• হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  স্মৃতিকথা

  • পুরানো কথা পর্ব  ৩১

    Jaydip Jana লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | স্মৃতিকথা | ০৯ জুলাই ২০২১ | ২৫০ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • পুরোনো কথা পর্ব এক | পুরানো কথা পর্ব ২ | পুরানো কথা পর্ব ৩ | পুরানো কথা পর্ব ৪ | পুরানো কথা পর্ব ৫ | পুরানো কথা পর্ব ৬ | পুরানো কথা পর্ব ৭ | পুরানো কথা পর্ব ৮ | পুরানো কথা পর্ব ৯ | পুরানো কথা পর্ব ১০ | পুরানো কথা পর্ব ১১ | পুরানো কথা পর্ব ১২ | পুরানো কথা পর্ব ১৩ | পুরানো কথা পর্ব ১৪ | পুরানো কথা পর্ব ১৫ | পুরানো কথা পর্ব ১৬ | পুরানো কথা পর্ব ১৭ | পুরানো কথা পর্ব ১৮ | পুরানো কথা পর্ব ১৯ | পুরানো কথা পর্ব ২০ | পুরানো কথা পর্ব ২১ | পুরানো কথা পর্ব ২২ | পুরানো কথা পর্ব ২৩ | পুরানো কথা পর্ব ২৪ | পুরানো কথা পর্ব ২৫ | পুরানো কথা ২৬ | পুরানো কথা পর্ব ২৭ | পুরানো কথা পর্ব ২৮ | পুরানো কথা পর্ব ২৯ | পুরানো কথা পর্ব ৩০ | পুরানো কথা পর্ব ৩১ | পুরানো কথা পর্ব ৩২ | পুরানো কথা পর্ব ৩৩ | পুরানো কথা পর্ব ৩৪ | পুরানো কথা পর্ব ৩৫ | পুরানো কথা পর্ব ৩৬ | পুরানো কথা পর্ব ৩৭

    কিছু কিছু মানুষেরা শর্টকার্টে সব কিছু পেতে চায়।বিতান তাদের দলে। অনেকের মতই ও-ও মনে করত সেক্সুয়াল ম্যানিপুলেশনে লোকজনকে যেভাবে খুশি ব্যবহার করা যায়। এই চাকরিটা প্রজেক্টের শুরুতে অনেকটাই বাড়ী বসে পাওয়ায় এ চাকরির কাজের  মুল্য যতনা ছিল তার চেয়ে বেশি ও কমিউনিটি আন্দোলনকে গুরুত্ব  দিত। ওর অভিজ্ঞতায় কমিউনিটির কাজও যে অনেক পেশাদার ও পরিকল্পনামাফিক হওয়া প্রয়োজন তা ও মানত না। অথচ প্রজেক্টের কাজকর্ম-এর ধারা আস্তে আস্তে পরিবর্তন  হচ্ছিল। প্রথম দিকে যতটা ক্যজুয়াল মনোভাব নিয়ে শুরু হয়েছিল, পরবর্তী কালে অনেক বেশি পেশাদার ভাবনা, পেশাদার ডকুমেন্টেশন  প্রয়োজন হচ্ছিল  আস্তে আস্তে । ও কিছুতেই সেগুলোর সাথে তাল মেলাতে চাইছিল না। বিপ্রদাস ও আরো কয়েকজনের সঙ্গে ব্যাক্তিগত আলোচনার ভিত্তিতে আমি বুঝতে পারছিলাম ডকুমেন্টেশনের প্রয়োজনীয়তা।  এনিয়েও মাঝেমাঝেই  সংঘাত হচ্ছিল  আমাদের। আস্তে আস্তে এটা ও বুঝতে পারছিল পোজিশনে টিঁকে থাকা বা পদোন্নতি  হতে গেলে অ্যাকডেমিক শিক্ষার মাপকাঠিও প্রয়োজন। নইলে প্রতিযোগিতায় ও পিছিয়ে পড়বে। এইসময় আর্থিক অনুদানকারী সংস্থা প্রজেক্ট রিনিউয়ালের সাথে সাথে বিভিন্ন নতুন পদ তৈরী করছিলো এবং পুরনো পদগুলোর নোমেনক্লেচারও পরিবর্তন হচ্ছিল। বিতান যে পদে কাজ করত তার ওপর আরও একটি পদ অনুমোদন  হয় কাউন্সেলর। বহুদিন ধরে দরবারের পর এইচ আইভি  এডস বা যৌন স্বাস্থ্যের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রয়োজনের কথা মেনে নিয়ে প্রজেক্ট এরিয়াকে বিভিন্ন জোনে ভাগ করে প্রত্যেক ড্রপ ইন সেন্টার পিছু কাউন্সেলর পদ অনুমোদিত হয়। কিন্তু  প্রথম থেকে সর্বেসর্বা হয়ে থাকা বিতান ওর মাথার ওপর আর কেউ এসে বসবে এটা ভাবতেও পারছিলনা। আবার এই প্রজেক্টে  কাউন্সেলর হওয়ার ফিল্ড  অভিজ্ঞতা  থাকলেও শিক্ষাগত যোগ্যতায় আটকে যাচ্ছিল ও। এমন সময় আমি জানতে পারি এইচ আই ভি পজিটিভ নেটওয়ার্ক এর ইন্টারভেনশন প্রজেক্টে  দূরের জেলাগুলোর জন্য কাউন্সেলর খোঁজ করছিলেন ওনারা ।ওদের তখন নতুন কাজ, যতনা টেকনিক্যাল কাউন্সেলর তারচেয়েও বেশি এ পদটার জন্য বলিয়ে কইয়ে হিসাবে সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে কাজ করার লোক  দরকার ছিল ওনাদের। একই বাড়ীর ওপরনিচে দুটো প্রজেক্টের অফিস হওয়ায় বিতানকে ওনারা চিনতেন। ওদেরই একজনের সুপারিশে কাউন্সেলর হিসাবে পুরুলিয়া জেলায় যোগ দেয় বিতান। বিতান চলে যাওয়ার কিছুদিন বাদে ওর পদে বহাল হই আমি।

    বিতান যতটা খুশি মনে লাফাতে লাফাতে নতুন চাকরিতে জয়েন করেছিল, কয়েকদিন বাদেই ততটাই কাজের ধরন ধারণে ওর মোহভঙ্গ হয়। এখানে যা বেতন ছিল, তথাকথিত পদোন্নতি নিয়ে নতুন জায়গায় সে পরিমান বেতন বাড়েনি।  তখন প্রজেক্টগুলো মোটামুটি একই রকমের বেতন দিত। কোনও কোনও সংসঠন কর্মীদের থেকে একটা অংশ আবার সংগঠনে অনুদান দিতে বাধ্য করত। চিরকাল আদরের দুলাল যার এখানে সর্বময় কর্তৃত্ব ছিল, অন্য জায়গায় গিয়ে লোকের অধীনে কাজ করা ওর পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। ওর থেকেও অশিক্ষিত  লোকজন ওর ওপর কর্তৃত্ব করবে এটাও মানতে পারছিল না। আর এর পুরো প্রভাব পড়ছিল আমাদের সম্পর্কে।

    সমস্ত  জায়গাতেই কিছু মানুষ থাকে যারা কাজ করতে চায়না, এবং কাজ না করার জন্য কারও কারও সঙ্গে কূটকচালির রাজনীতি তৈরী করে। আমাদের প্রজেক্টেও  তেমন মানুষের  অভাব ছিল না। সবচেয়ে বড় বিষয় বিতানের হাতে তৈরী বেশ কয়েকজন বিতানের মতই আন্দোলন আর কাজের মধ্যে যে পেশাগত ফারাক থাকে তা মানতে চাইত না। তারা দৈনন্দিন কাজের খবরাখবর বিতানকে জানাত। ওদিকে বিতান যে এখন এখানকার কোনও অফিসিয়াল সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা সেটা বিতানও মানতে চাইত না। ফলে বিভিন্ন সময় আমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলেই  সংঘাত ঘটা ছিল অনিবার্য। বিতান মনে করত ওর জায়গায় আমাকে বসিয়ে দিয়ে ও দূর থেকে নিজের মত করে সব কিছুকে নিয়ন্ত্রণ করবে। আসলে সংগঠন যতই নেটওয়ার্কের অংশ হোক না কেন, প্রজেক্ট আর সংগঠন দুটো যে আলাদা বিষয় ও কিছুতেই মানতে চাইত না। এর জন্য শুধু মাত্র ওকে দোষ দিয়েও লাভ নেই। এই নেটওয়ার্কটার শুরুতেই তো গলদ ছিল। নামেই নেটওয়ার্ক, আর্থিক অনুদান পাওয়ার উদ্দেশ্যে আসলে তো কয়েকটা সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে তৈরী আর একটা সংগঠনমাত্র। যে যে সংগঠনের প্রতিনিধিরা মিলে এই নেটওয়ার্ক  করেছিল তারা স্ব-স্ব এলাকায় প্রজেক্টের ড্রপ ইন সেন্টার কেই নিজের নিজের সংগঠনের অফিস মনে করত।সেখান থেকেই কেউ কেউ নিজেদের সংগঠনের কাজ চালাতো। কোনও একটি সংগঠনের রেজিষ্ট্রার্ড অফিস অ্যাড্রেস এবং এই তথাকথিত নেটওয়ার্কের রেজিষ্ট্রার্ড অফিস অ্যাড্রেসও তো এক ছিল। এমন কি অনেক এলাকার সংগঠন নেটওয়ার্কের অংশ হিসাবে প্রজেক্টের কাজকেই নিজের সংগঠনের কাজ বলে দাবি করে অন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার কাছে রিপোর্ট  দাখিল করে আর্থিক সহায়তা নিত। সে এক আজব চিড়িয়াখানা। সাধে কি আর লোকে এন জি ও বললেই বাঁকা চোখে তাকায়। তবে এটাও সত্যি আমার দেখা বহু সংগঠন প্রথমদিন থেকেই আর্থিক সততার সাথে কাজ করে আসছে আজও। ওই জন্যেই বলে হাতের পাঁচটা আঙ্গুল সমান নয়, তাই মুড়ি মুড়কি এক করে দেখতে নেই।     

    ড্রপ ইন সেন্টারটা ছিল আমাদের দ্বিতীয় বাড়ি। রোজ বিকালে যখন ড্রপ ইন করা বন্ধুদের নিয়ে আমরা বিভিন্ন  গ্রুপ ডিসকাশন করতাম আর সঙ্গে সবাই মিলে বসে একসাথে খবরের কাগজ পেতে মুড়ি চানাচুর খেতাম তখন একটা অন্যরকম  আনন্দ  ছিল । এভাবেই একে অন্যের সঙ্গে বন্ডিংটা দৃঢ় হচ্ছিল। স্কুলের কাজ সেরে অবরে সবরে যেদিন বিপ্রদাস ড্রপইনে আসতেন সেদিন আমাদের পোয়া বারো। বিপ্রদাসের ঘাড় ভেঙে সেদিন কিন্তু  মুড়ির সাথে চপ বা সিঙারা জুটে যেত সকলের জন্যই।

    ড্রপইন সেন্টারএ বিতান প্রথম থেকেই একটা ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিল, যাতে আমাদের সকলের এমন কি খুব কাছের বন্ধুদের জন্মদিন উল্লেখ করা থাকত। নির্ধারিত দিনে সেই মানুষটিকে ফোন করে অভিনন্দন জানানো হত। সহকর্মীদের পাশাপাশি যারা ড্রপ ইনে রোজ আসত তাদের সকলের জন্মদিনেই  চাঁদা তুলে কেক আনানো হত  আর যার জন্মদিন সে কেক কাটত। কখনও সে সেদিনের সকলের মুড়ির দায়িত্ব  নিত।

    একবার বিতান ঠিক করেছিল আমাদের ড্রপ ইন সেন্টার এ বিপ্রদাসের জন্মদিন এ সারপ্রাইজ  গিফ্ট দেওয়া হবে। আমরা রান্না করে সবাই মিলে বিপ্রদাসকে খাওয়াব। প্ল্যান মত বিপ্রদাসকে ডেকে মজা করে পঞ্চব্যাঞ্জন সহকারে সবাই মিলে খেতে দিলে বিপ্রদাস একটু অপ্রস্তুতই হলেও সকলেই খুব মজা করায় খুশীও হয়েছিলেন।আমাদের অনেকেরই একাধিক সঙ্গী একাধিক সম্পর্ক ,না-সম্পর্ক একতরফা চাপ থাকে ।বিপ্রদাসও ব্যতিক্রম ছিলেন না।  সেবার বিপ্রদাসের জন্মদিনে বিপ্রদাসের এক প্রেমিকের গাওয়া রবীন্দ্রনাথের গানের সাথে বড়দির ক্যাবারে নাচের অভিজ্ঞতা আমার সারাজীবন মনে থাকবে। সে নাচ দেখলে আজকের রিয়েলিটি শো এর কর্মকর্তারা অতো বছর আগে অমন ফিউসন-ডান্সের জন্য সেরা পুরস্কারটা বড়দিকেই দিতেন, এ আমি হলফ করে বলতে পারি। । 

    এর পরের বছর রথের দিন আমার বাড়ির ছাদে বসে রিকি ও অন্যাণ্য সহকর্মী বন্ধুরা বিতানের জন্মদিনও বিপ্রদাসের মত করে করবে বলে প্ল্যান করে। আমার কাছে ওদের দাবি বিতানকে আসতে বলার। কিন্তু আয়োজনের কোনও কথা যেন ফাঁস না হয়। বিতান নতুন কাজে  যোগ দেওয়ার পর সবাই ওকে মিস করত বুঝতাম, আমি তো মিস করতামই। এই আলোচনার মাথাদের মধ্যে অর্চনও ছিল। যদিও বিপ্রদাসকে নিয়ে আগের বার করা হইচইএ ও উপস্থিত ছিল না।

    বিতানের জন্মদিনটাও একই রকম হইচই করে হয়েছিল। বিতানও অপ্রস্তুত  হয়েছিল, খুশিও হয়েছিল, তবে আমাকে ডেকে বলেছিল এভাবে জন্মদিন নিয়ে হইচই করলে বাকীদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে পারে, এমনি যেমন সবার জন্য কেক কাটা হয় সেটাই ঠিক। রিকি শুনে ঝামটে উঠে বলেছিল, "দেখ বিতান সকলকেই আমরা ভালবাসি, তুই যাওয়ার পর থেকে তোকে মিস করি তাই এত আয়োজন। জন্মদিন পালনটা ছুতো, সকলে মিলে হইহই  করাটাই  আসল।"

    বিতানের জন্মদিনের কয়েকদিন বাদেই ছিল আমার জন্মদিন। সকলে মিলে আমায় এসে বলল, "দ্যাখ বাপু তোকে কিন্তু অতকিছু খাওয়াতে পারবনা, তুই তো আমাদের ঘরের লোক। 'আমি হেসে ফেলে বললাম, "বুড়ো বয়সে এমন ভীমরতি কি না করলেই না।" ওরা বলল, "ওটা আমাদের ওপর ছাড়।" সেদিন সকালে  আমার কোলকাতার অফিসে একটা মিটিং ছিল। সকলে বারবার ফোন করে তাড়াতাড়ি  ড্রপ ইন সেন্টারএ আসার জন্য সবাই তাগাদা দিচ্ছিল। মিটিং শেষে  ফেরার পথে অর্চনও আমার সঙ্গী হল।  ফিরে দেখলাম পাগল গুলো যা করেছে তাও কম কিছু না, লুচি, আলুরদম পায়েস মিষ্টি ।  আমি সব দেখে বললাম, "এই তোদের কিছু না করা।" সবাই মিলে হইচই করে সন্ধ্যেটা ভালই কেটেছিল। কিন্তু তখন জানতাম না কদিন বাদেই এর মাশুল আমায় দিতে হবে।  

    প্রতি বছর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে এডস কনফারেন্স হয়। এইকনফারেন্সগুলোয় বিভিন্ন রকম বিভাগ থাকে। কোনও বিভাগে আলোচনা, কোনও বিভাগে পোস্টার প্রেজেন্টেশন, কোনও বিভাগে পেপার প্রেজেন্টেশন  কোথাও বিভিন্ন তথ্যচিত্র দেখানো ইত্যাদি। আবার এর ফাঁকে কমিউনিটি মোবিলাইজেশন, বা কমিউনিটি  মোটিভেশন এর জন্য বিভিন্ন রকম স্টল,  ইচ আই ভির ঝুঁকি আছে এমন বিভিন্ন গোষ্ঠীর হাতে তৈরী সামগ্রীর পসরার প্রদর্শনী ও বিক্রয়, বিভিন্ন কিছু। সেবার কানাডায় আয়োজিত এই কনফারেন্সে আমাদের সংগঠনের এক সদস্য শুভ, ক্যুইয়ার ইউথ গ্রুপ ইনক্লুশনের বিভাগে পোশাকের প্রদর্শনীর আবেদন করেছিল। ওর সেই আবেদন  মনোনীতও হয়েছিল।

    এর জন্য আমি, কেটি, অর্চন, ও সংগঠনের আরও কয়েকজন সদস্য সোম, দীপ, অনিত মিলে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রকম পোশাক ও নিত্যব্যবহার্য জিনিস পত্রের সম্ভার তৈরী  করেছিলাম। ঠিক হয়েছিল শুভ কানাডা যাওয়ার আগে ফ্রেন্ডশিপ ডের দিন সংগঠনের মান্হলি সাধারন মিটিংএর পাশাপাশি  সকলের কাছে এই সম্ভারের একটা মক প্রদর্শনী  করা হবে।

    আগের দিন অর্চন আমাদের বাড়ীতে রাতে ছিল এজন্যই। কদিন আগেই ছিল সোমের জন্মদিন। কেটি সোমের জন্য একটা হাতে তৈরী কার্ড আমায় দিয়েছিল রাখতে।  সেটা অর্চনের চোখে পড়েছিল। আমি বিষয়টা অত গুরুত্ব দিইনি। পরের দিন বিকালে প্রদর্শনীর শেষে যখন মিটিং শুরু হয়েছিল তখন এই কার্ডটাকে  ইস্যু করে বিতান যেহেতু  সংগঠনের সম্পাদক তাই বিতানকে বাঁকা প্রশ্ন করতে ছাড়েনি অর্চন। ওর মনে হয়েছিল বিতান সকলের থেকে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে, যেটা সমীচীন না। আরও প্রশ্ন করে আমার জন্মদিনে কেন এত কম আয়োজন,  সোমের জন্মদিন নিয়ে কেন হইচই করা হল না। ওর মনে হয়েছিল ওর জন্মদিনেও তো হইচই নাও হতে পারে। তাহলে কি বিশেষ লোকরাই সংগঠনে গুরুত্ব বেশি পায়। রিকি বোঝাতে চেষ্টা  করেছিল, এখানে সংগঠনের প্রশ্ন নেই। জন্মদিন সকলের হয়। সোমের জন্মদিন কেউ জানত না। জন্মদিনের আয়োজন সকলে মিলে একটা উপলক্ষে আনন্দ  করা। রিকিকে থামিয়ে দেয় ও এই বলে যে রিকি তো আমাদের সংগঠনের সদস্যই না। ও শুধুমাত্র প্রজেক্টের কর্মী। কোনও কথা শুনতে চায়নি ও সেদিন। বিতানের জন্মদিনের আয়োজনের জন্য দায়ী  করে আমাকেই। ওর কথায়  বিতানও মেনে নেয় এ সবকিছুর  মুলে আমি।  আমি যেহেতু বিতানের ওই কাজের খবরটা এনেছিলাম তাই আমিই কূটনৈতিক চালে বিতানকে সকলের থেকে সরাতে চেয়েছিলাম এমন কথা বিতানের মুখ থেকেও শুনতে হয় আমাকে। হতভম্ব  স্তম্ভিত আমি চুপ করে যেতে বাধ্য হই পুরো ঘটনার আকস্মিকতায়। বিতানের সঙ্গে মানসিক দূরত্বটা  বাড়তে থাকে। বুঝতে পারি কাছের মানুষরাই ভালবাসে, বাকিরা শুধুই পাশে থাকে আর কেউ কেউ কম অ্যটেনশন পাওয়ার ভাবনায় খেপে উঠে কত কি করতে পারে। মাঝখান থেকে  বিতানের সঙ্গে মানসিক দূরত্বটা  আর  একটু বাড়তে থাকে। এর পর থেকে আমি আমার জন্মদিন নিয়ে আর কখনো ওদের মাঝখানে মাতামাতি করিনি।   

     


     


    পুরোনো কথা পর্ব এক | পুরানো কথা পর্ব ২ | পুরানো কথা পর্ব ৩ | পুরানো কথা পর্ব ৪ | পুরানো কথা পর্ব ৫ | পুরানো কথা পর্ব ৬ | পুরানো কথা পর্ব ৭ | পুরানো কথা পর্ব ৮ | পুরানো কথা পর্ব ৯ | পুরানো কথা পর্ব ১০ | পুরানো কথা পর্ব ১১ | পুরানো কথা পর্ব ১২ | পুরানো কথা পর্ব ১৩ | পুরানো কথা পর্ব ১৪ | পুরানো কথা পর্ব ১৫ | পুরানো কথা পর্ব ১৬ | পুরানো কথা পর্ব ১৭ | পুরানো কথা পর্ব ১৮ | পুরানো কথা পর্ব ১৯ | পুরানো কথা পর্ব ২০ | পুরানো কথা পর্ব ২১ | পুরানো কথা পর্ব ২২ | পুরানো কথা পর্ব ২৩ | পুরানো কথা পর্ব ২৪ | পুরানো কথা পর্ব ২৫ | পুরানো কথা ২৬ | পুরানো কথা পর্ব ২৭ | পুরানো কথা পর্ব ২৮ | পুরানো কথা পর্ব ২৯ | পুরানো কথা পর্ব ৩০ | পুরানো কথা পর্ব ৩১ | পুরানো কথা পর্ব ৩২ | পুরানো কথা পর্ব ৩৩ | পুরানো কথা পর্ব ৩৪ | পুরানো কথা পর্ব ৩৫ | পুরানো কথা পর্ব ৩৬ | পুরানো কথা পর্ব ৩৭
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ০৯ জুলাই ২০২১ | ২৫০ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
আরও পড়ুন
ছাদ - Nirmalya Nag
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি প্রতিক্রিয়া দিন