এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • শ্মশান যাত্রীর চিন্তা... 

    sadequzzaman sharif লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ২৬ জুন ২০২৪ | ৩৯৭ বার পঠিত
  • আমার বন্ধুর মা মারা গেছে। আমি ওর কাছে যেতে একটু দেরি করেছি, কারণ আমার খবর পেতেই একটু দেরি হয়ে ছিল। আমি যখন ওর কাছে গেলাম তখন ও ওর প্রাথমিক ধাক্কা সামলে উঠেছে। আমি জানতাম ওর মার ক্যান্সার, কিন্তু কেমোর পরে ভালোর দিকে শুনেছিলাম, কী থেকে কী হল? ওর ধর্ম হিন্দু, আমি তখন পর্যন্ত খেয়াল করি নাই যতক্ষণে না ও আমাকে মনে করায় দিল। বিমর্ষ হয়ে বসে ছিল ও, আমি যাওয়ার পরে কেমনে কী হল এই সব আলাপের পরেই ও বলল আমাকে তো নিয়ম দিয়ে মেরে ফেলতেছে রে! আমি চমকে উঠলাম, বললাম, মানে? ও বলল খবর পাওয়ার পরেই লিফট বন্ধ করে দিয়েছে আমাদের জন্য। ও থাকে সম্ভবত ছয় তালায়! লিফটে করে অন্য বাড়ির লোকজন পূজার জিনিসপত্র তুলে, তাই ওই লিফটে ওরা উঠতে পারবে না! ওর দুইটা বাচ্চা আছে, এদেরকে নিয়ে এখন? 

    আমি এইসব নিয়ে কী বলব? চুপ করেই রইলাম। আমার সাথের বন্ধুরা সবাই এক সময় নানান জরুরি কাজের কথা বলে কই জানি চলে গেল। আমি ভাবছি আসলেই সবার জরুরি কাজ আছে, পরে আমাকে একা একা ওর সাথে বসে থাকতে দেখে এক হিন্দু বন্ধু বলল তুই চলে যাস নাই? আমি বললাম, ওরে এই অবস্থায় একলা রেখে কই যামু? বলল সবাই তো চলে গেছে! আমি বললাম ওদের কী জানি কাজ আছে। ওই বন্ধু হাসল, বলল, আরে ওরা শ্মশানে যাবে না, তাই সময় থাকতে কেটে পড়ছে! আমি ওর কথা বিশ্বাস করলাম না। একটু পরে দেখি ওই বন্ধুও নাই! কই জানি পড়ছিলাম শ্মশান যাত্রার সময় মানুষ চেনা যায়! আমি ওকে বলে চলে আসতেই পারতাম। বসে রইলাম কারণ ওর মায়ের লাশ তখনও এসে পৌছায় নাই, সিরাজগঞ্জ থেকে আসতেছে। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে আমি যাওয়ার পরেই ও ওর মোবাইল, টাকা পয়সা, আরও কী কী জানি সব আমার হাতে দিয়ে বলছে তোর কাছে রাখ। আমি ওগুলা নিয়ে চুপ করে বসে রইছি। 

    এক সময় অ্যাম্বুলেন্স এসে পৌঁছল। আমি টাকা পয়সা দিয়ে ড্রাইভারকে বিদায় করলাম। বন্ধুর বোনটা পাগলের মতো কান্নাকাটি করছে। চিৎকারে রাতের নীরবতা ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে আমার বন্ধু বলল ও গাড়ি করে ওর মায়ের লাশ শ্মশানে নিয়ে যাবে না, ঘাড়ে করে নিয়ে যাবে। শ্মশান অনেকটা দূরের পথ। আমি বললাম, গাড়ি করে নিয়ে গেলে সমস্যা? বলল না, গাড়িতে গেলে তৃপ্তি পাব না। আমি আর কথা বাড়ালাম না। এর মধ্যে আরেক সেট বন্ধু এসে গেল। এরা এই কাজেরই লোক। সব জানে। আমাকে বসে থাকতে দেখে বলল, তুই ওর সাথে থাক, আমরা শ্মশানে গেলাম, ওইখানে কাজ আছে। কী কাজ আর জিজ্ঞাস করলাম না। শ্মশানে গিয়ে দেখছি ওদের কাজ! 

