এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  ইতিহাস  শনিবারবেলা

  • পূর্ব ইউরোপের ডায়েরি - পূর্ব জার্মানি ৩

    হীরেন সিংহরায়
    ধারাবাহিক | ইতিহাস | ২৮ মে ২০২২ | ১১৮২ বার পঠিত | রেটিং ৪.৫ (২ জন)
  • দেওয়ালে শাবলের ঘা - ৯/১১/১৯৮৯


    অন্যদিনের ভোরে


    দেওয়াল ভাঙার প্রস্তুতি অনেক দিনের ।

    আমার বন্ধু অরটউইন এককালের সুদেতেনলানড – বর্তমান চেকের মেলনিক শহরে কাকার বাড়ি গিয়েছিল। ভোরের দিকে কাকিমা তাকে ঘুম থেকে তুলে বলেন, রাশিয়ানরা ঢুকে পড়েছে। তুমি এখুনি গাড়ি নিয়ে পালাও ফ্রাঙ্কফুর্ট। আগস্ট মাস, আকাশে একটু আলো দেখা দিয়েছে। মেলনিক থেকে নুরেমবের্গের পথ তার চেনা। কিন্তু কে বা কারা যেন রাস্তার সাইনবোর্ডগুলোকে উলটো মুখে ঘুরিয়ে দিয়েছে ব্রুইন দেখাচ্ছে উত্তরে, প্রাগ দক্ষিণে! রাশিয়ান ট্যাঙ্ককে লক্ষ্যভ্রষ্ট করার জন্য চেক প্রতিরোধের কাজ ছিল সেটি। মেলনিক থেকে কার্লসবাদ হয়ে চেবের জার্মান সীমান্ত পৌঁছুতে ঘণ্টাদেড়েক – অরটউইন হলফ করে বলে সেদিন চেক সীমান্তে কোনো প্রহরী ছিল না।

    প্রাগে রাশিয়ান বাহিনীর আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গে শীতের অন্ধকার নেমে এল, কেবল প্রাগ নয়, সারা পূর্ব ইউরোপে।

    প্রাগের বসন্তের (প্রাগার ফ্রুইলিং) দিন ফুরোলো। আগস্ট ১৯৬৮।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ইউরোপকে ভাগ করে দিয়েছিলেন তিন মহামতি; তারপর থেকে পুব আর পশ্চিমের মুখ দেখাদেখি বন্ধ রইল পুরো চার দশক। এই লৌহ-যবনিকা উত্তোলনের দাবিতে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল – হাঙ্গেরি ১৯৫৬, চেক ১৯৬৮। আরও শক্ত লোহায় তৈরি রাশিয়ান ট্যাঙ্ক এসে তার মোকাবিলা করে। আটের দশকে পোল্যান্ডে মানুষেরা রাস্তায় নামলেন – তাঁরা এই লৌহ-যবনিকায় যে হাতুড়ির আঘাত হেনেছিলেন, তার আওয়াজ থামাতে শ্রমিক-কৃষকের স্বর্গরাজ্য থেকে কোনো সাঁজোয়া গাড়ি ওয়ারশ-র পথে দেখা দেয়নি।

    গোটা ১৯৮৯ সাল জুড়ে পূর্ব ইউরোপে, বিশেষ করে পূর্ব জার্মানির পথে পথে বিক্ষুদ্ধ জনতা – তাদের প্রাথমিক দাবি যাতায়াতের স্বাধীনতা। হাঙ্গেরি এবং চেকোস্লোভাকিয়া যেতে কোনো বাধা নেই – সাম্যবাদের লড়াকু সেপাই তারা। জুন মাস নাগাদ হাঙ্গেরি আর অস্ট্রিয়ার মাঝের কাঁটাতার নির্মূল হলে’পর মুক্ত পৃথিবীতে যাওয়ার আশায় হাজার হাজার পূর্ব জার্মান ভিড় করেছেন প্রাগ ও বুদাপেস্টের পশ্চিম জার্মান এমব্যাসিতে।

    সোভিয়েত ইউনিয়নের কর্তা মিকাহিল গর্বাচেভ পেরেস্ত্রইকার মাদুলি পরে গ্লাসনস্তের মালা ঘুরোচ্ছেন।
    রাশিয়ান ট্যাঙ্কের দেখা নেই।

    অদম্য ইহুদি কৌতুক তার ব্যাখ্যা দিয়েছিল।

    মাংসের দোকানে কিছুই না পেয়ে নাথান চেঁচামেচি করেছে। তৎক্ষণাৎ কেজিবি-র লোক তাকে বেঁধে নিয়ে গেল মস্কোর লুবিয়াঙ্কা স্কোয়ারের অফিসে।
    অফিসার গ্রোনেনকো: কমরেড নাথান অলেগোভিচ! কমরেড স্টালিনের আমলে এ ধরনের মন্তব্য করলে গুলি খেতেন। আমরা অতটা নিষ্ঠুর নই। তবে সাবধান করে দিচ্ছি – মনের কথা মনেই রাখুন। চেঁচামেচি করে পাড়া মাত করবেন না।
    নাথানের ধরা পড়ার খবর শুনে উদ্বিগ্ন পড়শি নাফতালি খবর নিতে এসেছে।
    নাথান: ভাবিস না। দোকানে মাংস নেই, কিন্তু কেজিবি-র বন্দুকের গুলিও শেষ।

    বার্লিন দেওয়াল তখনও আপন মহিমায় বিরাজিত। পূর্ব জার্মানির দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রনেতা এরিখ হোনেকারকে সরিয়ে দিয়ে জনগণকে শান্ত করার চেষ্টা চলছে। নতুন প্রভু এগোন ক্রেন্তস ধরে নিলেন পুব-পশ্চিমে আসা যাওয়ার ব্যাপারটা সহজ করে দিলেই জনরোষ কমবে, তারপরে দেখা যাবে।

    নভেম্বরের আট তারিখে পলিটব্যুরোর মিটিঙে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। দশ নভেম্বর থেকে দরখাস্ত করলেই পশ্চিম জার্মানি যাওয়ার অনুমতি মিলবে, কোনো বিশেষ কারণ দেখানোর প্রয়োজন নেই। ক্রেন্তস এই মর্মে হাতে লেখা একটা নোট গুঁজে দিলেন পার্টির বিশ্বস্ত সদস্য এবং বেসরকারি মুখপাত্র গুইন্টার জাবোসকির পকেটে। একটা সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে জাবোসকি সেই ঘোষণা করবেন।

