এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  ইতিহাস  শনিবারবেলা

  • স্লোভাকিয়া ৬

    হীরেন সিংহরায়
    ধারাবাহিক | ইতিহাস | ২২ জুন ২০২৪ | ৩৮১ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • মারটিন রেলওয়ে স্টেশন

    একদিন মারটিন



    ন্যাপহিলের সেন্ট জন প্রাইমারি স্কুলে তার সহপাঠিনীর পরিচয় দিলো মায়া, “ বাবা, এর নাম মারটিনা, ওর বাবার নাম মারটিন, বাড়ি স্লোভাকিয়ার মারটিন শহরে!’’
    বোঝা গেল মারটিনের পুনরাবৃত্তি তাদের মহলে হাসির খোরাক যোগায়! স্লোভাকিয়ার মারটিন ও হেনরিয়েটা বরতসিগের সঙ্গে আমাদের আলাপ হয় সেই স্কুলের পেরেন্ট টিচার সমাবেশে। তারা দুজনেই কোসিতসের টেকনোলজিকাল ইউনিভারসিটির বিদ্যুতবিদ্যার স্নাতক, তাদের ছেলের নাম অবশ্য মারটিন নয়, ডমিনিক! পরে আমাদের দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠতা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়, যা এখনও বজায় আছে। তারা আপন দেশে গেলেই অন্তত এক বোতল জুব্রোস্কা নামক শ্নাপস নিয়ে আসে- তার অ্যালকোহল কন্টেন্ট ৪৫%। ভুরি ভোজনের পরে দু চুমুক দিলে সবই হজম হয়ে যায়। তার বেশি চুমুক দিলে ড্রাইভিং লাইসেন্স গচ্চা যেতে পারে।
    দুই দেশের মধ্যে নানা রকম বিষয় নিয়ে গল্প হয়। হাতের কাজে মারটিন অসম্ভব দক্ষ, সে মহা প্র্যাকটিকাল মানুষ। এই রিনিউয়েবল এনার্জি নিয়ে একদিন কথা হচ্ছিল। হাওয়া কল দ্বারা উৎপাদিত বিদ্যুতশক্তির প্রখর বিরোধী মারটিন। তার মতে বাতাস ও তার গতিবেগ দুটোই অনিশ্চিত। সে কল বানাতে ও চালু রাখতে খরচা প্রভূত এবং তা থেকে যে পরিমাণ বিজলি মিলতে পারে তার ওপর ভরসা করা উচিত নয় – আনরিলায়েবল সোর্স অফ সাপ্লাই। জানি ডোনাল্ড ট্রাম্প হাওয়া কলের বিদ্যুৎ সম্বন্ধে সন্দিহান – তাঁর মতে এ থেকে ক্যান্সার হতে পারে! তবে মারটিনের কথার মূল্য বেশি, সে ইলেকট্রিকাল এঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছে। ভেবে চিন্তেই বলছে!




    সন্ত মারটিন


    সন্ত মারটিনের নাম আমাদের মোটামুটি জানা আছে। খ্রিস্টাব্দের চতুর্থ শতকে মারটিনের জন্ম হয় এই স্লোভাকিয়ার মারটিন শহরের তিনশো কিলোমিটার পুবে, বর্তমান হাঙ্গেরির সমবাথেলি গ্রামে। আপন ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাঁকে জোর করে রোমান ফৌজে ভর্তি করানো হয়েছিল। প্রভুর আহ্বান পেয়েছিলেন আপন হৃদয়ে। সে কালে ই মেল ছিলো না, সম্রাট ইয়ুলিয়ানকে চিঠি লিখে সৈনিক মারটিন সেনা বাহিনী থেকে মুক্তি চান। যিশু খ্রিস্টের সৈনিক তিনি, রোমান সম্রাটের হয়ে যুদ্ধে নামতে চান না। সম্রাটের কাছ থেকে জবাব না আসা অবধি মারটিনকে কারাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু ততদিনে রোমান শাসন খ্রিস্টানদের বাঘ সিংহের মুখে পাঠায় না, সম্রাট কনস্টান্তিন নিজে সে ধর্মে দীক্ষা নিয়েছেন। তাই শিগগির তাঁকে জেল থেকে রেহাই দেওয়া হয়েছিল। বাকি জীবনটা কাটে প্রথমে ইতালিতে পরে আধুনিক ফ্রান্সে, ঈশ্বরের নামে মানুষের সেবায়। তুর শহরের বিশপ নামে তিনি অধিক পরিচিত। ফ্রান্সের প্যাট্রন সেন্ট বা রক্ষক সাধু তিনি ( যেমন ইংল্যান্ডের সেন্ট জর্জ, আয়ারল্যান্ডের সেন্ট প্যাট্রিক, স্কটল্যান্ডের সেন্ট অ্যানড্রু )। তাঁর নাম বিশ্বে এতো খ্যাত যে প্রায় দেড়শ শহর বা গ্রাম তাঁর নামটি গ্রহণ করেছে- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেটে অন্তত তিরিশটা মারটিন পাবেন। কলকাতার ব্রেবোরন রোডের সেন্ট অ্যান্দ্রুজ গিরজেটি যার রেপ্লিকা, লন্ডনের ট্রাফালগার স্কোয়ারের সেই ভজনা মন্দিরের নাম সেন্ট মারটিন ইন দি ফিল্ডস। আশ্চর্যের বিষয় এই যে আমাদের নিকটবর্তী হ্যাম্পশায়ারে মারটিন নামের একটি গ্রাম আছে, তারা দাবি করে সে নাম এসেছে, ভাইকিং দস্যুদের ভাষা থেকে, অর্থ গ্রামের সীমানা।




    মারটিন শহরের মুরাল


    কোন একদিন মারটিনে যাবার ইচ্ছে থেকে গিয়েছিল তার সুযোগ একদিন জুটল। কোসিতসে থেকে ব্রাতিস্লাভা যাবার পথে নেমেছিলাম, খানিকটা কাজে খানিকটা কৌতূহলে।
    মারটিনে পথ চলতে চোখে পড়ে বাড়ির গায়ে আঁকা প্রকাণ্ড মুরাল। তারা হয়তো কোন গভীর অর্থ বহন করে, জিজ্ঞেস করা হয়ে ওঠে নি। দক্ষিণ জার্মানির ব্যাভেরিয়াতে দেখেছি এমনি দেওয়ালজোড়া স্থির চিত্র, যাকে জার্মানে বলে হাওয়াই চিত্রকলা (লুফতমালারাই)। তবে তার সাইজ অনেক ছোটো। হোহে তাতরা বা উঁচু তাতরা পর্বতের নাম শুনেছি জার্মানিতে। সেটা যে ঠিক কোথায় জানতাম না, সে আমলে ফ্রাঙ্কফুর্টের পূর্বে কোথায় কি আছে জানার বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিল না। পূর্ব ইউরোপে আসা যাওয়া শুরু হলে জ্ঞান বাড়লো - আল্পস থেকে যে পর্বতমালা শুরু হয়ে টানা হিমালয়ে গিয়ে মিশেছে ইউরোপে তার নাম কোথাও উলিয়ান আল্পস (স্লোভেনিয়া), তাতরা (স্লোভাকিয়া), কারপাত (রোমানিয়া)। এই অখণ্ড শৈলশ্রেণি স্লোভাকিয়ার উত্তরে পোল্যান্ডের সঙ্গে সীমানা নির্দেশ করে। পোলিশ অংশে আছে জাকোপানে যেটি পোল্যান্ডের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্কি রেসর্ট, দীর্ঘদিনের পোলিশ বান্ধবী ক্রিস্টিনা প্রতি বছর স্কি করতে যায়। সেই তাতরার দর্শন পেলাম দক্ষিণ প্রান্ত থেকে। মারটিন শহর তার ছায়ায়, তুরেতস নদীর কোলে আশ্রিত (জার্মান নাম তুরতস সাঙ্কট মারটিন) পথ চলতে দূর পাহাড়কে কাছের মনে হয় সঞ্জীবচন্দ্রের পালামউ ভ্রমণ মনে পড়ে। আরও মনে পড়ে জলপাইগুড়ির দিনগুলি – প্রসন্ন দিনে দিগন্তে হিমালয়ের রেখা, কাঞ্চনজঙ্ঘার ইশারা।

    জীবন জুড়ে যেন একটা মন্তাজ দেখে গেলাম, কোন ছবিই স্বতন্ত্র, একক হয়ে দেখা দেয় না।

