ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  স্মৃতিকথা

  • পুরানো কথা পর্ব  ৩২

    Jaydip Jana লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | স্মৃতিকথা | ১৩ জুলাই ২০২১ | ৯৩৪ বার পঠিত
  • কেটি আর আমি মাঝে মাঝেই বিভিন্ন জায়গায় এইচ আইভি, জেন্ডার,মানসিক সহায়তা বিভিন্ন বিষয়ে সেমিনার এটেন্ড করে শুনতে যেতাম। এতে করে বিভিন্ন বিষয়ে নিজের মনের খোরাক এর সাথে সাথে কাজের জায়গায় কি কি পরিবর্তন আনা যায় সে দিশা ও খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করতাম। একবার এইচ আই ভি পজিটিভ নেটওয়ার্ক এর পক্ষ থেকে কাছের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে একটা এইচ আই ভি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। বক্তা ছিলেন কোলকাতার “স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন” এর একজন নামী গবেষক ও অধ্যাপক। ওনার বক্তৃতা শুনে বুঝেছিলাম আমারও পুরোনো জীবনযাত্রা অনুযায়ী এইচ আই ভি র ঝুঁকি আছে, সুতরাং পরীক্ষা করানোটা দরকার। আর তাছাড়া সবাইকে তো এইচ আই ভি পরীক্ষার জন্য মোটিভেট করে আই সি টি সি ( ইন্টিগ্রেটেড কাউন্সেলিং ও টেস্টিং সেন্টার, মানে যেখানে এইচ আই ভি র জন্য রক্ত পরীক্ষা করা হয়) তে নিয়েই যাই, তখন নিজের পরীক্ষা করে নেওয়াটাও জরুরি। কেটিও জানাল ওও ভাবছে একবার পরীক্ষা করে নেওয়া দরকার। ঠিক করলাম দুজনে একসাথেই হাওড়া হাসপাতালে একদিন রক্তেপরীক্ষা করাতে যাব।

    তখন রক্তপরীক্ষার দিনের দিন রিপোর্ট দেওয়া হত না (এখন দেওয়া হয়)। এখন সব সরকারি হাসপাতালে বিনাপয়সায় এই পরীক্ষাটা হয়। যখনকার কথা বলছি তখন সবজায়গায়এইচ আই ভি পরীক্ষাও হত না।

    রিপোর্ট আনতে যাওয়ার দিনটা আজও স্পষ্ট মনে আছে।

    কথামত আমি নির্দিষ্ট সময়ের আগেই পৌঁছে গিয়েছিলাম। আসলে সবসময় পাংচুয়াল হওয়ায় কাউকে সময় দিলে আগে যাই তো পরে যাইনা। সঙ্গে গিয়েছিল আরও এক কমিউনিটির বন্ধু তার রিপোর্ট আনতে। যথারীতি তার রিপোর্ট নিয়ে সে বেড়িয়ে আসার পর আমার পালা। কাউন্সেলর-এর মুখ দেখেই বুঝে গিয়েছিলাম রিপোর্টে কি আছে। আমার দিকে রিপোর্টটা বাড়িয়ে দিয়ে তার প্রথম প্রশ্ন ছিল, "মাত্র পঁচিশ বছর বয়স, এরপর কি করবে "? হাসিমুখে উত্তর দিয়েছিলাম, "জানি তো কি কি করতে হবে!" বেচারা হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল, তারপর তার কোনও কথা আমার মাথায় ঢোকেনি। জানা ছিল তখন শুধু স্কুল অফ ট্রপিকাল মেডিসিন এ চিকিৎসা হয়। খালি আউটডোর দিন ও সময় টুকু জেনে বেরিয়ে এসেছিলাম। বাইরে অপেক্ষা করা বন্ধুটিকে বলেছিলাম আমাকে আরও খানিকটা সময় কেটির জন্য অপেক্ষা করতে হবে ও যেন চলে যায়। কেননা কেটি তখনও এসে পৌঁছয় নি।

    একলহমায় কোনও কিছু না ভেবে স্কুলে থাকা বিপ্রদাসকে মেসেজ করেছিলাম, " একটু আগে আমার রিপোর্ট পেয়েছি আমি এইচ আই ভি পজিটিভ, নতুন করে কমিউনিটির বন্ধুদের জন্য ভবিষ্যত পরিকল্পনা করা দরকার " আসলে তখনও পর্যন্ত সকলেই মনে করত একটা নির্দিষ্ট শ্রেণীর লোকেদেরই এইচ আই ভি হয়। আজও বহু মানুষ মনে করে এইচ আই ভি থাকে যাদের তারা তথাকথিত সুস্থদের দলে নয়। কিছু না কিছু রোগলক্ষণ দেখা দেবেই। যা সবচেয়ে ভুল। আমাদের জীবনযাত্রা আমরাই জানি। আর কেবল মাত্র একজন যৌনসঙ্গী থাকলেও এইচ আই ভি হতে পারে। যদি সেই সঙ্গীর কোনও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ থেকে থাকে। বিপ্রদাস ক্লাসের ফাঁকে ফোন করে জানতে চেয়েছিলেন, আমি তখন কোথায়? জানিয়ে ছিলাম, "কেটির জন্য অপেক্ষা করছি, তারপর ড্রপ ইনের কাজ সেরে বাড়ি যাব"। রাতে কথা বলব জানিয়ে ফোন রেখেছিলাম। ততক্ষণে কেটি এসে পৌঁছেছে। আমাকে দেখে কেটি জানাল," জয় খুব বুক দুরদুর করছে," আমি হেসে বললাম, "কিছু হবে না, এত না ভেবে যা রিপোর্ট নিয়ে আয়।" রিপোর্ট নিয়ে হাসতে হাসতে বেড়িয়েই কেটি জড়িয়ে ধরে বলল, "যাক বাবা শান্তি! রিপোর্টটা নেগেটিভ।" আর তারপর মনে পড়াতে জানতে চাইল, আমি রিপোর্ট নিয়েছি কিনা। আমি হেসে উত্তর দিলাম, "আমার রিপোর্ট পজিটিভ "! ও আমার হাসিমুখ দেখে বিশ্বাস না করায় ওকে রিপোর্টটা দেখালাম। এও জানালাম বিপ্রদাসকে খবরটা জানিয়েছি। তারপর বললাম, "চল তুই বাড়ি যা, আমিও এগোই, একবার পজিটিভ নেটওয়ার্কের অফিসটা ঘুরে তারপর অফিস যেতে হবে, ওকে ফিরতি বাসে তুলে দিয়ে আমি হাওড়া স্টেশনের ভিড়ে এগিয়ে গেলাম।

    ট্রেনে উঠে জানলার ধারে বসে কত কথা মনে হচ্ছিল সেদিন, বিতানের কথা, বাড়ীর কথা, আরও অনেক কথা, একটা সময় আমিই তো চেয়েছিলাম, তাহলে এত কষ্ট হচ্ছিল কেন বুঝতে পারছিলামনা সেদিন । নিজেকে বোঝাচ্ছিলাম এটাতো স্বাভাবিক, আর মনে মনে পরিকল্পনা করছিলাম আগামী দিনে আমার আর কি কি করণীয় আছে কি কি দায়িত্ব আছে সেগুলো কিভাবে করা দরকার। আজকাল যদিও কাউন্সেলর বা চিকিৎসকরা কারও এইচ আইভি ধরা পড়লে তাকে নিয়ে বসে আলোচনা করেন। কিন্তু সেদিন সেই মুহুর্তে আমার করনীয় কি আমি নিজেও বুঝে উঠতে পারছিলাম না। খালি মনে হচ্ছিল বিতান যেন ঠিক থাকে। মনে পড়ছিল 'মাই ব্রাদার নিখিলের' দৃশ্যপট। বুঝে উঠতে পারছিলাম না, বিতানকে কি বলব! নিজেকে বোঝাচ্ছিলাম বিতান তো এব্যাপারে আমার থেকেও আগে থেকে কাজ করছে। খুব ইচ্ছে করছিল ওর কাঁধে মাথা রাখতে ফোন করতে, আবার নিজের ইগো থেকেও নড়তে পারছিলাম না। অভিমান বড় বালাই।

    সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে নিজের স্টেশনটাই ভুলে গিয়েছিলাম, আজ ভাবলেও মজা লাগে শ্রীরামপুর না নেমে চন্দনগর নেমেছিলাম। আর স্টেশনে নেমেই বুঝেছিলাম বোকামিটা। মনে পড়ে গিয়েছিল, বিতান তো অন্য জেলায় অন্য শহরে। ফিরতি ট্রেনে ফিরে এসেছিলাম নিজের শহরে। সোজা গিয়েছিলাম এইচ আই ভি পজিটিভদের নেটওয়ার্কের অফিসে। ততদিনে যদিও আর একবাড়িতে ওদের অফিস ছিলনা। ওখানের কেউ বিশ্বাস করেনি। স্বাভাবিক ভাবেই সকলে বলেছিল আর একবার অন্য কোনও খানে পরীক্ষা করাতে। আমি ততক্ষণে মেনে নিয়েছি। আমার একবারও মনে হয়নি এ রিপোর্টটা ভুল। ওখান থেকে বিস্তারিতভাবে স্কুল অফ ট্রপিকালের ঠিকানা, কবে আউটডোর, ঠিক কোন ধরনের জীবনযাপনে অন্য কেউ সংক্রমিত হবে না, নিজে কি করে ভাল থাকা যায় তার একটা ধারণা নিয়ে ফিরে এসেছিলাম নিজের অফিসে।

    অফিসে ফিরে নিজের কাজে মন দিতে চেষ্টা করলেও পারছিলাম না, কাউকে কিছু বলতেও পারছিনা, বিতানকে জানানোটাও একটা গুরু দায়িত্ব।মনে মনে ভাবছিলাম বাড়ী ফিরেআমার জ্যাঠতুতো দাদার ছ'মাসের বাচ্চাটাকে কোলে নিতে পারব তো! মনের মধ্যে অনেক রকম ঝড়।

    হঠাৎ দেখি স্কুল ফেরত বিপ্রদাস ঢুকছেন। দেখা ইস্তক কেমন যেন একটা অস্বস্তি তৈরী হল। অথচ মুখোমুখি না হয়েওতো উপায় না।

    বিপ্রদাস খুব ভাল গান করেন। বিকালের দিকে অনেক সময়ই ড্রপইনে আসা বন্ধুরা গান আবৃত্তি করত নিজেদের মত। কেউ কেউ নিজের মত সাজগোজ করে, কেউ বা সাজগোজ করে নাচ করে। নিজের নিজের মত অক্সিজেন খুঁজে নেয় এই নিরাপদ পরিসরে। বিপ্রদাস এলেই সব গোলমাল আশ্চর্য রকমের চুপ। সকলেই বিপ্রদাসের গান শুনতে চায়। সেদিনও সকলে গান শুনতে চাইলে বিপ্রদাস প্রথমে আপত্তি করেন। তারপর রাজীও হন বাধ্য হয়ে। এক এক করে অনুরোধ আসে এমন সব গানের যা আমাদের কাঁদায়। আসলে দুঃখবিলাসিতা বা মৃত্যুবিলাসিতা আমাদের মত মানুষদের চেতনায় মিশে থাকে আমরা তা বুঝি না। তারপরেও একটার পর একটা গান গাইতে থাকেন বিপ্রদাস আর আস্তে আস্তে আমি নিজেকে হারাতে থাকি নিজের ভেতর।

    একটা সময় অফিস ফাঁকা হতে শুরু করে বিপ্রদাসও বেড়োনোর উদ্যোগ নেন। আর আটকে রাখতে পারিনি নিজেকে। প্রথমবার নিজে থেকে বলি " আজ রাতটা তোমার ফ্ল্যাটে থাকবে আমার সঙ্গে!" আসলে বাড়ি ফিরতে চাইছিলাম না যে!

    রাজী হয়ে যান বিপ্র। আর তারপর রাতের খাবার খেতে যাই এক রেস্তোরাঁয়। খাবার শেষে আইসক্রিমের বাটিটা শেষ করে অভ্যেসমত ওর বাটিতে নিজের চামচটা ডুবিয়ে খেতে খেতে প্রশ্ন করে বসি, "আচ্ছা স্যালাইভাতে কত পার্সেন্টেজ এইচ আই ভি থাকে!" অথচ এইচ আইভি নিয়ে কাজ করা আমি , সচেতন আমি, জানতাম স্যালাইভা দিয়ে এইচ আইভি ছড়ানোর ঝুঁকি নেই বললেই চলে।

    সারাটা রাত ছটপট করতে থাকি অব্যক্ত যন্ত্রণায়, খালি মনে হতে থাকে বিতানের কথা, আর মনে মনে ভাবতে থাকি ও যেন এইচ আই ভি পজিটিভ না হয়। তখন সকলেই হয়তো ওকে দোষারোপ করবে। সকলেই ভাববে ওর থেকেই আমি সংক্রামিত হয়েছি। কেননা ওর জীবন তো খোলা পাতা, আমার জীবনের ফেলে আসা দিন গুলো তো কেউ তখনও জানে না। সকাল হতে আর থাকতে না পেরে বিতানকে জানিয়ে দিই ফোন করে। খানিক সামলে নিয়ে ও ও বলে এত ভাবার কিছু নেই। আমি জানাই ওর রক্তপরীক্ষাটাও জরুরি।

    খানিক বাদেই বিপ্রদাসকে ফোন করে অর্চন। বিতানের থেকে খবর পায় ও। ফোন করে অথচ গোপনীয়তা রক্ষার নীতির টানাপোড়েনে সরাসরি কিছু বলতে দ্বিধা করলেও একসময় জানতে চায় বিতান যা বলেছে তা কতটা সত্যি। বিপ্রদাস ফোনটা আমাকে ধরিয়ে দেন। বুঝতে পারি খবরটা হজম করতে ওর সময় লাগবে। বিপ্রদাস বোঝাতে চেষ্টা করেন,আন্দোলন কর্মীদের এত অল্পে ভেঙে পড়তে নেই। বুঝতে পারি, আসলে নিজেদের ঘর পুড়েছে। তাই এটা মেনে না নিতে পারাটা স্বাভাবিক। আমিও কি মেনে নিতে পেরেছিলাম প্রথমে!

    সেদিন আমার অনুরোধে আর স্কুলে যায়নি বিপ্র। বেলা বাড়ার সাথে সাথেই কিছুটা ধাতস্থ হয়ে গিয়েছিলাম আমিও। বিপ্রদাসকে বলেছিলাম সব জেনে বুঝে আমারই যদি এত টানাপোড়েন চলে, তাহলে আমার মত বাকী বন্ধুদের পাশে থাকাটা অনেক বেশি জরুরি সেটা আমি বুঝছি। মনস্হির করেছিলাম সেদিনই। আমি সত্যিই তাদের পাশে থাকতে চাই। বিপ্রদাসকে সাথে নিয়েই অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হই।

    সুমিতা তখন আমাদের ড্রপইন সেন্টারের কাউন্সেলর। আমার এইচ আই ভি ধরা পড়ার কথা সুমিতার কাজের জায়গা থেকে সুমিতাকে জানাতে হতই। রিকিকেও জানানো দরকার ছিল। ড্রপ ইনে পৌঁছে আমার অনুরোধে বিপ্রদাস ওদের দুজনকে একসাথে ডেকে বলল, "এই প্রথম আমরা একজন পজিটিভ আউট রিচওয়ার্কার পেলাম, যিনি তার মত সকলের পাশে থাকবেন ঠিক করেছেন।" ওরা দুজনেই হাততালি দিয়ে কনগ্র্যাচুলেট করে আমাকে। আর তারপর আমি যখন ওদের আমার রিপোর্টটা তুলে দিই, কপি করে ফাইলে রাখার জন্য হতভম্ব দুজনের ঘোর কেটে যায়। কাউন্সেলিং ফেলিং ভুলে আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করে দুজনেই। পেশাগত পরিচয় পরিবর্তন হয়ে যায় ব্যক্তিগত বন্ধুত্বে। আজ বুঝি কাউন্সিলর, পিয়ার কাউন্সিলর এই সব ভারী ভারী পদের আড়ালে ব্যক্তিগত মানুষ, মানুষই থাকে। ওদের দুজনকেই তখন ভবিষ্যৎ বোঝাতে হয় আমাকেই। আসলে সেদিন এইচ আই ভি নিয়ে সত্যিকার ধারনা কারও তেমন ছিলনা। সকালের মত দুপুরেও বুঝতে পারি আগুনের আঁচ আসলে ঘরেও এসে পড়েছে। আর সকলেই তো আমরা তখন পিঠোপিঠি বয়স। সদ্য কাজ করতে আসা মানুষজন।

    রাতের বেলা বিতান ফোন করলে আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারি না ডুকরে কেঁদে উঠি ফোনে। বিতান কথা দেয় সপ্তাহান্তে ছুটিতে বাড়ী এসে নিজের রক্ত পরীক্ষাও করাবে। দুটো দিন বিতান আগের মত। তৃতীয় দিন দুপুরে অর্চনের ফোনে বিতানের মেসেজ এল, "তোদের ভালবাসা আমাকে মরতে দিলনা, আমার রিপোর্টটা নেগেটিভ।" অর্চন সে মেসেজটা আমাকে দেখাতে আমি বাকরহিত হয়ে গেলাম।

    সেদিন রাতে বিতান আমাকে ফোন করে জানাল, ও আমার পাশে আছে,কিন্তু সম্পর্কটা আর নেই। নতুন একজন মানুষ ওর জীবনে আসতে চলেছে। ফোন রাখার আগে আমি শুধু অভিনন্দন জানিয়ে বলেছিলাম, "ভাল থেকো"...

    বিতানের বাড়ীতে বিতান খবরটা দিলে একটা ভাল রকম হইচই বাঁধে। বিতান ওর নতুন সঙ্গীকে পরিচয় করাতে চাইলে সবচেযে খেপে ওঠেন ওর বাবা।দাদাভাই এর মুখে পরে শুনেছিলাম, কাকু বলেছিলেন,"আজ একজন কাল একজন, আমরা এসব মানতে অভ্যস্ত নই! আর তাছাড়া জয়ের দোষটা কোথায়?" বিতান উত্তর দিয়েছিল,"তোমরা কি চাও ওর সাথে থাকতে গিয়ে আমি এডস হয়ে মরি! ওর এডস হয়েছে, ওর সাথে থাকা সম্ভব না।" কাকু প্রচন্ড রেগে উত্তর দিয়েছিলেন, এভাবে সম্পর্ক ভাঙা যায় না, ও যদি তোমার বিয়ে করা বউ হত! শুধু একারণে সম্পর্ক শেষ, অমানুষে ভাবে। " ভাবতে অবাক লাগে এই ভদ্রলোক একসময় আমাকে তো অনেক দূর, সমকামী সম্পর্কও নাকি মানতে পারতেন না। তারপরেও সে বছর দুর্গাপুজোর অষ্টমীতে জোর করে ডেকেছিলেন, মাছ ভাত খাওয়ার জন্য। আমাদের বাড়ীতে অষ্টমীতে ভাত হয়না। সারাদিন লুচি পরোটা খেয়ে, ভাত না মুখে দিয়ে আমি তখন থাকতে পারতাম না। সেদিন দুপুরে খাবার টেবিলে আমাকে বলেছিলেন, জানি আমাদের অধিকার নেই, কিন্তু তোমাকে কখনও জোর করবনা আসতে, তবে তোমার জায়গাটা আর কাউকে আমি দিতে পারবনা। আমার ছেলেটাকে আমি মানুষ করতে পারিনি, তুমি কিছু মনে কোরনা। মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল, এই ভালবাসাগুলোই আমার জীবনে অনেককিছু । আজও প্রত্যেক বছর ওনাদের বিয়ের দিনে আমি ফোন করতে ভুলিনা । কতবছর হয়ে গেছে। দুজনেই অপেক্ষা করেন, জানেন সারাদিনে যত কাজই থাকুক আমার ফোন যাবেই। আমার প্রত্যেকবছর জন্মদিনে ফোন করতে ওনারাও কখনও ভোলেন নি আজও।
  • | বিভাগ : ধারাবাহিক | ১৩ জুলাই ২০২১ | ৯৩৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে মতামত দিন