এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • বৈঠকি আড্ডায় ১৬

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১৭ মে ২০২৪ | ৪৬১ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)
  • লাল নীল হলুদের খেলা ১ 

    RISE TO VOTE SIR
     
    রাত্তির নটা বাজে । আমাদের পাশের গ্রাম  ব্রুকউডের কনট এভিনিউর  বাড়িতে বাড়িতে বেল বাজিয়ে চলেছি  গৃহ কর্তা বা গৃহ কর্ত্রী ভোট দিয়েছেন কিনা জানতে ।  বহু  কাল আগে পড়া শরৎচন্দ্র পণ্ডিত বা দাদা ঠাকুরের সেই বিখ্যাত প্যালিনড্রমটি মনে পড়ল -রাইজ টু ভোট সার! উলটো দিক থেকে পড়লেও সেটা রাইজ টু ভোট সার থেকে যায় !
     
    সকাল সাতটায় পোলিং স্টেশনের দরোজা খুলেছে , আমাদের ন্যাপহিল পাড়ার বুথে  যে কাজটা দিয়ে শুভ মহরত করে এসেছি তার নাম টেলিং। মতদান করে ভোটার যখন বেরিয়ে যাচ্ছেন, প্রতিটি দলের প্রতিনিধির অধিকার আছে সেই ভোটারের লিস্ট নম্বর জেনে নথিবদ্ধ করবার। প্রায় সকলেই সেটা জানিয়ে দেন , অনেকে তাঁদের ভোটার  কার্ডটাও আমাদের হাতে দিয়ে দেন ।  ন্যাপহিলে আমি সকাল সাতটায় হাজির হয়েছি;  প্রিসাইডিঙ অফিসার একটা প্লাস্টিকের থলি দিয়ে গেলেন, সেই কার্ড সংগ্রহ করে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপের সুবিধার্থে। 
     
    এখন সন্ধ্যে বা রাত নটা বাজে, বুথ বন্ধ হতে আর মাত্র এক ঘণ্টা বাকি; পথ ঘাট  অন্ধকার, সুনসান।  এমতাবস্থায়  কাউকে ঠিক রাইজ টু ভোট বলা যায় না , অন্তত চোদ্দ ঘণ্টা আগে এঁরা  সপরিবারে রাইজ করেছেন, দিনের কাজ সম্পন্ন করে এখন একটু আরাম করে টেলিভিশনে ব্রিটেন হ্যাজ গট ট্যালেন্ট দেখছেন , ফেসবুকে লাইক দিচ্ছেন অথবা গভীর মনোযোগ সহকারে   হোয়াটসঅ্যাপ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেদিনের হোম ওয়ার্ক করছেন।  এমন সময়ে তাঁদের নাগরিক কর্তব্য বোধ জাগিয়ে তোলার চেষ্টা যে খুব ফলপ্রসূ হবে ভাবার কোন সঙ্গত কারণ হয়ত  নেই।  কিন্তু আমাদের ইলেকশন ড্রাইভের নেত্রী লুইজার বিচারে আরেকটি ধাক্কা  / ফাইনাল পুশ দেওয়া প্রয়োজন- অলস , কুঁড়ে , আনডিসাইডেড ভোটারকে ঘরছাড়া করে পোলিং স্টেশনের  দিকে ভাগানো দরকার, আধমরাদের আরেকটা ঘা মারা। । একটা বিপরীত সম্ভাবনাকেও যে ঠিক  উড়িয়ে দেওয়া যায় না সে কথাটা লুইজাকে বলে গেলো না- এই সন্ধ্যে রাতে   লিবারাল ডেমোক্র্যাট দলের এশিয়ান চেহারার এক দাড়ি ওলা লোক পার্টির হলুদ ঝাণ্ডা দেখিয়ে কড়া নেড়ে তাঁর শান্তি  বিঘ্নিত করেছে  বলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ি থেকে দু পা হেঁটে পোলিং বুথে ভোটের বাকসোয় কনজারভেটিভ দলের পক্ষে ভোট দিয়ে আসতেই  পারেন।  লুইজা,  পাভ ও আমার এই সান্ধ্য অভিযানের সম্মুখীন হয়ে প্রায় সকলেই  বললেন ভোট দিয়ে এসেছেন ।  এমন কাউকে পেলাম না যিনি কাচু মাচু মুখে বললেন ব্রিটেনের অলিখিত সংবিধানে প্রদত্ত এই মহান নাগরিক অধিকারটির সম্যক প্রয়োগ করেন নি বলে তিনি  যারপরনাই লজ্জিত বোধ করছেন এবং আমাদের আশ্বাস দিচ্ছেন তৎক্ষণাৎ  গায়ে জামা গলিয়ে  ভোট দেবার জন্য পথে বেরুবেন।  কেউ যদি তা বলতেন, লুইজার পরবর্তী আদেশ হতো  ,  চলো গলির  মোড়ে দাঁড়িয়ে দেখি  লোকটা বেরুলো কিনা , নাহলে  আবার বেল বাজাও! সাড়ে নটায় লুইজা রণে  ভঙ্গ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে।
     