    মাত্র ষাট হাজার মানুষের শহর মারটিন। এখন ফোলকসভাগেনের গিয়ার বক্স, অ্যাক্সেল বানানোর কারখানার কল্যাণে তার পরিচিতি বেড়েছে। কি আশ্চর্য আরেক সমাপতন – ন শো বছর আগে হাঙ্গেরিয়ান রাজাদের আমন্ত্রণে শেপেস অঞ্চলে আসেন রাইনল্যান্ড এবং মোজেল নদীর কূলের কিছু মানুষজন। বহু বছর ধরে জার্মানদের সুনাম ছিল, তাঁরা কাজে কর্মে, চাষে, শিক্ষায় দক্ষ। জমি জমা পেলেন রাজার আদেশে। তাঁরা এসে শেখাবেন বাণিজ্য, চাষ বাসের কায়দা। সে পাঠশালার কাজ আর শেষ হয় নি। থেকে গেছেন পুরুষানুক্রমে, নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে ভিসা নিয়ে তো আর আসেন নি। জার্মানে তাদের নাম তসিপ্সার ডয়েচেন। তাদের কাজে কর্মে খুশি হয়ে হাঙ্গেরির রাজা অনুমোদন করলেন এক ধরণের স্বায়ত্ত শাসন ( তসিপ্সার ভিলক্যুয়র ) যাকে স্টাডরেখট অথবা নগর বিধি বলা যেতে পারে। হাঙ্গেরিয়ান রাজ আদালত নয়, চুরি ডাকাতি ফৌজদারি দেওয়ানি মামলার সমাধান করতেন নগরীর বরিষ্ঠ জার্মান নাগরিকবৃন্দ।

    ঢাকায় আমার এককালের সহকর্মী আশেকের কাছে শোনা একটা কাহিনি মনে পড়ে - পুরানো ঢাকার পথে একটি গাড়ির সঙ্গে রিকশার সংঘর্ষ; পুলিশ ডাকা বা ইন্সিউরেন্সের কোন প্রশ্ন ওঠে নি, সেখানে সমবেত কিছু বয়স্ক মানুষ বিচার ও ফয়সালা করে দিলেন। দু পক্ষ সেই বিচার ও জরিমানা মেনে নিয়ে যে যার পথে চলে গেলেন। এখনও সে প্রথা চালু আছে কিনা জানা হয়ে ওঠে নি।

    তসিপ্সার জার্মানরা যথাকালে অস্ট্রিয়ান হাবসবুরগ সাম্রাজ্যের প্রজা হয়েছেন -তাঁদের স্থাপত্য চতুর্দিকে। ক্লান্তিকর পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি নিয়েও বলি শুধু চেক বা স্লোভাক নয়, আরও অনেক পুবে রোমানিয়ার ট্রান্সিলভানিয়ার ( তসিবেন বুরগেন) পথ হাঁটলে সেই একই স্থাপত্য চোখে পড়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে হাজার বছরের অধিবাসী সেই জার্মান বংশোদ্ভূত মানুষজনকে অবাঞ্ছিত বোধে পিটিয়ে পাঠানো হয় পশ্চিম জার্মানিতে, যে দেশ তাদের পূর্ব পুরুষ ত্যাগ করে এসেছেন প্রায় হাজার বছর আগে। আজ আবার সেই বিতাড়িত জাতির কোন উত্তরসূরি হয়তো এসেছেন সেই দেশে – এবার চাষ বা বাণিজ্য নয়, গাড়ির আক্সেল তৈরির কলা কৌশল শেখাতে!




    মারটিন শহরের চত্বর থেকে দূরে পাহাড়



    শহরের কেন্দ্রস্থলে সেন্ট মারটিন গিরজে। এ ছাড়া আছে হাবসবুরগ আমলে তৈরি স্লোভাক ন্যাশনাল মিউজিয়াম। তবে সে সব জায়গায় পারতপক্ষে ঢুঁ মারি না। তার চেয়ে অনেক সুন্দর এই শহরের মধ্যে একটি অসাধারণ চত্বর যেখান থেকে উত্তরে দেখা যায় সারিবদ্ধ পাহাড়ের সারি পাহাড়। ভাবতে ভালো লাগে তারা আমাদের হিমালয়ের আত্মীয়।