    একটু পরে রউনা হয়ে গেল শব নিয়ে শ্মশান যাত্রা। আমি আমার পায়ের কথা চিন্তা করছি। এতটা পথ হাঁটব না রিকশা নিয়ে নিব? এর মধ্যে এক মোটরসাইকেল পাইলাম, চলে গেলাম শ্মশানে। শ্মশানে অগ্রগামী পার্টিরা বসে আছে। জরুরি কাজ হচ্ছে ওরা গাঁজার ব্যবস্থা করে ফেলেছে। শব নিয়ে যখন সবাই এসে পৌঁছল তখন তাদের একজনেরও টিকির দেখা পাওয়া গেল না! মুখাগ্নি হওয়ার পরে আমি বন্ধুকে বললাম, কালকে ময়মনসিংহ যাব, ইন্ডিয়ার ভিসার জন্য আবেদন করছি, ভোরে না গেলে সময় মতো ভিসা সেন্টারে থাকতে পারব না, আমি এখন যাই, তোর জিনিস গুলা কারও কাছে দে। ওর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে যখন আমি ফিরছি তখন বাজে রাত দুইটা! ফিরতে ফিরতে কিছু চিন্তা মাথায় আসছিল, সেগুলা লেখার জন্যই মূলত বসছি আজকে। 

    কাকিমার মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পরে সবাই দেখি পাঠ করছে, লিখছে ওঁ দিব্যান্ লোকান্ স গচ্ছতু, আমার মনে হল আচ্ছা এইটার অর্থ কী? জানার ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়, উপায় জানালো আমাকে যে এর অর্থ হচ্ছে হে পরমেশ্বর ! তিনি যেন দিব্যলোকে গমন করেন মানে স্বর্গে গমন করেন। বিষয়টা  জেনে দারুণ লাগল।

    ইসলাম ধর্মে কারও মৃত্যুর সংবাদ শুনে সবাই পাঠ করে হচ্ছে ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, এর অর্থ হচ্ছে আমরা আল্লাহর বান্দা, নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর কাছে ফিরে যাব। এইটা অনেকটা আরেকজনের মৃত্যুর খবর পেয়ে নিজের মৃত্যুর কথা স্মরণ করা। আমাদেরও একদিন মরতে হবে, কাজেই সময় থাকেতে লাইনে আসুন। 

    এইদিক দিয়ে খ্রিস্টানদের রেস্ট ইন পিস বেশ সাদাসিধা। কিন্তু তাঁদের বিদায় জানানোর প্রক্রিয়াটা চমৎকার। সবাই বক্তব্য দিতে চায়, দেও, সমস্যা নাই, কারণ সবাই চেয়ারে বসে আছে। সবাই পরিপাটি হয়ে এসেছে। দাফন শেষে হালকা শুরা পানেরও ব্যবস্থা থাকে। বেশ আয়োজন করে বিদায় জানানও যাকে বলে। আমাদের এদিকে একটু পরিচিত কেউ মারা গেলে লাশ সামনে রেখে বক্তব্যের হিড়িক লাগে। আধা ঘণ্টা, চল্লিশ মিনিট শুধু মাত্র কথাই শুনতে হয়। আব্বা যখন মারা গেল তখন আমাদের এখানে পৌরসভা নির্বাচন চলছিল। মাসাল্লাহ! সব প্রার্থী এসে হাজির, সবাই কথা বলতে চায়! সেই হিসাবে খ্রিস্টানদের চেয়ারে বসে বক্তব্য শোনার ব্যবস্থা বেশ ভালো ব্যবস্থা।

    কিন্তু হিন্দু ধর্মের নিয়ম কানুনের বাড়াবাড়িটা বেশি না? অন্য ধর্মের ব্যাপারে আমার বলা ঠিক না। কিন্তু একই কথা আমি আমার ধর্মের বেলাও করতে চাই। মৃত্যু সম্পর্কিত কিছু হলেই পুরোহিত মোল্লারা পেয়ে বসে। এইটা যেহেতু ওই পাশের ব্যাপার, আধ্যাত্মিক ব্যাপার, আর তারা এই সবের ঠিকা নিয়ে রাখছে তাই তারা যা বলবে তাই! আজকে আমি আমার বন্ধুর সাথে দেখা করতে গেছিলাম। ওর অবস্থা আরও শেষ। ১৫ দিন ওকে নানা নিয়ম পালন করতে হবে। বাসায় চুলা জ্বলান যাবে না, ওর নিজের খাবার দাবার নিয়ে নানা নিয়ম। ও বেশি চিন্তা করছে ওর বাচ্চা দুইটার জন্য। তাদেরকেও এই নিয়মের বেড়াজালে ফেলা হয়েছে, আশেপাশের মানুষ যা দিচ্ছে তাই খেতে হচ্ছে ওদের। ওর আত্মীয় স্বজন কতখানি ওকে দেখছে তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। এর মধ্যে বলল কালকে থেকে চুলা জ্বালাতে পারবে, পিতলের পাতিলে রান্না করতে হবে! আরও কী কী জানি! 

    এমনই হয় সব সময়, সব জায়গায়। ইসলাম ধর্মেও দেখছি কেউ মারা গেলে ধর্ম নিয়ে যে বাড়াবাড়ি শুরু হয় তার কোন হিসাব নাই। এই সময় কেউ প্রশ্ন করে না। সবাই ভাবে এইটা তাদের বিভাগ, তারা যা বলবে তাই সঠিক। আমার বড় মামি মারা গেল। আমি আমার মামাতো ভাইয়ের সাথে হাসপাতালে পড়ে থাকলাম। দুইজনের অবস্থা শেষ হয়ে গেছিল হাসপাতালে থেকে থেকে। মামি মারা গেল। এই মামি আম্মা মারা যাওয়ার পরে সবচেয়ে বেশি খোঁজ খবর রাখত। আমার খুব ভরসার জায়গা ছিল মামি। লাশ নিয়ে লাশ বাহি গাড়ির সাথে আমিই আসলাম। সকালে যখন মোল্লারা দায়িত্ব নিলো তখন আমাকে বলা হল আমি মামির মুখ দেখতে পারব না! কবরে আমি নামতে চাইলাম, বলা হল না, আমি নামতে পারব না! সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে কেউ একটা প্রশ্নও করছে না! সবাই মেনে নিচ্ছে! 

    এ ছাড়া আরও যে কিছু কাণ্ড হয় কবরের সময়। কীভাবে লাশ শোয়াবে এইটা নিয়ে নানা মুনির নানা মত। আমরা ছোটবেলায় যেমন দেখতাম এখন তেমন দেখি না। আমি আমার নানুর কবরে নেমে ছিলাম। মেজো মামা আর আমি। মামা উঠে গেল, আমি থেকে গেলাম নিচে। মাথাটা পশ্চিম দিকে ঘুরিয়ে বুকের উপরে হাত দিয়ে কিছু দোয়া পড়ে একটা একটা করে বাঁশের টুকরা দিয়ে দিয়ে শেষের দিকে দুই একটা থাকতে উঠে পড়তে হয়। আমি নানুরটার সময় খুব আগ্রহ নিয়ে এই কাজ করে ছিলাম। এখন কবরের নিয়ম পরিবর্তন হয়ে গেছে। কবরই এখন পশ্চিম দিকে ঢালু করে বানানো হয়। লাশ পশ্চিম দিকে কাত হয়ে থাকে! বাঁশের টুকরা গুলো মাচার মতো করে দেওয়া হয় না, কবরের ভিতরে তেড়ছা করে দেওয়া হয়। এই যে নতুন জিনিস, কে চালু করছে, কই থেকে আসছে এই পদ্ধতি, কেউ কোন প্রশ্ন করে না! কেউ কোথাও দেখছে সে চালু করে দিছে। নারীর মৃত্যু হলে নিয়ম কানুনের যেন বন্যা এসে যায়। যার অবস্থা দেখেছি আমার বড় মামির সময়, খালার সময়। আমার বাবা বা মায়ের সময় এগুলা খেয়াল করার অবস্থায় ছিলাম না। কিন্তু পরবর্তীতে মামির সময়, খালার সময় আমি দেখলাম এবং খালার সময় প্রশ্ন করলাম। নানান হাদিসের বইয়ের নাম ছুড়ে মারা হতে থাকল আমার দিকে! 

