এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  ইতিহাস  শনিবারবেলা

  • স্লোভাকিয়া ৫

    হীরেন সিংহরায়
    ধারাবাহিক | ইতিহাস | ০৮ জুন ২০২৪ | ৫৪৪ বার পঠিত | রেটিং ৫ (৫ জন)
  • পরশে ৯১১

    জয়রথে তব



    - আপনার গাড়ির দাম ডবল করতে চান?

    - কি করে?

    - পুরো ট্যাঙ্ক তেল ভরে।

    যে গাড়ি নিয়ে এমনিধারা অজস্র কৌতুক সাতের দশকে জার্মানিতে এবং ইংল্যান্ডে শোনা যেতো তার নাম শ্কোডা, তৈরি হতো সে আমলের চেকোস্লোভাকিয়াতে। তৎকালীন পূর্ব ইউরোপের অন্যান্য দেশের কিছু গাড়ির নাম জানা ছিল কিন্তু আমাদের রাস্তায় তাদের দেখি নি ; যেমন পূর্ব জার্মানির ত্রাবান্ত, ওয়ারটবুরগ অথবা সোভিয়েত ইউনিয়নের ভোলগা বা লাদা। কোনো অসীম দুঃসাহসে একদিন শ্কোডা পশ্চিমে দেখা দিয়েই নির্মম পরিহাসের বস্তু হয়ে পড়ে।

    হালে আমাদের সংসারে স্বল্প ব্যবহারের মানে দোকান বাজার করার জন্য ছোট আকারের গাড়ি খুঁজছিলাম; নিকটবর্তী শহর অলডারশটে বেশ কয়েকটি শো রুম ঘুরে যে গাড়িটি পছন্দ হলো সেটি শ্কোডা ফাবিয়া। রোদিকার নিতান্ত বিরাগভাজন হবো জেনেও জশ নামের যুবক সেলসম্যানকে ওই জোকটি শোনানোর লোভ এড়াতে পারলাম না। জশ হেসে বললে, সার, শ্কোডা গাড়ি কিন্তু অনেক বদলে গেছে, এখন জার্মান এঞ্জিনিয়ারিং ! নির্ভয়ে কিনতে পারেন। তবে এই গাড়ি নিয়ে আরও কিছু ঠাট্টা আমারও জানা আছে, এই ধরুন, শ্কোডা গাড়িকে স্পিডে কে হারাতে পারে? উত্তর হলো, আপনি, দৌড়ে !



    কার্ল বেন্তসের প্রথম পেটেন্ট



    স্টুটগারট শহরের রাজকীয় জার্মান টেকনিকাল অফিস থেকে যেদিন মানহাইমের এঞ্জিনিয়ার কার্ল বেন্তস তাঁর গ্যাস এঞ্জিন চালিত তিন চাকার কোচের পেটেন্ট পেলেন সেই দিনটিকে, বুধবার ২৯শে জানুয়ারি ১৮৮৬, মোটর গাড়ির জন্ম তারিখ বলে মানা হয়। তার জন্মকুণ্ডলি বা পেটেন্ট নম্বর ৩৪৭৩৫। সেই একই সময়ে স্টুটগারটের কানস্টাটে গটলিব ডাইমলার ও ভিলহেলম মাইবাখ ইন্টারনাল কমবাশচন মোটর দিয়ে প্রথম অশ্ব বিহীন ঘোড়া গাড়ি চালিয়েছেন। তবে মোটর গাড়ির পেটেন্ট নেবার ক্রেডিট কার্ল ফ্রিডরিখ বেন্তসের।

    খবরটা ছড়িয়ে গেল। হাবসবুরগ সাম্রাজ্যের বোহেমিয়ায় ( বোয়মেন ) ভেলভারি শহরের ভাতস্লাভ ক্লিমেন্তের বয়েস তখন সতেরো, পেনসিনের ভাতস্লাভ লাউরিনের বয়েস একুশ। কয়েক বছর বাদে এই দুই ভাতস্লাভ প্রথমে সাইকেল ও তার পরে বেন্তসের প্রদর্শিত পথে এঞ্জিন জুড়ে মোটর সাইকেল বানাবেন প্রাগ থেকে ষাট কিলোমিটার উত্তরে, ম্লাদা বোলেস্লাভ শহরে। একদিন বেন্তস, মাইবাখ, ডাইমলারের মতন তাঁরাও বানাবেন চার চাকার গাড়ি। রেলপথ, অস্ত্র শস্ত্র, বন্দুক বানিয়ে প্রভূত ধন অর্জন করার পরে চেক শিল্পপতি এমিল শ্কোডা দুই ভাতস্লাভের কোম্পানি কিনে নিয়ে তাঁর নিজের নামটি জুড়ে দিলেন। সে নাম রয়ে যাবে ( যদিও শ্কোডার অর্থ ‘বেজায় মন্দ ‘) ! যে গাড়ি আমরা সেদিন অলডারশটের শো রুমে দেখলাম, সেটি চেক রিপাবলিকের ম্লাদা বোলেস্লাভ শহরের কারখানায় তৈরি, যদিও এই কোম্পানির পূর্ণ মালিকানা এখন জার্মান ফোলকসভাগেনের। আজ শ্কোডার ট্যাগ লাইন – সিম্পলি ক্লেভার।