    পার্টি লিফলেট
     
    উওকিং কাউনসিলে দশটি ওয়ার্ড (বাইফ্লিট ও ওয়েস্ট বাইফ্লিট ,কানাল সাইড, গোল্ডসওয়ারথ পার্ক, হিথল্যান্ডস, হো ভ্যালি, হরসেল ,ন্যাপহিল, মাউনট হারমন,  পিরফোরড ,সেন্ট জনস)  মোট ভোটার সংখ্যা সব ওয়ার্ডে প্রায় সমান , টোটাল আশি হাজার ; তিরিশ জন পৌরপিতা ও মাতা , প্রতি বছর দশজন করে নির্বাচিত হন। চার বছরের কার্যকাল,  চতুর্থ বছরে ভোট হয় না।  যদিও কারো বাড়ি থেকে মতদান কেন্দ্র ৫০০ মিটারের বেশি দূরে নয় , শতকরা চল্লিশ জন কষ্ট করে পোলিং স্টেশনে আসেন কিনা সন্দেহ ।  ইউরোপের একমাত্র এই দেশ যেখানে  ভোট হয় কাজের দিনে, বৃহস্পতিবারে।
     
    কাগুজে ক্যান্ডিডেট হিসেবে পার্টি মায়াকে দাঁড় করিয়েছে আমাদের বাড়ি থেকে সবচেয়ে দূরের কেন্দ্রে ছ মাইল পশ্চিমে  বাইফ্লিট ও ওয়েস্ট বাইফ্লিটে।  সেখানে তার একমাত্র কাজ ভোট ভাঙ্গানো -  কনজারভেটিভ প্রার্থীকে হারিয়ে আমাদের  সমর্থিত এক নির্দলীয় প্রার্থীকে জেতানো । দু বছর আগে আমাদের ওয়ার্ড ন্যাপহিলে মায়া সাফল্যের সঙ্গে ঠিক এই কাণ্ডটি করে নাম কামিয়েছে ।  আমি তাকে  বললাম , তোমার জেতার কোন আশংকা নেই জানি তবু সৌজন্যের খাতিরে এই ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি ঘুরে কিছু ইস্তেহার বিলি, ভোটারদের সঙ্গে বাক্যালাপ করাটাও উচিত । ন্যাপহিলে বড়ো হয়েছ,  চেনা পাড়া, দু বছর আগে সেখানে তোমার পুরনো স্কুলের ছেলে মেয়েরা  কিছু ভোট দিয়েছে।  এখানে দেবে কে ?
     
    মায়াকে সঠিক পথে চালনা করার দায়িত্ব নিলেন অশীতিপর এক মহিলা , অ্যান রবার্টস । এক সময়ে বাইফ্লিট ও ওয়েস্ট বাইফ্লিটের প্রতিনিধি ছিলেন, দু বার ডেপুটি মেয়র । আশ্চর্য তাঁর উদ্যোগ ও কর্মশক্তি; অত্যন্ত কড়া ডিসিপ্লিন আরোপ করেন। কানাডা , নিউ জিল্যানড,  দক্ষিণ আফ্রিকা , মালায়েসিয়াতে একদা বসবাস করেছেন ,ট্রাভেল এজেন্টের কাজে দুনিয়া ঘুরেছেন ,তিনটে ভাষায় সমান স্বচ্ছন্দ । ষাট বছর এ পাড়ায় আছেন , নানান অপ্রয়োজনীয় তথ্যের ভাণ্ডার । অ্যান আমাদের নিয়ে ঘুরলেন লিফলেট বিলির কাজে ।  দিনের বেলায় কেউ বাড়ি থাকেন না , ড্রাইভে গাড়ি পার্ক করা আছে দেখে উৎসাহিত হবার কোন কারণ নেই;  তাঁরা সরকারি পরিবহনে অফিস কাছারি  গেছেন । এই পরিক্রমায়  লক্ষ করলাম , প্রায় নব্বুই শতাংশ বাড়ির দরোজার  লেটার বকসের আকার প্রকার একই রকম,  তার ভেতরে চিঠি গুঁজতে গেলে ব্রাশের মতন কিছু একটা বাধা দেয়। কোন কোন বাড়িতে লেটার বকসের অবস্থান এতো নিচুতে যে সেখান দিয়ে লিফলেট ঢোকাতে পিঠে ব্যথা হয়ে যায়। দরোজায় ওয়েলকাম লেখা মাদুরের চল উঠে গেছে বললেই হয়।
     
    লিবারাল ডেমোক্র্যাট পার্টির জাতীয় নেতা সার এড ডেভি এলেন দলের কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করতে । একটি লেজার সেন্টারের রেস্তোরাঁয় দাঁড়িয়ে বললেন একশ বছরের টু পার্টি সিস্টেম মেনে নিতে মানুষ আর রাজি নয়, তাঁরা বিকল্প খোঁজেন।  উদাহরণ উওকিং কাউনসিল , কয়েক দশক ধরে ছিল কনজারভেটিভ পার্টির হাতে, এখন আমাদের দলের মেজরিটি,  এই নির্বাচনে চাই ক্লিন সুইপ !   


    ছবি - সার ডেভি, ফয়জল মুমতাজ উইল ফরস্টার এবং অন্যান্যরা 
     
    এবারের ভোটে দশজন প্রার্থী এবং উওকিঙ্গের পারলামেনটারি ক্যান্ডিডেট উইল ফরস্টার  দাঁড়িয়ে আছেন সার ডেভিকে ঘিরে। শুভেচ্ছা জানিয়ে সকলের সঙ্গে করমর্দন করলেন সার ডেভি।  অন্য প্রার্থীদের গড়পড়তা বয়েস অন্তত পঞ্চাশ সেখানে সদ্য কলেজের গণ্ডী পেরুনো মায়াকে দেখে তিনি খানিকটা বিভ্রান্ত হলেন মনে হলো । শঙ্কিত মুখে মায়ার  দিকে চাইলাম - কেন যে রাজি হয়েছিলাম? এই নেতা কি জানেন মায়া  নামেই ক্যান্ডিডেট , তার কোন চান্স নেই ? লন্ডনের কিংস কলেজ তাকে দয়া করে মাষ্টারস করবার সুযোগ দিয়েছে , সেপ্টেম্বর মাস থেকে ক্লাস শুরু!  মায়ার মিশন সম্পূর্ণ আলাদা । উইল ফরস্টার কি তাঁকে বুঝিয়েছে সে সব ?
     
    বেশির ভাগ প্রার্থীর পিতা মাতা এ ধরণের অনুষ্ঠান কেন ধরা ধামেই  হয়তো উপস্থিত থাকেন না ; সম্ভবত  সার ডেভির মনে বল সঞ্চারের প্রয়াসে উইল আমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলো , মিট মায়া’স ড্যাড ! সার ডেভি বললেন আসুন আপনার সঙ্গেও করমর্দন করি।


     সার ডেভির সঙ্গে
     
     
    এই উষ্ণ অভ্যর্থনার ফলটি পেলাম হাতে হাতে।
     
    উওকিঙ্গের কানালসাইড ওয়ার্ডে অধিক সংখ্যক এশিয়ান মানুষের বাস। সেখানে আমাদের লড়াই  কনজারভেটিভ নয় , লেবার পার্টির বিরুদ্ধে।  তিরিশ বছর যাবত লেবার জিতেছে । ঐতিহাসিক ভাবে ব্রিটেনে ভারতীয়, পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি মূলের মানুষ লেবারকে ভোট দিয়ে এসেছেন – মনে করেছেন সে দল আছে মাটির কাছাকাছি,  কনজারভেটিভ বড়ো লোকেদের পার্টি ।  এটি একটি দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত ধারণা মাত্র, আদতে টোনি ব্লেয়ারের আমল থেকেই ( ১৯৯৭)  লেবার অন্য দিকে মোড় নিয়েছে , যেখান থেকে তার জন্ম, তার পার্টির নাম সেই ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের সঙ্গে লেবারের যোগসূত্র আজ বিচ্ছিন্ন। আমার মতে আমেরিকায় রিপাবলিকান আর ডেমোক্র্যাট এবং ব্রিটেনের লেবার ও টোরি পার্টির কোন মৌলিক ব্যবধান নেই,তফাৎ কেবল তাদের পতাকার রঙে ।
     

    লর্ড কর্নওয়ালিস যখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নামে পূর্ব ভারতে জমি জমার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন চালু করছেন (১৭৯৩) ঠিক সেই সময়ে সারের ওয়েব্রিজ থেকে হ্যাম্পশায়ারের বেসিংস্টোক শহর অবধি তিরিশ মাইলের একটি কানাল খোঁড়া হয়। সেটি  ওয়ে নদীকে টেমসের সঙ্গে মিলিয়ে দিয়ে মাল বহনের কাজটা সহজ করে ( রেললাইন আসতে আরও চল্লিশ বছর কেটে যাবে) সেই কানালের অংশবিশেষ উওকিং শহরের ভেতর দিয়ে যায় , তাই এই ওয়ার্ডের নাম কানালসাইড। লেবার প্রার্থী আজিজ তাহির সেথা জিতছেন দশ বছর যাবত,  এবারের প্রতিদ্বন্দ্বী  আমাদের ফয়জল মুমতাজ । এখানে জনসংযোগ  করতে গেলে উপ মহাদেশের ভাষাগুলি কাজে লাগে।  এমন জব ডেসক্রিপশনের সঙ্গে মানানসই কর্মী লিব ডেম উওকিঙ্গে বিরল ।  

    অনুরোধটা এলো আমার মেয়ের কাছ থেকেই । মায়া বললে  আমি তো ভোটের তিনদিন আগেই  ইস্টার পরবে মায়ের সঙ্গে রোমানিয়া যাব ।  এখন তুমি ফয়জলকে একটু সাহায্য করতে পারো না?  বাংলা তোমার ভাষা । হিন্দি  জানো আর তুমিই তো বলেছ সেটা জানলে উর্দুতে চালিয়ে দেওয়া যায় । কতো দেশে উবার  ড্রাইভারের সঙ্গে তোমাকে গালগল্প করতে দেখেছি ! এখন হিন্দি উর্দু বাংলা দিয়ে দু দিন ক্যানভাসিং করো ! তোমার সঙ্গে সাইমন থাকবে ঘাঁতঘোত গুলো সেই বুঝিয়ে দেবে ।
     
