• হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  স্মৃতিকথা

  • পুরানো কথা পর্ব ৩৭

    Jaydip Jana লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | স্মৃতিকথা | ২৮ জুলাই ২০২১ | ৩৪৩ বার পঠিত | রেটিং ৩ (২ জন)
  • এইচ আই ভি পজিটিভ নেটওয়ার্ক বা এইচ আই ভি পজিটিভ সংগঠন, যা আসলে এইচ আই ভি পজিটিভ মানুষদের নিজেদের তৈরী একটা সাপোর্ট গ্রুপ। নিজে এইচ আই ভি পজিটিভ জানার পর মানসিক সাপোর্ট পেতে ছুটে গিয়েছিলাম ওদের ওখানে। কিন্তু ওরা আমায় সাপোর্ট দেবেন কি বেশিরভাগ মানুষই তো নিজের এইচ আই ভি হওয়াটা মেনে নিতে পারলেও মনে নিতে পারেননি।এতদিন বাদে আমিও পেরেছি কিনা কে জানে! যদিও ওখানে গিয়ে বুঝেছিলাম আমার কাজের অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন কর্মশালায় অংশগ্রহণের ফলে আমার ভাবনাচিন্তায় অনেক বেশি উত্তরণ ঘটেছিল বাকীদের থেকে। ওখানে গিয়ে জানলাম এইচ আই ভি-রও ভালো আর মন্দ হয়।যে সমস্ত মহিলারা স্বামীগত প্রাণ থেকেও স্বামীর তথাকথিত ব্যভিচারের কারণে এইচ আই ভি আক্রান্ত তারা বেচারি বা ভাল মানুষ। আর যারা নিজেদের ভাললাগা, পেশা যৌনতা বিভিন্ন কিছুকে সম্মান জানাতে গিয়ে নিজেদের অজান্তেই এইচ আই ভি আক্রান্ত হয়েছেন তাদের চরিত্র নিয়ে নীতি পুলিশি চলতেই থাকে।

    আসলে সমাজের সাধারণ মানুষদের কাছে সমকামী, রূপান্তরকামী, যৌনকর্মীরা বরাবরই উপহাসের পাত্র।আর এইচ আই ভি হওয়ার পর সেই সংগঠনে মূলস্রোতের মানুষজন মোটেও এদের সাথে সহজ ভাবে মিশতে পারেন না তা যত দিন যেতে লাগল ততই অনুভব করতে লাগলাম। মানিয়ে নেওয়ার অভ্যেস আমার বরাবরই ছিল। তাই প্রথম প্রথম গায়ে মাখতাম না নানান মন্তব্য এবং তারপরেও বেশ কিছু মানুষ আমাকে পছন্দও করতেন। তাদের অনুরোধে যখন জেলা সংগঠনের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংগঠনের বোর্ডে এলাম তখন শুরু হল অন্য রাজনীতি। পদাধিকার বলে যখন সংগঠনের কাজ, আর্থিক হিসাব নিকাশ দেখতে গেলাম, একদিন সকলের সামনে বোর্ডের বাকি সদস্যরা জানালেন, আমাকে ‘দেখতে দেওয়া যাবেনা। আমি সমকামী সংগঠনের মত করে সকলের সামনে সব কিছুর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন করার অধিকার রাখিনা’। অপমান টা বেশ লাগল। হতবাক হয়ে সংগঠন থেকে ও বোর্ডের পদ থেকে ইস্তফা দিলাম সেদিনই। বিতানের সাথে ঠিক একদিন এই স্বচ্ছতার প্রশ্নেই নড়বড়ে হতে শুরু করেছিল আমার সম্পর্ক। আর তারপরের বাকী গল্প তো আগেই বলেছি।

    এদিকে বিপ্রদাস যখন ওই নেটওয়ার্ক সংগঠনটিকে তথাকথিত নেটওয়ার্ক রূপ দিতে চাইলেন, শুরু হলো বাকীদের সঙ্গে টানাপোড়েন। ওদিকে ওর জীবনেও নানান ঘটনার ঘনঘটা। পারিবারিক ব্যাবসা চালাতে বাসস্থানের পরিবর্তন ও চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। আর ব্যাবসার কাজ আর সংগঠনের কাজে তাল মেলাতে না পারা ও আদর্শগত সমস্যায় সংগঠনের থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন ততদিনে। আর নিজের তৈরী সংগঠন তো বিতানের অবিমৃষ্যকারীতায় ততদিনে শেষ হয়ে গেছে।

    ওদিকে কাজের জায়গার রাজনীতির ছোঁয়াও লাগতে শুরু করেছে আমার গায়েও। মনে আছে সে’বছর রেইনবো প্রাইড ওয়াকের আয়োজকদের সাথে মতের অমিল হওয়ায় কোনও কোনও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ঠিক করলেন এই এইচ আই ভি এডস প্রজেক্টের কর্মরত মানুষজনকে প্রাইড ওয়াকে অংশ নিতে দেবেন না। ড্রপ-ইনে, ড্রপ-ইনে হুলিয়া জারি হল। আসলে কোথাও মনে করা হয়েছিল এই ক্যুইয়ার কর্মীরা যোগ না দিলে বিভিন্ন এলাকার ক্যুইয়ার মানুষজন মোটিভেট হবেন না পদযাত্রায় অংশ নিতে।এমন কি ভাবতে খারাপ লাগে এই রাজনীতিতে সামিল হলেন SAATHII-র মত সংগঠনের কর্তাব্যাক্তিরাও।একই দিনে কোয়ালিশন অফ রাইট বেসড গ্রুপ (যার অধিকাংশই ক্যুইয়ার কমিউনিটির অন্তর্ভুক্ত) এর উদ্যোগে একটি অ্যাডভোকেসিমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বেশিরভাগ মানুষজনকে ব্যাস্ত করে দিলেন তারা। বিরোধিতা শুরু করলাম আমি। এই রামধনু পদযাত্রা একটা আবেগ।এই একজোট হওয়া, প্রজেক্ট পাওয়া ক্যুইয়ার মানুষজনদের জন্য নিজের জন্য কাজ করার আবেগটাই তো উসকে দিয়েছিল এই পদযাত্রা। সে মিছিলে পা মেলাবো না ভাবতেই পারিনি। সে বছরেই আবার রূপান্তরকামী লিঙ্গান্তরকামী সংগঠন ও কোলকাতা রেইনবো প্রাইড পদযাত্রার আয়োজকদের সাথে মতবিরোধে সামিল সংগঠনেরা মিলে কোলকাতা রেইনবো প্রাইড পদযাত্রার পরেরদিনই বেঙ্গল রেইনবো প্রাইড পদযাত্রার আয়োজন করে। এর ফলে নিজেদের মধ্যেকার নানান মতবিরোধ আস্তে আস্তে প্রকাশ্যে আসা শুরু হয়। দুদিনের পদযাত্রাতেই অংশ নিই আমি । আর তাই আমাকে নিয়ে শুরু হল অন্য রাজনীতি। বদমায়েশি করে কাজকর্মের সোশ্যাল অডিট করতে আসা অর্থ সহায়ক সংগঠনের লোকজনের কাছে কিভাবে হেনস্থা করা যায় শুরু হল সে চেষ্টা। এমন কি একবার আমি একটি কর্মশালায় যোগ দিতে গেলে আমার অবর্তমানে পরিদর্শনে আসা আর্থিক অনুদানকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের কাছে আমার কাজের হিসাব দাখিল করতে আমার নির্দিষ্ট ডকুমেন্টস না দিয়ে ভুল ডকুমেন্টস ও দাখিল করা হয়। এই সবকিছু থেকে আগলে রেখেছিলো যে মানুষটা তার নাম মিঠাই (নাম পরিবর্তিত)। মিঠাই সে সময় না থাকলে এবং সঠিক কাগজপত্র পেশ না করলে সেদিন আমি হয়তো দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেও অপদার্থ প্রমান হতাম।

    মিঠাই আমার থেকে বয়সে বেশ বড়ো। কিন্তু আমাকে প্রচন্ড সম্মান করত। ভালোবাসতো ভীষণ। খুব ছেলেবেলায় মা মারা গিয়ে জেঠিমার কাছে মানুষ।মেয়েলি হওয়ার কারনে ব্যুলি হতে হতে একটা সময়ের পর ওর আর স্কুলে যাওয়া হয়নি।আর তাই লেখালিখি ডকুমেন্টেশন এর কাজে ওর ছিল বিশাল অনীহা। কিন্তু ওর মতো ফিল্ডের কাজ বাকিরা খুব কম জানতো, হিজড়া খোল থেকে শুরু করে রাতের অন্ধকারে গুডশেড সবজায়গায় ওর ছিল অবাধ যাতায়াত।যার জন্য আমার কাছে প্রশ্রয়টা একটু হয়তো বেশিই পেতো। পারষ্পরিক স্নেহবশত আমাকেও বলতো "তুমি আমার মায়ের মতো' । বহুবার বহু সময় কন্ডোম ব্যবহার নিয়ে কথা বললে বলতো, " তুমি তো দেখতে পাও আমার মেয়েলিপোনা কেউ মেনে নেয় না। আর এই অঞ্চলে তো গুপ্তি বিবাহিত পুরুষদের সংখ্যা বেশি।ওরাও মনে করে আমার সাথে বেশি চলাফেরা করলে ওদের পরিবারের লোকজন জেনে যাবে ওরাও ঘোমটার নিচে খ্যামটা নাচে।বিবাহিত জীবন যাপন করলেও ওরাও তো সমকামী পুরুষ। কন্ডোম ব্যবহার কি দরকার। এমনিই তো না মরে বেঁচে আছি। ঘরে বাইরে এমন টানাপোড়েন আমার আর সয় না। মরণ হলেই ভালো।"
    আরও পড়ুন
    মালিক - Chayan Samaddar



    আজ মনে হয় আসলে চাকরি থেকে বহিস্কৃত করার হুলিয়া থাকলেও আমাকে বহিষ্কার করাটা সহজ ছিল না। একে তো ততদিনে সব রকম ভাবে আদর্শগত ভাবনা, কমিউনিটি-ফিলিং এর পাশাপাশি আমার এইচ আই ভি নিয়ে সোচ্চার হওয়া।কোথাও ওদের ভয় ছিল বিভিন্ন ফোরামে ততদিনে আমি পরিচিত হতে শুরু করায় এ অন্যায় নিয়ে সোচ্চার হবই ।এমনকি দরকার পড়লে আর্থিকসহায়তাকারী সংগঠনকেও জানাতে পিছপা হব না। পাশাপাশি তাঁরা এও জানতেন চিরকালই আমার এথিক্সের কচকচানি বড় বেশি, আর তাই বিভিন্ন সময়ে প্রজেক্টের টাকাপয়সা সঠিক খাতে ব্যায় না হওয়াটা মানতে পারতাম না। তাই ওদিকে সংগঠনের সাসটেইনেবিলিটির জন্য অর্থকরী সংস্থান প্রয়োজন মানলেও, মানুষের হিতার্থে আসা টাকার সঠিক খরচ না করে তহবিল তৈরী ও তা প্রয়োজনের জায়গায় খরচ না হওয়া মেনে নেওয়াটা ক্রমশঃ অস্বস্তি বাড়াচ্ছিল। আসলে ততদিনে আস্তে আস্তে ক্যুইয়ার কমিউনিটির ভালো মন্দ সবকিছু নিয়ে ভাবাটা শুরু হয়ে গেছে। কখন যে এই প্রজেক্ট এই কাজ, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটা সুপরিবেশ তৈরীর নেশায় বুঁদ হয়ে গেছি নিজেরই অজান্তে নিজেও বুঝিনি। ভীষণ ভাবে মনে হচ্ছিল চাকরিটা পরিবর্তন করা দরকার। নইলে আমার আবেগ আমার আদর্শ আমার আন্দোলনের ভাবনার সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করতে হবে। শুরু হল কাজ খোঁজা।

    ওই জেলা থেকে কাজ ছেড়ে চলে আসার পর স্বাভাবিক কারণেই যোগাযোগটাও কমে গেছিলো অনেক পরে জেনেছিলাম মিঠাই এইচ আই ভি আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় চলে গেছে না ফেরার দেশে। অনেক চেষ্টা করেও ওখানকার বাকিরা ওকে এন্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপির আওতায় নিয়ে যেতে পারেনি।

    সমকামী পুরুষ ও লিঙ্গান্তরকামী পুরুষের মধ্যেকার নানা টানাপোড়েন আজও হয়ে চলে। অথচ শুধুমাত্র সমাজ নিয়মে পুরুষালি হওয়ার কারনে নিজের মধ্যে গুমরে মরা মানুষগুলো নিজের কথা প্রাণ খুলে বলতে পারেনা অনেকসময়ই। সামাজিক রাজনীতির চাপে তথাকথিত পুরুষালি-পুরুষের পৌরুষের আড়ালে জোর করে ঢাকা পড়ে যায় তাদের ভালো লাগা খারাপ লাগা যৌনতার উদযাপন। পুরুষের পুরুষের প্রতি মানসিক ও শারীরিক আকর্ষণকে বিকৃত বলে দাবি করে মূলসমাজ। পারিবারিক, সামাজিক চাপ তো বটেই কখনো বা নিজের মধ্যেও চলা দ্বন্দ্ব উপেক্ষা করতে না পেরে বিয়ের পিঁড়িতে বসে অনেকেই। উভকামী হলে না হয় এক রকম, কিন্তু আজন্মলালিত ফ্রেম অফ রেফারেন্স থেকে নারী পুরুষের বিয়ের সেলিব্রেশনের বাইরে যেতে পারেন না অনেক সমকামী পুরুষ। আবার অনেকেই নিজেদের বিবাহিত সম্পর্কে নিজেকে পুরুষ হয়েও নারী রূপে কল্পনা করে নিজেদের সম্পর্কটাকে লেসবিয়ান সম্পর্কের উদযাপনে খুশি হওয়ার চেষ্টাও করেন। অন্য যৌনতার অন্য যাপনের নানা দিক নিয়ে খোঁজ রাখার মতো সময় সমাজের বাকি অংশের নেই। শুধুই ব্যঙ্গ আর বিদ্রূপ দিয়ে বিচার করতে ব্যস্ত তারা।

    পুরানো কথা লিখতে বসলে রিন্টুর কথা না লিখলে ভুল হবে। আজকাল এত কথা মনে পড়ে নিজেই ভাবি! দক্ষিণ কোলকাতার অভিজাত এলাকায় ছিল শুভেন্দুর ম্যাসাজ পার্লার। আমার ম্যাসাজ পার্লার জীবনের অভিজ্ঞতায় দেখেছি ম্যাসিওরদের কাজ শুধু ম্যাসাজেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পুরুষ শরীরে আর এক পুরুষের কামনার সঙ্গীও হতে হতো কখনও কখনও। পুরুষযৌনকর্মীর আর এক পরিশীলিত সংস্করণ। রিন্টুর সাথে আলাপ এখানেই। রিন্টুর সাথে ছিল শুভেন্দুর সম্পর্ক। বহুবছর বাদে রিন্টুর সাথে আবার দেখা হয়েছিল জগদ্ধাত্রীপুজোয় চন্দননগরের এইচ আই ভি সচেতনতা শিবিরে। তামাম পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে যখন পুরুষ যৌনস্বাস্থ্য প্রকল্প তথা এইচ আই ভি ইন্টারভেনশনের কাজ শুরু হলো রিন্টুর হাত ধরে কোলকাতার ম্যাসাজ পার্লারগুলোতেও বিনামূল্যের কন্ডোম পরিষেবা চালু করা হয়েছিল। যখন আমাদের ওই প্রজেক্টে তথাকথিত ডিগ্রিধারী প্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষিত কুয়্যার কমিউনিটির বাইরের লোকজনের আনাগোনা বাড়তে থাকলো তখন নিজের মানুষদের জন্য নিজেদের সংগঠনকে দৃঢ় করে তোলার সংকল্পে রিন্টুই প্রথম আমাদের মধ্যে সোশ্যালওয়ার্ক নিয়ে স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনা শুরু করে। ফার্স্ট ক্লাস নিয়ে পাশ করেও সংগঠনের ন্যায় অন্যায় নিয়ে সোচ্চার হওয়ায় নিজেদের প্রকল্প তো বটেই নিজের মেয়েলিপনাকে ছাপিয়ে উঠতে না পারায় সে সময় অন্যান্য জায়গাতেও শিক্ষা গত যোগ্যতা থাকলেও ওর পছন্দসই উচ্চপদে ওকে গ্রহণ করা হয়নি। অথচ ওর মেয়েলিপনাকে এবং ওর পার্সোনাল পার্লার যাপনকে আর্থিক-অনুদান প্রদানকারী সংস্থাদের সামনে প্রয়োজন মতো ব্যবহার করতে পিছপা হননি সেইসময় ওই যৌনস্বাস্থ্য প্রকল্পের কর্মকর্তারা। আর তার পরে একটা সময় শুভেন্দু সামাজিক বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হলে অভিমানী রিন্টু সস্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসে সব ছেড়েছুড়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি দেয়। সেখানে লিঙ্গপরিবর্তনের পর জীবনধারনের জন্য শেষমেশ যৌনপেশাকেই বেছে নিয়েছে ও…

    এখানে একটা কথা মনে রাখা দরকার তখনও ট্রান্সজেন্ডার বিল পাশ হয়নি। এই বিল পাশ হওয়ার পরেও রূপান্তরকামী বা লিঙ্গান্তরকামী মানুষদের সামাজিক অবস্থান আজ পাল্টায়নি। আসলে এই পৃথিবীতে সাদা-কালো, আলো -অন্ধকার এর মতো কেমন যেন দুইয়ের প্রভাব বেশি। এই দুইয়ের পৃথিবী নারী-পুরুষের বাইনারিতে আটকে থাকতেই অভ্যস্ত। আর তাই অন্যরকম মানুষ যাদের মনটা একরকম আর দেহটা একরকম তাদের নিয়ে ভাবতে বয়েই গেছে। আজও তো লোকাল ট্রেনের মহিলা কামরা বা পাবলিক বাসে মহিলা সিটের বিরোধিতা করে চলেন একদল মানুষ। আসলে আগুনের আঁচ তাদের গায়ে লাগেনা তাই তারা হয়তো বোঝেন না। আজও যেখানে মহিলাদের কর্মক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে হেনস্থার শিকার হতে হয় সেখানে এই লিঙ্গ রাজনীতির লড়াইয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকেরা যোগ্যতা থাকলেও খুব সহজে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের জায়গা ছেড়ে দেন না। আর তারপরেও তাঁরাই রাস্তার মোড়ে বা ট্রাফিক সিগনালে ভিক্ষা করতে দেখলে নাক কুঁচকে তাকাতে একবারও দ্বিধা বোধ করেন না।
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ২৮ জুলাই ২০২১ | ৩৪৩ বার পঠিত | রেটিং ৩ (২ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল মতামত দিন