন পড়ল ভাষা উপভাষা প্রসঙ্গে।  

    একদিন কিছু একটা সই করাতে তাঁর বিশাল অফিসে ঢুকেছি যেখানে কার্পেটে পা ডুবে যায় ! কাজ  চুকলে তিনি বললেন, একটু বসে কফি খেয়ে যান ।ঠিক কি করে কথাটা উঠলো  আজ মনে নেই ; ফন ভাঙ্গেনহাইম বললেন আপনাকে একটা গল্প শোনাই তার শেষে কিন্তু একটা প্রশ্ন থাকবে ! ( কোনদিন তুমি বলেন নি )।  

    বার্লিনের দুশ  মাইল দক্ষিণে গথা এরফুরটের কাছে তাঁদের যে অঞ্চলে রাজত্ব বা জমিদারি ছিল তার নাম ভাঙ্গেনহাইম (  সে কালে পূর্ব জার্মানির কমিউনিস্ট সরকার বাজেয়াপ্ত করেছে, জার্মানি এক হলে কাগজপত্র দেখিয়ে অনেকটা উদ্ধার করেন  ) । একবার প্রাশিয়ান রাজা ফ্রিডরিখ তাঁর সৈন্যদল নিয়ে ইতালি অভিযানে বেরিয়েছেন , সেই পথে তাঁদের ভাঙ্গেনহাইম অতিক্রম করতে হবে । প্রাশিয়ান রাজা মহা শক্তিশালী,  তিনি অনায়াসে ভাঙ্গেনহাইমের ওপরে ঘোড়  সওয়ার ছুটিয়ে দিতে পারেন, এমনকি এই ক্ষুদ্র রাজ্যটি  দখল করে নিতে পারেন ! কিন্তু সেটি না করে  রাজা ফ্রিডরিখ এসে স্বয়ং সাক্ষাৎ করলেন আমাদের ফন ভাঙ্গেনহাইমের প্রপিতামহের সঙ্গে; সৌজন্য সহকারে  বললেন, “ হের ফ্রাইহের ফন ভাঙ্গেনহাইম , আপনি যদি অনুমতি করেন, আমার সৈন্য বাহিনী নিয়ে আমি কি আপনার  সীমা অতিক্রম করতে  পারি ? “

     এ হেন বিনয়ের অবতার যে রাজা তাঁকে ফন ভাঙ্গেনহাইম আর কি বলবেন ?

     “ আপনার ইচ্ছাই আমার আদেশ । হে  রাজন , অবশ্যই যাবেন “ 

    হয়তো তার সঙ্গে রাজার সৈন্য বাহিনীকে এবং ঘোড়াগুলির দানাপানি ও দু   দণ্ড জিরিয়ে নেবার প্রস্তাব দিলেন ।

    এই অবধি শুনে বললাম , প্রাশিয়ান রাজা মহানুভব তিনি অনায়াসেই ঘোড়া ছোটাতে পারতেন কিন্তু তা না করে থেমে আপনার প্রপিতামহের  অনুমতি নিলেন ।

    ফন ভাঙ্গেনহাইম বললেন, রাজা ফ্রিডরিখের সৌজন্য না হয় বুঝলেন ,  কিন্তু এবার আমার প্রশ্নটা করি – বলুন তো কোন ভাষায় রাজা ফ্রিডরিখ আমার প্রপিতামহের  অনুমতি চেয়েছিলেন ?

    বললাম , কেন, জার্মানে ?

    ফন ভাঙ্গেনহাইম উচ্চ হাস্য করলেন “ ফরাসি ভাষায় “

    সে কি ?

    ফন ভাঙ্গেমহাইম বললেন, জার্মান ? সে তো চাষা ভুষোরা ( বাউয়ারনস্প্রাখে ) বলে ! দুই রাজা ,একজন খুব বড়ো অন্যজন ছোটো, কিন্তু রাজা তো ? তাঁরা চাষার ভাষায় নয়, ভদ্র সমাজে ( সালনফেহিগ ) ফরাসি ভাষায় বাক্যালাপ করতেন ।