    এই প্রথম জানলাম  নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ইনফরমেশন টেকনোলজি কোন লেভেল পৌঁছে গেছে ! লিব ডেমের তৎপর স্টিভ জবেরা একটি অ্যাপ বানিয়েছেন তার নাম মিনিভ্যান , যা খুললেই পাওয়া যাবে ওয়ার্ড অনুযায়ী প্রত্যেক রেজিস্টার্ড ভোটারের নাম।  এর সঙ্গে আছে একটি প্রশ্ন তালিকা – কি কি জিজ্ঞেস করা যেতে পারে, তার ডিগ্রি মাপ করা  আছে – ইনি কি সফট টোরি বা লেবার ? এটা লোকাল কাউন্সিল ভোট কিন্তু কাল যদি দেশের সাধারণ নির্বাচন হয়,  ভোট কোন দলকে দেবেন , গতবারে কাকে দিয়েছিলেন,  এমনি প্রায় পনেরোটা হিন্ট।  বাড়ির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে দুজন সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষের সামনে  কতজন এই প্রশ্নোত্তরের সম্মুখীন হতে চাইবেন ? আমার সীমিত অভিজ্ঞতায় দেখলাম অতি সামান্য । তবে ভোটারের নাম তালিকা দেখে সেই গৃহকর্তার দ্যাশ কোথায় ছিল অগ্রিম  অনুমান করে নিতে কোন অসুবিধে হয় না , গল্পের সূত্র মেলে সহজেই। একজনের পদবি শ্রেষ্ঠা, তিনি অবাক ও একই সঙ্গে প্রসন্ন হলেন যখন  জিজ্ঞেস করলাম নেপালের কোন শহরে তাঁর আদি বাড়ি (ব্রিটিশ আর্মির দুটি ছাউনি অলডারশট ও ক্যাম্বারলি আমাদের প্রতিবেশী শহর, অনেক গুর্খা সৈন্য ও তাদের পরিবার এসেছিলেন এবং থেকে গেছেন)। সিলেট রাওয়ালপিণ্ডির জনতার পাশেই পেলাম একজনকে যার প্রথম নাম উইজডম । বাহাদুরি দেখানোর  চান্স ছাড়া যায় না , টকিং পয়েন্ট পেয়ে গেছি ।  জিম্বাবোয়ের কোথায় আপনার বাড়ি ( আফ্রিকার এই একটি দেশ চিনি যেখানে ছেলে মেয়ের নাম রাখা হয় কোন চারিত্রিক গুণ অনুযায়ী ) ?  জানালেন তাঁর বাড়ি বুলওইয়াও (আক্ষরিক অর্থ  ‘  মৃত্যু ভূমি ,’ ‘কিলিং ফিল্ড ‘ ) । শনিবারের বিকেল , অর্ধেক গেরস্থালী  জনমানব শূন্য ।  মুখের ওপরে কেউ দরোজা বন্ধ করেন নি , যারা খুললেন  তাঁরা কিছু সমস্যার  কথা জানালেন , মৎ কৃত অনুবাদ শুনে নিয়ে সাইমন তৎক্ষণাৎ অ্যাপের ভেতরে সেই সব জবাব সাজিয়ে ফেলে। আমাদের ক্যান্ডিডেট  ফয়জল জিতলে  অবশ্যই আমরা দেখব ( সারা দুনিয়াতে ভোটের জন্যে এই গুল দেওয়া হয়ে থাকে, হম দেখেঙ্গে , সোচেঙ্গে )। একটি মাত্র  বেয়াড়া অভিজ্ঞতা হলো সেদিন : বেল শুনে ভেতর থেকেই এক মহিলা ( নামটা পর্তুগিজ, রিবেরা)* প্রশ্ন করে জেনে নিলেন কোন দল , বললেন বাক্যালাপের  কোন প্রয়োজন নেই, আমি টোরি পার্টিকে ভোট দিই । এক  সময়ে লক্ষ করলাম এই মিনিভ্যান অ্যাপে যদিও সব ভোটারের নাম পাতা লেখা আছে , আমরা  সব বাড়ির বেল বাজাচ্ছি  না , মাঝে মধ্যে একটা দুটো দরোজা বাদ। সাইমন বললে আমাদের সার্ভে মাফিক এঁরা লিব ডেমকে সমর্থন করেন না , তাই কড়া নাড়া বেকার। ভাবলাম বলি তবু কথা কওয়া  যায় না কি ? এমন বুঝিয়ে দেবো , শুনে হয়তো বলবেন, ভুল করেছিনু,  ভুল ভেঙ্গেছে !
     
    লাভ নেই। আমার ভূমিকা পার্টি ক্যাডারের , মার্গ দর্শকের নয় !
     
    ফেলে রেখে আমাকে বন্ধনে ভোটের তিন দিন আগে  মেয়ে  গেলো মাতুলালয়ে , ইস্টার পরবে, প্রভুর পুনরুথানে।  


    লিব ডেম প্রার্থীরা সবাই একসাথে

    ক্রমশ
     
    * Ribeira ( রিবেরা , আক্ষরিক অর্থে নদীর কুল । পোরটো শহরের একটি আইকনিক পাড়াও বটে , সেথায় গেলে কখনো মিস করবেন না ! এর থেকে এসেছে রিবেরো – Ribeiro- ঝর্না, জলের ধারা )

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ১৭ মে ২০২৪ | ৪৬১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • হীরেন সিংহরায় | ২১ মে ২০২৪ ২০:১২532084
  • * Ribeira ( রিবেরা , আক্ষরিক অর্থে নদীর কুল । পোরটো শহরের একটি আইকনিক পাড়াও বটে , সেথায় গেলে কখনো মিস করবেন না ! এর থেকে এসেছে রিবেরো – Ribeiro- ঝর্না, জলের ধারা )
  • অমিতাভ চক্রবর্ত্তী | ২১ মে ২০২৪ ২০:৪৭532085
  • আপনার লেখা পড়লে যে তৃপ্তি পাওয়া যায়, তা দুর্লভ। সব সময় জানানো হয় না, আপনার যে কোন সিরিজের প্রত‍্যেক পর্ব পড়ার শেষে পরের পর্ব পড়ার জন্য সাগ্রহ অপেক্ষায় থাকি।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় প্রতিক্রিয়া দিন