এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • বৈঠকি আড্ডায় ৩

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ৩৬৮ বার পঠিত | রেটিং ৪.৮ (৪ জন)
  • বৈঠকি আড্ডায় ৩

    মিটিঙে মোচ্ছবে

    আমাদের চেনা দুনিয়াটা  রোজ সকালে বদলে যায় না । পাইকপাড়ার আশু বাবুর বাজারে বা সারের হরসেল গ্রামের  দোকানে আলু কপির বিক্রেতারা , সে খোকন হোক বা হরসেলের জন হোক,  নিকটবর্তী চায়ের দোকানে বসে একজোট হয়ে সেদিনের সবজির দর বাঁধে না ।

    তবে আজ এক ডলারের বিনিময়ে কত পাউনড  বা ইউরো পাওয়া যেতে পারে সেটা এক গণ্ডা নির্দেশকের ওপরে নির্ভর করে -  আমেরিকান রাষ্ট্রপতির রক্তচাপ বা বুকের ব্যথা, আটলান্টিকের ঝড়, আমেরিকায় বেকারির সংখ্যা,  সুয়েজে জাহাজের ওপরে ইয়েমেনি আক্রমণ, জাপানে জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি ।  ঠিক কোন কারণে  ডলারের দাম কতোটা কমে,  বাড়ে বা  কমতে বাড়তে পারে সেটা  নিয়ে বিদেশি মুদ্রার ব্যাপারীরা নানান  সিদ্ধান্ত,  মতান্তরে গুজব বা  কল্প কাহিনি বাতাসে ভাসিয়ে নাফা করেন। কোন ঘটনার প্রভাব কতোটা  হতে পারে এই নিয়ে নানান ব্যাঙ্কের বিদেশি মুদ্রা ট্রেডিঙ্গ  ডেস্কের বড়ো কর্তারা   সক্কাল বেলা ট্রেডারদের  নিয়ে ছোটো বৈঠক করে থাকেন । প্রতি প্রাতে অনুষ্ঠিতব্য এই আলোচনার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে এ কথা মনে করার কোন সঙ্গত কারণ আমি দেখি নি । তবে বিদেশি মুদ্রার দর বাড়া কমার গুজবের ঘুড়ির সুতোটা কোন দিকে ছাড়া হবে তার চিত্রনাট্য রচনা ও সেই ছবিটি পরিচালনা সাধারণত করে থাকেন ফরেন এক্সচেঞ্জ বিভাগের দলপতি। লন্ডন নিউ ইয়র্কের সকল বৃহৎ ব্যাঙ্কে এই নাটিকাটি নিয়মিত অভিনীত হয়ে থাকে।

    আমার সময়ে  সিটি ব্যাঙ্ক হাউসের দোতলায় সব ট্রেডারকে যিনি এক ঘাটে জল খাওয়াতেন তাঁর নাম জুলিয়ান। শুধু বিভিন্ন মুদ্রার দরের ভবিষ্যৎ বাণী নয় আরও একটি কারণে জুলিয়ানের বিশেষ প্রসিদ্ধি ছিল-  তাঁর প্রাত্যহিক দরবারে  হাজির বশংবদ দেড় ডজন ট্রেডারের সেই মিটিঙে  আসন গ্রহণের অনুমতি ছিল না, জুলিয়ান নিজেও  বসতেন না । একটা টেবিল ঘিরে দাঁড়াতেন সকলে , চলতো পারস্পরিক ধারাভাষ্য , ঘড়ি ধরে পনেরো  মিনিট ।

    কর্পোরেট জীবনে  আমরা প্রত্যহ মিটিং ডেকেছি বা সেখানে অংশ নিয়েছি দিনে একাধিকবার,  কিন্তু জুলিয়ানের টেকনিক সব ধারার বাইরে। কেন তিনি কাউকে বসার অনুমতি দেন না এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন চেয়ারে আরাম করে বসলে তারা ইতি উতি তাকাবে, এটা ওটা ভাববে , মূল বিষয়ের ওপরে ফোকাস থাকবে না। তার চেয়েও বিপদের কথা সহজে উঠতে চাইবে না এবং পায়ের ওপরে পা তুলে বসে বেশ খানিকক্ষণ ভেবে চিন্তে এক সময়ে এমন একটা  উটকো প্রশ্ন করে বাহাদুরি দেখাবে যার জবাব আমার কাছে নেই !

