এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • নিউনর্মাল করোনাকালীন পর্ব চুয়াল্লিশ

    Anuradha Kunda লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ১১ জুলাই ২০২৩ | ৪০৭ বার পঠিত
  • - যেদিন পুরীর মন্দিরের ধ্বজা পুড়ে গেল, সেইদিন থেকেই আমি জানি অসৈরণ ঘটবে।বোঝলেন? ঐসব ভগমানে আগে আগে ঠারে ঠোরে বলে দেয়।
    - সেই তো। পিথীবী পাপে ভরে গেল বলে কথা। মেয়েছেলেতে সিগারেট খায়।হাতে টাটু আঁকে। বগলকাটা জামা পরে।

    বলতে বলতে মাঝবয়সী মহিলা টুপুরের দিকে ইঙ্গিত করলো।

    - এদের পেটে ছেলেপিলে হলে কী হবে বলোতো?
    - এই পাপেই তো করোনা আসলো গো। মানুষের পাপ। জগরনাথের চুড়ো পোড়া কী চাট্টিখানিক কথা ?
    - তুমি  চাল, ডাল, গুড় কিনা চললা কোথায়?
    - নবদের বাড়ি পাঠায়ে দেব। নবর বাপ মরেছে তো করোনায়।ফল টল দিতে পারবো না। অনেক দাম পড়ে যাবে । এই চাল, ডাল, গুড়ের সঙ্গে খানিক আলু, বেগুন দিয়ে দেবো।
    - নবর বাপের শ্রাদ্ধ করবে না ? করোনায় মরলে শ্রাদ্ধ তো করে ! গুণে গুণে লোক ডাকতে হবে বলছে ?
    - কে জানে কী করবে? আমি তো যাবো না ডাকলেও। নাতির হাতে জিনিসগুলো পাঠায়ে দেব।
    - কেন গো? করোনার জন্য খাবা না?
    - নাহ্। আমরা হলাম বৈষ্ণব।  আমাদের মধ্যে ন্যাড়া করে পৈতা হয়। নবদের ছোঁয়া খাই না।
    দ্যাখ দ্যাখ। ঢ্যাঙা মেয়েছেলেটা কেমন সিগারেট  ফুঁকছে। বিয়েওয়ালা না কুমারী বলতো?

    মাঝবয়সিনী হেসে গড়িয়ে পড়ল। তার কপাল থেকে সিঁদুর টানা। ঘামে চকচক মুখ।
    - কী যে বলো ! বিয়েছাড়াও তো হতে পারে! ঐ মেয়েছেলেকে নিয়ে কে  সংসার করবে বলো? বারমুখো।বারমুখো! এসব সংসার টাইপ মেয়েছেলে নয় গো!

    টুপুর একটা গভীর শ্বাস নিয়ে সিগারেটের শেষ অংশটি কেডসের তলায় পিষে ফেলতে লাগলো। যেন ঐ দুটো  পিঁপড়েকে পিষছে।
    মুদির দোকান থেকে বেশ কিছুটা দূরে গাছতলাতে দাঁড়িয়ে সে মাস্ক খুলে স্মোক করছিল। মাথা ধরে আছে। খুব। শ্যামাকে বলেছে দোকানে জিনিসগুলো তুলতে। দশ কেজি চাল। তিরিশটা স্যানিটারি ন্যাপকিন।ডাল। গুঁড়ো দুধ।গুড়। এইধরনের মুদির দোকানগুলোতে শস্তা পড়ে অনেক। পাড়ার দোকানে নয়। মেধাদের বাড়ির কাছেই একটা বস্তির সামনে থেকে কেনাকাটা সারছে ও। শ্যামাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছে। একা টানতে পারবে না অত জিনিস। মেধাদের গ্যারেজে জমবে সব। মোটামুটি একশ কেজি মত চাল, পঞ্চাশ কেজি ডাল এইভাবে সংগৃহীত হলে   ছোটা হাতী নেবে ওরা।
    মহিলাদুটি বস্তি থেকেই এসেছিল । নাইটির ওপর ওড়না জড়ানো মাঝবয়সিনী ও কটকটে গোলাপি শাড়ি, কপালে তিলক কাটা আরেকটু বেশি বয়সিনী।দুজনের কেউই মাস্ক পরেনি। দু' জনের ঢলাঢলি করে চলে যাওয়া দেখলো টুপুর। কোমর দুলিয়ে হস্তিনীচালে চলা ।ইচ্ছে করছিল পশ্চাদ্দেশে আচ্ছা করে লাথি কষায়। জাহির থাকলে বলতো, মার না শালা পাছায় লাথ। সেটা তো পারবি না।
    জাহির নেই।
    পারবে না।টুপুর জানে। শ্যামার ওপরেও রাগ হল। এই যে তাকে নিয়ে এত বাজে কথা বলে গেল , টুপুর রেগে গেলে মেয়েছেলে বলে , শ্যামা কী পাশে দাঁড়িয়ে শোনেনি? সে উল্টোদিকে অত দূরে দাঁড়িয়ে শুনতে পেল, শ্যামা পাবে না তা তো হয়না।অথচ কিছু বললো না।
    বিচ।
    বলেই নিজেকে কন্ট্রোল করলো টুপুর। বিচ একটা সেক্সিস্ট গাল।মেয়েছেলে শব্দটাও।সে নিজে অনায়াসে দুটো শব্দ ব্যবহার করছে ! করে। মায়ের বন্ধুদের বিচ বলেছে কতসময়ে। হুড়মুড় করে একরাশ কালো মেঘ এসে পড়েছে আকাশে।
    শ্যামা স্যানিটারি ন্যাপকিন গুনছে। সে শুনেছে সব কথাবার্তা। আমল দেয় নি। টুপুর ঐরকম শ্যামা জানে।টুপুরের রাগ হবে তাও শ্যামা জানে। কিন্ত ফালতু ঝামেলা বাড়াতে চায় না সে।এখানে টুপুরের সঙ্গে জিনিস পৌঁছে সে যাবে  দুবাড়ি বাসন মাজতে। অত টাইম নেই তার মুখ করার।
    শ্যামা দুহাতে দুটো বিশাল থলি নিয়ে রাস্তা পার হল।মাঝদুপুরেও খুব ফাঁকা নয় রাস্তা । শ্যামা বেঁকে গেছে।টুপুর এগিয়ে একটা থলি নিয়ে নিল।
    - তুমি কিছু বললে না ওদের ?
    টুপুর রোদ চশমার নিচে আগুন। স্লিভলেস টপ। বাহু থেকে ঘাম গড়িয়ে পড়ছে।বৃষ্টিটা আসা দরকার। 
    শ্যামা থলি নামিয়ে ওডনা  দিয়ে ঘাম মুছলো।এইসব রাগকে পাত্তা দেয় না সে।
    আরো রোগা হয়েছে শ্যামা। চোখ কিছুটা বসেছে। শাড়ি প্রায় পরেই না আর আজকাল। পা  দিয়ে ঘাম বেয়ে সায়া লেপ্টে যায় পায়ে। শস্তা সুতীর লেগিন্স ভালো শ্যামার। ছিটের কামিজ। ম্যাচিং ওড়না।
    মনে মনে হাসলো।
    কাজ করবি ওরকম চোখে পড়ার মত , চোখে পড়ার জন্যেই তো করিস , আর লোকে দু' কথা বলবে না? মাইরি !
    মুখে বললো , ছাড়ো তো ছোটলোকের কথা। হাতী চলে বাজারমে কুত্তা ভৌকে চার। চলো, দেরি হচ্ছে আমার !
    টুপুরের মুখে মাস্ক।শ্যামারও।
    বৃষ্টি আসবেই।দু চার ফোঁটা পড়তেও শুরু করেছে। পা চালাতে হবে টুপুরের।
    ঈশানের কাছে শোনা রাগ কন্ট্রোল করার মেথডগুলো হাতড়াচ্ছে টুপুর।খুঁজে পাচ্ছে না। মাথার মধ্যে " বিচ " শব্দটা কিলবিল করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। উপড়ে ফেলতে পারছে না কিছুতেই।
    মাস্কের নিচে দাঁতে দাঁত ঘষলো।
    - শালা চৌত্রিশ বছরে এই ক্লাসটাকে মাথাতে তুলে গেছে। সবাই সবাইকে সবকিছু বলতে পারে। বিচ ! বিচ ! বিচ! দিস ইজ হেল।হেল।
    রাস্তা  দিয়ে হেঁটে গেল এক পূর্ণগর্ভা কুক্কুরী। সে বিচ শব্দটিকে গ্রাহ্য করলো না।
    বৃষ্টির বেগ বাড়ছে। ঘাম ও বৃষ্টির জল মেখে , দুটি ভারি থলি নিয়ে হাঁটছে দুটি নারী।
    কাদের জন্য বহন করছে সে এইসব খাদ্য, হাইজিনিক সামগ্রী? মাস ? সে অবশ্যই তবে নিজেকে ক্লাস ভাবে। মানুষমাত্রেই কী নিজেকে অপ্রতিম প্রতিপন্ন করতে চায়? না।শ্যামার অত সময় নেই। কিন্ত টুপুর তো নিজেকে ক্লাস ভাবতে চায়নি। মালবিকা, ত্রিদিবের সম্প্রদায় থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছে। যেরকম ভাবে পারে। ঐ মেয়েছেলেদুটো সিঁদুর।সে ট্যাটু। ওরা শাখাপলা।সে সিগারেট। এইগুলো কী বিচ্ছিন্নতাবাদী? সে তবে কোন ক্লাস? মালবিকা - ত্রিদিবের খেয়ে পড়ে বড় হলে কী মাস হওয়া যায়? জাহির সঙ্গে থাকলে বলতো, শোন, একবছর সোঁদরবন গিয়ে, হপ্তায় দুদিন পান্তা আর রুটি গুড় খেয়ে, মাল খেয়ে ক্লাস বিসর্জন দেওয়া যায় না। চেষ্টাও করিস না।ডিক্লাসড হওয়া অত সহজ না।
    জাহির কী ওকে বিদ্রুপ করতো মনে মনে? সে তো স্বাভাবিকভাবেই করছে যা পারছে। যেটুকু পারছে।
    সে ডিক্লাসড হবার চেষ্টা করেনি।জানে সম্ভব নয়।কিন্ত যেটুকু যা পারছে,  করছে খুব সৎভাবে চেষ্টা করছে।  কিন্ত এখন মনে হচ্ছে সে কোথাও নেই।না ঘরকা না ঘাটকা। শি বিলংগস টু নোহোয়ের। ভয়েড। অ্যাম্পিউটেড।
    নিজেকে ফালাফালা করতে করতে হাঁপিয়ে যাচ্ছে।চোখে জল।
    ঈশান যেন বলছে , আশেপাশে পাঁচটা জিনিস দ্যাখো। তাতে কনসেনট্রেট করো। রাগের অবজেক্ট থেকে দূরে চলে যাও।
    ঈশান তার কাজের কোনো খবর রাখে না। ভীষণ অভিমান হচ্ছে টুপুরের।
    দোকান থেকে অনেকটা দূরে সে ।  অনেকটাই।কিন্ত কনসেনট্রেশন ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। মেধাদের গ্যারাজ দেখা যাচ্ছে। কে দাঁড়িয়ে সামনে? বৃষ্টির মধ্যে দেখা যায় না। জাহির ?
    ঠাস করে ধারাপাত চড় বসালো গালে।
    স্টুপিড।জাহির নেই।
    সেকেন্ড ওয়েভ কোভিড নাইন্টিনে আন্ডার থার্টি মৃতদের  অন্যতম একজন।জাহির।
    এখন ঘাম , বৃষ্টি ও চোখের জল মিলেমিশে এক হয়ে যাচ্ছে।
    বৃষ্টির মধ্যেই ফোন এলো।নার্সিংহোম থেকে।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ধারাবাহিক | ১১ জুলাই ২০২৩ | ৪০৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • স্বাতী রায় | 117.194.36.240 | ১১ জুলাই ২০২৩ ১৫:৪৮521152
  • পড়ছি। সব সময় লেখা হয়ে ওঠে না যদিও। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে মতামত দিন