    ইংল্যান্ড ও আমেরিকা এই দুটি দেশ একই ভাষা দ্বারা বিভক্ত  - জর্জ বারনারড শ

    ব্রিটেন ও আমেরিকার পরিপ্রেক্ষিতে বারনারড শ’র এই মন্তব্যটিকে আক্ষরিক অর্থে মেনে নেওয়া শক্ত। ষোড়শ শতাব্দীতে আমেরিকার পূর্ব উপকূলে নোঙর বাঁধা প্রথম জাহাজের ( মে ফ্লাওয়ার,১৫২০)  যাত্রীরা এক ধরণের ইংরেজি বলেছেন। ক্যাপ্টেনের হয়তো কিঞ্চিৎ বিদ্যে ছিল কিন্তু বাকিরা  ইটন কেমব্রিজে  যান নি । ক্রমশ নিজের মুখের  বুলি নিয়ে ডাচ পোলিশ জার্মান ইতালিয়ান হাজির হলেন । নিউ ইয়র্কের লিটল ইতালির বাইরে ইতালিয়ান চলে না ; পথে ঘাটে সারা ইউরোপ উপস্থিত,  কেউ কারো ভাষা জানে না। কাজ চালাতে ইংরেজিকে আশ্রয় করে মুখে মুখে যে ভাষা উৎপন্ন হলো তার ব্যাকরণ কলাম্বিয়া ইউনিভারসিটির পণ্ডিতরা খাগের কলমে লেখেন নি;  সে ভাষা জন্মেছে,  বেড়েছে আপন খেয়ালে।  কলকাতার রাস্তায় দাঁড়িয়ে বাঙালি বিক্রেতা একদিন সায়েব খদ্দেরকে বলেছেন , সার টেক টেক,  নো টেক নো টেক, একবার তো সি । তেমনি আমেরিকান ইংরেজি নির্দ্বিধায় আত্মসাৎ করেছে ডাচ, স্প্যানিশ, ইতালিয়ান শব্দাবলী – কন্সাইজ অক্সফোর্ড ডিকশনারির  তোয়াক্কা না করেই।  তাই হ্যারোর বাচন সিয়াটল শিকাগোতে বেয়াড়া ঠেকে ।

    বরং মনে হয় জার্মানি,  সুইজারল্যান্ড , অস্ট্রিয়া, লিখটেনস্টাইন, লুকসেমবুরগ - এই দেশগুলি একই ভাষা দ্বারা বিভক্ত! এদের সকলের  মূল ইন্দো ইউরোপিয়ান ভাষা গোষ্ঠীর প্রাচীনতম শাখা জার্মান , যা সুযোগ সুবিধে মতন ল্যাটিন গ্রিক শব্দ ধার করেছে,  কেউ বেশি কেউ কম । মূল ব্যাকরণ এক মনে হলেও সুইসদের  শব্দ চয়ন,  শব্দবন্ধ আলাদা , উচ্চারণে যথেষ্ট বৈষম্য আছে ।  চিনি চিনি করি চিনিতে না পারি !  মানে লিখিত সুইস অনেকটাই বোঝা যায় কথিত সুইস একেবারে অন্য জগতের খেলা।এই নিয়ে হাসি ঠাট্টার অন্ত নেই  । দুবাই বিজনেস লাউঞ্জে সেদিন এক মহিলার  ফোনালাপ শুনছিলাম অনেকক্ষণ ধরে।  তিনি থামলে জিজ্ঞেস করলাম, ‘  কিছু মনে করবেন না , সুইস জার্মান বলেছিলেন, তাই না ?’  হেসে ফেললেন।  আমার  বোধগম্য জার্মানে বললেন, কতটা বুঝলেন ? বললাম, এই যখনই মনে হচ্ছিল মোটামুটি বিষয়টার খেই ধরতে পারছি, তখুনি গভীরে তলিয়ে গেলাম ! 