    আমার সহজ বুদ্ধিতে বুঝি যে এই সময় সন্তানদেরকে ছেড়ে দেওয়া উচিত। নিয়মের বেড়াজালে না আটকে তার জন্য যেটা সহজ তাই করা উচিত। শোকটা যেন সহজে কাটিয়ে উঠতে পারে সেই চেষ্টাই করা উচিত। কেউ মারা গেলে তার সন্তান পরিবার কেমনে অপবিত্র হয়ে যায়? তাকে স্পর্শ করা যাবে না! এইটা এই সময়েও টিকে আছে কেমনে? টিকে আছে কারণ মোল্লা পুরোহিতরা সম্ভবত বসেই থাকে এই দিনের জন্য। আসবা না আমার কাছে? কে আছে? উদ্ধার করবে কে? নিজেদের অস্তিত্বকে প্রমাণ করার জন্যই যেন আরও বেশি করে নিয়মের বেড়া তুলে দেয়। হিন্দু ধর্ম এদিক দিয়ে সবার আগেই থাকে। 
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ২৬ জুন ২০২৪ | ৩৯৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ২৬ জুন ২০২৪ ১২:৫৫533720
  • এগুলো টিকে আছে পুরোহিত বা মোল্লাদের জন্য নয় বরং পুরোহিত বা মোল্লাদের যারা পাত্তা দেয় গুরুত্ব দিয়ে কথা শোনে তাদের জন্য।  আমি তো ঘোর নাস্তিক কিছুতেই বিশ্বাস করি না তাও পুরোহিতরা কোনোদিন আমায় বাগে পায় নি। আমার ভাইও আমার মতই। কিন্তু আমার ভাই খুব তীব্রভাবে কোনকিছু বলতে পারে না, ফলে আমার মা মারা যাবার পরে আত্মীয়রা ভাইকে অনেক কিছু পালন করানোর চেষ্টা করেছে 'তোর মার কষ্ট হবে', 'তোর মা চাইত' এইসব বলে। আমি বাধ্য হয়ে বলেছি মারা যাবার পরে আর কিচ্ছু নেই, মা অলরেডি হাইড্রোজেন অক্সিজেন নাইট্রোজেন হয়ে গেছে খুশী অখুশীর রেঞ্জের বাইরে। কাজেই  ভাই এসব করবে না ওর ইচ্ছে না হলে। 
    তো ওই আর কি নিজেরা অস্বীকার না করলে অন্যে ঘাড়ে চড়ে নাচবেই। 
  • | ২৬ জুন ২০২৪ ১২:৫৬533721
  • তাও নয় তাই। 
    তাই পুরোহিতরা... 
  • Kuntala | ২৬ জুন ২০২৪ ১৭:০০533732
  • বেশ ভালো লাগলো আপনার এই reflection ও চিন্তামূলক লেখা। এইসব গোমূর্খ পুরুতদের জন্যই  আমি ধম্মো মানি না।
    যাই হোক, মরার প্রসঙ্গে মনে এল: 
    প্রাচীন গ্রিকেরা ভাবতো মরার পরে সব আত্মা Styx নদী পার হয়ে যায়। এটি মাটির নীচের এক অজানা জগত। আমি Underground নিয়ে গবেষণার সময়ে এই সব নিয়ে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করেছিলাম মনে হয়। হিন্দুদের কাছে কিন্ত পাতাল তেমন একটা দানবীয় ভয়ংকর বস্তু নয় - বরং নাগরাজের রাজত্ব সেখানে। ইসলামের কি ধারণা এই নিয়ে, তা আপনার জানা আছে কি?
  • sadequzzaman sharif | ২৮ জুন ২০২৪ ০১:০১533796
  • @ kuntal, আমার জানা মতে পাতাল বা মাটির নিচের দুনিয়া সম্পর্কে ইসলামে কিছু বলা নাই। কবরের আজাব সম্পর্কেও কোরানে কিছু বলা নাই। যা আছে তা হাদিস, আর হাদিস নিয়ে অনেকেরই আপত্তি আছে। কোরানে আছে শেষ বিচার হবে, বিচারে কেউ নরকে যাবে কেউ স্বর্গে যাবে। বিচারের আগেই কবরে আজাব দেওয়া হবে এমন কিছু নাই।  হাদিস হিসাবে কবরে ম্যালা কিছুই আছে। কবরের আজাব দেওয়ার জন্য নানান ব্যবস্থা! 
     