    জনা কুড়ি সাংবাদিকের উপস্থিতিতে লাইভ টেলিভিশনে জাবোসকি জানালেন, প্রাগ বা বুদাপেস্ত দিয়ে কেন, পূর্ব জার্মানির মানুষ সরাসরি পশ্চিমে যেতে পারবেন তাঁদের আপন ইচ্ছা ও প্রয়োজনমত। পশ্চিম জার্মানির সবচেয়ে পঠিত খবরের কাগজ বিলডের পিটার ব্রিঙ্কমান জানতে চাইলেন ভ্রমণের ব্যাপারে এই শিথিলতা কবে থেকে চালু হবে। জাবোসকি একটু বিভ্রান্ত হয়ে এগোন ক্রেন্তসের নোট উলটে-পালটে দেখে বললেন, “আমার মতে, এই মুহূর্তে, অবিলম্বে (জোফোরট, উনফেরতসুগলিখ)”। বার্লিন দেওয়াল সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করা যাবে না, কারণ সেটা সামগ্রিক নিরস্ত্রীকরণ প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত।

    বার্লিনে সন্ধ্যে ৬.৫৩ – মস্কোয় ৭.৫৩ – ওয়াশিংটনে দুপুর ১২.৫৩।

    সোয়া সাতটায় পশ্চিম জার্মান টেলিভিশন যা জানাল, তার সারাংশ – খুল গয়া! খবর চাউর হয়ে গেলে, পূর্ব বার্লিনের হাজার হাজার মানুষ ছেনি, হাতুড়ি, শাবল – যা পেলেন, তাই নিয়ে বার্লিনের বিভাজক দেওয়ালটিকে ভাঙার কাজে লেগে গেলেন। জনতার রক্ষী (ফোলকসপোলিতসাই) অদৃশ্য।

    প্রাচীরের পতন আসন্ন ছিল, তবে জাবোসকির অসতর্ক মন্তব্যে ইতিহাসের পাতা উলটে গেল তাড়াতাড়ি। আজ আমরা সেদিনটিকে লৌহকপাট ভেঙে ফেলার দিন বলে স্মরণ করে থাকি।

    স্বর্গীয় শান্তির দ্বারে (তিয়ানানমেন স্কোয়ারে) অবশ্য ততদিনে চিনা ট্যাঙ্ক মুক্তির মন্দির সোপানতলে অনেক প্রাণ বলি দিয়ে স্বাধীনতার শখকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

    লাল ফৌজের ছাউনি আছে পূর্ব বার্লিনে। দুশ’ কিলোমিটার দূরে ড্রেসডেনের কেজিবি অফিসে মস্কোর হুকুমের অপেক্ষায় বসে আছেন ৩৭ বছরের ভ্লাদিমির ভ্লাদিমিরোভিচ পুতিন। মিখাইল গর্বাচেভ রাশিয়ান সৈন্য পাঠালেন না, ওয়ারশ চুক্তির মিত্রদের ডাকলেন না।

    কেজিবি-র বন্দুকের গুলিও শেষ।

    তিন সপ্তাহ বাদে মাল্টায় গর্বাচেভ এবং বুশ দুনিয়াকে জানালেন ঠান্ডা লড়াই শেষ। লৌহ যবনিকার বিনাশ।

    টেলিভিশনে ব্রায়ান হ্যানরাহান যখন এই যুগান্তকারী ঘটনাবলির বর্ণনা দিচ্ছেন, আমি চোখ বন্ধ করে ভাবছি বারো বছর আগের সেই দিনটার কথা – যেদিন আমি পশ্চিম বার্লিনের পতসডামার প্লাতসে একটা কাঠের পাটাতনের ওপরে উঠে প্রথম পূর্ব বার্লিন দেখি। কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে ধূসর মাটি, ভাঙাচোরা চ্যান্সেলরির বাড়ি – যার নীচে ছিল হিটলারের বাঙ্কার, গোয়েরিঙের হাওয়া অফিস। সে মাত্র বত্রিশ বছর আগের কথা। লোকে কেতাবে পড়ে – আমি চোখের সামনে ইতিহাস দেখছি।

    ঠিক এই সময়ে জার্মানি ফিরব? কাজে? কোইন্সিডেনসের বাংলা কী? সমাপতন কি একেই বলে?

    ১৯৯০ সালের জানুয়ারি মাসে মিশরের লুক্সরে কাগজপত্রে সই করে নতুন চাকরিতে যোগ দিলাম। আমার দেখা সিটি একটা অখণ্ড প্রতিষ্ঠান ছিল না – ছিল অজস্র কুটিরশিল্পের সমবায়। একটা দফতর ঠিক কী যে করে – অন্য দফতর সে সম্বন্ধে সম্পূর্ণ অজ্ঞ থেকেছে। ফলে একই খদ্দেরকে নিয়ে দুইপ্রান্তে টানাটানি হতে দেখেছি। লয়েডস ব্যাঙ্কের সাইমন পেনিসটন একবার বলেছিলেন, যখনই সিটি ব্যাঙ্কের কর্তারা মনে করেন কর্মীগণ ব্যাঙ্কের সংবিধান ও কর্মপদ্ধতি বুঝে ফেলেছে, তখনই তাঁরা সেটিকে বদলে দিয়ে নতুন ধন্দের সৃষ্টি করেন! আমি যে বিভাগে যোগ দিলাম, তার নাম গ্লোবাল পেমেন্ট প্রোডাক্ট সার্ভিস। তাঁরা খুব গর্বের সঙ্গে বলেন, বাকি ব্যাঙ্কের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই!

    এবার শুরু হল জার্মানভাষী ইউরোপে আমার নিত্য আসা-যাওয়া, প্রায় প্রতি সপ্তাহে। যদিও ব্যাঙ্ক দিয়েছে আমার নিজস্ব অফিস, গাড়ি রাখার ব্যবস্থা – কিন্তু লন্ডনে কদাচিৎ থাকি। দু’ বছরের ছেলে ইন্দ্রনীল মনে করত আমি হিথরোতে কাজ করি। আমাদের খদ্দেরের তালিকা আলাদা – মার্কেট সার্ভে করে নিজেরাই ঠিক করি বলির পাঁঠা কোথায় ধরব। মিউনিক, ব্রেমেন, হামবুর্গ, কলোন – যেখানেই হোক না কেন, প্লেন থেকে নেমে গাড়ি ভাড়া করি আর খদ্দেরের অফিসে হানা দিই। সম্পূর্ণ স্বাধীন। নিজেই নিজের প্ল্যান ঠিক করি। কোথায় কখন যাব। কোথায় থাকব। মোবাইল ফোন আসেনি। কাজেই আমার টিকিটি ধরার উপায় নেই কারো। কোথায় আছি বা না আছি – আমার কর্তার জানবার উপায় নেই। এই কাজের দৌলতে দেড় বছরে জার্মানি দেশটা দেখলাম। আট বছর জার্মানিতে থেকে কিছুই দেখিনি।

    হাইকে থাকে স্টাডরোডাতে। বাড়ির ফোন, যাকে আমরা আজকাল ল্যান্ডলাইন বলে জানি, তখন দুর্লভ। একবার লিখেছিল, স্টাডরোডায় ফোন থাকে পুলিশের আর দমকলের অফিসে। আমি লিখেছিলাম, তাদের না হয় আছে, কিন্তু যার বাড়িতে আগুন লাগল সে কীভাবে জানাবে? হাইকেকে জানালাম – দু’দেশের মাঝখানের বেড়া ভেঙে গেছে। তুমি তো নবজাত পুত্র টরস্টেনকে নিয়ে বাড়িতেই থাক। যে কোনোদিন হাজির হব।

    সুযোগ জুটল। সে সপ্তাহে আমার কাজ পড়েছিল ফ্রাঙ্কফুর্ট অঞ্চলে। রাইন মাইন ফ্লুগ হাফেনে নেমেই গাড়ি নিয়েছি। ঠিক করলাম স্টাডরোডা যাব। কাজে একদিন ফাঁকি দিলে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড অচল হবে না।

    এই যাত্রাটি অবিস্মরণীয়। অনেক কারণে। এত বছরের চেনা দেশের চেনা সীমানা বিলুপ্ত। সরকারীভাবে দুই দেশ তখনো আলাদা, কিন্তু সীমান্ত অরক্ষিত। পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, লোহার দেওয়াল – মানুষকে, গাড়িকে আটকানোর আরও কত রকমের যে কলকব্জা পড়ে আছে – সেগুলো দেখলে জানা যায় ধনতন্ত্র কোথায় শেষ আর সাম্যবাদ শুরু। সশস্ত্র প্রহরীবৃন্দ অদৃশ্য। গাড়ি চালাচ্ছি সেই অটোবানে, যেটিকে ত্যাগ করে বিপথে যাওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ ছিল! পথে অনেক ত্রাবান্ত, ওয়ারটবুর্গ – তাদের নিতান্ত খেলনা গাড়ি মনে হয়। অটোবানের মাঝে কোনো রেলিং নেই। এবার একটু অন্য রাস্তা নিলাম। ম্যাপে দেখেছি ইয়েনা (যেটাকে আমরা জেনা বলে চিনি) হয়ে স্টাডরোডা যাওয়া যায়। নতুন ইতিহাসের সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো ইতিহাসটা একটু ঝালিয়ে নেয়া যাক তবে!



    স্টাডরোডা ১৯৯০


    ১৮০৬ সালে ইয়েনাতে প্রাশিয়ানদের বেধড়ক পিটিয়ে নাপোলেওঁ তাদের রাজত্বকে অর্ধেক করে দিলেন। শেষ পুণ্য রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ফ্রান্তস পোপকে চিঠি লিখে পদত্যাগ করে অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, ক্রোয়েশিয়ার রাজত্ব সামলালেন। জার্মানদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ফরাসীদের এই শেষ বিজয়ের স্মারক – সেইন নদীর ওপরে একটি সেতু : তার নাম পঁ দে ইয়েনা (ইয়েনা সেতু)। পরের বার আইফেল টাওয়ার থেকে ট্রকাদেরো যাবার সময়ে লক্ষ করবেন সেটি।



    পঁ দে ইয়েনা থেকে আইফেল টাওয়ার


    ইয়েনাতে অটোবান ছেড়ে স্টাডরোডা যাব। রাস্তার অবস্থা সঙ্গিন, বহুদিন মেরামত হয়নি। এবার পড়ল একটি লেভেল ক্রসিং (এখন তার ওপরে ফ্লাই বনে গেছে)। গেট বন্ধ। রেডিওতে হেসেন দ্রাই শুনছি আনমনে। জুন মাসের দুপুর, কেউ কোথাও নেই, ট্রেন কখন আসবে কে জানে। ইতিউতি দেখছি।

    দুটো দৃশ্য মনে গেঁথে আছে আজও।

    পেছন দিকে ইয়েনা শহর। সেদিকে তাকালে দেখি – একটু উঁচুতে ধাপে ধাপে উঠে গেছে দশতলা ফ্ল্যাট বাড়ি। আকাশের পটভূমিকায় মনে হয় যেন সারি সারি দৈত্য চেয়ে আছে আমার দিকে। যতদূর দেখা যায় ততগুলো দৈত্য। তিন বছর পরে রাশিয়ার মুরমান্সক দেখে এই একই অনুভূতি হয়েছিল।



    ইয়েনার কমিউনিস্ট স্থাপত্য


    এক সময় ট্রেন এল। প্রথমে মালগাড়ি। তারপরে এল দেশে দেখা কু-ঝিক-ঝিক যাত্রীবাহী ট্রেন। দুটোরই চেহারা জীর্ণ। জানলা-দরজা খসে পড়তে পারে যে কোনো সময়ে। আমাদের দেশের ট্রেন এর চেয়ে স্বাস্থ্যবান। ভাবছিলাম, রাজনৈতিক পুনর্মিলন তো না হয় হল। অর্থনৈতিক পুনর্জীবন হবে কবে? আদৌ হবে কি? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে লুডভিগ এরহার্ড এনেছিলেন অর্থনৈতিক অলৌকিক পুনর্জীবন (ভিরটশাফটসউনডার)। এবারে যে আরেকটি উনডার প্রয়োজন! বার্লিন দেওয়ালের পতনের পরে আঙ্গেলা মেরকেল বলেছিলেন, আশা করি এবার কাঁচের জানলাগুলো পোক্ত হবে, ঠান্ডা হাওয়া ঢুকবে না হু হু করে!

