এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  ইতিহাস  শনিবারবেলা

  • পূর্ব ইউরোপের ডায়েরি – কাজাখস্তান ১

    হীরেন সিংহরায়
    ধারাবাহিক | ইতিহাস | ২৬ নভেম্বর ২০২২ | ৯২৮ বার পঠিত | রেটিং ৪.৭ (৩ জন)
  • সকালবেলা হোটেলের জানলা থেকে আলমাতির পাহাড়


    যাযাবরের দেশে



    আমাদের বিজনেস কার্ড দেওয়া নেওয়ার পর্ব শেষ হলে কফি এল।

    কফি পানের সময় আমার হোতাকে বললাম, “বাঃ! আপনার নামটি তো ভারি সুন্দর”।

    মহিলার চমকাবার পালা। অবিশ্বাসের সুরে বললেন, “আপনি কাজাখ ভাষা জানেন নাকি? বলুন তো এর মানে কি?”

    খানিকটা চিন্তার ভান করে বললাম, “আপনার নাম ‘আসলে’। এর অর্থ সত্য, বাস্তব, জরুরি”। তিনি আকাশ থেকে পড়লেন। কৌতূহলের শেষ নেই।

    “কী করে জানলেন?”

    অল্প বিদ্যে প্রদর্শনের তীব্র বাঙালি বাসনা ত্যাগ করা গেল না।

    “কর্মসূত্রে তুরস্কে আসা যাওয়া আছে। সেখানে এই নাম প্রায় শুনি এবং এই শব্দটিকে আমরা আমাদের ভাষাতেও চিনি (আসল)। মুঘলরা তাঁদের মুখের ভাষা চাঘতাই তুর্ক ভারতবর্ষে নিয়ে আসেন। উজবেকিস্তানের ফরঘনা হতে আগত প্রথম সম্রাটের আত্মজীবনী, বাবুরনামা, সেই ভাষায় লেখা। আমাদের অজান্তে এমন কিছু শব্দ আমরা ব্যবহার করি, যা মধ্য এশিয়ার মরুভূমি থেকে এসেছে যেমন চমক, কাঁইচি, কুলি, বাগী (বিপ্লবী), বেগম। আমরা মনেও রাখি না সেগুলি তুর্কিক। ‘আসলে’ নামটার মূল তুর্কিক না হতে পারে তবে তুরস্কে খুব সচল। সে ভাষা ল্যাটিন হরফে লেখা বলে পড়তে অসুবিধে নেই। তবে আপনারা তো ল্যাটিন এবং সিরিলিকেও লেখেন”।

    কাকপক্ষী জাগেনি এমনি ভোরে উঠে লন্ডনের হিথরো যাত্রা; সেখান থেকে সরাসরি কোনো পরিবহন নেই। অতএব ফ্রাঙ্কফুর্টে প্লেন বদলির পালা। সেথায় উড়ন্ত হাঁস বা লুফতহানসার উড়ো জাহাজে সাত ঘণ্টা সওয়ার হয়ে গত রজনীর মধ্যযামে আমার চেনা ম্যাপের অনেক বাইরের এক দেশ, কাজাখস্তানে পৌঁছেছি। ভৌগোলিক দূরত্ব এবং সময়সীমায় বিপুল পার্থক্যের কারণে একটা গোটা দিন কেটে গেছে এই যাত্রায়। তবে আকাশভ্রমণ বড় সুখের। মোবাইল সেখানে বাজে না, শূন্যে বিরাজ করে অখণ্ড শান্তি।

    আজ সকালের প্রসন্ন আলোয় ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলের আটতলার জানলা থেকে চোখে পড়ল দিগন্তের পর্বতমালা।



    আলমাতি আকাশ পাহাড়


    এলেম নতুন দেশে।

    জাতখসান স্ট্রিটের হোটেল থেকে আবায় এভিনিউতে হালুক ব্যাঙ্কের হেড অফিস প্রায় ন’ কিলোমিটার। তিন লেনের রাস্তা একেবারে সরলরেখায় মেপেজুপে বানানো। আজ এই নয় সকালে ব্যাঙ্কের মিটিঙে তিন বছরের মেয়াদে পাঁচ কোটি ডলারের সুদের হার কী হতে পারে সেটি ছিল বিবেচ্য বিষয়।

    আমাদের আলোচনা এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে চলে গেল। পরের এক ঘণ্টায় আরও দুটো কফি সহযোগে তিনি একটি চমৎকার ভাষাতত্ত্বের ক্লাস নিলেন; পরে জেনেছিলাম ব্যাঙ্কে যোগ দেবার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে তুর্কিক চর্চা করেছেন।

    আসলে বললেন, “আপনার দেশে তুর্কিক খানিকটা বিবর্তিত, আর সেই সূত্রে তুরস্কে শব্দের যে ছন্দ শুনেছেন তার সঙ্গে মেলাবার চেষ্টা করেছেন। অর্থাৎ আপনি শেষ থেকে শুরু করেছেন। মোঙ্গলদের ভাষা প্রাচীন তুর্কিক। মঙ্গোলিয়ার মিউজিয়ামে গেলে নবম শতাব্দীর অখরণ শিলালিপিতে প্রথম লিখিত তুর্কিক দেখতে পাবেন। সে লিপি অনেকটা রুনিক স্টাইলের। ৭ম শতাব্দী হতে যে মোঙ্গল বাহিনী আর্কটিক তুন্দ্রা, মঙ্গোলিয়া থেকে আজকের ক্রিমিয়া, তুরস্ক, বসনিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল ভূখণ্ডে ধেয়ে আসে, বাসা বানায় তাদের সকলের ভাষার জননী সেই প্রোটো তুর্কিক। আপনাদের দেশেও তাঁরা গেছেন সেই একই ভাষা বয়ে! লিপি আলাদা (রোমান, সিরিলিক, আরবি), লেখার ধরন আলাদা (ডান দিক থেকে বাঁ দিক বা তার বিপরীত)। শব্দচয়ন নানামুখী। কিন্তু শেকড়টি থেকে গেছে। ক্রিমিয়ান তাতার স্বচ্ছন্দে গল্প করেন উজবেকি খানের সঙ্গে — ভৌগোলিক দূরত্বটা ভাবুন! ভাষার গড়ন, ব্যাকরণ প্রায় অপরিবর্তিত থেকে গেছে এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে, আমাদের পাঁচটি স্তান, তুরস্ক, সাইপ্রাসে, কসভো, কুর্দিস্তান, ইউক্রেন, সিরিয়াতে। বিশাল বাহিনির দীর্ঘ যাত্রায় তুর্কিক নিঃশব্দে কুড়িয়ে নিয়েছে, আত্মসাৎ করেছে বহু বিদেশি শব্দ। অটোমান সুলতানরা তাঁদের মুখের বুলিকে নিতান্ত গেঁয়ো মনে করতেন। কখনো আদেশ হয় সে ভাষাকে আরবি ফারসিতে চুবিয়ে একটু সভ্য ভদ্র করার, যার ফলে আজকের তুর্কি ভাষার শব্দ সংগ্রহ পুবের তুর্কিক ভাই বেরাদরকে খানিকটা দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

    আপনি হয়তো একটা মজার গল্প শুনবেন আপনার তুর্কি বন্ধুদের কাছে। ইস্তানবুলের প্লেন বাকুতে (আজারবাইজান) অবতরণকালে যে ঘোষণা বিমান বালিকা আজেরি ভাষায় করেন, সেটি তুর্কিদের হাস্য উদ্রেক করে থাকে। আজকের তুরস্কের লোকের কাছে বালিকার সেই বার্তা শোনাবে, “আপনারা আপনাদের আসনের কোমরবন্ধ শক্ত করে লাগান। আমাদের হাওয়াই জাহাজ এখন বাকুতে ভেঙে পড়ছে!” একই গল্পের বক্তা আপনাকে এ-ও বলবেন, যে বিকেলবেলা নাগাদ তিনি সবিস্ময়ে লক্ষ করেন আজেরিদের কথাবার্তা তাঁরা মোটামুটি বুঝতে পারছেন। কেবল হোটেল দোকান-বাজারে নয়, বিজনেস মিটিঙেও। তিনি তুর্কি। কিন্তু অসুবিধে হয় না আজেরিদের সঙ্গে বাক্যালাপে!”

    তুলনামূলকভাবে আমি উর্দু আর হিন্দির কথা তুললাম। ভালো হিন্দি জানা মানুষ কোনো উর্দুভাষীর সঙ্গে গপশপ করতে পারেন অনায়াসে।

    মনে হয় চতুর্থ মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গির (নামটা ইস্তানবুলে আকছার দেখেছি) প্রাসাদের তুর্কি বুলি আর দিল্লি আগ্রার বাজারের মেঠো হিন্দুস্তানি শুনে শুনে ক্লান্ত হয়ে পারস্য থেকে আনিয়েছিলেন বিদগ্ধ দরবারি, কবি, সংস্কৃতি, স্থপতি এবং সৈন্য। এই সংমিশ্রণের অন্যতম পরিণাম আরবি ফারসি ভেজানো উর্দু ভাষা (শব্দটির মূল তুর্কিক – অরদু) – হিন্দুস্তানি ও পারসিক সৈন্য দিনের বেলা একসঙ্গে লড়াই করেছে, সান্ধ্য শিবিরে আড্ডা দেবার সময়ে নিজের অজান্তে কাজ চালানোর জন্যে শিখে ফেলেছে একে অপরের বুলি। এমতাবস্থায় অন্য দেশে পিজিন ভাষা উৎপন্ন হয়েছে; যথা মরিশাস, গায়ানা, ক্যারিবিয়ান। এখানে তা হয়নি। জন্ম নিয়েছে একটি নতুন ভাষা। উর্দু গ্রহণ করলো আরবি/ফারসি অক্ষরমালা, তাদের বিশেষ্য, বিশেষণ। কিন্তু বিসর্জন দিল না হিন্দুস্তানি ব্যাকরণ, প্রতিদিনের চিরচেনা শব্দের সম্ভার।

    আমার এই নাতিদীর্ঘ বক্তৃতা শুনে আসলে বললেন, ঠিক সেই রকম কাজাখ, উজবেক, তাতার বা তুর্কমেন অনায়াসে একত্রে কফির আড্ডায় বসতে পারে। সেখানে ইস্তানবুল আঙ্কারার মানুষ সম্পূর্ণ রসগ্রহণ করতে না পারলেও, আশি শতাংশ বুঝবেন। এই সঙ্গে বলে রাখি: আমি তোমায় ভালবাসি এই বাক্যটি তুর্কি, কিরঘিজ, উজবেক, তুর্কমেন, তাজিক, কাজাখ, চিনের উইঘুর – সব ভাষাতে প্রায় এক। লিখতে ও শুনতে।
    সেনি সেভিওরুম!

    মনে পড়ে গেল ১৯৯৩ সালের কথা। সেন্ট পিটার্সবুর্গ বিমান বন্দরে হেলসিঙ্কির প্লেনের অপেক্ষায় বসে আছি। সামনের দেওয়ালে চোখে পড়ল একটা বিশাল পোস্টার। তুরস্ক বায়ু সংস্থার (তুর্কিয়ে হওয়া ইওলারি) বিজ্ঞাপন – আমরা আমাদের দিগন্ত প্রসারিত করছি। এখন আমরা উড়ে যাচ্ছি বাকু, তাসকেন্ত, আশগাবাত, আলমাতি, বিশকেক!

    তাস মানে পাথর, কেন্ত হল শহর। তাসকেন্ত – পাথুরে শহর বা পাথরের শহর।

    কমিউনিস্ট ইউরোপের দরোজা-জানালা সবে খুলেছে আর তুরস্ক আবিষ্কার করে চলেছে তাদের পুবের শেকড়। তারা তো ইউরোপের নিকটতম প্রতিবেশী। কেউ মনে রাখেন না ১৯৬৩ সালে তুরস্ক দেশকে ইউরোপীয় কমন মার্কেটের সহযোগী সদস্য পদ দেওয়া হয়েছিল, এক দশকের ভেতরে পূর্ণ সদস্যপদে প্রোমোশন দেবার আশ্বাস সহ। সেই সাধারণ বাজারের কেলাবের সদস্য সংখ্যা তখন ছয়; আজকের ইউরোপীয় ইউনিয়নে সাতাশ। তুরস্ক আজো সদস্যপদ পায়নি। সে ব্রাত্য রয়ে গেল।

    তাই তুরস্ক আজ পুবমুখী। মন চল নিজ নিকেতনে।

    হালুক (তুর্কি হালক ও কাজাখে হালুক – মানুষ বা জনতা) ব্যাঙ্কের অফিসে আসলে সাদিরবায়েভার সঙ্গে আলাপ চলেছিল নির্ধারিত সময়কে অনেকটাই অতিক্রম করে।



    আলমাতি


    কাজাখস্থানের তৎকালীন রাজধানী আলমাতিকে আমরা স্কুল বইতে (সোভিয়েত আমলে) আলমা আটা নামে জানতাম। এ শহর আপেলের জন্য বিখ্যাত। স্থানীয় বয়ান অনুযায়ী কাজাখ আমাদের দিয়েছে আপেল। স্বাধীনতার কয়েক বছর বাদে, ১৯৯৮ সাল নাগাদ, তুরান ও আলেম নামে দু’টি ব্যাঙ্ককে মিলিয়ে ব্যাঙ্ক তুরান আলেম বা বিটিএর আবির্ভাব হয়। সে সময় ব্যাঙ্ক তুরান আলেম প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে একটি মহতী আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্কিং সভার আয়োজন করতেন। সালটা লক্ষ করা দরকার। ২০০৬! সুদের হার কম। বিশ্ব জুড়ে ব্যাঙ্কিং ব্যবসা সেই সস্তার ধনকে লাভজনক কাজে খাটাতে উদব্যস্ত। কাজাখস্তানের রেটিং বা অর্থনৈতিক অবস্থানের মান বেশ উঁচুতে। পুরোনো সোভিয়েত ইউনিয়নের ১৫টি দেশের ভেতরে রাশিয়ার পরেই কাজাখের স্থান – আকারে, উন্নয়নে, ব্যাঙ্কিংয়ে (জাতীয় আয়ে ইউক্রেন)। তার মুখ্য মূলধন মাটির তলায় সঞ্চিত ধনরত্ন। আমাদের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাঙ্ক সেই ধনরত্নের কারবারে আমন্ত্রিত হত না। সেটি অন্য কিছু ইউরোপীয় এবং আমেরিকান ব্যাঙ্কের কবলে। কাজাখি ব্যাঙ্কেরও প্রবেশাধিকার ছিল না। দুঃখ মেটাতে আমরা টেকসাকা নামক একটি কাজাখি ব্যাঙ্ক কেনার চেষ্টা করি ২০০৭ নাগাদ। পরে বুঝেছি নিতান্ত ভাগ্যের জোরে আমাদের সে প্রচেষ্টা অসফল হয়!

    অগত্যা ঘোরাঘুরি করি কাজাখ ব্যাঙ্কগুলিকে অর্থ সরবরাহ করার উদ্দেশ্যে। সরাসরি আলমাতির সুপার মার্কেট, স্থানীয় আইটি কোম্পানি বা বাজারের ব্যাপারিকে ধার দিতে পারি না। আমাদের কোনো শাখা সেখানে নেই, জানাশোনা কম। কিন্তু স্থানীয় ব্যাঙ্কগুলিকে ঋণ দিতে পারি কারণ ব্যাঙ্কেরা অন্য ব্যাঙ্ককে বোঝে। একই ডালের পাখি তো। সেই ব্যাঙ্ক দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে টাকা ধার দেবে – পরের ধনে পোদ্দারি।

    ব্যাঙ্ক তুরান আলেমের বার্ষিক ব্যাঙ্কিং সমারোহে সারা বিশ্ব আমন্ত্রিত হত। ইউরোপ-এশিয়ার বাইরের খুব কম ব্যাঙ্ককে দেখেছি। তবে লন্ডন ফ্রাঙ্কফুর্ট প্যারিসের পাশাপাশি রাশিয়ান, বালটিক, তুরস্ক, বলকান, আজেরি, তুর্কমেন, কিরঘিজ, উজবেক ও তাজিক ব্যাংকারের সঙ্গে দিন তিনেকের এ মেলায় মোলাকাতের অখণ্ড অবসর, ফলে বাড়তি প্লেন টিকেটের খরচা বেঁচে যায়। দুটো ধান্দা এবং ভবিষ্যতের দারু পানির জোগাড় হয়; আলমাতির ইনটার কনটিনেনটাল হোটেলে রুস্তম ইব্রাহিমোভ নামের এক ব্যাঙ্কারের সঙ্গে ব্রেকফাস্টের সময়ে একটি আজেরি ডিলের চিন্তা আমাদের মাথায় আসে।
    নানা রকম পার্টি আর পানের সুযোগ তো আছেই।

    দেশটার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় অবিশ্যি এক দশক আগে। ১৯৯৫ সালে জার্মানির কমেরতস ব্যাঙ্ক একটি কাজাখি প্রতিষ্ঠানের জন্য ঋণের আয়োজন করে; ঋণগ্রহীতার নাম কাজকমারৎস ব্যাঙ্ক। তাদের ল্যাজ ধরে সিটি ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে সংযুক্ত ঋণপত্রে সই করতে গিয়ে ফ্রাঙ্কফুর্টে আমার সাক্ষাৎ হয় কাজাখস্তানের সঙ্গে! আন্তর্জাতিক ঋণের বাজারে তাঁদের সেই প্রথম প্রবেশ। আমাদের ব্রাঞ্চ খুলতে দেরি আছে – মস্কো অফিস থেকে কাজাখের সেবা চলে। একটি দু’টি বানিজ্য ক’রে একটা নতুন দেশকে চেনার চেষ্টা চলছে। সেদিকে এটি আমাদের প্রথম পদক্ষেপ। কাজকমারৎস ব্যাঙ্কের প্রতিনিধির নাম সুলতানবেকভ! ইসলামিক নাম সুলতান, তাকে একটি রাশিয়ান চেহারা দেয়া হয়েছে। পরে দেখেছি মোটামুটি সব কাজাখ নামের ধরনটি তাই! প্রথম নামটি রাশিয়ান বা তুর্কিক কায়দায় কিন্তু পদবী ইসলামিক নামের রাশিয়ান সংস্করণ। তখনকার (২০০৬) মন্ত্রীসভার কয়েকটি নাম:
    ডানিয়াল আখমেতভ (আহমেদ থেকে)-
    রাখাত আলিয়েভ (আলি)
    ওরালবে কারিমভ (করিম)

    কখনো বা প্রথম নামটি রাশিয়ান।

    মেয়েদের নাম রাশিয়ান ও তুর্কিক, দুই ধরনের। কিন্তু পদবীটি হবে রাশিয়ান স্টাইলে স্বামী বা পিতার নাম অনুযায়ী ওভা অথবা এভা। যেমন গুলনারার পুরো নাম গুলনারা গালিমোভা। আর এক মন্ত্রী নাতালিয়া করজোভা! প্রায় তিরিশ বছর যিনি রাষ্ট্রপতির আসন অলঙ্কৃত করেছিলেন তাঁর নাম নুর সুলতান নজরবায়েভ। তাঁর এক মেয়ের নাম দিনারা নুরসুলতানোভনা নজরবায়েভা – তিনি বিলিওনেয়ার। নতুন রাজধানীর নাম নুর সুলতান। যেমনটি সচরাচর হয়ে থাকে!

    সুলতানবেকভকে জিগ্যেস করি আমাদের এই ঋণপত্রের অনুবাদ কোন ভাষায় হবে। তিনি বললেন কেন, রাশিয়ানে!
    কাজাখ নয় কেন? তিনি বলেছিলেন, সেটা এখনো পদে আসেনি! তবে নতুন সরকার সিরিলিক লিখন থেকে ল্যাটিনে উত্তরণের উদ্যোগ নিয়েছেন, যেমন ১৯২২ সালে কামাল আতাতুর্কের তুরস্কে আরবি থেকে হয়েছিল।
    সেটার কাজ অর্ধেক এগিয়েছে, আজো (২০২২) সম্পূর্ণ হয়নি।

    কাজাখ এসেছে তুর্কিক শব্দ ‘কাঝ’ থেকে, যার অর্থ ভ্রমণ। স্তান ফারসি শব্দ। ভ্রমণকারীদের দেশ বা যাযাবরের দেশ! এই একটা শব্দের ভেতরে গভীর অর্থ ও ইতিহাস নিহিত আছে। এটি এক বিশাল স্টেপ ভূমি, প্রান্তর। দিগন্ত থেকে দিগন্তে প্রসারিত, মনে করিয়ে দেয় সেই কোন ছোটবেলায় শোনা উৎপলা সেনের ‘প্রান্তরের গান আমার’ আর তার দু’টি লাইন–
    মেঘলা দিনের স্বপন আমার ফসল বিহীন মন কাঁদায়
    অন্তবিহীন পথের পুঁজি অন্তরেরই সান্ত্বনায়

    সলিল চৌধুরী কি এসেছিলেন এই স্টেপ ভুমিতে?



    ক্রমশঃ
  • ধারাবাহিক | ২৬ নভেম্বর ২০২২ | ৯২৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Arkaprovo Ghosal | 174.2.252.175 | ২৭ নভেম্বর ২০২২ ০২:৫১514193
  • time travel. It is amazing to know  few pearls from an erudite scholar like yourself. Keep going, sir. 
  • হীরেন সিংহরায় | ২৭ নভেম্বর ২০২২ ১১:৩৬514199
  • ধন্যবাদ ! আমি কোন স্কলার নই- এই জীবনে যা দেখার সুযোগ পেয়েছি  তারই দুটো গল্প বলি। আপনাদের ভালো লাগলে আমার লেখা সার্থক । 
  • Kishore Ghosal | ২৭ নভেম্বর ২০২২ ১৩:২০514200
  • আপনার চোখ দিয়ে নতুন নতুন দেশ দেখার মজাই আলাদা - সে দেশের রকম-সকম, ভাষা, কিছু অর্থনীতি, ইতিহাসের টুকরো...সব মিলিয়ে - মজানার খাজানা - মজার মধ্যে দিয়েই উন্মুক্ত হয় জানার ভাণ্ডার। 
     
  • Ranjan Roy | ২৭ নভেম্বর ২০২২ ২০:২৬514202
  • Ditto!
  • :|: | 174.251.162.15 | ২৯ নভেম্বর ২০২২ ০৯:৫৯514232
  • জানতামই না কাজাগস্তান পূর্ব ইউরোপের দেশ! 
  • :|: | 174.251.162.15 | ২৯ নভেম্বর ২০২২ ১১:৪১514233
  • তবে এই না অজ্ঞতা সাপোর্টেড বাই গুগুল। ইস্ট ইউরোপিয়ান কান্ট্রি দিয়ে সার্চ করলে যে-যে দেশের নাম দেখাচ্ছে তার মধ্যে কাজাখস্তান নাই। 
  • &/ | 107.77.232.58 | ২৯ নভেম্বর ২০২২ ১২:৩৭514236
  • পাহাড় ও স্তেপের আখ্যান ----প্রিয় বইটার কথা মনে পড়ে গেল। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে মতামত দিন