    @ দ, অনেকেই পারে না। প্রশ্ন করতেই পারে না আপত্তি তো দূরের ব্যাপার। যারা ধর্ম মানে তাদের পক্ষে প্রশ্ন করা, আপত্তি করা কঠিন। যদিও অন্য সময় হলে ঠিক প্রশ্ন করত। কিন্তু মৃত্যু, যদি হয় আপনজনের মৃত্যু তাহলে আর সাহস করে না। যা বলে মেনে যায়। 
    মোল্লারা আমাদের এদিকে অপঘাতে মৃতের জানাজা নামাজ পড়াতে চায় না। এখন কিছু দেখি কিন্তু আগে খুব ঝামেলা হইত। গোরস্থানে সবার সাথে কবরও দিতে দিত না, তাদের জন্য আলাদা জায়গা। ছোটবেলায় অপঘাতে মৃতদের কবরের ওইদিকে যাইতে খুব ভয় পেতাম। এগুলা অত্যাচার ছাড়া আর কিছু না। 
     
    আজকে আমার বন্ধুর কাছে গেছিলাম। চায়ের দোকান ওর বাসার নিচেই। চা চাইলাম, দোকানদার আমাকে কাচের কাপে চা দিলো আর ওকে দিলো ওয়ানটাইম কাপে! আমি ভাবছি কাপ নাই তাই এই কাপে ওকে চা দিয়েছে। আমার বন্ধু বলল দেখ, আমাকে এখন চা চাইলেই এই কাপে দেয়! এইটা বললাম এইটা বুঝানোর জন্য যে শুধু পুরোহিত না, সামাজিক ভাবেও ধর্মের এমন অত্যাচার চালু আছে। আমার লেখায় আমি লেখছি যে খবর পাওয়া মাত্র ওদের জন্য লিফট বন্ধ করে দিয়েছে ওর বাড়িওয়ালা! 
    এগুলা থেকে বাঁচার উপায় যদি ধর্ম ত্যাগ হয় তাহলে সামনে ধর্মকে যে মানুষ ছুড়ে ফেলবে তাতে সন্দেহ নাই। 
  • kk | 172.56.33.28 | ২৮ জুন ২০২৪ ০১:১৩533797
  • কী অদ্ভুত জিনিষ এই ধর্ম! যে কারণে এর সৃষ্টি, তার ঠিক উল্টোটা করে এ। ঐ চায়ের দোকানী যিনি ডিস্পোজিবল কাপে চা দিচ্ছেন, ঐ বাড়িওয়ালা যিনি লিফ্ট বন্ধ করছেন, কাল যখন মারা যাবেন, তাঁদের প্রিয়জনকেও লোকে এভাবে অচ্ছুত করবে। সেকথা কী এঁদের একবারও মনে হয়? কার শুচিতা রক্ষা হচ্ছে এইসবে? ধর্মের শুচিতা জিনিষটা এত ঠুনকোই বা কেন যে এত সহজে নষ্ট হয়ে যায়!
  • aranya | 2601:84:4600:5410:f5d6:f204:45a1:78c4 | ২৮ জুন ২০২৪ ০১:২১533798
  • লিফটেও উঠতে দিচ্ছে না !! sad
  • r2h | 192.139.20.199 | ২৮ জুন ২০২৪ ০৩:০১533799
  • মৃত্যু ঘিরে ব্যবসা খুবই ভয়াবহ। বিশেষ করে যে মানুষরা নানান কারনে সমাজের ওপর বেশি নির্ভরশীল তাদের পক্ষে এসব এড়ানো খুব মুশকিল।

    মিনুর গল্প আগেও করেছি নানান কারনে। এই ক'দিন আগে ফোন করে শোনা গেল মিনুর শাশুড়ি মারা গেছেন, তাতে ওদের কয়েক লক্ষ টাকা ধার হয়েছে।
    গ্রামে নাকি পুরোহিতেরা বিধান দিয়েছে যে মৃত্যুর সময়ে গ্রহ নক্ষত্র খুব গোলমেলে অবস্থানে ছিল, তাই পরিবারের অমঙ্গল এড়াতে ব্রাহ্মণ ভোজন করাতে হবে। ক'জন ব্রাহ্মণ, তারা কী করে এক বেলায় লাখ খানেক টাকার খাবার খান সেসব প্রশ্ন অবান্তর। কিন্তু এসব না মানলে সামাজিক বয়কট।
    মিনুর শ্বশুর যখন মারা গেছিলেন, তখনও ওদের গোটা গ্রামকে পেট পুরে খাওয়াতে হয়েছিল - না হলে সেই - একঘরে হতে হবে।

    তো, ওর পক্ষে মন থেকে তীব্র বিরোধ থাকলেও সমাজের চাপ উপেক্ষা করে এসব জিনিস এড়ানো কঠিন - নানান রকম নির্ভরশীলতা আছে।
    আর প্রিয় মানুষের বিয়োগে মানুষ দুর্বল হয়ে পড়ে - তখন এসব আরোই সোজা।
  • যোষিতা | ২৮ জুন ২০২৪ ১৬:১৫533822
  • আমার বাবার মৃতু হয় ১৯৭৬ সালে। ব্রাহ্মনভোজন দূরে থাক, শ্রাদ্ধের জন্য লোক খাওয়ানোও করতে দিই নি। দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিবাদ করলে লোকে মানতে বাধ্য। সমাজ কী বলবে, এটা ভাববার আগে চিন্তা করে নিন — আমিও সমাজের একজন কি না। যদি আমি সমাজের একজন হই, এবং মন থেকে এর বিরুদ্ধ হই, তবে আমার "না" বলাটারও মূল্য আছে। "না" বলতে জানতে হয়। 
    লিফট কেন ব্যবহার করতে দিচ্ছে না, বুঝলাম না। ঐ বাড়ির সকলেই কি হিন্দু এবং একইরকমের কুসংস্কারে বিশ্বাসী? বাড়িওয়ালা যে পাজি সে তো বোঝাই যাচ্ছে।
  • sadequzzaman sharif | ২৮ জুন ২০২৪ ১৭:৫৪533827
  • যোষিতা দি, লিফট ব্যবহার করতে না দেওয়ার যুক্তি হচ্ছে ওই লিফট সবাই ব্যবহার করে, পূজার জিনিসপত্র নিয়ে উঠা নামা করে, তাই ও এই লিফট ব্যবহার করতে পারবে না! হ্যাঁ, সবাই হিন্দু ওই বাড়ির। বাংলাদেশে বিশেষ করে মফস্বল শহরে হিন্দুরা সবাই এক সাথে থাকতে চায়। আমার বন্ধুর স্থায়ী ঠিকানা নাই, ও ভাড়া বাড়িতেই থাকে। আমি ওকে আমার বোনের বাড়ির যে অংশ ভাড়া দিচ্ছে ওইটা নিতে বলছিলাম। এরাও হিন্দু পরিবারকে ভাড়া দিবে না, কিন্তু আমি বলছিলাম তুই রাজি থাকলে আমি বললে তোকে ভাড়া দিবে। কিন্তু ও হেনতেন করে ভাড়া নিলো না। ওর চেয়ে ঘিঞ্জি জায়গায় থাকল। এরপরে এখন এই বাসাটায় উঠছে, বাসাটা ভালো কিন্তু এই বিড়ম্বনায় পড়ল। আমি ওকে বলছি মুসলিম পরিবারের সাথে থাকলে কিন্তু তুই এই বিপদে পড়তি না! ও এখন বলে ঠিকই বলছস! 
    ওর জন্য অশৌচ ১৫ দিন করতে হবে বিধান দিয়েছে ঠাকুর! ১৫ দিন পরে সবাইকে খাওয়াতে হবে, আরও নিয়ম কানুন। এদিকে মায়ের ক্যান্সারের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ওর অবস্থা কাহিল আগেই। মূলত ওর অসহায়তা দেখি লিখতে বসছিলাম আমি। 
  • যোষিতা | ২৮ জুন ২০২৪ ১৮:১১533829
  • শরীফ,
    জিনিসটা বুঝতে পারছি। সংখ্যালঘুরা অনেক দেশেই একত্রে ঘেটো বানিয়ে থাকতে পছন্দ করে থাকে। এটা ইনসিকিওরিটির মনস্তত্ব। সেই কারনেই ওটা "হিন্দু"বাড়ি। 
    নিজ ধর্মের আতার পালনে সেই কারনেই হয়ত বাড়াবাড়ির চুড়ান্ত। ১৫ দিনের ব্যাপারটা বুঝেছি। ১৩ দিনের অশৌচ, ১৪তম দিনে ঘাটকাজ, ১৫তম দিনে শ্রাদ্ধশান্তি। তবে জবরদস্তি করে লোক খাওয়ানোর ব্যাপারটা পৈশাচিক লাগে আমার কাছে। একজন মানুষের মৃত্যুতে লোকজন এসে পরিতৃপ্তি করে কব্জি ডুবিয়ে খাচ্ছে, ব্যাপারটাই ভয়ানক হিংস্র। তবে ব্রাহ্মনেরা এসব নিয়ম যথেষ্ট লাভবান হতো আগের দিনে। আজকাল কোলকাতা শহরে অনেকেই স্থানীয় হরিসভা বা গৌড়ীয় মঠে "নমো নমো" করে শ্রাদ্ধের হ্যাঙ্গাম চুকিয়ে ফেলে। আবার ঘটা করে শ্রাদ্ধ করবার সখ যাদের আছে, তারা ঐসব দেখনদারি করে আনন্দ পায়।