    প্রসঙ্গত শ্কোডা মোটর তাদের টপ রেঞ্জ গাড়ির নাম দিয়েছে সেই দুজনের সম্মানে, ক্লেমেন্ত লাউরিন ; মার্সিডিজ বেন্তসের সেরা গাড়ি তাদের প্রথম ডিজাইনারের নামে, মাইবাখ।

    ঠিক সেই সময়ে ম্লাদা বোলেস্লাভের অনতিদূরে, বোহেমিয়ার মাফারসডরফ গ্রামে ( অধুনা ভ্রাতিস্লাভিসে নাদ নিসো)এগারো বছর বয়েসের বালক ফারদিনান্দ তার বাবার কামারশালায় বসে শুনলো কার্ল বেন্তস নামের এক জার্মান এঞ্জিনিয়ার মোটর গাড়ি বানিয়েছেন – ঘোড়ার গাড়ি ও গাধা থেকে পরিবহনের পরবর্তী ধাপ! সেদিন থেকেই তার মাথার ভেতরে ঢুকে গেল গাড়ির মায়া, গতির কাব্য। আই ফোন বা ফেসবুকে সময় নষ্ট করার সুযোগ ছিল না, ফারদিনান্দের সময় কাটে যন্ত্রপাতি নিয়ে। প্রাইমারি স্কুলের অ আ ক খ শেখা শেষ হতেই ছেলের মতি গতি দেখে পিতা আন্তন পরশে তাঁকে পাঠালেন তিন মাইল দূরে রাইখেনবেরগের (বর্তমানে চেক শহর লিবেরেস -‘আমার জার্মানি’ বইতে সে অঞ্চলের গল্প বলেছি) অস্ট্রিয়ান সরকারি সান্ধ্য টেকনিকাল স্কুলে- দিনটা কাটে কামারশালায় ! বাপের চেনা জানার সূত্রে মাত্র আঠারো বছর বয়েসে ফারদিনান্দ গেলেন ভিয়েনা, বেলা এগার গাড়ি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে। মাঝে মধ্যে ঢুঁ মারেন ভিয়েনা পলিটেকনিক স্কুলে, যেখান থেকে কোনো ডিগ্রি ডিপ্লোমা অর্জন করেন নি ফারদিনান্দ- বিশ বছর বাদে ভিয়েনা টেকনিকাল বিশ্ববিদ্যালয় এই অনন্য এঞ্জিনিয়ারকে অনারারি ডক্টর উপাধি প্রদান করেন। যদিও এটি নিতান্ত সাম্মানিক, ফারদিনান্দ পরবর্তীকালে নিজের নামের আগে ডক্টর লিখতেন- ডক্টর ইনগেনিউর এইচ (অনরিস) সি (কাউসা) ফারদিনান্দ পরশে।



    ফারদিনান্দ পরশে


    ডাইমলারের অস্ট্রিয়ান শাখায় সতেরো বছর কাজ করে গেলেন তাদের স্টুটগারটের হেড অফিসে। নিরন্তর পরীক্ষা নিরীক্ষায় ক্লান্তিহীন ফারদিনান্দ পরশে বদলে দিলেন সে যাবত পরিচিত গাড়ির চেহারা। ডাইমলার ও বেন্তসের স্বতশ্চলশকটের মডেল ছিল অশ্ববিহীন ঘোড়ার গাড়ি। পরশের ডিজাইন স্বতন্ত্র, দুঃসাহসী এবং গাড়ি দ্রুতগামী। তিনি দিলেন লো লাইন বডি, ফ্ল্যাট এঞ্জিন, অ্যারো ডাইনামিক, এমনকি বাতানুকুলিত এঞ্জিন- ডাইমলার মডেল এস এস কে ১৯০ যা ঘণ্টায় ১৯০ কিলোমিটার বেগে ধাবিত হতে পারতো। বহু রেসে জিতল তাঁর গাড়ি। পরশের ক্ষিপ্রগতি ভাবনার সঙ্গে তাল দিয়ে উঠতে অক্ষম ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলি একে একে তাঁকে বিদায় দেন (বেলা এগার, লোনার, ডাইমলার) অথবা ফারদিনান্দ তাদের ত্যাগ করেন – কোন এক অবসর সময়ে তিনি অস্ট্রিয়ান ক্রাউন প্রিন্স আর্কডিউক ফ্রান্তস ফারদিনান্দকে জেপেলিনে ভিয়েনার আকাশে পর্যন্ত উড়িয়েছেন! শেষ মেষ আপন জীবন বিমা বন্ধক রেখে ও জামাইয়ের অর্থ সাহায্যে নিজের কনসালটিং কোম্পানি স্থাপনা করেন যার নাম হলো ‘পরশে’। ফারদিনান্দ পরশে চাইলেন এমন গাড়ি বানাতে যার গতি হবে দ্রুত, ওজনে হালকা, দামেও কম। এমন সময়ে এগিয়ে এলেন বারন ফন অরতজেন – একছাতার তলায় আনলেন আউডি সহ আরও কয়েকটি খুঁড়িয়ে চলা গাড়ি নির্মাতাদের, তার নাম আউটো ইউনিয়ন। ফারদিনান্দ পরশেকে হয়তো বারন বললেন এবার আপনি এবং আপনার হাত যশ!



    লেদভিঙ্কার তাতরা গাড়ি



    ১৯৩৪ সালের বার্লিন মোটর শোতে পরশে আনলেন নতুন নতুন গাড়ি যা অনায়াসে জয় করলো রেসিং পদক। স্বয়ং হিটলার পরশের ভূয়সী প্রশংসা করলেন। ফারদিনান্দ পরশেকে বললেন আপনি এমন একটি গাড়ি বানান যা কিনতে পারবে প্রতিটি জার্মান পরিবার। সেটি হবে জনতার গাড়ি। পরশের এই প্রয়াসে রিসার্চ ও ডেভেলপমেন্টের জন্য বাৎসরিক বরাদ্দ করলেন আড়াই লক্ষ রাইখসমার্ক (আরও আড়াই লক্ষ গেল মার্সিডিজ বেন্তসের জন্য, তাঁরা বানাতে থাকবেন ধনাঢ্য মানুষের বাহন! হিটলার নিজে মার্সিডিজ চড়তেন)।
    এই সঙ্গে হিটলার বললেন সাম্প্রতিক কালে চেকোস্লোভাকিয়া ভ্রমণের সময়ে তাতরা নামের একটি গাড়ি চড়ে ( হিটলারের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না) তিনি সাতিশয় আনন্দিত হয়েছেন। গাড়ি ভালবাসেন কিন্তু তিনি এঞ্জিনিয়ারিং বোঝেন না। তবে সেই তাতরা গাড়ির গড়ন, গতি ও দাম সবটাই তাঁর মনের মতন। সে গাড়ির অস্ট্রিয়ান নির্মাতার সঙ্গেও তাঁর আলাপ হয়েছে, তিনি ওই তাতরা গাড়িতেই প্রাণ মন সমর্পণ করেছেন। হিটলার মনে করেন তাতরা টাইপের গাড়ি জার্মানির পথে পথে, বিশেষত সদ্য নির্মিত অটোবানে চলুক, প্রতি জার্মান দুয়োরে শোভা পাক। নাম হবে হবে জনতার গাড়ি ফোলকসভাগেন ( ফোলক- জনতা ; ভাগেন-বাহন)! উত্তর জার্মানির ফালারসলেবেন শহরের কাছে অনেকটা জমিও তিনি দেবেন - সেখানে পরশে গড়ে তুলুন তাঁর কারখানা, পুরো প্রকল্পের নাম সানন্দ শক্তি (ক্রাফট দুরখ ফ্রয়ডে)।

    শেষে হিটলার বললেন, ‘আমার একটা শর্ত আছে। স্লাভ জাতি, বিশেষ করে চেকোস্লোভাকরা ঊনটার মেনশেন, মানুষের থেকে নিচু স্তরের। আপনি যদি এই প্রকল্পের ভার নিতে ইচ্ছুক হন, আপনাকে জার্মান নাগরিকত্ব নিতে হবে।’

    বার্লিন থেকে বাড়ি ফিরে ফারদিনান্দ পরশে স্টুটগারটের চেকোস্লোভাক কনসুলেটে নিজের হাতে তাঁর পাসপোর্ট ফেরত দিয়ে সে দেশের সঙ্গে তাঁর সকল সম্পর্ক ছিন্ন করলেন।

    পথে উপেক্ষিত


    প্রায় সেই সময়ে ভিয়েনা টেকনিকাল ইউনিভারসিটি থেকে পাশ করে এক অস্ট্রিয়ান এঞ্জিনিয়ার যোগ দিলেন মোরাভিয়ার নেসেলসডরফ ভাগেনবাউ কোম্পানিতে। হান্স লেদভিঙ্কা বয়েসে ফারদিনান্দের চেয়ে তিন বছরের ছোটো, তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী।, অল্প বয়েস থেকেই যে কোন যন্ত্র খুলে ফেলে জোড়া দিতে পারেন ! প্রথমে রেলগাড়ি বানালেন, তারপরে মোটর গাড়ি। বেন্তস, মাইবাখ, ডাইমলার, পরশে বা বুগাতির পাশা পাশি তাঁর নাম আজ উচ্চারিত হয় না। ইতিহাসে উপেক্ষিত হান্স লেদভিঙ্কা মোটর গাড়িকে দিয়ে গেছেন অনেক কিছু : যেমন সম্পূর্ণ স্বাধীন সাস্পেনশন সিস্টেম, বাতানুকুলিত রিয়ার এঞ্জিন, ব্যাক বোন শাসি। আজ যে গাড়িই আপনি চালান না কেন তার কোথাও না কোথাও হান্স লেদভিঙ্কার অবদান হয়তো আছে। জার্মান চ্যান্সেলর হবার পরে হিটলার যখন নেসেলসডরফ আসেন, লেদভিঙ্কা তাঁকে তাতরা টি ৯৭ গাড়িতে ঘুরিয়েছেন। তিনি লেদভিঙ্কাকে জার্মানিতে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন কি না সেটি অজ্ঞাত থেকে গেছে। কিন্তু ফারদিনান্দ পরশের প্রথম জনতার গাড়ির এয়ার কুলড (লুফতগেকুয়লট ) রিয়ার এঞ্জিন প্রথমে লেদভিঙ্কার ব্লু প্ল্যানে এবং গাড়িতেই ছিল। আমরা যাকে বিটল (জার্মান কেফার) নামে জানি সেই গাড়ির শেপের সঙ্গে আশ্চর্য ভাবে মিলে যায় লেদভিঙ্কার তাতরা টি ৯৭ !




    তাতরা T97 গাড়ি

    ফারদিনান্দ পরশের বিটল



    ১৯৩৬/৩৭ সালে পরশের নতুন গাড়ির ( তখন নাম ছিল কে ডি এফ - ক্রাফট দুরখ ফ্রয়ডে ) বিষয়টা চাউর হলে তাতরা কোম্পানি পেটেন্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে পরশের বিরুদ্ধে। ফারদিনান্দ পুরোটা অস্বীকার করেন নি ; বলেছিলেন আমরা দুজনেই একে অপরের কারখানায় উঁকি দিয়েছি মাত্র, তাকে ঠিক টোকা বলা যায় না! মামলা বেশিদূর এগোনোর আগেই হিটলার অবশ্য অন্য সমাধান করলেন – চেকোস্লোভাকিয়া দখল করে তাতরার টুঁটি চেপে ধরলেন, টি ৯৭ গাড়ির প্রোডাকশন নিষিদ্ধ হলো। ফোলকসভাগেনের পথ খুলে গেল - অটোবানের মতো উন্মুক্ত, প্রশস্ত। কিন্তু সে গাড়ি বানানোর পথে বাধা দিলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। পরশে তাঁর কারখানায় জনতার গাড়ি নয়, ট্যাঙ্ক বানানোয় মন দিলেন। অনন্য দক্ষতার সঙ্গে বানালেন নানান ট্যাঙ্ক (তার মধ্যে বিশেষ খ্যাত ট্যাঙ্ক শিকারি -পান্তসারইয়েগার), ভি টু রকেটের সরঞ্জাম – ফ্রান্সের পশ্চিম উপকূল থেকে সে রকেট নিক্ষিপ্ত হতো লন্ডনের উদ্দেশ্যে। আমাদের ফ্রান্সের গ্রামের বাড়ির কাছে বনের মাঝে সেই রকেটের কিছু লঞ্চ প্যাডের অবশেষ দেখেছি।

    হিটলারের আমলে পরশের বানানো জনতার গাড়ি বাজারে আসে নি। যুদ্ধের পরে তার প্রোডাকশন শুরু হলো- সস্তেকা আউর টিকাউ বিটল গাড়ি বিক্রি হতে থাকে লাখে লাখে - এই ব্র্যান্ড আজ অবধি দুনিয়ার গাড়ির ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বাধিক জনপ্রিয় মডেল। ১৯৭৯ সালে শেষ বিটল গাড়িটি মেক্সিকোর কারখানা থেকে যেদিন বেরিয়ে এলো ততদিনে প্রায় আড়াই কোটি বিক্রি হয়েছে।

    দুজনের দুটি পথ


    ১৯৩৭ সালে ফারদিনান্দ পরশে নাৎসি পার্টিতে যোগ দিয়ে ( কার্ড নম্বর ৫৬, ৪৩, ২৮৭ ) সত্বর এস এস ( শুতসস্টাফেল – রক্ষা বাহিনী ) ওবারফুয়েরার পদ পেলেন, এস এস রক্ষীবাহিনী তাঁর সেবায় মোতায়েন। ১৯৩৮ সালে ফোলকসভাগেন কোম্পানি স্থাপিত হলো, জনতার গাড়ির দাম নির্ধারিত - ৯৯০ রাইখসমার্ক। জার্মান সরকার জনতার কাছে আবেদন জানালেন, ‘প্রতি সপ্তাহে পাঁচ মার্ক বাঁচান, চার বছরে গাড়ি কিনুন’ ক্রেডিট কার্ড বা ই এম আই চালু হতে অনেক দেরি – প্রায় তিন লক্ষ মানুষ সেই স্কিম মোতাবেক টাকা জমা করেন। কিন্তু কেউ জনতার গাড়ি চড়তে পারেন নি, সে টাকার কোন হিসেব মেলে নি। যুদ্ধ লেগে গেছে, যাত্রীবাহী গাড়ি নয়, আরমার্ড কার ও ট্যাঙ্ক বানাতে ব্যস্ত তখন কোম্পানি। যুদ্ধবন্দির দল, কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের মানুষ তাঁর কারখানায় বিনা বেতনে কাজে বাধ্য হয়েছেন। যুদ্ধশেষে ১৯৪৫ সালে নাৎসিদের সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগে মিত্রশক্তির হাতে গ্রেপ্তার হন ফারদিনান্দ পরশে, বছর দুয়েকের কারাবাস শেষ হওয়া মাত্র ফোলকসভাগেন তাঁকে পরামর্শ দাতার পদে আসীন করে, সেই সঙ্গে অঙ্গীকার - প্রতিটি বিটল গাড়ির ওপরে তিনি পাবেন রয়্যালটি। ১৯৫১ সালে তাঁর মৃত্যুর পর সুযোগ্য পুত্র ফেরি পরশে ও জামাতা আন্তন পিয়েখ তাঁর নামের ঝাণ্ডা উঁচা রাখেন। হিটলারের বদান্যতায় পাওয়া সেই জমিতে প্রতিষ্ঠিত কারখানা আজকের ভলফসবুরগের বিশাল ফোলকসভাগেন। প্রায় এক লক্ষ মানুষ সেখানে কর্মরত, পাঁচ লক্ষ গাড়ি তৈরি হয়; সব কারখানা মিলিয়ে এখন দুনিয়ার এক নম্বর গাড়ি নির্মাতা।




    অটোস্টাড, ভলফসবুরগ


    হিটলারের চেকোস্লোভাকিয়া দখলের পরে তাতরা কোম্পানির ব্যবসা প্রায় বন্ধ। নতুন গাড়ি ডিজাইন করাটাই অর্থহীন। হান্স লেদভিঙ্কার দিন কেমন করে কেটেছে তার কাহিনি জানা যায় না। তবে তিনি কোনদিন তাঁর আপন দেশ অস্ট্রিয়া ফিরে যান নি। যুদ্ধের শেষে চেকোস্লোভাক কমিউনিস্ট সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় - অভিযোগ তিনি নাৎসি সরকারের সমর্থক ছিলেন ! তাঁর মুক্তি হলো ফারদিনান্দ পরশের মৃত্যুর কয়েকদিন বাদে ! তখন লেদভিঙ্কার বয়েস ৭৩। বন্দিদশা শেষ হওয়া মাত্র ফোলকসভাগেন ফারদিনান্দ পরশেকে অফিসের দুয়োর খুলে দিয়েছিলেন ; লেদভিঙ্কার কারামুক্তির সঙ্গে সঙ্গে হয়তো তাঁর গুণ বিচারি চেকোস্লোভাক সরকার তাঁকে তাতরা কোম্পানিতে যোগ দেবার সনির্বন্ধ অনুরোধ জানালেন। ধন্যবাদ সহকারে সে প্রস্তাব তিনি ফিরিয়ে দেন। অস্ট্রিয়া ছেড়ে যে দেশকে তিনি আপন করে নিয়েছিলেন, তিন দশক বাদে সেই চেকোস্লোভাকিয়া ত্যাগ করে চলে গেলেন মিউনিক। অবসর সময়ে হয়তো কার ম্যাগাজিন দেখেছেন, স্কেচ প্যাডে ড্রইং করেছেন কিন্তু তাঁকে আর কখনো কোন গাড়ি কোম্পানির অফিসে বা কারখানায় দেখা যায় নি।

    ভাগ্যের পরিহাসটুকু বাকি ছিল।

    ১৯৬৫ সালে পেটেন্ট চুরির বিবাদ মেটাতে অপরাধ স্বীকার না করে ফোলকসভাগেন দশ লক্ষ ডয়েচে মার্ক ক্ষতিপূরণ দেয় চেকোস্লোভাক সরকারকে। ফারদিনান্দ পরশে তখন অন্য জগতে। সাতাশি বছরের হান্স লেদভিঙ্কা তাঁর মিউনিকের বাড়ির নিরালায় বসে কি ভেবেছিলেন, সুবিচার তাহলে হলো, শেষ পর্যন্ত?

    অনেক বছর কেটে গেলে




    ফারদিনান্দ পরশে ও হান্স লেদভিঙ্কা মাঝে প্রথম মহিলা গ্রাঁ প্রি রেস বিজয়ী ড্রাইভার এলিসকা ইয়ুংকোভা



    ফারদিনান্দ পরশে ও হান্স লেদভিঙ্কা ইতিহাসে বাঁধা থাকবেন একই সূত্রে।

    সেই বন্ধনের রঙ্গমঞ্চ এককালের বোহেমিয়া মোরাভিয়া নয়, পুরনো চেকোস্লোভাকিয়ার এক অংশ, তার নাম স্লোভাকিয়া

    তাতরায় লেদভিঙ্কার কারখানা থেকে দু ঘণ্টার দূরত্বে, ব্রাতিস্লাভা শহরের প্রান্তে একুশ লক্ষ বর্গ মিটার জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে ফোলকসভাগেন গাড়ির এক বিশাল ফ্যাক্টরি, মোটর সিটি; পৃথিবীর একমাত্র কারখানা যেখানে এক ছাউনির তলায় তৈরি হয় চারটে বিভিন্ন মডেলের গাড়ি - আউডি (কুয়াত্র), পরশে (কায়েন), শ্কোডা (সুপারব), ফোলকসভাগেন (তুয়ারেগ)।

    সেখান থেকে আরেকটু পুবে, ঘণ্টা দুয়েকের দূরত্বে, মারটিন শহরে প্রায় এক লক্ষ বর্গ মিটার কারখানায় ফোলকসভাগেন বানায় মোটর গাড়ির আবশ্যিক যন্ত্রপাতি।

    ফোলকসভাগেন স্লোভাকিয়ায় বিশ হাজার মানুষ কাজ করেন, বছরে কুড়ি বিলিয়ন ডলারের গাড়ি রপ্তানি হয়, সেটি স্লোভাকিয়ার জাতীয় আয়ের সিংহভাগ।

    ডেট্রয়েট বা ডিয়ারবর্ণ দেখি নি কিন্তু কমারতসব্যাঙ্কের আমন্ত্রণে দেখেছি ভলফসবুরগের আউটোস্টাড, সিটি ব্যাঙ্কের কারণে ব্রাতিস্লাভার মোটর সিটি। তারা বহন করে শুধু গত শতাব্দীর নয়, ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ গাড়ি নির্মাতা ফারদিনান্দ পরশের অমর স্মৃতি।

    হান্স লেদভিঙ্কার তাতরার ষাট কিলোমিটার দূরে জিলিনায় তৈরি হচ্ছে কিয়া মোটর গাড়ি। তার পাশা পাশি এসেছে জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার, ফ্রান্সের পিউজো ; সব মিলিয়ে পঞ্চাশ লক্ষ মানুষের দেশ স্লোভাকিয়া বছরে বানায় বারো লক্ষ গাড়ি, মাথা পিছু হিসেবে দুনিয়ায় এক নম্বর কার মেকার।

    ফারদিনান্দ পরশে চেকোস্লোভাকিয়া ছেড়ে গেলেন জার্মানি, নিজের হাতে লিখলেন মোটর গাড়ির ভবিষ্যৎ। হান্স লেদভিঙ্কা অস্ট্রিয়া ছেড়ে গেলেন চেকোস্লোভাকিয়া, বিঘ্নিত হলো তাঁর সাধনা। পঞ্চাশ বছর কেটে গেলে এই দুই অসাধারণ এঞ্জিনিয়ারের যুগ্ম সাফল্যের আশীর্বাদ কি নেমে এলো সেই একই দেশে?

    ডিভাইন জাস্টিস?




    মোটরসিটি, ব্রাতিস্লাভা




    পাদটীকা:

    এক

    ১৯১৮ সালের আগে চেকোস্লোভাকিয়া নামের কোন দেশ ছিল না। বহু শতাব্দীর জার্মান জাতি অধ্যুষিত পবিত্র রোমান সাম্রাজ্য, পরে হাবসবুরগ জমিদারি বোহেমিয়া মোরাভিয়া ( আজকের চেক রিপাবলিকের পশ্চিম সীমান্ত ) এবং হাঙ্গেরির দক্ষিণ অংশ মিলে টোমাস মাসারিকের নেতৃত্বে এবং উইলসন ডকট্রিনের স্বায়ত্ত শাসনের প্রেরণায় এই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৩৮ সালের মিউনিক কনফারেন্সে সদাশয় ইংরেজ ও ফরাসি সরকারের কাছ থেকে হিটলার জার্মান ভাষী অঞ্চলগুলির মালিকানা পেলেন, পরে বাকি দেশটুকু দখল করলেন। মনে রাখা প্রয়োজন এই অঞ্চলের মানুষ ভাষাটা বলতেন (শহরে তাঁদের মেজরিটি) কিন্তু তাঁরা কখনো জার্মান নাগরিক ছিলেন না,তাঁদের পাসপোর্ট প্রথমে ছিল অস্ট্রিয়ান পরে চেকোস্লোভাক। হিটলার এটি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে ডাক দিলেন- হাইম ইন্স রাইখ বা ঘর ওয়াপ্সি। তার মানে এই নয় যে বাকসো বিছানা বেঁধে তাঁরা জার্মানি আসুন। তাঁরা যেখানে বাস করেন সেই অঞ্চলটুকু জুড়ে যাবে নাৎসি জার্মানির সঙ্গে (সুদেতেনলানড)।

    দুই

    ১৯০০ সালে দক্ষিণ ফ্রান্সের নিস শহরের রেস জেতার পরে অস্ট্রিয়ান ডিপ্লোমাট ও গাড়ি ব্যবসায়ী এমিল ইয়েলিনেক তাঁর বড়ো মেয়ের নামে ডাইমলার গাড়ির নামকরণ করেন ম্যারতসেডেস (স্প্যানিশে করুণা, দয়া) যা অন্য ভাষায় ‘মার্সিডিজ’ উচ্চারিত হয়। গটলিব ডাইমলারের সে নাম পছন্দ হয়। ১৯২৬ সালে দুই কোম্পানি মিলে প্রতিষ্ঠা করে ডাইমলার-বেন্তস, কিন্তু তাদের গাড়ির ব্র্যান্ড নেম ডাইমলার- বেন্তস নয়, মার্সিডিজ বেন্তস।

    কৃতজ্ঞতা স্বীকার:

    মূলত জোনাথান ম্যান্টল (কার ওয়ার্স), আন্দ্রেয়া হিওট (থিঙ্কিং স্মল)

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • ধারাবাহিক | ০৮ জুন ২০২৪ | ৫৪৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ০৮ জুন ২০২৪ ১৪:৪৯532908
  • ভীষণ ভালো লাগলো এই পর্বটা। সত্যি তাতরা গাড়ির জনকের আরো কিছুটা প্রচার পাওয়া উচিত ছিল।
  • Amit Chatterjee | ০৯ জুন ২০২৪ ২০:৪৫532962
  • অসাধারণ একটা পর্ব পড়লাম। অনেক অজানা তথ্য জানা গেল। যে পরশে গাড়ির নাম সম্প্রতি দেশের এক নিন্দনীয় ঘটনার সাথে জড়িয়ে গেছে, বহুকাল আগে এর প্রতিষ্ঠাতার সাথেও তবে কিছুটা কালিমা জুড়ে গিয়েছিল। 
  • অমিতাভ চক্রবর্ত্তী | ০৯ জুন ২০২৪ ২১:৪৭532965
  • হতচ্ছাড়া খুনিটার তাতরা গাড়ি পছন্দ হওয়া আর পরিণামে সেই গাড়ির প্রোডাকশনের টুঁটি টিপে ধরায় ইন্স্কেপ (ইন্চকেপ বা যাই হোক উচ্চারণ) রক কবিতাটি মনে পড়ে গেল।
  • Amit | 163.116.215.45 | ১০ জুন ২০২৪ ০৪:৩৯532973
  • দারুন লাগলো পড়ে। একদম কিচ্ছু জানা ​​​​​​​ছিলনা ​​​​​​​এসব ​​​​​​​নিয়ে। 
    মনে হয় প্রায় সবকটা বড়ো বড়ো কোম্পানিরই  বিশ্ব যুদ্ধের আগে পরের সময়কার কর্পোরেট রোল আর ডিক্টেটরিয়াল রেজিমে গুলোর সাথে এদের হবনবিং এর ইতিহাস বেশ গন্ডগোলের। দু পক্ষকেই এরা প্রোডাক্ট বেচে প্রফিট কামিয়েছে আর দুদিক এর সরকার গুলো র থেকেই নানাভাবে ম্যানিপুলেট করে নিজেদের মনোপোলি বাড়ানোর সুযোগ নিয়েছে।
     
     
  • Rouhin Banerjee | ১১ জুন ২০২৪ ০১:২২533001
  • মন ভরে গেল। এই ইতিহাসের কিছুই জানতাম না। আমার ধারণা ছিল প্রথম মোটরগাড়ির পেটেন্ট হেনরি ফোর্ড নিয়েছিলেন।
  • শিবাংশু | ১২ জুন ২০২৪ ১১:৫১533055
  • নিজের ছোটোবেলা মনে পড়ে গেলো। ডাইমলার এবং বেনৎ্স নামগুলির সঙ্গে আজন্ম পরিচিত আমরা। আমাদের এখানে বলা হতো ডেমলার বেন্জ। 

    জামশেদজি টাটার সময় থেকেই এই পরিবারের যা কিছু 'ব্রিটিশ', তার উপর তীব্র বিরাগ ছিলো। তাঁরা সংস্কৃতিগত ভাবে ফরাসি জাতি এবং কারিগরি কৌশলের জন্য জর্মনদের অনুরক্ত ছিলেন। ওই পরিবারের বহু সদস্য ফরাসি নারীর পাণিগ্রহণ করেছিলেন। স্বয়ং জে-আর-ডি'র মাতা ও পত্নী  ছিলেন ফরাসি মহিলা। রতন টাটার সৎমা সুইস ফরাসি মহিলা।  

    এদেশের প্রথম ভারি গাড়ি বানাবার কারখানা জে-আর-ডির প্রয়াসে তৈরি হয়েছিলো জামশেদপুরে। কারিগরি বিদ্যাটি এসেছিলো জর্মনদের থেকে। তাঁদের সাহায্যে ১৯৫৪ সালে টাটা এদেশে প্রথম ট্রাক নির্মাণ করেন। ব্র্যান্ডের নাম টাটা মার্সিডিস বেন্জ। আমার পিতৃদেব সেই কারখানায় যোগদান করেন ১৯৫৫ সালে। 'মার্সিডিস' (উচ্চারণ হয়তো অন্য রকম হবে) নামটি নিয়ে বহুদিন ধন্দে থাকতুম। এটা তো ফরাসিদের নাম (মানে, সেরকমই জানতুন তখন) । পরে জানলুম বিখ্যাত অস্ট্রিয়ান শিল্পপতি এমিল জেলিনেক বেনৎ্সের থেকে 'মোটোরভাগেন' নামের ব্র্যান্ডটি কিনে নিয়ে নিজের কন্যা মার্সিডিস-এর নামে কোম্পানি বানিয়েছিলেন। জেলিনেক ছিলেন ইহুদি। মার্সিডিস মাত্র ঊনত্রিশ বছর বয়সে ক্যান্সারে মারা যান। মার্সিডিস-বেন্জ ব্র্যান্ডটির মালিক ডেমলার-বেন্জ। তাঁদের সঙ্গেই টাটাদের চুক্তি হয়েছিলো। টাটাদের কোম্পানির নাম ছিলো টাটা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড লোকোমোটিভ কোম্পানি। সংক্ষেপে 'টেলকো'। বর্তমানে টাটা মোটর্স। 

    আমাদের দেশের গাড়ি-শিল্পে প্রথম থেকেই জর্মনদের বিশেষ অবদান আছে। 
     
  • হীরেন সিংহরায় | ১২ জুন ২০২৪ ১৪:৪৭533059
  • টাটার ও মারসিডিজ বেন্তসের ইতিহাসটি স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ শিবাংশু ।  ট্রাকের সামনে একটি বৃত্তের মাঝে সেই  T লেখা সিম্বল খুব মনে পড়ে । এই প্রসঙ্গে আমার একটি পারিবারিক এবং ব্যক্তিগত কাহিনি আছে ! আমার জেঠতুত দাদা প্রয়াত তপন সিংহরায় ( জার্মানিতে শিক্ষিত, আমাদের পরিবারের প্রথম বিদেশ ফেরত ) টাটা -মার্সিডিজ বেন্তসের গোড়ার দিকে জামশেদপুরে যোগ দেন তোমার বাবার সম সাময়িক হবেন। । দ্বিতীয়ত 0তোমার মনে থাকতে পারে নব্বুইয়ের দশক অবধি ভারতীয় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের বিদেশের বাজারে সিনডিকেটেড লোন মারফত ডলার তোলার অনুমতি ছিল না ( ব্যতিক্রম অবশ্যই ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশান ) । ১৯৯৪ সালে TELCO সেই অনুমোদন পেলে সিটি ব্যাঙ্ককে তাদের ম্যানডেট দেয়। কোন ভারতীয় কর্পোরেটকে আন্তর্জাতিক  ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কিঙ্গের বাজারে প্রথম নিয়ে আসার ক্রেডিট আমাদের আর  তার সঙ্গে জড়িত থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল এই অধমের । পরবর্তী কালে সেই ক্রেডিটের সুনামে অনেক দরোজা খুলে যায় !  

    আরেকটা অপ্রয়োজনীয় তথ্য – এমিল ইয়েলিনেক ১৯০২ সালের পরে আমৃত্যু  নিজের নাম বদলে দিয়ে এমিল ইয়েলিনেক-মারসিডিজ লেখেন ।   মারসিডিজের বিবাহিত  জীবন সুখের হয় নি , অত্যন্ত দারিদ্র্যের মধ্যে মাত্র চল্লিশ বছর বয়েসে মারা যান  ভিয়েনার ইহুদি সমাধিক্ষেত্রে সমাহিত ।  তাঁর নিজের কখনো কোন মারসিডিজ গাড়ি ছিল না।
     
  • হীরেন সিংহরায় | ১২ জুন ২০২৪ ১৫:১৮533062
  • টেলকোর লোন সই করতে বিমান মুখার্জি এবং সি রামা কৃষ্ণন ( পরে টাটা মোটরসে বিশাল দায়িতব সামলেছেন ) লন্ডন এলে তাঁদের শহর ঘুরিয়ে দেখাই। বিমানের ওরলি সী ফ্রন্টের বাডি গেছি । এখন  পুনেয় থাকেন। তাঁর স্ত্রী সুন্দর রবীন্দ্র সঙ্গীত গাইতেন । 
  • সমরেশ মুখার্জী | ১২ জুন ২০২৪ ১৫:৩১533063
  • সুলিখিত নিবন্ধ। অনেক কিছু জানলাম।

    মনে হয় সামান্য সংশোধন প্রয়োজন এখানে - "ব্রাতিস্লাভা শহরের প্রান্তে একুশ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার"   এবং  "মারটিন শহরে প্রায় এক লক্ষ বর্গ কিলোমিটারের কারখানায়" - - - মনে হয়  ইউনিট বর্গমিটার হবে।

    প্রসঙ্গত Tatra 4x4 থেকে 8x8 বা তার‌ও বেশী All Wheel Drive Heavy Duty Military Trucks বানায়। 
    সূত্র- https://en.wikipedia.org/wiki/Tatra_815-7
     
    একবার ভিসকভারি চ‍্যানেলে দেখেছি‌লাম অমন একটা Tatra 8x8 Off-road truck নিয়ে কিছু সৈন‍্য এক অতি দূর্গম পাহাড়ের বেস ক‍্যাম্পে যাচ্ছিল। আটখানাই ড্রাইভ হুইল বলে আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব জায়গা দিয়ে যাচ্ছিল ট্রাক‌টা।

    BEML (Bharat Earthmovers Ltd) এর সাথে যৌথ‌উদ‍্যোগে ভারতে তৈরী হচ্ছে Tatra Military Trucks. 2016 সালের হিসেবে ভারতীয় সেনাবাহিনী‌তে আনুমানিক 8000 Tatra Trucks ছিল‌।

    ভারতীয় সেনাবাহিনী‌তে এককালে 4x4 মিডিয়াম ক‍্যাপাসিটির Shaktiman Truck খুব চলতো যা আসলে জার্মানির MAN (Maschinenfabrik Augsburg-Nürnberg) কোম্পানির MAN-415 মডেলের ভিত্তিতে জব্বলপুর ডিফেন্স ভেহিকল ফ‍্যাক্টরিতে তৈরী হয়েছে 1959 থেকে 1996. 

    নিবন্ধের প্রসঙ্গ ছিল গাড়ি, চলে গেলাম মিলিটারী ট্রাকে। আসলে ঐ MAN কোম্পানি‌র মালিকানা‌ও যে দেখলাম বকলমে Volkswagen এর হাতে। অর্থাৎ সব পথে এসে মিলে গেছে শেষে স্লোভাকিয়ায় ফোলকসভাগেনে ...

     

     
  • হীরেন সিংহরায় | ১২ জুন ২০২৪ ১৫:৫৫533065
  • অনেক ধন্যবাদ! অবশ্যই বর্গ মিটার হবে! ত্রুটি সংশোধন করে নিচ্ছি । 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল মতামত দিন