    ইয়েনা থেকে স্টাডরোডা মেরে কেটে বিশ কিলোমিটার। পথে দুটো গ্রাম পড়ল – ৎসলনিতস আর লাসডরফ। এ পথে যারা বার বার যান, তাঁদের গাড়ির সাসপেনশন কতদিন টেকে? বাড়ির চেহারা প্রায় সবার একইরকম। ধূসর বা বিবর্ণ। বহু বছর রঙ হয়নি। শ্যাওলা লেগে আছে দেওয়ালে। জানলা-দরজা অন্তত পঞ্চাশ বছরের পুরনো। হাওয়াতে একটা কটু গন্ধ। পরে জেনেছিলাম, সেটি ওই ত্রাবান্ত ওয়ারটবুর্গ গাড়িগুলির দ্বারা উৎপাদিত দূষণ। সে গাড়ির এঞ্জিন হল টু স্ট্রোক। তাই দূষণ ক্ষমতা অতি উচ্চস্তরের। ছোটখাটো দোকান চোখে পড়ল। আমাদের রাস্তার ধারের পান দোকান বা মুদির দোকানের মত।

    স্টাডরোডার রাস্তা পাথরে বাঁধানো। এককালে ঘোড়া এবং ঘোড়ার গাড়ি, পরে মোটরগাড়ি চলে সে পথ পালিশ হয়ে গেছে। বৃষ্টির দিনে হাঁটলে পা সিলিপ করার চান্স। গল্প অনুযায়ী গোয়েথের ফাউসট এখানে জন্মেছিলেন। ঘোড়া এবং তাদের টানা গাড়ির পক্ষে পাথুরে রাস্তা খুব মানানসই। গাড়ি ভেঙে যাবে, কিন্তু পথ অবিনশ্বর। সে সব গাড়ির ঝাঁকুনি আরোহীরা অবলীলাক্রমে হজম করতেন। আজকের স্বতশ্চলশকট আরোহী সেটা মোটে পছন্দ করেন না। কিন্তু এই পাথুরে রাস্তায় হাল ফ্যাশনের মোটর গাড়ির যাত্রীর কপালে সেই ঝাঁকুনি জোটে। কাগজে লেখ নাম, কাগজ ছিঁড়ে যাবে। পাথুরে রাস্তা চিরদিন রয়ে যাবে।

    এটি গ্রাম নয়, শহর – হাজার পাঁচেক লোকের বাস। এককালের ধনী ব্যক্তিদের আবাসন চোখে পড়ে, যার মেরামত আজই শুরু করা উচিত। বিবর্ণ দেওয়াল। চালের টালি কিছু আছে, কিছু নেই। ত্রেপল চোখে পড়ে কোনো কোনো চালে। রাস্তার নাম প্রায় কোথাও লেখা নেই। আমি উত্তর কলকাতায় বড় হয়েছি। রাস্তার নাম জানতাম। লেখা আছে কিনা, তা নিয়ে চিন্তিত হইনি। পাইকপাড়া বরানগরে ক’জন বিদেশি নিত্য মুখুজ্জে লেন খুঁজবেন? কিন্তু ইউরোপে, বিশেষ করে জার্মানিতে – সেটা ভাবা যায় না। কোন ঠিকানায় যাব জানি। পাঁচ বছর চিঠি লিখি। মাকস শিফারডেকার স্ত্রাসে ১৩। রাস্তায় অনেক লোক। কেউ গল্প করছে কারো বাড়ির রেলিঙ ধরে। রাস্তায় বয়স্ক মানুষ বসেছেন টুল পেতে। ধূমায়িত মুখ। পথ চলতি মানুষ থেমে দুটো কথা বলে আবার চলেছেন। কোথাও কারো ব্যস্ততা নেই।

    গাড়ি থামিয়ে একজনকে জিগ্যেস করলে তিনজন জানলার সামনে হাজির হলেন। সবার হাতে অনন্ত সময়।

    ওয়েলেসলির গলিতে কলিম খানের আস্তানা খুঁজে পেয়েছি। মাকস শিফারডেকার স্ত্রাসের ১৩ নম্বর চাক্ষুষ করা শক্ত হল না। আঠারো বছরের যে হাইকেকে দেখেছিলাম, সে এখন প্রায় তিরিশ। একটি পুত্র সন্তানের জননী, গৃহিণী।

    বাড়ির অবস্থান খুব সুন্দর। দোতলা বাড়ি। রাস্তা থেকে কয়েক ধাপ উঠতে হয়। উথমানস্ত্রাসের বাড়ি ছিল একেবারে রাস্তার ওপরে। ফুটপাথ বরাবর। এ বাড়িটি শ্যেনে আউসসিখট বা সুন্দর দৃশ্য নামক আরেকটি রাস্তার কোণায়। একটু উঁচুতে বলে তাদের বারান্দা থেকে অনেক দূর দেখা যায়, সবুজে ঢাকা। বেলা তিনটে বাজে। গ্রীষ্মের আলোয় ভরে আছে দিগন্ত। মাথার চুল কমে গেলেও হাইকের মা এরিকা আমাকে চিনলেন।

    রান্নাঘর আজ আর পারিবারিক সম্মিলনী মঞ্চ নয়। নিয়ে গেলেন বসার ঘরে। সেখানে সোফা আছে, কফি টেবিল আছে। সাধারণ সামগ্রী সুন্দরভাবে সাজানো। ফ্রাঙ্কফুর্টের ডিএম নামক দোকান থেকে যা যা কিনেছিলাম, হাইকের হাতে তুলে দিলাম। আমি আর কী জানি? দোকানের মহিলাকে বলেছিলাম, এক বছরের ছেলের জন্যে যা যা নিতে পারি দিয়ে দিন। এই ডিএম দোকানে সকল প্রকার কসমেটিক বস্তু মেলে অতীব সুলভে। এ সবের উপযোগ হাইকে নিশ্চয় খুঁজে পাবে! পশ্চিমের যে কোনো জিনিস এখনো বিস্ময়বহ। দুয়ার খুলেছে বটে, তবু সব এখানে পাওয়া যায় না। দাম বেশি। হাইকের বর ফ্রাংক ফিরল কাজ থেকে। সে আমার কথা শুনেছে। বললে, চাক্ষুষ করার বাসনা পূর্ণ হল এতদিনে।

    এগারো বছর আগের সেই দিনের মতন পাশের বাড়ির ও তার পাশের বাড়ির কিছু পড়শি হাজির হলেন। হ্যারমেসডর্ফের তুলনায় সংখ্যায় কম। এখন ফোপো বা ফোলকসপোলিতসাই কোথাও ওঁত পেতে নেই। স্টাজি হয়তো আছে কোথাও। তবে এখন সবই বদলাচ্ছে। তারাও বদলাবে।