    এটা খানিকটা ডিক্টেটোরিয়াল হয়ে গেলো না?

    জুলিয়ান বিস্মিত মুখে বলেছিলেন,  কেন, তাদের মুখ তো বন্ধ করি নি? বলুক না যা বলতে চায় , তবে সংক্ষেপে !

    ব্রেভিটি ইজ দি সোল অফ দি উইট!

    মার্ক টোয়েন একবার বলেছিলেন ,” একটা ছোট চিঠি লেখার মত সময় হাতে ছিল না বলে এই লম্বা চিঠি লিখতে হল “।

    মিটিঙের সময় সীমা বেঁধে দিয়ে আজকের জুম কল কোম্পানি অসংখ্য মানুষের অতীব উপকার সাধন করেছে। আমাদের সময়ে সেটি থাকলে আমাদের  অনেক  সময় বাঁচত।

    মিটিং বহুবিধ ।

    অফিসের ভেতরে নিজের টিম মিটিং আপনার কন্ট্রোলে থাকতে পারে। সমান লেভেলের মানুষের মিটিং একটু অন্যরকম, সেখানে গল্প গুজব অবশ্যই চলতে পারে।  আমি সেখানে প্রধান হলেও  এক ডজন সহকর্মী নিয়ে আমার টিম মিটিঙ ছিল অনেকটা  ইনফরমাল ।  খোস মেজাজে বসে ,  বাঁধাধরা গতের বাইরে গিয়ে অনেক কিছু জানা শোনা হয়ে যায়,  ব্যক্তিগত প্রশ্ন করা যায়, আইন বাঁচিয়ে। সবাই সেখানে চেয়ারে আসীন কিন্তু কেউ বিশেষ কিছু বলতে চাইলে ( খবর কাগজের ভাষায় বক্তব্য রাখতে গেলে)  বলতাম,  দাঁড়িয়ে বলো !  তার একটা আলাদা  ইমপ্যাক্ট আছে।

    কলকাতায় বা ফ্রাঙ্কফুর্টের   স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াতে টিম মিটিং হতো না । আমাদের মতন পদাতিকদের  সঙ্গে সেনাপতিরা ট্যাকটিকস আলোচনা করতেন না, নির্দেশ দিতেন। । কর্তার ইচ্ছায় কর্ম ।

    স্ক্রিপ্ট বদলে যায় যখন ধরুন টেবিলের অন্য  দিকে ব্যাঙ্কের কোনো  জানে মানে খরিদ্দার আসন নিয়েছেন । তাঁকে তো বলা যায় না,  যা বলার চট করে বলুন দিকি ! আমাকে আরেকটা জায়গায় যেতে হবে !

    দারুণ শিক্ষা হয়েছিল মাদ্রিদে । ব্যাঙ্কের কনফারেন্স রুমে প্রশস্ত চেয়ারে জনা দুই দিব্যি আরাম করে যখন বসলেন,   মনে হল   সাবজেক্ট যাই হোক না কেন, এঁরা সহজে উঠবেন না। আমাদের আলোচনা রিয়াল মাদ্রিদের সাম্প্রতিক ফর্মকে ছুঁয়ে  বিদেশি বাণিজ্যকে পাশ কাটিয়ে কোনদিকে যে যাচ্ছে  বোঝার কোন উপায় নেই । দু প্রস্থ কফি হয়ে গেছে। কলকাতার চায়ের দোকানে খালি কাপ নিয়ে বসে থাকলে মালিক দু বার জিজ্ঞেস করে , এই যে,  কি চাইলেন । উত্তর না পেলে ফ্যান বন্ধ করে দেন  । এখানে কি এয়ার কন্ডিশনার বন্ধ করা যায় ?  স্পেনের বাণিজ্যিক আলাপ আলোচনার বৈঠকে আমার প্রথম সপ্তাহটি মনে থেকে গেছে , দু ঘণ্টার আগে কেউ ওঠেন নি । আমার সহযোগী আলেসান্দ্র রামিরেজ বলেছিল দিনে মাত্র তিনটে মিটিং কেন রেখেছি এবার বুঝলে তো ? স্পেনে আরেক খতরনাক জিনিস কাস্টমার ডিনার ;  শুরু হবে রাত নটায় শেষ কখন হবে সেটা আমাদের হাতে নয় ( বিলটা যখন সিটি ব্যাঙ্ক দিচ্ছে ! )।  পরে অভ্যেস হয়ে যায়।