    ব্রাতিস্লাভায় তখন


    আজ স্লোভাকিয়া ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও শেঙ্গেনের সদস্য। এ দেশের মুদ্রা ইউরো। কিন্তু নয়ের দশকের শেষ নাগাদ পশ্চিম ইউরোপীয় ব্যাঙ্ক গুলি এখানে অর্থ বিনিয়োগ করায় অসম্ভব কুণ্ঠিত ছিলেন। বড়ো ভাই চেকের সঙ্গে সংসার ভাগাভাগি করাটাকে অনেকে দুর্বলতার লক্ষণ মনে করছিলেন- ইজ স্মল বিউটিফুল? আকারে, জন সংখ্যায়, আর্থিক সক্ষমতায় চেক অনেক ওপরে। তাহলে এটা কি ছোট ভাইয়ের নেহাত বোকামি হলো? সংসার ছেড়ে চলে আসা?
    দেশে মাত্র চল্লিশ শতাংশেরও কম বাসযোগ্য সমতল ভূমি, পশ্চিমে আর পূব প্রান্তে। বাকিটা পাহাড়, পর্বতে বনানীতে ঢাকা। এককালে ছিল তামা। এখন কি এমন সম্পদ আছে তার? আমাদের ব্যাঙ্কের চিন্তা কি ভাবে আমরা আন্তর্জাতিক লগ্নি আকর্ষণ করতে পারি, কোন ব্যবসার ল্যাজ ধরে? মাথার ভেতরে ঘুরছিল স্লোভাক ইলেকট্রিকের (স্লোভেন্সকে ইলেক্ত্রারনে) নাম, তারা নিতান্ত সুলভে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। কিন্তু পরিমাণ বাড়াতে গেলে যে খরচ লাগে সেটা জোটে কোথা থেকে? আমরা এক বছরের জন্য ধার দিয়ে থাকি, এখন তারা চাইছে লম্বা মেয়াদের ঋণ , অন্তত পাঁচ বছরের। সদ্য স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরির মধ্যে বিজলি সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অতএব স্লোভাক ইলেকট্রিক শুধু নিজের নাগরিকদের নয়, কমিউনিস্ট আমলে বানানো বিজলির থাম্বা দিয়ে জোড়া পাশের দেশ হাঙ্গেরি সরকারকেও সরবরাহ করতে পারবে। হাঙ্গেরি কেনে কারণ স্লোভাক বিজলির ইউনিট প্রতি দাম কম। স্লোভাক বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় জল প্রপাত ( হাইড্র পাওয়ার ), গ্যাস এমনকি নিউক্লিয়ার শক্তি থেকে। স্লোভাকিয়াতে বেতন কম। সাপ্লাই চুক্তি না হয় হলো কিন্তু প্রোডাকশনের খরচা জুটবে কি? স্থানীয় ব্যাল্যান্স শিট আদৌ ভরসা যোগায় না। প্রতিষ্ঠানটির মালিক সরকার কিন্তু স্লোভাক ইলেকট্রিকের আয় ব্যয় দুটিই সীমিত। সরকারের আর্থিক শক্তির ওপরে কতোটা আস্থা রাখা যায়? ঋণের টাকা ফেরত না পেলে সেই এন পি এ! তখন যেতে হবে আদালতে। সেখানেও আরেকটি আইনি সমস্যা আছে। স্লোভাক ইলেকট্রিক দেনা মেটাতে অক্ষম হলে তার মালিক স্লোভাক সরকারকে আদালতে টেনে আনা যাবে না – সেখানে বাগড়া দেয় সভারেন ইমিউনিটি নামক এক মুষল। সরকার শুধু অবধ্য তাই নয়, সরকারকে কোর্টে আক্রমণ করলে সে দেশে আমাদের ব্যবসা করার লাইসেন্সটিও যাবে ( সিটি ব্যাঙ্ক ওমানে এটি ঘটেছিল - এক খরিদ্দার দেউলে হলে তার সরকারি গ্যারানটরের কাছে ঋণ শোধের দাবি করতে গিয়ে আমাদের ম্যানেজার শুধু আমিরের দরবার থেকে বহিষ্কৃত হন নি, সিটি ব্যাঙ্ককেও পাততাড়ি গুটনোর আদেশ দেওয়া হয়। আজ অবধি সিটি সেখানে ফিরতে পারে নি), শ্যাম ও কুল দুইই যাবে।




    স্লোভাক ইলেকট্রিক কোম্পানি


    স্লোভাক বিয়ার সহযোগে ইভেতা, ইগর আর আমি এই নিয়ে বিশদ চিন্তা করে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছুলাম সেটি অতীব সরল। আগে কেন ভাবিনি বলে আমরা নিজেদের ধিক্কার দিলাম। আমরা যদি স্লোভাকিয়া থেকে হাঙ্গেরিতে আগামী পাঁচ বছরের নির্ধারিত বিদ্যুৎ সরবরাহের অঙ্গীকৃত মূল্যটি আজ ঋণ হিসেবে দিতে পারি, তাতে স্লোভাক ইলেকট্রিক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন শক্তি বাড়বে। যেমন যেমন হাঙ্গেরিয়ান সরকার ইলেকট্রিকের বিল মেটাবেন তেমনি আমাদের ঋণটি শোধ হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের মানদণ্ডে হাঙ্গেরি তখন স্লোভাকিয়া থেকে খানিকটা উঁচুতে, স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওর তাকে দিয়েছে BBB+ অর্থাৎ ইনভেস্টমেন্ট গ্রেডের সর্ব নিম্ন ধাপ, স্লোভাকিয়ার স্কোর BB মানে তাকে আরও পরিশ্রম করতে হবে! যে সব লগ্নিকারক কোন দেশকে কেবলমাত্র রেটিং নামক তুলাদণ্ডে বিচার করেন তাঁরা সানন্দে মিষ্টি মণ্ডা খাওয়াবেন, ধার দেবেন হাঙ্গেরিকে কিন্তু ইতস্তত করবেন স্লোভাকিয়ার সামনে হাতটি উপুড় করতে। হবেন কুণ্ঠিত। এক্ষেত্রে স্লোভাক ইলেকট্রিকের পূর্ণ দায়িত্বে ঋণের আয়োজন করতে পারি প্রতিপাদ্য - উৎপাদনের ঝুঁকি স্লোভাকিয়ার, ঋণ মেটানোর ঝুঁকি হাঙ্গেরির।
    সে সন্ধ্যেয় কিছু খাওয়া হয়েছিল কিনা মনে পড়ে না। তখন প্ল্যান হচ্ছে কত শিগগির আমাদের শাখা আধিকারিক রবার্ট আর ঋণ বিভাগের প্রধান লাদিস্লাভকে এই মহান পরিকল্পনাটি ব্যাখ্যা করে তাদের যৌথ সম্মতি আদায় করা যায়। সে আলোচনার বিশদ বিবরণ দিয়ে পাঠকের ধৈর্যচ্যুতি ঘটাতে চাই না। তরুণ অ্যানালিস্ট টোমাস অজস্র পরিসংখ্যান পেশ করলেন দেওয়ালে আলোকিত স্লাইড দিয়ে। অঙ্কের প্রতি ভীতি আমার আজীবনের। ও পাড়া মাড়াই না ( সেই কারণে প্রেসিডেন্সি কলেজ আমাকে অর্থনীতি পড়তে দেয় নি )। আমার যুক্তি তর্ক গপ্পো বৃহত্তর চিত্র নিয়ে যাকে পরিসংখ্যানে ফেলা যায় না – সপনো কা সাউদাগর। অ্যানেকডোটাল! স্লোভাক উদ্যোগ, স্বল্প বেতন, রাজনৈতিক স্থিতি, উচ্চশিক্ষার হার ইত্যাদি নানান রকমের খানিকটা অস্বচ্ছ ( চন্দ্রনাথদা বলতেন ভেগু ভেগু লজিক ) চিত্রণ করে গেলাম। ক্রেডিট কর্তা লাদিস্লাভ স্থিতধী বুদ্ধের মতন শুনে যাচ্ছেন, হ্যাঁ না কিছুই বলেন না দেখে আমরাই থামলাম। শেষ পর্যন্ত মৌন ভঙ্গ হলো – ‘ এবার আমার কথাটা বলি। স্লোভাক বেতন, উৎপাদনের ব্যয় যতই কম হোক, সেটা দিতে হবে কড়ায় গণ্ডায়। খরচা পাতি সামলাতে এখনই তার দিন আনি দিন খাই অবস্থা। হাঙ্গেরিকে বিজলি বেচতে যে বাড়তি প্রোডাকশন করতে হবে তার খরচা না হয় ঋণ থেকে এলো। বিজলির বিল চোকানোর ব্যাপারে হাঙ্গেরিয়ান সরকারের ওপরে অবশ্যই ভরসা করা যায়, তাঁদের অবস্থা সচ্ছল। সেটা চিন্তা করে আমরা না হয় মোটা টাকা ধার দিলাম। কিন্তু আমার প্রশ্ন: স্লোভাক ইলেকট্রিক পয়সা পাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করলে পর। কিন্তু তারা যদি সেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে অক্ষম হয়? ‘
    ইগর, টোমাস আর আমার ওপরে সংখ্যাতত্ত্ব, বাগাড়ম্বরের ভার ছেড়ে দিয়ে অর্ধ পক্বকেশ ইংরেজ ব্রাঞ্চ ম্যানেজার রবার্ট উদাসভাবে জানলার বাইরে দানিউবের শোভা দেখছিলেন। অর্ধ উন্মীলিত চোখ। লাদিস্লাভের শেষ মন্তব্যটি শুনে ঠিক কাউকে লক্ষ্য না করে একান্ত ভাবলেশহীন মুখে বললেন ‘ স্লোভাক ইলেকট্রিক যদি বিজলি সরবরাহ করতে না পারে তাহলে এ অফিসের আলোও জ্বলবে না। আমাদের দোকান বন্ধ করে লন্ডনে ফিরতে হবে।‘
    ক্লিঞ্চিং আরগুমেনট কথাটা আগে শুনেছি। তার সঠিক অনুবাদ জানি না।
    লাদিস্লাভ ঋণ অনুমোদন করলেন*।