    তবে পশ্চিমবঙ্গের গ্রাম মফঃস্বলের খবর আমার জানা নেই। 
    শ্রাদ্ধ টাইপের অনুষ্ঠান সমস্ত ধর্মেই আছে, ওটা এক ধরণের ক্লোজার। শোক যাপনের একটা সময়সীমা। তারপরে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সঙ্গে চলবার একটা আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি। অনন্তকাল তো শোকে বিহ্বল হলে জীবন চলবে না। কিন্তু ঐ অজুহাতে মানুষকে কৃচ্ছসাধনে জবরদস্তি করানোটা চুড়ান্ত অমানবিক। কী আর বলি!
  • syandi | 45.250.246.74 | ২৮ জুন ২০২৪ ২৩:৫০533844
  • sadequzzaman sharif | ২৮ জুন ২০২৪ ১৭:৫৪ "আমি ওকে বলছি মুসলিম পরিবারের সাথে থাকলে কিন্তু তুই এই বিপদে পড়তি না!" - এই জায়গাটা চোখে পড়ল। মুসলিম পরিবারের সাথে থাকলে এই অশৌচজনিত ছোঁয়াছুঁয়ি বা লিফট ব্যবহার না করতে পারার মত সমস্যায় হত পড়তে হত না। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনটা কি খুব কঠিন হত না? দিবারাত্রি 'মালাউন' জাতীয় ঘৃণাসূচক শব্দ হজম করতে হত না? বাড়ীতে শাঁখ বাজানো যাবে না বা পূজো করা যাবে না টাইপের ফতোয়ার সম্মুখীন হত হত না কি?
    আপনি যে ভাবে একজন অন্য ধর্মের বন্ধুর পাশে দাঁড়িয়েছেন তার বিপদের সময়ে সেটা প্রশংসার যোগ্য। এছাড়া রোমানিয়ার টইতে আপনার সংবেদনশীল মনের পরিচয় পাওয়া যায়। এই সংবেদনশীল মন নিয়ে আমার উথ্থাপন করা প্রশ্নগুলি ভেবে দেখলে বুঝতে পারবেন যে আপনার বন্ধুর ঐ ফ্ল্যাটে বসবাস করতে চাওয়ার সিদ্ধান্তটা ঠিক ছিল নাকি ভুল ছিল।
    আসলে আমরা উপমহাদেশের লোকেরা এখনো ঠিক সভ্য় হয়ে উঠতে পারিনি, তাই সংখ্যালঘুকে  দলবেঁধে একটা ঘেটো বানিয়ে থাকতে হয়। উপমহাদেশে সংখ্যালঘু থাকে একরাশ ভয় নিয়ে, আর বিবেকবান সংখ্যাগুরু থাকে একরাশ লজ্জা নিয়ে।
  • sadequzzaman sharif | ২৯ জুন ২০২৪ ০৩:৪৪533851
  • @ syandi, পুরোপুরি একমত। আমি আসলে ওকে সিরিয়াসলি কিছু বলি নাই। কথা প্রসঙ্গে এমনেই বলছি। ও বুঝছে সেটা, তাই বলছে ঠিকই বলছস। আর আমি আমার বোনের যে ইউনিট ওকে ভাড়া নিতে বলছিলাম ওইটা নিলে ও একা একাই থাকতে পারত। ওর সমস্যা হত না। কিন্তু ওই যে সংখ্যালঘুর মনস্তত্ব! ও সবার সাথেই থাকতে চেয়েছে। আমিও তখন বুঝেছিলাম বলে আর কিছু বলি নাই ওকে। দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা তো হতোই, আরও নানা বিপদও হতে পারত, আমি অস্বীকার করছি না। 
    সংখালঘু যে দলবদ্ধ হয়ে থাকতে চায় এইটা আমি ভালো করেই জানি। সব কিছু এক সাথে চলে আমাদের, তারপরেও দেখি আলাদা একটা দল, আলাদা একটা সংঘ! ওরা সমিতি করে, টাকা জমায়, সেই টাকায় ঘুরতে যায়! আবার সংখালঘু যারা অন্য জেলা থেকে আমাদের জেলায় চাকরি সুত্রে আসছে তারাও দেখি সবাই এক সাথে থাকে, কেউ ব্যাংকার, কেউ রাজস্ব বিভাগে, কেউ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, কেউ পুলিশ, কেউ ভূমি অফিসের কর্মকর্তা! সবাই দেখি রাত আটটা নয়টার দিকে এক সাথে চা খায়, আড্ডা মারে। এদের সবার যোগসূত্র বুঝতে আমার সময় লাগছে। আমিও তাদের সাথে বসে চা খাই, আড্ডা দেই। মাঝে মধ্যে মোটরসাইকেলে এদিক সেদিক ঘুরতেও যাই। তারা কোনদিন না- ও করে নাই। কিন্তু একটা সময় আমি বুঝি যে আরে, এইটা তো অন্য জিনিস! আমিই এখানে বহিরাগত, যদিও আমার জেলায় তারাই বহিরাগত! 
     
    তাই বললাম যে আমি জানি, এবং আমি এতে কোন দোষও দেখি না। আমাদের পাড়ায়, আমাদের প্রতিবেশি যে দুই এক ঘর হিন্দু পরিবার আছে, তাদের দেখে এখন বেশ বুঝি যে তাদের জন্য দলবদ্ধ থাকাটা কত জরুরি। যে ধরণের মানুষ এখন আমার পাড়ায় সংখ্যায় বেশি, আল্লা না করুক, কোনদিন যদি কিছু হয় আমি শরিফ কিচ্ছু করতে পারব না! একটা উদাহরন দেই। আমাদের এলাকায় কয়েকটা হিন্দু বিহারি পরিবার আছে। এদের কাহিনি কি আমি জানি না। বিহারিরা সাধারণত মুসলমান হয়, যারা এখানে আটকে গেছে, কিন্তু এরা হিন্দু। তো এদের এক ছেলে রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার পরে মন্দিরের ছবি দিয়ে জয় শ্রীরাম লিখে ফেসবুকে পোস্ট করেছে। আমার ফ্রেন্ডলিস্টে যেহেতু আছে তাই আমি দেখছি সেই পোস্ট। একটু পরেই এলাকার আরেক ছেলে, যে এই ছেলের বয়সই, অল্প বয়স, সে কমেন্টে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়া বসল! আমি অবাক হয়ে দেখলাম আমার এলাকাতেই এইটা হল! আমি, যে হুমকি দিল আর যে হুমকি খেলো, সবাই এই এলাকার আদি বাসিন্দা! পরে জমি কিনে বাড়ি করছে এমন না। কী একটা অবস্থা! 
     
    যাই হোক, আমি কখনই তাদের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থাকে প্রশ্ন করি না। করার কোন কারণও নাই। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই প্রতিক্রিয়া দিন