• হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  স্মৃতিকথা

  • পুরানো কথা পর্ব ৩৪

    Jaydip Jana লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | স্মৃতিকথা | ১৫ জুলাই ২০২১ | ৬৮১ বার পঠিত
  • আগেই বলেছি আমাদের নিজেদের সংগঠনের জন্য "হামসফর ট্রাস্টের" পক্ষ থেকে সংগঠনের ক্যাপাসিটি বিল্ডিং এর প্রজেক্ট এসেছিল ।তার রেশ ধরে আমি আর সংগঠনের আর এক সদস্য শুভ, চেন্নাইতে আয়োজিত কর্মশালায় যোগ দিতে যাই। যেখানেই যখন যাই সেখান থেকে মায়ের জন্য শাড়ি কেনাটা ছিল আমার নেশা। আসলে মায়ের জন্য হলেও মনে মনে বরাবরই ওই শাড়িতে নিজেকে দেখার মত ভাললাগা আমি এড়াতে পারিনি কখনও। যখন মায়ের জন্য শাড়ি কিনতাম, কেন জানি না মনে হত কোন অনুষ্ঠান আছে যেখানে মা শাড়িটা পড়তে পারে। আসলে যখন আমাদের একান্নবর্তী পরিবার থেকে আমরা বিচ্ছিন্ন হই তখন বিয়ের সতের বছর পরে বাবা প্রথম মাকে নিজে ভাল শাড়ি কিনে দেয়, না হলে ওই সংসারে পুজোর সময় পুসুমা যা কিনে দিত তাই নিয়েই মা খুশি থেকেছে চিরকাল। দোকানে গিয়ে যখন একটা শাড়ি পছন্দ হয়েছিল, অভ্যেস মত তখন ভাবছিলাম ওটা মা কবে পড়তে পারে, আচমকা মনে হয়েছিল কেন পাপার শ্রাদ্ধঅনুষ্ঠানে পড়তে পারে। আমি চেন্নাই যাওয়ার কিছুদিন আগে একদিন রাতে পাপা মানে আমার জ্যেঠু রাতে ঘুমের ঘোরে বিছানা থেকে পড়ে গিয়ে, কোমড়ের হাড় ভেঙে বিছানা নিয়েছিল। ছিটকে বেড়িয়ে এসেছিলাম সেদিন দোকান থেকে। ওই শাড়িটা আর কেনা হয়নি। সঙ্গে সঙ্গে বাড়ীতে ফোন করেছিলাম। পাপা কেমন আছে জানতে চাইলে সকলেই বলেছিল সব ঠিক আছে। কিন্তু মনটা খচখচ করতে থাকে। দুদিন পড়ে ফেরার সময় শুভ যখন স্টেশন থেকে আমার বাড়ি আসতে চায় তখন বুঝতে পারি গোলমালটা। বাড়ি এসে জানতে পেরেছিলাম, যেদিন আমি ফোন করেছিলাম ঠিক সেদিন, ওই সময়েই পাপা চলে গেছে না ফেরার দেশে। ছোট থেকে কোলে পিঠে বড় করে তোলা আমার ভালবাসার মানুষটাকে আমি আর কখনও দেখতে পাবনা ভাবতেই পারিনি সেদিন ।

    চিররুগ্না জ্যেঠিমা যাকে আমি ছোট থেকে মা বলতাম তারপর থেকে দাঁতে কিছু কাটেনি। পাপা মারা যাওয়ার ঠিক দশদিনের মাথায় কালীপুজোর দিন দুপুরে জেঠিমাও চলে যায় পৃথিবী ছেড়ে। অদ্ভুত ভাবে মারা যাওয়ার আগের দিন জ্যাঠতুতো দাদা দিদির বিয়ের পর পড়ে থাকা নিজের সমস্ত গয়না ভাগ করে দিয়ে গেছিল আমাদেরকে।

    প্রবল মন খারাপের মধ্যেও দু দুটো মানুষের মুখোমুখি হতে হবে না কখনও আমার এইচ আইভি নিয়ে এটুকুই ছিল সেদিন আমার একমাত্র সান্ত্বনা।

    পয়লা ডিসেম্বর, বিশ্ব এডস দিবস। সারা রাজ্য জুড়ে এইচ আই ভি নিয়ে কাজ করা সংগঠন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই দিনটা কলকাতাসহ জেলা শহরতলি সর্বত্র উদযাপন করা হয়। সারাবছরের কর্মসূচীর পাশাপাশি বিভিন্ন ভাবে সচেতন করার বিশেষ প্রয়াস নেওয়া হয় এই দিনটায় প্রতিবছরই। সেবার সকালেই বেড়িয়ে ছিলাম কোলকাতায় আয়োজিত স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রধান অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। রাস্তায় ফোন পেলাম হস্টেলে থাকা ভায়ের। জানতে চেয়েছিল, আমি কোনও রক্তপরীক্ষা করিয়েছি কিনা। বুঝেছিলাম দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। বলেছিলাম বাড়ী ফিরে বলব। পরদিন হস্টেল থেকে ফিরে এসে জানিয়েছিল, ওকে রণজয় ফোন করে জানতে চেয়েছে আমার এইচ আই ভি ধরা পড়ার কথা সত্যি কিনা। দুয়ে দুয়ে চার করতে সময় লাগে নি, বুঝেছিলাম বিতান জানিয়েছে রণকে। সত্যিটা অস্বীকার করিনি। শুধু অনুরোধ করেছিলাম তখুনি বাবা মাকে যেন কিছু না বলে। আসলে আমি চাইনি ওদের হঠাৎ করে কষ্ট দিতে। কেননা ওরাই বা কতটুকু জানেন বা বোঝেন সে ধারণা আমারও তখন ছিল না। মনের মধ্যে একটা ভাবনা ছিল সঙ্গে সঙ্গে আমার সেক্সুয়ালিটিকেই হয়ত এর জন্য ওনারা দায়ী করবেন।

    না আমার ভাই কথা রাখেনি। বছর খানেকের মধ্যেই ওর এনগেজমেন্টর আগে আগে এক পারিবারিক বচসায় বাবা মায়ের সামনে হঠাৎই চিতকার করে বলেছিল, “ওকে যে মানুষটি বিয়ে করতে চলেছেন তার কাছে যেন আমি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকি। আমার এইচ আই ভি আছে জেনেও মানুষটি এ পরিবারে আসতে চাইছে।“ হঠাৎ করে আকস্মিকভাবে আসা এমন প্রসঙ্গে স্তম্ভিত হয়ে গেছিলাম সেদিন। বাবা-মাও অনেকক্ষন কোনও কথা বলতে পারেন নি। অনেকটা বাদে কাঁদতে কাঁদতে মা শুধু বলেছিল, রোগবালাই কারও বলে কয়ে আসে না। সব কিছুরই চিকিৎসা আছে। সঙ্গে আরও বলেছিল আজ যদি এইচ আই ভি না হয়ে ক্যান্সার হত, তাহলেও কি ভাইয়ের হবু বৌ একথা বলত! সব কিছুর পর বাবা খালি বলেছিল, “বাড়ীটা আমার। আমার দুই ছেলেই আমার বাড়ীতেই থাকতে পারে। যার অসুবিধা হবে সে নিজের মত অন্যত্র নিজের ব্যবস্থা করবে”। এরপর থেকে আর বিতানের ওপর খারাপ লাগা গুলো বয়ে বেড়ানোর কথা ভাবতে চাইনি। আজ বুঝতে পারি কালের নিয়মে সেগুলো কখন যেন ফ্যাকাশে হয়ে গেছিল ...

    যদিও আজও এতবছর পরেও কখনও কখনও পারিবারিক রাজনীতি বা সম্পত্তির রাজনীতিতে বারবার আমাকে বাবা মায়ের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করতে অনেকবারই আমার সেক্সুয়্যালিটি বা এইচ আই ভি-কে কাঠগড়ায় তুলতে চেয়েছে আমার ভাই-ভাইয়ের বৌ। সব জানা বোঝার পরেও কখনও কখনও মনে হয় এত বছর ঝেলতে হবে তা যদি সত্যিই সেদিন বুঝতাম, আত্মহননের এমন রাস্তা বেঁচে নিয়ে এভাবে প্রতিদিন মরে বেঁচে থাকতাম না! আজও কখনও কখনও মনে হয় আমার এইচ আই ভি হওয়াটা আমি হয়তো মন থেকে মনে নিতে পারিনি।

    এরমধ্যে তখন আমাদের নতুন বাড়ী কেনা হয়েছিল। আমাদের পুরোনো বাড়ির পাশেই। নতুন বাড়ি নিয়ে তখন আমার অনেক স্বপ্ন। আমার মায়েরও একরাশ ভাললাগা। আগের বাড়ীটায় কাউকে আসতে বসতে দেওয়া যেত না।মামারবাড়ি আত্মীয় স্বজনের কাছে বাড়ি নিয়ে মায়ের নিজের একটা খারাপলাগা ছিলই। আমার মধ্যেও সেটা বেশ ভালরকমই চাড়িয়েছিল।

    এই বাড়িটার আবার একটা অদ্ভুত প্যাটার্ণ। একতলার সামনের অংশ টা ফ্ল্যাটের মত আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। যদিও বাকী বাড়িটা পুরোটাই আমাদের। বাড়িটায় সিঁড়ির অংশ থেকে দুটো ভাগ। সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠলে একদিকে রান্নাঘর, খাবার ঘর চানঘর। অন্যদিকে ড্রইংরুম ঠাকুরঘর, দুটো বেডরুম আর সামনের দিকে ব্যালকনি। আর রান্নাঘর খাবারঘরের অংশের সমান মাপে নিচের তলায় স্টোররুম। আগের ভদ্রলোকের রুচি ছিল। তার ছাপ পুরো বাড়িটায় যা আমাকে আর মাকে টেনেছিল। বাবা বোধহয় গোঁজামিল দিয়ে অঙ্ক মেলানোর মত করে ভেবেছিল। নতুন বাড়িতে তাই আমার কোনও ঘর দরকার হতে পারে একথা ভাবে নি৷ আসলে বিয়ে না করা ছেলের প্রাইভেসি নিয়ে আলাদা করে ভাবা বোধ হয় ভদ্রলোকের ধারণায় ছিলই না। কেননা যে ভাবে তিনি বড় হয়েছিলেন তাতে সেটাই স্বাভাবিক ছিল। আমিও ভেবেছিলাম পুরোনো বাড়ির আমাদের ঘরটাতেই না হয় আমি থাকব। প্রথম প্রথম সে ভাবনাতেই ছিলাম। আর তাই মনে হয়েছিল প্রথমেই ওই বাড়ির দোতলায় একটা টয়লেট বানানোর কথা। জেঠিমা ও মনিমা কিছু গয়না রেখে গেছিল আমার বৌ এর জন্য। আমি তো ততদিনে জানি এবং বাড়িতে বলেও দিয়েছি একা থাকব। তাই সে গয়নার কিছুটা বিক্রির টাকায় পুরানো বাড়ির আমাদের ঘরের লাগোয়া বারান্দার এক কোনে একটা বাথরুমও বানিয়েছিলাম। আর সেই সঙ্গে বানিয়েছিলাম ছেলেবেলা থেকে মেঝেতে শুয়ে বড় হওয়া আমার নিজের জন্য একটা বক্স ডিভান ।

    যদিও কিছুদিনের মধ্যেই বাবার নতুন ব্যবসার জন্য সে ঘরখানি প্রয়োজন হলে আমার ঠাঁই হয় নতুন বাড়ির ড্রইং রুমে। ভায়ের বিয়ের পর বাধ্য হয়ে নিচের তলার স্টোররুম টাকে সারিয়ে নিয়ে নিজের পছন্দ মত সাজিয়ে গুজিয়ে আমি আমার আস্তানা বানিয়ে নিয়েছি। এতো কথা বলার কারন সেদিন না বুঝলেও আজ বুঝতে পারি অন্য যৌনতায় অভ্যস্ত মানুষ তায় আবার এইচ আই ভি নিয়ে যাপন করবে আর জন্য এভাবে টেকন ফর গ্র্যান্টেড ভালোবাসা দেখানোটাই পরিবারের কাছে স্বাভাবিক। যদিও এ ব্যবস্থায় আপত্তি ছিল আমার মায়ের। কিন্তু একটা সময় এভাবে আমার নিজের মতো ভালো থাকার চেষ্টাটাকে সম্মান জানিয়ে আপত্তিটাকে কম্প্রোমাইজ করা ছাড়া ওনার আর কোনো উপায় ছিলোনা।

    আমার এইচ আই ভি ধরা পড়ার পর গঙ্গা দিয়ে ততদিনে অনেকটাই জল বয়ে গেছে। আস্তে আস্তে আমি আমার এইচ আইভি যাপনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছিলাম। কিন্তু বিতানের সঙ্গে নানা কারণে সংগঠনের কাজ ও প্রজেক্টের কাজ নিয়ে নৈতিকতায় অমিল হচ্ছিল। অন্যান্য সংগঠনগুলোর মতই ও আমাদের সংগঠনের অফিস হিসাবে প্রজেক্টের এই অফিসটাকে ব্যবহার করতে চাইছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন ভাবে আমার এইচ আই ভি ইস্যুটাকে কেন্দ্র করে হেনস্থা করতে পারলেই ও খুশি হত। বুঝতে পারছিলাম ব্যক্তিগত সম্পর্কের ছাপ কাজের জায়গায়ও আসছে। কমিউনিটি সম্পর্কে ও যা সব এর আগে বলত তখন তার পুরো উল্টো কথা বলা শুরু করে। এমনকি রিকির সঙ্গে মৌটুসীর সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর যখন রিকি যখন রনিতা নামে একজন রুপান্তরকামী হিজড়া পেশার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক শুরু করল ও মন্তব্য করে বসে "এটা নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন ", ওর মনে হয়েছিল একজন লেসবিয়ান মহিলার রূপান্তরকামী নারীর সাথে সম্পর্ক কিভাবে সম্ভব। মজার কথা ততদিনে আমি কিন্তু জেন্ডার বা সেক্সুয়ালিটি ফ্লুয়িড,কিংবা সম্পর্ক কোনও নির্দিষ্ট খোপে পড়েনা বুঝতে শিখে গেছি। ভাবনা-চিন্তায় সবকিছুতেই মতান্তর হতে শুরু করে আমাদের আস্তে আস্তে।

    সে সময় আমার অফিসের কাউন্সেলর বন্ধু সুমিতাকে আমি বলেছিলাম যদি কেউ এইচ আই ভি আক্রান্ত হয়, আর বিষয়টা মেনে নিতে না পারে ও যেন আমার কথা বলে। কেননা ততদিনে নানা অভিজ্ঞতায় দেখেছিলাম লোকজনের নিজের সামনে পরিচিত কাউকে এইচ এই ভি আক্রান্ত জানলে, নিজের এইচ আই ভি স্ট্যাটাস অ্যাকসেপ্ট করতে সহজ হচ্ছে।কিন্তু তখনও জানতাম না বা বুঝিনি এমন সিদ্ধান্তের ফল কি হতে পারে !

    আমার অফিস থেকে বাড়ীটা কাছেই। তখন এতো সাজগোজের বহর ছিলোনা আমার। বেশিরভাগ সময়ই খুব ক্যাজুয়াল ভাবে চলে যেতাম। মন মেজাজ ভাল না থাকলে কোনো কোনো দিন দাড়িও কামাতাম না। একদিন অফিস গিয়ে পৌঁছাতে না পৌঁছাতে সুমিতা আমাকে কাউন্সেলর রুমে ডাকে। দেখি একজন অঝোরধারায় কেঁদে যাচ্ছে । কথা বলে জানতে পারি কদিন আগেই ছেলেটির এইচ আই ভি ধরা পড়েছে, ভীষণ বেশি নেগেটিভ চিন্তা ছিল ওর এইচ আই ভি নিয়ে তাই সুমিতা আমার কথা ওকে জানিয়েছিল। নিশ্চিন্ত হয়ে বাড়ী যায় ছেলেটি। তার দুদিন পর ড্রপ ইনে আমাকে না কামানো একমুখ দাড়ি আর সাদা মাটা ভাবে দেখে তার মনে হয় সুমিতা ওকে মিথ্যে স্তোকবাক্য দিয়েছে। বুঝতে পারি গন্ডগোল টা। নিজে বসে ছেলেটাকে বোঝাই সব কিছু। এবং আমার অমন সাদামাটা থাকার কারণটাও বলি। সমস্ত শুনে ধাতস্থ হয় ছেলেটা। বুঝতে চেষ্টা করে এইচ আই ভি হলেই লোকে মরে যায় না। শরীর ভেঙে যায় না। দেখতে খারাপ হয়ে যায় না। নিয়মিত ভাবে ডাক্তারের পরামর্শ শুনে চললে ভাল থাকা সম্ভব।

    এঘটনা আমাকে নাড়িয়ে দিয়েছিলো। বুঝতে পেরেছিলাম নিজেকে ফিটফাট হাসিখুশি রাখাটা ভীষণ জরুরি।তারপর থেকে এটা মেইনটেইন করে চলতে শুরু করি। সেদিনের পর থেকে নিজের পারসোনাল গ্রুমিং এ ঘাটতি পড়েনা কখনও। যেটাকে মজা করে নাম দিয়েছিলাম সেলেব সিনড্রোম। অনেক সময় মন খারাপ হলে সেটাও সকলের সামনে প্রকাশ করা বন্ধ হয়ে যায়। নিজের ভালোলাগা খারাপ লাগা লুকিযে চলতে অভ্যস্ত হয়ে উঠি ক্ৰমশঃ। বাধ্য হয়ে অনেকটাই ম্যাচিওর হয়ে গিয়েছিলাম আচমকাই ।

    কাউন্সেলিং নিয়ে ভাবনা আমার ছিলই নিজের সেক্সুয়্যালিটি নিয়ে বুঝতে পারার সময় থেকেই, আমার প্রথম সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সেটা কতটা প্রয়োজন হাড়েহাড়ে টের পেয়েছিলাম, কেননা অন্য যৌনতা যাপন তখন আজকের মত সবাইকে বলা যেতনা , আজও অনেকেই বলতে পারেনা। এর সঙ্গে যোগ হল এইচ আই ভি যাপন। বুঝলাম আমাদের মত মানুষের পাশে পজিটিভ ভাবে থাকাটা আমার মত পজিটিভ লোকের ভীষণ জরুরি। আর তাই তো মনখারাপ, বিচিং বা কোনও নেগেটিভ ভাবনাকে পাত্তা না দিয়ে সবসময় ভাল থাকার অভিনয় করতে করতে কখন যেন ভালো থাকাটাই অভ্যেস হয়ে গেছে আমার । ভাল থাকা একটা আর্ট। ওটা রপ্ত করলেই হয়। আমি জানি জাতকের গল্পের মত একমুঠো সর্ষে কারও কাছে পাবনা যার খারাপ থাকা নেই। নিজেকে বোঝাই আমার মাথার ওপর বর্ষায় ছাদ আছে, দু'বেলা পেটপুরে খেতে পাই, শীতে গায়ে গরম পোষাক দিতে পারি, তাই বাকী দুঃখ নিয়ে ভাবনাটা বিলাসিতা!

     

  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ১৫ জুলাই ২০২১ | ৬৮১ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • b | 14.139.196.16 | ১৬ জুলাই ২০২১ ১৫:২২495830
  • জয়দীপকে অনেক ধন্যবাদ জানাই। 

  • kk | 68.184.245.97 | ১৬ জুলাই ২০২১ ২০:১৭495837
  • এইচ আই ভি যাপন খুব কাছ থেকে দেখেছি। জয়দীপ, আপনার সাহস আর ওয়ারিয়র স্পিরিটকে অনেক কুর্নিশ জানিয়ে গেলাম।

  • Ranjan Roy | ১৭ জুলাই ২০২১ ১৬:১০495862
  • এ আমার অপরিচিত দুনিয়া। কিন্তু একজন মানুষের  এমন প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়ে নিজের কাছে সৎ থাকার লড়াইকে কুর্নিশ করি।

  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে প্রতিক্রিয়া দিন