    পুনশ্চ:
    একদিন আমরা ভাবনা চিন্তা করেছি নিয়মিত বিজলি উৎপাদন করে স্লোভাকরা ব্যাঙ্কের ধার শোধ করতে পারবে কিনা। স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী স্লোভাকিয়ার রেটিং এখন A+, হাঙ্গেরির রেটিং BBB- ( স্লোভাকিয়ার চার ধাপ নিচে, ভারতের সমান )। স্লোভাক ইলেকট্রিক আজ চেক, হাঙ্গেরি সহ আরও ইউরোপিয়ান দেশকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে -বিক্রি বাবদ বার্ষিক আয় তিন বিলিয়ন ইউরো। স্লোভাক স্টেটের মালিকানা এখন এক তৃতীয়াংশ, বাকিটা চেক রিপাবলিকের কোম্পানি ই পি এইচ এবং ইতালির এনেলের হাতে।

    *পরিমাণ বিশাল না হলে ঋণ মঞ্জুর ক্রেডিট কমিটির অধিবেশন হতো না। অভিজ্ঞতা এবং সিনিওরিটি অনুযায়ী সিটি ব্যাঙ্কে ঋণ অনুমোদনের ক্ষমতা নির্ধারিত হতো। এক্ষেত্রে মূল নায়ক লাদিস্লাভ, সহ অভিনেতা রবার্ট -এই দুজন একমত হলে লন্ডনে তাঁদের সিনিয়র আপন ছাপটি যোগ করে দেন।


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • ধারাবাহিক | ২২ জুন ২০২৪ | ৩৮১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Kishore Ghosal | ২২ জুন ২০২৪ ১৩:৫০533593
  • যথারীতি দুর্দান্ত নিবন্ধ। 
    "আল্পস থেকে যে পর্বতমালা শুরু হয়ে টানা হিমালয়ে গিয়ে মিশেছে ইউরোপে তার নাম কোথাও উলিয়ান আল্পস (স্লোভেনিয়া), তাতরা (স্লোভাকিয়া), কারপাত (রোমানিয়া)"।  
    আমার ভূগোল জ্ঞান সেই ইস্কুলের গণ্ডিতেই শেষ - তাই খুব আশ্চর্য হলাম। এ জীবনটা কিসুই না জেনে দিব্যি কাটিয়ে দিলাম।
  • Amit | 163.116.215.44 | ২২ জুন ২০২৪ ১৪:২৮533596
  • হীরেন দা, চেক এর সাথে বিচ্ছেদের সময় লিখলেন জনসংখ্যায়, আর্থিক সক্ষমতায় সবদিকে বাকি চেক স্লোভাকিয়ার অনেক ওপরে ছিল। কিন্তু স্লোভাকিয়া এতো সুলভে বিদ্যুত উৎপাদন ইনফ্রা বানালো কিভাবে বা কেন? রাশিয়ার হেল্প এ? ওরা কি ​​​​​​​আগে ​​​​​​​পুরো ​​​​​​​কমিউনিস্ট ​​​​​​​ব্লকে সব দেশে ​​​​​​​পাওয়ার ​​​​​​​সাপ্লাই ​​​​​​​করতো? 
     
