এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • হেদুয়ার ধারে - ২০

    Anjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ২১৮ বার পঠিত
  • মক্কেল বিদায় হবার পর বিনোদবিহারি বিভূতিবাবুর দিকে ঘুরে বসলেন।
    ----- ' তারপর ... বলুন বিভূদ্দা। নতুন কি সিনেমা দেখলেন ? '
    ----- ' আরে ... আর বোল না ... সেই এনার্জি আর নেই। তবে আগ্রহটা আছে ... বুঝলে ... এই তো রাধা থেকে ঢুলি দেখে এলাম। আর কোন কাজকম্ম তো নেই ... বেকার মানুষ... তাই এই সব নিয়ে থাকি ... '
    ----- ' আরে না না ... ও কথা বলবেন না বিভূদ্দা ... আপনার মতো রসিক মানুষ কটা আছে ? '
    ----- ' সে যাক ... আছেন কেমন ? '
    ----- ' এ..ই চলে যাচ্ছে আর কি ... এইভাবে চলে গেলেই ভাল ... বয়েস তো আর থেমে নেই ... আর তো ক'টা দিন ... '
    ------ ' ও কথা বলবেন না বিভূদ্দা .... আপনার মতো মজলিশি লোককে আমরা এত সহজে ছেড়ে দিতে পারব না।'
    তারপর বলল, ' যদি এল আই সি করার করার কেউ থাকে একটু বলবেন ... আমি তো এখনও এজেন্সি ছাড়িনি ... '
    ----- ' ও, এখনও কাজ চালিয়ে যাচ্ছ ... তা ভাল ... হ্যাঁ নিশ্চয়ই ... খোঁজ পেলে নিশ্চয়ই বলব ... '
    আরও নানারকম গল্পগাছা করে বিভূতিবাবু হাতিবাগান টোল থেকে উঠলেন প্রায় ঘন্টাখানেক পরে। রামলালের দোকানের সামনে খানিকক্ষণ দাঁড়ালেন। কি মনে করে দশটা চমচম কিনলেন।
    তারপর বাঁ দিকে ঘুরে স্টার থিয়েটারের সামনে একটু দাঁড়ালেন। আজ দুটো শো আছে বোধহয়।

    বিভূতিবাবু হাঁটতে হাঁটতে হেদুয়ায় পৌঁছে গেলেন। তিনি বাড়ি ঢুকতে যাবেন, এইসময়ে দেখলেন নিতাইবাবু একজনের সঙ্গে কথা বলতে বলতে বাইরে আসছেন।
    বাইরে এসে, ' আচ্ছা ... তাহলে ওই কথাই রইল ....কাল দশটা নাগাদ.... ', বলে ওই ভদ্রলোক বিদায় নিলেন।
    নিতাইবাবু বললেন, ' হুঁ হুঁ ... '
    বিভূতিবাবু চমচমের ভাঁড় হাতে দাঁড়িয়ে গেলেন।
    নিতাইবাবুকে বললেন, ' লোকটাকে কেমন চেনা চেনা লাগল যেন ... নিবারণ সাহা না ? '
    ------ ' হ্যাঁ। চেনেন নাকি ? '
    ----- ' হ্যাঁ হ্যাঁ ... জমি বাড়ির দালাল তো ? বাড়ি করার প্ল্যান করছেন নাকি ? '
    ----- ' ও..ই দেখাদেখি চলছে আর কি ... কিছু এগোয়নি এখনও ... '
    ------ ' ও ... তা ভাল, তা ভাল। দেখতে থাকুন ... হয়ে যাবে ... আচ্ছা আসি ... '
    বিভূতিবাবু ভিতরে ঢুকে গেলেন। নিতাইবাবু ভাবলেন, ব্যাটা সব জেনে গেল। এক্ষুণি না জানলেই ভাল হত। নিবারণ সাহা কাল আবার একটা জমি দেখাতে নিয়ে যাবে। নিতাইবাবু ঠিক করেছেন কালকেই লাস্ট। এগুলোর মধ্যেই একটা
    বাছতে হবে। তারপর অঞ্জলিকে নিয়ে গিয়ে দেখাতে হবে। আর ঘোরাঘুরি করা সহ্য হচ্ছে না। প্রত্যেক ছুটির দিন এই ধকল নেওয়া পোষাচ্ছে না।

    আজ দুপুরবেলায় নাকি মার্কাস স্কোয়্যারে কমিউনিস্ট পার্টির মিটিং আছে। ওদের অনেক নেতা বক্তৃতা দেবে। পাড়ার অনেকে যাবে। সমীরণদের বাড়ি থেকে অনেকে যাবে। সমীরণের বাবা বলেন, আগামী দিনে ওরাই নাকি দেশকে পথ দেখাবে শ্রেণীসংগ্রামের মাধ্যমে। শোষণহীন সমাজব্যবস্থা কায়েম করে সাম্য প্রতিষ্ঠা করবে সারা দুনিয়ায়। কার্ল মার্ক্স বলে একজনকে খুব মানে ওরা।
    বিভূতিবাবু অবশ্য ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না এসব জটিল কথাবার্তা। ধাঁধায় পড়ে যান। ভাবেন, এক এক জন তো এক এক রকম এলেম নিয়ে জন্মেছে। যার এলেম বেশি সে তো এ পৃথিবী থেকে বেশি পাবেই। আপনি তাকে আটকাবেন কি করে ? আর চোর বদমায়েশদের জন্য তো পুলিশ দারোগা আছে। তিনি আজকাল লড়াই, সংগ্রাম, বিপ্লব এইসব কথা খুব শুনতে পান। তিনি ফরাসী বিপ্লব, রুশ বিপ্লব ... এসবের কথা শুনেছেন। কিন্তু খুব একটা পরিষ্কার ধারণা নেই ওসব ব্যাপারে। তার মনে হয়, সবাই এককাট্টা না হলে লড়াই টড়াই হবে কি করে ? পান বিড়ির দোকানের ভোলা মন্ডলের সঙ্গে কি গোবিন্দলালবাবু বা সংসারনাথ মুখার্জী এক দলে ভিড়তে রাজি হবে ? বরং যে যার রাস্তা দেখে নেবে। সে যাকগে, অত জটিল ভাবনাচিন্তা করা বিভূতিবাবুর ধাতে নেই। তিনি সে চেষ্টাও করেন না। আপাতত তিনি অসিত কবে সরীসৃপ-এর স্ক্রিপ্টটা জোগাড় করে আনবে সেই অপেক্ষায় আছেন। স্ক্রিপ্টটা হাতে পাবার পর নাটকের চরিত্র খোঁজার পালা এবং তারপর রিহার্সাল। দেখা যাক কি দাঁড়ায় ....

    আজ রবিবার। সুমনা সারাদিন ধরে বাড়ি বসে অঙ্ক কষে চলেছে। তার দুই দিদিও পড়াশোনায় ব্যস্ত। অলোকেন্দুবাবু দুজন মক্কেলের সঙ্গে কথাবার্তা বলায় ব্যস্ত। রবিবার নিজের হাতে খাসির মাংস রান্না না করলে শান্তি হয় না বাসন্তীদেবীর। তিনি রান্নাঘরে সেটা নিয়ে লড়াই দিচ্ছেন। এমন সময়ে সদর দরজায় ডোর বেল বেজে উঠল। দিবাকরকে এ বাড়ির অষ্টপ্রহরের কেয়ার টেকার বলা যায়। তিনদিনের জন্য দেশে গেছে মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায়। কেউ এলে দরজা খুলে দেওয়া এটাও দিবাকরই করে থাকে। আজ সে নেই।
    সুমনাই অগত্যা নীচে নেমে এল এবং দরজা খুলে দিল। দেখল দরজার বাইরে বিনীত ভঙ্গীতে দাঁড়িয়ে রয়েছে ধুতি এবং হাতা গোটানো ফুলশার্ট পরা একটু স্থূলকায় এক নীরিহদর্শন প্রৌঢ় এবং তার পাশে দাঁড়িয়ে মোটা কালো ফ্রেমের বুড়োটে চশমা পরা এক উজ্জ্বল মুখের যুবক।
    সুমনা নির্বাক হয়ে তাকিয়ে রইল ওদের দিকে। প্রৌঢ় ভদ্রলোক বললেন, ' মা ... এটা কি অ্যাডভোকেট অলোকেন্দু মিত্রের বাড়ি ? '
    দরজার পাশের নেমপ্লেটটা বোধহয় খেয়াল করেননি ভদ্রলোক।
    এর সহজ এবং স্বাভাবিক উত্তরটা কিন্তু পাওয়া গেল না। বেশ কয়েক সেকেন্ড পরে অন্য কোন ভাবনায় বিচরণ করা সুমনার মুখ দিয়ে অস্ফূটে দুটি কোমল গান্ধারে সিক্ত শব্দ বেরিয়ে এল বোধহয় নিজের অজান্তে ----- ' কি হয়েছে ? ... '

    ( চলবে )
    ********************************************
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে মতামত দিন