এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  সমাজ

  • বুলডোজার, হকার আর শপিং মল 

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়
    আলোচনা | সমাজ | ২৯ জুন ২০২৪ | ৭৮২ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • ছবি: রমিত চট্টোপাধ্যায়


    হকার উচ্ছেদ হলে লাভ কার? একটা কথা খুবই চালু, যে, পথচারীদের সুবিধে হয়। কথাটা ভুল না। ফুটপাথ পথচারীদের জন্যই বানানো। ফাঁকা হলে হাঁটাচলার সুবিধে। শুধু তাই না, পথচারীরা ফুটপাথে হাঁটলে শহরে একটা শৃঙ্খলা আসে। গাড়িঘোড়ারা রাস্তা দিয়ে চলতে পারে। তাদের গতি বাড়ে। হর্ন দেওয়া কমে। বায়ু, শব্দ, সবরকম দূষণই কমে। কিন্তু এটা তো একটা দিক। সরাসরি আর্থিক লাভ কি কারো হয়? বিশেষ করে ভারতবর্ষের মতো উন্নয়নশীল দেশে?  

    উত্তরটা সোজা না। ভারতবর্ষ এক বিচিত্র দেশ। এখানে গগনচুম্বী হাইরাইজের নিচেই থাকে বস্তি। টাইমকলের পাশেই থাকে বোতলবন্দী মিনারাল জল। আর সবচেয়ে বেশি বৈপরীত্য হল বেচাকেনায়। ফুটপাথে আর রাস্তার পাশের খুচরো দোকানের জঙ্গলের উল্টোদিকেই থাকে চকচকে শপিং মল। একদিকে চলে চৈত্র সেল আর হালখাতা, অন্যদিকে ফাদার্স, মাদার্স, ভ্যালেন্টাইনস ডে। একদিকে হাতিবাগান-ছাপ খুচরো পসরা, অন্যদিকে ব্র‌্যান্ডের চূড়ান্ত।

    হকার বা খুচরো বিক্রেতাদের সঙ্গে এই মলদের সম্পর্কটা ঠিক কি?  একটা বৈপরীত্য নিশ্চিতভাবেই আছে, কিন্তু একেবারেই আদায়-কাঁচকায় কি? এক কথায় বলা কঠিন। কারণ, খুচরো বিক্রেতারা আছেন ইংরেজ আমলে তৈরি হওয়া ঘিঞ্জি শহরে তো বটেই, তার অনেক আগে থেকেই। আর মল ব্যাপারটা একেবারেই নতুন। ভারতবর্ষে প্রথম শপিং মল তৈরি হয়েছিল, এমনকি তিরিশ বছর আগেও না। ১৯৯৯ সালে,  দিল্লির 'আনসালস প্লাজা' দিয়ে। তারপর মুম্বাই, চেন্নাই। ২০০৩ সালে খোলে কলকাতার প্রথম মল এলগিন রোডের ফোরাম, কিছুদিনের মধ্যেই ২০০৪ সালে কলকাতার কাছে সল্টলেকেও তৈরি হয় সিটি সেন্টার ওয়ান। তারপর দ্রুতগতিতে তৈরি হতে থাকে নানা মল। ভারতবর্ষে প্রথম দফায় মলবিপ্লব শুরু হয়ে যায়। 

    প্রথম দফায় এই মলগুলো চালু হবার সময়ই খুচরো বিক্রেতাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকে নানা সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। মলের মডেলটা পাশ্চাত্য। বিশেষ করে আমেরিকার মতো দেশে বড় মল এবং বিরাট বড় বিক্রেতাদের পাল্লায় পড়ে খুচরো দোকানদের কী হাল হয়েছে, সে উদাহরণ সামনেই ছিল। ওয়ালমার্ট বা টার্গেটের মতো দৈত্যরা সেখানে কার্যত খুচরো বাজার দখল করে নিয়েছে। একমাত্র ছোটো ছোটো জায়গায় টিকে আছে কিছু পুরোনো ধাঁচের দোকান, যাদের বলা হয় মম-অ্যান্ড-পপ-স্টোর। বাকি সবই দৈত্যদের কব্জায়। অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, যে, ভারতেও খুচরো বিক্রেতাদের এইরকম হালই হতে চলেছে। 

    কিন্তু প্রথম দফার ওই বিস্ফোরণে খুচরো বিক্রেতাদের খুব বড় সমস্যা হয়েছে বলে শোনা যায়নি। কিছু কিছু জায়গায় কিছু দোকান বন্ধ হয়েছে, কিন্তু পাইকিরি হারে বিপর্যয় কিছু হয়নি। এর অনেক কারণ থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু একটা বড় ব্যাপার হল সংখ্যা। উইকিপিডিয়ার হিসেব অনুযায়ী গোটা ভারতে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ১৮ টা মল ছিল। ভীষণ নির্ভরযোগ্য তথ্য কিছু না, কিন্তু আসল সংখ্যাটা যদি দ্বিগুণও হয়, তবে গোটা ভারতের জনসংখ্যার তুলনায় সেটা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র। দ্বিতীয় বড় কারণটা হল অর্থনৈতিক মন্দা। ২০০৮ সালে আমেরিকা থেকে শুরু হয়ে বিশ্বব্যাপী মন্দা দেখা যায়। ফলে মলের সংখ্যা যে গতিতে বাড়বে ভাবা হয়েছিল, বাড়েনি। 

    মন্দা কাটার পর ২০১১ সাল নাগাদ শুরু হয় দ্বিতীয় বিপ্লব। মল তৈরি হতে থাকে দ্রুতগতিতে। বড়, মাঝারি শহরগুলো ছেয়ে যেতে শুরু করে মলে। একটা হিসেব পাওয়া যায়, যে, ২০১৭ সালে, গোটা ভারতে ৬০০ টার মতো মল তৈরি হয়ে গিয়েছিল। এর বেশিরভাগটাই ২০১১র পরে। মলগুলো নানারকম ছিল, কিন্তু যদি কেউ ২০১১র পরের মলগুলোর একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য মনে করে দেখেন, তো মনে করতে পারবেন, এগুলো আগের মলগুলোর থেকে আলাদা। নতুন মলগুলোয় এবং পুরোনো গুলোও বদলে ফেলা হয়   এমন ভাবে, যে, সেগুলো আর শুধু কেনাকাটার জায়গা নয়, সময় কাটানোর জায়গা হয়ে ওঠে। সম্পূর্ণ শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত, অজস্র রেস্তোরাঁ, খেলার জায়গা এবং অবশ্যই একটি মাল্টিপ্লেক্স। আন্দাজ করা যায়, মলের দোকানগুলো জিনিস বেচলেও, মলগুলো আসলে বিক্রি করছিল জীবনযাত্রার ধরণ। শনিবার বা রবিবার মধ্যবিত্তরা সময় কাটাতে মলে আসবে, মলগুলোই হবে গন্তব্য, এবং লোকে এসে পড়লে পয়সা তো খরচ করবেই, এইটাই ছিল লক্ষ্য। 

    ভারত সরকার, প্রত্যক্ষে বা পরোক্ষে, এই পুরো প্রক্রিয়াটার পিছনে ছিল, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এই পুরো সময়টাতেই বিক্রির ক্ষেত্রে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের নিয়মকানুন শিথিল করা হয় এবং মলগুলোর একটা বড় অংশই ছিল বিদেশী পুঁজির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ। এরই মধ্যে ২০১৬ সালে হঠাৎ একদিনের ঘোষণায় ভারতে চালু করে দেওয়া হয় নোটবন্দী। নগদ টাকায় লেনদেন কার্যত দীর্ঘদিনের জন্য খোঁড়া হয়ে যায়। একই সময় চালু হচ্ছিল ই-কমার্সের নানা ব্যবস্থা, অ্যাপ, এবং টাকাহীন লেনদেনের নানা ব্যবস্থা। নোটবন্দীর ক্ষেত্রে কারণ দেখানো হয়েছিল, কালো টাকা উদ্ধার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কয়েকবছর পরে দেখা যায়, প্রায় কোনো কালো টাকাই উদ্ধার করা যায়নি, ফলত গোটা নোটবন্দীকেই একটা বৃহৎ কেলেঙ্কারি বলা যেতেই পারে। এই সময় সরকারকে সরাসরি দেখা গেছে অ্যাপ দিয়ে লেনদেনের পৃষ্ঠপোষকতা করতে। সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে, অ্যাপ, বড় খুচরো কোম্পানি, এবং মলগুলোর সুবিধা করে দিতেই এই সিদ্ধান্ত। শুধু এদেরই সুবিধা করে দিতে নিশ্চয়ই না, আরও অনেক সুবিধাভোগীও অবশ্যই ছিল, কিন্তু এরা যে সেই তালিকার অন্তর্গত, সে নিয়ে সন্দেহের বিশেষ অবকাশ নেই। 

    কিন্তু এত কিছুর পরেও মলগুলো দারুণ কিছু করে ফেলল এমন না। ২০১৫ সালের এক সমীক্ষায় দেখা যায়, দিল্লির ৯৫ টা মলের মধ্যে মাত্র ১৩টা উল্লেখযোগ্য লাভের মুখ দেখেছে। বাকিরা হয় লোকসানে চলছে, কিংবা কোনোক্রমে টিকে আছে। কারণ? শহরের কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ২০১৪ সালে একটা সমীক্ষা হয়েছিল, যে, তারা কোথায় জড়ো হতে পছন্দ করে। এক-পঞ্চমাংশ জানায় মলে। সংখ্যাটা পার্কে যেতে ইচ্ছুকদের প্রায় দ্বিগুণ। এই ৮-১৬ বছর বয়সীরা মলে ভিড় জমায় বটে, কিন্তু খদ্দের না। একই ভাবে মহিলারাও প্রচুর মলে যেতে পছন্দ করেন, কিন্তু সেটা কেনাকাটির জন্য না, মূলত সামাজিক জমায়েত, বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে ঘুরতে যাবার জন্য। ফলে লাইফস্টাইল বা জীবনচর্যার অংশ হিসেবে মলগুলো তৈরি হয়েছে ঠিকই, তাতে ভিড়ভাট্টাও চমৎকার, কিন্তু সেটা খদ্দেরের সংখ্যা বাড়ায়নি। একটা হিসেবে পাওয়া যায়, যে, ভারতীয় মলে যারা যায়, তাদের প্রতি পাঁচজনের চারজনই সিরিয়াস খদ্দের নয়। 

    খদ্দেররা তাহলে যায় কোথায়? এ কোনো গোপন কথা না, ভারত একটা গরীব দেশ। তার হিসেব দেবার আলাদা করে আর প্রয়োজন নেই। কিন্তু স্রেফ জীবনচর্যার জন্য কয়েকগুণ বেশি দাম দিয়ে জিনিস কেনার লোক ভারতে খুবই কম। নানা সমীক্ষাতেও দেখা যায়, লোকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কমদামী জিনিস কেনে, মলেও ছাড়েই মানুষের আগ্রহ বেশি। এবং এটাও কোনো গোপন কথা না, যে, মলের বাইরের খুচরো দোকানেই জিনিসের দাম অনেক কম। তাদের ব্র‌্যান্ডের মূল্য চোকাতে হয়না, পরিকাঠামোর খরচাও কম, এবং তারা দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এক সরবরাহ ব্যবস্থার অংশ। এই খুচরো বিক্রেতাদের গোটা ব্যবস্থাটাই এত আঁটোসাঁটো এবং একই সঙ্গে স্থিতিস্থাপক, যে, এমনকি নোটবন্দীর আক্রমণেও ভেঙে পড়েনি। মলের বিক্রিবাটা বাড়ার বদলে বহুক্ষেত্রেই তারা ধারে জিনিস দিয়েছে, অনলাইন লেনদেন আয়ত্ত্ব করে নিয়েছে, এবং মানুষকে কম দামে জিনিস দিয়ে গেছে। ফলে ১৬-১৭ সালে এসে, নোটবন্দীর পরে, ব্যাপারটা প্রথম জোরালোভাবে চোখে পড়ে, যে, ভারত আর আমেরিকা একেবারেই এক না। ফেরিওয়ালা, হকার, খুচরো দোকানদাররা এখানে এমন একটা ব্যবস্থা বানিয়েছে, যা বেশিরভাগ খদ্দেরকে টেনে নিচ্ছে এবং সেই ব্যবস্থা এতই শক্তিশালী, যে এমনকি অর্থনৈতিক আঘাতেও ভাঙেনা। 

    ২০১৮ থেকে ২০২৪, ৬ বছরেও এই পরিস্থিতি বদলায়নি। কোনো তরফেই। এর মধ্যে সরকারের তরফে বিক্রিবাটায় বিদেশী পুঁজিকে আরও উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। আবার উল্টোদিকে কোভিড এসে মলের কেনাকাটা কমিয়ে অনলাইন বিক্রি বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু এত অনলাইন কেনাকাটিতেও খুচরো বিক্রেতাদের দোকান  বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে শোনা যায়নি। এই ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন, কিন্তু হকারদের এখনও যা রমরমা, তাতে কারবারে খুব বড় সমস্যা হয়েছে বলে মনে হয়না। উল্টোদিকে রয়টারের ২০২৩ সালের একট রিপোর্টে পাওয়া যাচ্ছে, ভারতবর্ষে মলগুলোর বিপুল পরিমান জায়গা ফাঁকা পড়ে আছে। মল মালিক এবং নির্মাতাদের এর জন্য বিপুল পরিমানে ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির অংকট কম না।  ৬৭০০ কোটি টাকা। 

    ফলে অর্থনৈতিকভাবে দুটো শত্রুশিবির এখন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে প্রবল প্রতাপান্বিত দেশী-বিদেশী পুঁজির গাঁটছড়া, যারা তুড়ি মেরে খুচরো বিক্রির বাজারটা দখল করে নেবে ভেবেছিল। কিন্তু কার্যত প্রচুর ম্যানেজমেন্ট-শিক্ষিত, বলিয়ে-কইয়ে হবার পরেও তারা বিপুল পরিমানে ক্ষতিই করে চলেছে। আর ঠিক উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে আছে, হতদরিদ্র ভারতবর্ষ। চকচকে নয়, ট্যাঁকের জোর নেই, প্রভাব-প্রতিপত্তি তো নেইই। পুঁজিই আনে দক্ষতা, কর্মসংস্থান এই সব উচ্চশিক্ষিত বুলিতে তারা বিশ্বাস করেনা। কিন্তু তারপরেও তারাই টিকে শুধু নেই, মুঠোয় করে ধরে আছে, বাজারের আধিপত্য। 

    এই অর্থনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্র এবং যুযুধান দুই প্রতিপক্ষ নিয়ে সন্দেহের বিশেষ অবকাশ নেই। দেশী-বিদেশী পুঁজির রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও সন্দেহ থাকার কথা না। এই অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গ সমেত ভারতের নানা জায়গায় হঠাৎ যে রাজনৈতিক বুলডোজারবাজি দেখা যাচ্ছে, তার সঙ্গে এই যুদ্ধের সম্পর্ক থাকাও খুবই স্বাভাবিক। হঠাৎই দীর্ঘদিন ঘুমিয়ে থাকার পর, বুলডোজাররা নইলে এমনি এমনি চলতে শুরু করেনা। কোথাও একটা সমীকরণ, যোগাযোগ আছেই। তবে আরও একটা ব্যাপারেও কোনো সন্দেহ নেই। যে, যার যতই প্রভাব থাক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক, গণতন্ত্রে প্রত্যেকের কিন্তু একটাই ভোট। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠের গায়ে হাত পড়লে গদি ওল্টানো একরকম নিশ্চিত। বুলডোজার দিয়ে ভাঙা যায়, কিন্তু ভাঙন আটকানো যায়না।  




    সূত্র:

    এই লেখায় বহু অংশ চোখে দেখা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলা। তার কোনো সূত্র নেই। যে সংখ্যাগুলো দেওয়া হয়েছে, তার সূত্র মূলত এই লেখাগুলি। আর একটা সম্ভাব্য সংখ্যা দেওয়া হয়েছে উইকিপিডিয়া থেকে, সেটাও লেখায় উল্লেখ করা আছে। 
    ১। https://www.kwgroup.in/blogs/evolution-of-shopping-mall-culture-in-india.html
    ২। https://journals.openedition.org/bagf/2656
    ৩। https://www.deccanherald.com/business/rise-and-growth-indian-malls-676834.html
    ৪। https://www.reuters.com/business/retail-consumer/indias-small-shopping-centres-turning-into-ghost-malls-says-knight-frank-2024-05-07/


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • আলোচনা | ২৯ জুন ২০২৪ | ৭৮২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাপাঙ্গুল | ২৯ জুন ২০২৪ ১৭:৩৭533886
  • এই লেখাটা পুরোপুরি ঠিক নয়। হাইপারমার্ট আর শপিং মল এক নয়। শপিং মল মূলত বানায় ও চালায় রিয়েল এস্টেট কোম্পানিরা। সিটি সেন্টারটা যেমন অম্বুজা নেওটিয়ার। সেখানে ব্র্যান্ডরা দোকান ভাড়া নেয়, তারা ভাড়াটে, মালিক নয়। 
     
    এর পাশে হাইপারমার্ট সরাসরি চালায় রিলায়েন্স, ডি মার্ট, বিড়লারা। বিগ বাজার, প্যান্টালুন, ক্রোমা, শপার্স স্টপ এগুলো যাবতীয় সব এদেরই। হকারদের সরাসরি লড়াইটা মূলত হাইপারমার্টদের সঙ্গে। 
     
    এছাড়াও ভারতে বাজার এখন অনলাইন, হাইপারমার্ট ও হকারদের মধ্যে ভাগ হয়েছে। হকারদের কাছে সমস্ত কিছু কিন্তু পাওয়া যায় না। যিনি জামাকাপড়, বেল্ট, হাওয়াই চটি বিক্রি করেন তার সঙ্গে সরাসরি বিগ বাজারের লড়াই। যিনি সন্ধ্যেবেলা কলা আর ডিম নিয়ে ফুটপাথে বসেন তার সঙ্গে লড়াই জেপটো, বিগ বাস্কেটের।
  • সত্যেন্দু সান্যাল | 2401:4900:1c7a:662c:458e:7696:15b9:330b | ২৯ জুন ২০২৪ ২১:০২533896
  • "হঠাৎই দীর্ঘদিন ঘুমিয়ে থাকার পর, বুলডোজাররা নইলে এমনি এমনি চলতে শুরু করেনা। কোথাও একটা সমীকরণ, যোগাযোগ আছেই।"
    এই লেখাটি খুব উতসাহ নিয়ে পড়া আরম্ভ করেছিলাম কিন্তু মূল বিষয় (যা উপরে উদ্ধৃত) নিয়ে আলোচনা নেই দেখে লেখাটি অসম্পূর্ন ঠেকলো।
    মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যটি ঠিক কি বা কেন এই নিয়ে নানা মুনির নানা মত।
    সৈকত বাবু এই বিষয়ে কি ভাবছেন আরো একটু বিস্তারে আলোচনা করলে ভালো হ'তো।
    রিটেল ট্রেড এখনো নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে দিয়ে বিবর্ত্তিত হচ্ছে, ভবিষ্যতে কোথায় দাঁড়াবে পরিস্কার নয়। তবে হকার এর ব্যবসা ~ বিশেষ করে খাদ্যবস্তুর ~ ভারতবর্ষে চিরস্থায়ী হয়েই থাকবে বলে মনে হয়।
  • Argha Bagchi | ২৯ জুন ২০২৪ ২১:১০533898
  • সৈকতবাবুকে ধন্যবাদ এমন সুন্দর একটা বিশ্লেষণের জন্য। লেখাটায় বিশেষ ভাবে যে কথাটা উঠে এসেছে তা হল অর্থনীতির ওপর সামাজিক অভ্যাসের প্রভাব। যে জায়গাটুকু মূল লেখায় বাদ পড়েছিল, পাপাঙ্গুল সেই শূন্যস্থান পূর্ণ করে দিয়েছেন। ফলে উন্নত দেশের সামাজিক আচরণের ফলে যে অর্থনৈতিক প্রভাব দেখা গেছে, উন্নয়নশীল দেশে সে প্রভাব তার থেকে আলাদা। একে পাশ্চাত্য ও প্রাচ্য মানসিকতার ভিত্তিতেও ব্যাখ্যা করা সম্ভব।
     
    তবে, মনে রাখতে হবে, মার্ট ও মল মূলত শহুরে ব্যাপার। ভারতের সিংহভাগ অঞ্চল গ্রাম, সেখানে পুঁজিবাদের এই নতুন অবতারেরা এখনো থাবা বসায়নি। ফলে আমাদের এই আলোচনা আরো বিস্তৃত দৃষ্টিকোণ থেকে করা দরকার। Hawkers, hawks এবং হক্কের লড়াই বহু মাত্রায় বিস্তার পাবার যোগ্য।
  • ভয়াবহ কান্ড করল এরা | 103.249.39.163 | ২৯ জুন ২০২৪ ২২:০২533901
  • সিপিএম সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম করে যে অস্ত্রটা তিনুদের হাতে তুলে দিয়েছিল, তিনুরাও দরিদ্র হকারদের উচ্ছেদ করে সেই অস্ত্রটা বিজেপির হাতে তুলে দিল। এই দরিদ্র হকাররা ছিল তিনুদের কমিটেড ভোটার। এঁদের পরিবারও তাই। এই উচ্ছেদের পর সব ঢেলে বিজেপিকে দেবে এবং ২৬ এ বিজেপি আসবে।
  • পিটি | 45.141.215.88 | ২৯ জুন ২০২৪ ২২:৩৬533903
  • নন্দীগ্রামে হলদি নদী আর কুমির ছিল।
  • আর চিন্তা নেই | 97.81.101.181 | ৩০ জুন ২০২৪ ০৪:১৪533915
  • ভয়াবহ কান্ড করল এরা | 103.249.39.163 | ২৯ জুন ২০২৪ ২২:০২533901
    •  এই উচ্ছেদের পর সব ঢেলে বিজেপিকে দেবে এবং ২৬ এ বিজেপি আসবে
    2021এ গাড়ি ভর্তি করে সবাই বিজেপিতে গেল। তাতে হল না। 
    নারদা-সারদায় হল না, টেট পরীক্ষায় হল না, সন্দেশখালিতে হল না,  ...
  • aranya | 2601:84:4600:5410:dc77:6c59:41ba:3bec | ৩০ জুন ২০২৪ ০৬:৩৮533916
  • এই লেখায় পশ্চিম বঙ্গে হকার উচ্ছেদ নিয়ে কিছু কথা থাকলে ভাল হত। 
    মমতা তো জনমুখী নীতি নিচ্ছিলেন, কন্যাশ্রী, লক্ষীশ্রী, মা ক্যান্টিন ইঃ, ভোটে তার সুফল ও পেয়েছেন। হঠাৎ কি এমন হল যে রাতারাতি হকার উচ্ছেদের প্রয়োজন? 
  • ভয়াবহ কান্ড করল এরা | 103.249.39.163 | ৩০ জুন ২০২৪ ১১:০৬533922
  • @আর চিন্তা নেই
    নারদা সারদা, টেট, সন্দেশখালি এগুলো কোনটাই নিম্নবিত্ত মানুষ, যারাই অধিকাংশ, তাঁদের পেটের ভাত বন্ধ হওয়ার মত কোন ইস্যু ছিল না, জনমুখী প্রকল্পগুলো ব্যালেন্স করে দিয়েছিল। কিন্তু হকার উচ্ছেদ সেই দরিদ্র মানুষদেরই পেটের ভাত কেড়ে নেওয়া। তাই এবার দরিদ্র অংশটা পুরো বিজেপির দিকে ঘুরে যাবে।
  • বিচিপি লাও দেশ বাঁচাও | 97.81.101.181 | ৩০ জুন ২০২৪ ১২:৩১533929
  • sure
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে প্রতিক্রিয়া দিন