    হাইড্রো ​​​​​​​থেকে ​​​​​​​নিউক্লিয়ার - এতো ​​​​​​​বড়ো ইনফ্রা ​​​​​​​বানাতে ​​​​​​​তো ​​​​​​​কয়েক ​​​​​​​দশক ​​​​​​​লাগার ​​​​​​​কথা। ​​​​​​​কনসাম্পশন ​​​​​​​+ ডিমান্ড দুটোই না ​​​​​​​থাকলে ​​​​​​​এতো ​​​​​​​পাওয়ার ​​​​​​​ইনফ্রা ​​​​​​​তো কেউ ​​​​​​​বানায় ​​​​​​​না।
  • হীরেন সিংহরায় | ২৩ জুন ২০২৪ ১৫:৫৩533641
  • কিশোর

    আল্পস থেকে হিমালয় ১৫০০০ কিলোমিটারের যে শৃঙ্খলাটি ইউরোপের আটটি দেশ পেরিয়ে ককেশাস ইরান হয়ে হিমালয়ের প্রান্তে পৌঁছয় সেটিকে আলপিদে বা আলপাইড রেঞ্জ বলা হয়। দার্জিলিঙের ম্যাল থেকে পাহাড়ের চুড়োয় চুড়োয় ড্রাম বাজিয়ে কোন খবর পাঠালে সেটা সুইজারল্যান্ডের ইনটার লাকেনে পৌঁছুতে কতক্ষণ লাগবে জানতে ইচ্ছে করে ! কান টানলে মাথা আসে, আল্পস টানলে হিমালয় !

    উত্তর আমেরিকার রকি ও দক্ষিণ আমেরিকার আনডেজ একই সুতোয় বাঁধা।
  • হীরেন সিংহরায় | ২৩ জুন ২০২৪ ১৫:৫৮533642
  • অমিত

    উত্তর দিতে দেরি হলো কাল এডিনবরায় এসেছি, ইউ কে বেঙ্গলি কনভেনশনে।

    একবারে সঠিক বলেছেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার রাতারাতি খাড়া করা যায় না, তার ডিমান্ডও নয়।

    অখণ্ড চেকোস্লোভাকিয়ার প্রথম পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প রাশিয়ানরা ১৯৫৮ সালে ছকে দিয়েছিলেন, তাঁদের এঞ্জিনিয়ার দিয়ে বুয়েনোভিতসে প্রথম প্লান্ট বানানো হয়। ১৯৭২ সালে সেখানে একটা ছোটো খাটো চেরনোবিলটাইপের দুর্ঘটনা ঘটে -রাশিয়ান প্রেস সেটাকে প্রচারিত হতে দেয় নি। তার পরের তিনটি প্লান্ট রাশিয়ান ডিজাইনের কিন্তু চেকোস্লোভাকিয়ার স্কোডার মিস্ত্রিদের বানানো। এখন পাঁচটা প্লান্ট – ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন তার নিরাপত্তা নিয়ে মাঝে মাঝেই প্রশ্ন তোলেন। ১৯৯০ এর পরে স্লোভাকিয়া দেশ আলাদা হলে দেখা গেলো পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ছোটো ভাইয়ের পাল্লায় পড়েছে তখন চেক তার আপন নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ গড়া শুরু করে। সিটি ব্যাঙ্কে আমরা তাতে অর্থ বিনিয়োগ করতে পারি নি – কোন প্রপোজাল আমাদের কাছ অবধি পৌঁছুনর আগেই আমাদের তৎকালীন অস্ট্রিয়া সি ই ও আলব্রেখট জানালেন সিটি যেন এ হেন প্রকল্পে হাত না দেয় – অস্ট্রিয়ান অর্থ দফতর একটা চেতাবনি দিয়েছেন। এ দেশে কাজ করতে গেলে সেটা মনে রাখা দরকার - পুব থেকে পশ্চিম মুখো বাতাস উঠলে যতো দূষণ অস্ট্রিয়া ঢুকে পড়বে।
    পারমানবিক রিনিউয়েবল মিলিয়ে প্রায় আশি শতাংশ, পনেরো জলবিদ্যুৎ, কারবন জিরো –শেষ কয়লাখনি গত বছর বন্ধ হল স্লোভাকিয়াতে। এটা সাপ্লাই সাইড।

    কেনে কে? পূর্ব ইউরোপের ডায়েরিতে লিখেছি রাশিয়ানরা ডিমান্ড সাপ্লাই ডিস্ট্রিবিউশনের ভাইচারা প্রতিষ্ঠা করে এক অনন্য স্টাইলে – উদাহরণ: লিথুয়ানিয়ার ধারে কাছে কাঁচা তেল মেলে না অথচ সেখানে আছে এমন রিফাইনারি যা শোধন করতে পারে কাজাখ ক্রুড – দ্রুঝবা অথবা মৈত্রী পাইপ লাইনে তেল আসবে। ম্যাপে এদের দূরত্ব দেখে নিন! কেউ স্বাধীন হয়ে মাথা চাড়া যাতে না দিতে পারে তার বন্দোবস্ত ! পোল্যান্ড থেকে বুলগারিয়া ছটি দেশে এমনি ধারা পারস্পরিক নির্ভরতার ছক সাজানো হয়েছিল। তার পিছনে যে বুদ্ধিই কাজ করুক না কেন, ইনফ্রা স্ত্রাকচারের খরচাটা করা হয়েছিল (পশ্চিমের যে কোন ব্যাঙ্কের প্রজেক্ট ফাইনান্স ডিপার্টমেন্ট পেন্সিল কামড়ে কষ্ট বেনিফিটের অঙ্ক কষবে – সোভিয়েতরা ঠিক সেভাবে করেন নি, হয়তো বৃহত্তর ছবিটা দেখেছিলেন !)। বিজলির থাম্বা দিয়ে বহু দেশকে জোড়া হয়েছিল। চেকোস্লোভাকিয়া ( আজকের স্লোভাকিয়া) বিদ্যুৎ বেচছে বহু দিন।

    প্রসঙ্গত, কয়েক বছর আগে লাইবেরিয়াতে একটি জল বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে কাজ করছিলাম- ছট নদী, জল প্রপাত -সস্তায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করে পাশের দেশ আইভরি কোস্টকে বেচা যায়। সে দেশের রেটিংভালো বেটার ক্রেডিট। একেবারে স্লোভাকিয়া /হাঙ্গেরি কেস। কিন্তু সস্তার বিদ্যুৎ আবিদজানে পৌঁছে দিতে যে ট্রান্সমিশনের থাম পাততে হবে সে টাকা আসবে দেবে কোন গৌরি সেন?
  • Rouhin Banerjee | ২৩ জুন ২০২৪ ১৮:০১533645
  • স্লোভাকিয়া এবার ইউরোতেও বেশ ভালো খেলল - হাঙ্গেরির থেকে বেটার।
  • Amit | 163.116.215.30 | ২৪ জুন ২০২৪ ০৮:১২533664
  • ধন্যবাদ হিরেন দা। মিসিং লিঙ্ক গুলো একেবারে স্টেপ বই স্টেপ ক্লারিফাই করে দিলেন। মানে পূর্ব -১৯৯০ সোভিয়েত আর রেড ব্লকের দেশগুলো একদম ক্লাসিক অরওয়েলিয়ান মডেল। বিগ ব্রাদার ইস ওয়াচিং  ২৪ X ৭।  
     
    সবকটা বড়ো প্রজেক্ট ই  - মানে আমার খুব অল্প যেটুকু দেখা - তাতে কিছুটা পলিটিক্যাল ইনফ্লুয়েন্স থেকেই যায় সব জায়গায় - কম আর বেশি। কিন্তু এগুলো একেবারে এক্সট্রিম লেভেল । আবার উল্টোদিকে হয়তো এই ভাবে না ভাবলে তখনকার মেগা ইনফ্রা প্রজেক্ট গুলো বা আজকাল চীন যেসব মেগা প্রজেক্টস বানাচ্ছে সেগুলো করে ওঠা যেতোনা। 
     
    বড়দাদা যাই করুক, পরে হয় সেসবের কোলাটেরাল ড্যামেজ বা লাভ। মিনিয়ন দের হাতে পেন্সিল বলতে ওই টুকুই। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে প্রতিক্রিয়া দিন