    মহিলাদের কাছে আমি আরেক কৌতূহলের উপাদান। ভারতীয় বা বাদামী রঙের মানুষ দেখেননি। আমার হাতের কাছে নিজের হাত নিয়ে এসে রঙটা দেখে নিলেন – এটা আমার আদত গাত্রবর্ণ কিনা – হ্যারমেসডরফের এসব প্রশ্ন পাইনি – ভীতি বাধা ছিল অনেক। এমন একজন মানুষ হাইকের বন্ধু হল কেমন করে? মা এরিকা আমাদের আকস্মিক আগমনের সেই গল্প একবার করলেন, তিনবার করলেন, অনেকবার করলেন। সাখসেনের জার্মান উচ্চারণ, তাদের ডায়ালেক্ট আমার কানে বড় মিষ্টি শোনায়, একটা অন্তরের টান আসে সামান্য সৌজন্যের প্রকাশে। সে যে কত কথা কত গল্প। কথায় কথায় সন্ধে। আমার কোনো চিন্তা নেই। ফ্রাঙ্কফুর্ট বড়জোর দু’ঘণ্টার ড্রাইভ। সীমানা পেরুনোর ঝক্কি নেই। আকাশের আলো অনেকক্ষণ অপেক্ষা করবে আমার জন্য।

    পশ্চিম এখানে অতটা অচেনা অজানা নয়। আসতে-যেতে কোনো বাধা নেই। গত ডিসেম্বর মাস থেকে সীমান্তে পুলিশ নেই। রাস্তাঘাটে কেউ চোখ রাঙায় না। মুদ্রা এখনো আলাদা, তবে জার্মান মার্ক সহজেই ব্যবহার করা যায়। হাজারটা কৈফিয়ত দিতে হয় না আগের মত, এ টাকা কোথায় পেলে! বাজারে গুজব, শিগগির দু’দেশের টাকা এক হয়ে যাবে। জার্মান মার্ক গোটা দেশের জাতীয় মুদ্রা হবে (এক মাস বাদে তা-ই হয়)। সকলেই কাউকে না কাউকে চেনেন, যে অন্তত একবার হামবুর্গ, হানোভার ঘুরে এসেছে। কারো ছেলে বা মেয়ে মিউনিক, নুরেমবের্গ গেছে কাজ করতে। সেখানে সবাই জার্মান বলে, তবু সেটা বিদেশ! প্রথমেই চোখে পড়েছে ঝকঝকে রাস্তাঘাট, চকচকে গাড়ি, ঝলমলে পোশাক! সবকিছুর দাম বেশি। আগ্রহের ও প্রশ্নের অন্ত নেই। আমাদের গ্রামের মত মনে হল আবার। একজনের ঘরে অতিথি এসেছে – যেন গ্রামের সবার সে অতিথি! আমি তাদের গল্প শুনতে চাই। এই যে এত বড় একটা পরিবর্তন হল (জার্মানে ওয়েনডে): কী মনে হচ্ছে। ভালো হবে এ আশা করেন সবাই। বয়স্ক মানুষেরা ভয় পাচ্ছেন তাঁদের ছেলেমেয়েরা সেই আলোকিত পৃথিবীর পথে প্রস্থান করবে। সুযোগ যখন আছে, কে থাকতে চাইবে এই পুরনো রঙ-ওঠা (ফারবেনলোস) স্টাডরোডা শহরে? না আছে কাজকর্ম, না আছে কোনো ভবিষ্যৎ। একজন সম্প্রতি লাইপতসিগ ঘুরে এসেছেন। পশ্চিমের প্রলোভনে তরুণ তরুণীরা সে শহর থেকে বিদায় নিচ্ছে দলে দলে। লাইপতসিগ শিগগির বৃদ্ধাশ্রমে পরিণত হবে।

    এক বয়স্কা মহিলা আরেক কাহিনী শোনালেন। তিনি কাজ করেন একটি চিনেমাটির বাসনপত্র বানানোর কারখানায় (পরতসেলানফাব্রিক), স্টাডরোডার কাছেই। সম্প্রতি তাঁর ম্যানেজার তাঁকে ডেকে বলেছেন, কারখানায় নতুন মেশিন বসছে। হাতের কাজ করার লোকের প্রয়োজন কম। দু’মাসের মধ্যে তাঁর মাইনে চুকিয়ে ছুটি দেওয়া হবে। তিনি সবাইকে লক্ষ করে বললেন, তোমরা কেউ ভাবতে পার? সবে পঞ্চান্ন হল, অবসর নিতে পুরো দশ বছর বাকি। বলে আর কাজ থাকবে না? কাজ কখনো যায়? এমন কেউ কখনো শুনেছ?

    সেই বেদনাময় মুহূর্তে বুঝলাম, এঁরা যে সমাজ ও অর্থনীতিক ব্যবস্থা দেখেছেন, সেখানে কারো চাকরি যেত না। প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়ুক না বাড়ুক, একটা বেতন সবার প্রাপ্য। সরকারের এক দপ্তর উৎপাদন করে, দাম ঠিক করে। অন্য দফতর সেটা কেনে। মার্কেটিং নামক বিজ্ঞান এখানে অপ্রয়োজনীয়। সেই সন্ধেয় হয়তো বুঝেছিলাম কেন গর্বাচেভ পেরেস্ত্রয়কা এনে লাভ-লোকসানের মত মার্ক্স-বিরোধী প্রসঙ্গ তুলেছেন। গ্লাসনস্ত বা স্বচ্ছতার অভিযান কি এই কথাটাই বোঝাতে, যে এই ব্যবস্থা টিকবে না, টিকবার নয়? অঙ্কটা মিলছে না। মার্ক্সীয় সমাজব্যবস্থা ভেঙে পড়বার কারণ কি অর্থনীতি? মাক্স শিফারডেকারস্ত্রাসের এই সন্ধ্যায় দ্বান্দিক বস্তুবাদ আর ঐতিহাসিক বস্তুবাদের তাত্ত্বিক আলোচনা একান্ত অর্থহীন।

    কিছুদিন আগে বায়ারিশে লান্দেসব্যাঙ্কের স্টেফানের কাছে একটা গল্প শুনেছি। তাদের কোবুর্গ (সাক্সা-কোবুর্গ-গথা, প্রিন্স আলবার্টের রাজত্ব) ব্রাঞ্চের একতলায় একটা পার্টি চলছিল শুক্রবারে, কাজের শেষে। বড় বড় কাঁচের জানালা-দরোজা একেবারে রাস্তার লাগোয়া – কোনো পরদার আড়াল নেই, ফুটপাথ থেকে পরিষ্কার ভেতরটা দেখা যায়। স্টেফান লক্ষ করে রাস্তায় বেশ কিছু মানুষ প্রায় কাঁচের গায়ে মুখ ঠেকিয়ে অবাক হয়ে এই সুবেশ নরনারীদের পান ভোজনের দৃশ্য দেখছে। সকলেই (তখনও) নিকটবর্তী পূর্ব জার্মানির লোক। স্টেফান বলেছিল, সেই মুহূর্তে তার মনে হয়েছিল, দুই সমাজের ব্যবধান বিশাল – শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান কি সম্ভব হবে? কতদিন লাগবে?

    হেরো, ওই ধনীর দুয়ারে দাঁড়াইয়া কাঙালিনী মেয়ে?

    আমি যে হৃদয়হীন পশ্চিমে ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে কাজ করছি বছরের পর বছর, সিটি ব্যাঙ্কের সঙ্গে আমার কর্মচুক্তি যে কোনো পক্ষের তিরিশ দিনের নোটিসে সমাপ্ত হতে পারে – সে কথা বলার সময় এটা নয়। আমি একটা জুতসই অর্থহীন জবাব খুঁজছি। পাচ্ছি না। সেই মহিলা অবশ্য পেনশন পাবেন। পূর্ব জার্মান মার্কে তার মূল্য যৎসামান্য। পরে রোমানিয়াতে আমার শ্বশুর-শাশুড়িকে দেখেছি এক নগণ্য ন্যূনতম পেনশন নিয়ে কর্মজীবনের ইতি করতে। দুই পৃথিবীর সংঘর্ষ আসন্ন।

    ইতিহাসে দ্বিতীয়বার জার্মানি এক হতে যাচ্ছে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী অক্টোবর মাসের তিন তারিখে।

    হাইকে আর ফ্রাংকের সঙ্গে অনেক গল্প হল। তারা পশ্চিমপানে ধাওয়া করতে রাজি নয়। হাইকের মনে একটা অসম্ভব আস্থা দেখলাম। সে বললে, দেখ আমি রাজনীতি, অর্থনীতি কিছু বুঝি না। আমার মনে হয়, আমাদের দেশ যখন এক হয়েছে, সবার দশা একই রকম হবে! হয় সবাই গরিব, নয় সবাই বড়লোক! এখনো সাম্যবাদী চিন্তা!

    আমরা হাসলাম।

    প্রচুর খাওয়াদাওয়ার পরে বেরুতে প্রায় ন’টা বাজল। তখনো কত আলো। বাদ হের্সফেলডের পথে যাবার সময় মনে হল, এ দেশ গত পঞ্চাশ বছরে বিশ্বজোড়া মন্দা, তা থেকে মুক্তি দেখেছে, ইউরোপ শাসন করেছে, দেখেছে বিধ্বংসী যুদ্ধ, ভাঙাচোরা দেশে আবার সুদিন আসবে ভেবে চল্লিশ বছর একটা সমাজব্যবস্থায় বিশ্বাস করেছে। আজ সে বিশ্বাস হারানোর দিন।
    বিনিময়ে প্রাপ্তি কী?

    জুন ১৯৯০


    ক্রমশ...
  • ধারাবাহিক | ২৮ মে ২০২২ | ১১৮২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • যোষিতা | ২৮ মে ২০২২ ১৩:১৮508163
  • "লোকে কেতাবে পড়ে – আমি চোখের সামনে ইতিহাস দেখছি। "
     
    ১৯৯০ এ তো দেয়াল ভাঙার পরে গেলেন, তখন কীসের ভয়?
    আমি ১৯৮৯ এ দেয়াল থাকাকালীন বের্লিনের দেয়াল এপার-ওপার-ফের এপার করেছি, জুলাই মাসে। বড়াই করছি না। তবে সে ছিল অন্যরকম অভিজ্ঞতা।
    আপনার লেখা ভাল হচ্ছে। :-)
    আর ইয়ে, নামটা হবে মিখাইল গর্বাচভ, এটাই সঠিক উচ্চারণ।
     
  • যোষিতা | ২৮ মে ২০২২ ১৩:২৪508164
  • "মুদ্রা এখনো আলাদা, তবে জার্মান মার্ক সহজেই ব্যবহার করা যায়। হাজারটা কৈফিয়ত দিতে হয় না আগের মত, এ টাকা কোথায় পেলে! " - তাই? কই আমাদের তো কখনও এই সমস্যায় পড়তে হয় নি! পূবে তো পশ্চিমের মার্ক দিব্যি সানন্দে গ্রহণ করতো। 
  • যোষিতা | ২৮ মে ২০২২ ১৩:২৭508165
  • শব্দটা পেরেস্ত্রৈকা। অর্থ পুনর্গঠন।
    আপনি বিরক্ত হচ্ছেন না তো?
  • যোষিতা | ২৮ মে ২০২২ ১৩:৩৯508166
  • ১৯৬৮তে প্রচুর চেক ও স্লোভাক পালিয়ে আসে পশ্চিমে। ফের ১৯৮৯এও প্রচুর প্রচুর প্রচুর। অ্যাসাইলাম অনায়াসেই পাওয়া যায়, তারপর নাগরিকত্ব।
    আমার চেনা একজন ১৯৮৯এ ঝামেলার টাইমে কী একটা কাজে, সম্ভবত বেড়াতে এসেছিল সুইটজারল্যান্ডে। সকালে দেরি করে ঘুম ভেঙেছে, তার দরজায় বেলের শব্দ শুনে। গেমাইন্ডে থেকে বেয়ামটে এসে বলছে — তুমি পালিয়ে এসেছো? এই নাও অ্যাসাইলামের দরখাস্ত ভরো।
    সে বেচারা কিছুই জানে না, পুরো ভ্যাবাচাকা। কিন্তু ঝপ করে ব্যাপারটা বুঝে নিয়ে টুক করে অ্যাসাইলাম নিয়ে নেয়।
  • হীরেন সিংহরায় | ২৮ মে ২০২২ ১৩:৪৯508168
  • আমার প্রথম বারলিন দর্শন ১৯৭৮  সেটার উল্লেখ করে বলেছি লোকে কেতাবী ইতিহাস পড়ে । এর পরে ১৯৭৯ ১৯৮১। সে সময়ে পতসডামার প্লাতস বিশ্ব যুদ্ধের ইতিহাস বহন করছে - ১৯৯০ তে সেটার অবসান। ১৯৯২ তে দেওয়াল কোথায় ছিল বোঝানোর জন্যে সেই বরাবর পাথর বাঁধানো হয় । ১৯৭৯ সালে পুলিশের চোখ লুকিয়ে অটোবান ছাড়ি । এই সব ঘটনা আমার দেখা ইতিহাস। 
     
