• হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  স্মৃতিকথা

  • পুরানো কথা পর্ব ৪

    Jaydip Jana লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | স্মৃতিকথা | ২২ এপ্রিল ২০২১ | ৪৩৫ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • আজও মাঝে মাঝে মনে হয় ছেলেবেলাটাই বড় ভাল ছিল।  একান্নবর্তী  পরিবারে  হাঁড়িকলসির ঠোকাঠুকি  থাকলেও অন্যরকম আন্তরিকতা ছিল। জেঠিমা কে মা বলে ডাকতামমা খুব ভাল আচার আর কাসুন্দি  বানাত। সারাবছরই উঠোনে আচারের বয়াম রোদ পেত। রেশনের চালের ভাত একটা ডাল আর আচারের তেল দিয়ে আলুমাখা  ছিল রোজকার বাঁধাধরা  পদ। সঙ্গে আর যাই থাকত, মা  (জেঠিমা) বা মিষ্টিমার( আমার গর্ভধারিনী) পাত পর্যন্ত হয়তো পৌঁছাত না। আজও মনে আছে স্কুল থেকে ফিরে কতদিন দেখতাম  জেঠিমা মাছের ঝালের জ্যুসে লঙ্কা মেখে ভাত খাচ্ছে   কখনও কখনও এক আধ গ্রাস মুখে পেলে  মনে হত যেন অমৃত।  একটা ডিম অনেক সময় বাকীরা ভাগ করে খেলেও আমার গোটা ডিমের আবদার মেনে নেওয়াটা দস্তুর ছিল।  আমার বাবার এক বনধুর ছেলে আমার নামই দিয়ে ছিল গোটা ডিম ভাই। জেঠু মানে পাপা  গঙ্গার ওপারের চটকলে কাজ করতদুপুর  বেলা বাড়িতে খেতে আসার  সময় মাঝিদের থেকে কেনা গঙ্গার চুনোমাছ একটা বড় রুমালে বেঁধে নিয়ে আসত প্রায় দিন।  আর মায়ের হাতে মাছের টক বা বেশি করে ঝাল দিয়ে মাখা যা আমার ভাষায় পিটপিটে ঝাল তা বোধহয় মনে পড়লে আজও জিভে জল আনে। মাস মাইনের দিন  জেঠু শালপাতায় মোড়া মাংস নিয়ে এলে আমার মনে লাগত উতসবের ছোঁয়া।  মনে আছে জেঠিমাকে বলতাম আজ আমার সতেরো পিস মাংস চাই।  আর মাও ছোট ছোট টুকরো  গুনে গুনে দিয়ে ছেলে ভোলাত আর আমিও আহ্লাদে আটখানা হয়ে উঠতাম। 

     

    অনেকের মতই গামছা দিয়ে চুল বাঁধা  কিংবা লুকিয়ে লুকিয়ে দুপুরবেলা মা ঘুমোলে মায়ের সিঁদুর কৌটো আর লিপস্টিক নিয়ে সাজগোজ করাটা ছিল নিত্যদিনের ঘটনা, ঘুমভেঙে মা বকলেও পুসুমা আর পাপার  জন্য  তেমন কিছু বলতে পারতনা।প্রাইভেট কোম্পানির  চাকরির  সাথে সাথে অনেক রকম ব্যবসা করার ভাবনা ছিল আমার বাবার। আসলে  অল্প বয়সে ভদ্রলোক  বাবাকে হারিয়ে ছিলেন। পৈতৃক ভিটেটুকু ছাড়া খুদকু্ঁড়ো জোগাড়ের চিন্তার সাথে সাথে অভাবী চোখে সকলে মিলে কি করে পয়সা বাড়ানো  যায় তা বোধহয় তারা ভাইবোনেরা সকলেই ভাবতেন। তাই  পুষুমা যে কিনা একসময়  নিজের বিয়ের কথা না ভেবে সংসারের হাল ধরতে চেয়ে কয়েকটা পোষা গরু আহ্লাদী, পাল্হাদী, গরবীর দুধ আর ঘুঁটে বিক্রির পয়সায় গরবিনী, সেও সর্বময় কর্ত্রী হয়ে ছিল ভাই দাদাদের সংসারে। আমাদের বাড়ীর মধ্যে ছিল সাইকেল রিপেয়ারিং এর দোকান যা পাপা আর ছোটকাকু চটকলের কাজের ফাঁকে চালাত। আমার বাবা চাকরির পয়সা থেকে একটু একটু করে টাকা জমিয়ে  বাড়ী থেকে বেশ কয়েক মাইল দূরে  দিল্লীরোডের ধারে তৎকালীন সময়ের একটা  বড় ধাবার পাশে পেট্রোল পাম্পের উল্টো দিকে   কয়েককাঠা জমি কিনেছিল, সেখানে কি না ছিল, আম কাঁঠাল ফলসা নারকেল সে এক অদ্ভুত বাগান বিলাস। একটা গাছের সঙ্গে আর একটা গাছের দূরত্ব  বড় কম ছিল, যেন গ্রাম্য গরীব গোয়ালিনীর গল্পের একপো দুধে,দই, ছানা ক্ষীর সব হবে,যদু মধু কানাই বলাই সবাই খাবে। তবুও ওই জমিটুকু নিয়ে বাড়ির  সকলের মধ্যেই না থাকা  বড়লোকির  স্বপ্ন পূরণ। 

    একটা মোটরপার্টসের দোকান  ছিল  সেখানে কেননা তখন তো হাই ওয়ের ধারে লরী আর ট্রাক চলাচলের রমরমা, যে কথা বলতে গিয়ে এত কথা মনে পড়ল, ওই মোটরপার্টসের দোকানে আরও কিছু জিনিস বিক্রি  হত।  ট্রাক বা লরী সাজানোর জিনিস।  আজ বুঝি ট্রাকচালকদের দিনের পর দিন ট্রাক নিয়ে এক রাজ্যথেকে আর এক রাজ্য যাতায়াতে ওটাই ছিল ওদের  কাছে ঘরবাড়ি , তাই রকমারি  রং বেরঙের জিনিসের সাথে ঝকঝকে ঝান্ডী ( সিন্হেটিক কাপড়ের ওপর সোনালী রুপোলী লেস বসানেো পতাকা বা ঝান্ডা যা লরি বা ট্রাকের সামনে ইঞ্জিন বা বনেটের দুপাশে লাগানো হয়) গুলোর ওপর ছিল আমার সবচেয়ে বেশি  আকর্ষন। ওগুলো বানানোর জন্য বড়বাজার থেকে থান কাপড় আসত আমাদের বাড়ীতে।  আর সে গুলো বানানোর আগে  সেই সব লাল নীল সবুজ হলুদ কাপড়ের টুকরো হয়ে উঠত আমার ছেলেবেলার সাজগোজ।কখনও বা শাড়ি কখনও বা  ধুতির মত আমি সেগুলো পড়ে বেশ কয়েকদিন বাড়ীময় ঘুরে বেড়িয়ে তার গুস্টির তুষ্টি হলে সেগুলো চলে যেত দর্জির কাছে ওই ঝান্ডী তৈরী  হতে। শাড়ীর ওপর টান টা বোধয় হয়  আমার সে সময়েরই গায়েখড়ি


  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ২২ এপ্রিল ২০২১ | ৪৩৫ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
আরও পড়ুন
বাবা  - Mousumi GhoshDas
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • ঝর্না বিশ্বাস | ২২ এপ্রিল ২০২১ ১৯:৫৮105019
  • খুব ভালোলাগছে পড়তে এই পুরনো সেই দিনের কথা...

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে মতামত দিন