এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • হেদুয়ার  ধারে - ৯ 

    Anjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৫ আগস্ট ২০২৩ | ২৩১ বার পঠিত
  • নিবারণবাবু ঘরে এসে বসলেন।
    বললেন, ' আমি কৈলাশ বোস স্ট্রিটে থাকি। তা প্রায় পঁচিশ বছর আছি ওখানে। পোর্ট ট্রাস্টে চাকরি করি। সামান্যই পাই। তাই সাইডে কিছু করতে হয় আর কি ... আপনি কোথায় আছেন ? '
    ----- ' ইস্টার্ন রেলে '
    ------ ' ও আচ্ছা ... ভাল ভাল। দেবেনদার সঙ্গে আমার অনেকদিনের চেনাশোনা। উনিই আপনার কথা বললেন ... '
    ----- ' হ্যাঁ ঠিক ঠিক ... আমার ওই দেড় কাঠার মতো হলেই চলে যাবে। বাড়িওয়ালা কবে কি বলে ... সেই জন্যে ... বুঝতে পারছেন তো ... '
    ----- ' হ্যাঁ ... বুঝতে পেরেছি নিতাইবাবু ... অনেকেরই এই একই সমস্যা। তা মোটামুটি বাজেট কত ? '
    ----- ' এই ধরুন তিন হাজারের মতো .... তার ওপর বাড়ি করার খরচ আছে ... বুঝতেই তো পারছেন ... সিঁথির ওদিকে হলেও চলবে। '
    ----- ' তা আছে ... হয়ে যাবে ওতেই। বিটি রোড থেকে একটু ভিতরে। এখন কিছু নেই। ঘরবাড়ি হলে জমজমাট হয়ে যাবে দেখবেন। কবে যেতে চান দেখতে ? '
    ----- ' সামনের রবিবার চলুন। সকালের দিকে। '
    ----- ' ঠিক আছে সকাল নটা নাগাদ আসব ... অসুবিধে হবে না। এটা দেখে নিন। এছাড়া আরো আছে ... দেখিয়ে দেব আর একদিন ... বিরাটিতে আছে, পানিহাটিতে আছে ... ওদিকে গেলে আরও কমের মধ্যে হয়ে যাবে ... '
    নিবারণবাবু সাহা বেশিক্ষণ বসলেন না। স্বামী স্ত্রীর সঙ্গে আরও অল্প দুচার কথা বলার পর , ' আচ্ছা ... তা'লে ওই কথাই রইল ' বলে তিনি বিদায় নিলেন।

    রাত্রে খেতে বসে শ্রীলেখা বলল, ' আমরা কি এখান থেকে চলে যাব ? '
    অঞ্জলি বলল, ' আরে দাঁড়া দাঁড়া ... কোথায় কি তার ঠিক নেই ... গাছে কাঁঠাল গোঁফ তেল ... '
    নিতাইবাবু মাছের কাঁটা বাছতে বাছতে বললেন , ' হ্যাঃ ... যা বলেছ ... '
    অনিমেষ রীতিমতো দৃঢ় স্বরে ঘোষণা করল, ' আমি কিন্তু এ পাড়া ছেড়ে কোথাও যাব না বলে রাখলাম .... '
    নিতাইবাবু বললেন, ' আচ্ছা সে দেখা যাবে'খন... এখন চুপ কর ... '
    ছেলেমেয়েরা যে এ পাড়া ছেড়ে যেতে এহেন অনীহা প্রকাশ করবে তা তার জানাই ছিল। এখন এই সুদূরপরাহত একটা সম্ভাবনার ব্যাপারটাকে তিনি এই মুহুর্তে মোটেই আমল দিলেন না। মাছের ঝোল দিয়ে ভাত মাখতে লাগলেন।

    কাল সমীরণের পিসীমার শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হয়ে গেল।
    অঞ্জলি আর অনিমেষ গিয়েছিল। বাড়িওয়ালার অনুমতি নিয়ে বাড়ির ছাদে একটা ছোট ম্যারাপ বাঁধা হয়েছিল। তা প্রায় শ খানেক লোক খেয়েছে।
    খবর পেয়ে এখান থেকে ওখান থেকে অনেক জ্ঞাতি পরিজন এসে হাজির হয়েছে। এক মধ্যবয়স্ক ভদ্রমহিলা বলছিলেন , ' যাও বা একজন ছিল এক কোণায় পইড়্যা, সেও গেল। রাঙাদিদি আমাদের দ্যাশের বাড়িতে কত আসত। তার গাছের জামরুল নিয়ে আসত কোঁচড়ে বেঁধে। ওঃ ... কি মিষ্টি ... '। আর একজন বছর পঞ্চাশের ভদ্রলোক বললেন, ' ওই জেনারেশনের বোধহয় কেউ থাকল না আমাদের 'ফেমিলিতে'। বাবলু জেঠিমারে এতদিন ধরে যে যত্ন করসে , সত্যি তার তুলনা নাই ... '। বাবলু সমীরণের বাবার ডাকনাম।
    আর এক বয়স্ক ভদ্রমহিলা বললেন, ' খুব সত্যি কথা। মামী সেই কোনকালে বিধবা হয়েছিলেন ... তারপর সারাজীবন একভাবে কেটে গেল ... '
    বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
    উৎপলও এসেছে। একাই এসেছে ওদের বাড়ি থেকে। তিনবন্ধু বাড়ির বাইরে ফুটপাথে দাঁড়িয়ে গল্প করছিল। 'চল একদিন এসপ্ল্যানেডে ইংরীজি সিনেমা দেখতে যাবি ? ' উৎপল বলল।
    ----- ' হ্যাঁ হ্যাঁ .... চল চল ... কোন হলে যাবি ? ' অনিমেষ একপায়ে খাড়া।
    ----- ' ওই তো ...লাইটহাউসে কি একটা বই লেগেছে ... আচ্ছা দাঁড়া ... আমি পরে বলছি ... আঃহা .... বইটার নামটা কি ভুলে যাচ্ছি ... '
    ----- ' যাই হোক , তা'লে কবে যাওয়া হচ্ছে ? গিয়ে টিকিট পাওয়া যাবে ? ' সমীরণ এখনই অস্থির হয়ে ওঠে।
    ----- ' শুক্রবার চল ... ম্যাটিনি শো-এ। স্কুল কাটব সেদিন। টিকিট ... ও ঠিক ম্যানেজ হয়ে যাবে ... ' উৎপল ঘোষণা করে।
    সবই ঠিক আছে। কিন্তু স্কুল কাটাটা ....ঠিক ... মানে, রবিবার গেলে হয় না ? ' সমীরণ একটু দোটানায় পড়ে গেল।
    ----- ' আরে ... রবিবার তো টিকিট পাব নারে ... তা'লে তুই অ্যাডভান্স টিকিট কেটে আন ... ' উৎপল জানিয়ে দেয়।
    অনিমেষ কি একটা বলতে যাচ্ছিল। এইসময়ে সমীরণের বাবা বেরিয়ে এসে বললেন , ' অ্যাই তোরা খেতে বসে যা। সাড়ে তিনটে বাজতে চলল'। ওরা ওদের লাইটহাউস অভিযান সংক্রান্ত আলোচনা আপাতত মুলতুবি রেখে বাড়ির ছাদের দিকে এগোতে লাগল।

    কাবেরির বাড়ি মদন মিত্র লেনে। শ্রীমানি বাজারের কাছেই। সুমনাদের বাড়ি থেকে কাছেই।পরের দিনও কাবেরী কলেজে না আসায় সুমনার নানারকম চিন্তা হতে লাগল। সে ঠিক করল কলেজ ছুটির পরে দিদিদের জানিয়ে সে একবার কাবেরীদের বাড়ি যাবে। ওদের বাড়ি আগেও দু তিনবার গেছে সে। দিদিদের বলল, মাকে কিছুক্ষণের জন্য ম্যানেজ করে নিতে। বলল যে, কাবেরীর খবর নিয়েই আধঘন্টার মধ্যে সে বাড়ি ফিরে যাবে। ওখান থেকে তাদের বাড়ি আর কতদূর ...।
    কিন্তু তার বড়দি চন্দনা তার এই প্রস্তাবে শিউরে উঠল। মায়ের মুখটা মনে পড়ে গেল চন্দনার।
    সে বলে উঠল, ' না না .... অসম্ভব। আমি এই ঝুঁকি নিতে পারব না। একটা কাজ করা যেতে পারে। আমরা তোকে পৌঁছে দিয়ে আসব কাবেরীর বাড়ি। তারপর ঘন্টাখানেক বাদে আমি গিয়ে তোকে নিয়ে আসব। আমি যতক্ষণ না যাচ্ছি ততক্ষণ তুই কাবেরীর বাড়ি থেকে বেরোবি না।
    সুমনা অগত্যা এই প্রস্তাবেই রাজি হল।

    কাবেরী সুমনাকে দেখে একটু অবাক হলেও সে সুমনার আসাটা প্রত্যাশা করছিল।
    কাবেরী খাটে হেলান দিয়ে বসেছিল। সুমনাকে দেখে বলল, ' আয় ... আমি তোর কথাই ভাবছিলাম। জানতাম তুই আসবি ... '
    ----- ' কেমন আছিস এখন ? ' সুমনা জিজ্ঞাসা করে।
    ----- ' আজ আর জ্বর আসেনি। তবে উইকনেস আছে। কালও কলেজে যেতে পারব না রে ... পরশু থেকে যাব ...ইশশ্ ... ক্লাসগুলো মিস হয়ে যাচ্ছে ... '
    ----- ' হ্যাঁ হ্যাঁ ... ভালভাবে সুস্থ হয়ে নে আগে ...ক্লাস নিয়ে ভাবিস না। আমি সব নোটস দিয়ে দেব তোকে। '
    কাবেরীর মা তার পাশে বসেছিলেন। তিনি বললেন, ' আচ্ছা তোমরা কথা বল ... আমি একটু আসছি ... ' বলে তিনি উঠে চলে গেলেন। বোধহয় কিছু জলখাবারের ব্যবস্থা করতে গেলেন।
    কাবেরী বলল, ' তোকে একা ছাড়ল তোর বাড়ির লোক ? '
    ----- ' আরে আর বলিস না ... দিদিরা পৌঁছে দিয়ে গেছে , আবার এক ঘন্টা পরে এসে নিয়ে যাবে ... '
    ----- ' ও ... তাই বল , আমি তো অবাক হয়ে গেলাম ... যাক, ওদিকে কলেজের খবর কি বল ... '
    ----- ' কলেজের খবর আর কি হবে এই দুদিনে ? যে যার মতো দল বেঁধে আছে। তুই আসছিস না। আমি একা একাই আছি ... তুই তো জানিস আমি সবার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারি না তেমন .... '
    ----- ' হ্যাঁ জানি তুই ভীষণ ইন্ট্রোভার্ট ... ওটা নিয়ে ভাবিস না। প্রতিভাবানরা সাধারণত ইন্ট্রোভার্ট হয় ... '
    ----- ' আরে দূর ... প্রতিভাবান না ছাই ... '
    ----- ' আচ্ছা তা'লে প্রতিভাবতী। ঠিক আছে তো ? '
    দুজনে হো হো করে হেসে উঠল।
    একটু চুপ করে কাবেরী মৃদুস্বরে বলল , ' হেদুয়ার কি খবর রে ? '
    ----- ' মানে ! হেদুয়ার আবার কি খবর থাকবে ? '
    ----- ' না মানে ... তুই এ দুদিনে আর হেদোয় ঢুকিসনি ? '
    ----- ' পাগল নাকি ! আমি একা একা হেদোয় ঘুরব ? তুই কি আমাকে চিনিস না ? '
    ----- ' হ্যাঁ ... তা অবশ্য চিনি। তবে আশা করেছিলাম কিছু খবর পাব তোর কাছে। কিন্তু সে গুড়ে বালি। তুই একটা হাঁদা গঙ্গারাম ... একটু রাউন্ড মেরে দেখতে পারতিস ওই স্কটিশ পার্টি আর একটা হাঁদা গঙ্গারাম হেদোয় বসেছিল, না বসেনি ... '
    শুনে কি জানি কি কারণে সুমনার হৃদস্পন্দন কয়েক সেকেন্ডের দ্রুততর হয়ে গেল। সে নিশ্চুপ হয়ে বসে রইল।

    ( চলবে )
    ********************************************
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে মতামত দিন