• হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  স্মৃতিকথা

  • পুরানো কথা পর্ব ৩৬

    Jaydip Jana লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | স্মৃতিকথা | ২২ জুলাই ২০২১ | ৬৮৫ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • নতুন কাজের জায়গায় কমিউনিটির বন্ধুদের সাথে মিশতে মিশতে জানা চেনার পরিধিটাও ক্ৰমশঃ বাড়ছিল। উপরি পাওনা ছিল কাউন্সিলর হিসাবে কাজ করা। বিশেষজ্ঞরা বলেন এম্প্যাথেটিক হলেও কাউন্সিলর কখনো উল্টোদিকের লোকটার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না নিজেকে। তাত্বিক ভাবে এ কথা বলা সহজ হলেও বাস্তবে তা সহজ ছিল না।

    ওই সময়কার অনেকের কথাই মনে পড়ে। মাঝে মাঝে ড্রপ ইন সেন্টারএ আসতেন মানুষটা । আজও অবিকল মনে আছে মানুষটার চেহারা।পরণে ছাপা সুতির শাড়ি লুঙ্গির মত পড়া,গায়ে ফতুয়া। হাতে তারের চুড়ি আর লাল পলা। ছোটকরে ছাঁটা চুল। বয়স প্রায় ৭০ এর কাছে। কাছের এক রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে থাকতেন। প্রথম জীবনে হিজড়া পেশায় থাকলেও বিভিন্ন কারণে পরবর্তীকালে হিজড়া খোলেও তার জায়গা হয়নি। মানুষটা কত কথা বলতেন আমাদের দেখলে। একদিন খুব অসুস্হ হয়ে পড়ায় সকলের অমতে জোর করে ড্রপ ইন সেন্টারে থাকার ব্যাবস্হা করেছিলাম কয়েকজন নিজেদের সিদ্ধান্তে। যদিও তা নিয়ে আমাদের সংগঠনের ওপরতলার লোকজনের যথেষ্ট আপত্তি ছিল।কদিন বাদে হাসপাতালে ভরতিও করেছিলাম। তারপর একদিন একটু সুস্থ হলেই ওনার স্টেশনের আস্তানায় ফিরে যেতে চাইলেও আমরা চেয়েছিলাম আর একটু সুস্হ হোন।টেষ্ট করিয়ে জানা গিয়েছিল এইচ আই ভি পজিটিভ।হাসপাতালের সুপার রাজী হয়েছিলেন আরও কয়েকদিন হাসপাতালে রাখার। তখন কলকাতার স্কুল অফ ট্রপিক্যাল ছাড়া কোথাও আবাসিক চিকিৎসা হত না। উনি শুধু ট্রপিক্যালে রেফারই না অ্যামবুলেন্স এর ব্যাবস্হাও করেছিলেন নিয়ে জোয়ার জন্য। কিন্তু পরের দিন সকালে গিয়ে দেখি হাসপাতাল থেকে মানুষটা উধাও। অনেক খোঁজাখুঁজি করে থানা পুলিশের সহায়তায় সন্ধ্যেবেলা স্টেশনের সেই আস্তানায় খুঁজে পেয়েছিলাম। বেশ জ্বর গায়ে। তখন আবারও বুঝিয়ে সুঝিয়ে ড্রপ-ইনে ফেরত আনি। পরের দিন সকালে কোলকাতার স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে নিয়ে যাওয়ার জন্য ড্রপইন-এ গিয়ে দেখি ড্রপ-ইনের দরজা খোলা। উনি নেই। আর ওনাকে খুঁজে পাইনি। তখন তো আমরাও অনেক ছোট। বুঝিনি হয়তো ওনার আত্মঅভিমান বা কোনও কারণে আমাদের সাহায্য উনি নিতে চান নি...

    আমার মত যারা ডাইনোসোর যুগের মানুষ তারা কেউ কেউ জানেন আজকাল আমরা যতই চেনাগন্ডীর মধ্যে সেক্স -পার্টি করি কিংবা ডেটিং সাইটে আর মোবাইল অ্যাপের মধ্যে দিয়ে যৌনতায় মেতে উঠিনা কেন সে যুগেও অন্যরকম রগরগে যৌনগন্ধী পার্টি হত। তখনও কোলকাতা শহরে এলিট সমাজের পিংক পার্টি চালু হয়নি। সে সময় হাতে গোনা কয়েকজন গে পার্টির আয়োজন করত। পুলিশি ঝামেলা এড়িয়ে ঢাকঢাক গুরগুর করে সে সব আয়োজন করা মোটেও সহজ ছিল না। নাচের স্কুলের পিকনিক নয়তো নাটকের দলের গেট-টুগেদার এইসব বলে কোনও অনুষ্ঠান বাড়ি বা হল ভাড়া করে কিংবা কারও ফাঁকা ফ্ল্যাটে আমাদের সেসব গণসঙ্গমের আসর বসত। কোনও কোনও বিশেষ উৎসবের দিনে রাতপার্টিতে নাচানাচি হুল্লোড়ের পাশাপাশি উদুম যৌনতায় ভেসে যাওয়ার হাতছানি এড়ানো বড় কঠিন ছিল গে'কুলে। তখনও মুঠো ফোনের কল্যাণে গে-পানুর সহজলভ্যতা আসেনি। সে পার্টিগুলো পরবর্তী কালের কোলকাতা রেনবো প্রাইড ফেস্টিভ্যাল এর ফান্ড রেইজার পার্টি র মত কামগন্ধহীন (?) ছিলনা। আজকালকার ফান্ডিং রাজনীতির কল্যানে সিসজেন্ডার গে, আর ট্রান্সজেন্ডারদের যত বিভেদ থাকুক না ( যদিও কোনও বিভেদ আছে বলে আমি মনে করিনা) তখনও এক পাতে জল ঢাললে আর একপাতে গড়িয়ে যেত। সন্ধ্যে থেকে শুরু হওয়া এ সব পার্টি বা গেটটুগেদারে কালচারাল অনুষ্ঠান, ফ্যাশন-শো র পাশাপাশি খানার বন্দোবস্তও থাকত। আর পিনা চলত লুকিয়ে চুরিয়ে। কখনও কখনও কোনও কোনও পার্টিতে কোনও এক উচ্চপদস্থ সরকারী-আমলা বন্ধু-র বদান্যতায় বিদেশি পানীয়ের সমাহারও বাড়ত। পরবর্তী কালে এই মানুষটিকে নিয়ে অনেক রকমের মুখোরোচক আলোচনা চালু থাকলেও তার আত্মহত্যায় সেসব আজ চাপা পড়ে গেছে। আজকের ছেলেপুলেরা সেসব জানে না, হয়তো না জানাই মঙ্গল। রাত বাড়লে বড় হলঘরের শোয়ার জায়গায় পার্টি জমে উঠলে রগরগে খুল্লাম খুল্লাম যৌনতায় ভেসে যাওয়ার সময়ে হঠাৎ ঘরের বড় আলো জ্বলে উঠত কারো কারো বদমায়েশিতে। তখন নিজেকে আড়াল করবে নাকি নিজের শরীরের সুতোবিহীন অবস্হায় লজ্জা নিবারন করবে ভেবেই লোকজন দিশাহারা। আর যারা আর একটু নির্লজ্জ তারা তো সবার সামনেই "শঙ্খ-লাগতে" ব্যাস্ত। তারপরেও এসব পার্টির রাতযাপনে কত সম্পর্ক দানা বাঁধত তার ইয়ত্তা নেই। শত্তুরের মুখে ছাই দিয়ে আজও অনেক সম্পর্কই টিঁকে আছে।

    আবার অনেকের কাছেই যৌনতার উদ্দামতার চেয়েও সন্ধ্যেবেলার অনুষ্ঠান অনেক বেশি আকর্ষনীয় ছিল। কেননা ওই ফ্যাশন শো ঠিক তথাকথিত কোনও ডিজাইনারের পোশাক পড়ে রেম্পে হাঁটা না। সে ছিল আসলে যেমন খুশি সাজোর অন্য সংস্করণ। এই সাজগোজে তথাকথিত সিসজেন্ডার সমকামী মানুষেরাও নারীপোশাকে সেজে উঠতেন। ভিতরে জমে থাকা নারীসত্তার প্রকাশে এই সাজগোজই ছিল ভরসা। সুন্দর থেকে সুন্দরী হয়ে ওঠার প্রতিযোগিতা। এসব সময় তথাকথিত পুরুষালি পুরুষমানুষকেও হাত পা লোম চেঁছে সুন্দরী হতে দেখলে কেউ গোলগোল চোখে দেখত না। কোনও এক শনিবারের বিকেল থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত লোকসমাজের অন্তরালে প্রান খুলে একটু খানি অক্সিজেন গ্রহণ। অথচ তখন আমরা আজকের মত পলিটিক্যাল কারেক্ট ছিলাম না। আজকের ট্রান্সজেন্ডার শব্দ খায় না মাথায় দেয় তখনও বোধগম্য হয়নি। আর তাই হঠাৎ করে একবেলার এই রূপান্তরে ছোটখাটো খিল্লি থাকলেও সিসজেন্ডার আর ট্রান্সজেন্ডারের লড়াই বা বৈষম্য তখনও আমাদের সাদা মনে কাদা ছেটানোর অবকাশ পায়নি। আজও মনে আছে কোলকাতা থেকে অনেক দূরের কোনও জেলার এই পার্টিগুলোতে যাওয়া মলিনাদির কথা। মলিনাদি নামকরণ আমাদের, তাঁর পোশাকি নাম আলাদা সেটা এখানে উল্লেখ না করাই ভাল। উনি শুধু এইসব পার্টিতে যেতেন বেনারসী আর সাথে বাড়ির ঠাকুরের গয়নাগুলো নিজে পড়বেন বলে। সারাটা সন্ধ্যে ধরে সাজগোজ করে ভারী শাড়ি গয়নায় মুড়ে জবুথবু হয়ে বসে সকলের সাথে হইহই করে আড্ডা দেওয়াই ছিল তার একমাত্র বিলাসিতা। একবার এমনই এক পার্টিতে স্থানীয় লোকজনএর অভিযোগে পুলিশ আসে এই ভেবে যে সেখানে আমরা মধুচক্র বসিয়েছি।এতগুলো শাড়িপড়া মানুষের মাঝে মলিনাদিই হঠাৎ করে সবার সামনে সেদিন পরচুলা খুলে পুলিশি ঝামেলায় ত্রাতা হয়ে দাঁড়ায় । স্বাভাবিক ভাবেই নাটকের লোকজন নিয়ে পুলিশ আর এগোয়নি। আর ছেলেরা ছেলেরা মধুচক্র বসে নাকি গুড়মিছরির চক্র বসে সে নিয়ে পুলিশের অত মাথাব্যাথা অতবছর আগে ছিলনা বলেই মনে হয়। আমাদের কতজনের ভিতরে কতকিছু থাকে, সমাজ আর লোকচক্ষুর আড়ালে একটু সুযোগ পেলেই নিজেকে মেলে ধরতে পিছপা হইনা!

    আমার নিজের জীবনেও বেশ কিছু পরিবর্তন ঘটেছিলো ততদিনে। যখন দেখলাম আমার এইচ আই ভির পুরো গোপন ব্যাপারটা হাট হয়ে গেল, তখন মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এসব নিয়েই চলব। যত বেশি আমি আপসেট হব ততবেশি সমাজ আমার ঘাড়ে চেপে বসবে। যতই জানি একই সুঁচ- সিরিঞ্জের ব্যবহারে, সংক্রমিত রক্ত বা রক্তজাত দ্রব্যের সংবাহনে, এমনকি গর্ভবতী মা যদি এইচ আই ভি আক্রান্ত হন তাহলে তার ভবিষ্যৎ শিশুর এইচ আই ভি সংক্রমণ হয়। তবুও অসুরক্ষিত বা বিনা কন্ডোমে যৌনমিলনে এইচ আই ভি ছড়ানোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কেননা খিদে ঘুমের মত সেক্সটাও যে মানুষের জীবনে অপরিহার্য। আর সেক্স নিয়ে আমাদের অনেকরকম ট্যাবু, অনেকরকম ঢাকঢাক গুড়গুড়। আর তাছাড়া তথাকথিত যৌনতার বাইরের যৌনতা তো এই সেদিনও আইনস্বীকৃত ছিল না। এর ওপর ছিল আমার চূড়ান্ত নীতিবাগীশ দায়িত্ব। তাই যত বেশি আমাকে কোনও সম্পর্কে যেতে দেখলে লোকে আমার এইচ আই ভি নিয়ে বাকীদের সাবধান করত, তার থেকেও বেশি আগেভাগে কোনও ক্যাজুয়াল সম্পর্কে যেতে হলে আমার এইচ আই ভি নিয়ে আমিই সোচ্চার হয়ে বলতে শুরু করলাম। তাতে করে আমার যৌনজীবনটা অনেকটা কম্প্রোমাইজড হলেও মনে হত সুখের থেকে স্বস্তি ভাল। মাঝখান থেকে সকলেই আমার বন্ধু হতে চাইত।তার বেশি নৈব নৈব চ।

    এ নিয়ে আজকাল আর ভাবি না। যদিও আজ আমার অনেক বন্ধুই সম্পর্কে আছেন যাদের একজন এইচ আই ভি আক্রান্ত আর অন্য জন এই আই ভি আক্রান্ত নন।

    এই সময় আমার কাছের মানুষজন ও আমার কাউন্সেলর বাকী বন্ধুরা বোঝানোর চেষ্টা করেছিল, এত কথা সবাইকে বলার কি দরকার! দায়িত্বশীল মানুষ হিসাবে প্রটেকশন নিলেই হয় বা পেনিট্রেশন ছাড়া অল্টারনেটিভ সেক্স প্র্যাকটিস করলেই হয়। আমিও বিশ্বাস করেছিলাম সেটা আর তাই কোনও একজন মানুষের সঙ্গে হঠাৎ আলাপ হওয়ার পর ঠিক তেমন কিছু করেও বসেছিলাম।

    মনে পরে তখন ওই ঘটনার পর প্রায় মাস ছয়েক কেটে গেছে। একদিন রাতে কোলকাতা থেকে ট্রেনে ফিরছি। ভিড়ের মধ্যে মোবাইলটা বেজে উঠল।অচেনা নম্বর থেকে ফোন। ফোনটা ধরতেই উল্টোদিক থেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ। বেশ অবাক হলাম। এমন ঘটনার সম্মুখীন হইনি এর আগে। বিরক্ত হয়ে কেটে দিলাম। আবার ফোন এলে জানতে চাইলাম কে ফোনটা করছেন। উত্তরে শুধু গালাগাল। বাধ্য হয়ে কেটে দিলাম। নিজের স্টেশনে নামার পর আবারও ফোনটা বেজে যেতো লাগল ধরলাম না। বারেবারে বাজতে থাকায় ফোনটা রিসিভ করে ঠান্ডা ও রাগত গলায় জানালাম যদি কথা বলার থাকে যেন পরিচয় দেন, নইলে গালাগাল দিলে ফোনটা রিসিভ করেই পকেটে ফেলে রাখব। কাজ হল, উল্টো দিকের লোকটির প্রথম প্রশ্ন,আমি জেনে-বুঝে তার এতবড় সর্বনাশ করলাম কেন! এবার সত্যিই আমার অবাক হওয়ার পালা। জানতে চাইলাম এমন প্রশ্নের কারণ কি? উত্তরে তিনি সোজাসুজি বললেন এইচ আই ভি আক্রান্ত হয়েও তার সাথে ঘনিষ্ঠ হয়েছিলাম কেন? সামনেই তার বিয়ে, এ সময় তিনি যদি এইচ আই ভি আক্রান্ত হন তাহলে কি হবে! বুঝলাম ওনার মনের অবস্থা। কিন্তু যেহেতু সেদিন তার সাথে তেমন কিছু ঘটেনি তাই আমি জানতাম আমার থেকে সংক্রমণের চান্স জিরো। তাকে বোঝাতে গেলে কিছুতেই তিনি বুঝবেন না। পড়লাম আতান্তরে। হঠাৎই মনে হল তিনি জানলেন কোথা থেকে। প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে জানলাম আবারও সেই বিতান। সেদিন সে মুহুর্তে ভীষণ রাগ হয়েছিল।

    তবু মাথা ঠান্ডা করে ভদ্রলোককে জানতে চাইলাম তিনি কি রক্তপরীক্ষা করিয়েছেন। উত্তর এল না। তখন পরীক্ষার পরামর্শ দিলাম। কিন্তু ওদিকে তার তখন পাগল পাগল অবস্থা। পারলে যেন অতরাতেই তার রক্তপরীক্ষা করালে ভাল হয়। আমি পড়লাম সমস্যায়। ফেরার পথে রাস্তায় তাকে এইচ আই ভি নিয়ে সমস্ত তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করলাম। কিভাবে ছড়ায় কিভাবে ছড়ায় না সঅবব। তবুও তার শান্তি নেই। বাড়ী ঢুকে চান খাওয়া সারতে না সারতেই আবার ফোন। রাত দুটো পর্যন্ত কথা বলার পর তার প্রতীতি হল আমি ছাড়াও তার অনেকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। তাদের কারও এইচ আই ভি আছে কিনা তিনি জানেন না। আর আমার সঙ্গে যা হয়েছে তাতে করে তার আমার থেকে সংক্রমণ হতে পারেনা। হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। স্বীকারোক্তি পেলাম, আমাকে যতটা খারাপ তিনি ভেবেছিলেন আমি তা নই। বিতানের কথায় তিনি দিশেহারা হয়ে গেছিলেন। ও বললেন, 'আমি যদি খারাপ হতাম তাহলে তাকে এতটা সময় ঝেলতাম না।' মনে মনে হেসে ঘুমোতে গেলাম।

    পরদিন সকালে তার আবার ফোন। তার বাড়ীর কাছের হাসপাতালে যেখানে তাকে রক্তপরীক্ষা করতে পরামর্শ দিয়েছিলাম ওখানে ল্যাব-টেকনিশিয়ান না থাকায় সেদিন পরীক্ষা হবে না। কিন্তু হাসপাতালের কাউন্সিলর তাকে যা বলেছেন তা আমার কথার সাথে মিলে গেছে। আমাকে দোষারোপ করার জন্য তিনি লজ্জিত। এখন জানতে চাইছেন আশেপাশে অন্য কোথায় যেতে পারেন। বলে দিলাম। বিকালে ফোন করে জানালেন তিনি নেগেটিভ। আমার ধড়ে প্রাণ এল।

    এ ঘটনার পর থেকে আমি আর কারও সাথে এগোতে পারি নি। খালি মনে হত যদি সেদিন তিনি এইচ আই ভি পজিটিভ হতেন তাহলে তো তিনি আমাকেই দায়ী করতেন। আমার এইচ আই ভির কথা তো প্রায় সকলে জেনে গেছে। অন্য কারও থেকে সংক্রমিত হলেও যতই আমি প্রটেকশন নিই না কেন, যতই অল্টারনেটিভ সেক্সুয়াল অ্যাক্ট করি না কেন লোকে আমাকেই দায়ী করবে।

    সুখের থেকে স্বস্তি ভাল...

     

  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ২২ জুলাই ২০২১ | ৬৮৫ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • বিপ্লব রহমান | ২৪ জুলাই ২০২১ ০৬:১৪496042
  • এ লেখায় মন্তব্য করা কঠিন। লেখকের 


    মানবিকতাটুকু মুগ্ধ করলো, জানিয়ে গেলাম। আরো লিখুন 



    ফন্টটি মোটেই দৃষ্টি বান্ধব নয়, পারলে "কালপুরুষ" বা "বংশী আলপনা" য় লিখুন, বিনীত অনুরোধ রইল 

  • Jaydip | ২৪ জুলাই ২০২১ ২২:৪৭496064
  • #বিপ্লববাবু 


     ধন্যবাদ। গুগুল অনলাইন টুল থেকে ওয়ার্ডে এনে কালপুরুষে নিয়ে কপি পেস্ট করছি তাও কেন পাল্টে  যাচ্ছে  বুঝতে পারছি না!  পরের পর্ব থেকে দেখছি কি করা যায়। 

  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন