• হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  স্মৃতিকথা

  • পুরানো কথা ২৬

    Jaydip Jana লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | স্মৃতিকথা | ৩০ জুন ২০২১ | ৬৩১ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • প্রথম যেদিন ওই প্রজেক্টের কোলকাতার মেইন অফিসে গিয়েছিলাম, সেদিন সবার মাঝে চোখ টেনেছিল অ্যকাইন্ট্যানট উদয়। বেশ হাসিখুশি অথচ আপাত গাম্ভীর্যের মুখোশ আঁটা একটা মানুষ। যদিও বিতান প্রথম দিনেই বলেছিল উনি কমিউনিটিতে বিলং করেন না। ভীষণ মজা পেয়েছিলাম সে কথায়। কমিউনিটি শব্দটা আমি নিজেই কখনও বিশ্বাস করিনি। আসলে যৌন পছন্দের কারণে নিজেকে আলাদা ভাবতে চাইনা আজও। একজন হেটারোনর্ম্যাটিভ মানুষ কে তো কই নিজের পছন্দ সোচ্চারে বলতে হয় না। যদিও এর সপক্ষে বিতান যা বলেছিল তা মন থেকে মানতে পারিনি। মনে হয়েছিল আাসলে এই প্রান্তিকরণ এর রাজনীতিতে প্রান্তিক মানুষ দের নিজেদের প্রান্তিক ভাবাটাও অনেকটা অবদান রাখে।

    উদয়-এর সঙ্গে আগের দিন দুপুরে খেতে বসে সকালবেলার সাজগোজ নিয়ে কর্মশালায় আমার বলা কথাগুলো নিয়ে নানান রকম আড্ডা চলেছিল। রাতের বেলা হঠাৎ করে আমার সাজগোজের আমুল পরিবর্তনে চমকে গিয়ে ফ্লার্ট করতে ছাড়ছিল না বদমাশটা। সবটুকু বুঝেই আমিও বদমায়েশির করে জড়িয়ে ধরে বলছিলাম এত ফ্লার্ট করছ এবার যদি চুমু খাই আর গালে লিপস্টিকের দাগ লেগে যায় কেমন হবে। খুব মজা পেয়ে না না করে উঠেছিল। আর আমিও বলেছিলাম, কাউকে ভাল লাগলেই তার ঘাড়ে আমি ঝাঁপিয়ে পড়িনা তাই ছেড়ে দিলাম। এসব ফ্লার্ট কখনও করতে এসো না।

    আসলে আমি আজও মানি, আমার কাউকে ভাল লাগতেই পারে কিন্তু আমরা যদি হেটারো সমাজে ভাল লাগলেও কেউ কারও ইচ্ছের বিরুদ্ধে কিছু করাটা সমীচিন না বলে মনে করি তাহলে হোমোকুলেরও সেটা মেনে চলাটা ভীষণ জরুরি । এমনকি হোমোসমাজেও কারও ইচ্ছের বিরুদ্ধে কোনও কিছু করাটা আজও সমীচিন বলে মনে করিনা। সেদিন অনেক রাত পর্যন্ত অত কিছুর মাঝখানে উদয়-এর সঙ্গে ক্যাম্পাসের বাগানে বসে এসব কথাই আলোচনা করেছিলাম দুজনে। একটা ভাল বন্ধুত্ব তৈরী হয়ে গিয়েছিল। বিতানকেও খুব ভালবাসত উদয় সেটা জানতাম। আর তাই বিতান ওকে ওখানে গিয়ে প্রথমেই আমাদের কথা বলেছিল জানতাম না। আর তাই ও নিশ্চিন্ত হয়ে আমার সাথে বদমায়েশি করে গেছে। যে ওর বদমায়েশিতে আমার কোনও ক্ষতি হবে না ভেবে।

    কিন্তু তখনও বুঝিনি, পরেরদিন দুপুরে বেশ কয়েকজন মানুষ নিজেদের মত করে আমায় নিয়ে সালিশি সভা বসাবেন। আমি জানতাম না উদয়-এর ওপর আরও যাদের চাপ আছে তারা আমায় নিজেদের ঘরে ডেকে ডাইনি থেকে শুরু করে আরও কত গালাগাল দেবেন। বশীকরণের জন্য আমি অমন সাজগোজ করেছি বলে দাবি করবেন। খুব খারাপ লেগেছিল সেদিন। কারও সাথে কোনও প্রতিযোগিতায় নামার জন্য আমার সাজগোজ ছিল না বোঝাতে পারিনি তাদের। এও জানতাম না, যে অভীক আগের দিন আমায় নিজের কালো হাতকাটা জামা শাড়ীর সঙ্গে পড়তে দিয়েছিল জগদ্ধাত্রী পুজোর সময় বিতান তাকেও প্রেমপ্রস্তাব দিয়ে বিছানায় নিয়ে গেছিল। এবং আমি যতই লুকোই না কেন আমার আর বিতানের সম্পর্ক ওর চোখে ঠিকই ধরা পড়েছিল। অভীককেও বহুদিন বোঝাতে পারিনি ওর আর বিতানের মাঝখানে আমি আসিনি। তাও অভীক আর বিতানের প্রেম পরিণতি না পাওয়ার দায়ে দায়ী হয়েছিলাম সেদিন। বহুদিন পর্যন্ত ওই মানুষগুলো আমার প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করে শাপ শাপান্ত করে গেছে তা তখন জেনেছি, যখন বহুকাল বাদে আমিই ওদের ভরসার জায়গা হয়ে গেছি।

    সেদিন বুঝেছিলাম সিঁদুর নিয়ে স্বীকৃতির যে চাহিদা মনে মনে লালন করি যা নিয়ে আগের দিন অত মনখারাপ , তা আসলে বহুগামিতার মাঝে ভালবাসার স্বীকৃতি । এ সমাজে বহুগামিতা অনেক বেশি সহজ, না আছে আইনি দায়, না আছে সন্তানধারণের দায় না আছে সামাজিক দায়। শুধু মাত্র মনটাই সব নয়, আজকের কুসুমদের শরীর দিয়েও তো ভালবাসা মেলে না। সুখের লাগি প্রেম চাইলেও প্রেম মেলেনা শুধু সুখ চলে যায়। তাই ভালবাসার মানুষকে শুধুই ভালবাসায় আগলে রাখা যায় নিজের মধ্যে এ বিশ্বাস আনা বড় কঠিন।

    কাজ করতে করতে বিতানের সাথে ওঠাবসার পাশাপাশি কখন যেন বিতান আর বিপ্রদাসদের সংগঠনটাও আমার সংগঠন হয়ে গিয়েছিল। এইচ আইভি এডস প্রকল্পে চাকরির বাইরে গিয়ে এ অঞ্চলের মানুষগুলো আমার সংসারের একজন হয়ে গেছিল। তাদের দৈনন্দিন ওঠাপড়া, পারিবারিক সমস্যা মন ভাঙার গল্প যখন ড্রপ ইন সেন্টারে বসে শুনতাম মনে হত সমাজটা পাল্টাতে গেলে কমুইনিটি মোবিলাইজেশনের সাথে ,বাড়ীতে বাইরে স্কুলে আজীবন ব্যুলিড হওয়ায় স্কুল ছুট মানুষগুলোর বিকল্প শিক্ষার মাধ্যমে ইনকাম জেনারেশনের রাস্তা খোঁজাও দরকার। এই সমস্ত স্বপ্ন যা একদিন শুধু বিতান আর বিপ্রদাসরা দেখেছিল তা আমারও মনের মধ্যে গেঁথে বসছিল আস্তে আস্তে।

    পাশাপাশি আমাদের মত মানুষদের অধিকার নিয়ে ভিসিবিলিটি নিয়ে কাজ করার প্রয়োজনের কথাও উঠে আসছিল সেসময় । আমাদের সমস্যা শুধু এইচ আইভি এডস বা যৌনরোগ না। আমাদের শরীরের সাথে সাথে মনের যত্ন নেওয়াটাও অনেক বেশি জরুরি । মন খারাপ থেকে কাটিয়ে উঠতে না পারাই মাদকদ্রব্যের নেশা,কিংবা ঝুঁকি পূর্ণ আচরণে অভ্যস্ত হওয়ার কারণ তাতো নিজেকে দিয়েই জানতাম।

    এরজন্য মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার একমাত্র হাতিয়ার ভাবা হয়েছিল বই কে। বিভিন্ন সংগঠন তাদের মুখপত্র বা লিটল ম্যাগাজিন নিয়ে কাজ করার উদ্দেশ্যে অল্প বিস্তর এগিয়ে আসছে। এসময় বিভিন্ন মেলা, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যদি বই নিয়ে কোনও টেবিল বা স্টল দেওয়া যায় সে ব্যাপারে ভাবছিলাম আমরাও।

    আর তাই সেবার "রিষড়া মেলা"য় স্টলের আবেদন করেছিলাম আমরা। তৎকালীন সোমনাথ বন্দোপাধ্যায়, আজকের মানবীর লেখা প্রথম উপন্যাস "অন্তহীণ অন্তরীন প্রোষিতভর্তৃকা", অজয় মজুমদার ও নিলয় বসুর যৌথ লেখা "ভারতীয় হিজড়া সমাজ" "পুরুষ যখন যৌনকর্মী " -র পাশাপাশি 'থটশপ ফাউন্ডেশন"-এর জীবনশৈলী ও যৌনস্বাস্থ্য সম্বলিত প্রশ্নোত্তরে অনবদ্য প্রকাশনা " কৌতূহলী র " সম্ভার নিয়ে শুরু হয়েছিল আমাদের যাত্রা, সঙ্গে ছিল সমকামিতার সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারনা দূর করার জন্য পোস্টার ও লিফলেট। সঙ্গে অবশ্যই ছিল এইচ আই ভি এডস ও যৌনস্বাস্থ্যের সম্পর্ক জনিত কাগজপত্র ও। পাশেই ছিল একটি স্বনামধন্য ধর্মীয় সংগঠনের পুস্তিকা ও প্রকাশনা মুলক স্টল। হয়তো বা তাদের ধর্মীয় আবেগ কোথাও আহত হয়েছিল। অন্যান্য দিনের মত মেলার চতুর্থ দিনে দুপুরে আমি ও আমার বন্ধু যে কিনা সংগঠনের সদস্যও , গিয়ে দেখি স্টলের সমস্ত ফ্লেক্স ব্যানার পোস্টার ছিঁড়ে স্টল ভাঙচুর করে দেওয়া হয়েছে মেলা কর্তৃপক্ষের মদতে।ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব দুজনেই।খবর পেয়ে বিতান ও বিপ্রদাসও আসেন, এবং মেলাকর্তৃপক্ষের তরফে আমাদের মেলা থেকে বেড়িয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়। অথচ উপযুক্ত আবেদনের অনুমোদনক্রমেই এই স্টল নেওয়া হয়েছিল।

  • প্রথমেই যাওয়া হয় থানায় অভিযোগ দায়ের করার জন্য। অপেক্ষা করতে করতে রাত হওয়ায় বাকীদের ছেড়ে সমস্ত বই পত্র নিয়ে বাড়ী ফিরে আসি আমি, ততক্ষণে বাড়ীর কাছে হওয়ায় এ খবর বাড়ীতেও পৌঁছে গেছে। ভয় পেয়েছিলাম বাবার মুখোমুখি হতে। চিরকাল রাজনৈতিক চাপান উতোর বা থানা পুলিশ কোনও প্রকার ঝামেলার আঁচ গায়ে লাগুক চাইত না বাবা। ততকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনস্থ রিষড়া পৌরসভার পৃষ্ঠপোষকতায় এই মেলা নিয়ে আসে পাশে অনেক জল্পনাই ছিল। মনে আছে, এক অজানা আশংকায় সমস্ত বই পত্র বাড়ির মধ্যে লুকিয়ে ফেলেছিল মনিমা। আর পুসুমা বলেছিল, "রাত হয়ে গেছে দরকারে বাকীদের রাতটুকু এখানেই চলে আসতে বল।" আমার মায়ের পাশাপাশি এই দুটো মানুষের ভালবাসা ও প্রশ্রয়ে আমি ও আমার বন্ধুদের কোনও অসম্মান হয়নি আমার বাড়িতে কখনও।

    পরের দিন আইনজীবী বন্ধুদের পরামর্শে কোলকাতা উচ্চ-আদালতে আবেদন করা হয় যাতে করে এই স্টল আমরা আবার খুলতে পারি। আমাদের কথাকে গুরুত্ব না দিয়ে আইনজীবী বন্ধুর সিনিয়র আবেদন পত্রে শুধু মাত্র এইচআইভি ও যৌনস্বাস্থ্য সচেতনতার কথাই উল্লেখ করেন। অপরপক্ষে মেলা কর্তৃপক্ষ তাদের লিখিত জবাবদিহিতে উপযুক্ত সাক্ষ্য জানান প্রমাণ সহ জানান, আমরা সমকামিতার পক্ষে জনমত তৈরী করছিলাম। এর ভিত্তিতে উচ্চ আদালত যে রায় দিয়েছিলেন তাতে স্পষ্ট করে উল্লেখছিল" সমকামিতার পক্ষে প্রকাশ্য জনমত তৈরী করার অধিকার সকলের আছে"। কিন্তু অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে এ তথ্যের উল্লেখ নেই। সুতরাং এই তথ্য নিয়ে কোনপ্রকার আলোচনাই চলতে পারেনা। সুতরাং মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।

    আইনজীবি বন্ধুদের পরামর্শ অনুসারে আর ডিভিশন বেঞ্চ এ যাওয়া হয়নি কেননা একদিকে ততদিনে মেলা শেষ। অন্যদিকে মনে করা হয়, এর বেশ কয়েকবছর আগে ৩৭৭ ধারার পরিবর্তন চেয়ে দিল্লী হাইকোর্টে যখন পিটিশন দাখিল হয়েই গেছে,সেখানে এই সদর্থক রায় আমাদের পক্ষ থেকে নথিবদ্ধ করা হলে বৃহত্তর ভাবে সদর্থক ছাপ ফেলতে পারে।

    এই ঘটনার পর আস্তে আস্তে আমার বন্ধুবান্ধব পরিচিত মহল যারা জানত না তারা অনেকেই দুভাগ হয়ে যান। কেউ কেউ এড়িয়েও চলতে শুরু করেন। তখনও পর্যন্ত বাড়ির লোকজন সেই অর্থে কিছু না জানলেও আন্দাজ করেন অনেককিছুই। কিন্তু কেউ কিছু না বললে আমিও আগ বাড়িয়ে কিছু বলিনা। তবে কোথাও যেন একটা জেদ তৈরী হচ্ছিল মনে মনে। কেউ জানতে চাইলে চোখে চোখ রেখে উত্তরদেওয়া টা ততদিনে অভ্যেস হয়ে গেছে। কোলকাতার আশে পাশে কাজ করা সংগঠনগুলোর সাথেও একটা বন্ধুত্ব হয়েছে কাজের সুত্রে। রিকির সূত্রে আলাপ হয়েছে সমকামী মহিলাদের নিয়ে কাজ করা পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র সংগঠন "স্যাফো" র সাথে। বইমেলায় হাতে এসেছে স্যাফোর প্রকাশিত "স্বকন্ঠে" পত্রিকা। ওদের দেখেছি সারা বইমেলার মাঠ ঘুরে ঘুরে মানুষের সাথে কথা বলে তাদের কাছে "স্বকন্ঠে" পৌঁছে দিতে কতটা কষ্ট করতে হচ্ছে। অনুভব করতে পারছি ক্রমশঃ ভালবাসার জন্য জীবনের জন্য প্রতিটা মানুষের পথ চলা। আর সে পথে শরিক হয়ে গেছি নিজের অজান্তেই।

    এ প্রসঙ্গে মনে পড়ছে ষাটের দশকের শেষের দিকের কথা। তখন আমেরিকা জুড়ে চলছে মানুষের অধিকারের পক্ষে নানা লড়াই। আকাশে-বাতাসে সংগ্রামের শপথ।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর একদিকে সরকারের তরফে চলেছে বিভিন্ন শ্রেণীকে আন-অ্যামেরিকান বা দেশবিরোধী দাগিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র। কমুনিস্ট থেকে হোমোসেক্সুয়ালস, কে নেই সেই লিস্টে? রাষ্ট্র ও সমাজের বেঁধে দেওয়া সংলাপের বাইরে একটু বেচাল করলেই মানুষ দেশদ্রোহী, সন্দেহভাজন। নাম উঠে যাচ্ছে সরকারের খাতায়, নজরবন্দী হয়ে পড়ছেন অনেকেই, এমনকি ব্যাক্তিগত চিঠিপত্রও বাদ যাচ্ছিল না সেসময় সরকারি খবরদারির আওতা থেকে।

    এরই মধ্যে সমকামী রূপান্তরকামী লিঙ্গান্তরকামী পুরুষ ও মহিলাতথা যৌনকর্মীরা মানে সমাজের চোখে বাপে তাড়ানো মায়ে খেদানো মানুষজন ন্যুইয়র্কের গ্রীনীচপল্লীর স্টোনওয়াল ইন নামের এক পানশালা তথা রেস্তোরাঁয় নিয়মিত জমায়েত হতেন। এবং পুলিশও সেখানে মাঝে মাঝেই হানা দিত। ১৯৬৯ সালে ২৭ শে জুন এমনই এক জমায়েতে সন্ধ্যেবেলা এখানে হানা দিল নিউ ইয়র্ক পুলিশ। এন ওয়াই পি ডি। যদিও পুলিশের তাড়া খাওয়া এই সব বাপে-খেদানো মায়ে-তাড়ানোদের কাছে নতুন কিছু ছিল না, কিন্তু সেদিন রুখে দাঁড়ালো এরা। রুখে দাঁড়ালো শুধু নিউ ইয়র্ক পুলিশের বিরূদ্ধে নয়, রুখে দাঁড়ালো দশকের পর দশক ধরে চলে আসা অপমান আর বঞ্চনার বিরূদ্ধে। জ্বলে উঠলো আগুন। পরের দিন সকাল পর্যন্ত চলল তা।কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ল সে বিদ্রোহ। তাদের সাথে যোগ দিল অন্যান্য অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপরাও। পরের বছর ২৮শে জুন তারিখে সূচনা হল এক নতুন অধ্যায়ের। বিশ্বের প্রথম প্রাইড মার্চ -গৌরব যাত্রা হাঁটল নিউ ইয়র্ক, লস এঞ্জেলেস, সান ফ্রানসিসকো আর শিকাগোর রাস্তায়। ইতিহাসে লেখা হল সমকামি-রূপান্তরকামিদের আন্দোলনের প্রথম ইতিহাস- স্টোনওয়াল মুভমেন্ট।

    এই কথা মাথায় রেখে ১৯৯৯ সালে কোলকাতার বুকে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিলিত হওয়া আমাদের মত কয়েকজন মানুষ প্রথম বার বন্ধুত্বের পদযাত্রা ( ফ্রেন্ডশিপ ওয়াক) শুরু করেছিল । তার ধারাবাহিকতায় কোলকাতা শহরে প্রথম রামধনু পদযাত্রা শুরু হয়েছিল তার চারবছর পরে, যা আমি ততদিনে জেনে গেছি। তখনই ঠিক হয়েছিল জুনমাসের শেষ রবিবার প্রতিবছর এ পদযাত্রা করা হবে।দ্বিতীয় বছরে আমার যোগদান প্রথম। অদ্ভুত এক অনুভুতি হয়েছিল সে পদযাত্রায় সামিল হতে পেরে।

    তাই জুন মাস প্রাইড মাস,লড়াই আন্দোলন ইতিহাস। ও দেশে এখন গরম। কিন্তু আমাদের এখানে বর্ষা। আর আমাদের কমিউনিটির মানুষজন বর্ষায় ভিজে আন্দোলন করবেন এসব ভাবা আজ বাতুলতা তাই আজকালকার উদ্যোক্তাদের শীতের কলকাতায় কমিউনিটির ভিজিবিলিটি বাড়ানোর ভাবনায় কলকাতায় প্রাইড ওয়াক হয় আজকাল শীতকালে। এই ভিজিবিলিটি হয়তো সত্যিই প্রয়োজন। সময়ের সাথে সাথে আন্দোলনের পথও বহুমুখী।তাই সারাবছরই বিভিন্ন রাজ্যেও রামধনুপদযাত্রা শুরু হয়েছে।

    ভালবাসার জন্য জীবনের জন্য আমাদের এ পথচলা শুরু হলেও, অনেকটা পথ এখনও বাকী...
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ৩০ জুন ২০২১ | ৬৩১ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সে | 194.56.48.107 | ৩০ জুন ২০২১ ২০:৫২495486
  • পড়ছি।
     

  • বিপ্লব রহমান | ০১ জুলাই ২০২১ ০৭:১২495500
  • সত্যিই পথটি দীর্ঘ, তবে চলতেই হবে। 


    ~


    ফন্টটি বদলে নেবেন? খুব চোখে লাগছে। বংশী আলপনা বা কাল পুরুষ খুব ভাল 

  • Jaydip Jana | ০২ জুলাই ২০২১ ১৩:৫৬495541
  • ধন্যবাদ বিপ্লববাবু ফন্ট বদল করলাম 

  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল প্রতিক্রিয়া দিন