    সুইস টেলিভিশনে বিশ্ব সংবাদ পাঠ করা হয়  উঁচু সুইস জার্মানে যেটা  নদে শান্তিপুরি তুল্য  হানোভারি জার্মানের পড়শি, কিন্তু শব্দ চয়নে গঠনে ক্রিয়াপদের ব্যবহারে অনেকটা দূরে সরে যায় । সংবাদ পরিক্রমা শেষ হলেই তাঁরা গৃহে পথে ঘাটে অফিসে তাঁদের ঢঙে বাক্যালাপ করেন,  তাঁদের মুখে হাউস হয়ে যায় হুস , ডানকে ( ধন্যবাদ) নেয় ফরাসি রূপ- মেরসি কিন্তু অজস্র ধন্যবাদ বলতে তাঁরা দুটোকে মিশিয়ে দেন । ফরাসি মেরসির সঙ্গে জুড়ে দেন জার্মান, সেটা হয় মেরসি  ফিলমাল। দুটি স্বরবর্ণ পাশাপাশি থাকলে তাঁরা উচ্চারণ করেন একটির :  যেমন জার্মান  বাইস্পিল ( Beispiel , উদাহরণ) হয়ে যায় সুইস বিস্পিল । গাড়ি পার্ক করাকে আমরা বলি পারকেন , সুইসরা  বলেন পারকিইয়েরেন । সুইস জার্মান কি তাহলে একটি স্বতন্ত্র ভাষা? এটি  আমার চেনা  জার্মানের নিকট আত্মীয়, তাই সুইস ইচ্ছে করলে সে ভাষায়  বাক্যালাপ করতে পারে।  কিন্তু আমাদের পক্ষে তাঁদের লবজ বোঝা এবং বলা অসম্ভবের কাছাকাছি । জুরিখের অনতিদূরে গ্লারুসে ( ক্যানটন গ্লারুস)  এক কোম্পানি সি এফ ও আমাকে ইংরেজিতে আলোচনা চালাতে অনুরোধ করেছিলেন ( সে গল্প আমার প্রকাশিতব্য ‘এই ইউরোপে এখন’  বইতে বিস্তারিত লিখেছি )।

    ভিয়েনা ক্লাগেনফুরট সালতসবুরগে সে বালাই নেই । অস্ট্রিয়ান অ্যাকসেন্ট আলাদা, কিন্তু সে বেশ  মন্দ মধুর ।  আমার প্রথম জার্মান বস এরেনবেরগার  বলতেন ‘ জিঙ্গেনড ‘ (  ইংরেজিতে হয়তো লিলটিং ) তাদেরও নিজস্ব শব্দ আছে বহু – একেবারে আলাদা ।  ভিয়েনার মারিয়া হিলফে স্ত্রাসেতে একটা ছোট্ট  বই কিনেছিলাম, ওয়েসটাররাইখিশ ফুয়ের  আনফেঙ্গার ( অস্ট্রিয়ান ভাষা পরিচয় ) ; সবচেয়ে বড়ো ধাক্কা পেলাম জেনে যে পাব বা জার্মান Kneipe হেথা অন্য নামে পরিচিত , সেটি হয়ে যায় বাইসল !  বই  পড়ে আমার ভোকাবুলারি নির্ঘাত বেড়েছে কিন্তু লিন্তস,  গ্রাতস,  ভিয়েনায় বাণিজ্যিক সফরে এবং সব শেষের  দু বছর  ক্লাগেনফুরটে একটি ব্যাঙ্কের বোর্ড ডিরেক্টরের   কাজ করার সময় দেখেছি অস্ট্রিয়ান শব্দগুচ্ছ না চিনলেও কাজ চালানোয়  অসুবিধে হয় না । সহকর্মীদের হয়েছে কিনা তার খবর অবশ্য রাখি নি !

    জার্মানির পশ্চিম প্রান্তে কথিত মোজেল/ফ্রাঙ্কনিয়ান ডায়ালেকট থেকে এসেছে আজকের লুকসেমবুরগের ভাষা, লেতসতেবেরগিশ । শব্দ চয়ন ও বিন্যাস স্বতন্ত্র , তার ৭০% শব্দের মূল জার্মান , সঙ্গে  অঢেল ফরাসি, ইংরেজি ফ্লেমিশ ।  মাত্র সাড়ে ছ লক্ষ লোকের দেশ লুকসেমবুরগ , যার অর্ধেক বিদেশি । কুল্লে হয়তো লাখ দেড়েক মানুষ বাড়িতে লেতসতেবেরগিশ  ব্যবহার করেন।  ফরাসি ও ইংরেজি সহ তিনটে অফিশিয়াল ভাষা , তার সঙ্গে জার্মান যথেষ্ট প্রচলিত । গত বছরে পূর্ব ফ্রান্সের লোরেন প্রদেশের অপূর্ব শহর কোলমারে এক রেস্তোরাঁয় আমাদের পাশের টেবিলে এক দম্পতি লেতসতেবেরগিশ বলছিলেন।  কৌতূহলবশে  আলাপ করলাম জার্মানে, রোদিকা ও মায়ার পরিচয় পেয়ে  সেই দম্পতি আমার সঙ্গে  স্বচ্ছন্দ জার্মানে,  রোদিকার সঙ্গে ফরাসিতে এবং মায়ার সঙ্গে ইংরেজিতে আলাপ করলেন। প্রায় অর্ধ শতাব্দীর ইউরোপ প্রবাসে এটি এক অনন্য অভিজ্ঞতা। হয়তো এঁরা ব্যতিক্রম - তবে সিটি ব্যাঙ্ক লুকসেমবুরগের  অফিসে তিনটে ভাষায় সমান দক্ষতা সম্পন্ন মানুষ দেখেছি।  কাজে অকাজে বহুবার ঘোরার অভিজ্ঞতা থেকে  বলতে পারি আর কোন দেশ নয়,  লুকসেমবুরগ গোটা ইউরোপের মধ্যে সত্যিকারের পলিগ্লট , বহুভাষিক দেশ।

    লুকসেমবুরগ তার আপন জুবান লেতসতেবেরগিশ এবং লুকসেমবুরগ নিয়ে গর্বিত ! যদি কখনো এই ছোটো দেশ ততোধিক ছোটো শহর লুকসেমবুরগ যান , পথচারী এলাকার শেষে পাবেন রু দে  লা লজ;  সেখানে একটি ব্যালকনির গায়ে  লেখা আছে

    Mir wölle bleiwe wat mir sin (শুদ্ধ জার্মানে Wir wollen bleiben was wir sind )

    আমরা যেমন তেমনি থাকতে চাই।
     


    ইউরোপের কণ্ঠে এক সুর আনে কে ?  

    পশ্চিমি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের শিরোমণি লুডভিগ ফান বিথোভেন ( জন্মসূত্রে বেলজিয়ান)   ফ্রেডেরিক  শোঁপা(পোলিশ/  ফরাসি )  , এডভারড গ্রিগ (স্কটিশ /নরওয়েজিয়ান )  রিমস্কি-করসাকভ ( লিথুয়ানিয়ান /রাশিয়ান)  ভলফগাং আমাদেউস  মোৎসারত( অস্ট্রিয়ান )  , আন্তন দভোযাক (চেক) – গোটা ইউরোপ চেনে তাঁদের পাসপোর্টে লেখা দেশের নামে নয়, তাঁদের বাদ্য সঙ্গীতের সুরে।  সেই সুর ইউরোপকে মাতিয়েছে ।

    তবে  একটিমাত্র সুর পেয়েছে চরণ - বিথোভেনের নবম সিম্ফনি শেষ হয়  শিলারের লেখা কোরাস দিয়ে ’আন ডি ফ্রয়ডে’ ( ওড টু জয় – ফ্রয়ডে শোনার গটার ফুঙ্কেন টখটার আউস ইলিসিউম ) –একমাত্র সিম্ফনিক  ফিনালে যেখানে কথা ও সুরের ব্যবহার হয়েছে। এটি  আজ  ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের জাতীয় সঙ্গীত,  ইউরোপের সকল ভাষায় সেটি বিলক্ষণ পরিচিত। অনেক বছর আগে আমার স্টেট ব্যাঙ্কের সঙ্গী শ্রীধর ও আমি আরেক সহকর্মীকে প্যারিসের  ট্রেনে তুলে দিতে এসেছিলাম ফ্রাঙ্কফুর্ট রেল স্টেশনে।  রাত প্রায় দশটা ।  হঠাৎ পরিচিত সুরে অচেনা ভাষায় একটি গান শুনতে পেলাম – এক দল ফরাসি যুবক যুবতি কোরাসে যা গাইছে সেটিকে জার্মানে আন ডি ফ্রয়ডে বলে জানি। কিন্তু এটি ছাড়া আর কোনো  গানের সুরে একত্রে কোরাস গাইতে বা গুনগুন করতে পারেন আরাউএর সুইস মহিলা,  লিন্তসের অস্ট্রিয়ান যুবক বা হামবুরগের অধ্যাপক?  কোথায় গিয়ে মেলে জারমানিক ইউরোপের গানের  সুরধুনী ?  কোন প্রয়াগে ?
     
    ফোক মিউজিকে যে কি বিশাল তফাৎ! বাঙ্ক অস্ট্রিয়ার বহুদিনের বন্ধু ও সাগরেদ টোমাস জমার আমার চেয়ে বছর দুইয়ের বড়ো । তার জন্য  রিটায়ারমেন্ট পার্টির  আয়োজন করেছি  আমাদের ব্যাঙ্কের তরফে , ভিয়েনার গ্রিনসিঙে । অনেক হাসি গান ঠাট্টা হলো , অস্ট্রিয়ান জার্মানের সঙ্গে মিশে গেলো আমার ভাষা । অর্কেস্ট্রার গায়ক, বাজনাদার যে অস্ট্রিয়ান ফোক মিউজিকের লহরী ছুটিয়েছেন তার অল্প বুঝেছি । একসময়ে বললাম , আচ্ছা এবার অন্য কিছু হোক  যেমন ‘জো আইন টাগ , জো ভুনডাশোন ভি হয়টে ‘ ( আহা এমন দিন, আজকের  মতো মধুর দিন )  অন্তত দু দু দু বিস্ত ইন মাইনেম হেরতসেন ( তুমি আমার হৃদয়ে আছো ) ?   তাঁরা একটু বিব্রত হয়ে তাকালেন।  ক্রেডিট আনস্টালট ব্যাঙ্কের নিকলস পালফি হেসে বললেন, হীরেন,  মনে রাখবেন ভিয়েনায় অস্ট্রিয়ায় আপনার প্রিয় ওই সব জার্মান পাব সং কেউ চেনে না !

    জারমানিক ইউরোপ একই  ভাষার দ্বারা বিভক্ত ! কথা কাহিনী সংগীতে।

    অনেক  দেখে শুনে  মনে হয়েছে  আমাদের দুই বাংলার উচ্চারণে ,  শব্দ চয়নে , বিয়ের,  পালা পরবের গানে যতোই তফাৎ থাক না কেন, শিল্পে সঙ্গীতে কবিতায় একই সুর , একই বাংলা আমাদের চেতনায়,  আমাদের রক্তে আমাদের হৃদয়ে উত্তাল। আমাদের সবার সঙ্গে আছেন রবীন্দ্রনাথ।  হুমায়ুন আহমেদের হিমু, রিজওয়ানা চৌধুরীর আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে নির্মলেন্দু চৌধুরীর ভালো কইরা বাজাও দোতারা একই তারে বাঁধা।  

    এই ঐকতানটি জার্মানিক ইউরোপ কোনদিন খুঁজে পায় নি।

    তারা এবং বাকি  ইউরোপ আজও এক রবীন্দ্রনাথের অপেক্ষায় আছে।
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ১৫ মার্চ ২০২৪ | ৩৮৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • r2h | 192.139.20.199 | ১৫ মার্চ ২০২৪ ০৩:১৪529377
  • আহ, এই সিরিজটা, যথারীতি চমৎকার হচ্ছে, হীরেনবাবুর লেখার প্রসাদগুণ অসামান্য!
    সদাশয় রাজা ফ্রিডরিখের ভদ্রতাও দারুন, যাকে বলে রাজার সঙ্গে রাজার মত ব্যবহার।
     
    আর শেষটা 
    "অনেক  দেখে শুনে  মনে হয়েছে  আমাদের দুই বাংলার উচ্চারণে ,  শব্দ চয়নে , বিয়ের,  পালা পরবের গানে যতোই তফাৎ থাক না কেন, শিল্পে সঙ্গীতে কবিতায় একই সুর , একই বাংলা আমাদের চেতনায়,  আমাদের রক্তে আমাদের হৃদয়ে উত্তাল। আমাদের সবার সঙ্গে আছেন রবীন্দ্রনাথ।  হুমায়ুন আহমেদের হিমু, রিজওয়ানা চৌধুরীর আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে নির্মলেন্দু চৌধুরীর ভালো কইরা বাজাও দোতারা একই তারে বাঁধা।  

    এই ঐকতানটি জার্মানিক ইউরোপ কোনদিন খুঁজে পায় নি।

    তারা এবং বাকি  ইউরোপ আজও এক রবীন্দ্রনাথের অপেক্ষায় আছে।
    "
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ১৫ মার্চ ২০২৪ ১০:৩৯529386
  • দারুণ হচ্ছে এই সিরিজটা। শেষ দুটো পর্ব তো অসাধারণ। এই রকম ভাষার আনাচ কানাচ নিয়ে আলোচনা খুবই বিরল। 
    এই যে বললেন দুই জার্মান রাজা কথা বলছেন ফরাসিতে এটা ভাবলে অবাক লাগে কিন্তু পরে আবার কলকাতার কথা ভেবে দেখি এখানেও তো দুজন বাঙালি কোনো ফর্মাল সেটিং এ এলে নিজেদের মধ্যে হামেশাই ইংরেজিতেই কথা বলে। 
    আগের দিন অটোয় চড়ে যাচ্ছি, অটো চালক হিন্দিতে আমায় জানতে চাইলো কোথায় যাবেন, আমিও তাকে হিন্দি ভাষী ভেবে হিন্দিতেই উত্তর দিলাম, মাঝে তার হঠাৎ ফোন আসতে দেখি সাবলীল বাংলাতেই কথা বলছে। আমিও নেমে টাকা মেটানোর সময় বাংলাতেই কথা বলাতে সেও কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে জানালো এই রুটে অবাঙালি যাত্রীর সংখ্যা বেশি বলে আমাকে দেখেও নাকি অবাঙালি ভেবেছিল। 
  • হীরেন সিংহরায় | ১৫ মার্চ ২০২৪ ১২:০৬529387
  • R2h এবং রমিত আপনাদের ধন্যবাদ জানাই ।

    রমিতের কথায় দুটো গল্প মনে পড়ল।

    চার দশক আগে ফ্রাঙ্কফুর্টের এক ব্যাঙ্কের ককটেল অনুষ্ঠানে দুজন জার্মান ব্যাংকারকে ইংরেজিতে কথা বলতে শুনে অবাক হই;  তাদের একজন আমার সহকর্মী , মারটিন আলটউইকার । পরে মারটিনকে জিজ্ঞেস করলাম ইংরেজিতে আলোচনা করছিলে কেন ? সে বললে ব্যাঙ্কিঙ্গের সব পরিভাষাই তো ইংরেজিতে । জার্মানে দুটো ক্রিয়াপদ লাগিয়ে সেই তো পাঁচটা ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করতে হবে! 

    সেই ধারা এখনও অব্যাহত দেখি।

    সবে জার্মানি এসেছি।  কলকাতার এক বন্ধু লিখল তার চেনা এক বস্ত্র ব্যবসায়ী কলোন  ডুসেলডরফ এলাকায় আরেক বাঙ্গালির দোকানে রপ্তানি করেন তার সঙ্গে যেন  সাক্ষাৎ করি । ফ্রাঙ্কফুর্টে  তাঁরা এলেন, সঙ্গে এক জার্মান সহকর্মী, ইনা। রেস্তোরাঁয় সেই  দুজন বাঙালি ইনার প্রতি কোন ভ্রূক্ষেপ না করে দিব্যি বাংলায় দর দাম নিয়ে তুমুল আলোচনা চালাচ্ছেন -আমি একটু লজ্জিত হয়ে ইনাকে বললাম , কিছু মনে করছেন না তো ? সে হেসে বলেছিল, বাঙালি বা ভারতীয়রা এতো কথায় কথায় এতো ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করেন, আমি মূল ব্যাপারটা বুঝে ফেলি খানিক !
     
  • Amit | 163.116.202.24 | ১৫ মার্চ ২০২৪ ১২:২৯529389
  • কিন্তু হীরেন দা- জার্মানির রাজা রা কেন ফ্রেঞ্চ ব্যবহার করতেন ? এর ব্যাকগ্রাউন্ড টা ঠিক কিভাবে এলো ?
     
    ইন্ডিয়াতে যেমন একসময় আরবি ফার্সি আর তারপর ইংরেজি রাজভাষা হিসেবেই এসেছিলো ক্ষমতা দখলের পেছন পেছন- রাজভাষা জানলে দরবারে জাতে ওঠা সহজ হতো। 
     
    কিন্তু ফ্রান্সের তো জার্মানিতে ক্ষমতা দখলের সেরকম ইতিহাস নেই। এক নেপোলিয়ন এর টাইম এ বছর দশেক হয়ত। তারপর তো সবই অস্ট্রিয়া বাভারিয়া প্রুশিয়ার রুলার দের ব্লাডলাইন। ইভেন ব্রিটিশ রয়াল ফ্যামিলিও জার্মান ডিসেন্ট। 
     
    ১৮৫০ সময় থেকে জার্মানিতে রাপিড ইন্ডাস্ট্রিয়ালইজেসন  শুরু হয়। তখন তো সেখানকার ইউনিভার্সিটি গুলো অক্সফোর্ড কেমব্রিজ এর সাথে পাল্লা দিতো। জানিনা যদিও , ধরে নিচ্ছি ইউনিভার্সিটি গুলোতে জার্মান ভাষার ই ডোমিন্যান্স ছিল হয়তো  যেহেতু মেজরিটি স্টুডেন্টস আর প্রফেসর জার্মান  হওয়ার চান্স বেশি (এটা যদিও জাস্ট কল্পনা করছি)। 
     
    তাহলে জার্মান রয়্যালটির এই ফ্রেঞ্চ কানেকশন বা প্রেফারেন্স টা এলো কিভাবে ?  নাকি এটা জাস্ট এক ধরণের এরিস্ট্রোক্রেটিক স্নবারি বা দূরত্ব বজায় রাখা কমন লোকের সাথে ? 
  • হীরেন সিংহরায় | ১৫ মার্চ ২০২৪ ১৩:৩৯529395
  • অমিত
    সংক্ষিপ্ত উত্তর হয়তো আপনার চিঠির শেষ লাইনে নিহিত আছে ! অ্যারিষ্টক্রেটিক স্নবারি।

    প্রাগ হাইডেলবেরগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে যে জার্মান পড়ানো হয়েছে সেটা লোকের মুখের ভাষা থেকে অনেক দূরের ! মনে রাখা দরকার ইংরেজি ফরাসি স্প্যানিশ ভাষার অভিভাবক ছিল লন্ডন প্যারিস মাদ্রিদের  রাজ দরবার । জার্মান ভাষার কোন কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় ছিল না,  জার্মানি নামের কোন দেশই  ছিলো  না ১৮৭১ অবধি । ভাষাটা বলা হতো এস্টোনিয়া থেকে ভোলগা , বেলজিয়াম থেকে রোমানিয়া , স্লোভেনিয়া -আঞ্চলিক উচ্চারণের দাপটে । বিশ্ববিদ্যালয় হাতে গোনা  সেখানে যায় কজন । কানে ধরে ঠিক ভুল বোঝানোর মতো কোন পণ্ডিত কলকে পান নি। প্রাশিয়ান রাজা ভাঙ্গেনহাইমের জমিদারের জেকশিশ উচ্চারণ বোঝার ঝুঁকি নিতে চান নি – বরং তিনি জানতেন এই জমিদারও কিঞ্চিৎ বিদ্যা মতান্তরে ফরাসি শিক্ষা করেছেন । শিক্ষিত সমাজে তাই ফরাসির চল ছিল।

    এই গল্পের ঠিক সমকালে টলসটয় ওয়ার অ্যান্ড পীস লিখেছেন – বইটি রাশিয়ানে লেখা কিন্তু দেখেছি মূল বইতেচরিত্রগুলি ফরাসিতে কথা বলেন - টলসটয় ধরেই নিয়েছেন এ বই যে পড়বে সে রাশিয়ান ওঁ ফরাসি দুটোই জানে ! ( বাংলা বা ইংরেজি অনুবাদে সেটা বোঝা যাবে না)। যেমন আমাদের বাংলা বইতে কোন কোন চরিত্র কেবল ইংরেজি ডায়ালগ ছাড়েন  ( নীহার রঞ্জন গুপ্তের কিরীটী যেমন!)।
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে মতামত দিন