    আবার বলি ১৯৭৭, ৭৯ সালে বার্লিন আলেকজানদার প্লাতসে জার্মান মার্ক বের করলে পাসপোর্ট দেখাতে হয়েছে। ১৯৯০ সালে সরকারি ভাবে দুটো মুদ্রা - প্রশ্ন নেই। এটার কথা বলেছি সে সময় গথায় বিল চেকানোর সময় বলেছি কেমন অবাক লাগে জার্মান মার্কে দাম দিচ্ছি ! রেঁস্তোরা মালিক বললেন আমরা কত অবাক হচছি সেটা ভাবুন !
     
    ব্লগের বানান সারাতে পারি । এখানে পারছি না। জার্মানে গরবাচভ শুনে শুনে সেটাই কানে লেগে আছে! 
    জানেন তো ভদকা গরবাচভ Wodka Gorbatschow 
    বহু পুরনো ব্র্যানড ১৯২১ সাল থেকে বারলিনে প্রস্তুত ! তার সংগে আমাদের চেনা মিখাইলের কোন সম্পর্ক নেই - ডিভিডেনড পান না! 
  • হীরেন সিংহরায় | ২৮ মে ২০২২ ১৪:০২508169
  • আমার রাশিয়া পর্বে আপনার সহযোগিতা চাই - বানানে বানানে চরন চিনহ ! সানন্দে সংস্কৃত হবো !
     
     
    ১৯৫৬ সালে অনুরূপ  ঘটনা ঘটে হাংগেরীতে। হাজার দশেক পালাতে সক্ষম হন। প্রাগ বসন্তে অনেক বেশী -ফ্রাংকফুরটে আমার এক বস ছিলেন কারেল সোভা খাঁটি বুডভাইজার খাইয়েছেন । জার্মান স্মৃতি পর্বে সে সব গল্প আছে। 
    ১৯৮৯ সালের জুন মাসের পরে অনেকে আসেন পশ্চিমের দুয়োর খোলা । মার্টিনা হিনগিসের পরিবার যেমন - চেকোসলোভাকিয়া থেকে আসেন। 
  • যোষিতা | ২৮ মে ২০২২ ১৪:০৬508170
  • হিংগিস আমাদের ঘরের মেয়ে। স্টেফি গ্রাফের অন্ধ সাপোর্টার ছুরি মেরে হিংগিসের কেরিয়ারের বারোটা বাজিয়ে দিল। 
  • হীরেন সিংহরায় | ২৮ মে ২০২২ ১৪:২১508171
  • আপনি য়ুগোসলাভিয়ার মোনিকা শেলেশের কথা ভাবছেন(১৯৯৩)। স্টেফি গ্রাফের ভক্ত সেটি করে। মার্টিনা হিংগিস বহাল তবিয়তে  বহুদিন খেলেছে। তার কিছু হয় নি। 
  • যোষিতা | ২৮ মে ২০২২ ১৪:২২508172
  • ব্রান্ডেনবুর্গার টোর অবধি আগে ট্রেন আসত। মাটির নীচেই খানিকটা হেঁটে আপনার কাসট্মস ইমিগ্রেশন, ওখানে পাঁচ মার্ক দিলে পূবের ট্রানজিট ভিসা। অথবা তিন ডলার। তারপর টোর পেরিয়ে হেঁটে পূবে একবার ঢুকে পড়লে আর ওপারে যাওয়া যাবে না। তারপর আরও একটু হেঁটে এখন যেখানে বুন্ডেসহাউস, ওলাফ শোলৎস্ যেখানে এখন বসছেন, ঐটের পেছনের দিকটায় গাছপালা পেরিয়ে অন্য স্টেশন। পূর্ব ইয়োরোপগামী ট্রেন এখান থেকে ধরা যেত। ঘন সবজেটে নীল বিশাল সোভিয়েত ট্রেনের জন্য ওখানেই অপেক্ষা করেছি। পাশেই বিশাল বের্লিনের দেয়াল। দেয়াল ভাঙার পরে অবশ্য দেয়ালের টুকরোগুলো ওখানে আর নেই, অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে গেছে দেখলাম।
    আরেকটা মজার জিনিস হয়েছে। জুলগিশের গার্টেন স্টেশনের সবকটা পীপশো এবং সেক্সশপ হাপিশ। আগে পশ্চিম বের্লিনে ঢুকলেই ঐ স্টেশনে থামবার পর চোখের পীড়া ছিল ঐগুলো। তবে চুড়োভাঙা গির্জাটাই এখন ল্যান্ডমার্ক।
    আপনারা পূবকে ভয় পেতেন, আমরা পূবে গেলে স্বস্তি পেতাম, পশ্চিমে মন টিকত না।
  • যোষিতা | ২৮ মে ২০২২ ১৪:২৪508173
  • হ্যাঁ মোনিকাই হবে। বয়স হচ্ছে, গুলিয়ে ফেলেছি।
  • যোষিতা | ২৮ মে ২০২২ ১৪:৫১508175
  • তবে সমাজতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে পড়ার পেছনে বের্লিনের দেয়াল ভাঙাটা একটা আনুষ্টানিক উৎসবের মতো। 
    যে যুক্তি বা তথ্য দিচ্ছেন সেগুলো আপাতভাবে ঠিকই, কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন টুকরো হওয়া তথা পার্শ্ববর্তী সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর ভেঙে পড়ার পেছনে ক্রেমলিনে বেশ কয়েকবছর ধরে গর্বাচভ (তখনো জেনেরাল সেক্রেটারি) এবং সর্বোচ্য সোভিয়েতের কর্মকর্তারা যে প্ল্যান করেছিলেন সেটা তাৎপর্যপূর্ণ। বিলেত অ্যামেরিকা থেকে বিশেষজ্ঞের দল এসেছিল স্ট্রাকচারাল চেইঞ্জ করানোর জন্য। দীর্ঘ সময় ধরে অভ্যন্তরীণ বানিজ্য এবং শিল্পে সেভাবে পরিবর্তন হচ্ছিলো না। পুরোটাই যেহেতু আবদ্ধ ছিল অন্য সিস্টেমের মধ্যে। করাপশনও ছিল সর্বস্তরে। 
    বিশেষজ্ঞরা দুরকমের সলিউশন দিয়েছিলেন।
    ১) স্ট্রাকচারাল চেইঞ্জ — সময় নেবে, কিন্তু আখেরে দেশগুলোর ভালো হবে।
    ২) সিস্টেমিক চেইঞ্জ — সমাজতন্ত্র ভেঙে দিয়ে এক নিমেষে ধনতন্ত্রে মিশে যাওয়া।
    দ্বিতীয়টি বাছা হয়েছিল। কেন বাছা হয়েছিল, সে তারাই জানে। সকলেরই স্বার্থ ছিল।
    অবিশ্যি আপনি ইকোনমিক্সের লোক, আপনাকে নতুন করে কী আর বলব।
  • হীরেন সিংহরায় | ২৮ মে ২০২২ ১৫:৪৪508176
  • এটা একটা বৈঠকে বসার বিষয় । গভীরে যাওয়ার। সেখানে এখন যাচ্ছি না। 
     
