"গডফাদার অফ কর্পোরেট তোলাবাজি"
গতকাল রাতে গ্রেফতার হয়েছে ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত।
এর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে।
তৃণমূলের সবাই তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হচ্ছে, তাহলে এর কথা আলাদা করে উল্লেখ করছি কেন?
আসলে অন্যান্য কাউন্সিলররা এলাকার ব্যবসায়ী দোকানদার দের কাছ থেকে টাকা তুলতো।
বাপ্পা ব্যাপারটাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছিল।
ফুটপাথের দোকান থেকে বাজারের সবজিওয়ালা, আপনার বিয়ে-জন্মদিন থেকে বাবার শ্রাদ্ধ, জমি কেনাবেচা থেকে ফ্ল্যাট কেনাবেচা, এমন কি বাড়ির প্লাস্টার চটে গেলে রিপেয়ার করতে হলেও ব্যাপার দলের ছেলেরা এসে চাঁদা তুলে নিয়ে যেত।
না দিলে বা কমপ্লেইন করলে কী হবে সবাই জানে।
যাই হোক, বাপ্পা বাপ্পা হওয়ার আগে বাপ্পা বিজেপি করতো, তারপর পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে ২০১০ সালে তৃণমূলে যোগ,
২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর বিদ্যুৎ গতিতে বাপ্পার উত্থান, এবং ২০১৫ সালে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের রেফারেন্সেই বাপ্পা কাউন্সিলর ভোটে দাঁড়ায় এবং জেতে।
এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি, বাপ্পা বুঝেছিল দলটা আগাগোড়া করাপ্ট, এবং সরাসরি কালীঘাটে খুঁটি বাঁধতে পারলে যেকোনো এমএলএ এমপির থেকে বেশি ইনকাম করা যাবে।
যেমন ভাবা তেমন কাজ,
ভোটে জিতেই সবার প্রথম বৈঠক এলাকার প্রোমোটার দের সাথে, এবং মিটিংএর প্রথমেই প্রোমোটার দের একটা খাতা খুলে দেওয়া হয়, এবং বলা হয়, এখানে কাজ করতে হলে আগে খাতায় ২ লাখ করে ফেলো, তারপর কার কত কাজ হচ্ছে সেসব হিসাব হবে।
এর পরের মিটিং হয় এলাকার বখাটে ছেলেদের সাথে, ( পিসির সেই পাড়ার বখাটে ছেলেদের পার্টি করার আহ্বান মনে আছে?, সেটা আসলে এই বাপ্পার মস্তিষ্কপ্রসূত পাইলটপ্রজেক্ট এর ফল)
বখাটে ছেলে, যাদের বিরুদ্ধে ছোটখাটো থানা পুলিশ এর ঘটনা আছে, রাতে অন্ধকার গলিতে মদের আসর জুয়ার ঠেক বসানোর রেকর্ড আছে, এদের ডেকে যা খুশি করার ছাড় দেওয়া হল; কন্ডিশন একটাই, যেখানে যা ইনকাম হবে তার ভাগ যেন দাদা পায়, তাহলেই থানা পুলিশ দাদা বুঝে নেবে।
ব্যাস শুরু হল লাল চুল কানে দুল তৃণমূল মডেল।
কিছু সেয়ানা লোক অবশ্য এদের ভয় পায়না, সেসব বুঝে দাদা এদের হাতে তুলে দিলেন মেশিন, আর হিন্দি বাংলা সিনেমায় আমরা তো দেখেছি, কোমরে মেশিন থাকলে কথার ওজন বাড়ে, কালেকশনও ভালো হয়।
এই কালেকশনের জোয়ার পৌঁছে যায় সোজা কালীঘাটে, ব্যাস আর কি, এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি, এরপর ২০২১ সালে যাদবপুরে বিধায়ক হলেন দেবব্রত মজুমদার মহাশয়, ডাক নাম গ্যারেজ মলয়।
দাদার একটাই দাবি, এলাকায় ফ্ল্যাট হলে একটা গ্যারেজ ওনার চাই, আর বেশি কিছু লাগবে না।
ব্যাস, পছন্দের এমএলএ পাওয়ায় বাপ্পার গতি বাড়লো,
বাপ্পার চলাফেরা দেখলে যেকোনো তাবড় এমএলএ এমপি ভোল খেয়ে যাবে, যেখানে এতদিন কলকাতায় কাউন্সিলর মানে পাড়ার দাদা কাকা জ্যাঠা বা কাকিমার মত লোকজন, যাদের কাছে চায়ের দোকানে আড্ডা দিতে দিতে সমস্যার কথা বললেও তারা শুনেছেন, এবং সমাধান করে দিয়েছেন।
সেখানে বাপ্পার ধারে কাছে পৌঁছনো দুষ্কর হয়ে গেল,
তার গাড়ি গেলে সামনে পেছনে ১৫-২০ টা লাল চুলের বাহিনী ঘুরে বেড়ায়, বাপ্পা হেঁটে বেড়ালে সেসব ছেলেপিলে আশেপাশে এমন ভাবে ঘিরে থাকতো যে মানুষ পৌঁছতে পারতো না, কেউ ধারে কাছে গেলে "সরে যান দেখছেন না দাদা আসছে"।
ব্যাস, তাছাড়া যাদের বিরুদ্ধে কমপ্লেইন, তাদেরকেই যখন সাথে নিয়ে ঘুরছে তাহলে আর লোকজন যাবেই বা কেন?
এভাবে তৈরি হল কর্পোরেট কাউন্সিলর মডেল, এমপি এমএলএদের উপর নিউজ মিডিয়ার চোখ থাকে, কাউন্সিলর এর মাধ্যমে কাজ করা এই লাল চুলের ছেলেরা সেফ, এক আধটা ধরা পড়লে তারা দলের কেউ না বলে দেওয়াটা খুবই সহজ।
ব্যাস এই মডেল গৃহীত হলে সারা বাংলায়, বাপ্পাকে ২০২১ সালে বানানো হল কাউন্সিলর দের মুখ্য সচেতক, অর্থাৎ কিভাবে তোলাবাজি টাকে কর্পোরেট লেভেলে নিয়ে যেতে হবে তার গাইডেন্স দেবে বাপ্পা।
এবার বুঝলেন? কেন বাপ্পার খবর টা গুরুত্বপূর্ন?
আপনি সারা বাংলার যেখানেই থাকুন, আপনি যদি তৃণমূলের তোলাবাজির শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে জানবেন এর পেছনে অল্প হলেও বাপ্পার অবদান রয়েছে।
ফেসবুক