• হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  স্মৃতিকথা

  • পুরানো কথা পর্ব  ১৫

    Jaydip Jana লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | স্মৃতিকথা | ০৩ জুন ২০২১ | ১৬২ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • সন্দেহ মানুষকে পাগল করে। শুধুমাত্র অকারণ সন্দেহ  কত সম্পর্ক নষ্ট  করে দেয়।  রণ-র দাদাভাই আর বৌদিভাই  এর  সম্পর্ক বিয়ের পর আপাত দৃষ্টিতে ভাল ছিল। দাদা ভাই চাকরি সুত্রে পশ্চিমবঙ্গের বাইরে থাকত। আর বৌদিভাই  ও কোলকাতার কলেজে লেকচারার পদে কাজ শুরু করে বিয়ের পরে পরেই।  রণ-দের এলাকায় আমি সন্ধ্যে বেলায় পড়তে যেতাম। রাত হয়ে গেলে বা বৃষ্টি বাদলায়, কখনও বা  ছুটির দিনেও মাঝে মাঝে রণর সাথে থাকি। আমার তখনকার কলেজটাও ছিল ওদের বাড়ির কাছেই। আমার থাকাটা ওদের বাড়িতে খুব স্বাভাবিক ছিল। আমাদের বাড়িতে সকলেই জানত  রণ-র নাচ টা আমার ভালবাসা। তাই কখনও অসুবিধে  হয়নি।  সকলের সঙ্গে হইচই করে ভালই কাটছিল। আমরা তিনজনে অনেক রাত পর্যন্ত আড্ডাও দিতাম কখনও কখনও। বৌদিভাই মাঝে মাঝে বাপেরবাড়ি আর মাঝে মাঝে এবাড়ি মিলিয়ে থাকত রণর মায়ের পরামর্শে। একবার ছুটিতে দাদাভাই  বৌদিভাইদের বাড়ি থেকে ফিরে বলা কওয়া শুরু করল বৌদিভাইদের পাশের ফ্ল্যাটের ওর দাদার বন্ধুর সাথে নাকি বৌদিভাই-এর সম্পর্ক  আছে। একথা শুনে বৌদিভাই খুব অবাক হয়েছিল। রণর মা বিষয়টাকে পাত্তাই দেন নি। রণ রাতের বেলা আমাকে বলতে এলে আমিও পাত্তা দিইনি। তখনও জানিনা কর্মস্হলে ফিরে গিয়ে দাদাভাই আরও বড় বোম ফাটাবে। ওখানে গিয়ে দাদাভাই জানাল বৌদিভাইয়ের মত মানুষের সাথে দাদাভাই থাকতে চায়না। এমনকি রণ আর বৌদিকে নিয়ে কুতসা করতেও  ছাড়েনি। অনেক পরে জেনেছিলাম কুতসার উৎস এপাড়ায় থাকা দাদাভাইয়ের বন্ধুরা। ততদিনে  যদিও ওদের মধ্যেকার বিশ্বাসের ভিতটা নড়ে গেছে। রণর মায়ের  বৌদিভাইকে সমর্থন টা রণ-র  দাদাভাই আর ওর কাকাপিসিরা  কিছুতেই মেনে নেয়নি।  ওদের সকলের মনে হয়েছিল রণ’র মায়ের শাশুড়ি হিসাবে বৌমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া উচিত। রণ’র দাদা তার পর চাকরি  ও ঠিকানা বদলে ফেলে স্বেচ্ছানিরুদ্দেশে চলে যায়। শুধু  জেঠিমার অসুস্থতার কারণে বৌদিও সেই মুহুর্তে  সম্পর্কটা থেকে বেড়িয়ে যায়নি।  আর তাছাড়া তখন হয়তো আশা করছিল যদি দাদাভাই ফেরত আসে। 


    এ ক'বছরে আমার আর রণ’র সম্পর্কটা অনেকটাই  থিতু। আস্তে আস্তে রণ’র বাড়ির সব কিছুতেই আমি একজন হয়ে গেছি।  মনে পড়ে,যেদিন পারিবারিক মিটিং এর পর বৌদিভাই এবাড়ী থেকে চলে যাবে ভেবে তৈরী  ছিল সেদিন সেখানে আমিও উপস্থিত  ছিলাম। রণ’র মা আর রণ যে মুহুর্তে ঘরের বাইরে যায়, রণ’র কাকিমা বৌদিকে নিয়ে  যা নয় তাই বলতে থাকে  তখনও কোনও কথা বলিনি।  কিন্তু রণ আর বৌদিকে নিয়ে যখন  কথা বলে  তখন আমি প্রতিবাদ  করি, বলে উঠি, "কেউ জানুক আর না জানুক আমি জানি এটা মিথ্যে "।   রণ’র কাকিমা কে সমর্থন করে তার কথায় যোগ না দেওয়ায় তিনি অপমানিত বোধ  করেন।  সেদিন তিনি তারপর বাড়ি চলে যান।  কয়েকদিন বাদে রণ’র কাকু হঠাৎই  রণর বাড়িতে এসে আমাকে দেখতে পেয়ে সেদিনের  প্রসঙ্গ  তুলে আমাকে বলেন, "তুমি তো বাইরের লোক, তুমি কেন এসব ব্যাপারে কথা বলে কাকিমাকে অপমান করেছো,এটা তোমার ঠিক হয়নি"!  আমার হয়ে রণ উত্তর দেয়," বাইরের লোকের সামনে বাড়ির বৌকে নিয়ে আলোচনাটা কে শুরু করেছিল।" রণর মাও জানাতে ভোলেন না,  তাঁর বাড়ির সব দায়ে বিপদে আমার থাকার কথা। এবং উনি এও জানান আমাকে উনি নিজের ছেলের মতই দেখেন। সুতরাং  তাঁর বাড়ির  ব্যাপার তিনি সিদ্ধান্ত  নেবেন কে কি করবে। 


    উনি তাতে প্রবল অপমানিত বোধ করে বেড়িয়ে যান। 


    যদিও এ ঘটনাটা আমার মনে গেঁথে গেছে সেদিনের পর থেকে। আজ আমি নিজের বাউন্ডারি আর এক্তিয়ার নিয়ে অনেক বেশি সচেতন। 


    দাদাভাই বৌদিভাইএর টানাপোড়েন টা আমাকেও মাঝে মাঝে ভাবাত। আমি জানতাম  আমাদের এই সম্পর্কটাও সমাজের চোখে কোনওদিন স্বীকৃতি  পাবে না।  যেখানে দাদা ভাই আর বৌদির আইনি, ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এক লহমায় 'না' হয়ে যেতে পারে সেখানে  আমার আর রণ’র ভালবাসা আমাদের, একান্তই  নিজেদের। টুবাই, ওর দিদি, বৌদিভাই, রণ-র তুতো -বোনেরা  বিষয়টা নিয়ে সকলের আড়ালে অল্প অল্প মজা করলে, আজকাল রণও সে মজাতে যোগ দেয়।  একটা অলিখিত  স্বীকৃতি, প্রচ্ছন্ন  ভালবাসা, সব সময়ই আমাদের দুজনকে ঘিরে থাকে। ওটুকুই  আমার পাওয়া।


    রণ তো শুধু আমার ভালবাসা না, রণ’র নাচও তো আসলে আমার ভালবাসা। রণ’র রেওয়াজ, রণ’র অনুষ্ঠান, রণ’র নাচের পোশাকের যত্ন সবই আসলে বড় বেশি আমার। আস্তে আস্তে রণ’র সাথে রণ’র প্রতিটা অনুষ্ঠানে আমি নিজের অজান্তেই  রণ’র ছায়াসঙ্গী। ঘুঙুর আর সেতারের মিলমিশ আমায় এক অন্যরকম জগতে হারিয়ে নিয়ে যায়। পড়াশোনার সাথে সাথে এভাবেই শাস্ত্রীয় নৃত্য কত্থক হয়ে ওঠে আমার সংসার, আমার  প্রেম আমার ভালবাসা। 


  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ০৩ জুন ২০২১ | ১৬২ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল প্রতিক্রিয়া দিন