     পূর্ব ইউরোপের ব্যাংকিং নিয়ে আমি দ্বিতীয় পর্বে লিখেছি । আমার মনে হয় না  সে সময়ে কেউ কখনো  কোথাও structural v systemic change নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকে বসে চিন্তা ভাবনা করেছেন । বরং আটের দশকে পোল্যান্ডে যখন  আই এম এফ রুটির ওপরে সাবসিডি তুলে দেওয়ার  আদেশ দিল, তার কোন প্রতিবাদ মস্কো থেকে আসে নি - প্রতিবাদ এলো রাস্তার মানুষের কাছ থেকে। । উলটে বালটিক নিজের মুদ্রা প্রচলন করলে সোভিয়েত ইউনিয়ন বলেছিল- ওটা কেন করলে ভাই ? রুবল রাখো ! স্বাধীন দেশের মুদ্রা অন্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের দাস হতে পারে না ! কমান্ড ইকনমির সরকারি  মৃত্যু হয়েছে ১৯৯১ সালে । 
     
    এই সব মুক্তো আমি অন্যত্র ছড়ানোর কাজ করছি- ইংরেজি প্রবন্ধ সঙ্কলন।  বিজ্ঞাপন দিয়ে রাখলাম। 
     
    আমি সেই  পূর্ব ইউরোপের কথা লিখি  ঠিক  যেমন দেখেছি , কাজে কর্মে , দৈনন্দিন জীবনে, পাবে , ব্যাঙ্কের কনফারেন্সে , বুদাপেস্ত, ওয়ারশ রাদোম, ব্রাতিস্লাভা, মারিবরে কারো না কারো বাড়িতে ।  অনেক দেশের বন্ধু বান্ধবীর সঙ্গে অন্তরঙ্গতা এবং পূর্ব ইউরোপীয় পত্নীর কারণে । 
  • যোষিতা | ২৮ মে ২০২২ ১৬:২০508177
  • না না, এখানে লিখতে হবে না। আলাদা করে ইংরিজিতে লিখুন। 
    ক্রেমলিনে অবশ্যই এসব পরিবর্তনের পথ নিয়ে কাজ হয়েছিল। গর্বাচভ ২৭তম কংগ্রেসে ১৯৮৫ সালে ঘোষণা করলেন পেরেস্ত্রৈকার কথা। ঢেলে গড়ার স্বপ্ন দেখালেন। প্রত্যেকদিন ঘন্টার পর ঘন্টা আমরা গর্বাচভের বক্তৃতা শুনেছি টিভিতে। গ্লাসনস্তের কথা বললেন। কিন্তু সিস্টেমিক চেইঞ্জের কথা ঘুণাক্ষরেও বলেন নি। সম্পূর্ণ অন্য আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
    নাহ। থাক।
  • :|: | 174.251.167.151 | ২৮ মে ২০২২ ১৯:৫৪508179
  • কম্পুতে পড়ার সময় কার্সর ছবির উপরে এলেই একটা কালো মোটা ডাউনওয়ার্ড তীর চিহ্ণ দেখা যায়। এই ভূতুড়ে ব্যাপারটি কি সকলেরই হয় নাকি আমাকেই বিশেষ করে কোনও সঙ্কেত পাঠাচ্ছে? (মণিপদ্মে) হুম হুম হুমকি নয়তো? 
  • যোষিতা | ২৮ মে ২০২২ ২২:২২508186
  • সব ছবিতে। এটা সবখানেই হচ্ছে, টেকনিক্যাল কোনও কারন আছে মনে হয়।
  • হুরিবাবা | 65.175.106.2 | ২৮ মে ২০২২ ২২:৩৩508188
  • হীরেনবাৰু ইংরিজিতেও বই লেখেন নাকি মোশাই?
     
    শোষিতার ফোঁপরদালালি দেখে গা জ্বলে যায়।
  • Kishore Ghosal | ২৮ মে ২০২২ ২৩:০৩508190
  • আমরা যারা দেশের বাইরে কোনদিন যাইনি, তাদের কাছে বরাবরই ইওরোপ এক স্বপ্নের মহাদেশ। আপনার লেখাগুলি পড়ে চোখের সামনে যেন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, তার মধ্যে কোন কোন দেশকে অসহায় অবস্থার মধ্যে দিয়ে এগোতে হয়েছে বা হচ্ছে। 
    এ এক সম্পূর্ণ নতুন ইওরোপ আমার চোখে। অনেক ধন্যবাদ, হীরেন স্যার।      
  • guru | 115.187.51.161 | ০২ জুন ২০২২ ১৫:৪৭508398
  • ভীষণ ভালো এই লেখাটি | আমাদের মনকে যেন ছুঁয়ে গেলো |  সাধারণ মানুষ যখন এক চরম পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যায় যেইখানে তার নিজের সবরকম ভরসার জায়গাগুলি আস্তে আস্তে একটু একটু করে ধ্বংস হচ্ছে , সেটা একটা ভীষণ সুন্দর ছবি আপনি এঁকেছেন | অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে |
     
    lockdown যখন এসেছিলো তখন এইরকম একটা ফিলিং আমারো হয়েছিলো | আপনার এই লেখাগুলিকে পড়ে আবার দেখলাম সেই লোকডাউনের ফেলে আসা দিনগুলোকে |
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন