"বিমান বোসের মাথা লাঠি মেরে ফাটিয়েছেন। নবান্ন অভিযানে মেয়ো রোডে আমাদের রাস্তায় ফেলে লাঠি, বুটের লাথি মেরেছেন গান্ধীমূর্তির নীচে। গায়ে পিঠে হাতে পায়ে কালশিটে ক্ষত আজও লুকিয়ে রেখেছি।
কার্জন পার্কের মুখে লাঠি মেরে জেলার এক কমরেডের
হাঁটু ফাটিয়ে দিয়েছেন। তার সাথে তার বোন ছিল, তাকেও ছাড়েননি। প্রচণ্ড কাঁদানে গ্যাসে চোখ মুখ জ্বলছে সবার তার মধ্যেও তাকে জল দিয়েছি। তিনি হাউহাউ করে কেঁদে উঠেছেন। হেস্টিংসে চোখ উপড়ে নিয়েছেন, ধর্মতলায় প্রেসক্লাবের সামনে পিটিয়ে কত মানুষের না হাড় ভেঙেছেন! এই শিবপুরে ফরশোর রোডের দোতলা বাড়ি
র ছাদ থেকে তৃণমূলবাহিনী ইঁট পাথর স্টোনচিপ ছুঁড়েছে মিছিলে নিরপরাধ মানুষের ওপর। এমনকি এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশনে ঢুকে রেহাই পায়নি স্কুলফেরতা শিশু ছাত্ররাও।
লালবাজার অভিযানে বৌবাজারে ঢুকতেই রাস্তার দুধারে গলি থেকে তৃণমূলের মহিলারা গেরিলা কায়দায় বিভিন্ন আকারের ধারালো পাথর, আধলা ইঁট ছু্ঁড়েছে অবাধে।
ফিরিঙ্গী কালীবাড়ির মোড়ে সেই পাথরে চোখের সামনে একজনের ভুরুর মাংস খুলে ঝুলে পড়েছে। আমরাই পানের দোকান থেকে বরফ এনে ধরেছি তার কপালে। পরে পার্টিনেতৃত্ব তাঁকে নিয়ে যায় মেডিকেল কলেজে।
জামায় সেই রক্তের ছিটে আমাদের'ও লেগে আছে।
না।
আমরা কেউ মাথায় হেলমেট পরে ছিলাম না।
যতটা পেরেছি একে অপরকে আগলে রেখেছি।
পোষা গুণ্ডা লেলিয়ে পাড়ায় পাড়ায় চমকেছেন,
শ্মশান করে তুলেছেন প্রতিটা গ্রাম থেকে শহর।
মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নরকযন্ত্রণা দিয়েছেন।
মানুষ চুপ করে থেকেছে, মনে মনে ভেবেছে রোজ
একদিন এই চূড়ান্ত নৈরাজ্য, স্বৈরাচার, জঙ্গলরাজের
শেষ দেখবে এই অসহায় আশায়।
মানুষের কষ্ট-দুঃখ দেখেননি। রাগ-ক্ষোভ-বঞ্চনার কথা শোনেননি। অপমান করেছেন চরম তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে ক্ষমতার অসহ্য দম্ভে।
এখন, সামনে পিছনে ডানে বাঁয়ে পুলিশি পাহারা নেই। প্রশাসনিক ঘেরাটোপ উধাও। এমনকি গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোয় বিরোধী হিসাবে সাধারণ মানুষের কাছে নূন্যতম সম্মানটুকু পর্যন্ত ধুলোয় কাদায় মিশে গেছে।
আজ, ভাইপোকে দেখুন।"
জনৈক বামপন্থী কর্মীর আলোচনা।