    পরিচিত মক্কেলের সঙ্গে  ফর্মালিটি  কম।  ক্যামেরন মার নামের এক স্কটিশ ব্যাঙ্কারকে বলেছিলাম এই মিটিঙটা তাড়াতাড়ি শেষ করতে চাই -আজ  লরডসে ভারত বনাম ইংল্যান্ডের টেস্ট ম্যাচ , এগারোটার আগে সেখানে যেতে হবে। কমেরতসব্যাঙ্কের  রাইনার ত্রাপেনের সঙ্গে দেখা হয়েছে  লুকসেমবুরগের কফি হাউসে – সে বললে অফিসে ঘর পাই নি । এখানে  বসেই  কথা হোক ।

    ফ্রাঙ্কফুর্টে কাস্টমার লাঞ্চ চলেছে   টেনে টুনে দেড় ঘণ্টা।  সেক্রেটারি পেত্রাকে ঠাট্টা করে বলতাম ধরো লাঞ্চ সাড়ে বারোটায়  শুরু হয়েছে , ঘড়িতে যদি একটা চল্লিশ বাজে, জানবে আমরা কফি খাচ্ছি !

    ডাচরা সময় মেনে চলেন , সরাসরি কথা বলায় তাঁদের জুড়ি মেলা ভার। । আমস্টারডাম রটারডাম সহ সে দেশের প্রায় সর্বত্র সরকারি পরিবহনে গতায়াত , ফলে মিটিঙে আসার বিলম্বের অজুহাত  ট্রাফিকের ওপরে চাপানো শক্ত - ডাচ ট্রেন সময়ে চলে আর তাদের সাপ্লাই অফুরন্ত । আমস্টারডামে গাড়ি পার্ক করার দুর্মতি হয়েছিল একবার ; ন্যাড়া সে বেলতলায় আর কখনো যায় নি । উটরেখটে গাড়ি রেখে ট্রেন ধরা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ , সেখানে রাবো ব্যাঙ্কের দরোজা থেকে ইয়ারবোরসে ট্রেন স্টেশন হেঁটে পাঁচ মিনিট,  আমস্টারডাম রটারডাম মেরে কেটে ৫০ মিনিট । গাড়িতে ঢাকার গুলশান পার হতে তার চেয়ে বেশি সময় লাগে আজকাল।

    দীর্ঘদিন সেমুর হল ছিল আমার নানান অপরাধের সঙ্গী ।  একবার হল্যান্ড যাবো, আমার টেবিলে মিটিঙের তালিকা দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলে একদিনে ছটা মিটিং! বললাম , এটা বোধহয় হল্যান্ডেই সম্ভব !

    মেপে জুপে মিটিং হয়  নরডিকে , এক অলিখিত সময় সীমাকে মানা হয় অসাধারণ স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে।  পাঙ্কচুয়ালিটির কঠোরতম পাঠটিও  পড়িয়েছিলেন এক সুইডিশ ট্রেজারার । আমার আমেরিকান সহকর্মী বিল ফ্রাঙ্কলিন স্টকহলমে রাস্তা হারিয়ে ( প্রাক গুগল যুগের কথা , মোবাইলের আবির্ভাব হতে কয়েক বছর বাকি)   ফেলায় প্রায় বিশ মিনিট দেরীতে আস্ত্রা জেনেকার অফিসে পৌঁছেছি – রিসেপশনে তিনি দাঁড়িয়ে ! আমরা হাজির হতেই হাতঘড়িটা একবার  দেখে নিয়ে বললেন , ভাবলাম আপনারা আজ আর আসছেন না !

    হে ধরণী ,  দ্বিধা হও !

    স্টকহলমের কুংসগাতানে সভেন্সকা এনশিলদা বাঙ্কে তিন কোণা টেবিল দেখেছি ।  যে কোন অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে আমার কৌতূহল অন্তহীন ।  জিজ্ঞেস করতে পিটার জানালো তাদের ম্যানেজমেন্ট মনে করেন একটা টেবিলের দুপাশে দু  পক্ষ বসলে একটা লড়াকু পরিবেশের সৃষ্টি হয় – যেন  সম্মুখ সমর ! তাই একটা তৃতীয় কোণ বানানো – দু পক্ষের একজন দুজন সেখানে বসলে আপনাকে আমাকে সেদিকেও তাকাতে হবে ! এতে কতটা যুক্তি আছে জানি না তবে তিনকোনা টেবিল আমি আগে বা পরে দেখি নি।

    গোল টেবিল নয় কেন? সেখানে তো ঠিক মুখোমুখি লড়াইয়ের চান্স নেই । এই লজিকটি উড়িয়ে দিয়েছিলেন এরস্তে বাঙ্কের হান্স টাম , উত্তর জার্মানির কীল শহরে পৈত্রিক বাড়ি কিন্তু শিক্ষা দীক্ষা অস্ট্রিয়াতে , ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজের স্নাতক।  হান্স বললেন গোল টেবিলে বসলে আপনার দৃষ্টি কেবল এদিক ওদিক ঘুরতে থাকে , ফোকাস চলে যায়। হেসে যোগ করেন,  এ থেকেই বোধহয় ইংরিজিতে  সার্কুলার লজিক কথাটা এসেছে !

    সিটিং অ্যাট দি হেড অফ দি টেবল ?

    হান্স বলেছিলেন , সর্বনাশ, ওটা তো বিচারকের আসন! 

    আর কোন কারণে নয়,  ঘড়ি বা টাইমটেবিল মেনে  ইতালিয়ান ট্রেন চালানোটা বেনিতো মুসোলিনির শ্রেষ্ঠ  কীর্তি রূপে বিবেচিত হয়ে থাকে ।  মাঝে পঞ্চাশ বছর কেটে গেছে - টাটা স্টিলের সন্দীপ বিশ্বাস আর আমি সাচের ( SACE- ইতালিয়ান এক্সপোর্ট ক্রেডিট এজেন্সি ) সিনিয়র অফিসারের সঙ্গে এক প্রভাতি সাক্ষাৎকারের অভিলাষে রোমের এক কফিহাউসে বসে আছি । তিনি এলেন ঘণ্টা খানেক বাদে,  কোন অজুহাত দেওয়ার প্রচেষ্টা করলেন না ।

    এক রজনীর মধ্যযামে রোদিকা আর আমি সানতা লুচিয়া স্টেশনে ভেনিস মেস্ত্রের শেষ ট্রেন ধরবার জন্যে দাঁড়িয়ে। তার দেখা নেই ।  নির্ধারিত সময় ২৩.৫৫ এখন ঘড়ির কাঁটা ঘুরে অন্য দিন, সময় ০১.০৭ । সে ট্রেন কোথায় ? আমি জানতে চাইলে  কন্ডাক্টর বললেন ,  ওয়েট ।

    ইতালিয়ান এবং রোমানিয়ান দুই ভাষারই জননী ভালগার ল্যাটিন ( সভ্য ল্যাটিনের কথিত ভার্শন ) । তাই আমার স্ত্রী রোমানিয়ান রোদিকার কাছে ইতালিয়ান বোধগম্য যদিও ব্যাকরণটা গোল বাধায় । এখন সে ক্ষিপ্ত হয়ে কারক বিভক্তি সমাসের তোয়াক্কা না করে স্বচ্ছন্দ কিন্তু সম্ভবত ভুল ইতালিয়ানে জানতে চাইল, ঘটনাটা কি ?  ? ভেনিস মেস্ত্রের ট্রেনের অপেক্ষায় এতক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি, ঘড়ির কাঁটা ঘুরে যাচ্ছে , তার দেখা নেই ।  সেটা কালকের শেষ ট্রেন , আজকের পয়লা। সে ট্রেন কোথায়? আমরা বাড়ি যাবো না ? ‘  

    অসম্ভব স্মার্ট পোষাকে সজ্জিত ইতালিয়ান রেল কনডাকটর তাঁর অনবদ্য ভঙ্গিমায় মাথা ও হাত নাড়িয়ে  বললেন ,আ সিনিওরা, আজ শুক্রবারের  সন্ধ্যে , কত জন ভেনিসে এসেছেন,  এখানে ওখানে ঘুরছেন, তাঁরাও তো বাড়ি যাবেন। ফিরতে দেরি  হচ্ছে বটে  কিন্তু তাঁদের তো ফেলে যেতে পারি না আমরা!  আর একটু দেখি ।

    আহা , এই স্টাইল, এই অদব একমাত্র ইতালিয়ানকেই মানায় ! 

    কিন্তু, সেনিওর মুসোলিনি, ইল দুচে , আপনার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তির গৌরবমণ্ডিত মিনার আজ ধুলায়  হয়েছে ধুলি।   ইতালিয়ান ট্রেন  তার টাইম টেবিলের শৃঙ্খল ভেঙ্গে ফেলেছে ।

    কারো মনে থাকতে পারে ১৯৯০ সালে ইতালিতে অনুষ্ঠিত ফুটবল  বিশ্বকাপের থিম সং ছিল নেসুন দরমা ( কেউ ঘুমোবে না – তুরানদত অপেরায় পুচিনির অমর আরিয়া )। এই আরিয়া নিঃসন্দেহে  সে দেশের  জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদার  দাবি রাখে !

    রুম উইথ এ ভিউ জানি কিন্তু একবার পালা পড়েছিল ইন এ রুম উইথ আউট এনি ভিউ! একটি ডিল নিয়ে তখন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে দুই  চির শত্রুর মধ্যে  সিটি বনাম চেজ ( এই নামে একটা ব্যাঙ্ক ছিল) ।  টেলিফোনে এবং ইমেলে কুরুক্ষেত্র সীমাবদ্ধ কিন্তু কোন সমঝোতা দূর অস্ত। আমাদের এই বিবাদে  কিছু উলু খাগড়ার প্রাণ যাচ্ছিল। যুযুধান দুটি পক্ষকে একত্র বসিয়ে  মধ্যস্ততার ভার নিয়েছিল  লন্ডন ক্যানন স্ট্রিটে অধিষ্ঠিত   দক্ষিণ আফ্রিকার  স্ট্যান্ডার্ড ব্যাঙ্ক । তাদের অফিস লন্ডনের গঙ্গা বা টেমসের পাড়ে, গ্রীষ্মকালে তাদের ছাদের ওপরে ব্রাই (বারবাকিউএর আফ্রিকানার  ভার্শন  ) পার্টিতে আমন্ত্রণ হয়।  কিন্তু  সে দিন যে ঘরে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাঙ্কের  কিথ ( পরে সে আমার দফতরে কাজ করেছে)  আমাদের নিয়ে গেলো সেটি একটি  অন্ধকূপ;  একটি দরোজা ,কোন  জানলা নেই ! মনে আছে মিটিং চলেছিল স্বল্পকাল।  আমরা কোনক্রমে একমত হয়ে সভাকক্ষ ত্যাগ করি। কিছুকাল বাদে কিথ আমাকে বলে  সেই ঘরটা মনে আছে ? ওটা কোন মিটিং রুমই নয় ! কেন তোমাদের ওই ঘরে বসানো হয়েছিলো  জানো? আমার বস মার্কের থিওরি হলো একটা জানলা বিহীন ঘরে দুই বিরোধী দলকে বসিয়ে দিলে দু পক্ষই চাইবে ঝগড়া ঝাঁটি মিটিয়ে নিয়ে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব সেখান থেকে বেরিয়ে পড়তে !

    নন - ক্যাথলিক রাজবংশের মানুষ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না দেখে ইংল্যান্ডের কেষ্টবিষ্টুরা  হানোভারের এক জার্মান রাজকুমারকে পাকড়াও করে প্রায় তাঁর ইচ্ছের বিরুদ্ধে যখন ইংল্যান্ডের সিংহাসনে বসালেন তখন সেই রাজা , জর্জ , প্রমাদ গুনলেন।  জর্জ ডাচ ও ফরাসি বোঝেন,  ইংরেজিতে ঢু ঢু । তাঁর মন পড়ে থাকে হানোভারে। তিনশো বছর আগে রাজকার্য চালানোর জন্য তিনি একটি শর্ট কাট বের করলেন- প্রধান মন্ত্রীর পদ সৃষ্টি করে তাঁর ঘাড়ে চাপালেন  দৈনন্দিন কাজ কর্মের ভার ,  ডেলিগেশনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। চুক্তি হলো-  প্রধানমন্ত্রী সার রবার্ট ওয়ালপোল, রাজার নামে কার্যটি চালাবেন আর  নিয়মিত তাঁকে  দেশের হাল হকিকত জানাবেন । এই মিটিং হবে নিরালায় -কেবল দুই জনা দুই জনে - কোন সাক্ষী থাকবে না , কোন লিপিকার তার ভাষ্য লিখে রাখবেন না । কিন্তু  মুশকিল হল,  গণতন্ত্র বলে কথা , রাজা কি করে প্রধানমন্ত্রী বেছে নেন ? তাঁকে তো নির্বাচিত গরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলের নেতা হতে হবে ? জর্জ বললেন , জানি না , সেটা আপনি ম্যানেজ করুন । আমি আপাতত ডোভার থেকে ক্যালের জাহাজ ধরতে যাচ্ছি ।

    কোন সংবিধানের বত্রিশ নম্বর ধারার সাত নম্বর সাব ক্লস অনুযায়ী নয়, নিছক এক রাজার ইচ্ছেয় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদ সৃষ্ট হয়েছে , সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলে আসছে ।  রানি ভিক্টোরিয়ার আমল থেকে এই মিটিঙের সময় সীমা বাঁধা আছে কুড়ি মিনিটে ।

    সিটি ব্যাঙ্কের  জুলিয়ান অন্যদের দাঁড় করিয়ে রাখতেন কিন্তু নিজেও বসতেন না।  ব্রিটিশ রাজা রানি আপন কেদারায় আসীন হয়ে সম্মুখে দণ্ডায়মান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাক্যালাপ করেছেন বহু বছর । আমাদের দেশের মতন , উঁচু জাতি  বিশেষত রাজা রানির সাক্ষাতে  এক সামান্য  কমনার আসন গ্রহণ করতে পারেন না। সত্তর বছরের উইনস্টন চার্চিল লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে পঁচিশ বছর বয়েসি রানি এলিজাবেথের সামনে তাঁর রিপোর্ট পেশ করেছেন।  বর্তমানে ঋষি ও রাজন মুখোমুখি বসেন, রাজা সোফায় , ঋষি হাতল লাগানো  কেদারায় ।  

    ভারতের নতুন পার্লামেন্ট ভবনে নির্বাচিত বিধায়করা প্রত্যহ হাজিরা দেন বা নাই দেন , তাঁদের  বসবার এলাহি বন্দোবস্ত আছে।  ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য সংখ্যা ৬৫০ কিন্তু বসবার আসন ৪১০টি।  উইনস্টন চার্চিলের আমল থেকে এম পির সংখ্যা বেড়েছে কিন্তু গ্রহণযোগ্য আসনের সংখ্যা বাড়ে নি । খুব জরুরি বিষয়ে যখন  আলোচনা হবে ,   আসনশূন্য বিধায়করা কাছাকাছি কোনো পাবে বসে হয়তো গুলতানি করছেন।  তখন তাঁদের ডাক পাঠানো হয় ( হুইপ )।  তাঁরা উপস্থিত হয়ে  হাউসের ফ্লোরে  দাঁড়িয়ে শোনেন । ভোট অন্য ঘরে দেওয়া যায় ।

    হাউস অফ কমনস : ঠাঁই নাই 
     
     
    ব্রিটিশ ক্যাবিনেটে  ১৫ জন সদস্য । কলেজের পলিটিকাল সায়েন্সের ক্লাসে জেনেছিলাম গণতান্ত্রিক ক্যাবিনেটে সকলেই সমান কিন্তু  প্রধানমন্ত্রী তাঁদের  মধ্যে এক নম্বরে (  প্রিমুস ইন্টার পারেস)।  ব্রিটেনে সেটিকে স্পষ্ট  করা হয়েছে এক বিচিত্র কায়দায়: কেবল মাত্র প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারের দু পাশে হাতল আছে , বাকি চোদ্দ জন মন্ত্রী হাত বা কনুই রাখেন টেবিলে !

    এক সময়কার বৃহত্তম  ব্রিটিশ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ইম্পিরিয়াল কেমিকাল কোম্পানি (আই সি আই)  আমাদের মূল্যবান মক্কেল ছিল, অনেক হাত বদলে তার নাম-ও- নিশান ঘুচে গেছে ( অনেকের মনে থাকতে পারে  রিষড়েতে তাঁদের কারখানা ছিলো)। আমার দেখা সাক্ষাৎ হতো বিদেশি ব্যবসা দপ্তরের টেরির সঙ্গে, তিনি বয়েসে অনেক বড়ো , প্রায় পিতৃতুল্য । সারা জীবন কাজ করেছেন আই সি আইতে, অনেক দেখেছেন শুনেছেন সেখানে । একদিন জন হারভি  জোনসের কাহিনি  শোনালেন ।


    সার জন হারভি-জোনস 
    সি ই ও , আই সি আই; ব্রিটেনের প্রথম এক বিলিয়ন প্রফিট করা কর্পোরেট 
    পরে  চেয়ারম্যান , দি ইকোনোমিস্ট 
     
    হারভি  জোনস ছিলেন আই সি আইয়ের কিংবদন্তীসম সি ই ও। নানান উত্থান পতন,  জোয়ার ভাঁটার মধ্যে কোম্পানির হাল ধরেছেন শক্ত হাতে : তাঁর গোঁফ জোড়াটিও সকলের সম্ভ্রম উদ্রেক করত! অফিসের কোন পদাধিকারীর সঙ্গে আলাপ আলোচনা জরুরি মনে করলে তিনি তাঁকে নিজের অফিসে  ডেকে পাঠাতেন না বরং ফোন করে প্রসঙ্গটি জানিয়ে বলতেন তোমার অফিসে  আসছি একবার , দুটো কথা আছে।  কফির সঙ্গে গল্পটা শেষ করে টেরি বললেন, এমনটা কখনো শুনেছেন? সি ই ও যাচ্ছেন অধস্তনের অফিসে ?

    অবাক হয়েছিলাম -এমনটা হয় ?

    কয়েক বছর পরের কথা। তখন  টেরি ও জন দুজনেই অবসর নিয়েছেন । হারভে জোনসের আত্মজীবনীতে সটীক মন্তব্য সহ সেই আখ্যান পেলাম । বড়ো সাহেবের ঘরে অধস্তনকে ডেকে পাঠানোর চিরাচরিত প্রথা তিনি ভাঙ্গেন তিনটি কারণে : নিজের টাইম ম্যানেজমেন্টের সুবিধে , কথা  শেষ হলেই তিনি উঠে পড়তে পারেন, অতিরিক্ত সময় নষ্ট হয় না;  দ্বিতীয়ত জুনিয়র অফিসার তার  দপ্তরটি কেমন অবস্থায় রেখেছে , গোছালো কিনা, সেটি তিনি চাক্ষুষ করতে পারেন আর তৃতীয়ত, স্বয়ং কোম্পানি সি ই ও তাঁর অফিসে আসছেন দেখা করতে -এ খবর রটে গেলে সেই অফিসারের খাতির বেড়ে যায় তাঁর আপন বিভাগে , এক ঢিলে তিন পাখি!  জন সংযোগের এক দুর্দান্ত টেকনিক! 

    লন্ডনের সিটি ব্যাঙ্কে এসে অফ সাইট মিটিং বা সেমিনার কথাটা শুনলাম।  মিটিং ,  সেমিনার বুঝি , অফ সাইট ( off-site) কি ? জানা গেল , যে সভা সেমিনার নিজেদের অফিসে নয়, বাইরে  কোথাও হয় তার নাম অফ সাইট । সেখানে নিয়মের বিধি বন্ধ কম, সুট পরে গলায় টাই বা কণ্ঠলঙ্গটি বেঁধে কালো জুতো পায়ে হাজিরা দিতে হয় না ।  সেটি একই শহরের ভেতরে অন্য কোন জায়গায় হতে পারে অথবা শহর থেকে দূরে আরও দূরে ! বিভিন্ন ব্যাঙ্কের করুণায় এমনি অফ সাইট মিটিঙে  যাবার সৌভাগ্য হয়েছে।  

     কিছু মনে রেখেছি।    

    মৃদুমন্দ গতিতে নীল নদের উজানে আমাদের ফেলুকা চলেছে লুক্সর থেকে করনাক মন্দিরের  পানে । বজরার ওপরের ডেকে দাঁড়িয়ে বোর্ডে আটকানো ফ্লিপ চার্টের পাতা উলটিয়ে আমাদের  হিউম্যান রিসোর্স দফতরের  নেত্রী হিলারি রাইট আমাদের ব্যাঙ্কের নতুন সংগঠনের চেহারা কি রকম হবে তার বর্ণনা দিচ্ছেন । জানুয়ারি মাসের ঈষদুষ্ণ সকালে কয়েক হাজার বছরের ইতিহাসের সাক্ষী লুক্সরকে পাশে রেখে আমাদের ময়ূরপঙ্খী  ভেসে যায়  নীল নদ বেয়ে।  দু পাশে সবুজের বন্যা , তার ঠিক পেছনেই মরুভূমি।

    পালতোলা প্যাপিরাসের নৌকোয় বসে একদিন  যেমন ফারাওরা দেখেছিলেন ।

     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ৩৬৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন