• হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  স্মৃতিকথা

  • পুরানো কথা পর্ব ৩৮

    Jaydip Jana লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | স্মৃতিকথা | ১০ আগস্ট ২০২১ | ৩২৬ বার পঠিত
  • আমাদের প্রজেক্টে ততদিনে বড়সড় পরিবর্তন এসেছিলো। আর্থিক সহায়তাকারী সংগঠনের উদ্যোগে সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে চলা বিশাল পুরুষযৌনস্বাস্থ্য সচেতনতার প্রজেক্টকে ডিসেন্ট্রালাইজড করে কতকগুলো জোনে ভাগ করা হয়েছিল। ন্যাশানাল এডস কর্মসুচীর ভাবনা অনুসারে এন জি ও থেকে কমিউনিটি বেসড অর্গানাইজেশন বা সি বি ও তে রুপান্তরিত হলে পরে কমিউনিটির সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কমিউনিটি ইনভলভমেন্ট বাড়ানোর জন্য কমিউনিটি বেসড কিছু পোজিশনও তৈরি হয়েছিল। ফলে শুধু এইচ আই ভি এডসের কচকচানির বাইরে কমিউনিটি মবিলাইজেশন করতে গিয়ে কমিউনিটির মানুষের নিত্যদিনের প্রয়োজন, পারিবারিক সমস্যা, পুলিশি হেনস্থা, ইত্যাদির মত বিষয় নিয়েও ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট এর দরকার হয়ে পড়ছিল কমিউনিটির স্বার্থেই।আর কেউ মানুক না মানুক অন্তত জাতীয় এডস প্রতিরোধের কর্তাব্যক্তিরা আস্তে আস্তে বুঝেছিলেন শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে মানসিক ও সামাজিক স্বাস্থ্যের ওপর নজর দেওয়াও জরুরি। কিন্তু কোন কারনে এই প্রজেক্টটায় মেয়েলি পুরুষরাই শুধুমাত্র বিছানায় রিসেপটিভ রোল প্লে করার কারনে এইচ এই ভি ও যৌনরোগের ঝুঁকি তাদের বেশি মনে করা হতো তা আজও আমার অজানা। যেখানে আমরা তথাকথিত পুরুষালি সমকামী পুরুষের এনাল এস টি আই (সেক্সুয়্যালি ট্রান্সমিটেড ইনফেকশন) খুঁজে পেয়েছিলাম আমাদের প্রজেক্টের যৌনরোগের চিকিৎসাকেন্দ্রে।

    শুধু প্রজেক্টই না কমিউনিটি-র মধ্যেও একটা পরিবর্তন আসছিল আস্তে আস্তে। মানুষজন অনেক বেশি করে নিজেদের মত মানুষ খুঁজে পাচ্ছিলেন। ফলে নিজেদের সেক্সুয়্যালিটি সম্পর্কে আত্মবিশ্বাস তৈরী হচ্ছিল। অনেকেই তাদের রূপান্তরকামি পরিচয় নিয়েও স্বচ্ছন্দ হয়ে উঠছিলেন। ড্রপ ইন সেন্টার কিংবা বন্ধ দরজার মধ্যেকার তথাকথিত মেয়েলি সাজগোজের বাইরে বেরিয়ে নিজেদের মত করে বাঁচার লড়াইএর ভিতটা কেউ কেউ শক্ত করছিলেন। তাতে করে নিজেদের মধ্য একটা বিভাজনও তৈরী হচ্ছিল। তথাকথিত মেয়েলিপনাকেই সমকামী পুরুষের তকমা এঁটে দেওয়া সমাজে বাকীরা অর্থাৎ তথাকথিত পুরুষ সুলভ সমকামী মানুষজন স্বভাবতই নিজেদের অস্তিত্ব গোপন করবেন নাকি করবেন না সে সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারছিলেন না। সাজগোজ, চালচলন সব নিয়ে আমরা -ওরা বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠছিল নিজেদের মধ্যেও ।

    এই ঘোলা জলে বেনোজলও ঢুকছিল হুহু করে।

    বলতে দ্বিধা নেই বিভিন্ন খাতে প্রজেক্টের টাকা বাঁচিয়ে তহবিল তৈরিতে আপত্তি করিনি প্রথমে। কেননা তখনও চোখে স্বপ্ন ছিল একদিন এই প্রজেক্টের বাইরে কমিউনিটির উন্নতি হবে। পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক মানুষগুলো ইনকাম জেনারেশন পোগ্রামের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ভাবে সক্ষম হবে, বয়স হলে পরিবার থেকে বিতাড়িত মানুষগুলোর মাথায় ছাদ থাকবে। কিন্তু যখন ক্রমশ দেখতে পাচ্ছিলাম সে টাকা কমিউনিটির ভোগে লাগছে না উল্টে ব্যক্তিবিশেষের ব্যাঙ্ক একাউন্টে জমা হচ্ছে প্রতিবাদ করতে পিছপা হইনি সেদিন ।

    এই সব নানা কারণে নিজের ভালোলাগার ভালোবাসার কাজের জায়গার রাজনীতিতে ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলাম। একদিন যে আবেগ নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম সময়ের সাথে সাথে তা কমতে শুরু করে আদর্শগত সংঘাতের কারনে।

    এই সময় রাজ্য এডস প্রতিরোধ ও নিয়ণ্ত্রণ সংস্থায় লোক নেওয়া হচ্ছিল। আবেদন করলাম। অদ্ভুত একটা ঘটনা ঘটেছিল। অন্যান্য সূত্রে ইন্টারভিউয়ের সম্ভাব্য দিন জানতে পারলেও আমার কাছে কোনও খবর সেখান থেকে আসেনি। আমার তৎকালীন কর্মক্ষেত্রের কাজ নিয়ে একটা মিটিং উপলক্ষ্যে এডস কন্ট্রোল সংস্থা-র অফিসে গিয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে জানলাম আমার আবেদনপত্র নাকি ডাকযোগের গোলমালে পৌঁছায়নি। অথচ ওনারা শুধুমাত্র ই-মেল করতে বলেছিলেন। সে প্রসঙ্গে বলার পর খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারলাম আমার ই-মেলটা খোলাই হয়নি। ঠিক কি কারণে এ ঘটনা ঘটেছিল আমি আজও জানি না। যাই হোক ওনারা বারবার নিজেদের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেও সরকারি ব্যবস্থায় কতরকম রাজনীতি থাকে তা দেখা শুরু হল। যাই হোক নির্দিষ্ট দিনে ইন্টারভিউ দিলাম। পরের দিনই জানতে পারলাম চাকরিটা হয়ে গেছে।শুরু হলো আমার জীবনের আর একটা অধ্যায়।

    আমার নতুন কাজের জায়গায় এসে একসময় অনুভব করলাম আরও অনেক বেশি করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোটা দরকার। শুধু ক্যুইয়ার নয় সাধারণ মানুষেরও এইচ আই ভি নিয়ে ভুল ভাঙা দরকার। এইচ আই ভি নিয়ে সুস্থ স্বাভাবিক থাকা যায় সেটা লোকে যত জানবে তত এইচ আই ভি পরীক্ষা করতে এগিয়ে আসবে। এই ভাবনা থেকেই সিদ্ধান্ত নিলাম নতুন একটা পোস্টার ডিজাইনের। কেননা তখন তো আমার এইচ আই ভি নিয়ে আর লুকোনোর কিছু নেই। আগের কাজের জায়গা আর সবকিছুর কল্যানে কমিউনিটির সবাই আমার এইচ আই ভি-র কথা জানেই। যৌনজীবনটা ততদিনে কম্প্রোমাইজড হয়েই গেছে। লোকজন অনেকবেশি ভাবতে অভ্যস্ত এইচ আই ভি আক্রান্তের যৌনজীবন থাকা উচিত না। চারিপাশে মরাল পুলিশের ছড়াছড়ি। আমার অভিজ্ঞতা আমায় শিখিয়ে দিয়েছে ওসব সম্পর্ক টম্পর্ক আমার জন্য নয়।

    এই পোস্টারটা সমস্ত সরকারী হাসপাতালে এইচ আই ভি নির্ণয় কেন্দ্র বা আই সি টি সি বিভাগে আছে। যখন দেখি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে ফোনে কেউ বলে "দাদা আপনি সত্যি সত্যি এইচ আই ভি পজিটিভ! এইচ আই ভি নিয়ে সত্যিই ভাল থাকা যায়? একটু আগেই জানতে পারলাম আমিও এইচ আই ভি পজিটিভ।" আর তখন আমাকেই কাউন্সেলিং করতে হয়। এইচ আই ভি নিয়েও সুস্থ স্বাভাবিক থাকা যায় অ্যন্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপির মাধ্যমে। শুধু নিয়মিত ওষুধ আর চিকিৎসকের পরামর্শ মত চলতে হয়। তখন বুঝতে পারি পোস্টারে সেদিন আমার মুখ দেখানোর সিদ্ধান্তটা একদম সঠিক ছিল।

    সেসব দিনের কথা মনে পড়লে নানা কারনে মনখারাপও হয়। কেননা মাঝখানে যে কত কিছু ঘটনা ঘটেছে। একদিন রাতে হঠাত বিপ্রদাসের ফোন, জানতে পারলাম তার স্বাক্ষর নকল করে নেটওয়ার্কের পক্ষথেকে প্রজেক্টের বিপুল আর্থিক নয়ছয় হয়েছে। তিনি বুঝতে পারছেন না সে মুহুর্তে কি করা উচিত। পুরো ব্যপারটা হজম করলে তার জেল হবে। আর বিরোধিতা করলে প্রায় দু'শ জনের পেটের ভাত যাবে কেননা প্রজেক্টের আর্থিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তিনি দ্বিধাগ্রস্ত। আমি শুনেই বলেছিলাম দু'শ জনের পেটের ভাত বন্ধ হওয়ার থেকে তার জেলে যাওয়া ভাল। আইনি পরামর্শ নেওয়া জরুরি এটাও বললাম।
    আরও পড়ুন
    মালিক - Chayan Samaddar



    যদিও তারপরেও আমাদের স্বপ্নের নেটওয়ার্ক বেঁচে থাকেনি। বিপ্রদাসের সই জালিয়াতির জন্য উনি আইনি ব্যবস্হা নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। সাময়িক সামাল দেওয়া গেলেও বিপুল পরিমান আর্থিক হিসাব না মেলায় নেটওয়ার্কের প্রজেক্টের ফান্ডিং বন্ধ করে দেয় আর্থিক সহায়ক সংস্থা।

    আমার এডস কন্ট্রোল সোসাইটি-তে কাজে যোগ দেওয়ার পরে পরেই আমারদের সাধের পুরুষ যৌন স্বাস্থ্য প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে একটা গুজব তৈরী হয় আমিই নাকি প্রভাব খাটিয়ে ওই প্রজেক্ট-এর আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছি। অবাক হয়েছিলাম আমার এত প্রভাব আমি নিজেও জানতাম না।রাত বিরেতে হুমকি ফোন আসতে শুরু করে আমার মোবাইলে। প্রজেক্ট নির্ভর নেটওয়ার্কেও ভাঙ্গন শুরু হতে থাকে আস্তে আস্তে। এমনকি তথাকথিত ট্রান্সজেন্ডার এক্টিভিস্ট লোকজন তারপর তাদের নতুন প্রস্তাবনা পাশ না হওয়ার কারনে অফিসে এসেও আমাকে গালিগালাজ করে অপমান করতে বাকি রাখেননি সেসময়। ক্রমশঃ কমিউনিটির বন্ধুদের সঙ্গে আরও দূরত্ব বাড়তে থাকে। অভিমানে আমিও নিজেকে গুটিয়ে নিতে থাকি সব কিছু থেকে।

    সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়। কাজের জায়গায় নতুন নতুন বন্ধু। মনীষা দি, কৌস্তুভ, সৌরভ।

    এদের মধ্যে কৌস্তুভ-এর সঙ্গে ওঠাবসাটা বেশি। লোকে ভাবত আমরা বোধ হয় প্রেম করি। বোঝার চেষ্টা করত আমার আর কৌস্তুভের রসায়ণ। অফিস ট্যুরে একসাথে গেলে একঘরে থাকলে বাকীরা নানান প্রশ্ন করত প্রথম দিকে। হাসি মুখে চললেও ব্যাপারটা অস্বস্তিকর বটে। কিন্তু আমি জানতাম লোকজনের হোমোফোবিয়া স্বাভাবিক। এও জানতাম আমার ছোট্ট ভুলে সমস্ত ক্যুইয়ার কমিউনিটিকে কাঠগড়ায় তোলা হতে পারে।

    কৌস্তুভের ওপর একটা অন্যরকম টান ছিল। মনে মনে ও ছিল আমার বাচ্চা। ওর ভালো মন্দ সবেতেই আমার অধিকার। কৌস্তুভ যখন এক কেজো কর্মশালায় সদ্য হওয়া প্রেমিকার সাথে আলাদা করে বন্ধ ঘরে সময় কাটায় তখন মনে হয় বিষয়টা অন্যায়। বিষয়টা আমার নীতিবিরুদ্ধ। তালগাছের নীচে বসে দুধ খেলে লোকে বিশ্বাস করেনা, দুধ খাচ্ছে। সেটা যখন মুখরোচক বিষয় হয় মানতে আমার আরও খারাপ লাগে। কৌস্তুভকে সেটা বোঝাতে গিয়ে অপমানিত হই। হঠাৎই আমার সেক্সুয়্যালিটি নিয়ে আঙুল তোলে ও। ওর মনে হয়, ওর ওপর আমার বিশেষ অনুভূতি থাকার কারণে ওর নতুন হওয়া সম্পর্ক মানতে পারছিনা। আহত হই ভীষণ। বুঝতে পারি কয়েকবছর প্রতিদিনের ওঠাবসায় আমি বিশ্বাস অর্জন করতে পারিনি, বোঝাতে পারিনি যখন তখন ছেলে দেখলেই তাদের ঘাড়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে না সমকামী মানুষেরা। যদিও কৌস্তুভের নতুন পাওয়া চাকরি আর ওই প্রেমিকাকে বিয়ে সব মিলিয়ে যে মুখোরোচক আলোচনা শুরু হচ্ছিল তা থিতিয়ে যায়। পরবর্তীকালে ওর বিয়ের পর অন্য আর একটা ভুল বোঝাবুঝিতে আমাদের সম্পর্কটা তলানিতে চলে যায়। অনেকগুলো বছর পরে একসময় নিজের ভুল বুঝে আমার বাড়িতে এসে ও আর ওর বৌ সব ভুল বোঝাবুঝি মেটাতে চাইলেও আমি আর সহজ হতে পারিনি।

    হয়তো অন্য যৌনতার মানুষ হওয়ায় কাজের জায়গায় নিজেকে প্রমাণ করার দায় ছিল অনেক বেশি। তারপরেও কিছু রাজনীতি সবজায়গায় থাকেই। মানিয়ে নিতে বাধ্য হই। নিজের মত কাজ করি। আসলে আবেগটা আমাদের বরাবরই বেশি তাই প্রথম প্রথম পেশাগত সম্পর্কের বাইরে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভালোলাগা খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যায়।

    মনীষাদি যেদিন রাখি পড়ালো সেদিন থেকে মনীষাদি আমার দিদি হয়ে গেছিল। আর তাই কোথাও এই সম্পর্কের বুনিয়াদটা যত দিন গেছে বেড়েছে। অনেক ভুল ত্রুটি রাগ অভিমান থাকলেও কেজো জায়গায় অনেক কিছুর সমাধানও করে দিয়েছে আমার এই আবেগ। তারপরেও অনেক সময়ই অনেক কিছুই বুঝেও না বোঝার ভান করে যেতে হয় আজও ।

    সৌরভ এদের মধ্যে একগুঁয়ে জেদী স্পষ্টবাদী। আমার ছোট্ট ভাই। আমাকে সব কিছু থেকে আগলে রাখাই ছিল ওর কাজ। পরে ওর দোসর হয়েছিল সপ্তর্ষি। অনেক পরে জয়েন করেছিল ও। এই দুজনের প্যাম্পারের ফলে আমার অফিস না গেলে ভাল লাগত না। ওদের দাবি আব্দার খুনসুটির সঙ্গে পেশাগত সম্পর্কের কোনও ক্ল্যাশ হয়নি কখনও।

    এরা দুজনেই পরে অন্য চাকরিতে জয়েন করে। আজও যোগাযোগ আছে। আমি জানি আমি কোনও বিপদে পড়লে সব ছেড়ে চলে আসবে ওরা দুজন। যদি জানতে পারে।
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ১০ আগস্ট ২০২১ | ৩২৬ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে প্রতিক্রিয়া দিন